ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এমন ৮ টি মজার ও যুগোপযোগী নীতিগল্প

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে এমন ৭ টি ছোট গল্পের সংকলন দেওয়া হল। গল্পগুলি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয় তবে এই উদ্যোগ সার্থক বলে মনে করব।

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা (Short moral stories for kids)

গল্প শিশুদের সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য শেখানোর একটি সুন্দর উপায়। এগুলি তাদের মৌলিক মানবিক নীতিশাস্ত্র এবং আচরণগত ধরণ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা অর্জনে সহায়তা করে। ছোটবেলায়, আমরা পঞ্চতন্ত্রের গল্প, ঠাকুরমার ঝুলি বা জাতক গল্পের মতো লোককাহিনী পড়ে এবং শুনে বড় হয়েছি । আমরা হয়তো তা বুঝতে পারি না কিন্তু ছোটদের নৈতিক শিক্ষা জন্য এই ছোট ছোট গল্পগুলি আমাদের আজকের অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

1. শিয়াল ও সারস

শিয়াল এবং সারস
চিত্র সৌজন্য

এক বিশাল সবুজ জঙ্গলে, একটি শিয়াল এবং একটি সারস থাকত, তারা উভয়ই প্রতিবেশী ছিল। শিয়ালটি খুব চালাক এবং স্বার্থপর ছিল। একদিন সে তার প্রতিবেশী সারসকে তার বাড়িতে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। সারস আমন্ত্রণ শুনে অবাক হয়ে যায়, কিন্তু আনন্দের সাথে গ্রহণ করে। সেই সন্ধ্যায়, সারস শিয়ালের বাড়িতে যায় এবং তার লম্বা ঠোঁট দিয়ে দরজায় কড়া নাড়ে। শিয়াল দরজা খুলে সারসকে ভিতরে ডাকে। সারস শিয়ালের তৈরি সুস্বাদু স্যুপের গন্ধ পেতে পারে।

সারস পাখিটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। শিয়াল সারস পাখিটিকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রাখল যাতে সারস পাখিটি আরও ক্ষুধার্ত হয়। এরপর সে অগভীর বাটিতে কৌশলে রাতের খাবারের জন্য স্যুপ পরিবেশন করল। যেহেতু এটি অগভীর বাটি ছিল, তাই শিয়ালের পক্ষে সবটা খাওয়া সহজ ছিল, কিন্তু দরিদ্র সারস পাখিটি এর কিছুই খেতে পারত না। খাবারটি এত অগভীর ছিল যে তার লম্বা ঠোঁট স্যুপ পান করতে পারত না। দরিদ্র সারস পাখিটি বিনয়ের সাথে হাসল এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় চলে গেল।

শিয়ালকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সারস পরের সপ্তাহে শিয়ালকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানালো। শিয়াল যখন সারসের বাড়িতে পৌঁছালো, তখন সে সুস্বাদু কিছু রান্নার গন্ধ পেলো। শিয়াল ভেবেছিল সারস তার মতো ধূর্ত এবং ধূর্ত নয়। সে ভেবেছিল সারস তাকে বোকা বানাবে না। খাবারের কথা ভাবতে ভাবতে সারস দুটি বড় লম্বা জারে ভরা স্টু নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। শিয়াল প্রলুব্ধ হয়ে গেল, কিন্তু স্টু স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করার সাথে সাথেই তার মুখ বোতলের জারের গলায় আটকে গেল। সারস সহজেই জারের ভেতরে তার বড় ঠোঁট ঢুকিয়ে স্টু পান করল এবং শিয়াল কেবল পাত্রের প্রান্ত চাটতে এবং খাবার শুঁকতে পারল। যদিও সে চায়নি, শিয়ালকে স্বীকার করতে হয়েছিল যে সে চালাক ছিল এবং তাকে খালি পেটে বাড়ি যেতে হয়েছিল।

শিক্ষা (শিয়াল ও সারস): এই নীতিগল্প আমাদের শেখায় যে অন্যদের সাথে সেই আচরণ করা যেমন তুমি চাও অন্যদের সাথেও করা উচিত। এটি শেখায় যে অন্যদের প্রতি চিন্তাশীলতা এবং শ্রদ্ধা অনেক দূর এগিয়ে যায়, এবং নির্দয় বা প্রতারণামূলক আচরণ প্রায়শই বিপরীত ফলাফল দেয়।

2. বড়াই

বড়াই
চিত্র সৌজন্য

একবার একজন লোক তার বাড়ি ছেড়ে অনেক দূরের দেশের একটি জায়গায় বেড়াতে গেছিল। পুরো একটা বছর সে সেখানে থাকল। অবশেষে বাড়ি ফিরে এসে নিজের গ্রামের লোকের কাছে দিনরাত সে সেই জায়গাটার কথা বলে প্রশংসা করে যেত। সর্বক্ষণ তার মুখে একই কথা।

গ্রামের লোকদের এসব কথা শুনতে ভালো লাগতো না।

বিরক্ত হয়ে একদিন একজন তাকে জিজ্ঞেস করল – জায়গাটা যখন তোমার এতই ভালো লেগেছিলো তাহলে সেখানেই তো থেকে গেলে পারতে?

লোকটি বলল – এলাম কেনো? এলাম তোমাদের কাছে জায়গাটার কথা বলবো বলে। না হলে তো আসতামই না। ওখানকার লোকেরা কি ভালো লাফ দিতে পারে জানো? এমন লাফ দেওয়া তোমার বাপের জন্মেও দেখোনি! একদিন ওখানে লাফের প্রতিযোগিতা হলো। ‘কে সবচাইতে বেশি লাফাতে পারে‘ – এই প্রতিযোগিতায় আমি এমন লাফ দিলাম যে সবাই দেখে এক্কেবারে অবাক হয়ে গেল! কেউ আমার সঙ্গে এটে উঠতে পারল না। তোমরা যদি সেখানে হাজির থাকতে তাহলে দেখতে কি দারুন আমার সে লাফ!

শুনে একজন অমনি বলে উঠল – তোমার লাফ দেখতে অত দুর আমাদের যাবার কি দরকার, তুমি একবার এখানে লাফ দিয়ে দেখিয়েই দাও না, দাদা!

বলা বাহুল্য, লোকটি তেমন লাফ দিতে পারল না।

এরপর থেকে সে আর নিজেকে নিয়ে বড়াই করত না। আর বকবকও বন্ধ হয়ে গেল।

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা: বাকচাতুরী বেশিদিন চলে না।

আরও পড়ুন: কাম্বোডিয়ার লোককথা – সংস্কৃতি সম্পন্ন এক আশ্চর্য দেশ

3. বুদ্ধিমান বনিক

বুদ্ধিমান বনিক
চিত্র সৌজন্য

এক ধনী ব্যবসায়ী ছিল। তার ছিল প্রচুর ধন সম্পত্তি। আর ছিল অনেক লোকজন, ঝি-চাকর গাড়িঘোড়া ইত্যাদি। তার একটা বড়ো কুকুরও ছিল। কুকুরটা ছিল খুবই প্রভুভক্ত। সে মনিবের সব লোকজনদের পাহারা দিত। কেউ কাজে ফাঁকি দিলে, জিনিসপত্তর ভেঙে ফেললে বা চুরি করলে ঘেউঘেউ করে ডেকে মনিবকে জানিয়ে দিত। আর কুকুরটার প্রধান কাজ ছিল খুব ভোরে মোরগ ডেকে ওঠবার সঙ্গে সঙ্গে সকলকে জাগিয়ে দেওয়া। ফলে লোকজনদের আর বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে থাকা চলত না। উঠে পড়তে হত সকাল না হতেই। আর উঠেই মনিবের কাজে লেগে যেতে হত।

অত সকালে উঠে শীত নেই, বর্ষা নেই কাজ করা। ব্যবসায়ীটির লোকলস্করদের আর সইছিল না। তারা মতলব আঁটছিল কীভাবে কুকুরটাকে জব্দ করা যায়। অনেক ভেবেচিন্তে শেষে তারা কুকুরটির খাবারে একদিন বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলল। তারা ভাবল—এবার বাঁচা গেল, রাত ভোর হবার আগে আর তাদের উঠতে হবে না।

কিন্তু এতে ফল হল উলটো। মনিব বেজায় রেগে গেলেন। তিনি ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। তারপর একটা ব্যবস্থা নিলেন। রাত দ্বিতীয় প্রহর থেকেই তিনি তার লোকজনদের উঠিয়ে কাজে লাগিয়ে দিতেন। মিষ্টি করে, মুখে বলতেন—ওরে তোরা উঠে পড়, রাত আর নেই। অনেক কাজ, সব পড়ে রয়েছে।

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : মানুষের দুর্গতির জন্যে মানুষই দায়ী।

4. শিকারী কুকুর

শিকারী কুকুর
চিত্র সৌজন্য

এক দেশে একজন খুব শক্তিশালী লোক ছিল। লোকটির একটি ভালো শিকারী কুকুর ছিল। কুকুরটির গায়ে ছিল খুব শক্তি। কুকুরটি খুব ভালো শিকার করতে পারত। শক্তিশালী লোকটি যখনই শিকারে যেত তখনই কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে যেত। বনে গিয়ে কোনও পশুকে দেখিয়ে একবার ইশারা করলেই কুকুরটি তীরের মতন ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে নিয়ে আসত তার মনিবের কাছে। যতদিন কুকুরটি গায়ে বল ছিল ততদিন এমনি করে অনেক পশু শিকার করে এনে খুশি করত তার মনিবকে।

অবশেষে কুকুরটি বুড়ো হয়ে গেলো। বুড়ো হওয়ায় সে বেশ দুর্বলও হয়ে পড়েছিল। এই সময় তার মনিব একদিন তাকে নিয়ে শিকারে বেরিয়েছিল। জঙ্গলে গিয়ে একটা শুকর দেখতে পেল মনিবটি। মনিব ইশারায় কুকুরটিকে ওই শুয়োরটি ধরতে পাঠাল। কুকুরটি প্রাণপণে দৌড়ে গিয়ে শুয়োরটির ঘাড় কামড়ে ধরল কিন্তু গায়ে তার আগেকার মতো বল না থাকায় বেশিক্ষণ শুয়োরটির ঘাড় কামড়ে ধরে রাখতে পারল না। ফলে শুয়োরটি অনায়াসে কুকুরটির কামড় থেকে নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে গেল।

লোকটি এতে ভীষন রেগে গিয়ে কুকুরটাকে খুব মারধর করল।

কুকুরটি তখন কাদতে কাদতে বলল – কর্তা, বিনা দোষে আমাকে এমন করে মারা কি আপনার ঠিক হচ্ছে? ভেবে দেখুন, যতদিন আমার গায়ে জোর ছিল, ততদিন কত পশু ধরে এনে দিয়েছি আপনাকে। এখন আমি বুড়ো হয়ে গেছি, শরীরে আর আগেকার মত শক্তি নেই, তাই এখন আর আগের মত কাজ করতে পারি না। এই না পারার জন্যে আমায় এমন করে মারা কি আপনার ঠিক হচ্ছে?

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা: কারোরই কর্মক্ষমতা চিরকাল সমান থাকে না।

আরও পড়ুন – ছোটদের জন্য 6 টি সুন্দর ছোট নৈতিক গল্প

5. দেবদারু গাছ ও কাঁটাগাছ

দেবদারু গাছ ও কাঁটাগাছ
চিত্র সৌজন্য

এক পাহাড়ি দেশে এক পাহাড়ের ওপর একটা বিরাট দেবদারু এ গাছ ছিল। আর তার পাশেই ছিল একটা কাটাগাছের ঝোপ। দেবদারু গাছ একদিন পাশের সেই কাঁটাগাছের ঝোপটাকে ডেকে বলল— দেখেছিস? একবার চোখ মেলে আমার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখ—আমি কত বড়ো, কত মজবুত আমার কাঠ, কত সুন্দর দেখতে আর কী সুন্দর অঙ্গের গঠন আমার। আর তুই কিনা একটা কিম্ভূত কিমাকার! যেমন বেঁটে, তেমনি দুর্বল। অতি বিশ্রী আর কুৎসিৎ দেখতে তুই।

দেবদারুর কথা শুনে কাঁটাগাছের মনটা বড়োই খারাপ হয়ে গেল— তাই তো, এটা তো মিথ্যে নয়।

পর দিনই কাঠুরিয়ার দল কুড়ুল কাঁধে করে সেখানে হাজির হল। এসেই তারা ঝপাঝপ কুড়ুলের কোপ বসাতে লাগল দেবদারু গাছটার গোড়ায়। গাছটা কেটে নিয়ে গেল তারা।

ছিন্নমূল দেবদারু গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়বার সময় বড়ো আপশোসের সঙ্গে নিজের মনে বলল—হায় হায়, এর চাইতে আমার কাঁটাগাছের ঝোপ হওয়াই ভালো ছিল। লোকগুলির হাতে তাহলে আমি এভাবে অকালে প্রাণ হারাতাম না।

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : অহংকারীর পতন অবশ্যম্ভাবী।

6. গাধা আর ঘোড়া

গাধা আর ঘোড়া
চিত্র সৌজন্য

একটা গাধা ভারী বোঝা পিঠে নিয়ে অতি কষ্টে পথ চলেছে, এমন সময় এক লড়াইয়ের ঘোড়া খটখট করে সেই পথে এসে গাধাকে বলল—এই গাধা, তাড়াতাড়ি পথ ছেড়ে দে আমায়, নাহলে এক লাথিতে তোকে শেষ করে দেব।

গাধাটি ঘোড়ার হুমকি শুনে তখনই তাকে পথ ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়াল আর নিজের দুর্ভাগ্যের জন্যে মনে মনে দুঃখ করতে লাগল। কিছুদিন পরে ওই ঘোড়াটি যুদ্ধ থেকে এমন আহত হয়ে ফিরল যে তাকে দিয়ে আর যুদ্ধের কাজ হল না। এমনকি তার ওপরে আর চড়াও চলল না। তখন ঘোড়ার মালিক তাকে জমিতে চাষবাসের কাজে লাঙল টানতে লাগিয়ে দিল।

একদিন দুপুরে প্রচণ্ড গরমে রোদে ঘোড়া লাঙল টানছিল, গা দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। আর ঘোড়াটা চলতে একটু ঢিলে দিলেই তার পিঠে পড়ছিল চাবুকের বাড়ি। সেই সময় গাধাটা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

ঘোড়াটাকে সে এই অবস্থায় দেখে নিজের মনে মনে বলতে লাগল, আরে কপাল, একেই তো একদিন আমি ঈর্ষা করেছিলাম ওর সৌভাগ্যের জন্যে আর এখন তো ওর অবস্থা দেখে চোখে জল আসছে।

আহা বেচারা! মূর্খ, নিজের সৌভাগ্যের সময় অকারণে আমাকে অপমান করেছিল। এখন তো এর অবস্থা আমার চাইতেও শোচনীয়।

শিক্ষা (গাধা আর ঘোড়া) : এই নীতিগল্প শেখায় যে সৌভাগ্য কারও চিরকাল থাকে না।

7. দাঁড়কাক ও ডুমুর

দাঁড়কাক ও ডুমুর
চিত্র সৌজন্য

এক দাঁড়কাক ছিল। তার খুব খিদে পেয়েছিল। তাই সে একটা ডুমুর গাছের ডালে গিয়ে বসল। তার ইচ্ছে পাকা ডুমুর খাবে। কিন্তু তার ভাগ্য খারাপ ছিল। গাছের ডুমুরগুলি ছিল একেবারে কাঁচা। আর বেশ শক্ত। কাক কিন্তু নড়ল না। সে ডালে বসেই রইল। ডুমুরগুলি পাকলেই সে খাবে।

এক খ্যাঁকশিয়াল সেই গাছের তলা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার নজরে পড়ল যে একটা দাঁড়কাক সেই ডুমুরগাছের ডালে বসে আছে। সে কোনো কথা না বলে চলে গেল। সন্ধেবেলায় আবার খ্যাঁকশিয়ালটি সেই পথ ধরেই বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ তার ওই ডুমুরগাছটির দিকে নজর পড়ল। সে দেখতে পেল সেই দাঁড়কাকটি তখনও ডুমুরগাছের ডালে চুপ করে বসে আছে।

এবার আর খ্যাঁকশিয়ালটা চুপ করে না থেকে, ঠায় বসে থাকা দাঁড়কাককে জিজ্ঞাসা করল, তুমি ওখানে বসে আছ কেন ?

দাঁড়কাক বলল, আমার খুব খিদে পেয়েছে। ডুমুরগুলো পাকলে, পাকা ডুমুর খেয়ে খিদে মেটাব। এই কথা শুনে খ্যাঁকশিয়ালটি হো হো করে হাসতে লাগল। সে বলল – আরে ভাই কবে ডুমুর পাকবে তার আশায় তুমি বসে আছ? দূর, বোকা কাক।

শিক্ষা (দাঁড়কাক ও ডুমুর) : এই নীতিগল্প শেখায় যে অনেকেই আশার গোলকধাঁধায় ভুলে বৃথা সময় নষ্ট করে।

8. যে সিংহ জ্যান্ত হয়ে উঠেছিল

যে সিংহ জ্যান্ত হয়ে উঠেছিল
চিত্র সৌজন্য

চারজন বিদ্বান ও জ্ঞানী বন্ধুর গল্প এটি। চতুর্থ বন্ধু, সুবুদ্ধি, ঠিক তেমন শিক্ষিত বা বিচক্ষণ ছিল না, কিন্তু তার মধ্যে একটি গুণ ছিল যা তার বুদ্ধিমান বন্ধুদের ছিল না: সাধারণ জ্ঞান।

একদিন তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল যে তারা দূরবর্তী শহর ও গ্রামে কাজের সন্ধানে যাবে। তারা তাদের জ্ঞানের জন্য আর্থিক প্রতিপত্তি অর্জন করতে চেয়েছিল। কারণ, শাস্ত্র ও বিজ্ঞানে এত বিদ্বান হয়েও যদি তার থেকে কিছু অর্জন না হয়, তবে সেই বিদ্যার কী লাভ? তিন বন্ধু সুবুদ্ধিকে তার বুদ্ধির অভাবে সঙ্গে নিতে চায়নি, কিন্তু যেহেতু সে ছোটবেলার বন্ধু ছিল, তাই তাকেও আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিল।

চার বন্ধু অর্থের সন্ধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করল। একটি ঘন জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার সময়, তারা একটি গাছের নিচে একগুচ্ছ হাড় দেখতে পেল। তারা সিদ্ধান্ত নিল যে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি চমৎকার সুযোগ উপস্থিত হয়েছে।

প্রথম বন্ধু তার দক্ষতা ব্যবহার করে হাড়গুলোকে একত্রিত করে একটি কঙ্কাল তৈরি করল। যখন কঙ্কালটি তৈরি হয়ে গেল, দ্বিতীয় বন্ধু একটি মন্ত্র পাঠ করল, যার ফলে কঙ্কালের উপর মাংস ও পেশী গঠিত হল। এটি দেখতে একটি নির্জীব সিংহের মতো লাগছিল। তৃতীয় বন্ধু যখন সিংহটিকে জীবিত করে প্রদর্শন শেষ করতে যাচ্ছিল, তখন চতুর্থ বন্ধু তাকে থামাল। সুবুদ্ধি জানত যে একবার হিংস্র সিংহটিকে জীবিত করা হলে, এটি তাদের রেহাই দেবে না।

তবে, তৃতীয় বন্ধু তার উপদেশ উপেক্ষা করল, তাকে নিয়ে মজা করল এবং এমন কিছু নিয়ে এগিয়ে গেল যা স্পষ্টতই একটি খারাপ ধারণা ছিল। সুবুদ্ধি দ্রুত কাছেই একটি গাছে উঠে নিজেকে রক্ষা করল যখন তৃতীয় বন্ধু মন্ত্র পাঠ শুরু করল, এবং এর ফলে সিংহটি জীবন ফিরে পেল। চতুর্থ বন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, সিংহটি তিন জ্ঞানী বন্ধুকেই মেরে ফেলল, আর সুবুদ্ধি জীবিত অবস্থায় গ্রামে ফিরে গেল।

ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : সাধারণ জ্ঞান ছাড়া বিদ্যা অর্থহীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top