জানা অজানা মজার তথ্য জানতে কার না ইচ্ছে করে। এখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে কিছু তথ্য সংকলন করা হল। আশাকরি তোমাদের ভাল লাগবে।

জানা অজানা মজার তথ্য – সংকলন
- সাহারা মরুভূমি একসময় সবুজে ভরা অঞ্চল ছিল :- আজ পৃথিবীর সবচেয়ে রুক্ষ মরুভূমিগুলির মধ্যে একটি। তবে সাহারা একসময় একটি সমৃদ্ধ সবুজ স্বর্গ ছিল আর সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে। এটি ৬ থেকে ৭ হাজার বছর আগে পর্যন্ত এই অঞ্চলে হ্রদ, নদী এবং ঘন গাছপালা ছিল।
প্রায় ১০,০০০ বছর আগে: জলের উৎস সহ সবুজ অরন্য ছিল।
প্রায় ৫,০০০ বছর আগে: ক্রমশ মরুভূমিতে রূপান্তর হতে থাকে।
আর বর্তমান দিনে: শুষ্ক মরুভূমি - করাড যেখানে দুটি নদী মিলিত হয় কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয় :- মহারাষ্ট্রের একটি শহর করাড এখানে অনন্য নদী সঙ্গম রয়েছে যেখানে দুটি বিপরীত প্রবাহি নদী মিলিত হয়।
কৃষ্ণা নদী পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং কোয়না নদী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
এই বিরল ভৌগোলিক ঘটনাটি করাডকে জলবিদ্যা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে তোলে।
- কলা তেজস্ক্রিয় :- কলায় পটাশিয়াম-৪০ থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, অর্থাৎ এগুলি অতি সামান্য তেজস্ক্রিয়।
- পাকস্থলীর স্ব-পাচন :- আপনার পাকস্থলী এত শক্তিশালী অ্যাসিড তৈরি করে যে এটি নিজেকে হজম করতে পারে, কিন্তু পাকস্থলীর আস্তরণ এটিকে রক্ষা করার জন্য পুনরুত্পাদন করে।
- শিশুদের হাড় :- শিশুদের প্রায় ৩০০টি হাড় থাকে, যা বৃদ্ধি এবং বিকাশের সাথে সাথে একত্রিত হয়।
- মানুষের আভা :- আপনার শরীর একটি ক্ষীণ আলো নির্গত করে যা মানুষের চোখের পক্ষে দেখতে খুব দুর্বল।
- একাধিক মস্তিষ্কের প্রাণী :- অক্টোপাসের একাধিক মস্তিষ্ক থাকে, একটি কেন্দ্রীয় এবং প্রতিটি বাহুতে বেশ কয়েকটি, এবং তিনটি হৃদয়।
- ওম্বাটের ঘন আকৃতির মল :- ওম্বাটগুলি ঘন আকৃতির মল তৈরি করে, যা বিষ্ঠাগুলিকে গড়িয়ে যেতে বাধা দিয়ে তাদের অঞ্চল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
- ভারী মেঘ :- আলো দেখা সত্ত্বেও, ঘন জলের পরিমাণের কারণে মেঘের ওজন দশ লক্ষ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
- মহাকাশে ঢেকুর তোলা যাবে না :- মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের অভাব কঠিন, তরল এবং গ্যাসের বিচ্ছেদকে বাধা দেয়, যার ফলে ঢেকুর তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- হীরাবৃষ্টি :- বৃহস্পতি এবং শনির মতো গ্যাসীয় দানব গ্রহের অভ্যন্তরে, তীব্র চাপের ফলে হীরাবৃষ্টি হতে পারে।
- পৃথিবীর সঙ্কুচিত চাঁদ :- চাঁদ আসলে সঙ্কুচিত হচ্ছে, যদিও প্রক্রিয়াটি খুবই ধীর।
- প্রাণীর সুদুর যাত্রা :- কিছু প্রাণী, যেমন পরিযায়ী পাখি এবং কচ্ছপ, নৌচলাচলের জন্য পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে।
- অনন্য জিহ্বার ছাপ :- আঙুলের ছাপের মতো, প্রত্যেকেরই একটি অনন্য জিহ্বার ছাপ থাকে।
পড়ে দেখুন : আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড নামের পেছনে কি কোন ইতিহাস, রহস্য বা কৌশল রয়েছে?
তোমরা কি জানো “বয়কট” (Boycott) শব্দের উৎপত্তি কিভাবে হয় ?

জানলে অবাক হবে যে বয়কট আসলে একজন ব্যক্তির নাম !
১৮৩২ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া চার্লস কানিংহাম বয়কট ছিলেন একজন নিষ্ঠুর জমিদার। তিনি আয়ারল্যান্ডে চাষিদের থেকে কঠোরভাবে কর আদায় করতেন, অনাদায়ে উচ্ছেদ করতেন। অতঃপর অতিষ্ট হয়ে ১৮৮০ সালে, চাষিরা খাজনা কমানোর দাবি তুললে তিনি আরো জোরপূর্বক খাজনা আদায় করতে থাকেন।
চাষিরা এর প্রতিবাদে এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করে!
সব চাষিরা তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়
তার জমিতে যাওয়া আসা করা বন্ধ করে দেয় !
এমনকি তার যে বার্তাবাহক বা চিঠি আদানপ্রদান করতো সে ও তার চিঠি আদানপ্রদান বন্ধ করে দেয় !
এমতবস্থায় জমির ফসল পেকে নষ্ট হবার উপক্রোম , কিন্তু ফসল কাটার জন্যে কাউকেই পাচ্ছেনা ! তাই অনেক কষ্টে আয়ারল্যান্ডের শহরে খবর দেয়া হয় লোক পাঠানোর জন্যে ! অবশেষে লোক আসে এবং ৩৫০ পাউন্ডের কাজ দশ হাজার পাউন্ডে করাতে হয় ! অবশেষে হয়ে যায় চরম লোকসান ! ইতিমধ্যে সারা ইংল্যান্ড, আয়রল্যান্ডের বয়কটের কর্মকণ্ড এতটাই ছড়িয়ে যায় যে, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সংবাদপত্রে “বয়কট” শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যা এযুগের ভাইরাল হবার মতো !
সে সময় থেকেই কেউ কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করলেই চার্লস কানিংহাম বয়কটের নাম চলে আসে! অবশেষে ১৮৮৮ সালে “Boycott” শব্দটি অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।



