ভারতের ‘ওয়েদার উইম্যান’ অন্নামণি: বিজ্ঞান ও স্বনির্ভরতার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প

অন্নামণি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়াবিদ, যিনি স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

অন্নামণি
চিত্র সৌজন্য

এক নীরব বিপ্লবের নাম অন্নামণি

ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক বিজ্ঞানী আছেন, যাঁদের কাজ দেশের ভিত্তি তৈরি করেছে, অথচ তাঁদের নাম হয়তো সাধারণের কাছে ততটা পরিচিত নয়। এমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অন্নামণি (Anna Mani)। তিনি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়াবিদ, যিনি ব্রিটিশ-শাসিত ভারত থেকে স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁকে সসম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল “ভারতের ওয়েদার উইম্যান” বা “Ozone Woman of India” উপাধিতে। একসময় যখন বিজ্ঞান ছিল পুরুষদের একচেটিয়া ক্ষেত্র, তখন অন্নামণি দৃঢ়তা, মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে সেই সীমানা ভেঙে দিয়েছিলেন। তরুণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাঁর জীবন এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস।

এখানে আমরা অন্নামণির শৈশব, শিক্ষা, কর্মজীবনের সংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি দেশকে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভর করে তুলেছিলেন— সেই রোমাঞ্চকর গল্পটি তুলে ধরব।

প্রথম অধ্যায়: শৈশব ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা

কেরালার শান্ত পরিবেশে জন্ম

অন্নামণি ১৯১৮ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুর (বর্তমান কেরালার পীরমেড)-এর এক সিরীয় খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশাল এলাচের বাগানের মালিক। পরিবারটি ছিল ঐতিহ্যবাহী, যেখানে ছেলেদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হতো এবং মেয়েদের বিবাহ ও গার্হস্থ্য জীবনের জন্য তৈরি করা হতো।

কিন্তু ছোটবেলা থেকেই অন্নামণি ছিলেন ব্যতিক্রম। আট বছর বয়সেই তিনি স্থানীয় লাইব্রেরির প্রায় সব মালায়ালম বই পড়ে ফেলেছিলেন। প্রথাগত হীরের দুল উপহারের বদলে নিজের অষ্টম জন্মদিনে তিনি চেয়ে নিয়েছিলেন এক সেট এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Encyclopedia Britannica)! বইয়ের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা শুধু তাঁর জানার আগ্রহকেই বাড়ায়নি, বরং সমাজের চিরাচরিত ধারণার বাইরে গিয়ে কিছু করার স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। মহাত্মা গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদির পোশাক পরিধান শুরু করেন, যা তাঁর স্বাদেশিকতার মনোভাবের প্রথম প্রকাশ।

বিজ্ঞানের প্রতি প্রথম টান

অন্নামণি চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে, কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় তিনি পদার্থবিজ্ঞানে (Physics) মনোযোগ দেন। ১৯৩৯ সালে তিনি মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে বি.এস-সি অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এটি সেই সময় যখন ভারতে নারী শিক্ষার হার ছিল ১ শতাংশেরও কম, এবং কলেজে ছাত্রী ভর্তি ছিল হাতে গোনা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অন্নামণি যে বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছিলেন, সেটাই ছিল তাঁর প্রথম সাহসী পদক্ষেপ।

১৯৪০ সালে, তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এ গবেষণা করার জন্য বৃত্তি লাভ করেন। সেখানে তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক স্যার সি.ভি. রমন (C.V. Raman)-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করার সুযোগ পান।

আরও পড়ুন – আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়: ভারতীয় রসায়নের জনক

দ্বিতীয় অধ্যায়: সি.ভি. রমন-এর সান্নিধ্যে ও পিএইচ.ডি. বিতর্ক

হীরা ও রুবির বর্ণালীবীক্ষণ (Spectroscopy)

IISc-তে অন্নামণির গবেষণা ছিল হীরা (Diamonds) এবং রুবি (Rubies)-এর অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এই কাজে তিনি দিনের পর দিন, কখনও কখনও রাতভর ল্যাবরেটরিতে কাটিয়েছেন। প্রায় ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা ধরে ফটোগ্রাফিক প্লেট এক্সপোজ করতে হতো তাঁকে। পরিশ্রম ও একাগ্রতার চরম উদাহরণ রেখে অন্নামণি ডায়মন্ড ও রুবির ফ্লুরোসেন্স, শোষণ ও রমন স্পেকট্রা নিয়ে গবেষণা করেন।

১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে তিনি একাই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। একজন তরুণ বিজ্ঞানীর জন্য এটি ছিল এক বিশাল অর্জন।

একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন: পিএইচ.ডি. না পাওয়া

অন্নামণি তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচ.ডি. (Ph.D.) থিসিস জমা দেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে, শুধুমাত্র তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকার কারণে (তিনি সরাসরি স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে গবেষণায় যোগ দিয়েছিলেন) তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই ঘটনা তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় ‘পিটফল’ বা বাধা ছিল, যা থেকে তিনি সহজেই হতোদ্যম হতে পারতেন।

কিন্তু অন্নামণি থেমে থাকেননি। বিজ্ঞান তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এক নতুন পথে। ১৯৪৫ সালে, তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি নিয়ে লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজ (Imperial College London)-এ যান। সেখানে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল পদার্থবিজ্ঞান, কিন্তু ভাগ্যের ফেরে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্র (Meteorological Instruments) নিয়ে। এই পরিবর্তনই তাঁকে ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে অমর করে তোলে।

আরও পড়ুন – নিকোলা টেসলা, যাঁর আবিষ্কারগুলি ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অকল্পনীয়

তৃতীয় অধ্যায়: স্বনির্ভরতার দিশারি ও IMD-তে যুগান্তকারী অবদান

স্বাধীন ভারতে আবহাওয়া যন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন

১৯৪৮ সালে অন্নামণি স্বাধীন ভারতে ফিরে আসেন এবং পুনেতে ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD)-এর যন্ত্র বিভাগে যোগ দেন। সেই সময় সদ্য স্বাধীন হওয়া ভারত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতির জন্য বিদেশ থেকে আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। এই যন্ত্র আমদানি ছিল ব্যয়বহুল এবং এর রক্ষণাবেক্ষণও ছিল কঠিন।

অন্নামণি এই নির্ভরতা দূর করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল: আবহাওয়া যন্ত্রপাতিতে ভারতকে স্বনির্ভর করা (Make in India – Swadeshi)

তাঁকে শুরুতে ব্রিটিশ আবহাওয়া যন্ত্রের ক্যাটালগ থেকে যন্ত্রপাতি তৈরির কাজটি তদারকি করতে দেওয়া হয়। কিন্তু অন্নামণি কেবল তদারকি করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি একটি কর্মশালা স্থাপন করেন এবং সেখানে প্রায় ১০০টিরও বেশি আবহাওয়া যন্ত্রপাতির নকশা ও অঙ্কন (design and drawing)-কে মানক বা Standardize করেন। তাঁর নেতৃত্বে, ভারত রেইন গেজ (Rain Gauges), অ্যানিমোমিটার (Anemometers), থার্মোগ্রাফ (Thermographs), এবং হাইগ্রোগ্রাফ (Hygrographs)-এর মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র দেশেই তৈরি করা শুরু করে।

১৯৫৩ সালের মধ্যে, তিনি যন্ত্র বিভাগের প্রধান হিসেবে ১২১ জন পুরুষের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন— যা ছিল তৎকালীন পুরুষ-অধ্যুষিত কর্মক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর মন্ত্র ছিল: “ভুল পরিমাপ না করার চেয়ে খারাপ” (Wrong measurements are worse than none)। তাঁর এই নির্ভুলতার নীতি ভারতকে আবহাওয়ার ডেটা-সংগ্রহে বিশ্বমানে উন্নীত করে।

সৌর শক্তি ও বায়ু শক্তির পথিকৃৎ

অন্নামণির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির মধ্যে ছিল বিকল্প শক্তি বা Renewable Energy পরিমাপের ভিত্তি স্থাপন করা।

  • সৌর বিকিরণ (Solar Radiation): তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতে সৌর শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে জানতে হবে দেশের কোথায় কতটা রোদ বা তাপশক্তি পাওয়া যায়। এই লক্ষ্যে তিনি ১৯৫৭-৫৮ সালে সৌর বিকিরণ পরিমাপের জন্য একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে হাতে পাইরানোমিটার (Pyranometer)-সহ অন্যান্য যন্ত্র ডিজাইন ও নির্মাণ করেন।
    • তিনি পরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশ করেন:
      • The Handbook for Solar Radiation Data for India (1980)
      • Solar Radiation over India (1981)
        এই বইগুলি আজও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষকদের জন্য প্রামাণ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • বায়ু শক্তি (Wind Energy): সৌরশক্তির পাশাপাশি তিনি দেশের বায়ু শক্তির সম্ভাবনা জরিপ করার কাজ শুরু করেন। তিনি সারা দেশ জুড়ে ৭০০টিরও বেশি সাইটে বায়ুর গতি এবং দিক পরিমাপের জন্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর এই পরিশ্রমের ফলস্বরূপ প্রকাশিত হয়:
    • Wind Energy Resource Survey in India (1992)

আজ যখন ভারত বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্ব মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে, তার মূলে রয়েছে অন্নামণির সেই সুদূরপ্রসারী গবেষণা ও ডেটা-সংগ্রহের কাজ।

ওজোন গবেষণা: বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড স্থাপন

অন্নামণির আরেকটি যুগান্তকারী কাজ ছিল বায়ুমণ্ডলের ওজোন (Ozone) নিয়ে। ৬০-এর দশকে তিনি ভারতে ওজোন পরিমাপের কাজে নেতৃত্ব দেন।
তিনি ভারতের প্রথম ওজোনোন্ডে (Ozonesonde) যন্ত্রের নকশা তৈরি করেন, যা একটি বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ৩৫ কিমি পর্যন্ত ওজোনের স্তর পরিমাপ করতে পারত।
তাঁর কাজের ফলস্বরূপ পুনে (Pune) ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)-এর গ্লোবাল ওজোন ম্যাপিং প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। অন্নামণি ছিলেন সেই বিজ্ঞানী, যিনি ওজোন হ্রাসের বিপদ নিয়ে বহু দশক আগেই ভারতকে সতর্ক করেছিলেন।

আরও পড়ুন – প্যারীচাঁদ মিত্র, বাংলা ভাষায় প্রথম ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিদ

চতুর্থ অধ্যায়: একটি নিবেদিত জীবন ও অনুপ্রেরণামূলক উত্তরাধিকার

বিজ্ঞানের প্রতি পূর্ণ সমর্পণ

অন্নামণি কখনও বিবাহ করেননি। তিনি তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞান, গবেষণা এবং দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবনে ট্রেকিং এবং পাখি দেখা ছিল প্রিয় শখ— প্রকৃতি তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস ছিল।

১৯৭৬ সালে IMD-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বেঙ্গালুরুর রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন এবং পরে নিজেই একটি ছোট ওয়ার্কশপ তৈরি করেন, যা সৌর ও বায়ু শক্তি পরিমাপের যন্ত্র তৈরি করত। একজন বিজ্ঞানী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই যাত্রাও তরুণদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে।

সম্মান ও স্বীকৃতি

অন্নামণি তাঁর কাজের জন্য বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

  • ১৯৮৭ সালে তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমি (INSA) কর্তৃক কে. আর. রামানাথন মেডেল (K. R. Ramanathan Medal) লাভ করেন।
  • ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

তরুণদের প্রতি তাঁর বার্তা

অন্নামণি সেই সময়ের একজন নারী ছিলেন, যখন বিজ্ঞানকে “পুরুষের জগৎ” বলে মনে করা হতো। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবন্ধকতার সামনে মাথা নত করেননি। তাঁর এক সাক্ষাৎকারে, তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি একটি সহজ কিন্তু গভীর বার্তা দিয়েছিলেন:

“আমাদের একটিই জীবন। প্রথমত, নিজের কাজের জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলো, তোমার প্রতিভা পুরোপুরি ব্যবহার করো, এবং তারপর কাজটিকে ভালোবাসো ও উপভোগ করো। প্রকৃতি এবং বাইরের জগতের সংস্পর্শে থাকার পূর্ণ সুযোগ নাও।”

এই উক্তি তাঁর জীবনের সারমর্মকে তুলে ধরে: প্রস্তুতি, প্রতিভা এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা— এই তিনটির সমন্বয়ই সফলতার চাবিকাঠি।

উপসংহার: আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

অন্নামণি ছিলেন এক সত্যিকারের ‘কর্মযোগী’। তাঁর বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে উন্নত করেছে, দেশকে স্বনির্ভর করেছে এবং ভবিষ্যতের সবুজ শক্তির পথ প্রশস্ত করেছে। আবহাওয়ার যন্ত্রপাতিতে ‘বিদেশি নির্ভরতা’ থেকে ‘স্বদেশী উৎপাদন’-এর দিকে ভারতকে টেনে আনার পুরো কৃতিত্বই তাঁর।

তাঁর জীবনের গল্প আমাদের শেখায় যে, যদি লক্ষ্য স্থির থাকে এবং কাজ করার ইচ্ছা থাকে, তবে কোনো সামাজিক প্রথা বা লিঙ্গবৈষম্যই বাধার সৃষ্টি করতে পারে না। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নারী বা পুরুষ নয়, বিজ্ঞান কেবল মেধা ও পরিশ্রমকেই সম্মান করে।

তরুণ ছাত্রছাত্রীরা, বিজ্ঞানী অন্নামণির জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নাও। তোমরাও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে দক্ষ হও। তিনি যেমন ভারতের আকাশ ও আবহাওয়াকে নির্ভুলভাবে মাপতে পেরেছিলেন, তোমরাও তেমনি তোমাদের ভেতরের সম্ভাবনাকে নির্ভুলভাবে খুঁজে বের করো। ভারতের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top