একটি কোরিয়াই লোককথা: শিম চং-এর এক অনন্য ত্যাগ

সুদূর কোরিয়ার এক অসাধারণ লোককথা। এই গল্পটি এক অকুতোভয় মেয়ের, যে তার বাবার ভালোবাসার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও দ্বিধা করেনি।

কোরিয়াই লোককথা - শিম চং
Photo courtesy

এক ছিল মেয়ে, নাম তার শিম চং। জন্মের সময়ই সে তার মাকে হারায়। তার বাবা ছিলেন অন্ধ, তাই ছোটবেলা থেকেই সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল এই ছোট্ট মেয়েটিকে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই চলতো বাবা-মেয়ের অভাবের সংসার।

🍚 এক কঠিন প্রতিশ্রুতি

একদিন শিম চং-এর বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছিল। অন্ধ বাবা দুশ্চিন্তায় তাকে খুঁজতে বের হলেন এবং অসাবধানবশত নদীর জলে পড়ে গেলেন। ঠিক সেই সময় এক দয়ালু সন্ন্যাসী তাকে উদ্ধার করেন। সন্ন্যাসী তাকে বললেন:

“আপনি যদি বুদ্ধের চরণে ৩০০ বস্তা চাল উৎসর্গ করতে পারেন, তবে আপনি আবার পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেন।”

আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃদ্ধ বাবা প্রতিশ্রুতি তো দিয়ে বসলেন, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলেন—অভাবের সংসারে ৩০০ বস্তা চাল জোগাড় করা অসম্ভব!

🚢 সমুদ্রের ঢেউয়ে জীবনের বাজি

বাবার এই কষ্টের কথা জানতে পেরে শিম চং অস্থির হয়ে উঠলো। ঠিক তখনই সে এক অদ্ভুত খবর পেল। একদল নাবিক সমুদ্রদেবতাকে শান্ত করার জন্য একজন তরুণীকে খুঁজছে, যাকে তারা সমুদ্রে উৎসর্গ করবে। বিনিময়ে তারা অঢেল সম্পদ দিতে রাজি।

শিম চং সিদ্ধান্ত নিল—বাবার চোখের আলোর জন্য সে নিজের জীবন দেবে। সে নাবিকদের কাছে গিয়ে ৩০০ বস্তা চালের বিনিময়ে নিজেকে সঁপে দিল। কিন্তু বাবাকে সে সত্যিটা বলতে পারলো না। সে মিথ্যা করে বললো:

  • “বাবা, এক ধনী পরিবার আমাকে পালক কন্যা হিসেবে নিতে চাইছে।”
  • “বিনিময়ে তারা মন্দিরে চাল পাঠিয়ে দেবে।”

বাবা খুশি হলেন, কিন্তু জানতেন না তার আদরের মেয়ে আসলে এক অনিশ্চিত যাত্রায় পা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন : মালয়েশিয়ার লোককাহিনী 5 টি জনপ্রিয় মালয় লোককথা

✨ সমুদ্রের নিচে এক জাদুকরী রাজপ্রাসাদ – কোরিয়াই লোককথা

মাঝসমুদ্রে যখন জাহাজ পৌঁছালো, চারিদিকে শুরু হলো গর্জন আর বিশাল ঢেউ। নাবিকদের কথামতো শিম চং ঝাঁপ দিল উত্তাল সমুদ্রের বুকে। কিন্তু মৃত্যু নয়, তার জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিস্ময়!

  • সে জেগে দেখলো সে এক অপূর্ব সমুদ্রপ্রাসাদে আছে।
  • জলপরী আর অদ্ভুত সব সামুদ্রিক প্রাণীরা তাকে ঘিরে।
  • সমুদ্ররাজ শিম চং-এর ত্যাগে মুগ্ধ হয়ে তাকে মর্ত্যে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

শিম চং-কে পাঠানো হলো একটি বিশাল পদ্মফুলের ভেতর। একদিন সেই পদ্মফুলটি এক রাজার হাতে পড়লো। রাজা যখন ফুলটি স্পর্শ করলেন, তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো পরীর মতো সুন্দর শিম চং। রাজা তার প্রেমে পড়লেন এবং তাকে রাজ্যের রানী করলেন।

👁️ অলৌকিক পুনর্মিলন

রানী হয়েও শিম চং তার বাবাকে ভুলতে পারেনি। তার মন পড়ে থাকতো সেই অন্ধ বাবার কাছে। তার বিষণ্ণতা দেখে রাজা দেশের সমস্ত অন্ধ মানুষদের জন্য এক বিশাল ভোজের আয়োজন করলেন।

ভোজের একদম শেষ দিনে, এক জীর্ণ পোশাকে বৃদ্ধ লোক প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। শিম চং চিনতে পারলো—এ যে তার বাবা!

সে চিৎকার করে উঠলো, “বাবা! আমি তোমার শিম চং!”

বিস্মিত বৃদ্ধ চিৎকার করে উঠলেন, “আমার মেয়ে? কোথায় তুমি? আমাকে দেখতে দাও!” আর ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটলো এক মিরাকল। আনন্দের আতিশয্যে আর শিম চং-কে দেখার তীব্র আকুলতায় বৃদ্ধের চোখের দৃষ্টি ফিরে এলো!

💡 এই গল্প থেকে আমরা কী শিখলাম?

ভালোবাসা আর ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। শিম চং-এর সততা আর বাবার প্রতি টান তাকে শুধু তার বাবাকেই ফিরিয়ে দেয়নি, বরং তাকে এক নতুন জীবন দান করেছে।

গল্পটি তোমার কেমন লাগলো? শিম চং-এর জায়গায় তুমি হলে বাবার জন্য এমন কী করতে যা আগে কখনো করোনি? নিচে কমেন্ট করে জানাও!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top