পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি: বাঙালির পাতে একাই ভাত বা রুটির সাথে

পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি – বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। তাই শীতে আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে

পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি

শীতের আমেজ শুরু হতেই বাঙালির রান্নাঘরে যে সবজিটি সবচেয়ে বেশি সমাদর পায়, তা হলো পেঁয়াজকলি। আর বাঙালির প্রিয় ‘পোস্ত’ যখন এই পেঁয়াজকলির সাথে মিশে যায়, তখন তৈরি হয় এক অনন্য স্বাদ। আজকের ব্লগে আমরা শিখব কীভাবে খুব সহজে ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় পেঁয়াজকলি পোস্ত (Peyajkoli Posto)

নিচে ধাপে ধাপে রেসিপিটি আলোচনা করা হলো যা আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

শীতের দুপুরে সেরা স্বাদ: পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি

বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। বিশেষ করে নিরামিষ দিনে এই পদের কোনো তুলনা হয় না। পেঁয়াজকলির নিজস্ব একটা মিষ্টি স্বাদ আছে, যা পোস্তর সাথে মিলেমিশে অসাধারণ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন – ভেজিটেবিল চপ রেসিপি, বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু চপ বানান

প্রয়োজনীয় উপকরণ

পেঁয়াজকলি পোস্ত তৈরির জন্য খুব সামান্য কিছু উপাদানের প্রয়োজন হয়:

  • পেঁয়াজকলি: ২৫০ গ্রাম (ছোট ছোট টুকরো করে কাটা)
  • আলু: ২ টি মাঝারি সাইজের (লম্বা বা ডুমো করে কাটা)
  • পোস্ত বাটা: ৩-৪ টেবিল চামচ
  • কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪ টি (ঝাল অনুযায়ী)
  • কালো জিরে: ১/২ চা চামচ (ফোড়নের জন্য)
  • সরষের তেল: ৩ টেবিল চামচ (রান্নার আসল স্বাদ পেতে)
  • হলুদ গুঁড়ো: সামান্য (ঐচ্ছিক)
  • নুন ও চিনি: স্বাদমতো

তৈরির পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)

১. পোস্ত তৈরি:
প্রথমে পোস্ত দানাগুলো ১০-১৫ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ৩-৪টি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। (শিল নোড়ায় বাটলে স্বাদ বেশি ভালো হয়, তবে মিক্সিতেও করা যাবে)।

২. ফোড়ন ও আলু ভাজা:
কড়াইতে সরষের তেল গরম করুন। তেল থেকে ধোঁয়া উঠলে তাতে কালো জিরে ও চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। এবার আলুগুলো দিয়ে হালকা নুন ও সামান্য হলুদ দিয়ে অল্প ভাজুন।

৩. পেঁয়াজকলি মেশানো:
আলুগুলো আধভাজা হয়ে এলে তাতে কেটে রাখা পেঁয়াজকলিগুলো দিয়ে দিন। সবজিগুলো মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করুন। খেয়াল রাখবেন যেন পেঁয়াজকলি অতিরিক্ত নরম না হয়ে যায়, এতে এর স্বাদ নষ্ট হতে পারে।

৪. পোস্ত বাটা যোগ করা:
সবজিগুলো মজে এলে তাতে বেটে রাখা পোস্ত দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন এবং এক চিমটি চিনি (স্বাদের ভারসাম্যের জন্য) যোগ করুন। পোস্তর বাটি ধোয়া সামান্য জল দিতে পারেন।

৫. কষানো ও রান্না শেষ করা:
আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে ২-৩ মিনিট রান্না হতে দিন যাতে পোস্তর কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং সবজিগুলো সুসিদ্ধ হয়। সবশেষে ওপর থেকে এক চামচ কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিন। এটি পোস্তর স্বাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন – ধনেপাতার বড়া রেসিপি, চট-জলদি বাড়িতে বানান সোনালী মুচমুচে ভাজা

কিছু জরুরি টিপস (Pro-Tips)

  • অল্প হলুদ: পোস্ত রান্নায় খুব বেশি হলুদ ব্যবহার করবেন না, এতে পোস্তর আসল সাদাটে রঙ এবং গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়।
  • আঁচ নিয়ন্ত্রণ: পোস্ত দেওয়ার পর খুব বেশি কষাবেন না, এতে পোস্ত তিতকুটে হয়ে যেতে পারে।
  • কাঁচা সরষের তেল: নামানোর আগে কাঁচা সরষের তেল দিতে ভুলবেন না, এটাই হলো খাঁটি বাঙালি পোস্ত রান্নার আসল সিক্রেট।

পরিবেশন

গরম ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত আর মুসুর ডাল—সাথে যদি থাকে এই পেঁয়াজকলি পোস্ত, তবে দুপুরের খাওয়াটা একেবারে জমে যাবে। আপনি চাইলে এটি রুটির সাথেও ট্রাই করতে পারেন।

আপনার বাড়িতে পেঁয়াজকলি পোস্ত কীভাবে রান্না করেন? কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না!

ব্যবহৃত চিত্র – সৌজন্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top