বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজো ও তার সূচনাবর্ষ নিয়ে মতভেদ রয়েছে তবে নিশ্চিত বলা যায়, উনিশ শতকের প্রথম দিকে গুপ্তিপাড়াইয় বারোয়ারি পুজো প্রচলিত ছিল।

বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজো: এক নতুন ভাবনার শুরু
শরতের আকাশে তুলোর মতো মেঘ। নদীর ধারে কাশফুল দুলছে, গ্রামের পথে ধানের গন্ধ, আর হাটে হাটে জমছে উৎসবের প্রস্তুতি। আজকের মতো মাইক্রোফোন, বৈদ্যুতিক আলো, থিমের প্যান্ডেল কিংবা অনলাইন চাঁদা নেই। তবু বাংলার মানুষের কাছে দুর্গোৎসব তখনও ছিল ধর্ম, সামাজিক মর্যাদা, আতিথেয়তা, শিল্প আর আনন্দের এক বড় উপলক্ষ।
কিন্তু অষ্টাদশ শতকের বাংলায় দুর্গাপুজো বলতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বোঝাত জমিদার, রাজপরিবার বা সম্পন্ন গৃহস্থের বাড়ির পুজো। সেখানে দেবীকে ঘিরে আচার-অনুষ্ঠান যেমন ছিল, তেমনই ছিল পরিবারের ঐশ্বর্য প্রদর্শন, অতিথি আপ্যায়ন এবং সামাজিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার সুযোগ। সাধারণ মানুষ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পুজোর আয়োজন ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার সবার হাতে ছিল না।
এই পটভূমিতে হুগলির গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি পুজোর কাহিনি বিশেষ তাৎপর্য পায়। বারো জন বন্ধু বা উদ্যোগীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুজো আয়োজনের যে স্মৃতি প্রচলিত, তা বাংলার উৎসব-ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইতিহাসের সতর্ক পাঠ জরুরি: পুজোটির সূচনাবর্ষ নিয়ে একমত নন সব গবেষক ও বিবরণকার। কোথাও ১৭৫৯, কোথাও ১৭৬০-এর দশক, আবার কোথাও ১৭৯০ সালের উল্লেখ পাওয়া যায়। আর প্রথম বারোয়ারি আয়োজনটি দুর্গাপুজো ছিল, না জগদ্ধাত্রীপুজো—এই প্রশ্নেও সূত্রগুলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই কাহিনিটিকে নির্ভুল একক তারিখের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে গড়ে ওঠা এক সামাজিক প্রবণতার ইতিহাস হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত।
এই লেখায় আমরা সেই সময়ের সমাজকে কল্পনায় জীবন্ত করে তুলব—কিন্তু যেখানে নথি অনিশ্চিত, সেখানে কল্পনাকে ইতিহাস বলে চালাব না।
১. তখনকার বাংলা: জমিদার, কৃষক, কারিগর ও ঔপনিবেশিক পরিবর্তন
অষ্টাদশ শতক ছিল বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সময়। ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব-ক্ষমতা ক্রমে বাড়ে। কৃষি, জমিদারি, বাণিজ্য ও নগরজীবনে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এই পরিবর্তনের অভিঘাত সব অঞ্চলে একরকম ছিল না; গ্রাম, নদীবন্দর ও কলকাতার মতো বাণিজ্যকেন্দ্রের অভিজ্ঞতাও আলাদা ছিল।
সমাজের ওপরের স্তরে ছিলেন রাজা, জমিদার, বড় ব্যবসায়ী এবং ধনী গৃহস্থেরা। তাঁদের বাড়ির দুর্গাপুজো ছিল পারিবারিক ধর্মাচরণের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষমতার প্রকাশ। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়, পুরোহিত, পণ্ডিত, গায়ক, বাদ্যকর, কারিগর ও অতিথিরা আসতেন। বহু ক্ষেত্রে পুজোকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের জন্য বাড়িটি হয়ে উঠত স্থানীয় সামাজিক জীবনের কেন্দ্র।
অন্যদিকে কৃষক, ক্ষেতমজুর, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমোর, নাপিত, ধোপা, মুচি, মাঝি, পালকি-বাহক, ফুলচাষি ও বাজারের বিক্রেতারা ছিলেন গ্রামীণ অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ। পুজোর সময় তাঁদের শ্রমের চাহিদা বাড়ত। কেউ প্রতিমা তৈরিতে, কেউ মণ্ডপ সাজাতে, কেউ ফুল ও ফল জোগাতে, কেউ রান্না বা পরিবেশনে কাজ করতেন। কিন্তু কাজের সুযোগ বাড়লেই যে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা বলা যায় না। জাতপাত, পেশাগত বিভাজন, সম্পদের বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের অসম অধিকার তখনও সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত।
এই দ্বৈত বাস্তবতাই বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোর ইতিহাস বোঝার চাবিকাঠি। সম্মিলিত পুজো একদিকে বৃহত্তর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল; অন্যদিকে তার প্রথম দিকের পরিচালনা সব শ্রেণি ও জাতের মানুষের হাতে সমানভাবে ছিল—এমন প্রমাণ নেই।
২. বনেদি বাড়ির পুজো: দেবী, ঐশ্বর্য ও সামাজিক মর্যাদা

একটি জমিদারবাড়ির শরৎকাল কল্পনা করুন। উঠোনে মাটি লেপা হচ্ছে, ঠাকুরদালানের খিলান পরিষ্কার করা হচ্ছে, পুরোহিত পঞ্জিকা দেখে তিথি মিলিয়ে নিচ্ছেন। বাড়ির কর্তা ও প্রবীণ সদস্যরা আয়োজনের হিসাব করছেন। গৃহস্থালির নারীরা চাল, ডাল, ঘি, মশলা, ফল, মিষ্টি ও ভোগের প্রস্তুতি তদারক করছেন। দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে—কবে এসে পৌঁছতে হবে, কারা কোথায় থাকবেন, কার জন্য কী ব্যবস্থা হবে।
বনেদি বাড়ির পুজো ছিল ধর্মীয় আচার, কিন্তু একই সঙ্গে ছিল অতিথি আপ্যায়নের বড় মঞ্চ। বাড়ির প্রতিপত্তি বোঝা যেত প্রতিমার সাজ, পুজোর আয়োজন, ভোগের পরিমাণ, বাদ্যযন্ত্র, অতিথিদের সংখ্যা এবং বিনোদনের ব্যবস্থায়। সম্পদশালী পরিবারের পুজোয় কখনও কবিগান, কীর্তন, যাত্রা, নাচ বা নানা ধরনের সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন হতো—যদিও সব বাড়িতে সব রকম অনুষ্ঠান থাকত না।
এ ধরনের বনেদি বাড়ির পুজোয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি একেবারে ছিল না, এমন বলা ভুল হবে। পুরোহিত, কারিগর, সেবক, বাদ্যকর, রাঁধুনি, পরিচারক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুজোর বহুস্তরীয় সম্পর্ক ছিল। কেউ দর্শনার্থী, কেউ কর্মী, কেউ আমন্ত্রিত, কেউ আবার বাড়ির বাইরের উঠোন বা রাস্তা থেকে অনুষ্ঠান দেখতেন। কিন্তু পুজোর মূল স্থান, ভোগ গ্রহণের অধিকার, আমন্ত্রণের তালিকা এবং সামাজিক মর্যাদার সীমারেখা পরিবার ও স্থানীয় রীতিনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারত।
নারীদের ভূমিকাও ছিল বহুমাত্রিক। বাড়ির নারীরা ভোগ, অতিথি আপ্যায়ন, ব্রত, আলপনা, প্রদীপ, শঙ্খধ্বনি এবং পারিবারিক আচার পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। তবে বনেদি বাড়ির পুজোয় উচ্চবিত্ত অন্দরমহলের পর্দা ও সামাজিক বিধিনিষেধ তাঁদের জনপরিসরে অংশগ্রহণকে সীমিত করত। নিম্নবিত্ত নারীরা আবার জীবিকার প্রয়োজনে ফুল, শাকসবজি, মাছ, দুধ, পাতা বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করতেন; কারও কাজ ছিল রান্না বা পরিচ্ছন্নতায় সাহায্য করা। একই উৎসব তাঁদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসত।
আরও পড়ুন :- আহিরীটোলা —পুরনো কলকাতার আঁতুড়ঘর
৩. গুপ্তিপাড়া ও ‘বারো ইয়ার’: প্রচলিত কাহিনি এবং ইতিহাসের সতর্কতা
হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়াকে বাংলার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। প্রচলিত কাহিনির একটি রূপে বলা হয়, স্থানীয় এক ধনী পরিবারের পুজোয় কিছু মানুষ প্রবেশ বা অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। অপমানিত বা বঞ্চিত বোধ করে বারো জন বন্ধু নিজেদের উদ্যোগে আলাদা পুজোর আয়োজন করেন। ‘বারো’ এবং ‘ইয়ার’—অর্থাৎ বারো বন্ধু—এই ব্যাখ্যা থেকেই ‘বারোয়ারি’ শব্দটির জনপ্রিয় ব্যুৎপত্তি প্রচলিত হয়েছে।
কিন্তু এই কাহিনির একাধিক সংস্করণ রয়েছে। কোথাও বলা হয়, একদল নারী জমিদারবাড়িতে প্রার্থনা করতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন; কোথাও আবার পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বারো জন উদ্যোগী চাঁদা তুলে আয়োজন বাঁচিয়েছিলেন বলে গল্পটি বলা হয়। প্রথম পুজোর সালও নিশ্চিত নয়। ১৭৫৯, ১৭৬০-এর দশক এবং ১৭৯০—বিভিন্ন বিবরণে এই তারিখগুলি এসেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে গুপ্তিপাড়ার প্রথম বারোয়ারি উৎসবকে জগদ্ধাত্রীপুজো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; পরবর্তী সময়ে বারোয়ারি দুর্গাপুজোর প্রসার আলাদা পর্যায়ে ঘটে।
১৮২০ সালের Friend of India পত্রিকার একটি বিবরণে গুপ্তিপাড়ার ‘বারুয়ারি’ পুজো, বারো জনের কমিটি এবং আশপাশের গ্রাম থেকে চাঁদা সংগ্রহের কথা উদ্ধৃত হয়েছে বলে গবেষণামূলক আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। এই তথ্য আমাদের অন্তত এটুকু বুঝতে সাহায্য করে যে উনিশ শতকের গোড়ায় সম্মিলিত অর্থসংগ্রহের মাধ্যমে পুজো আয়োজনের একটি পরিচিত রীতি ছিল। কিন্তু ১৮২০ সালের বিবরণকে অষ্টাদশ শতকের প্রতিটি ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তাই বারোয়ারি পুজোর জন্মকাহিনি শুনতে শুনতে তার ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তাও মনে রাখা দরকার। ইতিহাসের সৌন্দর্য শুধু রোমাঞ্চকর গল্পে নয়, প্রমাণের সীমা স্বীকার করার মধ্যেও।
৪. পুজোর আগে: চাঁদা, বাজার, মাটি ও মানুষের শ্রম
বারোয়ারি পুজোর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল—আয়োজনের ব্যয় ও দায়িত্ব একটি পরিবারের বদলে একাধিক মানুষের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ধারণা। চাঁদা সংগ্রহ, হিসাব রাখা, সামগ্রী কেনা এবং কাজ ভাগ করার জন্য উদ্যোগীদের একত্র হতে হতো। আধুনিক পুজো কমিটির মতো আনুষ্ঠানিক কাঠামো সব জায়গায় তখন ছিল, এমন বলা যাবে না; কিন্তু সমবেত উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল স্পষ্ট।
ধরা যাক, গুপ্তিপাড়ার মতো একটি জনপদে শরৎ আসছে। কয়েকজন উদ্যোগী বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, ঘি, তেল, ফল, ফুল, কাপড় ও পুজোর সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। কেউ ধনী গৃহস্থের কাছ থেকে বড় অনুদান চাইছেন, কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট অঙ্কের টাকা দিচ্ছেন। অর্থের পাশাপাশি কেউ বাঁশ, খড়, দড়ি বা কাঠ দিতে পারেন; কেউ শ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। এই ধরনের অবদান কতটা প্রচলিত ছিল, তার বিশদ হিসাব সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না; তবে সম্মিলিত আয়োজনের স্বাভাবিক প্রয়োজনে অর্থ ও উপকরণ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কুমোরের কাছে প্রতিমার অর্ডার পৌঁছত। বাঁশের কাঠামো, খড়ের বাঁধন, মাটির প্রলেপ, শুকোনো, রং ও সাজ—সবই সময়সাপেক্ষ কাজ। মৃৎশিল্পী ও তাঁর সহকারীদের জন্য পুজো ছিল পেশাগত ব্যস্ততার সময়। মণ্ডপ নির্মাণে বাঁশ-বেতের কারিগর, ছুতোর, দড়ির জোগানদার এবং শ্রমিকের কাজ লাগত। ফুল বিক্রেতা, ফলওয়ালা, মিষ্টি প্রস্তুতকারক, তেল-ঘি বিক্রেতা ও কাপড়ের ব্যবসায়ীরাও বাড়তি ক্রেতা পেতেন।
কৃষক পরিবারের কাছে এই সময় আনন্দের পাশাপাশি হিসাবেরও ছিল। ফসলের মৌসুম, ঋণ, খাজনা এবং পরিবারের খরচের মধ্যে থেকে উৎসবে অনুদান দেওয়া সহজ ছিল না। কেউ আনন্দের সঙ্গে সামর্থ্য অনুযায়ী দিতেন; কারও ওপর সামাজিক প্রত্যাশা বা চাপ তৈরি হতে পারত। পরবর্তী সময়ের বারোয়ারি পুজোর ইতিহাসে চাঁদা কখনও স্বেচ্ছা অনুদান, কখনও সামাজিক বাধ্যবাধকতার রূপ নিয়েছে। অষ্টাদশ শতকের প্রতিটি গ্রামের ক্ষেত্রে একই ছবি ছিল—এমন দাবি করা যায় না, কিন্তু অর্থসংগ্রহের মধ্যে সামাজিক ক্ষমতা ও পারস্পরিক নির্ভরতার প্রশ্নটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
৫. পুজোর দিন: ধর্মীয় আচার ও লোকসমাগম

ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমীর বিসর্জন—আজকের দুর্গাপুজোর পরিচিত আচারগুলির অনেকগুলিরই দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে আচার পালনের ধরন অঞ্চল, পরিবার, পুরোহিত-পরম্পরা ও পৃষ্ঠপোষকের সামর্থ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারত। তাই অষ্টাদশ শতকের সব বারোয়ারি পুজোয় আজকের মতো একই সময়সূচি, একই প্রতিমার ধরন বা একই ভোগের তালিকা ছিল বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
পুজোর দিনে ঢাক বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের শব্দ গ্রামবাসীকে আকর্ষণ করত। শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপের গন্ধ, প্রদীপের আলো এবং প্রতিমার সামনে মানুষের সমাগম—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। পুজোয় অংশ নিতে আসতেন উদ্যোগী, তাঁদের পরিবার, পুরোহিত, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূরের অতিথিরা। কেউ প্রণাম করতেন, কেউ আচার দেখতেন, কেউ আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতেন, কেউ আবার মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেন।
বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোর ধারণাগত গুরুত্ব এখানেই: পুজোর স্থান ও আয়োজন একটি ব্যক্তিগত পরিবারের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে শুরু করে। তবে ‘বারোয়ারি’ মানেই অষ্টাদশ শতকে সম্পূর্ণ জাতপাতহীন, সর্বজনীন উৎসব—এমন ধারণা ঐতিহাসিকভাবে অতিরঞ্জিত হবে। প্রথম দিকের আয়োজকদের মধ্যে উচ্চবর্ণের প্রাধান্য থাকতে পারে; প্রবেশ, প্রসাদ গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা এবং আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অধিকার অঞ্চলভেদে সীমিত ছিল।
শিশুরা প্রতিমা দেখতে চাইত, তরুণেরা আয়োজনের কাজে হাত লাগাত, বয়স্করা পরিচিতদের সঙ্গে গল্প করতেন। পুজো উপলক্ষে দূরের আত্মীয়ের আগমন, নতুন কাপড় পরা, মিষ্টি খাওয়া এবং একসঙ্গে সময় কাটানো—এই সব অভিজ্ঞতার ঐতিহাসিক রূপ আজকের মতো ছিল কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবু উৎসবের সামাজিক আকর্ষণ যে ধর্মীয় আচারকে ছাড়িয়ে মানুষের মিলনেও প্রসারিত হয়েছিল, বারোয়ারি পুজোর বিকাশ সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন:- নৈহাটির বড় মা – ইতিহাস, তাঁর ভবেশ কালী থেকে বড় মা হয়ে ওঠার যাত্রাপথ
৬. বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অভিজ্ঞতা
জমিদার ও ধনী গৃহস্থ
তাঁদের কাছে পুজো ছিল ধর্মীয় কর্তব্য, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মর্যাদার প্রদর্শন। অনুদান দিয়ে বা আয়োজনকে সমর্থন করে তাঁরা স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থানও জোরদার করতে পারতেন। বারোয়ারি পুজোয় ধনী পৃষ্ঠপোষকের অনুদান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত, কিন্তু সমবেত উদ্যোগের ফলে একক গৃহস্থের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
পুরোহিত ও পণ্ডিত
পুজোর বিধি, মন্ত্র, তিথি ও আচার পরিচালনায় পুরোহিতের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। তাঁদের পারিশ্রমিক, দক্ষিণা, ভোজন এবং সামাজিক মর্যাদা পুজোর অর্থনীতির অংশ ছিল। তবে তাঁদের কাজ শুধু ধর্মীয় ছিল না; পঞ্জিকা, সংস্কৃতশিক্ষা ও আচারবিষয়ক জ্ঞান তাঁদের স্থানীয় সমাজে বিশেষ অবস্থান দিয়েছিল।
কারিগর ও শ্রমজীবী মানুষ
প্রতিমাশিল্পী, বাঁশ-বেতের কারিগর, ঢাকি, রাঁধুনি, পরিচারক, পরিবেশক ও পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত মানুষ উৎসবের বাস্তব কাঠামো তৈরি করতেন। তাঁদের শ্রম ছাড়া পুজো সম্ভব ছিল না। তবু তাঁদের অবদান সব সময় সমান সামাজিক সম্মান বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এনে দিত না। উৎসবের আনন্দের নেপথ্যে শ্রমের এই স্তরটি মনে রাখা জরুরি।
কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ী
পুজো বাজারে সাময়িক চাহিদা বাড়াত। কৃষিজ পণ্য, ফুল, ফল, দুধ, মাছ, মিষ্টি ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু এই অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে খরচের চাপও জড়িত ছিল। অনুদান, অতিথি আপ্যায়ন এবং উৎসবের কেনাকাটা দরিদ্র পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ ফেলতে পারত।
নারী
নারীরা পুজোর প্রস্তুতি ও গৃহস্থালির আচার-অনুষ্ঠানে অপরিহার্য ছিলেন। রান্না, ভোগ, আলপনা, প্রদীপ, ফুল সাজানো, অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক ধর্মাচরণে তাঁদের শ্রম বড় ভূমিকা নিত। একই সঙ্গে সামাজিক বিধিনিষেধ তাঁদের অনেককে প্রকাশ্য সিদ্ধান্তগ্রহণ থেকে দূরে রাখত। বাজারে পণ্য বিক্রি করা বা শ্রমের কাজে যুক্ত নারীদের অভিজ্ঞতা আবার ভিন্ন ছিল। তাই নারীদের কেবল ‘উৎসবের দর্শক’ হিসেবে দেখা যায় না; তাঁরা ছিলেন উৎসবের নির্মাতা, যদিও তাঁদের অবদান প্রায়ই লিখিত ইতিহাসে কম দৃশ্যমান।
শিশু ও তরুণ
শিশুদের কাছে পুজো ছিল রঙ, শব্দ, মিষ্টি ও নতুন অভিজ্ঞতার সময়। তরুণেরা প্যান্ডেল তৈরিতে, সামগ্রী আনা-নেওয়ায় বা অতিথিদের সাহায্য করতে পারত। বারোয়ারি পুজোর সমবেত চরিত্র তরুণদের জন্য যৌথ কাজ ও নেতৃত্ব শেখার ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অষ্টাদশ-শতকীয় প্রত্যক্ষ বিবরণ সীমিত; তাই একে সম্ভাব্য সামাজিক অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।
মুসলমান প্রতিবেশী ও অন্যান্য সম্প্রদায়
অষ্টাদশ শতকের বাংলার গ্রাম ও শহরে হিন্দু-মুসলমানসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বাস করতেন এবং বহু অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভাগ করে নিতেন। বাজার, কারিগরি, কৃষি ও পরিবহণের কাজে তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল। কোনো নির্দিষ্ট বারোয়ারি পুজোয় অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া সাধারণীকরণ করা যাবে না। তবু উৎসবের জন্য কেনাকাটা, পেশাগত কাজ এবং স্থানীয় বাজারের সম্পর্ক বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল—এই সামাজিক বাস্তবতা মনে রাখা দরকার।
৭. সন্ধ্যার আসর, গান ও বিনোদন
অষ্টাদশ শতকের বাংলায় ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সংগীত ও লোকবিনোদনের সম্পর্ক ছিল। কীর্তন, ঢাক-ঢোল, শাস্ত্রীয় বা আধা-শাস্ত্রীয় সংগীত, কবিগান কিংবা যাত্রার মতো পরিবেশনা বিভিন্ন সময়ে ও অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু প্রতিটি বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোয় এসবের সব কটি আয়োজন হতো—এমন কোনো ভিত্তি নেই।
যেখানে আর্থিক সামর্থ্য ও শিল্পীর উপস্থিতি ছিল, সেখানে পুজো উপলক্ষে গায়ক বা বাদ্যকর ডাকা হতে পারত। ১৮২০ সালের গুপ্তিপাড়া-সংক্রান্ত বিবরণের আলোচনায় দূর থেকে গায়ক আনা ও এক সপ্তাহ ধরে উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি উনিশ শতকের গোড়ার একটি বিবরণ; তাই তা থেকে অষ্টাদশ শতকের প্রতিটি পুজোর বিনোদন-সূচি পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। তবু বোঝা যায়, পুজো শুধু আচার পালনের ক্ষেত্র ছিল না; মানুষের বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও হয়ে উঠেছিল।
সন্ধ্যা নামলে প্রদীপের আলোয় মণ্ডপ আলোকিত হতো। মানুষ দিনের কাজ সেরে আসত, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করত, গান শুনত বা আচার দেখত। কারও কাছে এ ছিল ভক্তির মুহূর্ত, কারও কাছে মিলনমেলা, কারও কাছে কাজের ব্যস্ততা শেষে একটু অবসর। একই উৎসবের মধ্যে এই বহুরকম অনুভূতি পাশাপাশি থাকতে পারত।
৮. দশমীর পর: সিঁদুর খেলা, বিসর্জন ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা

দশমী বা বিসর্জনের সময় আনন্দের সঙ্গে বিদায়ের আবেগ জড়িয়ে থাকত। সিঁদুর খেলা, প্রতিমা বিসর্জনের আচার অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারত। কোথাও নদী বা জলাশয়ের দিকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হতো; শোভাযাত্রা, বাদ্যযন্ত্র ও মানুষের সমাগম উৎসবের শেষ পর্বকে বিশেষ করে তুলত। কিন্তু আজকের মতো বিশাল জনসমাবেশ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বা সংগঠিত শোভাযাত্রার ছবি অষ্টাদশ শতকে হুবহু কল্পনা করা উচিত নয়।
বিসর্জনের পর প্রতিমা নির্মাণে যুক্ত কারিগর, সরবরাহকারী ও শ্রমিকদের কাজের হিসাব মেটানো হতো। পুজোর আয়-ব্যয়ের হিসাব, অনুদানদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরের বছরের আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলতে পারত। অতিথিরা বাড়ি ফিরতেন, বাজারের অস্থায়ী চাহিদা কমে আসত, আর গ্রামের দৈনন্দিন জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরত।
তবে উৎসবের সামাজিক প্রভাব বিসর্জনের সঙ্গে শেষ হয়ে যেত না। যে মানুষগুলি একসঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারত। কারও সঙ্গে কারও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ত, কারও সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী হতো, আবার অর্থসংগ্রহ বা মর্যাদা নিয়ে মতবিরোধও দেখা দিতে পারত। সম্মিলিত পুজো তাই কেবল ঐক্যের গল্প নয়; সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার সম্পর্কেরও ইতিহাস।
৯. বারোয়ারি থেকে সর্বজনীন দুর্গাপুজো: একই পথ নয়, দীর্ঘ বিবর্তন
অষ্টাদশ শতকের বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোর উদ্যোগকে আজকের সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সঙ্গে এক করে দেখা সহজ, কিন্তু ইতিহাসে মাঝখানে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান রয়েছে। বারোয়ারি শব্দটি সাধারণত বারো জন বা একটি গোষ্ঠীর উদ্যোগে, চাঁদা বা যৌথ অর্থে আয়োজিত পুজোর ধারণার সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তী সময়ে এই ধরনের পুজো বিস্তার লাভ করে এবং নগরজীবনে নতুন রূপ পায়।
কলকাতায় বারোয়ারি পুজোর প্রসার উনিশ শতকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯১০ সালে বাগবাজারে সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভার উদ্যোগে সর্বজনীন পুজোর যে পরিচিত ইতিহাস প্রচলিত, তা জনসাধারণের চাঁদা, পরিচালনা ও অংশগ্রহণের ধারণাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এই পর্যায়ের পুজোকে অষ্টাদশ শতকের গুপ্তিপাড়ার আয়োজনের সরাসরি অনুলিপি বলা যাবে না; বরং বারোয়ারি উদ্যোগ ছিল দীর্ঘ সামাজিক পরিবর্তনের একটি পূর্বসূত্র।
সময়ের সঙ্গে পুজোর অর্থনৈতিক ভিত্তি, সংগঠন, দর্শনার্থীর সংখ্যা, শিল্পরুচি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য বদলেছে। এক সময় যে পুজো ছিল গৃহস্থের অন্দরমহলকেন্দ্রিক, তা ধীরে ধীরে জনপরিসরের উৎসব হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন একদিনে ঘটেনি এবং সব জায়গায় একই গতিতে ঘটেনি।
১০. আজকের প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাসের অর্থ
আজ আমরা দুর্গাপুজোকে দেখি আলোর শহর, শিল্পসমৃদ্ধ মণ্ডপ, ঢাক, নতুন পোশাক, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা, খাবার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উৎসব হিসেবে। কিন্তু এর ইতিহাসে রয়েছে আরও গভীর সামাজিক প্রশ্ন: কে পুজো আয়োজন করবে? কে সিদ্ধান্ত নেবে? কে দর্শন করতে পারবে? কার শ্রমে উৎসব দাঁড়িয়ে থাকবে? কার অনুদান গ্রহণ করা হবে? আর উৎসবের আনন্দ ও মর্যাদা সমাজের কোন কোন স্তরে পৌঁছবে?
বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোর ঐতিহাসিক তাৎপর্য এই প্রশ্নগুলির সঙ্গে জড়িত। এটি ধর্মীয় আচারকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিসর থেকে বৃহত্তর গোষ্ঠীর উদ্যোগে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু একে আধুনিক অর্থে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক বা সমতাভিত্তিক উৎসব বলে কল্পনা করলে ইতিহাসের জটিলতা হারিয়ে যায়। প্রথম দিকের উদ্যোগে সামাজিক শ্রেণি ও জাতের প্রভাব থাকতে পারে; একই সঙ্গে যৌথ অর্থসংগ্রহ ও সমবেত আয়োজন ভবিষ্যতের বৃহত্তর জনঅংশগ্রহণের পথও খুলে দেয়।
সমাজবিজ্ঞানের চোখে উৎসব একটি আয়না। সেখানে বিশ্বাস যেমন দেখা যায়, তেমনই সম্পদ, শ্রম, লিঙ্গ, জাতপাত, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও ধরা পড়ে। অষ্টাদশ শতকের বারোয়ারি পুজো সেই আয়নায় বাংলার সমাজকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দেয়।
উপসংহার: একটি পুজোর চেয়ে বড় এক সামাজিক ধারণা
গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি পুজোর সূচনাবর্ষ ও প্রথম পুজোর ধরন নিয়ে মতভেদ রয়েছে—এ কথা স্বীকার করেই তার গুরুত্ব বোঝা যায়। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উনিশ শতকের গোড়ার মধ্যে সম্মিলিত অর্থসংগ্রহে পুজো আয়োজনের রীতি পরিচিত হয়ে উঠেছিল; আর বাংলার পুজো-ইতিহাসে গুপ্তিপাড়া সেই স্মৃতির কেন্দ্রীয় স্থান দখল করে আছে।
অষ্টাদশ শতকের এক শরৎ-সন্ধ্যার দৃশ্য কল্পনা করুন: মাটির প্রতিমার সামনে প্রদীপ জ্বলছে, ঢাকের শব্দ ভেসে আসছে, কেউ ভক্তিভরে প্রণাম করছেন, কেউ অতিথিকে পথ দেখাচ্ছেন, কেউ রান্নাঘরে ব্যস্ত, কেউ বাজার থেকে শেষ সামগ্রী নিয়ে ফিরছেন। এই দৃশ্যের প্রতিটি মানুষ সমান ক্ষমতাবান নন; তবু তাঁদের নানা শ্রম, বিশ্বাস ও উপস্থিতি মিলেই উৎসবকে সম্ভব করে তোলে।
বারোয়ারি পুজোর উত্তরাধিকার শুধু বারো জন বন্ধুর কাহিনি নয়। এটি এক সমাজের সম্মিলিতভাবে উৎসব গড়ে তোলার শেখা—যেখানে ধর্মীয় ভক্তির পাশে দাঁড়ায় সংগঠন, অর্থসংগ্রহ, শ্রম, শিল্প এবং জনসমাগম। সেই ইতিহাসকে জানলে আজকের বাংলায় বারোয়ারি দুর্গাপুজোও আমাদের কাছে আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।



