
পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য আমরা যতই জানতে পারি ততই যেন এই লড়াকু ও কর্মঠ প্রাণী সম্পর্কে শ্রদ্ধা বাড়ে। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রাণী। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী, কিছু প্রজাতি তাদের শরীরের ওজনের ৫০ গুণ পর্যন্ত বহন করে এবং প্রাচীন পোকামাকড় যা ডাইনোসরের সময় থেকে বিদ্যমান। তারা ফেরোমোন নামক রাসায়নিক পথ ব্যবহার করে যোগাযোগ করে, দুটি পাকস্থলী থাকে (একটি নিজেদের জন্য, একটি উপনিবেশের জন্য), এবং তাদের ফুসফুস এবং কান নেই, তাদের শরীরের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয় এবং কম্পনের মাধ্যমে মাটি অনুভব করে। উপরন্তু, কিছু পিঁপড়ার উপনিবেশ সম্পূর্ণরূপে স্ত্রী, এবং রানী পিঁপড়া কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে।
পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য: ৯৯টি জেনে নেওয়া যাক
1. পিঁপড়েরা খুবই শক্তিশালী! তারা নিজেদের ওজনের ৫০ গুণ ভার তুলতে পারে।
2. ‘সৈনিক পিঁপড়ে’ তাদের মাথা দিয়ে বাসার দরজা আটকে বহিরাগতদের ঢুকতে দেয় না।
3. পৃথিবীতে প্রায় ১২,০০০ প্রজাতির পিঁপড়ে রয়েছে।
4. শরীরের তুলনায় তাদের পেশি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
5. পৃথিবীর সব মানুষের ওজন আর সব পিঁপড়ের ওজন যোগ করলে প্রায় সমান হয়।
6. পিঁপড়েরা গাছ থেকে গাছে অন্য পোকা বয়ে নিয়ে যায়—তাদের মিষ্টি রস পাওয়ার জন্য!
7. কিছু পিঁপড়ে অন্য কলোনির পিঁপড়েদের ধরে এনে জোর করে কাজ করায়।

8. বিজ্ঞানীদের মতে, পিঁপড়ে পৃথিবীতে ১৩ কোটি বছর ধরে আছে।
9. এক ধরনের পিঁপড়ের নাম রাখা হয়েছে অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ডের নামে।
10. মানুষের আগেই পিঁপড়েরা চাষাবাদ করতে শিখেছিল—তাই তারা প্রথম “কৃষক”।
11. খাবারের পথ খুঁজতে তারা অন্য পিঁপড়ের গন্ধের পথ (ফেরোমোন) অনুসরণ করে।
12. রানি পিঁপড়ে মিলন সম্পন্ন করলে তার ডানা ঝরে যায়।
13. সব কর্মী পিঁপড়ে—অর্থাৎ শ্রমিক পিঁপড়ে—আসলেই মেয়ে এবং তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
14. পুরুষ পিঁপড়েদের ডানা থাকে এবং তারা আকাশে উড়ে সঙ্গিনী খুঁজে বেড়ায়।
15. বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিঁপড়ে হলো “বুলেট অ্যান্ট”—দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৬ ইঞ্চি!

16. পুরুষ পিঁপড়ের একমাত্র কাজ হলো রানি পিঁপড়ের সঙ্গে মিলন করা; তারপর সে মারা যায়।
17. পিঁপড়েরা বরফযুগেও বেঁচে ছিল—ডাইনোসরের থেকেও বেশি টিকে গেছে।
18. তারা পৃথিবীর সব মহাদেশে থাকে, শুধু আর্কটিক ও আন্টার্কটিক ছাড়া।
19. পৃথিবীতে মোট পিঁপড়ের সংখ্যা প্রায় ১০,০০০ ট্রিলিয়ন!
20. এক প্রাগৈতিহাসিক পিঁপড়ের ডানার বিস্তার ছিল ৬ ইঞ্চি—নাম ছিল Titanomyrma giganteum।
21. উষ্ণমণ্ডলীয় জঙ্গলে সব প্রাণীর মোট ওজনের ২৫%–ই পিঁপড়ে!
22. সাধারণ কালো গৃহস্থ পিঁপড়ে কুকুরের থেকেও বেশি বাঁচে—গড়ে ১৫ বছর।
23. অনেকগুলো পিঁপড়েকে একসাথে বলা হয় “সোয়ার্ম” বা পিঁপড়ের ঝাঁক।
24. অনেক পিঁপড়ে মিলে একসাথে কাজ করলে যেন এক বিশাল “মস্তিষ্কের দল” তৈরি হয়।
25. অস্ট্রেলিয়ার সবুজ পিঁপড়ের পিছনের অংশ নাকি লেবুর মতো টক স্বাদ!
26. কিছু পিঁপড়ের বাসা মাটির নিচে দুই ফুট গভীর পর্যন্ত হয়।
27. অস্ট্রেলিয়ার “বুলডগ অ্যান্ট” মানুষের মৃত্যুও ঘটিয়েছে—এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক পিঁপড়ে।

28. অ্যামাজনের আগুন পিঁপড়েরা একসঙ্গে পা জুড়ে ভেলা তৈরি করে নদী পার হয়।
29. একটি কলোনিতে তিন ধরনের পিঁপড়ে থাকে—রানি, বড় শ্রমিক ও ছোট শ্রমিক।
30. আশ্চর্য হলেও সত্যি—কলোনির প্রায় ২০% পিঁপড়ে কিছুই করে না!
31. রানি পিঁপড়ে ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে—সবচেয়ে দীর্ঘজীবী পোকা।
32. বুলেট অ্যান্টের হুল পৃথিবীর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক—ব্যথা ২৪ ঘণ্টা থাকে!
33. সৈন্য পিঁপড়েরা অন্য কলোনি থেকে ডিম চুরি করে এনে দাস শ্রমিক বানায়।
34. কিছু আমেরিকান উপজাতিতে ছেলেদের পরীক্ষায় বুলেট অ্যান্টের কামড় খাওয়ানো হয়।
35. রানি মারা গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই কলোনির বাকি সবাই মারা যায়।
আরও পড়ুন – বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায় সালার ডি উয়ুনি ?
36. পিঁপড়েরা ‘হাইমেনোপটেরা’ পরিবারভুক্ত—মৌমাছি ও বোলতার মতো।
37. রানি পিঁপড়ের কাজ হাজার হাজার ডিম পাড়া।
38. পিঁপড়ে কান দিয়ে নয়—কম্পন দিয়ে ‘শোনে’!
39. পিঁপড়ের ফুসফুস নেই—ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে অক্সিজেন ঢোকে ও বের হয়।
40. কাঠ-পিঁপড়েরা (Carpenter ants) গাছ বা কাঠে বাসা বানায়—বাড়ির কাঠ নষ্ট করতে পারে।

41. কিছু পিঁপড়ে বাজে গন্ধ ছাড়ে—যেমন ‘ওডোরাস হাউস অ্যান্ট’-এর গন্ধ পচা নারকেলের মতো।
42. মহিলা কর্মী পিঁপড়েরা বাসা থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত হাঁটে—তাদের জন্য অনেক দূর।
43. বুলেট অ্যান্টের কামড়ে বড় মাকড়সাও প্যারালাইসড হয়ে যায়।
44. যদি পিঁপড়ে মানুষের সমান বড় হতো, তবে ঘোড়ার মতো দ্রুত দৌড়াতে পারত।
45. ৪০,০০০ পিঁপড়ে মিলে একটি মানুষের মতোই বুদ্ধিমান!
46. পিঁপড়ের দুটি পেট থাকে—একটি নিজের খাবারের জন্য, আরেকটি অন্যকে খাওয়ানোর জন্য।
47. অস্ট্রেলিয়ার সবুজ পিঁপড়ের কলোনি ১২টি গাছ জুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে।
48. পিঁপড়ের ডিম রানির লালা খেয়ে টিকে থাকে!
49. একটি ‘সুপার কলোনি’-তে ৩০ কোটি পিঁপড়ে থাকতে পারে।

50. কিছু পিঁপড়ে ঘর ছাড়াই সব সময় ঘুরে বেড়ায়—এরা ‘আর্মি অ্যান্ট’।
51. পৃথিবীতে প্রতি মানুষে প্রায় ১০ লাখ পিঁপড়ে রয়েছে।
52. পিঁপড়েরা সাঁতারও কাটতে পারে!
53. তারা সবচেয়ে বুদ্ধিমান পোকা—তাদের মস্তিষ্কে থাকে ২,৫০,০০০ কোষ।
54. পাতাকাটা পিঁপড়েরা ছত্রাক চাষ করে—তাই তারাও কৃষক!
55. আর্মি অ্যান্টরা কখনও স্থায়ী বাসা বানায় না—সব সময় চলতে থাকে।
56. তারা অন্য কলোনির সঙ্গে সপ্তাহের পর সপ্তাহ যুদ্ধ করতে পারে।
আরও পড়ুন – হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময় : ওয়েলউইটশিয়া
57. পিঁপড়ের রক্ত বর্ণহীন, কোনো রং নেই।
58. বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোনি ক্যালিফোর্নিয়ায়—৬০০ মাইল জুড়ে।
59. ‘ড্রাইভার অ্যান্ট’ খুব ভয়ংকর—তারা দলে দলে সবকিছু খেয়ে ফেলে।
60. উইপোকা পিঁপড়ে নয়—তারা আসলে আরশোলার আত্মীয়।
61. পিঁপড়েরা একে অন্যকে শেখায়—এটা স্তন্যপায়ীদের বাইরে আর কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
62. তারা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দেখে পথ চিনতে পারে—নেভিগেশনে মাস্টার!
63. মেক্সিকোতে পিঁপড়ের ডিম খুব দামি খাবার—যাকে বলা হয় ‘এস্কামোলেস’।

64. প্রতি বছর পিঁপড়েরা প্রতি বর্গমাইলে ৫০ টন মাটি সরায়।
65. ফুসফুস নেই বলে তারা একদিন পানির নিচেও বাঁচতে পারে।
66. আগুন পিঁপড়ে (Fire ant) প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা ঘুমায়।
67. ভারতবর্ষে প্রায় ৮২৮ প্রজাতির পিঁপড়ে পাওয়া যায়।
68. ডিম নিষিক্ত হলে মেয়ে পিঁপড়ে জন্মায়, না হলে ছেলে।
69. ডিম ফুটলে শিশু পিঁপড়েদের শ্রমিক পিঁপড়েরা লালন করে।
70. পিঁপড়ের চোখ বহু ছোট চোখের সমষ্টি—তারা নড়াচড়া ভালো দেখে।
71. আর্মি অ্যান্টের ঝাঁক ১০০ মিটার লম্বা হতে পারে!
72. বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পিঁপড়ে মাত্র ২ মিমি—নাম ‘ফেরাও অ্যান্ট’।
73. অস্ট্রেলিয়ার এক ধরনের মাকড়সা সবুজ পিঁপড়ের মতো ছদ্মবেশ ধরে তাদের বাসায় ঢোকে ও বাচ্চা খায়—এটাকে বলে ‘কেমিক্যাল মিমিক্রি’।
74. পাতাকাটা পিঁপড়েরা নিজেদের ওজনের ৫০ গুণ তুলতে পারে—এরা সবচেয়ে শক্তিশালী।

75. ফুলগাছ জন্মানোর পর জটিল মাটির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পিঁপড়ের বিবর্তন ঘটেছে—১০ কোটি বছর আগে।
76. হাওয়াই দ্বীপে ৫০ প্রজাতির পিঁপড়ে আছে—এর কোনোটাই সেখানকার নিজস্ব নয়।
77. রানি পিঁপড়ের তেমন ক্ষমতা নেই—পুরো কলোনি একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়।
78. বুলডগ অ্যান্টের কামড়ে ১৫ মিনিটে মানুষও মারা যেতে পারে।
79. বেশিরভাগ কলোনিতে একজন রানি থাকে, তবে কিছু আগুন পিঁপড়ে ও আর্জেন্টিনা পিঁপড়ে দুই রানিও রাখে।
80. পিঁপড়েরা শুঁয়োর মতো নাক নয়—অ্যান্টেনা দিয়ে গন্ধ পায়।
81. পিঁপড়ের চোয়াল কাঁচির মতো—সাইডওয়ে খোলে।
82. তারা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন—আবর্জনা বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে।
83. প্রতিটি কলোনির আলাদা গন্ধ থাকে—এতে অপরিচিত কে তা বোঝা যায়।
84. অনেক পাখি কালো পিঁপড়ে পালকে লাগায়—কারণ তাদের অ্যাসিড পরজীবী মারে।
85. ঠান্ডা পড়লে শ্রমিক পিঁপড়ে বাচ্চাদের বাসার ভেতর দিকে সরিয়ে আনে।
86. ‘হানি পট অ্যান্ট’ শরীরে মিষ্টি রস জমিয়ে রাখে—আর অন্যদের খাওয়ায়।

87. পিঁপড়া হল পোকামাকড়ের জগতের মেষপালক এবং এফিডের পাল, যা তাদের শিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে।
88. ‘ক্যার্পেন্টার অ্যান্ট’ বিপদের সময় গা ফাটিয়ে বিষ বের করে আক্রমণকারীকে মেরে ফেলে।
89. মাদাগাস্কারে ‘ভ্যাম্পায়ার অ্যান্ট’ আছে—তারা বাচ্চা পিঁপড়ের রক্ত খায়।

90. একটি লার্ভা (শিশু পিঁপড়ে) যদি বেশি ভালো খাবার পায়, তবে সে রানি হতে পারে।
91. অ্যারিজোনায় পিঁপড়েরা ছোট রত্ন (গারনেট) খুঁজে মাটির উপর নিয়ে আসে।
92. রানি হওয়ার যোগ্য পিঁপড়েকে বলা হয় ‘প্রিন্সেস অ্যান্ট’।
93. পিঁপড়ে মারা গেলে তার শরীর থেকে গন্ধ বের হয়—অন্য পিঁপড়েরা তাকে কবরস্থানে নিয়ে যায়।
94. এক স্কাইডাইভার নাকি আগুন পিঁপড়ের কামড়ে বেঁচে গিয়েছিলেন—কামড়ে তার হার্ট চলতে থাকে!
95. পূর্ব আফ্রিকার কিছু উপজাতি কাটাছেঁড়া সারাতে পিঁপড়ের চোয়াল দিয়ে ক্ষত সেলাই করে।
96. ডানা-ওয়ালা পিঁপড়েরা সাধারণত বড় ও স্থায়ী কলোনিতে জন্মায়।
97. বুলেট অ্যান্টের কামড় নাকি গুলির মতোই ব্যথা দেয়—তাই নাম বুলেট অ্যান্ট!

98. পিঁপড়ের চোখ অনেক ছোট চোখের সমষ্টি—তাই তারা বহু দিক দেখতে পায়।
99. ‘জম্বি পিঁপড়ে’ সত্যি আছে—এক ধরনের ছত্রাক পিঁপড়েকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্য পিঁপড়েরা তা বুঝলে ওই আক্রান্ত পিঁপড়েকে মেরে ফেলে।



