
হাসির গল্প পড়তে সবাই পছন্দ করেন, তাই যারা নির্ভেজাল মজার গল্প পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য কয়েকটি ছোট বাংলা কৌতুক বা হাসির অনুগল্প দেয়া হল। আপাতত ৭ টি কৌতুক দেওয়া হল, আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে ।
১. বাজে গল্ফ খেলোয়াড়: ছোট্ট হাসির গল্প

একজন লোক তার ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। ডাক্তার তাকে ভালো করে দেখে বললেন “দেখে মনে হচ্ছে আপনি অনেক শরীরচর্চা করেন!”
লোকটি হেসে বলল “একদম ঠিক বলেছেন! এইতো কদিন আগেই আমি মাইল পাঁচেক হাঁটলাম — পাথরের ওপর দিয়ে, গাছের নিচ দিয়ে। একটা হ্রদের ধার ধরে হাঁটলাম, কাঁটাঝোপ ঠেলে ঠেলে এগোলাম, এমনকি বালির ঢাল বেয়ে নিচেও নামলাম — জানেন, চোখে মুখে বালি ঢুকে গেল!”
ডাক্তার মুগ্ধ হয়ে বললেন “অসাধারণ! আপনি নিশ্চয়ই প্রকৃতি-প্রেমী, একজন দারুণ আউটডোর অ্যাডভেঞ্চারিস্ট!”
লোকটা গম্ভীর মুখে বলল “না না ডাক্তারবাবু, এসব কিছুই না… আমি আসলে গল্ফ খেলতে গিয়ে এ অবস্থা করেছি। আমি খুব বাজে গল্ফ খেলোয়াড় !”
২. কৃষকের বুদ্ধি : বাংলা হাসির গল্প (Bengali Funny Story)
এক বৃদ্ধ কৃষকের অনেক বড় খামার ছিল। খামারের একপ্রান্তে একটা বড় পুকুর ছিল, যেটা সাঁতারের জন্য একদম আদর্শ। তিনি ওখানে বসার বেঞ্চ, ফলের গাছ আর খেলার মাঠ বানিয়ে বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছিলেন।
একদিন সন্ধ্যায় কৃষকটি ঠিক করলেন বহুদিন পর পুকুরের দিকে একটু হাঁটবেন । সাথে হাতেকরে একটা সাদা বালতি নিলেন — ফল তুলবেন বলে।
পুকুরের কাছে যেতেই তিনি চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পেলেন। কাছে গিয়ে দেখেন, কয়েকজন তরুণী পুকুরে নগ্ন হয়ে স্নান করছে!
বৃদ্ধ লোকটি নিজেকে উপস্থিতি জানান দিতেই, মেয়েরা সব গিয়ে পুকুরের গভীর দিকে লুকিয়ে পড়ল। একজন চিৎকার করে বলল “আপনি চলে না গেলে আমরা জল থেকে উঠব না!”
বৃদ্ধ লোকটি মুখ গোমড়া করে বলল “তোমাদের স্নান দেখতে আমি এখানে আসিনি!” তারপর তিনি বালতিটা উঁচু করে দেখিয়ে বললেন “আমি এসেছি কুমিরটাকে খাওয়াতে!“
হ্যাঁ, কিছু কিছু বুড়ো এখনো মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে জানে!
আরও পড়ুন: লাওসের লোককথা – 5 টি জনপ্রিয় বিদেশী লোককাহিনী
৩. আগাছা চিনে রাখার সহজ উপায় ( Bengali jokes )
আমি একটা গোলাপ আর একটা দান্দেলিয়নের (এক ধরনের ফুল) মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি না। ফলে বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে একেবারে ধাঁধায় পড়ে যাই — কোনটা রাখব, কোনটা তুলব বুঝতেই পারি না।
তখন মা বললেন এক অসাধারণ বুদ্ধি “সব গাছ উপড়ে ফেল। যেটা আবার ফিরে আসে, বুঝবে ওটাই আগাছা!”
৪. কুকুর নাকি ভালুক ! ( Funny bengali joke )

আমি একদিন হ্রদে নৌকা নিয়ে ঘুরছিলাম, হঠাৎ দেখলাম জলের মধ্যে একটা বাদামি রঙের কুকুরের মাথা ভেসে আছে। বিশ্বাসই হচ্ছিল না! পাড় পর্যন্ত ঠিকমতো দেখা যায় না, কেউ কুকুরটাকে জলে ফেলে দিয়ে গেছে নাকি?
আমি দ্রুত নৌকা চালিয়ে সোজা ওই দিকেই গেলাম, ভাবলাম কুকুরটাকে উদ্ধার করব, না হয় ডুবে যাবে। যতই এগোলাম, হঠাৎ সেই ‘কুকুরটা’ আমার দিকে ফিরে চিৎকার করে গর্জন করে উঠল!
আমি সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত পাল্টালাম, বুঝতে পারলাম – ওই ছোট্ট বাদামি ভালুকটা নিজের জোরেই পাড়ে পৌঁছে যাবে!
৫. জর্জ ওয়াশিংটনের মতন সততা (Bengali humorous story)

এক তরুণ তার প্রেমিকাকে খামারে নিমন্ত্রণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাড়ির বাইরের দিকে থাকা প্রাচীন কাঠের টয়লেটটা নিয়ে সে ভীষণ লজ্জায় ছিল।
সে বাবার কাছে অনেকবার বলেছিল আধুনিক ইনডোর টয়লেট বসানোর কথা কিন্তু কিছুতেই তার বাবা রাজি হচ্ছিল না। শেষে ছেলেটা একরাতে চুপিচুপি গিয়ে পুরো টয়লেটটা ঠেলেই খাদের ঢাল বেয়ে ফেলে দিল।
পরদিন সকালে, বাবা জিজ্ঞেস করলেন “তুই কি টয়লেটটা ফেলে দিয়েছিস?”
সঙ্গে সঙ্গে সেই পুরনো গল্পও টানলেন — জর্জ ওয়াশিংটন আর তার চেরি গাছ কাটা।
ছেলেটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল “হ্যাঁ বাবা, আমিই করেছি।”
বাবা হাসলেন “তোর এই সততার জন্য ধন্যবাদ। আর তাই শাস্তি হিসাবে এখনই নতুন গর্ত খুঁড়ে শুরু কর!”
ছেলেটা অবাক হয়ে বলল “কিন্তু বাবা, জর্জ ওয়াশিংটনের বাবা তো ওকে শাস্তি দেননি!”
বাবা ঠান্ডা গলায় বললেন “হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। কিন্তু জর্জের বাবা তো তখন গাছে চড়ে ছিলেন না!”
আরও পড়ুন: প্রাচীন ইরানের লোককথা – একটি শিয়াল ও উটের কাহিনী
৬. টয়লেট-ভিত্তিক ক্যাম্পিং সিস্টেম ( Funny story)

একটা ছোট ক্যাম্পগ্রাউন্ডে দিনের শেষে একটা মিনিভ্যান এসে ঢুকল। গাড়ি থামতেই চারজন বাচ্চা লাফিয়ে নেমে পড়ল, যেন কেউ রিমোটে চালাচ্ছে।
তারা এক ঝটকায় তাঁবু খাটানো, রান্নাঘর বানানো, কাঠ জোগাড় — সব কিছু সেরে ফেলল।
পাশের ক্যাম্পার অবাক হয়ে ছেলেমেয়েদের বাবাকে বললেন “এত দ্রুত ক্যাম্প তৈরি করতে কেউ কখনও দেখিনি। অসাধারণ টিমওয়ার্ক!”
বাবা জবাবে গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে বললেন “আমার একটা নিয়ম আছে — ক্যাম্প তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কেউ টয়লেটে যেতে পারবে না।”
আরও কিছু ক্যাম্পিং প্রজ্ঞা:
- হাঁটতে গিয়ে যদি ভোরে বের হও, তাহলে আগে মুখে জাল প্রতিরোধক লাগাও, না হলে প্রথম পদক্ষেপেই মাকড়সার জালে মুখ আটকে যাবে।
- টেন্টে কেউ যদি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকায়, আর তোমার হাতে যদি একটা পারকার হুডের দড়ি থাকে… তাহলে তুমি বিপদের মধ্যে নও, তুমি সমাধানে আছো!
৭. “বি.সি.” মানে কি? – বাংলা কৌতুক গল্প
এক ভদ্রমহিলা ক্যাম্পিং-এ যাওয়ার আগে ক্যাম্পগ্রাউন্ডে চিঠি লিখবেন, জানতে চাইবেন ওখানে টয়লেট আছে কিনা। কিন্তু ‘toilet’ শব্দটি ব্যবহার করতে কেমন যেন লাগছিল, তাই তিনি লিখলেন –
“Does the campground have its own BC?”
ক্যাম্পগ্রাউন্ড মালিক চিঠি পেয়ে মাথা চুলকাতে লাগলেন। ‘BC’ কী? অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেও কিছু বোঝা গেল না। একজন মহিলা ধারণা করলেন, হয়তো এটা ‘Baptist Church’-এর কথা বলছে, যেটা রাস্তায় সামনেই।
তাই মালিক বসে লিখলেন উত্তরের চিঠি:
প্রিয় মহোদয়া,
আমার জানাতে আনন্দ হচ্ছে যে, ক্যাম্পগ্রাউন্ড থেকে ৯ মাইল দূরে একটি BC আছে, যেখানে একসাথে ২৫০ জন বসতে পারে। হ্যাঁ, একটু দূরে বটে, কিন্তু যারা নিয়মিত যায়, তারা দুপুরের খাবার নিয়ে যায় এবং পুরো দিন কাটিয়ে আসে।
জায়গাটা এত সুন্দর — শব্দ প্রতিধ্বনি পর্যন্ত শোনা যায়! গতবার আমি আর আমার স্ত্রী গিয়েছিলাম, এত ভিড় ছিল যে আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছি। শুনেছি, আরও সিট কেনার জন্য এক ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
আপনি যদি আসেন, তাহলে এখানে কিছু লোক আছে যারা আপনার সঙ্গে প্রথমবার যাবে, পাশে বসবে, আর আপনাকে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেবে।
আমাদের এটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ একটা কমিউনিটি।
আপনার শুভেচ্ছায়,
(ক্যাম্পগ্রাউন্ড মালিক)
উপরে যে কয়েকটি ছোট ছোট বাংলা হাসির গল্প বা জোকস দেওয়া হল যেমন: বাজে গল্ফ খেলোয়াড়, কৃষকের বুদ্ধি, আগাছা চিনে রাখার সহজ উপায়, কুকুর নাকি ভালুক বা জর্জ ওয়াশিংটনের মতন সততা ইত্যাদি নির্ভেজাল জোকস কেমন লাগল টা অবশ্যই জানাবেন। আপনাদের উত্তর আমাদের এরকম আরও লেখা উপস্থাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।



