হরিশ চন্দ্র, বিংশ শতাব্দীর এক বিস্ময়কর গণিতজ্ঞ। তাঁর মেধা বিশ্বমঞ্চকে আলোকিত করেছে, তাঁর সংগ্রাম ও অভূতপূর্ব সৃষ্টি বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রানিত করবে।

একটি জাতির প্রকৃত সম্পদ তার ভৌগোলিক সীমানা বা প্রাকৃতিক সম্পদে নয়, বরং তার মেধা ও মননে নিহিত থাকে। ভারতীয় বিজ্ঞান ও গণিতচর্চার ইতিহাসে এমন কিছু নক্ষত্রের আগমন ঘটেছে, যাঁদের মেধার আলো বিশ্বমঞ্চকে আলোকিত করেছে। এমনই এক প্রবাদপ্রতিম নাম হরিশ চন্দ্র (Harish Chandra)। ১৯২৩ থেকে ১৯৮৩—এই ষাট বছরের জীবনকালে তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান এবং উচ্চতর গণিতের জগতে এমন কিছু মৌলিক অবদান রেখে গেছেন, যা আজও বিশ্বজুড়ে গবেষকদের পথ দেখাচ্ছে।
আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে সি. ভি. রমন, শ্রীনিবাস রামানুজন বা জগদীশচন্দ্র বসুর নাম যতটা পরিচিত, হরিশ চন্দ্রের নাম হয়তো ততটা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য, আজকের ছাত্রসমাজ ও তরুণ পাঠকদের কাছে এই মহান বিজ্ঞানীর জীবন, তাঁর সংগ্রাম এবং তাঁর অভূতপূর্ব সৃষ্টিকে তুলে ধরা, যা তাঁদের মেধা ও মননকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
হরিশ চন্দ্র: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও জীবনপঞ্জি
হরিশ চন্দ্রের জীবনকে খুব সংক্ষেপে বুঝতে নিচের সারণিটি অত্যন্ত সহায়ক হবে:
| বিষয়/ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম ও স্থান | ১১ অক্টোবর, ১৯২৩; কানপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত |
| মৃত্যু ও স্থান | ১৬ অক্টোবর, ১৯৮৩; প্রিন্সটন, নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| প্রাথমিক শিক্ষা | কানপুর ও এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় (পদার্থবিজ্ঞান) |
| উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি | কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য (পল ডিরাকের অধীনে) |
| প্রধান কর্মক্ষেত্র | ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (IAS), প্রিন্সটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| প্রধান গবেষণার ক্ষেত্র | লি গ্রুপ (Lie Groups) এবং রিপ্রেজেন্টেশন থিওরি (Representation Theory) |
| পুরস্কার ও সম্মাননা | কোল প্রাইজ (Cole Prize), রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (FRS), পদ্মভূষণ |
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাদীক্ষা: কানপুর থেকে এলাহাবাদ
হরিশ চন্দ্রের জন্ম ১৯২৩ সালের ১১ অক্টোবর উত্তর প্রদেশের কানপুরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর পিতা চন্দ্রকিশোর ছিলেন একনিষ্ঠ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ছোটবেলা থেকেই হরিশ চন্দ্র ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্য ছিল কিছুটা দুর্বল। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রশ্নাতীত।
কানপুরে প্রাথমিক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে তিনি ভর্তি হন এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তৎকালীন সময়ে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” বলা হতো। সেখানে পদার্থবিজ্ঞানের প্রখ্যাত অধ্যাপক কে. এস. কৃষ্ণন (যিনি সি. ভি. রমনের সহযোগী ছিলেন)-এর সান্নিধ্যে আসেন হরিশ-চন্দ্র। ১৯৪৩ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (M.Sc.) ডিগ্রি লাভ করেন। এলাহাবাদে থাকাকালীনই তাঁর মেধার স্ফুরণ ঘটে। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমীকরণগুলো তিনি অত্যন্ত সহজে সমাধান করতে পারতেন, যা দেখে শিক্ষকেরা বিস্মিত হতেন।
বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি ও হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার সান্নিধ্য
এলাহাবাদের পাঠ চুকিয়ে হরিশ চন্দ্র পাড়ি জমান বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এ। সেখানে তিনি ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক ড. হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার অধীনে জুনিয়র রিসার্চ স্টুডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন।
বেঙ্গালুরুতে থাকাকালীন হরিশ চন্দ্র মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays) এবং আপেক্ষিক কণা বিদ্যা (Relativistic Particles) নিয়ে মৌলিক কাজ করেন। ভাবা তাঁর মেধার গভীরতা বুঝতে পেরেছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে এই তরুণের জন্য আরও বড় ক্যানভাস প্রয়োজন। ড. ভাবার সুপারিশেই হরিশ-চন্দ্র উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
কেমব্রিজ অধ্যায় এবং পল ডিরাকের সঙ্গে কাজ
১৯৪৫ সালে হরিশ-চন্দ্র ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি কাজ শুরু করেন কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পল ডিরাক (Paul Dirac)-এর অধীনে।
- ১৯৪৫: কেমব্রিজে আগমন
পল ডিরাকের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। ডিরাকের শান্ত ও অন্তর্মুখী স্বভাবের সঙ্গে হরিশ-চন্দ্রের চিন্তাভাবনার চমৎকার মিল ঘটে।
- ১৯৪৭: পিএইচডি লাভ
মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘Infinite Irreducible Representations of the Lorentz Group’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
- ১৯৪৭-৪৮: প্রিন্সটনে পাড়ি
আমেরিকার প্রিন্সটনে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (IAS)-এ ডিরাকের সহকারী হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ও রবার্ট ওপেনহেইমারের সান্নিধ্যে আসেন।
আরও পড়ুন :- ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা, আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানযুগের নির্মাতা
পদার্থবিজ্ঞান থেকে গণিতের জগতে রূপান্তর: একটি ঐতিহাসিক মোড়
কেমব্রিজে থাকাকালীন এবং প্রিন্সটনে আসার পর হরিশ চন্দ্রের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ঘটে। তিনি অনুভব করেন যে পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য যে গাণিতিক কাঠামোর প্রয়োজন, তা এখনও তৈরিই হয়নি। বিশেষ করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর আগ্রহ আসলে পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ে বিশুদ্ধ গণিতের (Pure Mathematics) প্রতি বেশি।
তিনি নিজেই একবার বলেছিলেন:
“আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, কিন্তু কোনো না কোনোভাবে গণিতের সুক্ষ্মতা ও সৌন্দর্য আমাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করত।”
তিনি লক্ষ্য করেন যে ‘লি গ্রুপ’ (Lie Group) এবং ‘রিপ্রেজেন্টেশন থিওরি’ (Representation Theory)-র ক্ষেত্রটি তখনও খুব বেশি অন্বেষণ করা হয়নি। তিনি নিজের পুরো মনোযোগ এই দিকে নিবন্ধ করেন। এই রূপান্তরটি সহজ ছিল না, কারণ পদার্থবিজ্ঞানের চেনা জগৎ ছেড়ে সম্পূর্ণ বিমূর্ত বা অ্যাবস্ট্রাক্ট গণিতের গভীরে প্রবেশ করার জন্য প্রয়োজন ছিল অসীম ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম।
হরিশ চন্দ্রের প্রধান গাণিতিক অবদান
হরিশ চন্দ্রের কাজ এতটাই উচ্চস্তরের যে সাধারণ গণিতশিক্ষার বাইরে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন, তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এর প্রভাব অপরিসীম। তাঁর প্রধান কাজগুলো নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. সেমি-সিম্পল লি গ্রুপ এবং রিপ্রেজেন্টেশন থিওরি (Representation Theory)
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, রিপ্রেজেন্টেশন থিওরি হলো জ্যামিতিক এবং বীজগণিতীয় প্রতিসাম্য (Symmetry) অধ্যয়নের একটি পদ্ধতি। হরিশ চন্দ্র দেখিয়েছেন কীভাবে জটিল, অসীম-মাত্রিক (Infinite-dimensional) গ্রুপগুলোকে ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে প্রকাশ করে সহজ সরল উপায়ে বিশ্লেষণ করা যায়। তিনি একা হাতেই “সেমি-সিম্পল লি গ্রুপ”-এর হারমোনিক অ্যানালিসিস (Harmonic Analysis) ক্ষেত্রটি গড়ে তোলেন।
২. অটোমর্ফিক ফর্ম এবং ল্যাংল্যান্ডস প্রোগ্রাম (Langlands Program)
গণিতের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত প্রজেক্ট হলো “ল্যাংল্যান্ডস প্রোগ্রাম”, যাকে আধুনিক গণিতের “Grand Unified Theory” বলা চলে। এই প্রোগ্রামটি সংখ্যাতত্ত্ব (Number Theory) এবং জ্যামিতির মধ্যে একটি সেতু বন্ধন তৈরি করে। হরিশ-চন্দ্রের কাজ না থাকলে ল্যাংল্যান্ডস প্রোগ্রাম আজ এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না। বিখ্যাত গণিতজ্ঞ রবার্ট ল্যাংল্যান্ডস নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাজের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হরিশ-চন্দ্র।
৩. প্লাঞ্চারেল ফর্মুলা (Plancherel Formula)
পদার্থবিজ্ঞানের কোয়ান্টাম ক্ষেত্রে কণার শক্তিস্তর এবং তরঙ্গের চরিত্র বুঝতে এই ফর্মুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হরিশ চন্দ্র সেমি-সিম্পল লি গ্রুপের জন্য এই জটিল ফর্মুলাটি নিখুঁতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রিন্সটন ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (IAS) ও কর্মজীবন
১৯৬৩ সাল থেকে মৃত্যুর আগের বছর (১৯৮৩) পর্যন্ত হরিশ-চন্দ্র আমেরিকার বিখ্যাত ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (IAS)-এর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, কুর্ট গোডেল, এবং জন ভন নিউম্যানের মতো পৃথিবীর সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন।
সেখানে হরিশ-চন্দ্র অত্যন্ত নিভৃতে, প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণিতের জটিল সমীকরণ নিয়ে কাজ করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণিতচর্চা এক ধরনের সাধনা। তিনি ছিলেন একজন পারফেকশনিস্ট। তাঁর লেখা গবেষণাপত্রগুলো এতটাই নিখুঁত হতো যে সমসাময়িক গণিতবিদরা তা দেখে বিস্মিত হতেন।
আরও পড়ুন :- মেঘনাদ সাহা নক্ষত্রলোকের আলো এবং এক অপরাজিত বিজ্ঞান-পথিকের মহাকাব্য
সম্মাননা ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি
যদিও হরিশ-চন্দ্র নোবেল প্রাইজ পাননি (কারণ গণিতে নোবেল দেওয়া হয় না) এবং বয়সের সীমারেখার কারণে গণিতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ফিল্ডস মেডেল’ থেকে সামান্যর জন্য বঞ্চিত হন, তবুও বিশ্ব বিজ্ঞান সমাজ তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে বসিয়েছে।
- কোল প্রাইজ (Cole Prize, 1954): আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি তাঁকে বীজগণিতে অসামান্য অবদানের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (FRS, 1973): লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি তাঁকে ফেলো হিসেবে নির্বাচিত করে, যা একজন বিজ্ঞানীর জন্য অত্যন্ত গৌরবজনক।
- জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং ভারতের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমির (INSA) সদস্য নির্বাচিত হন।
- পদ্মভূষণ (1977): ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করে।
কেন হরিশ-চন্দ্রের জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মহাশক্তিশালী অনুপ্রেরণা?
আজকের যুগে যখন তরুণ সমাজ দ্রুত সাফল্য বা শর্টকাটের পেছনে ছুটছে, তখন হরিশ-চন্দ্রের জীবনদর্শন তাঁদের জন্য এক পরম শিক্ষা হতে পারে। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আমি মনে করি, তাঁর জীবন থেকে শিক্ষার্থীদের ৫টি প্রধান শিক্ষা নেওয়া উচিত:
১. গভীর একাগ্রতা ও সাধনা
হরিশ-চন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা গণিতচর্চা করতেন। তিনি কোনো বাহ্যিক পুরস্কার বা যশের আকাঙ্ক্ষা করতেন না। তাঁর কাছে গণিতের সত্য উদঘাটনই ছিল একমাত্র আনন্দ। আজকের শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিষয়ে এমন গভীর মনোযোগ (Deep Work) দেওয়া শেখা উচিত।
২. ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার সাহস
গণিতের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কোনো ফল না পেয়েও তিনি দমে যেতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভুল পথগুলো বাদ দিতে দিতেই একদিন সঠিক পথের সন্ধান মেলে। তরুণদের জীবনে সামান্য ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে লেগে থাকার এই মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।
৩. যেকোনো বয়সে নতুন করে শুরু করার মানসিকতা
তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়েছিলেন, কিন্তু ২৪-২৫ বছর বয়সে যখন বুঝলেন তাঁর আসল টান গণিতে, তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে বিশ্বসেরা হলেন। এটি শেখায় যে, নিজের প্যাশন বা ভালোলাগার সন্ধান পেলে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে জীবন শুরু করা যায়।
৪. সরল জীবনযাপন ও উচ্চচিন্তা
বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সত্ত্বেও হরিশ-চন্দ্র ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, শান্ত ও নিভৃতচারী। অহংকার বা প্রচারের আলো থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতেন।
উপসংহার: হরিশ চন্দ্রের উত্তরাধিকার
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর প্রিন্সটনে এই মহান বিজ্ঞানী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে বিশ্ব গণিত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কাজ আজও অমর। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে তাঁর স্মৃতি স্মরণে স্থাপন করা হয়েছে “হরিশ-চন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট” (HRI), যা আজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা কেন্দ্র।
আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, বিজ্ঞান বা গণিত কেবল কিছু সূত্র মুখস্থ করার জায়গা নয়, এটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ভাষা বোঝার একটি আনন্দময় মাধ্যম। হরিশ-চন্দ্রের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা আমাদের দেখিয়ে গেছেন যে, ভারতভূমিতে জন্মেও কীভাবে বিশ্বমঞ্চে মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা যায়। আসুন, আমরা এই মহান গণিতজ্ঞকে জানি, তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিই এবং নিজেদের মেধা দিয়ে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করি।



