
বিজ্ঞানের দুনিয়ায় এমন কিছু জীব আছে, যাদের নিয়ে পড়তে গিয়ে মাথা চুলকোতে বাধ্য। এলিসিয়া ক্লোরোটিকা ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। দেখতে পাতার মতো সবুজ, আচরণে প্রাণীর মতো, আবার কাজকর্মে একেবারে উদ্ভিদের কাছাকাছি!
তাহলে প্রশ্ন ওঠেই—
- এলিসিয়া ক্লোরোটিকা আসলে প্রাণী, উদ্ভিদ, নাকি দুটোই?
এই প্রশ্নটাই আজ আমরা খোলসা করব, একদম ছাত্রছাত্রী আর সাধারণ জ্ঞানপ্রেমীদের স্টাইলে—সহজ, ক্যাজুয়াল, কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক।
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা কী?
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা হলো এক ধরনের sea slug বা সামুদ্রিক শামুকজাতীয় প্রাণী। সাধারণত পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূলে, বিশেষ করে অগভীর নোনা জলে।
এক নজরে দেখে মনে হবে—
- এটা যেন একটা সবুজ পাতা 🌿
- শরীর চ্যাপ্টা
- রঙ উজ্জ্বল সবুজ
কিন্তু ভুল করবেন না—এটা মোটেও গাছ নয়!
আরও পড়ুন – কালাচি, কজাখস্থানের ‘ঘুমের গ্রাম’ এক অমীমাংসিত রহস্য
তাহলে এটা প্রাণী কেন?
চলুন আগে প্রাণীর দিকটা দেখি।
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা যে কারণে প্রাণী, সেগুলো হলো—
- মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র আছে
- হজমতন্ত্র আছে
- চলাফেরা করতে পারে
- প্রাণীর মতো DNA ও কোষগঠন
এটা জন্মায় ডিম থেকে, বেড়ে ওঠে লার্ভা হিসেবে, তারপর পূর্ণাঙ্গ sea slug হয়—একদম ক্লাসিক প্রাণী জীবনচক্র।
- তাই জীববিজ্ঞানের ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী,
Elysia Chlorotica নিঃসন্দেহে একটি প্রাণী।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়…
গাছের মতো আচরণ করে কীভাবে?
এবার আসল টুইস্ট!
এই প্রাণীটির সবচেয়ে আশ্চর্য ক্ষমতা হলো—
- সালোকসংশ্লেষ করা!
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন।
যে প্রক্রিয়ায় গাছ সূর্যের আলো থেকে খাবার তৈরি করে,
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা ও সেটাই করতে পারে।
প্রশ্ন হলো—
- প্রাণী হয়েও এটা কীভাবে সম্ভব?
চুরি করা ক্লোরোপ্লাস্টের গল্প (Kleptoplasty)

Elysia Chlorotica তার খাবার হিসেবে খায় এক ধরনের সবুজ শৈবাল (algae)।
এই শৈবালের ভেতরে থাকে chloroplast, যেটা সালোকসংশ্লেষ-এর মূল যন্ত্র।
খাওয়ার সময়—
- শৈবাল হজম হয়
- কিন্তু chloroplast হজম হয় না
- বরং সেগুলো নিজের শরীরের কোষে রেখে দেয়
এই প্রক্রিয়াটার নাম—
Kleptoplasty
(মানে: অন্যের জিনিস চুরি করে ব্যবহার করা 😄)
ফলে কী হয়?
- slug-এর শরীর সবুজ হয়ে যায়
- সূর্যের আলো পেলেই
- নিজের খাবার নিজেই বানাতে পারে
একটা প্রাণী হয়ে গাছের মতো খাবার বানানো—এটা সত্যিই mind-blowing!
আরও পড়ুন – ওয়েলউইটশিয়া: হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময়
কতদিন বাঁচে এই চুরি করা ক্লোরোপ্লাস্ট?
সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো—
মাসের পর মাস, কখনো কখনো ৯–১০ মাস পর্যন্ত,
Elysia chlorotica কোনো খাবার না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে!
শুধু দরকার—
- সূর্যের আলো
- আর নিজের শরীরে জমিয়ে রাখা chloroplast 🌿
এখানেই বিজ্ঞানীরা থমকে গিয়েছিলেন।
জিন চুরির রহস্য (Horizontal Gene Transfer)
আরও বড় প্রশ্ন উঠল—
- chloroplast এতদিন কাজ করে কীভাবে?
- সাধারণ প্রাণীর কোষে তো এরা টেকে না!
গবেষণায় দেখা গেছে—
- এলিসিয়া ক্লোরোটিকা শৈবাল থেকে
- কিছু gene নিজের DNA-তে নিয়ে নিয়েছে
- যেগুলো chloroplast বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে
এটাকে বলা হয়—
Horizontal Gene Transfer
সাধারণত gene যায়—
- বাবা-মা থেকে সন্তানে
কিন্তু এখানে?
- একেবারে ভিন্ন প্রজাতি থেকে!
এই ঘটনা প্রাণী জগতে অত্যন্ত বিরল।
তাহলে এটা উদ্ভিদও নাকি?
এখানেই কনফিউশন।
কারণ—
- সালোকসংশ্লেষ করে ✔️
- সবুজ রঙ ✔️
- সূর্যালোক নির্ভর ✔️
তবু…
এটা উদ্ভিদ নয়, কারণ—
- শিকড় নেই
- পাতা নেই
- ফুল-ফল নেই
- উদ্ভিদের মতো কোষপ্রাচীর নেই বরং বলা যায়—
এটা একেবারে প্রাণী, যে সাময়িকভাবে উদ্ভিদের ক্ষমতা ধার করেছে।
কেন এটা সাধারণ জ্ঞান ও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
- Biology-র evolution অধ্যায়ে
- symbiosis & gene transfer বোঝাতে
- UPSC / SSC / State PSC / School exams
- Science Olympiad & quiz
প্রায়ই প্রশ্ন আসে—
- “Which animal can do photosynthesis?”
- “Example of kleptoplasty”
উত্তর—
Elysia Chlorotica
প্রকৃতি কী শেখায় আমাদের?
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়—
প্রকৃতি কোনো rigid rule মানে না
“এটা শুধু প্রাণী” বা “ওটা শুধু উদ্ভিদ”—এই বিভাজন ভেঙে দিতে পারে
বিবর্তন (Evolution) কতটা creative হতে পারে, তার জীবন্ত প্রমাণ
শেষ কথা
তাহলে,
এলিসিয়া ক্লোরোটিকা প্রাণী না উদ্ভিদ?
- প্রাণী, কিন্তু
- উদ্ভিদের মতো কাজ করতে সক্ষম
এক কথায় বলা যায়—
🌿🐌 Nature’s solar-powered animal 🐌🌿



