# সবজান্তা | Sabjanta > মেশে তেরো নদী সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায় --- ## Pages - [স্থানীয়-ইতিহাস](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-2/) - [স্থানীয় ইতিহাস](https://www.sabjanta.info/sthanio-itihas/) - [মনীষী](https://www.sabjanta.info/great-men/) - [রেসিপি-ঘরকন্না](https://www.sabjanta.info/recipe-and-household/) - [রঙ্গ-ব্যঙ্গ-হাস্যরস](https://www.sabjanta.info/humorous-short-stories/) - [জানা অজানা](https://www.sabjanta.info/you-may-know/) - [অনুপ্রেরণামূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/story-colllections/inspirational-stories/) - [ভ্রমণ ও পর্যটন](https://www.sabjanta.info/travel-tourism/) - [বাংলা শিখি বাংলা লিখি সঙ্গে সরফরাজ](https://www.sabjanta.info/language-and-literature/learn-bangla-with-sarfaraz/) - [পত্রিকা সংবাদ](https://www.sabjanta.info/magazine-news/) - [গল্প সমগ্র](https://www.sabjanta.info/story-colllections/): Lorem ipsum dolor sit amet, consec tetur adipiscing elit. - [ছোটগল্প](https://www.sabjanta.info/story-colllections/short-story-collections/) - [অনু গল্প](https://www.sabjanta.info/story-colllections/micro-story/) - [ছোটদের গল্প](https://www.sabjanta.info/story-colllections/children-stories/) - [কবিতা](https://www.sabjanta.info/poem-and-poetry/) - [প্রবন্ধ](https://www.sabjanta.info/essay-collections/) - [ভাষা ও সাহিত্য](https://www.sabjanta.info/language-and-literature/): বাংলা শিখি বাংলা লিখি: সঙ্গে সরফরাজ বাংলা বানান সে অতি বিষম বস্তু! সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে চোখ খুললেই চোখে পড়ে... - [বিবিধ](https://www.sabjanta.info/everything-else/) - [Disclaimer](https://www.sabjanta.info/disclaimer/): If you require any more information or have any questions about our site’s disclaimer, please feel free to contact us... - [আমাদের সম্পর্কে](https://www.sabjanta.info/about/): আমরা একটি সাহিত্যিক ও সাহিত্য প্রেমিকদের জন্য একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠান। আমরা আনন্দ এবং আদর্শের সাথে সহজ প্রয়োগ করে সাহিত্যিক পরিবেশ... - [যোগাযোগ](https://www.sabjanta.info/contact/): contact@sabjanta. info সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হবো আপনার কাছ... - [Privacy Policy](https://www.sabjanta.info/privacy-policy/): Last updated: June 05, 2023 This Privacy Policy describes Our policies and procedures on the collection, use and disclosure of... - [Terms and Conditions](https://www.sabjanta.info/terms-and-conditions/): Last updated: June 05, 2023 Please read these terms and conditions carefully before using Our Service. Interpretation and Definitions Interpretation... - [Home](https://www.sabjanta.info/): মনীষী দের কথা রঙ্গ ব্যঙ্গ হাস্যরস জানা-অজানা স্থানীয় ইতিহাস ছোটগল্প নৈতিক শিক্ষার গল্প গেরস্থালি-রেসিপি --- ## Posts - [বৈদ্যবাটী: গঙ্গাতীরবর্তী এক জনপদের ইতিহাস (১৯৪৭ পর্যন্ত)](https://www.sabjanta.info/history-of-baidyabati-hooghly-till-1947/): গঙ্গার শীতল হাওয়া, প্রাচীন মন্দিরের ঘন্টার ধ্বনি আর অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা কয়েকশ বছরের পুরনো ইতিহাস—এই নিয়েই আমাদের আজকের গন্তব্য হুগলি... - [এলিসিয়া ক্লোরোটিকা (Elysia Chlorotica) প্রাণী না উদ্ভিদ, নাকি দুটোই?](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-elysia-chlorotica-%e0%a6%aa/): বিজ্ঞানের দুনিয়ায় এমন কিছু জীব আছে, যাদের নিয়ে পড়তে গিয়ে মাথা চুলকোতে বাধ্য। এলিসিয়া ক্লোরোটিকা ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।... - [গৌরবের গল্পে মোড়া জনপদ গোবরডাঙ্গা: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক মায়াবী সফর](https://www.sabjanta.info/history-of-gobardanga-a-glorious-journey/): গোবরডাঙ্গা: ইতিহাস বলে উত্তর ২৪ পরগনার এই শহরের মাটিতে মিশে আছে জমিদারি আমলের আভিজাত্য, বিপ্লবীদের সাহসিকতা আর সাহিত্যিকদের কলম। - [নাড়াজোল রাজবংশের ইতিকথা: মেদিনীপুরের এক বিস্মৃত ইতিহাস ও বৈপ্লবিক ঐতিহ্য](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%82%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/): পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাচীন জনপদ নাড়াজোল, তার ছয়শো বছরের রাজসিক ইতিহাস, বিপ্লবী আন্দোলন, নাড়াজোল রাজবংশ ও তাদের উত্থান-পতন আলোচিত - [পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি: বাঙালির পাতে একাই ভাত বা রুটির সাথে](https://www.sabjanta.info/peyajkoli-posto-recipe/): পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি - বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। তাই শীতে আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে। - [মিন কো’র গল্প: মায়ানমারের নৈতিক গল্প ও মানবিক শিক্ষা কাহিনি](https://www.sabjanta.info/myanmar-folktale-with-moral-in-bengali/): মায়ানমারের নৈতিক গল্প অনুপ্রেরণামূলক লোককথা যেখানে লোভ, করুণা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে সহজ ভাষায়। - [ওয়াকিং পাম: আমাজনের সেই রহস্যময় গাছ যা কি সত্যিই হাঁটতে পারে?](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a7%8d/): ওয়াকিং পাম: এক বিস্ময়কর উদ্ভিদ, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের গভীর অরণ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই পামগাছ ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান বদলাতে সক্ষম। - [বর্ধমান রাজবংশের মহাকাব্য: ইতিহাস, আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক অমর উপাখ্যান](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%82%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/): বর্ধমান রাজবংশের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং রাজকীয় জীবনধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। জেনে নিন পাঞ্জাব থেকে আসা এই পরিবারটি কীভাবে বাংলার অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশে পরিণত হলো। - [রানী লিলিওকালানি: হাওয়াইয়ের শেষ রানীর জীবন ও মহাকাব্যিক সংগ্রাম](https://www.sabjanta.info/liliuokalani-hawaii-last-queen-life-story/): হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রানী লিলিওকালানি তাঁর আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল। - [রানাভালোনা তৃতীয়: স্বাধীনতার প্রতীক এক রাণীর অনুপ্রেরণাময় জীবনকথা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc/): রানাভালোনা তৃতীয় ছিলেন মাদাগাস্কারের শেষ স্বাধীন রাণী। দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার প্রতি অটল ভালোবাসা তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছেন। - [গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু: ভারতের এডিসন, যুব অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80/): গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু বা জি ডি নাইডু যাঁকে 'ভারতের এডিসন' বলা হয়, সীমিত সংস্থানের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা খুঁজে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। - [আদিসপ্তগ্রাম: বাংলার হারানো বন্দর ও ইতিহাসের এক স্বর্ণালি অধ্যায়](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/): আদিসপ্তগ্রাম বা সপ্তগ্রাম ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র। জানুন সপ্তগ্রামের ইতিহাস, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, পতনের কারণ। - [কিং চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা): যে রাজা ঔপনিবেশিকতাকে হারিয়ে দেশকে আধুনিক করেন।](https://www.sabjanta.info/king-chulalongkorn-rama-v-of-siam-thailand/): কিং চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা) তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার দ্বারা সিয়ামকে স্বাধীন রাখেন এবং থাইল্যান্ডকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। - [ভারতের ‘ওয়েদার উইম্যান’ অন্নামণি: বিজ্ঞান ও স্বনির্ভরতার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/anna-mani-the-ozone-woman-of-india/): অন্নামণি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়া বিদ, যিনি স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন - [দীঘার ইতিহাস: অজানা 'বীরকুল' থেকে প্রাচ্যের 'ব্রাইটন' হয়ে ওঠার গল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87/): দীঘার ইতিহাস - দীঘার প্রাচীন নাম 'বীরকুল' থেকে আজকের আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। - [মুক্তবেণী ত্রিবেণী : বাংলার এক বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be/): ত্রিবেণী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক জনপদ। প্রাচীন বন্দর সপ্তগ্রামের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। - [তমলুক বা তাম্রলিপ্ত - হাজার বছরের ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0/): রূপনারায়ণ নদীর তীরে, সবুজ ফসলের মাঠের মাঝে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন শহর - [প্রাসাদ-নগরী ধান্যকুড়িয়া: বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ এবং বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf%e0%a6%af/): কলকাতার কাছেই উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রোডের ধারে প্রাসাদ-নগরী ধান্যকুড়িয়া: বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ এবং বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে একটি তথ্য - [পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য: ৯৯টি বিশেষত্ব যা আমাদের অবাক করে](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%81%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5/): পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য আমরা যতই জানতে পারি ততই যেন এই লড়াকু ও কর্মঠ প্রাণী সম্পর্কে শ্রদ্ধা বাড়ে। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রাণী - [ব্যাঙ-কন্যা (মায়ানমারের লোককথা)](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/): 'ব্যাঙ কন্যা' গল্পটি এক অপূর্ব সুন্দরী কুমারীকে নিয়ে, যদিও তার চেহারা ছিল ব্যাঙের মতো তবুও সে মানুষের মতো কথা বলত এবং মানুষের মতোই আচরণ করত - [ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা – আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানযুগের নির্মাতা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be/): ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জনক। তাঁর দূরদৃষ্টি, দেশপ্রেম ও গবেষণা ভারতের বিজ্ঞানচর্চাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিল। - ['ইঁদুর আর সাপের বন্ধুত্ব' ও 'মুচি আর দুই বামন' দুটি গল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8/): ইঁদুর আর সাপের বন্ধুত্ব এবং মুচি আর দুই বামন, প্রথম গল্পের শিক্ষা- সব বন্ধুত্ব ভালো নয় আর পরের গল্পের শিক্ষা- কর্মঠ আর সৎ থাকলে ঈশ্বরও সাহায্য করেন - [বিজ্ঞানের মজার তথ্য: ৫০টি Amazing Science Facts for Students](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d/): জানুন বিজ্ঞানের মজার তথ্য: ৫০টি - মহাবিশ্ব, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ভাষায় সাজানো এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ - [পালং চিকেন রেসিপি: পালং শাক দিয়ে চিকেন বানানোর রেসিপি](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%82-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%82-%e0%a6%b6%e0%a6%be/): পালং চিকেন রান্নার প্রধান উপকরন হল পালং শাক আর চিকেন । এটি একটি পুষ্টিকর সবুজ রঙের চিকেনের পদ। - [কালাচি, কজাখস্থানের 'ঘুমের গ্রাম' - এক অমীমাংসিত রহস্য](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/): কজাখস্থানের উত্তরাংশে রয়েছে কালাচি নামে একটি গ্রাম যেখানে কোন অজানা কারনে মানুষ হঠাৎ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়ছেন। 'ঘুমের গ্রাম' ও বলা হয়। - [হেলেন কেলার : তাঁর বর্ণময় জীবন ও শিক্ষণ - "কখনো হাল ছেড়ো না"](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8/): হেলেন কেলার ছিলেন অন্ধ ও বধির তবুও শিক্ষালাভ করেছেন, বই লিখেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন এবং সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। - [গরুর বুদ্ধি: সুকুমার রায়ের ছোট গল্প, হাসির গল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc/): গরুর বুদ্ধি - সুকুমার রায়ের ছোট গল্প। 'গরুর বুদ্ধি' ছোট এবং বড় সব বয়সের সমান প্রিয় একটি হাসির গল্প। - [জানা অজানা মজার তথ্য: Interesting info for young minds](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af/): জানা অজানা মজার তথ্য জানতে কার না ইচ্ছে করে। এখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে কিছু তথ্য সংকলন করা হল। - [তোতা কাহিনী: সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি বিখ্যাত রম্যরচনা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%be/): 'তোতা কাহিনী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত রম্যরচনা। যেখানে একটি বুদ্ধিমান তোতা ছোট একটি ইঙ্গিত বুঝে নিজের খাঁচাবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পায় । - [ছোটদের হাসির গল্প: দুই বন্ধু - সুকুমার রায়ের ছোটগল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d/): ছোটদের হাসির গল্প, সুকুমার রায়ের লেখা একটি ছোটগল্প 'দুই বন্ধু', নীতিগল্প হিসাবে বর্তমান সময়েও সমান জনপ্রিয়। - [অশ্বত্থামা হত ইতি: শিব্রাম বা শিবরাম চক্রবর্তী রচিত রম্যরচনা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%85%e0%a6%b6/): শিবরাম চক্রবর্তী "অশ্বত্থামা হত ইতি" একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। যেখানে "অশ্বত্থামা হত" এই বিখ্যাত উক্তিটির মাধ্যমে জীবনের অপ্রত্যাশিত বাঁক এবং অপ্রত্যাশিত... - [সুকুমার রায়ের হাসির গল্প 'পেটুক' ছোট-বড় সবার অত্যন্ত প্রিয়](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d/): সুকুমার রায়ের হাসির গল্প 'পেটুক' আজও শিশু এবং বড়দের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। তার গল্পগুলোতে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন ও সামাজিক সমালোচনা। - [ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এমন ৮ টি মজার ও যুগোপযোগী নীতিগল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc/): ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে এমন ৮ টি ছোট গল্পের সংকলন দেওয়া হল। গল্পগুলি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয় - [এ পি জে আব্দুল কালাম: মহান ভারতীয় বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রপতি](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%8f-%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e/): আবুল ফকির জয়নুলাবেদিন আব্দুল কালাম বা এ পি জে আব্দুল কালাম ছিলেন এক ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং দেশের 'জনগণের রাষ্ট্রপতি' রাষ্ট্রপতি। - [আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড নামের পেছনে ইতিহাস, রহস্য ও কৌশল](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%93-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/): বিশ্ব মানচিত্রে দুটি দ্বীপ আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড । মনে হতে পারে গ্রিনল্যান্ড সবুজে মোড়া আর আইসল্যান্ড বরফে ঢাকা। বাস্তবে কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। - [ভক্ত কবির: ভক্তি আন্দোলনের পুরোধা কবির দাসের জীবন ও দর্শন](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87/): ভক্ত কবির বা কবির দাস ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন ভক্তি সাধক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক যিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। - [বাংলায় হাসির গল্প বা হালকা মজার জোকস: ছোটদের জন্য হাসির গল্প](https://www.sabjanta.info/bengali-funny-stories-light-jokes/): হাসির গল্প পড়তে সবাই পছন্দ করেন, তাই যারা নির্ভেজাল মজার গল্প পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য কয়েকটি ছোট বাংলা কৌতুক বা হাসির অনুগল্প দেয়া হল। - [স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিজ্ঞানের 25 টি বিস্ময়কর তথ্য](https://www.sabjanta.info/amazing-25-science-facts-for-young-minds/): এই লেখাতে আমরা বিজ্ঞান সম্পর্কে ২৫টি বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য সংকলন করেছি। আশাকরি এগুলি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করবে এবং তাদের কল্পনাকে জাগিয়ে তুলবে। - [নোবেল পুরস্কার: অবাককরা গল্প, জানা অজানা নোবেল জয়ীর কথা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97/): নোবেল পুরস্কার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক পুরষ্কার। সম্মান, মর্যাদা এবং উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারের অর্থ ছাড়াও, প্রাপক একটি স্বর্ণপদকও পান - [সালার ডি উয়ুনি : বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায়?](https://www.sabjanta.info/salar-de-uyuni-worlds-largest-natural-mirror/): বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না বলতে সালার ডি উয়ুনি অর্থাৎ উয়ুনি অঞ্চলের বিশাল সাদা লবণের সমতল ভূমির উপর আলোক প্রতিফলনের কথা বলা হয়। - [সারদাসুন্দরী দেবী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা - ঠাকুরবাড়ির এক বিশেষ মানুষ](https://www.sabjanta.info/saradasundari-devi-mother-of-rabindranath-tagore/): আজ আমরা জানবো সারদাসুন্দরী দেবী সম্পর্কে, যিনি ছিলেন বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা। - [ডিমের কারি রেসিপি: সহজে দই ডিম কিভাবে বানাবেন জেনে নিন](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%87/): ডিমের নানা রকম পদ সব সময়ই ভোজনরসিকদের কাছে প্রিয়। ডিমের ডেভিল, ডিমের কাটলেট থেকে শুরু করে ডিমের কালিয়া— ডিমের কারি রেসিপি। - [গার্লিক বাটার নান রেসিপি: হোটেলের মত নরম তুলতুলে নান বানান](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf/): নান সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতে গড়া রুটির মধ্যে একটি। এই গার্লিক বাটার নান রেসিপি জেনে নিয়ে তন্দুর ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন নরম তুলতুলে নান। - [নিকোলা টেসলা: যাঁর আবিষ্কারগুলি ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অকল্পনীয়](https://www.sabjanta.info/nikola-tesla-the-inventor-of-induction-motor/): নিকোলা টেসলা যদি জন্মগ্রহণ না করতেন তবে আধুনিক জীবনের অনেক সুবিধাই হয়ত আজ অধরা থাকত, যেমন আলো, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ব্যবসা-বাণিজ্য - [10 টি সত্য ও হাসির ঘটনা: সবই মহান ব্যক্তিদের জীবনের গল্প](https://www.sabjanta.info/10-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%9f%e0%a6%a8%e0%a6%be/): বিখ্যাত মনিষীদের ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই, বিশেষত মজার বা হাসির ঘটনা। তাদের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। - [আলবার্ট আইনস্টাইন: সংক্ষিপ্ত জীবনী ও বিজ্ঞান জগতে তার প্রভাব](https://www.sabjanta.info/albert-einstein-biography-his-india-connection/): আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তিনি হলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর চিন্তাশক্তি, কল্পনার গভীরতা এবং জ্ঞানের বিস্তার - [সুন্দর 3টি অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে](https://www.sabjanta.info/3-motivesional-stories-in-bengali-language/): শিক্ষনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আপনার মনকে ভালো করতে সাহায্য করবে। নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করতে হলে শিক্ষনীয় মোটিভেশনাল গল্প - [থাইল্যান্ডের লোককথা: 4 টি জনপ্রিয় লোককাহিনীর বাংলা অনুবাদ](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-4-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9c/): থাইল্যান্ডের লোককথা বলতে আমরা আজ যা বুঝি, তা অনেক রকমের গল্প, পুরনো বিশ্বাস আর মুখে মুখে চলে আসা কথার ভাণ্ডার। বৌদ্ধ ধর্ম আসারও আগে - [লাওসের লোককথা : 5 টি জনপ্রিয় বিদেশী লোককাহিনী](https://www.sabjanta.info/top-5-popular-folklore-from-laos/): লাওসের লোককথা শুধু নয় যেকোন দেশের লোককাহিনী হল সুপরিচিত গল্প যা প্রায়শই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাচ্চাদের কাছে বলা হয়ে আসছে। - [কাম্বোডিয়ার লোককথা: সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক আশ্চর্য দেশ](https://www.sabjanta.info/folktales-of-cambodia-in-bengali-laguage/): কাম্বোডিয়ার লোককথা বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো, কাম্বোডিয়ার লোকেরাও শতাব্দী ব্যাপী লোককথা সৃষ্টি করেছে। বয়স্করা শিশুদের এই গল্পগুলো শুনিয়েছেন। - [2টি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প যা আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে](https://www.sabjanta.info/2-motivational-stories-help-us-become-good-human/): 'জামাকাপড় কাচা' এবং 'কূপের গাধা' দুটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, এর অন্তর্নিহিত অর্থ আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে। - [বিয়ার গ্রিলস: সাহসিকতার ওপর নাম - একটি অনুপ্রেরণমূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/): বিয়ার গ্রিলস শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্যই নয়, বরং সাহস, ধৈর্য এবং জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দক্ষতার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। - [বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী: সেরা 11 টি রঙিন হ্রদ ও নদীর খবর](https://www.sabjanta.info/most-colorful-11-rivers-and-lakes-in-the-world/): বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী অর্থাৎ একটি নদীর অনেক রঙ হিসাবে ক্যানো ক্রিস্টালেস সেরা। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রঙিন নদী এবং হ্রদের তালিকা দেওয়া হল - [একটি শিয়াল যে উটের পিঠে চড়েছিল: প্রাচীন ইরানের লোককথা](https://www.sabjanta.info/the-fox-and-the-camel-a-persian-folktale/): 'একটি শিয়াল যে উটের পিঠে চড়েছিল' গল্পটি প্রাচীন ইরানের লোককথা। আসলে লোককাহিনী শিশুদের জন্য অন্য সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার একটা ভাল... - [মালয়েশিয়ার লোককাহিনী : 5 টি জনপ্রিয় মালয় লোককথা পড়ুন](https://www.sabjanta.info/top-5-folktales-of-malaysia/): মালয়েশিয়ার লোককাহিনী মূলত পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি, উপকথা নিয়ে গঠিত । মালয়েশিয়ার লোকগল্পগুলিতে ভারতীয়, জাভা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব রয়েছে - [পারস্যের লোককাহিনী: চাষীর ছেলে ও জাদুকর একটি জনপ্রিয় গল্প](https://www.sabjanta.info/persian-folktale-the-farmers-son-and-magician/): পারস্যের লোককাহিনী বর্তমান ইরানের প্রাচীন লোকগাথা যা যুগ যুগ ধরে সামাজিক সদর্থক মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়। 'চাষীর ছেলে ও জাদুকর' অত্যন্ত জনপ্রিয় গল্প - [লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো'র গল্প: ভিয়েতনামের জনপ্রিয় লোকগাথা](https://www.sabjanta.info/vietnamese-mythology-of-lac-long-quan-and-au-co/): লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো লোকগাথাটি আজও ভিয়েতনামের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সমাজে পিতা-মাতার ধার্মিকতা ও আনুগত্য ইত্যাদি কনফুসীয় প্রভাব - [ওয়েলউইটশিয়া: হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময়](https://www.sabjanta.info/welwitschia-live-2000-year-found-in-namib-desert/): ওয়েলউইটশিয়া মিরাবিলিসের একটি আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ, যা হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বাসস্থান নামিব মরুভূমি, যেখানে বৃষ্টিহীন বছর কাটে। - [রান্না ও ঘর-কন্নার কাজে লেবুর ব্যবহার: কিছু দরকারী টিপস](https://www.sabjanta.info/various-usage-of-lemon-in-kitchen/): লেবুর ব্যবহার, মানে কাগজি অথবা পাতিলেবু যাকে রান্নার উপকরন হিসাব বাদেও রান্নাঘরের সবথেকে বেশি ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন পরিষ্কার করা, - [ইয়রেটা:পাথরের মতো শক্ত উজ্জ্বল সবুজ ঢিপিগুলি, যেন নরম বিছানা](https://www.sabjanta.info/iireta-wonder-plants-on-andes-atacama/): চিলির আতাকামা মরুভূমিতে ইয়রেটা নামক হাজার বছরের পুরনো ঘন ঝোপঝাড় আছে, দেখে মনে হয় পাথরের উপর শ্যাওলা জমে আছে। আসলে এটি জীবন্ত - [জাকা তারুব ও দেবকন্যা: ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককাহিনী](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/): জাকা তারুব ও দেবকন্যা গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিখ্যাত লোককাহিনী। একজন পুরুষ ও তার দেবদূত স্ত্রীর গল্প। - [ঈশপ কে ছিলেন? : ঈশপের গল্প - জেনে নেওয়া যাক তাঁর বিস্ময়কর যাত্রা](https://www.sabjanta.info/aesop-fables-and-life-of-aesop/): ঈশপ কে ছিলেন? ঈশপ ছিলেন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন যিনি খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বেঁচে ছিলেন। তিনি ছয়শোরও বেশি কল্পকাহিনী লিখেছিলেন। - [পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী বা সবচেয়ে চওড়া নদী সম্পর্কে কিছু তথ্য](https://www.sabjanta.info/narrowest-and-widest-river-in-the-world/): আমরা জানব পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী এবং জানব পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া নদী কোনটি । কোন জলধারাকে নদী বলতে গেলে কিছু আবশ্যিক বৈশিষ্ট দরকার। - [2 টি মোটিভেশনাল গল্প যা তোমার জীবনে উন্নতির অনুপ্রেরণা হতে পারে।](https://www.sabjanta.info/top-2-motivetional-stories-in-bengali-language/): মোটিভেশনাল গল্প বা উক্তি আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিতে ও ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আমরা জীবনে ভালো মানুষ হবার অনুপ্রেরণা পাই। - [তিমুন মাস: ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় লোককথা](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0/): তিমুন মাস ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককথা। এটি ইন্দোনেশিয়ার তরুণীদের জীবনে যা কিছু ঘটতে পারে তার মুখোমুখি হওয়ার সাহসকে উপস্থাপন করে। - [মালিন কুন্দাং: সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়ার লোককথা](https://www.sabjanta.info/malin-kundang-folktale-from-sumatra-indonesia/): মালিন কুন্দাং - মূল গল্পটি পশ্চিম সুমাত্রার পদাং-এর এয়ার মানিস সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে তৈরি। এটি মালিন কুন্দাং নামে এক অকৃতজ্ঞ পুত্রের গল্প - [দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: বাংলা সাহিত্যের এক নক্ষত্র ও দেশপ্রেমিক](https://www.sabjanta.info/dwijendralal-ray-a-patriot-poet-writer-singer/): দ্বিজেন্দ্রলাল রায় উনবিংশ শতকের বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক ও নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন । - [আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়: ভারতীয় রসায়নের জনক ও এক মনীষী](https://www.sabjanta.info/prafulla-chandra-ray-father-of-indian-chemistry/): আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, প্রখ্যাত রসায়নবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি ও ভারতীয় রসায়নের জনক। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। - [পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য: মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, ডেভিলস টাওয়ার](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d/): পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করব যেগুলি আমাদের অবাক করে দেয় যেমন অতল মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বা অদ্ভুদ আকৃতির ডেভিলস টাওয়ার ইত্যাদি - [অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু' র লোককথা](https://www.sabjanta.info/the-frog-and-the-condor-a-folktale-from-peru/): অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে গল্পটি দক্ষিণ অমেরিকার দেশ পেরু'র একটি লোককথা, যা অপরকে সাহায্য করা ও নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝায় আমাদের - [পৃথিবীর কয়েকটি অনন্য ও অদ্ভুত মরুভূমি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93-%e0%a6%85/): সব মরুভূমি বিশাল বা শুষ্ক ভূপ্রকৃতি ও চরম আবহাওয়া যুক্ত নয় পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত মরুভূমি আছে যেটি জলে প্লাবিত হয় বা কোনটি কেবল 1 বর্গ কিমি - [নিজের শব্দের প্রতিধ্বনি কেবল নিজে শুনুন: জানা অজানা, অসঙ্গতি](https://www.sabjanta.info/mysterious-acoustic-anomaly-at-tulsa-in-america/): আমেরিকার তুলসা শহরে একটি অদ্ভুত রহস্যময় কারণ সহ একটি শাব্দিক অসঙ্গতি রয়েছে যেখানে নিজের শব্দের জোরালো প্রতিধ্বনি খুব কাছে শোনা যায় - [প্যারীচাঁদ মিত্র: বাংলা ভাষায় প্রথম ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিদ](https://www.sabjanta.info/peary-chand-mitra-first-novelist-in-bengali/): প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম একটি স্তম্ভ, একজন ভাষাবিদ, সমাজকর্মী, নিষ্ঠাবান সংগঠক। - [চিকেন টিকিয়া রেসিপি: বাড়িতে সহজে বানান জিভে জল আনা টিকিয়া](https://www.sabjanta.info/chicken-tikia-recipe/): চিকেন টিকিয়া রেসিপি, জেনে নিন ও সহজেই বাড়িতে তৈরি করুন মজাদার চিকেন টিকিয়া, যদিও সাধারণত মাটন দিয়ে টিকিয়া বানানো হয়। - [প্রকৃত বন্ধুত্ব : সুন্দর একটি চৈনিক উপকথা](https://www.sabjanta.info/real-friendship-a-chainese-folktale/): প্রকৃত বন্ধুত্ব এই গল্পটি চীন দেশের জনপ্রিয় একটি উপকথা। এই গল্পটি বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ অর্থাৎ নিস্বার্থ ভালোবাসাকে বোঝাতে চেয়েছে। - [পুরাণের গল্প: পুরাণ কয়টি, কি আছে তাতে বা রচনাকার কে জেনে নিন](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%9f%e0%a6%bf/): পুরাণের গল্প অর্থাৎ হিন্দু ধৰ্মীয় সাহিত্যের যে স্তম্ভ স্বরূপ পুরাণ তার বিষয় সম্পর্কে বলা যেতে পারে মহাবিশ্ব ও জীবজগত সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ই পুরাণে রয়েছে। - [গ্রিক পৌরাণিক গল্প: মূলত দেব–দেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের নিয়ে কাহিনী](https://www.sabjanta.info/selected-stories-from-greek-mythology/): গ্রিক পৌরাণিক গল্প মূলত দেব–দেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের নিয়ে গল্প ও কিংবদন্তির সংকলন। হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল গ্রিক পুরাণের গল্প। - [নীল সাগরের ক্ষুদে দৈত্য ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ](https://www.sabjanta.info/black-swallower-fish-the-little-demons-of-oceans/): ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ এক ধরনের সামুদ্রিক ও গভীর জলের মাছ। এরা সমুদ্রের উপরিতলে আসে না। কখনো কখনো এই মাছ মারা গেলে ভেসে উপরে আসে। - [রান্নাঘরের সু-অভ্যাস যা পুরো পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে](https://www.sabjanta.info/9-kitchen-tips-for-better-cooking-and-health/): রান্নাঘরের সু-অভ্যাস, এখানে 9 টি অভ্যাসের উল্লেখ করা হল যাতে রান্নাঘরের পরিমণ্ডল অস্বাস্থ্যকর না হয়, খাবার ভাল হয় ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য অটুট থাকে - [ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক নীতি গল্প: 7 moral stories for young](https://www.sabjanta.info/top-7-moral-story-for-children-in-bengali/): ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক নীতি গল্প যেকোন সময়েরই ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই বিভিন্ন ভাষা থেকে এই নীতি গল্পগুলি চয়ন করা হয়েছে। - [চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা'র পৌরাণিক গল্প](https://www.sabjanta.info/anansi-the-spider-t-folktale-of-ghana/): পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা'র পৌরাণিক কাহিনীর এক চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প, সে কিভাবে পৃথিবীর সমগ্র জ্ঞান চুরি করার চেষ্টা করেছিল, তার গল্প। - [ছোটদের জন্য 6 টি ছোট নৈতিক গল্প: Short stories with Morals](https://www.sabjanta.info/selected-6-short-moral-stories-for-children/): চিরকালই ছোট নৈতিক গল্প নৈতিক শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। সেই উদ্দেশ্যে 6 টি বাছাই করা, ছোট নৈতিক গল্প দেওয়া হল । - [বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প: অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা](https://www.sabjanta.info/jatakas-bodhisattva-story-buddhas-earlier-lives/): বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প আসলে ভগবান বুদ্ধের পূর্ববর্তী জন্মের গল্প। এই অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পগুলির মাধ্যমে বুদ্ধদেব অনুগামীদের শিক্ষা দিতেন - [চু কোই ও বট গাছের গল্প : ভিয়েতনামের একটি সুন্দর রূপকথা](https://www.sabjanta.info/chu-cuoi-and-banyan-tree-folklore-of-vietnam/): চু কোই ও বট গাছের গল্প হল ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় রূপকথা। সেখানে মানুষ এখনও ঐ শারদীয়া পূর্ণিমার দিন চাঁদ দেখার উত্সব পালন করেন। - [ভেজিটেবিল চপ রেসিপি : বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু চপ বানান](https://www.sabjanta.info/vegetable-chop-recipe-tasty-and-healthy-chop/): এই ভেজিটেবিল চপ রেসিপি আপনাকে বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু, মুচমুচে ও আপনার প্রিয় ভেজিটেবল চপ সহজেই তৈরি করতে সহায়তা করবে। - [কপোত কপোতী : ব্রহ্মপুরাণ থেকে নেওয়া একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/kapot-tirtha-moral-story-from-brahma-purana/): কপোত কপোতী, লুব্ধক নামে একটি ভয়ানক ব্যাধের মন পশু হত্যা থেকে অহিংসাকে গ্রহণ করার গল্প। এটি ব্রহ্মপুরাণ থেকে নেওয়া একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প। - [সেরা 9 টি অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প - বাংলা মোটিভেশনাল স্টোরি](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-9-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%95-%e0%a6%9b/): বাংলায় ছোটদের জন্য কিছু শিক্ষণীয় ছোট গল্প বা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প যা ভবিষ্যত জীবনে চলার পথে উত্সাহ জাগাতে পারে এমন ৯টি ছোটগল্প দেওয়া হল - [নীতি শিক্ষার গল্প: ছোটদের জন্য 5 টি অসাধারণ নীতি শিক্ষামূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/top-5-moral-stories-in-bengali-for-children/): মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে ফলে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ার জন্য নীতি শিক্ষার গল্প উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর ক্ষেত্রে ভাল গল্পের সত্যই বিকল্প নেই। - [ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক](https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%9e%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%81%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b0%e0%a6%ac/): ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক। পিঁপড়ে শ্রেণীভুক্ত হয়েও ডেঞে পিঁপড়েরা আকারগত ভিন্ন হওয়ায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব চিন্তার কৌতুক - [একগুঁয়ে শিকারী: একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প](https://www.sabjanta.info/ekguen-shikari-the-stuborn-hunter/): একগুঁয়ে শিকারী গল্পটি শেখায় যে একটি ভুল জিনিসের প্রতি একগুঁয়ে থাকা উচিৎ নয়। অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রাণী হত্যা একটি পাপ এবং সেই পাপের শাস্তি সর্বদা। - [ধনেপাতার বড়া রেসিপি: চট-জলদি বাড়িতে বানান সোনালী মুচমুচে ভাজা](https://www.sabjanta.info/dhone-patar-bora-corriander-fitters-recipe/): ধনেপাতার বড়া তাজা ধনেপাতার সুগন্ধে ভরপুর ও স্বাদে অপূর্ব একটি তেলেভাজা যা সারা ভারতে সমান জনপ্রিয়। এটি দিনের যেকোনো সময় খাওয়া যায়। - [অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক গল্প : বাছাই করা 10টি সবার জন্য](https://www.sabjanta.info/10-inspiring-and-motivational-stories-in-bengali/): 10 টি অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক গল্প উপস্থাপন করা হল যেগুলো আমরা হয়তো অনেকেই জানি। নতুন করে গল্পগুলো স্মরণ করে যদি কারোর উপকার হয়। - [মা দুর্গার সংসার নেতাজির হাতেই ভেঙেছিল: এই কলকাতায়, কিভাবে?](https://www.sabjanta.info/5-chala-durga-idol-by-netaji-at-kumartuli/): কুমোরটুলি সার্বজনীনে সুভাষচন্দ্র বসু সভাপতি থাকাকালীন আগুনে ঠাকুর নষ্ট হয়েগেলে পাঁচজন শিল্পীকে দিয়ে একেকটি মূর্তি এক রাতেই তৈরি করান পাঁচচালা - [গোপাল ভাঁড়ের গল্প : 10টি সেরা হাসির গল্প - প্রথম পর্ব](https://www.sabjanta.info/10-best-story-of-gopal-bhar-vol-1/): রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার অন্যতম গোপাল ভাঁড়ের গল্প আজও সমান জনপ্রিয়। অসম্ভব বুদ্ধিমান গোপাল ও তাঁর মজার ও বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনি আজও সবার মুখে - [মোল্লা নাসিরুদ্দিন বা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প: পর্ব-২](https://www.sabjanta.info/molla-nasiruddin-or-nasiruddin-hojja-story-part2/): মোল্লা নাসিরুদ্দিনের বা নাসিরুদ্দিন হোজ্জা নামে অনেক গল্প প্রায় হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানান দেশে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। - [মুসুর ডালের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি : বাংলা ধাঁচের খিচুড়ি](https://www.sabjanta.info/khichri-recipe-bengali-style-authentic-khichuri/): মুসুর ডালের খিচুড়ি এমন একটি পছন্দের খাবার যা বিশেষ কোনও ঝামেলা ছাড়াই তৈরি করা যায়। এটি বাংলা ধাঁচের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি যা রান্না বেশ সহজ বটে - [নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প: পর্ব-১](https://www.sabjanta.info/nasiruddin-hojja-story-of-molla-nasiruddin-part1/): নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের কাহিনী সারা বিশ্বে প্রচলিত। অনুমান করা হয় তিনি তুরস্ক অথবা ইরানের কোন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। - [বাবুর্চির বুদ্ধি: হাততালি দিলে পাতের বকটা উড়ে যেত না?](https://www.sabjanta.info/baburchir-buddhi-the-wisdom-of-cook/): বাবুর্চির বুদ্ধি একটি হাস্যরসপূর্ণ গল্প । গল্পটি সরল ও বুদ্ধিদীপ্ত বাবুর্চী তার অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করলেও নবাব বাবুর্চীকে ছোট অপরাধের জন্য শাস্তি না দিয়ে কেবল - [জোলা আর সাত ভুত : উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূতের গল্প](https://www.sabjanta.info/jola-aar-sat-bhut-by-upendra-kishor-roychoudhury/): জোলা আর সাত ভূত : গল্পটি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত 'গল্প মালা'র অন্তর্গত জনপ্রিয় একটি ভূতের গল্প। এত বছর পরেও আজও সমান জনপ্রিয় গল্পটি। - [তিন রাজকুমার ও রাজকুমারী নওরোন্নিহার: 1001 আরব্য রজনীর গল্প](https://www.sabjanta.info/the-three-princes-and-the-princess-nouronnihar/): তিন রাজকুমার ও রাজকুমারী নওরোন্নিহার একটি সুন্দর ও মূল্যবোধের গল্প - এই কাহিনীটি সহস্র এক আরব্য রজনীর গল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। - [অপয়া রাময়া : তেনালি রামা'র গল্প](https://www.sabjanta.info/unlucky-ramya-the-story-of-tenali-raman/): অপয়া রাময়া: তেনালি রামা একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান বেক্তি ছিলেন। তার বুদ্ধি দিয়ে বহুবার বিজয়নগরের রাজাকে ও প্রজাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাঁচিয়েছেন --- # # Detailed Content ## Pages - Published: 2023-06-02 - Modified: 2023-06-04 - URL: https://www.sabjanta.info/story-colllections/ Lorem ipsum dolor sit amet, consec tetur adipiscing elit. ছোটগল্পLorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore. Read More ছোটদের গল্পLorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore. Read More অনু গল্পLorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore. Read More --- - Published: 2023-06-02 - Modified: 2023-06-06 - URL: https://www.sabjanta.info/language-and-literature/ বাংলা শিখি বাংলা লিখি: সঙ্গে সরফরাজ বাংলা বানান সে অতি বিষম বস্তু! সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে চোখ খুললেই চোখে পড়ে বানানের বিভিন্ন বিচ্যুতি। এমনকি নামজাদা সাহিত্যিকদের লেখাতেও প্রচুর বানান ভুল চোখে পড়ে ফেসবুক খুললেই। ‘না ’ ও ‘নি’ এর সঠিক ব্যবহারবাংলা ভাষায় ‘না ’ ও ‘নি’ এর সঠিক ব্যবহার জেনে নিন ‘কি’ এবং ‘কী’ ওই ব্যবহার‘কি’ এবং ‘কী’ ওই ব্যবহার আমরা কথায় বা লেখায় সবসমই করে থাকি। কিন্তু সত্যিই জানি কি কোথায় কোনটা বসাতে হয়. জেনে নিন গাছ, পাখি শব্দগুলির ব্যবহারপরপদে গাছ, পাখি ইত্যাদি থাকলে কীভাবে বসবে? জেনে নিন বিস্তারিত পড়ুন --- - Published: 2023-06-01 - Modified: 2023-06-05 - URL: https://www.sabjanta.info/disclaimer/ If you require any more information or have any questions about our site's disclaimer, please feel free to contact us by email at contact@sabjanta. info. Our Disclaimer was generated with the help of the Free Disclaimer Generator. Disclaimers for সবজান্তা (Sabjanta) All the information on this website - https://www. sabjanta. info/ - is published in good faith and for general information purpose only. সবজান্তা (Sabjanta) does not make any warranties about the completeness, reliability and accuracy of this information. Any action you take upon the information you find on this website (সবজান্তা (Sabjanta)), is strictly at your own risk. সবজান্তা (Sabjanta) will not be liable for any losses and/or damages in connection with the use of our website. From our website, you can visit other websites by following hyperlinks to such external sites. While we strive to provide only quality links to useful and ethical websites, we have no control over the content and nature of these sites. These links to other websites do not imply a recommendation for all the content found on these sites. Site owners and content may change without notice and may occur before we have the opportunity to remove a link which may have gone 'bad'. Please be also aware that when you leave our website, other sites may have different privacy policies and terms which are beyond our control. Please be sure to check the Privacy Policies of these sites as well as their "Terms of Service" before engaging in any business or uploading any information. Consent By using our website, you hereby consent to our disclaimer and agree to its terms. Update Should we update, amend or make any changes to this document, those changes will be prominently posted here. --- - Published: 2023-05-29 - Modified: 2023-06-01 - URL: https://www.sabjanta.info/about/ আমরা একটি সাহিত্যিক ও সাহিত্য প্রেমিকদের জন্য একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠান। আমরা আনন্দ এবং আদর্শের সাথে সহজ প্রয়োগ করে সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করি। আমাদের দলে সম্পর্কিত সদস্যরা সাহিত্যের বিভিন্ন নিচে আছেন, যারা সাহিত্যিক প্রয়োগ এবং সম্পাদনার অভিজ্ঞতার সাথে সম্পন্ন। আমরা সকলের মধ্যে একটি সমন্বয়মূলক পরিবেশ সৃষ্টি করি, যেখানে প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং সাহিত্যিক জগতে সমস্ত প্রকার সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করা হয়। আমাদের উদ্দেশ্য হল সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা, ভাবনা এবং সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রাখা। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি সাহিত্যিক কাব্য, উপন্যাস, গল্প, নাটক এবং বিভিন্ন সাহিত্যিক রচনার উপভোগ করতে পারবেন। আমরা নতুন এবং অভিজ্ঞ লেখকদের চয়ন করে তাদের কৃতিত্বকে আমাদের পাঠকের সামর্থ্যে পেশ করি। আমরা প্রকাশিত কাজের মাধ্যমে আমাদের পাঠকদের সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করি। আমাদের ওয়েবসাইট সাহিত্যিক কমিউনিটির একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে এবং সাহিত্যিক ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করে। আমরা গর্বিত এবং উদ্ভাবনশীল হয়ে থাকি যে আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সাহিত্যিক ধারণা, প্রকাশ্য কাজ এবং বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন সদস্যদের লেখার সমর্থন ও সংস্কৃতির প্রশংসা করে আমরা বিভিন্ন সাহিত্যিক কার্যক্রম, লেখকের আলোচনা ও কর্মশালা আয়োজন করি। আমরা সাহিত্যিক সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা করে তাদের লেখকদের উন্নতমানের কাজ প্রকাশিত করে তুলি। আমরা বাংলা সাহিত্যের প্রচার-প্রসার এবং অন্যান্য সাহিত্যিক প্রকল্পে অবদান রাখতে প্রস্তুত। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি সম্প্রতি প্রকাশিত সাহিত্যিক কাজের সাথে সংযুক্ত থাকবেন এবং আপনার নতুন রচনাগুলি প্রকাশ করতে পারবেন। আমরা নতুন লেখকদের অনুপ্রেরণা এবং সমর্থন করে তাদের সাহিত্যিক পাঠকের সামর্থ্যে প্রকাশিত করি। আমরা আনন্দের সাথে বিভিন্ন সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করি, যাতে পাঠকদের সাহিত্যিক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা যায়। আমরা আলোচনার ফোরাম পরিচালনা করি যাতে আপনি আপনার মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং অন্যান্য সাহিত্যিক প্রেমিকদের সাথে পরামর্শ ও আলোচনা করতে পারেন। আমরা বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক সম্প্রদায় সংগঠনগুলির সাথে সহযোগিতা করে তাদের উন্নতমানের কাজ প্রকাশিত করে থাকি। আমরা অন্যান্য লেখক ও সাহিত্যিক ওয়েবসাইটগুলির সাথে পার্টনারশিপ গ্রহণ করে তাদের কাজকে পরিবেশন করি এবং সাহিত্যিক কমিউনিটির বিস্তারে অবদান রাখি। আমাদের উদ্দেশ্য হল বাংলা সাহিত্যের অনুভূতি ও রচনার মাধ্যমে সাহিত্যিক প্রজন্মকে আরও সমৃদ্ধ করা। আমরা লেখকদের প্রতিভার মধ্যে সাহিত্যিক সাহসীতা ও সৃজনশীলতা প্রশংসা করি এবং তাদেরকে সাহিত্যিক পরিবেশে স্বাগত জানাই। আমাদের লক্ষ্য হল একটি নির্ভরযোগ্য ও সুসংগঠিত সাহিত্যিক প্লাটফর্ম সৃষ্টি করা, যেখানে সাহিত্যিক প্রেমিকরা বিভিন্ন শৈলীতে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন এবং তাদের আদর্শ লেখকদের সাথে ** যদিও আমরা সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ, তবে আমাদের ওয়েবসাইট সম্পূর্ণরূপে পাঠকদের জন্য তৈরি করা। আমরা আপনাদের সাহিত্যিক রুচি এবং আগ্রহ বিবেচনা করে নতুন ও উন্নত লেখকদের কাজকে প্রকাশিত করি। আমাদের টীম পরিশ্রমী, প্রফেশনাল এবং সাহিত্যিকদের প্রতি আদর্শবাদী। আমরা সাহিত্যিক মানচিত্র, গ্রন্থ পর্যবেক্ষণ, লেখকের পণ্য পর্যবেক্ষণ এবং সাহিত্যিক কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণে জরিপ সাপেক্ষ করি। আমাদের উদ্দেশ্য হল সাহিত্যিক প্রজন্মের সকল উদ্ভাবনী মতামত, ভাবনা ও কল্পনার আদর্শ লেখকদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা। আপনাদের প্রতিভাবান রচনা ও বিচারপতিতা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, এবং আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একটি প্রাধান্য। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন বহুল পর্যায়ে সাহিত্যিক প্রকল্পে অংশ নিতে পারবেন। আপনার রচনা, কবিতা, ছড়ান্ত, উপন্যাস, সংকলন এবং বিভিন্ন প্রকারের সাহিত্যিক রচনাগুলি আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আমরা একটি নতুনত্বপূর্ণ অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে আপনি সহজেই সাহিত্যিক রচনা ও পাঠনে লিপিবদ্ধ হতে পারবেন। আমাদের প্রদত্ত বিশেষ সাহিত্যিক পোর্টালে পাঠকরা সাহিত্যিক কাজ খুঁজে পেতে এবং একসঙ্গে সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। আমরা গর্বের সহিত সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট সৃষ্টি করেছি। আপনার প্রতিভা এবং িত্যিক আদর্শগুলির প্রতিফলনে আমরা আপনাদের সমর্থন করব। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি সহজেই সাহিত্যিক আলোচনা ও পরামর্শ অর্জন করতে পারবেন। আমরা বিভিন্ন সাহিত্যিক আলোচনা পরিবেশ প্রদান করি, যেখানে আপনি আপনার মতামত ও মন্তব্য প্রকাশ করতে পারবেন এবং অন্যদের সাহিত্যিক প্রেমিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন। আমরা সাহিত্যিক শিল্পের জন্য একটি সমর্থনশীল সংস্থা হিসেবে কাজ করছি। আমাদের পরিশ্রম এবং প্রতিষ্ঠান বিশ্বাসে আপনাকে সাহিত্যিক প্রজন্মে একটি স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চেষ্টা করব। আমরা আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি আমাদের সাহিত্যিক ওয়েবসাইটে। এখানে আপনি আপনার সৃজনশীলতা, শিল্পতত্ত্ব, প্রতিভা এবং সাহিত্যিক প্রকল্পগুলি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। আপনার সাহিত ্যিক সমর্থন ও প্রশংসা আমাদের উদ্দেশ্যের স্বরূপ। আমরা বিভিন্ন সাহিত্যিক ইভেন্ট, আলোচনা সভা এবং লেখক সম্মেলন আয়োজন করে সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের অনুপ্রাণিত এবং সমর্থিত হওয়ার জন্য প্রয়াস করি। আমরা সাহিত্যিক জগতের বিভিন্ন মানচিত্র একত্রিত করে আপনার জন্য সুবিধাজনক ও পরিচিতি সৃষ্টি করেছি। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি সহজেই প্রতিষ্ঠিত ও নতুন লেখকের কাজ খুঁজে পেতে পারবেন এবং আপনার পছন্দমত সাহিত্যিক গ্রন্থগুলি সংগ্রহ করতে পারবেন। আমরা একটি সংগঠিত ও সম্প্রদায়সম্পন্ন সাহিত্যিক পরিবারের অংশ হিসেবে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, একটি সাহিত্যিক যাত্রায় আপনি অংশগ্রহণ করে সমৃদ্ধ সাহিত্যিক পরিবেশে প্রবেশ করুন। ধন্যবাদ --- - Published: 2023-05-29 - Modified: 2023-06-01 - URL: https://www.sabjanta.info/contact/ contact@sabjanta. info সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হবো আপনার কাছ থেকে শুনতে যদি আপনি কিছু ভালো মন্তব্য নিবেন বা আমাদের সেবা উন্নতির জন্য কোনও পরামর্শ দেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ধন্যবাদ। আমরা আপনার সাহায্যের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। আপনি যদি কোন প্রশ্ন, মতামত, পরামর্শ বা অনুরোধ থাকে তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আপনি এই পৃষ্ঠার নিচে দেওয়া ফর্মটি পূরণ করতে পারেন। আপনি যদি কোনও সাহায্য প্রয়োজন হয় তবে আমাদের দক্ষ সহযোগীদের পাশাপাশি থাকবেন। আমরা সম্পূর্ণরূপে আপনার সহায়তা করতে চাই। যোগাযোগ Send Us A Message Get In Touch Follow Us --- - Published: 2023-05-29 - Modified: 2023-06-05 - URL: https://www.sabjanta.info/privacy-policy/ Last updated: June 05, 2023 This Privacy Policy describes Our policies and procedures on the collection, use and disclosure of Your information when You use the Service and tells You about Your privacy rights and how the law protects You. We use Your Personal data to provide and improve the Service. By using the Service, You agree to the collection and use of information in accordance with this Privacy Policy. This Privacy Policy has been created with the help of the TermsFeed Privacy Policy Generator. Interpretation and Definitions Interpretation The words of which the initial letter is capitalized have meanings defined under the following conditions. The following definitions shall have the same meaning regardless of whether they appear in singular or in plural. Definitions For the purposes of this Privacy Policy: Account means a unique account created for You to access our Service or parts of our Service. Affiliate means an entity that controls, is controlled by or is under common control with a party, where "control" means ownership of 50% or more of the shares, equity interest or other securities entitled to vote for election of directors or other managing authority. Company (referred to as either "the Company", "We", "Us" or "Our" in this Agreement) refers to সবজান্তা (Sabjanta). Cookies are small files that are placed on Your computer, mobile device or any other device by a website, containing the details of Your browsing history on that website among its many uses. Country refers to: West Bengal, India Device means any device that can access the Service such as a computer, a cellphone or a digital tablet. Personal Data is any information that relates to an identified or identifiable individual. Service refers to the Website. Service Provider means any natural or legal person who processes the data on behalf of the Company. It refers to third-party companies or individuals employed by the Company to facilitate the Service, to provide the Service on behalf of the Company, to perform services related to the Service or to assist the Company in analyzing how the Service is used. Usage Data refers to data collected automatically, either generated by the use of the Service or from the Service infrastructure itself (for example, the duration of a page visit). Website refers to সবজান্তা (Sabjanta), accessible from https://www. sabjanta. info/ You means the individual accessing or using the Service, or the company, or other legal entity on behalf of which such individual is accessing or using the Service, as applicable. Collecting and Using Your Personal Data Types of Data Collected Personal Data While using Our Service, We may ask You to provide Us with certain personally identifiable information that can be used to contact or identify You. Personally identifiable information may include, but is not limited to: Email address First name and last name Usage Data Usage Data Usage Data is collected automatically when using the Service. Usage Data may include information such as Your Device's Internet Protocol address (e. g. IP address), browser type, browser version, the pages of our Service that You visit, the time and date of Your visit, the time spent on those pages, unique device identifiers and other diagnostic data. When You access the Service by or through a mobile device, We may collect certain information automatically, including, but not limited to, the type of mobile device You use, Your mobile device unique ID, the IP address of Your mobile device, Your mobile operating system, the type of mobile Internet browser You use, unique device identifiers and other diagnostic data. We may also collect information that Your browser sends whenever You visit our Service or when You access the Service by or through a mobile device. Tracking Technologies and Cookies We use Cookies and similar tracking technologies to track the activity on Our Service and store certain information. Tracking technologies used are beacons, tags, and scripts to collect and track information and to improve and analyze Our Service. The technologies We use may include: Cookies or Browser Cookies. A cookie is a small file placed on Your Device. You can instruct Your browser to refuse all Cookies or to indicate when a Cookie is being sent. However, if You do not accept Cookies, You may not be able to use some parts of our Service. Unless you have adjusted Your browser setting so that it will refuse Cookies, our Service may use Cookies. Web Beacons. Certain sections of our Service and our emails may contain small electronic files known as web beacons (also referred to as clear gifs, pixel tags, and single-pixel gifs) that permit the Company, for example, to count users who have visited those pages or opened an email and for other related website statistics (for example, recording the popularity of a certain section and verifying system and server integrity). Cookies can be "Persistent" or "Session" Cookies. Persistent Cookies remain on Your personal computer or mobile device when You go offline, while Session Cookies are deleted as soon as You close Your web browser. You can learn more about cookies on TermsFeed website article. We use both Session and Persistent Cookies for the purposes set out below: Necessary / Essential Cookies Type: Session Cookies Administered by: Us Purpose: These Cookies are essential to provide You with services available through the Website and to enable You to use some of its features. They help to authenticate users and prevent fraudulent use of user accounts. Without these Cookies, the services that You have asked for cannot be provided, and We only use these Cookies to provide You with those services. Cookies Policy / Notice Acceptance Cookies Type: Persistent Cookies Administered by: Us Purpose: These Cookies identify if users have accepted the use of cookies on the Website. Functionality Cookies Type: Persistent Cookies Administered by: Us Purpose: These Cookies allow us to remember choices You make when You use the Website, such as remembering your login details or language preference. The purpose of these Cookies is to provide You with a more personal experience and to avoid You having to re-enter your preferences every time You use the Website. For more information about the cookies we use and your choices regarding cookies, please visit our Cookies Policy or the Cookies section of our Privacy Policy. Use of Your Personal Data The Company may use Personal Data for the following purposes: To provide and maintain our Service, including to monitor the usage of our Service. To manage Your Account: to manage Your registration as a user of the Service. The Personal Data You provide can give You access to different functionalities of the Service that are available to You as a registered user. For the performance of a contract: the development, compliance and undertaking of the purchase contract for the products, items or services You have purchased or of any other contract with Us through the Service. To contact You: To contact You by email, telephone calls, SMS, or other equivalent forms of electronic communication, such as a mobile application's push notifications regarding updates or informative communications related to the functionalities, products or contracted services, including the security updates, when necessary or reasonable for their implementation. To provide You with news, special offers and general information about other goods, services and events which we offer that are similar to those that you have already purchased or enquired about unless You have opted not to receive such information. To manage Your requests: To attend and manage Your requests to Us. For business transfers: We may use Your information to evaluate or conduct a merger, divestiture, restructuring, reorganization, dissolution, or other sale or transfer of some or all of Our assets, whether as a going concern or as part of bankruptcy, liquidation, or similar proceeding, in which Personal Data held by Us about our Service users is among the assets transferred. For other purposes: We may use Your information for other purposes, such as data analysis, identifying usage trends, determining the effectiveness of our promotional campaigns and to evaluate and improve our Service, products, services, marketing and your experience. We may share Your personal information in the following situations: With Service Providers: We may share Your personal information with Service Providers to monitor and analyze the use of our Service, to contact You. For business transfers: We may share or transfer Your personal information in connection with, or during negotiations of, any merger, sale of Company assets, financing, or acquisition of all or a portion of Our business to another company. With Affiliates: We may share Your information with Our affiliates, in which case we will require those affiliates to honor this Privacy Policy. Affiliates include Our parent company and any other subsidiaries, joint venture partners or other companies that We control or that are under common control with Us. With business partners: We may share Your information with Our business partners to offer You certain products, services or promotions. With other users: when You share personal information or otherwise interact in the public areas with other users, such information may be viewed by all users and may be publicly distributed outside. With Your consent: We may disclose Your personal information for any other purpose with Your consent. Retention of Your Personal Data The Company will retain Your Personal Data only for as long as is necessary for the purposes set out in this Privacy Policy. We will retain and use Your Personal Data to the extent necessary to comply with our legal obligations (for example, if we are required to retain your data to comply with applicable laws), resolve disputes, and enforce our legal agreements and policies. The Company will also retain Usage Data for internal analysis purposes. Usage Data is generally retained for a shorter period of time, except when this data is used to strengthen the security or to improve the functionality of Our Service, or We are legally obligated to retain this data for longer time periods. Transfer of Your Personal Data Your information, including Personal Data, is processed at the Company's operating offices and in any other places where the parties involved in the processing are located. It means that this information may be transferred to — and maintained on — computers located outside of Your state, province, country or other governmental jurisdiction where the data protection laws may differ than those from Your jurisdiction. Your consent to this Privacy Policy followed by Your submission of such information represents Your agreement to that transfer. The Company will take all steps reasonably necessary to ensure that Your data is treated securely and in accordance with this Privacy Policy and no transfer of Your Personal Data will take place to an organization or a country unless there are adequate controls in place including the security of Your data and other personal information. Delete Your Personal Data You have the right to delete or request that We assist in deleting the Personal Data that We have collected about You. Our Service may give You the ability to delete certain information about You from within the Service. You may update, amend, or delete Your information at any time by signing in to Your Account, if you have one, and visiting the account settings section that allows you to manage Your personal information. You may also contact Us to request access to, correct, or delete any personal information that You have provided to Us. Please note, however, that We may need to retain certain information when we have a legal obligation or lawful basis to do so. Disclosure of Your Personal Data Business Transactions If the Company is involved in a merger, acquisition or asset sale, Your Personal Data may be transferred. We will provide notice before Your Personal Data is transferred and becomes subject to a different Privacy Policy. Law enforcement Under certain circumstances, the Company may be required to disclose Your Personal Data if required to do so by law or in response to valid requests by public authorities (e. g. a... --- - Published: 2023-05-29 - Modified: 2023-06-05 - URL: https://www.sabjanta.info/terms-and-conditions/ Last updated: June 05, 2023 Please read these terms and conditions carefully before using Our Service. Interpretation and Definitions Interpretation The words of which the initial letter is capitalized have meanings defined under the following conditions. The following definitions shall have the same meaning regardless of whether they appear in singular or in plural. Definitions For the purposes of these Terms and Conditions: Affiliate means an entity that controls, is controlled by or is under common control with a party, where "control" means ownership of 50% or more of the shares, equity interest or other securities entitled to vote for election of directors or other managing authority. Country refers to: West Bengal, India Company (referred to as either "the Company", "We", "Us" or "Our" in this Agreement) refers to সবজান্তা (Sabjanta). Device means any device that can access the Service such as a computer, a cellphone or a digital tablet. Service refers to the Website. Terms and Conditions (also referred as "Terms") mean these Terms and Conditions that form the entire agreement between You and the Company regarding the use of the Service. This Terms and Conditions agreement has been created with the help of the TermsFeed Terms and Conditions Generator. Third-party Social Media Service means any services or content (including data, information, products or services) provided by a third-party that may be displayed, included or made available by the Service. Website refers to সবজান্তা (Sabjanta), accessible from https://www. sabjanta. info You means the individual accessing or using the Service, or the company, or other legal entity on behalf of which such individual is accessing or using the Service, as applicable. Acknowledgment These are the Terms and Conditions governing the use of this Service and the agreement that operates between You and the Company. These Terms and Conditions set out the rights and obligations of all users regarding the use of the Service. Your access to and use of the Service is conditioned on Your acceptance of and compliance with these Terms and Conditions. These Terms and Conditions apply to all visitors, users and others who access or use the Service. By accessing or using the Service You agree to be bound by these Terms and Conditions. If You disagree with any part of these Terms and Conditions then You may not access the Service. You represent that you are over the age of 18. The Company does not permit those under 18 to use the Service. Your access to and use of the Service is also conditioned on Your acceptance of and compliance with the Privacy Policy of the Company. Our Privacy Policy describes Our policies and procedures on the collection, use and disclosure of Your personal information when You use the Application or the Website and tells You about Your privacy rights and how the law protects You. Please read Our Privacy Policy carefully before using Our Service. Links to Other Websites Our Service may contain links to third-party web sites or services that are not owned or controlled by the Company. The Company has no control over, and assumes no responsibility for, the content, privacy policies, or practices of any third party web sites or services. You further acknowledge and agree that the Company shall not be responsible or liable, directly or indirectly, for any damage or loss caused or alleged to be caused by or in connection with the use of or reliance on any such content, goods or services available on or through any such web sites or services. We strongly advise You to read the terms and conditions and privacy policies of any third-party web sites or services that You visit. Termination We may terminate or suspend Your access immediately, without prior notice or liability, for any reason whatsoever, including without limitation if You breach these Terms and Conditions. Upon termination, Your right to use the Service will cease immediately. Limitation of Liability Notwithstanding any damages that You might incur, the entire liability of the Company and any of its suppliers under any provision of this Terms and Your exclusive remedy for all of the foregoing shall be limited to the amount actually paid by You through the Service or 100 USD if You haven't purchased anything through the Service. To the maximum extent permitted by applicable law, in no event shall the Company or its suppliers be liable for any special, incidental, indirect, or consequential damages whatsoever (including, but not limited to, damages for loss of profits, loss of data or other information, for business interruption, for personal injury, loss of privacy arising out of or in any way related to the use of or inability to use the Service, third-party software and/or third-party hardware used with the Service, or otherwise in connection with any provision of this Terms), even if the Company or any supplier has been advised of the possibility of such damages and even if the remedy fails of its essential purpose. Some states do not allow the exclusion of implied warranties or limitation of liability for incidental or consequential damages, which means that some of the above limitations may not apply. In these states, each party's liability will be limited to the greatest extent permitted by law. "AS IS" and "AS AVAILABLE" Disclaimer The Service is provided to You "AS IS" and "AS AVAILABLE" and with all faults and defects without warranty of any kind. To the maximum extent permitted under applicable law, the Company, on its own behalf and on behalf of its Affiliates and its and their respective licensors and service providers, expressly disclaims all warranties, whether express, implied, statutory or otherwise, with respect to the Service, including all implied warranties of merchantability, fitness for a particular purpose, title and non-infringement, and warranties that may arise out of course of dealing, course of performance, usage or trade practice. Without limitation to the foregoing, the Company provides no warranty or undertaking, and makes no representation of any kind that the Service will meet Your requirements, achieve any intended results, be compatible or work with any other software, applications, systems or services, operate without interruption, meet any performance or reliability standards or be error free or that any errors or defects can or will be corrected. Without limiting the foregoing, neither the Company nor any of the company's provider makes any representation or warranty of any kind, express or implied: (i) as to the operation or availability of the Service, or the information, content, and materials or products included thereon; (ii) that the Service will be uninterrupted or error-free; (iii) as to the accuracy, reliability, or currency of any information or content provided through the Service; or (iv) that the Service, its servers, the content, or e-mails sent from or on behalf of the Company are free of viruses, scripts, trojan horses, worms, malware, timebombs or other harmful components. Some jurisdictions do not allow the exclusion of certain types of warranties or limitations on applicable statutory rights of a consumer, so some or all of the above exclusions and limitations may not apply to You. But in such a case the exclusions and limitations set forth in this section shall be applied to the greatest extent enforceable under applicable law. Governing Law The laws of the Country, excluding its conflicts of law rules, shall govern this Terms and Your use of the Service. Your use of the Application may also be subject to other local, state, national, or international laws. Disputes Resolution If You have any concern or dispute about the Service, You agree to first try to resolve the dispute informally by contacting the Company. For European Union (EU) Users If You are a European Union consumer, you will benefit from any mandatory provisions of the law of the country in which you are resident in. United States Legal Compliance You represent and warrant that (i) You are not located in a country that is subject to the United States government embargo, or that has been designated by the United States government as a "terrorist supporting" country, and (ii) You are not listed on any United States government list of prohibited or restricted parties. Severability and Waiver Severability If any provision of these Terms is held to be unenforceable or invalid, such provision will be changed and interpreted to accomplish the objectives of such provision to the greatest extent possible under applicable law and the remaining provisions will continue in full force and effect. Waiver Except as provided herein, the failure to exercise a right or to require performance of an obligation under these Terms shall not effect a party's ability to exercise such right or require such performance at any time thereafter nor shall the waiver of a breach constitute a waiver of any subsequent breach. Translation Interpretation These Terms and Conditions may have been translated if We have made them available to You on our Service. You agree that the original English text shall prevail in the case of a dispute. Changes to These Terms and Conditions We reserve the right, at Our sole discretion, to modify or replace these Terms at any time. If a revision is material We will make reasonable efforts to provide at least 30 days' notice prior to any new terms taking effect. What constitutes a material change will be determined at Our sole discretion. By continuing to access or use Our Service after those revisions become effective, You agree to be bound by the revised terms. If You do not agree to the new terms, in whole or in part, please stop using the website and the Service. Contact Us If you have any questions about these Terms and Conditions, You can contact us: By email: contact@sabjanta. info By visiting this page on our website: https://www. sabjanta. info/contact/ --- - Published: 2022-10-23 - Modified: 2025-12-08 - URL: https://www.sabjanta.info/ মনীষী দের কথা রঙ্গ ব্যঙ্গ হাস্যরস জানা-অজানা স্থানীয় ইতিহাস ছোটগল্প নৈতিক শিক্ষার গল্প গেরস্থালি-রেসিপি --- --- ## Posts - Published: 2026-02-07 - Modified: 2026-02-07 - URL: https://www.sabjanta.info/history-of-baidyabati-hooghly-till-1947/ Pic source গঙ্গার শীতল হাওয়া, প্রাচীন মন্দিরের ঘন্টার ধ্বনি আর অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা কয়েকশ বছরের পুরনো ইতিহাস—এই নিয়েই আমাদের আজকের গন্তব্য হুগলি জেলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, বৈদ্যবাটী (Baidyabati)। আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হন কিংবা সপ্তাহান্তের ছুটিতে একটু নিরিবিলিতে পুরনো বাংলার গন্ধ নিতে চান, তবে বৈদ্যবাটী আপনার জন্য আদর্শ জায়গা। আজকের আর্টিকেলে আমরা এ শহরের ইতিহাসের গল্পে ফিরে যাব সেই সময়ে, যখন বৈদ্যবাটী হয়ে উঠেছিল বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য আর সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। চলুন, ১৯৪৭-এর আগের সেই স্বর্ণযুগে একটু ডুব দেওয়া যাক। বৈদ্যবাটী: নামের পেছনে লুকিয়ে থাকা রহস্য প্রথমেই মাথায় আসে, 'বৈদ্যবাটী' নামটা এল কোত্থেকে? লোককথা অনুযায়ী, একসময় এই জনপদে প্রচুর 'বৈদ্য' বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের বাস ছিল। তাঁদের 'বাটী' বা বাড়ি থেকেই এই জায়গার নাম হয়েছে বৈদ্যবাটী। প্রাচীনকালে যখন আজকের মতো অ্যালোপ্যাথি হাসপাতাল ছিল না, তখন সারা বাংলার মানুষ সুচিকিৎসার আশায় এই গঙ্গার তীরের জনপদে ছুটে আসতেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগ: যখন ইতিহাসের শুরু বৈদ্যবাটীর ইতিহাস কিন্তু একদিনের নয়। মধ্যযুগেও যখন এই অঞ্চল 'রাঢ়' অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল, তখনও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত হওয়ার কারণে ভৌগোলিকভাবেই এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং ব্যবসা-বান্ধব ছিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময়েও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, মহাপ্রভু যখন নীলাচলে যেতেন, তখন এই গঙ্গার ঘাট দিয়েই তাঁর যাতায়াত ছিল। বৈদ্যবাটীর 'নিমাই তীর্থ ঘাট' আজও সেই স্মৃতি বহন করছে। শেওড়াফুলি রাজবাড়ি ও বৈদ্যবাটীর উত্থান Photo By Zeal09, CC BY-SA 4. 0 via wikicommons বৈদ্যবাটীর ইতিহাস বলতে গেলে পাশের জনপদ শেওড়াফুলির রাজপরিবারের কথা বলতেই হয়। কারণ, বৈদ্যবাটীর অনেকটা অংশই ছিল এই রাজপরিবারের জমিদারির অধীনে। রাজা মনোহর রায়ের সময়ে এই অঞ্চলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল চোখে পড়ার মতো। ১৭৫০ সাল নাগাদ যখন বাংলার মসনদে নবাবদের দাপট কমছে আর ব্রিটিশদের আধিপত্য বাড়ছে, তখন থেকেই বৈদ্যবাটী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শেওড়াফুলি রাজাদের তৈরি মন্দির, বাজার আর জনহিতকর কাজগুলো বৈদ্যবাটীকে এক অনন্য রূপ দিয়েছিল। আরও পড়ুন - আদিসপ্তগ্রাম: বাংলার হারানো বন্দর ও ইতিহাসের এক স্বর্ণালি অধ্যায় ব্রিটিশ শাসনকাল: ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ ১৮৫০-এর দশক থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত সময়টা ছিল বৈদ্যবাটীর জন্য সবচেয়ে নাটকীয়। ব্রিটিশরা যখন রেললাইন পাতল (১৮৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে), তখন বৈদ্যবাটী স্টেশনের গুরুত্ব বেড়ে গেল কয়েক গুণ। ১. আলু আর চটের হাট আপনি কি জানেন? শেওড়াফুলি-বৈদ্যবাটীর এই হাট একসময় এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সবজির বাজার ছিল। বিশেষ করে সিঙ্গুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের আলুর প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র ছিল এই বৈদ্যবাটী। গঙ্গার ঘাট দিয়ে বড় বড় নৌকা করে মালামাল আসত, আর রেলপথে তা পৌঁছে যেত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। ২. ভিক্টোরিয়া জুট মিলের আভিজাত্য শিল্পায়নের ছোঁয়া লেগেছিল এই জনপদেও। ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভিক্টোরিয়া জুট মিল। গঙ্গার পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই চটকলটি হাজার হাজার শ্রমিকের অন্নসংস্থান করত। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ সাহেবদের কোয়ার্টার, ক্লাব আর নীল গঙ্গার জল মিলিয়ে এক অদ্ভুত সাহেবঘেঁষা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল এখানে। মন্দিরের শহর: স্থাপত্যের এক অনন্য প্রদর্শনী বৈদ্যবাটীর গলিগুলোতে হাঁটলে আপনি আজও ব্রিটিশ আমলের আগের স্থাপত্য দেখতে পাবেন। এখানকার মন্দিরগুলো শুধু উপাসনালয় নয়, এগুলো ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। নিমাই তীর্থ ঘাট ও মন্দির: গঙ্গার পাড়ে অবস্থিত এই ঘাটটি অত্যন্ত প্রাচীন। পর্যটকদের কাছে এটি এক প্রধান আকর্ষণ। রাধা-বল্লভ জিউর মন্দির: এই মন্দিরের কারুকার্য আর শান্ত পরিবেশ আপনাকে এক নিমেষে ১০০ বছর পিছিয়ে নিয়ে যাবে। বারোয়ারি পুজো: বৈদ্যবাটীর জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। ব্রিটিশ আমলে এখানকার বাবুরা যখন এই পুজো শুরু করেন, তখন তা ছিল আভিজাত্যের লড়াই। স্বাধীনতা আন্দোলনে বৈদ্যবাটীর ভূমিকা Pic source ১৯৪৭-এর আগের ইতিহাস বলতে গেলে স্বাধীনতার লড়াইয়ের কথা না বললে অপূর্ণ থেকে যায়। বৈদ্যবাটী ছিল বিপ্লবীদের এক গোপন আস্তানা। হুগলি জেলার অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের কর্মীরা সক্রিয় ছিলেন। গঙ্গার নিভৃত ঘাটগুলো অস্ত্র আনা-নেওয়া বা গোপন বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা হতো। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট যখন দেশ স্বাধীন হলো, তখন বৈদ্যবাটীর সাধারণ মানুষ গঙ্গার ঘাটে সমবেত হয়ে আনন্দোৎসবে মেতে উঠেছিলেন। আরও দেখুন - দীঘার ইতিহাস: অজানা ‘বীরকুল’ থেকে প্রাচ্যের ‘ব্রাইটন’ হয়ে ওঠার গল্প ভ্রমণপিপাসুদের জন্য গাইড: কেন আসবেন বৈদ্যবাটী? আপনি যদি ইতিহাস ভালোবাসেন, তবে আপনার উইকএন্ড লিস্টে বৈদ্যবাটী অবশ্যই থাকা উচিত। গঙ্গার ঘাট: বিকেলের দিকে গঙ্গার পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। পুরনো রাজবাড়ি ও স্থাপত্য: ব্রিটিশ আমলের তৈরি লাল ইটের বাড়ি আর খড়খড়ি দেওয়া জানলার রাজকীয় ভাব আজও এখানে রয়ে গেছে। স্ট্রিট ফুড: বৈদ্যবাটীর মিষ্টির কথা ভুললে চলবে না! এখানকার স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোতে আজও সেই সাবেকি স্বাদ পাওয়া যায়। শেষ কথা (Conclusion) বৈদ্যবাটী মানে শুধু একটা স্টেশন বা ঘিঞ্জি এলাকা নয়। এটি গঙ্গার পলিমাটিতে গড়ে ওঠা এক প্রাচীন সভ্যতা, যা নবাবী আমল থেকে ব্রিটিশ রাজ—সবই নিজের চোখে দেখেছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের আঁচ এখানে লাগলেও, এখানকার সম্প্রীতি আর বাণিজ্যের ঐতিহ্য আজও অটুট। পরের বার যখন ট্রেন বা বাসে করে এই এলাকা দিয়ে যাবেন, জানলা দিয়ে একবার তাকিয়ে দেখবেন। হয়তো কোনো এক ভাঙা মন্দিরের দেওয়ালে বা পুরনো ঘাটের সিঁড়িতে আপনি খুঁজে পাবেন হারিয়ে যাওয়া কোনো বীরগাথা। আপনি কি আগে কখনও বৈদ্যবাটী গিয়েছেন? বা এখানকার কোনো পুরনো গল্প কি আপনার জানা আছে? আমাদের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানান! --- - Published: 2026-02-02 - Modified: 2026-02-02 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-elysia-chlorotica-%e0%a6%aa/ বিজ্ঞানের দুনিয়ায় এমন কিছু জীব আছে, যাদের নিয়ে পড়তে গিয়ে মাথা চুলকোতে বাধ্য। এলিসিয়া ক্লোরোটিকা ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। দেখতে পাতার মতো সবুজ, আচরণে প্রাণীর মতো, আবার কাজকর্মে একেবারে উদ্ভিদের কাছাকাছি! তাহলে প্রশ্ন ওঠেই— এলিসিয়া ক্লোরোটিকা আসলে প্রাণী, উদ্ভিদ, নাকি দুটোই? এই প্রশ্নটাই আজ আমরা খোলসা করব, একদম ছাত্রছাত্রী আর সাধারণ জ্ঞানপ্রেমীদের স্টাইলে—সহজ, ক্যাজুয়াল, কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক। এলিসিয়া ক্লোরোটিকা কী? এলিসিয়া ক্লোরোটিকা হলো এক ধরনের sea slug বা সামুদ্রিক শামুকজাতীয় প্রাণী। সাধারণত পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূলে, বিশেষ করে অগভীর নোনা জলে। এক নজরে দেখে মনে হবে— এটা যেন একটা সবুজ পাতা শরীর চ্যাপ্টা রঙ উজ্জ্বল সবুজ কিন্তু ভুল করবেন না—এটা মোটেও গাছ নয়! আরও পড়ুন - কালাচি, কজাখস্থানের ‘ঘুমের গ্রাম’ এক অমীমাংসিত রহস্য তাহলে এটা প্রাণী কেন? চলুন আগে প্রাণীর দিকটা দেখি। এলিসিয়া ক্লোরোটিকা যে কারণে প্রাণী, সেগুলো হলো— মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র আছে হজমতন্ত্র আছে চলাফেরা করতে পারে প্রাণীর মতো DNA ও কোষগঠন এটা জন্মায় ডিম থেকে, বেড়ে ওঠে লার্ভা হিসেবে, তারপর পূর্ণাঙ্গ sea slug হয়—একদম ক্লাসিক প্রাণী জীবনচক্র। তাই জীববিজ্ঞানের ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী,Elysia Chlorotica নিঃসন্দেহে একটি প্রাণী। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়... গাছের মতো আচরণ করে কীভাবে? এবার আসল টুইস্ট! এই প্রাণীটির সবচেয়ে আশ্চর্য ক্ষমতা হলো— সালোকসংশ্লেষ করা! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন।যে প্রক্রিয়ায় গাছ সূর্যের আলো থেকে খাবার তৈরি করে,এলিসিয়া ক্লোরোটিকা ও সেটাই করতে পারে। প্রশ্ন হলো— প্রাণী হয়েও এটা কীভাবে সম্ভব? চুরি করা ক্লোরোপ্লাস্টের গল্প (Kleptoplasty) Photo source Elysia Chlorotica তার খাবার হিসেবে খায় এক ধরনের সবুজ শৈবাল (algae)।এই শৈবালের ভেতরে থাকে chloroplast, যেটা সালোকসংশ্লেষ-এর মূল যন্ত্র। খাওয়ার সময়— শৈবাল হজম হয় কিন্তু chloroplast হজম হয় না বরং সেগুলো নিজের শরীরের কোষে রেখে দেয় এই প্রক্রিয়াটার নাম— Kleptoplasty (মানে: অন্যের জিনিস চুরি করে ব্যবহার করা ) ফলে কী হয়? slug-এর শরীর সবুজ হয়ে যায় সূর্যের আলো পেলেই নিজের খাবার নিজেই বানাতে পারে একটা প্রাণী হয়ে গাছের মতো খাবার বানানো—এটা সত্যিই mind-blowing! আরও পড়ুন - ওয়েলউইটশিয়া: হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময় কতদিন বাঁচে এই চুরি করা ক্লোরোপ্লাস্ট? সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো— মাসের পর মাস, কখনো কখনো ৯–১০ মাস পর্যন্ত,Elysia chlorotica কোনো খাবার না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে! শুধু দরকার— সূর্যের আলো আর নিজের শরীরে জমিয়ে রাখা chloroplast এখানেই বিজ্ঞানীরা থমকে গিয়েছিলেন। জিন চুরির রহস্য (Horizontal Gene Transfer) আরও বড় প্রশ্ন উঠল— chloroplast এতদিন কাজ করে কীভাবে? সাধারণ প্রাণীর কোষে তো এরা টেকে না! গবেষণায় দেখা গেছে— এলিসিয়া ক্লোরোটিকা শৈবাল থেকে কিছু gene নিজের DNA-তে নিয়ে নিয়েছে যেগুলো chloroplast বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে এটাকে বলা হয়— Horizontal Gene Transfer সাধারণত gene যায়— বাবা-মা থেকে সন্তানে কিন্তু এখানে? একেবারে ভিন্ন প্রজাতি থেকে! এই ঘটনা প্রাণী জগতে অত্যন্ত বিরল। তাহলে এটা উদ্ভিদও নাকি? এখানেই কনফিউশন। কারণ— সালোকসংশ্লেষ করে সবুজ রঙ সূর্যালোক নির্ভর তবু... এটা উদ্ভিদ নয়, কারণ— শিকড় নেই পাতা নেই ফুল-ফল নেই উদ্ভিদের মতো কোষপ্রাচীর নেই বরং বলা যায়—এটা একেবারে প্রাণী, যে সাময়িকভাবে উদ্ভিদের ক্ষমতা ধার করেছে। কেন এটা সাধারণ জ্ঞান ও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ— Biology-র evolution অধ্যায়ে symbiosis & gene transfer বোঝাতে UPSC / SSC / State PSC / School exams Science Olympiad & quiz প্রায়ই প্রশ্ন আসে— “Which animal can do photosynthesis? ” “Example of kleptoplasty” উত্তর—Elysia Chlorotica প্রকৃতি কী শেখায় আমাদের? এলিসিয়া ক্লোরোটিকা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়— প্রকৃতি কোনো rigid rule মানে না“এটা শুধু প্রাণী” বা “ওটা শুধু উদ্ভিদ”—এই বিভাজন ভেঙে দিতে পারেবিবর্তন (Evolution) কতটা creative হতে পারে, তার জীবন্ত প্রমাণ শেষ কথা তাহলে,এলিসিয়া ক্লোরোটিকা প্রাণী না উদ্ভিদ? প্রাণী, কিন্তু উদ্ভিদের মতো কাজ করতে সক্ষম এক কথায় বলা যায়— Nature’s solar-powered animal Photo banner source --- > গোবরডাঙ্গা: ইতিহাস বলে উত্তর ২৪ পরগনার এই শহরের মাটিতে মিশে আছে জমিদারি আমলের আভিজাত্য, বিপ্লবীদের সাহসিকতা আর সাহিত্যিকদের কলম। - Published: 2026-01-25 - Modified: 2026-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/history-of-gobardanga-a-glorious-journey/ গোবরডাঙ্গা: ইতিহাস বলে উত্তর ২৪ পরগনার এই শহরের মাটিতে মিশে আছে জমিদারি আমলের আভিজাত্য, বিপ্লবীদের সাহসিকতা আর সাহিত্যিকদের কলম। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মানচিত্রে যমুনা নদীর তীরে শান্ত, স্নিগ্ধ এক জনপদ হলো গোবরডাঙ্গা। বর্তমানের ছিমছাম মফস্বল শহরটির অলিগলিতে আজও মিশে আছে জমিদারি আমলের আভিজাত্য, বিপ্লবীদের সাহসিকতা আর সাহিত্যিকদের কলমের আঁচড়। আপনি যদি ইতিহাসের গন্ধ মাখা পুরনো দালান আর শান্ত প্রকৃতি ভালোবাসেন, তবে গোবরডাঙ্গা আপনার পরবর্তী ভ্রমণের তালিকায় এক অনন্য নাম হতে পারে। যমুনার তীরে গড়ে ওঠার শুরু গোবরডাঙ্গার নামের সাথে জড়িয়ে আছে নানা লোককথা। কেউ বলেন 'গো-বর্ধন' থেকে এই নাম, আবার কারো মতে প্রাচীন জনপদের বিবর্তন। তবে এই শহরের আধুনিক ইতিহাসের মূল কারিগর হলেন এখানকার মুখোপাধ্যায় পরিবার বা গোবরডাঙ্গার রাজ পরিবার। ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে এই রাজবংশের হাত ধরেই গোবরডাঙ্গা একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। একসময় যমুনা নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য পথ। আজ নদী তার আগের যৌবন হারালেও, তীরের পোড়ো বাড়িগুলো আজও সেই সোনালী দিনগুলোর সাক্ষ্য দেয়। স্থাপত্যের বিস্ময়: গোবরডাঙ্গা রাজবাড়ি ও মন্দির গোবরডাঙ্গার প্রধান আকর্ষণ হলো এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে: ১. প্রসন্নময়ী কালী মন্দির ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে গোবরডাঙ্গার রানী প্রসন্নময়ী এই নবরত্ন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি এই প্রসন্নময়ী কালী মন্দিরটি আজও ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে পরম শ্রদ্ধার। মন্দিরের কারুকার্য এবং বিশাল চত্বর আপনাকে এক নিমেষে নিয়ে যাবে কয়েকশো বছর আগের বাংলায়। ২. গোবরডাঙ্গা রাজবাড়ি যদিও সময়ের নিয়মে রাজবাড়ির অনেক অংশই আজ জীর্ণ, তবু এর সিংহদুয়ার এবং বিশাল ঠাকুরদালান দেখলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। কথিত আছে, এখানকার দুর্গাপূজা ছিল একসময়ের অবিভক্ত বাংলার অন্যতম বড় উৎসব। রাজবাড়ির নাটমন্দিরে যখন সানাই বাজত, তখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত সেই আভিজাত্য চাক্ষুষ করতে। ৩. নকশা মন্দির ও টেরাকোটা শিল্প গোবরডাঙ্গার আশেপাশে ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু ছোট ছোট টেরাকোটার মন্দির। এখানকার সূক্ষ্ম কারুকার্য প্রমাণ করে যে, তৎকালীন বাংলার শিল্পীরা কতটা দক্ষ ছিলেন। সাহিত্যে গোবরডাঙ্গা: প্রমথনাথ বিশীর জন্মভূমি চিত্র সৌজন্য গোবরডাঙ্গার মাটি শুধু বীর প্রসবিনী নয়, এ মাটি মেধার ধারক। বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, গবেষক ও রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ প্রমথনাথ বিশী ছিলেন এই শহরেরই সন্তান। তাঁর লেখায় বারেবারে ফিরে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার এই শান্ত জনপদ এবং যমুনা নদীর বর্ণনা। প্রমথনাথ বিশী তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'চলনবিল' বা তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে আমরা পাই এক জীবন্ত গোবরডাঙ্গাকে। আজও তাঁর পৈতৃক ভিটে এবং তাঁর নামাঙ্কিত পাঠাগার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। তিনি ছাড়াও এই অঞ্চলের সাথে জড়িয়ে আছে বহু বিদগ্ধ পণ্ডিতের নাম, যা গোবরডাঙ্গাকে ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে পরিচিত করেছে। স্বাধীনতার লড়াই ও অগ্নিযুগের বিপ্লবীরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গোবরডাঙ্গার অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই অঞ্চল ছিল বিপ্লবীদের এক গোপন আস্তানা। বিপ্লবী শৈলেন্দ্রনাথ দত্ত: এখানকার তরুণরা যখন দেশমাতৃকার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন, তখন তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন বিপ্লবী শৈলেন্দ্রনাথ দত্তের মতো ব্যক্তিত্বরা। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দল: গোবরডাঙ্গার বহু যুবক গোপনে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতেন এবং ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে স্বদেশী প্রচার চালিয়ে যেতেন। এখানে এলে আপনি অনুভব করবেন সেই তেজস্বী মানুষদের আত্মত্যাগ, যাঁদের রক্তে আজ আমরা স্বাধীন বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আরও পড়ুন - কিং চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা): যে রাজা ঔপনিবেশিকতাকে হারিয়ে দেশকে আধুনিক করেন পর্যটকদের জন্য যা কিছু আকর্ষণীয় ইতিহাসের বাইরেও গোবরডাঙ্গা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। যমুনা নদীর পাড়: বিকেলের পড়ন্ত রোদে যমুনার পাড়ে বসে থাকা এক স্বর্গীয় অনুভূতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি সেরা ‘হ্যাঙ্গআউট’ স্পট। গোবরডাঙ্গা রেনেসাঁ ইনস্টিটিউট: এটি কেবল একটি ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি গোবরডাঙ্গার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে সারা বছর নানা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। গাইঘাটা ও ঠাকুরনগর: গোবরডাঙ্গার খুব কাছেই ঠাকুরনগর (মতুয়া ধাম) এবং গাইঘাটা। হাতে সময় থাকলে আপনি এই জায়গাগুলোও ঘুরে নিতে পারেন। কীভাবে যাবেন ও কখন যাবেন? কীভাবে যাবেন: ট্রেনে: শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বনগাঁ লোকাল ধরে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটে পৌঁছে যান গোবরডাঙ্গা স্টেশনে। স্টেশনের বাইরেই টোটো বা রিকশা পাবেন ঘোরার জন্য। সড়কপথে: কলকাতা থেকে যশোর রোড ধরে বারাসাত, হাবড়া হয়ে খুব সহজেই গাড়ি নিয়ে এখানে আসা যায়। কখন যাবেন:গোবরডাঙ্গা ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। তবে বর্ষাকালে যমুনার রূপ অন্যরকম থাকে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে। আরও পড়ুন - আদিসপ্তগ্রাম: বাংলার হারানো বন্দর ও ইতিহাসের এক স্বর্ণালি অধ্যায় কেন গোবরডাঙ্গা আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে? আমরা অনেকেই সপ্তাহান্তে দিঘা বা পুরী ছুটে যাই, কিন্তু ঘরের কাছেই লুকিয়ে থাকা এমন ইতিহাসকে অবহেলা করি। গোবরডাঙ্গা আপনাকে কোনো আধুনিক লাক্সারি দেবে না, কিন্তু আপনাকে দেবে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। আপনি যখন রাজবাড়ির ভগ্নস্তূপের সামনে দাঁড়াবেন, কিংবা প্রসন্নময়ী মন্দিরের শান্ত চত্বরে বসবেন, তখন মনে হবে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। এখানে এসে আপনি শুধু ঘুরবেন না, বরং ইতিহাসের মুখোমুখি হবেন। প্রমথনাথ বিশীর গ্রাম্য মেঠো পথ কিংবা বিপ্লবীদের গোপন আস্তানার গল্প আপনাকে নতুন করে দেশপ্রেম ও শিকড়ের টানে উদ্বুদ্ধ করবে। উপসংহার:গোবরডাঙ্গা কেবল একটি শহর নয়, এটি একটি অনুভূতি। এর ধুলিকণায় মিশে আছে বহু না বলা গল্প। আপনি যদি ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে ভালোবাসেন এবং ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে এক নির্জন ঐতিহাসিক ভ্রমণে যেতে চান, তবে এই উইকএন্ডেই বেরিয়ে পড়ুন গোবরডাঙ্গার উদ্দেশ্যে। আপনার কি গোবরডাঙ্গা ভ্রমণের কোনো স্মৃতি আছে? অথবা এই শহরের অন্য কোনো অজানা ইতিহাস জানেন? আমাদের কমেন্ট করে জানান! --- > পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাচীন জনপদ নাড়াজোল, তার ছয়শো বছরের রাজসিক ইতিহাস, বিপ্লবী আন্দোলন, নাড়াজোল রাজবংশ ও তাদের উত্থান-পতন আলোচিত - Published: 2026-01-12 - Modified: 2026-01-19 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%82%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/ পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাচীন জনপদ নাড়াজোল, তার ছয়শো বছরের রাজসিক ইতিহাস, বিপ্লবী আন্দোলন, নাড়াজোল রাজবংশ ও তাদের উত্থান-পতন আলোচিত হল। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের কথা উঠলে আমরা সাধারণত মুর্শিদাবাদ, বিষ্ণুপুর বা বর্ধমানের নাম শুনি। কিন্তু মেদিনীপুরের মাটির গভীরে এমন এক রাজবংশের ইতিহাস লুকিয়ে আছে, যা শৌর্য, স্থাপত্য এবং বিশেষ করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য দলিল। আজ আমরা কথা বলব নাড়াজোল (Narajole) নিয়ে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার এই ছোট্ট জনপদটি একসময় ছিল শিল্প, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের এক অন্যতম পীঠস্থান। তরুণ প্রজন্মের এবং ইতিহাস অনুসন্ধিৎসুদের জন্য নাড়াজোল রাজবংশের এই বিবর্তন জানা অত্যন্ত জরুরি। ১. নাড়াজোল রাজবংশের গোড়াপত্তন: ঘোষ থেকে খাঁ-উপাধি প্রাপ্তি নাড়াজোল রাজবংশের ইতিহাস প্রায় ৪৫০-৫০০ বছরের পুরনো। এই বংশের আদি পুরুষ ছিলেন উদয় নারায়ণ ঘোষ। লোককথা অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীতে তিনি এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তবে এই পরিবারের প্রতিপত্তি বাড়তে শুরু করে মুঘল আমলে। তৎকালীন বাংলার নবাবের দরবারে এই পরিবারের সদস্যরা বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। জানা যায়, তাঁদের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বীরত্বের পুরস্কার স্বরূপ নবাব তাঁদের ‘খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই থেকে এই রাজবংশ ‘নাড়াজোল রাজপরিবার’ বা ‘খাঁ পরিবার’ নামে পরিচিতি পায়। তাঁরা কেবল জমিদার ছিলেন না, বরং এই অঞ্চলের মানুষের কাছে রক্ষক এবং অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ২. স্থাপত্যের নন্দনকানন: নাড়াজোল রাজবাড়ি ও ‘জলহরি’ স্থাপত্যে আগ্রহ আছে এমন ছাত্রদের জন্য নাড়াজোল একটি খোলা জাদুঘর। নাড়াজোলের রাজকীয় স্থাপত্য কেবল বিলাসিতা নয়, বরং গভীর নান্দনিক বোধের পরিচয় দেয়। ক) নাড়াজোল রাজপ্রাসাদ Photo credit: CCAS 4. 0 via wikimedia. org এই রাজবাড়ির বিশালতা আজও দর্শকদের বিস্মিত করে। মূল প্রাসাদে প্রায় ৫০টিরও বেশি ঘর ছিল। বিশাল খিলানযুক্ত ফটক, নাটমন্দির এবং অন্দরমহলের নকশায় ইউরোপীয় ও ভারতীয় রীতির এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। যদিও সময়ের অবহেলায় অনেক অংশ আজ ভগ্নপ্রায়, তবুও এর দেওয়ালগুলো আজও রাজকীয় আভিজাত্যের সাক্ষ্য দেয়। খ) অনন্য ‘জলহরি’ (Water Palace) নাড়াজোলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর জলহরি। এটি মূলত একটি গ্রীষ্মকালীন আবাস বা প্রমোদ ভবন, যা একটি বিশাল পুকুরের মাঝখানে অবস্থিত। ভারতের খুব কম জায়গায় এমন ‘ওয়াটার প্যালেস’ দেখতে পাওয়া যায়। রাজপরিবারের সদস্যরা গরমের সময় এখানে সময় কাটাতেন। চারিদিকে জল থাকার কারণে ভবনটি প্রাকৃতিকভাবেই শীতল থাকত। স্থাপত্যের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই নির্মাণশৈলী গবেষণার বিষয় হতে পারে। গ) মন্দির ও রাসমঞ্চ চিত্র সৌজন্য নাড়াজোলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় মন্দির। এখানকার রাসমঞ্চটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। পোড়ামাটির বা টেরাকোটা কাজ না থাকলেও, এর কারুকার্যময় গম্বুজ এবং স্থাপত্যশৈলী ওড়িশি ও বঙ্গীয় রীতির সংমিশ্রণ। জয়দেব-কেশব মন্দিরের গায়ে খোদাই করা অলঙ্করণগুলো আজও সেই সময়ের শিল্পীদের নিপুণ হাতের পরিচয় বহন করে। আরও পড়ুন - তমলুক বা তাম্রলিপ্ত: হাজার বছরের ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড ৩. স্বাধীনতা সংগ্রাম ও নাড়াজোল: বিপ্লবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল একজন আদর্শ ইতিহাসপ্রেমী ছাত্রের জন্য নাড়াজোলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় হলো ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই রাজবংশের ভূমিকা। অনেক রাজপরিবার যখন ব্রিটিশদের পদলেহন করতে ব্যস্ত ছিল, নাড়াজোলের রাজারা তখন বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। চিত্র সৌজন্য রাজা নরেন্দ্রলাল খাঁ: এক নির্ভীক দেশপ্রেমিক নাড়াজোল রাজবংশের সবচেয়ে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন রাজা নরেন্দ্রলাল খাঁ। তিনি ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ (শ্রী অরবিন্দ), বারীন ঘোষ এবং হেমচন্দ্র কানুনগোর মতো চরমপন্থী বিপ্লবীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মেদিনীপুরের বিপ্লবী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই নাড়াজোল রাজবাড়ি। বিপ্লবীদের প্রশিক্ষণ: লোকচক্ষুর আড়ালে রাজবাড়ির ভেতরে বিপ্লবীদের শরীরচর্চা এবং অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ চলত। আর্থিক সহায়তা: তিনি কেবল আশ্রয়ই দেননি, বরং বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে প্রচুর অর্থ সাহায্য করতেন। অস্ত্র ও বোমা তৈরির সংযোগ: বিখ্যাত বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো যখন বোমা তৈরির কৌশল শিখতে প্যারিসে যান, তখন তাঁর যাত্রার পেছনেও এই রাজপরিবারের অবদান ছিল বলে মনে করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর পদার্পণ ১৯২৫ সালে স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী নাড়াজোল ভ্রমণে এসেছিলেন। রাজা নরেন্দ্রলাল খাঁ তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেন এবং স্বাধীনতা তহবিলে মুক্তহস্তে দান করেন। নাড়াজোলের রাজারা দেখিয়েছিলেন যে, রাজকীয় ঐশ্বর্যের চেয়েও দেশের মুক্তি অনেক বড়। ব্রিটিশ সরকার অনেকবার এই রাজপরিবারকে দমনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাঁদের দেশপ্রেম ছিল অটল। ৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান নাড়াজোল রাজপরিবার কেবল রাজনীতি বা স্থাপত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষা বিস্তারে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মেদিনীপুর জেলায় আধুনিক শিক্ষা প্রসারের জন্য তাঁরা অনেক স্কুল ও পাঠাগার স্থাপন করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে নারী শিক্ষার প্রসারেও তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। সঙ্গীত ও শিল্প: রাজবাড়িতে নিয়মিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর বসত। দেশ-বিদেশের গুণী শিল্পীরা এখানে এসে সমাদৃত হতেন। নাড়াজোলের নিজস্ব একটি সাংস্কৃতিক ঘরানা তৈরি হয়েছিল যা দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে। আরও পড়ুন - প্রাসাদ নগরী ধান্যকুড়িয়া: বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ এবং বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে ৫. নাড়াজোল রাজবাড়ি: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আজকের নাড়াজোল রাজবাড়ি আগের সেই জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজবাড়ির একটি অংশ বর্তমানে সরকারি কলেজের কাজে ব্যবহৃত হয়, যা ছাত্রছাত্রীদের ইতিহাসের খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দেয়। কেন আপনি নাড়াজোল ভ্রমণে যাবেন? ১. ইতিহাসের সান্নিধ্য: বইয়ের পাতায় পড়া স্বাধীনতা সংগ্রামের রোমাঞ্চ অনুভব করতে।২. ফটোগ্রাফি ও স্থাপত্য: জলহরি এবং প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্য ফ্রেমবন্দি করার জন্য।৩. অচেনা মেদিনীপুর: চেনা পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে বাংলার মাটির আসল গন্ধ পেতে। ৬. ভ্রমণের পরিকল্পনা: কীভাবে যাবেন? কলকাতা থেকে নাড়াজোল যাওয়া বেশ সহজ। এটি মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত। ট্রেনে: হাওড়া থেকে খড়গপুর বা মেদিনীপুরগামী ট্রেনে উঠে মেদিনীপুর স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে বাসে বা প্রাইভেট কারে নাড়াজোল পৌঁছানো যায়। সড়কপথে: কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ধরে ঘাটাল হয়ে নরাজোল যাওয়া যায়। ঘাটাল থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৫-২০ কিমি। উপসংহার নাড়াজোল কেবল একটি ধ্বংসাবশেষের সমাহার নয়, এটি বাংলার এক গর্বিত উত্তরাধিকার। রাজা নরেন্দ্রলাল খাঁর দেশপ্রেম আর জলহরির নীল জল আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের গ্রামবাংলার কোণায় কোণায় কত মণিমাণিক্য লুকিয়ে আছে। আজকের তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই ইতিহাসকে ভুলে না গিয়ে তাকে চর্চার মধ্যে রাখা। পরের বার যখন বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাববেন, নাড়াজোলকে আপনার তালিকার শীর্ষে রাখুন। কারণ, যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারে না। আপনার মতামত জানান: আপনি কি আগে কখনও নাড়াজোল বা মেদিনীপুরের কোনো রাজবাড়ি ঘুরে দেখেছেন? সেখানকার কোন স্মৃতিটি আপনার সবচেয়ে প্রিয়? কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আর এই পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না! --- > পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি - বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। তাই শীতে আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে। - Published: 2026-01-06 - Modified: 2026-01-06 - URL: https://www.sabjanta.info/peyajkoli-posto-recipe/ পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি - বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। তাই শীতে আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে। শীতের আমেজ শুরু হতেই বাঙালির রান্নাঘরে যে সবজিটি সবচেয়ে বেশি সমাদর পায়, তা হলো পেঁয়াজকলি। আর বাঙালির প্রিয় 'পোস্ত' যখন এই পেঁয়াজকলির সাথে মিশে যায়, তখন তৈরি হয় এক অনন্য স্বাদ। আজকের ব্লগে আমরা শিখব কীভাবে খুব সহজে ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় পেঁয়াজকলি পোস্ত (Peyajkoli Posto)। নিচে ধাপে ধাপে রেসিপিটি আলোচনা করা হলো যা আপনার দুপুরের গরম ভাতের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দেবে। শীতের দুপুরে সেরা স্বাদ: পেঁয়াজকলি পোস্ত রেসিপি বাঙালি রান্নায় পোস্ত মানেই এক রাজকীয় ব্যাপার। বিশেষ করে নিরামিষ দিনে এই পদের কোনো তুলনা হয় না। পেঁয়াজকলির নিজস্ব একটা মিষ্টি স্বাদ আছে, যা পোস্তর সাথে মিলেমিশে অসাধারণ হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন - ভেজিটেবিল চপ রেসিপি, বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু চপ বানান প্রয়োজনীয় উপকরণ পেঁয়াজকলি পোস্ত তৈরির জন্য খুব সামান্য কিছু উপাদানের প্রয়োজন হয়: পেঁয়াজকলি: ২৫০ গ্রাম (ছোট ছোট টুকরো করে কাটা) আলু: ২ টি মাঝারি সাইজের (লম্বা বা ডুমো করে কাটা) পোস্ত বাটা: ৩-৪ টেবিল চামচ কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪ টি (ঝাল অনুযায়ী) কালো জিরে: ১/২ চা চামচ (ফোড়নের জন্য) সরষের তেল: ৩ টেবিল চামচ (রান্নার আসল স্বাদ পেতে) হলুদ গুঁড়ো: সামান্য (ঐচ্ছিক) নুন ও চিনি: স্বাদমতো তৈরির পদ্ধতি (ধাপে ধাপে) ১. পোস্ত তৈরি:প্রথমে পোস্ত দানাগুলো ১০-১৫ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ৩-৪টি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। (শিল নোড়ায় বাটলে স্বাদ বেশি ভালো হয়, তবে মিক্সিতেও করা যাবে)। ২. ফোড়ন ও আলু ভাজা:কড়াইতে সরষের তেল গরম করুন। তেল থেকে ধোঁয়া উঠলে তাতে কালো জিরে ও চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। এবার আলুগুলো দিয়ে হালকা নুন ও সামান্য হলুদ দিয়ে অল্প ভাজুন। ৩. পেঁয়াজকলি মেশানো:আলুগুলো আধভাজা হয়ে এলে তাতে কেটে রাখা পেঁয়াজকলিগুলো দিয়ে দিন। সবজিগুলো মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করুন। খেয়াল রাখবেন যেন পেঁয়াজকলি অতিরিক্ত নরম না হয়ে যায়, এতে এর স্বাদ নষ্ট হতে পারে। ৪. পোস্ত বাটা যোগ করা:সবজিগুলো মজে এলে তাতে বেটে রাখা পোস্ত দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন এবং এক চিমটি চিনি (স্বাদের ভারসাম্যের জন্য) যোগ করুন। পোস্তর বাটি ধোয়া সামান্য জল দিতে পারেন। ৫. কষানো ও রান্না শেষ করা:আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে ২-৩ মিনিট রান্না হতে দিন যাতে পোস্তর কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং সবজিগুলো সুসিদ্ধ হয়। সবশেষে ওপর থেকে এক চামচ কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিন। এটি পোস্তর স্বাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। আরও পড়ুন - ধনেপাতার বড়া রেসিপি, চট-জলদি বাড়িতে বানান সোনালী মুচমুচে ভাজা কিছু জরুরি টিপস (Pro-Tips) অল্প হলুদ: পোস্ত রান্নায় খুব বেশি হলুদ ব্যবহার করবেন না, এতে পোস্তর আসল সাদাটে রঙ এবং গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। আঁচ নিয়ন্ত্রণ: পোস্ত দেওয়ার পর খুব বেশি কষাবেন না, এতে পোস্ত তিতকুটে হয়ে যেতে পারে। কাঁচা সরষের তেল: নামানোর আগে কাঁচা সরষের তেল দিতে ভুলবেন না, এটাই হলো খাঁটি বাঙালি পোস্ত রান্নার আসল সিক্রেট। পরিবেশন গরম ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত আর মুসুর ডাল—সাথে যদি থাকে এই পেঁয়াজকলি পোস্ত, তবে দুপুরের খাওয়াটা একেবারে জমে যাবে। আপনি চাইলে এটি রুটির সাথেও ট্রাই করতে পারেন। আপনার বাড়িতে পেঁয়াজকলি পোস্ত কীভাবে রান্না করেন? কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না! ব্যবহৃত চিত্র - সৌজন্য --- > মায়ানমারের নৈতিক গল্প অনুপ্রেরণামূলক লোককথা যেখানে লোভ, করুণা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে সহজ ভাষায়। - Published: 2026-01-05 - Modified: 2026-01-05 - URL: https://www.sabjanta.info/myanmar-folktale-with-moral-in-bengali/ মায়ানমারের নৈতিক গল্প অনুপ্রেরণামূলক লোককথা যেখানে লোভ, করুণা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে সহজ ভাষায়। ছবি সৌজন্যে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মায়ানমারের নৈতিক গল্প - 'মিন কো ও জেড পাথর' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে তাকালে মায়ানমারকে অনেকেই শুধু আরেকটা প্রতিবেশী দেশ হিসেবেই দেখেন। কিন্তু একটু গভীরে গেলে বোঝা যায়—এই দেশটা শুধু পাহাড়, নদী আর স্বর্ণমন্দিরে ভরা নয়, বরং হাজার বছরের পুরনো লোককথা, বৌদ্ধ দর্শন আর মানুষের সহজ-সরল জীবনবোধে ভরপুর। আজকের গল্পটা ঠিক তেমনই এক মায়ানমারের গ্রাম থেকে উঠে আসা—একটা ছোট্ট গল্প, যার মধ্যে লুকিয়ে আছে বড় নৈতিক শিক্ষা। মায়ানমারের গ্রাম ‘থান্দাউ’ আর তার মানুষ মায়ানমারের উত্তর দিকের এক পাহাড়ঘেরা ছোট গ্রাম—নাম থান্দাউ। আধুনিক শহরের কোলাহল সেখানে পৌঁছায়নি। বিদ্যুৎ আসে মাঝে মাঝে, ইন্টারনেট তো দূরের কথা। কিন্তু মানুষগুলো? তারা প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে মাঠে যায়, সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দিরে প্রদীপ জ্বালায়। এই গ্রামেই থাকত এক যুবক—নাম মিন কো। মিন কো খুব দরিদ্র ছিল না, আবার খুব সচ্ছলও না। বাবা ছিলেন কাঠুরে, মা বুনতেন কাপড়। ছোটবেলা থেকেই মিন কো শুনে এসেছে— “অল্পে তুষ্ট থাকাই সবচেয়ে বড় ধন।” কিন্তু বড় হতে হতে মিন কো’র মন বদলাতে শুরু করল। আরও পড়ুন - বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প: অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা লোভের বীজ যেভাবে জন্ম নেয় একদিন মিন কো পাশের শহরে গিয়েছিল চাল বিক্রি করতে। সেখানে সে প্রথমবার দেখল ধনী ব্যবসায়ীদের—ভালো পোশাক, বড় বাড়ি, অনেক লোকের সম্মান। সেদিন বাড়ি ফিরে সে বাবাকে বলল “আমরা সারাজীবন এভাবে কেন থাকব? পাহাড় কাটব, কাঠ বয়ে আনব, তবুও কিছু বদলাবে না? ” বাবা শান্ত গলায় উত্তর দিয়েছিলেন “সব বদল চাওয়া খারাপ নয়, কিন্তু লোভ চোখ অন্ধ করে দেয়।” মিন কো তখন সে কথা বুঝতে পারেনি। রহস্যময় বনের কথা গ্রামের পাশেই ছিল এক গভীর বন। বয়স্করা বলত, ওই বনে এক বিশেষ জেড পাথর (মূল্যবান পাথর) আছে। কিন্তু সেই পাথর নাকি শুধু তাদেরই হাতে আসে, যাদের মন পরিষ্কার। গ্রামের কেউ কখনও সেই পাথর আনতে পারেনি। লোভে পড়ে মিন কো ভাবল— “যদি আমি ওই পাথর পেয়ে যাই, তাহলে আর দরিদ্র থাকতে হবে না।” নিষেধ অমান্য করে বনে প্রবেশ মায়ানমারের লোকসংস্কৃতিতে বড়দের কথা অমান্য করা খুব বড় অপরাধ। তবুও এক ভোরবেলা মিন কো চুপিচুপি বনে ঢুকে পড়ল। বনটা অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল। পাখির ডাক নেই, বাতাসও যেন থমকে আছে। হঠাৎ সে দেখতে পেল—এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী, রাস্তার পাশে বসে আছেন। সন্ন্যাসীর প্রশ্ন সন্ন্যাসী মিন কোকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন “তুমি কী খুঁজছো, ছেলে? ” মিন কো কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলল “আমি... আমি সৌভাগ্য খুঁজছি।” সন্ন্যাসী মুচকি হেসে বললেন “সৌভাগ্য পাথরে নয়, মনে থাকে।” এই কথা শুনে মিন কো বিরক্ত হল। সে ভাবল, বৃদ্ধ কিছুই জানেন না। আরও পড়ুন - তিন রাজকুমার ও রাজকুমারী নওরোন্নিহার: 1001 আরব্য রজনীর গল্প জেড পাথরের দেখা বনের গভীরে ঢুকে হঠাৎ মিন কো সত্যিই একটি উজ্জ্বল সবুজ পাথর দেখতে পেল। আলো পড়তেই সেটি চকচক করছিল। তার চোখে তখন আর কিছুই নেই—না বাবা-মা, না গ্রামের মানুষ, না সন্ন্যাসীর কথা। সে পাথর তুলতে যেতেই — পা পিছলে পড়ে গেল খাদে। করুণার শক্তি চোখ খুলে মিন কো দেখল—সে বেঁচে আছে। সেই সন্ন্যাসী তাকে ধরে রেখেছেন। সন্ন্যাসী বললেন “লোভ তোমাকে ফেলেছিল, করুণা তোমাকে বাঁচাল।” মিন কো তখন কাঁদতে শুরু করল। জীবনে প্রথমবার সে বুঝল—সব পাওয়া মানেই সুখ নয়। সত্যিকারের সম্পদ কী? সন্ন্যাসী তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বললেন “যেদিন তুমি অন্যের জন্য ভাববে, সেদিনই তুমি ধনী হবে।” মিন কো গ্রামে ফিরে এল। সে আর কখনও বনে যায়নি পাথরের জন্য। বরং সে বাবার কাজে সাহায্য করতে লাগল, গ্রামের বাচ্চাদের পড়াতে শুরু করল। অদ্ভুতভাবে, কিছুদিনের মধ্যেই তার জীবনে সম্মান আর শান্তি—দুটোই ফিরে এলো। গল্পের নৈতিক শিক্ষা (Moral of the Story) এই মায়ানমারের গল্প আমাদের শেখায়— লোভ মানুষের চোখ ঢেকে দেয় করুণা ও সহানুভূতি জীবন বাঁচায় প্রকৃত সম্পদ অর্থ নয়, মনুষ্যত্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মানুষকে শিকড়ের কথা মনে করায় কেন এই গল্প আজকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? আজকের দিনে আমরা সবাই দ্রুত সফল হতে চাই। সোশ্যাল মিডিয়া, তুলনা, চাপ—সব মিলিয়ে লোভ খুব সহজেই জন্মায়। এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়— “নিজেকে হারিয়ে সফল হওয়া আসলে পরাজয়।” উপসংহার মায়ানমারের এই লোককথা শুধু একটি গল্প নয়, এটি একটি আয়না। যেখানে আমরা নিজেদের দেখতে পাই। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য শুধু অতীত নয়—সেগুলো আজও আমাদের পথ দেখায়। যদি আমরা একটু থেমে শুনি, তাহলে এই গল্পগুলোই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক হয়ে ওঠে। এই গল্পটি মায়ানমারের লোকসংস্কৃতি ও বৌদ্ধ নৈতিক দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত একটি আধুনিক রূপান্তর। --- > ওয়াকিং পাম: এক বিস্ময়কর উদ্ভিদ, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের গভীর অরণ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই পামগাছ ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান বদলাতে সক্ষম। - Published: 2026-01-01 - Modified: 2026-01-01 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a7%8d/ ওয়াকিং পাম: এক বিস্ময়কর উদ্ভিদ, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের গভীর অরণ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই পামগাছ ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান বদলাতে সক্ষম। চিত্র সৌজন্য কল্পনা করুন, আপনি আমাজনের গহন জঙ্গলে ক্যাম্পিং করছেন। রাতে যে গাছটিকে আপনার তাঁবুর ঠিক পাশে দেখেছিলেন, সকালে উঠে দেখলেন সেটি কয়েক ইঞ্চি সরে গেছে! শুনতে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও, প্রকৃতিতে এমন এক অদ্ভুত গাছ রয়েছে যাকে বলা হয় 'ওয়াকিং পাম' (Walking Palm) বা চলন্ত তালগাছ। প্রকৃতির এই বিচিত্র সৃষ্টি নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। আজ আমরা জানব এই ওয়াকিং পাম আসলে কী, এটি কীভাবে 'হাঁটে' এবং কেন এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে এত জনপ্রিয় একটি আলোচনার বিষয়। ওয়াকিং পাম কী? (What is the Walking Palm? ) ওয়াকিং পাম, যার বৈজ্ঞানিক নাম Socratea exorrhiza, মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টের (বিশেষ করে আমাজন) একটি পাম গাছ। সাধারণ গাছের শিকড় যেখানে মাটির গভীরে লুকানো থাকে, এই গাছের শিকড়গুলো থাকে মাটির উপরে, অনেকটা মাকড়সার পায়ের মতো। এই অদ্ভুত শিকড় বিন্যাসের কারণেই একে নিয়ে এত জল্পনা-কল্পনা। এক নজরে ওয়াকিং পাম: বৈজ্ঞানিক নাম: Socratea exorrhiza আবাসস্থল: আমাজন রেইনফরেস্ট, কোস্টারিকা, পানামা। উচ্চতা: সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ মিটার। প্রধান বৈশিষ্ট্য: মাটির উপরে থাকা 'স্টিল্ট রুট' (Stilt Roots)। আরও পড়ুন - ‘ঘুমের গ্রাম’ কালাচি, কজাখস্থানের এক অমীমাংসিত রহস্য এই গাছ কি সত্যিই হাঁটতে পারে? (The Mystery of Movement) তরুণ অভিযাত্রী এবং বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এটি কি সত্যিই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হেঁটে যায়? জনপ্রিয় লোককথা এবং কিছু গাইডদের মতে, এই গাছটি সূর্যালোক পাওয়ার আশায় বছরে প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তাদের দাবি, গাছটি যেদিকে যেতে চায় সেদিকে নতুন শিকড় গজায় এবং পেছনের পুরনো শিকড়গুলো পচে গিয়ে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে গাছটি ধীরে ধীরে সরে যায়। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা (The Scientific Truth) জীববিজ্ঞানী জেরার্ডো আভালোস (Gerardo Avalos) ২০০৫ সালে একটি বিস্তারিত গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, ওয়াকিং পাম আসলে আক্ষরিক অর্থে 'হাঁটে' না। তবে কেন একে ওয়াকিং পাম বলা হয়? ১. শিকড়ের পরিবর্তন: এটি নতুন শিকড় তৈরি করে নিজেকে স্থিতিশীল করে।২. সূর্যের সন্ধান: ঘন জঙ্গলে আলোর অভাব মেটাতে এই গাছটি কিছুটা হেলে যেতে পারে এবং নতুন শিকড়ের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখে।৩. ভুল ধারণা: পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক সময় গাইডরা একে 'চলন্ত গাছ' হিসেবে প্রচার করেন। তবে এটি স্থির থাকলেও এর শিকড়ের গঠন একে চলন্ত মনে করতে বাধ্য করে। কেন এই অদ্ভুত শিকড়? (Why Stilt Roots? ) ওয়াকিং পামের এই অদ্ভুত শিকড় ব্যবস্থার পেছনে প্রকৃতির দারুণ কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করে: স্থায়িত্ব: রেইনফরেস্টের মাটি প্রায়ই কর্দমাক্ত এবং নরম থাকে। লম্বা এই গাছটি যাতে ঝড়ে পড়ে না যায়, তাই এই শিকড়গুলো ট্রাইপডের মতো কাজ করে। দ্রুত বৃদ্ধি: কাণ্ড মোটা করার পেছনে শক্তি ব্যয় না করে, এই শিকড়গুলোর সাহায্যে গাছটি দ্রুত লম্বা হয়ে বনের চাঁদোয়া (Canopy) ভেদ করে সূর্যের আলোয় পৌঁছাতে পারে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বনের মেঝেতে জমে থাকা পচা পাতা বা ডালপালার স্তূপের মধ্যেও এই শিকড়গুলো গাছকে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ওয়াকিং পামের জীবনদর্শন চিত্র সৌজন্য আমরা যারা বর্তমান যুগের তরুণ, যারা ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত জীবনে সবসময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের জন্য এই রহস্যময় গাছ, ওয়াকিং পাম, হতে পারে এক বড় অনুপ্রেরণা। অভিযোজন (Adaptability): পরিবেশ প্রতিকূল হলে ওয়াকিং পাম যেমন তার শিকড় বদলে নিজেকে মানিয়ে নেয়, আমাদেরও উচিত জীবনের কঠিন সময়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করে টিকে থাকা। আলোর দিকে যাত্রা: গাছটি যেমন অন্ধকারের মাঝেও সূর্যের আলোর সন্ধানে উন্মুখ থাকে, আমাদের লক্ষ্যও হওয়া উচিত সবসময় ইতিবাচকতার দিকে এগিয়ে যাওয়া। ভিত্তি মজবুত রাখা: হাজারো ঝড়-ঝাপটায় ওয়াকিং পাম পড়ে যায় না তার বহুমুখী শিকড় বিন্যাসের কারণে। আমাদেরও জীবনের ভিত্তি বা স্কিলসেট বহুমুখী করা জরুরি। আমাজন রেইনফরেস্ট ও পরিবেশ সংকট ওয়াকিং পামের মতো বিস্ময়কর প্রাণ আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাজনের বন উজাড়ের কারণে এই গাছগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। "প্রকৃতি যখন তার রহস্য হারায়, তখন পৃথিবী তার সৌন্দর্য হারায়।" তরুণ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হওয়া। ইকো-ট্যুরিজম বা প্রকৃতি ভ্রমণের সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন এই বিরল বাস্তুসংস্থানের কোনো ক্ষতি না হয়। আরও পড়ুন - গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু, যুব অনুপ্রেরণার এক আলোকবর্তিকা ওয়াকিং পাম নিয়ে কিছু মজার তথ্য (Fun Facts) বৈশিষ্ট্যতথ্যআয়ুসঠিক যত্ন ও পরিবেশে এটি অনেক বছর বেঁচে থাকে।ব্যবহারআদিবাসীরা এর শক্ত শিকড় মাছ ধরার বর্শা হিসেবে ব্যবহার করত।ভুল নামএকে অনেক সময় 'Cashapona' নামেও ডাকা হয়।ফলএর ছোট ছোট ফল বনের পাখিদের প্রিয় খাদ্য। প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) ১. ওয়াকিং পাম কি বাড়িতে লাগানো সম্ভব? না, এটি মূলত ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টের গাছ। সাধারণ বাগানে বা টবে এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শিকড় গঠন সম্ভব নয়। ২. এটি কি মানুষের কোনো ক্ষতি করে? একেবারেই না। এটি সম্পূর্ণ নিরীহ একটি উদ্ভিদ এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ৩. সবচেয়ে বড় ওয়াকিং পাম কোথায় দেখা যায়? ইকুয়েডর এবং কোস্টারিকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিশাল আকৃতির ওয়াকিং পাম দেখা যায়। উপসংহার ওয়াকিং পাম আক্ষরিক অর্থে দৌড়ে বেড়াতে না পারলেও, এর টিকে থাকার কৌশল এবং অদ্ভুত শারীরিক গঠন একে প্রকৃতির অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমী হয়ে থাকেন, তবে আমাজনের এই 'চলন্ত বিস্ময়' আপনার বাকেট লিস্টে অবশ্যই থাকা উচিত। প্রকৃতির এই রহস্যগুলো আমাদের শেখায় যে, পৃথিবীতে এখনও অনেক কিছু জানার বাকি আছে। তাই কৌতূহলী হোন, প্রকৃতিকে ভালোবাসুন এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখুন। আপনি কি কখনও এমন কোনো অদ্ভুত গাছ দেখেছেন যা আপনাকে অবাক করেছে? কমেন্টে আমাদের জানান! --- > বর্ধমান রাজবংশের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং রাজকীয় জীবনধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। জেনে নিন পাঞ্জাব থেকে আসা এই পরিবারটি কীভাবে বাংলার অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশে পরিণত হলো। - Published: 2025-12-29 - Modified: 2025-12-29 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%82%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/ বর্ধমান রাজবংশের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং রাজকীয় জীবনধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। জেনে নিন পাঞ্জাব থেকে আসা এই পরিবারটি কীভাবে বাংলার অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশে পরিণত হলো। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের কথা উঠলে মুর্শিদাবাদ বা বিষ্ণুপুরের পাশাপাশি যে নামটি অত্যন্ত সগৌরবে উচ্চারিত হয়, তা হলো বর্ধমান। রাঢ় বাংলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জনপদটি দীর্ঘকাল ধরে শিল্প, স্থাপত্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশেষ করে বর্ধমান রাজবংশ বা Burdwan Raj-এর ইতিহাস কেবল একটি পরিবারের উত্থান-পতনের গল্প নয়, বরং এটি বাংলার কয়েকশ বছরের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দর্পণ। আজ আমরা পড়ুয়া ও ইতিহাসপ্রেমী সবার জন্য বর্ধমান রাজবংশের সেই সুবর্ণ অতীতকে তুলে ধরার চেষ্টা করব, যা আজও কার্জন গেট কিংবা ১০৮ শিব মন্দিরের দেওয়ালে দেওয়ালে কথা বলে। ১. রাজবংশের সূচনা: পাঞ্জাব থেকে রাঢ় বাংলা বর্ধমান রাজবংশের উৎস সন্ধানে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে সপ্তদশ শতাব্দীতে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রাজপরিবারের আদি পুরুষরা কিন্তু বাঙালি ছিলেন না। তারা ছিলেন পাঞ্জাবের লাহোরের কোটলি গ্রামের বাসিন্দা, জাতিতে কাপুর খত্রী। ১৬৫৭ সালে সঙ্গম রাই নামক এক বণিক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বর্ধমানে আসেন। পরবর্তীকালে তাঁর উত্তরসূরি আবু রাই মুঘল আমলে বর্ধমানের কোতোয়াল বা ফৌজদার হিসেবে নিযুক্ত হন। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সুনজরে থাকায় এই পরিবারের ক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৭০২ সালে কৃষ্ণরাম রাই-কে মুঘলরা 'জমিদার' এবং 'চৌধুরী' উপাধিতে ভূষিত করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ রাজকীয় যাত্রার। আরও পড়ুন - ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা, আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানযুগের নির্মাতা ২. মাহারাজাধিরাজ উপাধি এবং মুঘল সংযোগ বর্ধমান রাজাদের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন তাঁরা মাহারাজাধিরাজ উপাধি লাভ করেন। এটি কোনো সাধারণ জমিদারি ছিল না। ব্রিটিশ আমলের আগে পর্যন্ত বর্ধমান রাজারা ছিলেন এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী করদাতা। রাজা চিত্র সেন রাই প্রথম মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে 'রাজা' উপাধি পান। তবে এই বংশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মধ্যে একজন ছিলেন তিলকচাঁদ কাপুর। তাঁর সময়েই বর্ধমান রাজ এস্টেট এক বিশাল আকার ধারণ করে। মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে এবং মারাঠা বর্গী আক্রমণের সময় নিজেদের সুরক্ষিত রেখে তাঁরা বাংলার রাজনীতিতে এক অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হন। ৩. ব্রিটিশ যুগ এবং বর্ধমান রাজবংশ মহারাজ মহতাব চাঁদ - চিত্র সৌজন্য ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) চালু করেন, তখন অনেক পুরনো জমিদার বংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও বর্ধমান রাজ টিকে ছিল তাঁদের বিচক্ষণতার কারণে। মহারাজ মহতাব চাঁদ (১৮৩২ - ১৮৭৯) মহতাব চাঁদ ছিলেন এই বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় তিনি ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিলেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হলেও বর্ধমানকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দিয়েছিল। তাঁর সময়েই বর্ধমান রাজবাড়ির ব্যাপক সংস্কার হয় এবং রাজকীয় লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়। মহারাজ বিজয় চাঁদ মহতাব (১৮৮৭ - ১৯৪১) বর্ধমান রাজবংশের ইতিহাসে সবচেয়ে শিক্ষিত এবং সংস্কৃতিমনা রাজা ছিলেন বিজয় চাঁদ মহতাব। তিনি কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই ছিলেন না, বরং একাধারে কবি, নাট্যকার এবং সমাজসংস্কারক ছিলেন। ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জনের বর্ধমান আগমন উপলক্ষে তিনি নির্মাণ করেন ঐতিহাসিক কার্জন গেট (বিজয় তোরণ), যা আজও বর্ধমান শহরের প্রধান ল্যান্ডমার্ক। আরও পড়ুন - বিয়ার গ্রিলস: সাহসিকতার ওপর নাম, অনুপ্রেরণমূলক গল্প ৪. স্থাপত্যের বিস্ময়: রাজবাড়ি থেকে মন্দির বর্ধমান রাজাদের অবদান কেবল শাসনকার্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তাঁদের স্থাপত্যশৈলী আজও পর্যটকদের টানে। চিত্র সৌজন্য ক) ১০৮ শিব মন্দির (নবাবহাট) ১৭৮৮ সালে মহারানি বিষ্ণুকুমারী এই মন্দির গুচ্ছ নির্মাণ করেন। এটি জপমালার আদলে তৈরি। বাংলার আটচালা স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন এই ১০৮টি মন্দির। ইতিহাস ও স্থাপত্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি জীবন্ত গবেষণাগার। খ) কার্জন গেট ও রাজবাড়ি গ্রিক ও রোমান স্থাপত্যের মিশেলে তৈরি বর্ধমান রাজবাড়ি বা বিজয় মঞ্জিল এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। এর বিশাল থাম এবং কারুকার্যময় ফটক সেকালের আভিজাত্যের সাক্ষ্য দেয়। গ) সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমান রাজাদের কুলদেবী হলেন মা সর্বমঙ্গলা। জনশ্রুতি আছে, এই দেবীমূর্তি একসময় পুকুরের নিচে পাওয়া গিয়েছিল। রাজারা এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন, যা আজও জেলার অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। ৫. সংস্কৃতি ও খাদ্যতালিকায় বর্ধমান রাজের প্রভাব বর্ধমান মানেই বাঙালির প্রিয় মিষ্টি সীতাবোগ আর মিহিদানা। জানেন কি, এই দুই মিষ্টির উৎপত্তির পেছনেও রয়েছে রাজকীয় ইতিহাস? ১৯০৪ সালে বড়লাট লর্ড কার্জন বর্ধমানে এলে তাঁকে আপ্যায়ন করার জন্য মহারাজ বিজয় চাঁদ মহতাব ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগকে এক বিশেষ মিষ্টি তৈরির নির্দেশ দেন। ভৈরবচন্দ্র উদ্ভাবন করেন সীতাবোগ ও মিহিদানা। সেই থেকে এই দুই মিষ্টি বর্ধমানের সিগনেচার ডিশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বর্ধমানের রাজবাড়িতে উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং ধ্রুপদী চর্চার যে ঐতিহ্য ছিল, তা বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ৬. শিক্ষার প্রসারে বর্ধমান রাজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় - চিত্র সৌজন্যে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের জানা উচিত যে, আজ তাঁরা যে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (The University of Burdwan) পড়াশোনা করছেন, তার ভিত্তিভূমি কিন্তু এই রাজপরিবারই দান করেছিল। ১৯৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং শেষ মহারাজ উদয় চাঁদ মহতাব-এর বদান্যতায় রাজবাড়ির বিশাল অংশ এবং জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দান করা হয়। বর্ধমান রাজ কলেজও এই পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল। শিক্ষার প্রসারে এমন নিঃস্বার্থ অবদান ইতিহাসে বিরল। ৭. রাজবংশের শেষ অধ্যায় ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এবং ১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির ফলে বর্ধমান রাজের রাজনৈতিক ক্ষমতার অবসান ঘটে। শেষ মহারাজ উদয় চাঁদ মহতাব গণতান্ত্রিক ভারতের সাথে মানিয়ে নেন এবং তাঁর সম্পত্তি জনকল্যাণে উৎসর্গ করেন। বর্ধমান রাজবংশ আজ আর শাসকের আসনে নেই, কিন্তু তাঁদের তৈরি প্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং স্থাপত্যের মধ্য দিয়ে তাঁরা বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। উপসংহার: ছাত্রছাত্রীদের জন্য বর্ধমান রাজের গুরুত্ব ইতিহাস কেবল সাল-তারিখ মুখস্থ করার বিষয় নয়, এটি আমাদের শিকড়কে চেনার উপায়। বর্ধমান রাজবংশের ইতিহাস আমাদের শেখায় কীভাবে ভিনদেশি থেকে ভূমিপুত্রে পরিণত হওয়া যায়, কীভাবে আভিজাত্যের সাথে জনকল্যাণকে মেলাতে হয়। পড়ুয়াদের জন্য বর্ধমান কেবল একটি জেলা শহর নয়, এটি একটি জীবন্ত আর্কাইভ। এখানকার প্রতিটি গলি, প্রতিটি প্রাচীন মন্দির আর রাজবাড়ির ভাঙা ইঁট এক একটি গল্প বলে। আপনারা যখন কার্জন গেটের নিচ দিয়ে হাঁটবেন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্লাস করবেন, একবার অন্তত ভাববেন সেই ইতিহাসের কথা, যা আজ থেকে ৩০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল। জিজ্ঞাস্য (FAQs) বর্ধমান রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? মূলত সঙ্গম রাই এই পরিবারের ভিত্তি স্থাপন করলেও, কৃষ্ণরাম রাই প্রথম মুঘলদের কাছ থেকে স্বীকৃত জমিদারি লাভ করেন।কার্জন গেট কেন তৈরি করা হয়েছিল? ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জনের বর্ধমান সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মহারাজ বিজয় চাঁদ মহতাব এটি নির্মাণ করেছিলেন।বর্ধমান রাজবাড়ির বর্তমান অবস্থা কী? বর্তমানে বর্ধমান রাজবাড়ির মূল অংশটি 'বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়'-এর প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।সীতাভোগ ও মিহিদানা কোন রাজার আমলে বিখ্যাত হয়? মহারাজ বিজয় চাঁদ মহতাবের আমলে লর্ড কার্জনকে আপ্যায়নের মাধ্যমে এই মিষ্টি দুটি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পায়। আপনি কি বর্ধমানের রাজবাড়ি বা ১০৮ শিব মন্দির ভ্রমণ করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে আমাদের জানান! ইতিহাসের এমন আরও রোমাঞ্চকর গল্প পড়তে আমাদের ব্লগে সাবস্ক্রাইব করুন। --- > হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রানী লিলিওকালানি তাঁর আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল। - Published: 2025-12-28 - Modified: 2025-12-28 - URL: https://www.sabjanta.info/liliuokalani-hawaii-last-queen-life-story/ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রানী লিলিওকালানি তাঁর আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল। চিত্র সৌজন্য হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে নীল সমুদ্র, সার্ফিং আর পর্যটনের এক স্বর্গরাজ্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াই, আত্মত্যাগ এবং এক মহীয়সী নারীর গল্প। তিনি হলেন রানী লিলিওকালানি (Queen Liliʻuokalani)—হাওয়াই সাম্রাজ্যের শেষ সার্বভৌম শাসক। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব প্রশান্ত মহাসাগরের এই অদম্য নেত্রীর জীবন, তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের: রানী লিলিওকালানি হাওয়াইয়ের ইতিহাসে রানী লিলিওকালানি কেবল একজন শাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সুরকার, লেখক এবং তাঁর জাতির অধিকার রক্ষার প্রধান কণ্ঠস্বর। ১৮৯১ সালে তিনি যখন সিংহাসনে বসেন, তখন হাওয়াই এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। একদিকে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক আধিপত্য, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর দেশের স্বাধীনতা রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। ১. প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা ১৮৩৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর হনুলুলুতে লিলিুওকালানি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব নাম ছিল লিডিয়া কামাকায়েহা (Lydia Kamakaʻeha)। তিনি রাজকীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর পরিবার ছিল হাওয়াইয়ের ঐতিহ্যের ধারক। শিক্ষা: তিনি 'রয়্যাল স্কুল'-এ পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন। সঙ্গীত প্রতিভা: ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। তিনি শত শত গান রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত 'আলোহা ও' (Aloha ʻOe) অন্যতম। ২. সিংহাসনে আরোহণ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি ১৮৯১ সালে তাঁর ভাই রাজা কালাকাউয়ার (King Kalākaua) মৃত্যুর পর লিলিুওকালানি হাওয়াইয়ের সিংহাসনে বসেন। কিন্তু তাঁর জন্য পরিস্থিতি মোটেও সহজ ছিল না। ১৮৮৭ সালে তাঁর ভাইয়ের শাসনকালে 'বেয়নেট কনস্টিটিউশন' (Bayonet Constitution) নামক একটি সংবিধান বলপ্রয়োগ করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সংবিধানের ফলে: রাজার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ভোটাধিকার কেবল ধনী ইউরোপীয় এবং আমেরিকান বংশোদ্ভূত জমি মালিকদের হাতে চলে যায়। স্থানীয় হাওয়াইয়ানরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার হারায়। সিংহাসনে বসার পর লিলিওকালানির প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা, যা জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে। আরও পড়ুন - রানাভালোনা তৃতীয়: স্বাধীনতার প্রতীক এক রাণীর অনুপ্রেরণাময় জীবনকাহিনী ৩. ১৮৯৩ সালের অভ্যুত্থান: ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা রানী যখন নতুন সংবিধান আনার চেষ্টা করেন, তখন হাওয়াইয়ে অবস্থানরত আমেরিকান চিনি ব্যবসায়ী এবং বাগান মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জানতেন, রানীর ক্ষমতা বাড়লে তাদের একচ্ছত্র বাণিজ্যিক আধিপত্য এবং শুল্কমুক্ত ব্যবসার সুবিধা হুমকির মুখে পড়বে। ১৮৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে 'কমিটি অফ সেফটি' নামে একটি গোষ্ঠী মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় রানীকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়। কোনো রক্তপাত এড়াতে এবং তাঁর জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে রানী সাময়িকভাবে ক্ষমতা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে, মার্কিন সরকার (তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড) তদন্ত করে তাঁকে তাঁর ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। ৪. বন্দী জীবন এবং 'আলোহা ও' চিত্র সৌজন্য ১৮৯৫ সালে রানীর অনুগতরা একটি পাল্টা বিদ্রোহের চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়। এই অজুহাতে রানীকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁকে ইওলানি প্যালেসের (Iolani Palace) একটি ছোট ঘরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। বন্দী থাকাকালীন তাঁর কর্মকাণ্ড: তিনি তাঁর আত্মজীবনী 'Hawaii's Story by Hawaii's Queen' লিখতে শুরু করেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত গানগুলো সংকলিত করেন। তিনি একটি কাপড় বুনেছিলেন (Quilt), যাতে হাওয়াইয়ের ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা সেলাই করা ছিল। এটি আজও ইতিহাসের এক অনন্য দলিল হিসেবে সংরক্ষিত। ৫. হাওয়াইয়ের অন্তর্ভুক্তি (Annexation) রাষ্ট্রপতি ক্লিভল্যান্ড রানীর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকলেও মার্কিন কংগ্রেস এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম ম্যাককিনলে হাওয়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের সময় হাওয়াইয়ের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বীপপুঞ্জটিকে দখল করে নেয়। রানী লিলিুওকালানি ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে প্রতিবাদ জানালেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে তাঁর আবেদন ব্যর্থ হয়। ৬. রানী লিলিওকালানির ঐতিহাসিক অবদান: এক নজরে বিষয়অবদান/গুরুত্বরাজনৈতিক চেতনাস্থানীয় হাওয়াইয়ানদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন লড়াই।সাহিত্য'Hawaii's Story by Hawaii's Queen' গ্রন্থের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।সঙ্গীত'Aloha ʻOe' সহ ১৬০টিরও বেশি গান রচনা।ট্রাস্ট গঠনঅনাথ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য 'Liliʻuokalani Trust' প্রতিষ্ঠা। আরও পড়ুন - ছোটদের নৈতিক শিক্ষামুলক ৮ টি মজার গল্প ৭. শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় দিক রানী লিলিুওকালানির জীবন থেকে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ: তিনি অস্ত্র হাতে তুলে না নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা: রাজনৈতিক পরাজয় সত্ত্বেও তিনি তাঁর দেশের গান, ভাষা এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করে গেছেন। নারীর নেতৃত্ব: উনবিংশ শতাব্দীতে একজন নারী হিসেবে তিনি যেভাবে পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তা আজও অনুপ্রেরণাদায়ক। ৮. শেষ জীবন ও মৃত্যু রানী তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ১৯১৭ সালের ১১ নভেম্বর ৭৯ বছর বয়সে এই মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে পুরো হাওয়াই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। যদিও তিনি তাঁর রাজ্য ফিরে পাননি, কিন্তু তিনি হাওয়াইয়ের মানুষের হৃদয়ে 'চিরস্থায়ী রানী' হয়ে আছেন। উপসংহার রানী লিলিওকালানি কেবল হাওয়াইয়ের শেষ রানী ছিলেন না; তিনি ছিলেন ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে এক নৈতিক শক্তির প্রতীক। তাঁর লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, নিজের আদর্শ এবং জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থাকাই প্রকৃত বীরত্ব। আজকের আধুনিক হাওয়াই যখন তাদের আদি সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করে, তখন তার মূলে রয়েছে লিলিওকালানির ত্যাগ। আপনি কি জানেন? ১৯৯৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি প্রস্তাব (Apology Resolution) পাস করে, যেখানে ১৮৯৩ সালের সেই অনৈতিক অভ্যুত্থানের জন্য হাওয়াইয়ের আদিবাসীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া হয়। --- > রানাভালোনা তৃতীয় ছিলেন মাদাগাস্কারের শেষ স্বাধীন রাণী। দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার প্রতি অটল ভালোবাসা তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছেন। - Published: 2025-12-24 - Modified: 2025-12-24 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc/ রানাভালোনা তৃতীয় ছিলেন মাদাগাস্কারের শেষ স্বাধীন রাণী। দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার প্রতি অটল ভালোবাসা তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছেন। চিত্র সৌজন্য ইতিহাস মানে শুধু তারিখ আর যুদ্ধের গল্প নয়—ইতিহাস মানে মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। এমনই এক অনন্য ইতিহাসের চরিত্র হলেন রানাভালোনা তৃতীয় (Ranavalona III), মাদাগাস্কারের শেষ রাণী। তিনি এমন এক সময়ে সিংহাসনে বসেছিলেন, যখন ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ আফ্রিকা ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলিকে গ্রাস করছিল। তাঁর শাসনকাল ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাঁর দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার প্রতি অটল ভালোবাসা আজও শিক্ষার্থীদের জন্য এক গভীর অনুপ্রেরণা। এই প্রবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় জানব—রানাভালোনা তৃতীয় কে ছিলেন, কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ, আর কীভাবে তিনি পরাধীনতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে নিজের দেশের মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। শৈশব ও পারিবারিক পটভূমি রানাভালোনা তৃতীয় জন্মগ্রহণ করেন ২২ নভেম্বর, ১৮৬১ সালে। তাঁর আসল নাম ছিল রাযাফিন্দ্রাহেতি (Razafindrahety)। তিনি মেরিনা রাজবংশের একজন সদস্য ছিলেন, যে রাজবংশ বহু বছর ধরে মাদাগাস্কারের কেন্দ্রীয় অংশ শাসন করত। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজকীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং দেশ পরিচালনা, কূটনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর শিক্ষায় ইউরোপীয় প্রভাব ছিল, কিন্তু মননে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ মাদাগাস্কারীয়। এই দ্বৈত শিক্ষাই পরবর্তীকালে তাঁকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আলোচনায় দক্ষ করে তোলে, আবার নিজের দেশের ঐতিহ্য রক্ষায়ও দৃঢ় করে। আরও পড়ুন - রাজা চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা): ঔপনিবেশিকতাকে হারিয়ে থাইল্যান্ডকে আধুনিক করেন সিংহাসনে আরোহণ: এক কঠিন সময়ের শুরু ১৮৮৩ সালে, মাত্র বাইশ বছর বয়সে তিনি মাদাগাস্কারের রাণী হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু এই রাজত্ব কোনো স্বস্তির ছিল না। ফ্রান্স তখন মাদাগাস্কারকে উপনিবেশে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। একদিকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ফরাসি সেনাবাহিনী, অন্যদিকে একটি স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্র—সংঘর্ষ অনিবার্য ছিল। রানাভালোনা তৃতীয় বুঝতে পেরেছিলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চেষ্টা করেছিলেন আলোচনার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে। দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রতি অটল বিশ্বাস রানাভালোনা তৃতীয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক। ফরাসি চাপে পড়েও তিনি সহজে আত্মসমর্পণ করেননি। তিনি একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হলেও, অন্তরে তিনি কখনোই মাদাগাস্কারকে ফরাসি উপনিবেশ হিসেবে মেনে নেননি। তিনি প্রায়ই বলতেন, “একটি জাতির আত্মা কেড়ে নেওয়া মানে শুধু ভূমি দখল নয়—এ তার সম্মান কেড়ে নেওয়া।” এই চিন্তাভাবনাই তাঁকে আজও একজন অনুপ্রেরণাময় নেত্রী হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে। ফরাসি উপনিবেশবাদ ও রাজ্যের পতন ১৮৯৫ সালে ফরাসি বাহিনী আন্টানানারিভো (রাজধানী) দখল করে নেয়। পরের বছর, ১৮৯৬ সালে, মাদাগাস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয়। রানাভালোনা তৃতীয়কে সিংহাসনচ্যুত করা হয়। এটি ছিল শুধু একজন রাণীর পতন নয়—এটি ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদায় আঘাত। আরও পড়ুন - দীঘার ইতিহাস: অজানা ‘বীরকুল’ থেকে প্রাচ্যের ‘ব্রাইটন’ হয়ে ওঠা নির্বাসিত জীবন: তবু অটুট আত্মসম্মান মাদাগাস্কারের রাণী - রানাভালোনা তৃতীয় সিংহাসন হারানোর পর রানাভালোনা তৃতীয়কে প্রথমে রিইউনিয়ন দ্বীপে এবং পরে আলজেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। তিনি আর কখনো নিজের প্রিয় মাতৃভূমি মাদাগাস্কারে ফিরে যেতে পারেননি। তবু নির্বাসিত জীবনেও তিনি নিজের পরিচয় ভুলে যাননি। তিনি নিজেকে সবসময় “মাদাগাস্কারের রাণী” হিসেবেই পরিচয় দিতেন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে—ক্ষমতা চলে যেতে পারে, কিন্তু আত্মসম্মান নয়। মৃত্যু ও উত্তরাধিকার রানাভালোনা তৃতীয় ২৩ মে, ১৯১৭ সালে আলজেরিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর, ১৯৩৮ সালে তাঁর দেহাবশেষ মাদাগাস্কারে ফিরিয়ে আনা হয়। আজ তিনি শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নন, বরং মাদাগাস্কারের জাতীয় চেতনায় এক অমর নাম। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গল্প? রানাভালোনা তৃতীয়ের জীবন থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখতে পারে— দেশপ্রেম: নিজের দেশের জন্য ভালোবাসা কেমন হওয়া উচিত আত্মমর্যাদা: পরাজয়ের মধ্যেও কীভাবে সম্মান বজায় রাখতে হয় নারী নেতৃত্ব: কঠিন সময়ে একজন নারীও কীভাবে জাতির মুখ হতে পারেন স্বাধীনতার মূল্য: স্বাধীনতা সহজে আসে না, আর হারালে তার কষ্ট গভীর উপসংহার: ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষা এই শিক্ষাই একজন ভালো নাগরিক, সচেতন মানুষ এবং ভবিষ্যৎ নেতা গড়ে তোলে। রানাভালোনা তৃতীয়ের জীবন আমাদের শেখায়—স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক ধারণা নয়, এটি মানসিক শক্তির নাম। তিনি হয়তো যুদ্ধ জিততে পারেননি, কিন্তু তিনি জয় করেছিলেন ইতিহাসের সম্মান। আজকের শিক্ষার্থীরা যখন নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে হাঁটছে, তখন রানাভালোনা তৃতীয়ের মতো মানুষদের গল্প মনে করিয়ে দেয়—নিজের শিকড়কে ভালোবাসো, নিজের পরিচয়কে সম্মান করো, আর অন্যায়ের সামনে মাথা নত কোরো না। --- > গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু বা জি ডি নাইডু যাঁকে 'ভারতের এডিসন' বলা হয়, সীমিত সংস্থানের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা খুঁজে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। - Published: 2025-12-20 - Modified: 2025-12-20 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80/ গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু বা জি ডি নাইডু যাঁকে 'ভারতের এডিসন' বলা হয়, সীমিত সংস্থানের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা খুঁজে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। চিত্র সৌজন্য ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁরা সীমিত সংস্থানের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা খুঁজে বের করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু, যাঁকে 'ভারতের এডিসন' বা 'কয়ম্বাতুরের সম্পদসৃষ্টিকারী' বলা হয়, তাঁর জীবনী যুবক ছাত্রদের জন্য এক অপরিসীম অনুপ্রেরণা। প্রাথমিক শিক্ষাই শেষ করে তিনি কীভাবে আবিষ্কারের জগতে রাজত্ব করলেন, তা জেনে তোমরা নিশ্চয়ই উদ্বুদ্ধ হবে। প্রাথমিক জীবন এবং শুরুর সংগ্রাম ১৮৯৩ সালের ২৩শে মার্চ তামিলনাড়ুর কয়ম্বাতুর জেলার পোল্লাচি অঞ্চলে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডু। ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতির প্রতি তাঁর অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং মেকানিকের কাজ শুরু করেন। একটি মোটরসাইকেল মেরামত করার সময় তাঁর যান্ত্রিক প্রতিভা প্রকাশ পায়, যা তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। কয়ম্বাতুরের রাস্তায় বাস চালানোর কাজ থেকে শুরু করে তিনি ১৯২০ সালে পোল্লাচি থেকে পালানি অঞ্চলে প্রথম বাস পরিচালনা করেন। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউনাইটেড মোটর সার্ভিসেস (ইউএমএস) প্রতিষ্ঠা করেন, যা শীঘ্রই ৭০টি বাসের এক বিশাল ফ্লিটে পরিণত হয়। এই উদ্যোগ তাঁকে ধনী করে তোলে এবং আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করে। যুবকদের জন্য এই শিক্ষা: স্বপ্ন দেখো, কিন্তু কাজ করো অথচ অধ্যবসায়ের সঙ্গে। শিক্ষণীয়: তাঁর জীবনের এই পর্ব দেখায় যে, শিক্ষার ডিগ্রি ছাড়াই বুদ্ধি এবং পরিশ্রম কীভাবে সাফল্য এনে দেয়। আজকের যুবকরা, যারা চাকরির স্বপ্ন দেখে, তাঁদের থেকে শিখুন—নিজের ব্যবসা শুরু করার সাহস রাখুন। আরও পড়ুন - ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা, আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানযুগের নির্মাতা আবিষ্কারের জগতে বিপ্লব: ভারতের এডিসন জি. ডি. নাইডুকে 'ভারতের এডিসন' বলার কারণ তাঁর অসংখ্য আবিষ্কার। ১৯৩৭ সালে তিনি ভারতে প্রথম ইলেকট্রিক মোটর তৈরি করেন, যা শিল্প বিপ্লবের সূচনা করে। তাঁর উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে ফিল্ম ক্যামেরার ডিসট্যান্স অ্যাডজাস্টার, ছেড়ে যাওয়া ভোটিং মেশিন, ফলের রস নিষ্কাশনকারী যন্ত্র এবং সস্তা পাঁচ-ভালভ রেডিও সেট। একটি খেলনা গাড়ির মোটর থেকে তিনি ইলেকট্রিক রেজার তৈরি করেন—এটাই তাঁর প্রতিভার চরম উদাহরণ। ১৯৫২ সালে মাত্র ২০০০ টাকায় দুই-আসনের পেট্রোল ইঞ্জিনের গাড়ি তৈরি করেন তিনি, কিন্তু সরকারের লাইসেন্স না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর উদ্ভাবন শুধু যন্ত্রপাতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি তুলা, ভুট্টা এবং পেঁপের নতুন জাত গড়ে তোলেন। স্যার সি. ভি. রামান এবং বিশ্বেশ্বরাইয়া তাঁর খামার পরিদর্শন করেন। একবার ৬টা সকাল থেকে ৫টা সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র ১১ ঘণ্টায় একটি বাড়ি তৈরি করেন তিনি—এটি তাঁর দক্ষতার প্রমাণ। শিক্ষণীয়: যুব ছাত্রবৃন্দ, এই গল্প তোমাদের বলে যে, সমস্যাকে সুযোগে রূপান্তরিত করো। আজকের টেকনোলজি যুগে তুমি কী উদ্ভাবন করতে পারো? নাইডুর মতো চিন্তা করো, এবং ভারতকে বিশ্বগুরু বানাও। শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদান শিক্ষার প্রতি নাইডুর ভালোবাসা ছিল অপার। ১৯৪৫ সালে তিনি স্যার আর্থার হোপ টেকনোলজি কলেজ এবং পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে গভর্নমেন্ট কলেজ অফ টেকনোলজি (জিসিটি) হয়ে ওঠে। চার বছরের কোর্সকে অব্যবহারিক মনে করে তিনি দুই বছরের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার প্রত্যাখ্যান করলে প্রিন্সিপাল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৪৬ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেবার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (আইএলডব্লিউএ) প্রতিষ্ঠা করে তিনি ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দেন, যা আজ জি. ডি. নাইডু চ্যারিটিজ নামে পরিচিত। ১৯৪৪ সালে ব্যবসা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি স্কলারশিপ, কর্মচারী কল্যাণ এবং দরিদ্রদের জন্য কাজ করেন। কয়ম্বাতুরে সিরুবানি জল আনার জরিপে তাঁর অবদান অসাধারণ। জি. ডি. নাইডু ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিবিশন ১৯৬৭ সালে শুরু হয়। শিক্ষণীয়: এই অবদান যুবকদের অনুপ্রাণিত করে যে, ধন অর্জনের পর তা সমাজের জন্য ব্যয় করো। আজকের ছাত্ররা, তোমাদের শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, দেশের উন্নয়নের জন্য। আরও পড়ুন - দীঘার ইতিহাস: অজানা ‘বীরকুল’ থেকে প্রাচ্যের ‘ব্রাইটন’ হয়ে ওঠার গল্প আন্তর্জাতিক যাত্রা এবং ব্যক্তিগত জীবন জার্মানিতে গিয়ে তিনি প্রযুক্তি শিখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলেন। ছবি তোলার শখ ছিল তাঁর; মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তাঁর ছবি ঐতিহাসিক। ১৯৭৪ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমে জি. ডি. ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল চলছে। শিক্ষণীয়: তাঁর জীবন ছিল সংগ্রাম, উদ্ভাবন এবং দানের মিশ্রণ। যুবকরা, এই গল্প পড়ে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করো। যুবক ছাত্রদের জন্য অনুপ্রেরণা: কী শিক্ষা? গোপালস্বামী দোরাইস্বামী নাইডুর জীবন থেকে যুবকরা নিম্নলিখিত শিক্ষা নেবে: অধ্যবসায়ের শক্তি: প্রাথমিক শিক্ষা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বখ্যাত হলেন। উদ্ভাবনের মন্ত্র: সাধারণ জিনিস থেকে অসাধারণ তৈরি করো। সমাজসেবা: সাফল্যের পর দেশের জন্য ফিরিয়ে দাও। ব্যবহারিক শিক্ষা: থিওরির চেয়ে হ্যান্ডস-অন শেখো। স্বপ্ন বড় রাখো: ভারতকে প্রযুক্তির কেন্দ্র বানাও। শিক্ষণীয়: আজকের যুবকরা, নাইডুর মতো হও। স্টার্টআপ শুরু করো, আবিষ্কার করো, এবং ভারতকে গর্বিত করো। তাঁর জীবনী তোমাদের পথ দেখাবে। --- > আদিসপ্তগ্রাম বা সপ্তগ্রাম ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র। জানুন সপ্তগ্রামের ইতিহাস, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, পতনের কারণ। - Published: 2025-12-18 - Modified: 2025-12-18 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/ আদিসপ্তগ্রাম বা সপ্তগ্রাম ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র। জানুন সপ্তগ্রামের ইতিহাস, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, পতনের কারণ এবং বর্তমান অবস্থান। বর্তমান সরস্বতী নদী - চিত্র সৌজন্য পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি শান্ত জনপদ হলো আদিসপ্তগ্রাম যার প্রাচীন নাম ছিল সপ্তগ্রাম। আজ সেখানে জনকোলাহল কম, কিন্তু একসময় এই অঞ্চলটি ছিল প্রাচ্যের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রবন্দর এবং বাংলার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে ভ্রমণপিপাসু মানুষ—সবার জন্যই আদিসপ্তগ্রামের ইতিহাস এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। সপ্তগ্রাম নামের উৎপত্তি ও ভৌগোলিক অবস্থান 'সপ্তগ্রাম' কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো সাতটি গ্রাম। পৌরাণিক কাহিনী এবং ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী— বাঁশবেড়িয়া, কৃষ্ণপুর, বাসুদেবপুর, নিত্যানন্দপুর, শিবপুর, সাম্বলপুর এবং বলদঘাটি—এই সাতটি গ্রামের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল এই নগরী। এটি সরস্বতী নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। বর্তমান যুগে সরস্বতী নদীটি একটি সরু খালের মতো মনে হলেও, মধ্যযুগে এটি ছিল ভাগীরথীর প্রধান প্রবাহ এবং অত্যন্ত গভীর। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই সপ্তগ্রাম হয়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। আদিসপ্তগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ১. সুলতানি ও মুঘল আমলের স্বর্ণযুগ ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি বিজয়ের পর থেকে সপ্তগ্রামের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বাংলার স্বাধীন সুলতানদের আমলে এটি একটি প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র (ইকতামদার) এবং মিন্ট বা টাঁকশাল হিসেবে পরিচিতি পায়। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে এখান থেকে মুদ্রা জারি করা হতো। মুঘল সম্রাট আকবরের সময়েও 'আইন-ই-আকবরি' গ্রন্থে সপ্তগ্রামের সমৃদ্ধির উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকার বা প্রশাসনিক বিভাগ। ২. ইউরোপীয় বণিকদের নজরে 'পোর্তো পিকোলা' ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ বণিকরা যখন বাংলায় বাণিজ্য করতে আসে, তারা সপ্তগ্রামকে বলত 'Porto Piccolo' বা 'ক্ষুদ্র বন্দর' (এর বিপরীতে চট্টগ্রাম ছিল 'Porto Grande')। এখান থেকে রেশম, মসলিন, চাল, চিনি এবং নীল ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি হতো। আরও পড়ুন - তমলুক বা তাম্রলিপ্ত, হাজার বছরের ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সৈয়দ জামালুদ্দিনের মসজিদ সপ্তগ্রাম কেবল বাণিজ্যের নয়, ধর্মেরও মিলনস্থল ছিল। উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুরের শ্রীপাট: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বণিক উদ্ধারণ দত্ত। সপ্তগ্রাম ছিল তার কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। আজও এখানে তার স্মৃতিধন্য মন্দির রয়েছে। সৈয়দ জামালুদ্দিনের মসজিদ: ১৪৯৫ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত এই মসজিদটি বাংলার টেরাকোটা স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। বর্তমানে এটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত। কেন হারিয়ে গেল সপ্তগ্রামের গৌরব? (পতনের কারণ) সপ্তগ্রামের পতনের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করেছিল: সরস্বতী নদীর নাব্যতা হ্রাস: সপ্তগ্রামের জীবনরেখা ছিল সরস্বতী নদী। ১৬শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পলি জমে এই নদীর স্রোত হারিয়ে যায় এবং নদীটি শুকিয়ে যেতে শুরু করে। বড় জাহাজ বন্দরে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। হুগলি বন্দরের উত্থান: নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে পর্তুগিজরা তাদের বাণিজ্যের কেন্দ্র সপ্তগ্রাম থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী হুগলি (ব্যান্ডেল সংলগ্ন এলাকা) শহরে নিয়ে যায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মহামারী: নদীর জল জমে যাওয়ায় ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, ফলে মানুষ এই সমৃদ্ধ নগরী ত্যাগ করতে শুরু করে। আরও পড়ুন - তোতা কাহিনী, সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি বিখ্যাত রম্যরচনা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানসমূহ আপনি যদি আদি সপ্তগ্রামে ভ্রমণে যান, তবে নিম্নলিখিত স্থানগুলি অবশ্যই দেখবেন: সপ্তগ্রাম প্রাচীন মসজিদ: এর পোড়ামাটির কাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুরের মন্দির: বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাসের স্বাদ পেতে এখানে আসতেই হবে। সরস্বতী নদীর অবশিষ্টাংশ: ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে যা আজও বয়ে চলেছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংক্ষিপ্ত নোট (এক নজরে) বিষয়তথ্যঅবস্থানহুগলি জেলা, পশ্চিমবঙ্গ।প্রধান নদীসরস্বতী (প্রাচীনকালে)।পর্তুগিজ নামপোর্তো পিকোলা (Porto Piccolo)।বিখ্যাত ব্যক্তিউদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর।পতনের প্রধান কারণনদীর নাব্যতা হ্রাস ও হুগলি বন্দরের উত্থান। উপসংহার আদি সপ্তগ্রাম আজ হয়তো তার পুরনো জৌলুস হারিয়েছে, কিন্তু মাটির গভীরে আর জরাজীর্ণ স্থাপত্যের মাঝে আজও বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাস জীবন্ত হয়ে আছে। এই স্থানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে কীভাবে একসময়ের বিশ্বখ্যাত মহানগরী কেবল একটি নিভৃত গ্রামে পরিণত হতে পারে। বাংলার ইতিহাসকে জানতে হলে আদি সপ্তগ্রামকে জানা অপরিহার্য। --- > কিং চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা) তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার দ্বারা সিয়ামকে স্বাধীন রাখেন এবং থাইল্যান্ডকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। - Published: 2025-12-16 - Modified: 2025-12-16 - URL: https://www.sabjanta.info/king-chulalongkorn-rama-v-of-siam-thailand/ কিং চুলালংকর্ন (পঞ্চম রামা) তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার দ্বারা সিয়ামকে স্বাধীন রাখেন এবং থাইল্যান্ডকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। রাজা চুলালংকর্ন চিত্র সৌজন্য পঞ্চম রামা: তরুণ দুরন্ত সাহসী এক রাজা! বন্ধুরা, তোমরা কি জানো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এমন একটি দেশ আছে, যাকে তার আশেপাশে থাকা শক্তিশালী ব্রিটিশ বা ফরাসি সাম্রাজ্য কখনোই পুরোপুরি দখল করতে পারেনি? হ্যাঁ, দেশটার নাম থাইল্যান্ড (আগের নাম সিয়াম)। আর এই স্বাধীনতার পেছনে যার সবচেয়ে বড় অবদান, তিনি হলেন এক অসাধারণ রাজা— কিং চুলালংকর্ন, যিনি ইতিহাসে পঞ্চম রামা (Rama V) নামে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে যখন পুরো এশিয়া জুড়ে ঔপনিবেশিকতার কালো ছায়া, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন এই তরুণ রাজা। তার সামনে ছিল দুটো রাস্তা: হয় পরাক্রমশালী ইউরোপীয় শক্তিগুলোর কাছে মাথা নত করা, নয়তো নিজের দেশকে বাঁচানোর জন্য অসম্ভব এক সংগ্রাম শুরু করা। কিং চুলালংকর্ন দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছিলেন। আমরা জানব, কীভাবে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, দূরদর্শিতা আর আধুনিকতার প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে তিনি সিয়ামকে শুধু স্বাধীনই রাখেননি, বরং একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তার জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা, যা শেখায় যে চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক না কেন, সঠিক জ্ঞান ও সাহসের জোরে সব বাধা পেরোনো যায়। প্রধান চ্যালেঞ্জ: সাম্রাজ্যবাদী থাবা ১৯ শতাব্দীর শেষভাগ। ব্রিটিশরা তখন পাশেই বার্মা (মায়ানমার) দখল করে ফেলেছে। আর ফরাসিরা দখল করছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া আর লাওস। সিয়াম ঠিক যেন দুই বাঘের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক হরিণ! ইউরোপীয় শক্তিগুলো সিয়ামকে তাদের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসার জন্য সব সময় চাপ সৃষ্টি করত। তাদের দাবি ছিল— সিয়ামের শাসন ব্যবস্থা 'অসভ্য' এবং 'অনাধুনিক', তাই তাদের 'সভ্য' করার জন্য ইউরোপীয়দের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু রাজা চুলালংকর্ন বুঝেছিলেন, যদি ইউরোপীয়দের দেখিয়ে দেওয়া যায় যে সিয়ামও তাদের মতোই আধুনিক ও উন্নত, তবে তারা হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে না। তাই তিনি বেছে নিলেন "নকল করো, কিন্তু নত হয়ো না"-এর কৌশল। আরও পড়ুন - থাইল্যান্ডের 4 টি জনপ্রিয় লোককাহিনীর বাংলা অনুবাদ ১. দাসপ্রথা বিলোপ: স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ রাজা চুলালংকর্নের সবচেয়ে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর মধ্যে একটি ছিল দাসপ্রথার বিলোপ (Abolition of Slavery)। সিয়ামে তখন সমাজের একটি বড় অংশ দাস হিসেবে জীবন কাটাত। তিনি জানতেন, একটা আধুনিক এবং শক্তিশালী দেশ কখনো দাসপ্রথার মতো মধ্যযুগীয় প্রথা নিয়ে চলতে পারে না। তিনি রক্তপাত বা বিপ্লব ছাড়াই এই পরিবর্তন আনেন। ১৮৭৪ সাল থেকে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে দাসপ্রথার অবসান ঘটানোর জন্য আইন তৈরি করেন। একটি আইনের মাধ্যমে তিনি ঘোষণা করেন যে ১৮৬৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া সকল দাসশিশুরা ১৯ বছর বয়সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যাবে। এরপর অন্যান্য আইন এনে দাসের মূল্য কমানো হয় এবং তাদের মুক্তির পথ সহজ করে দেওয়া হয়। এই সংস্কার শুধু মানুষকে মুক্তি দেয়নি, বরং দেশবাসীকে দেখিয়েছে যে তাদের রাজা প্রগতিশীল এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করছেন। এটি তাঁকে ‘Phra Piya Maharat’ (মহান প্রিয় রাজা) উপাধি এনে দিয়েছিল। ২. আধুনিকীকরণ ও সংস্কার: দেশকে ‘সিভিলাইজড’ করা পশ্চিমা শক্তিগুলো যখন সিয়ামকে 'অসভ্য' বলে আক্রমণ করার অজুহাত খুঁজছিল, তখন রাজা চুলালংকর্ন দেশকে দ্রুত আধুনিকতার পথে নিয়ে যান। তিনি এমন সব সংস্কার এনেছিলেন যা পুরো দেশের চেহারা পাল্টে দেয়: ক. আধুনিক প্রশাসন (Centralized Bureaucracy): তিনি পুরোনো সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেন। স্থানীয় প্রধানদের হাতে থাকা ক্ষমতা কমিয়ে ইউরোপীয় মডেলের আদলে ১২টি কার্যকরী মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে প্রশাসনে দক্ষতা আসে এবং কেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ে, যা ঔপনিবেশিক শক্তির প্রভাব কমানোর জন্য জরুরি ছিল। খ. শিক্ষা বিপ্লব (Modern Education System): তিনি দেশজুড়ে আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার উদ্যোগ নেন। তিনি মনে করতেন, শিক্ষা হলো আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। তিনি তাঁর নিজের সন্তানসহ অনেক রাজপুত্রকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠান, যাতে তারা আধুনিক জ্ঞান ও শাসন পদ্ধতি শিখে আসতে পারে। **** গ. অবকাঠামো উন্নয়ন (Infrastructure Development): যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব। তাই তিনি: প্রথম রেললাইন নির্মাণ শুরু করেন। টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন, যা দূর-দূরান্তের অঞ্চলে দ্রুত খবর পাঠাতে সাহায্য করত। আধুনিক ডাক ও তার (Postal and Telegraph) ব্যবস্থা চালু করেন। ঘ. প্রথাবিরুদ্ধ পদক্ষেপ (Social Reforms): তিনি দরবারে রাজার সামনে প্রথাগতভাবে মাটিতে শুয়ে মাথা নত করার (Prostration) প্রথা তুলে দেন। এর পরিবর্তে তিনি সবাইকে উঠে দাঁড়ানোর (Standing Up) নির্দেশ দেন। এই সাধারণ পরিবর্তনটি রাজকীয় ক্ষমতাকে আরও মানবিক ও আধুনিক করে তুলেছিল। আরও পড়ুন - ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এমন ৮ টি মজার ও যুগোপযোগী নীতিগল্প ৩. কূটনীতির জাদু: উপনিবেশিকতাকে হারানো কিং চুলালংকর্নের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল তার কূটনৈতিক দক্ষতা (Diplomatic Skill)। তিনি জানতেন, সিয়াম সরাসরি যুদ্ধ করে ইউরোপীয়দের হারাতে পারবে না। তাই তিনি এক অসাধারণ কৌশল নেন: ভারসাম্য রক্ষা (Balancing the Powers): তিনি ব্রিটিশ এবং ফরাসিদের মধ্যে এমনভাবে ভারসাম্য রক্ষা করেন যে কেউই সিয়ামকে পুরোপুরি গ্রাস করার সাহস পায়নি। তিনি একদিকে ব্রিটিশদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন, আবার অন্যদিকে ফরাসিদের সাথেও চুক্তি করতেন। ইউরোপ ভ্রমণ (Travels to Europe): তিনি দুবার ইউরোপ ভ্রমণ করেন (১৮৯৭ এবং ১৯০৭ সালে)। এই ভ্রমণগুলো শুধু বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছিল না। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোপীয় রাজপরিবার এবং সরকারদের কাছে প্রমাণ করেন যে সিয়াম একটি 'সভ্য' ও আধুনিক রাষ্ট্র। তাকে ইউরোপীয় রাজাদের মতোই সম্মান ও আতিথেয়তা জানানো হয়েছিল, যা বহির্বিশ্বে সিয়ামের মর্যাদা বাড়ায় এবং ঔপনিবেশিক আগ্রাসনকে কঠিন করে তোলে। অল্প ত্যাগ, বেশি লাভ: সার্বভৌমত্ব বাঁচাতে তিনি কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তও নেন। ফরাসিদের চাপ কমাতে তিনি লাওস এবং কম্বোডিয়ার কিছু অংশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। একইভাবে, ব্রিটিশদের কাছে কিছু মালয় রাজ্য ছেড়ে দেন। এই 'অল্প ত্যাগ' করার ফলে সিয়ামের মূল ভূখণ্ড এবং স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছিল। ৪. তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা: শিখতে থাকুন, এগিয়ে চলুন! কিং চুলালংকর্নকে তার প্রজারা এখনো 'ফাদার অফ মডার্ন থাইল্যান্ড' হিসেবে স্মরণ করে। তার জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে: শিখনীয় মানসিকতা: তিনি ১৫ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেও শেখা থামাননি। তিনি বিশ্বকে জানতে চেয়েছিলেন, ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন এবং নতুন ধারণা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তোমাদেরও সব সময় নতুন কিছু শেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ভয়কে জয় করা: তিনি দুই পরাশক্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভয় পাননি। বরং তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য জ্ঞান ও আধুনিকতাকে হাতিয়ার করেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে সাহস হারানো যাবে না। ধীরে চলো, কিন্তু লক্ষ্য স্থির রাখো: তিনি দাসপ্রথা একদিনে বিলোপ করেননি। তিনি ধাপে ধাপে, আইন করে তা নিশ্চিত করেছেন। বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধৈর্য এবং কৌশল দরকার। উপসংহার: এক স্বাধীন দেশের ভিত্তিপ্রস্তর কিং চুলালংকর্ন (রামা ভি) কেবল একজন রাজা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সংস্কারক, একজন দক্ষ কূটনীতিক এবং তার দেশের স্বাধীনতা রক্ষাকারী নায়ক। তার ৪৯ বছরের রাজত্বকাল সিয়ামকে একটি মধ্যযুগীয় রাজ্য থেকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেছিল। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, সামরিক শক্তিই সব নয়; জ্ঞান, কৌশল, এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা একটি দেশকে ঔপনিবেশিকতার কবল থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই, যখনই কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, কিং চুলালংকর্নের কথা মনে করো— যিনি দেখিয়েছিলেন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং পরিবর্তনের সাহসই হলো স্বাধীনতার আসল শক্তি। --- > অন্নামণি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়া বিদ, যিনি স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন - Published: 2025-12-14 - Modified: 2025-12-14 - URL: https://www.sabjanta.info/anna-mani-the-ozone-woman-of-india/ অন্নামণি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়াবিদ, যিনি স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। চিত্র সৌজন্য এক নীরব বিপ্লবের নাম অন্নামণি ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক বিজ্ঞানী আছেন, যাঁদের কাজ দেশের ভিত্তি তৈরি করেছে, অথচ তাঁদের নাম হয়তো সাধারণের কাছে ততটা পরিচিত নয়। এমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অন্নামণি (Anna Mani)। তিনি ছিলেন এক ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়াবিদ, যিনি ব্রিটিশ-শাসিত ভারত থেকে স্বাধীন ভারতে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভরতা আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁকে সসম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল "ভারতের ওয়েদার উইম্যান" বা "Ozone Woman of India" উপাধিতে। একসময় যখন বিজ্ঞান ছিল পুরুষদের একচেটিয়া ক্ষেত্র, তখন অন্নামণি দৃঢ়তা, মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে সেই সীমানা ভেঙে দিয়েছিলেন। তরুণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাঁর জীবন এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। এখানে আমরা অন্নামণির শৈশব, শিক্ষা, কর্মজীবনের সংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি দেশকে আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিতে স্বনির্ভর করে তুলেছিলেন— সেই রোমাঞ্চকর গল্পটি তুলে ধরব। প্রথম অধ্যায়: শৈশব ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা কেরালার শান্ত পরিবেশে জন্ম অন্নামণি ১৯১৮ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুর (বর্তমান কেরালার পীরমেড)-এর এক সিরীয় খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশাল এলাচের বাগানের মালিক। পরিবারটি ছিল ঐতিহ্যবাহী, যেখানে ছেলেদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হতো এবং মেয়েদের বিবাহ ও গার্হস্থ্য জীবনের জন্য তৈরি করা হতো। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই অন্নামণি ছিলেন ব্যতিক্রম। আট বছর বয়সেই তিনি স্থানীয় লাইব্রেরির প্রায় সব মালায়ালম বই পড়ে ফেলেছিলেন। প্রথাগত হীরের দুল উপহারের বদলে নিজের অষ্টম জন্মদিনে তিনি চেয়ে নিয়েছিলেন এক সেট এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Encyclopedia Britannica)! বইয়ের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা শুধু তাঁর জানার আগ্রহকেই বাড়ায়নি, বরং সমাজের চিরাচরিত ধারণার বাইরে গিয়ে কিছু করার স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। মহাত্মা গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদির পোশাক পরিধান শুরু করেন, যা তাঁর স্বাদেশিকতার মনোভাবের প্রথম প্রকাশ। বিজ্ঞানের প্রতি প্রথম টান অন্নামণি চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে, কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় তিনি পদার্থবিজ্ঞানে (Physics) মনোযোগ দেন। ১৯৩৯ সালে তিনি মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে বি. এস-সি অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এটি সেই সময় যখন ভারতে নারী শিক্ষার হার ছিল ১ শতাংশেরও কম, এবং কলেজে ছাত্রী ভর্তি ছিল হাতে গোনা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অন্নামণি যে বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছিলেন, সেটাই ছিল তাঁর প্রথম সাহসী পদক্ষেপ। ১৯৪০ সালে, তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এ গবেষণা করার জন্য বৃত্তি লাভ করেন। সেখানে তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক স্যার সি. ভি. রমন (C. V. Raman)-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করার সুযোগ পান। আরও পড়ুন - আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়: ভারতীয় রসায়নের জনক দ্বিতীয় অধ্যায়: সি. ভি. রমন-এর সান্নিধ্যে ও পিএইচ. ডি. বিতর্ক হীরা ও রুবির বর্ণালীবীক্ষণ (Spectroscopy) IISc-তে অন্নামণির গবেষণা ছিল হীরা (Diamonds) এবং রুবি (Rubies)-এর অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এই কাজে তিনি দিনের পর দিন, কখনও কখনও রাতভর ল্যাবরেটরিতে কাটিয়েছেন। প্রায় ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা ধরে ফটোগ্রাফিক প্লেট এক্সপোজ করতে হতো তাঁকে। পরিশ্রম ও একাগ্রতার চরম উদাহরণ রেখে অন্নামণি ডায়মন্ড ও রুবির ফ্লুরোসেন্স, শোষণ ও রমন স্পেকট্রা নিয়ে গবেষণা করেন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে তিনি একাই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। একজন তরুণ বিজ্ঞানীর জন্য এটি ছিল এক বিশাল অর্জন। একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন: পিএইচ. ডি. না পাওয়া অন্নামণি তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচ. ডি. (Ph. D. ) থিসিস জমা দেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে, শুধুমাত্র তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকার কারণে (তিনি সরাসরি স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে গবেষণায় যোগ দিয়েছিলেন) তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই ঘটনা তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় 'পিটফল' বা বাধা ছিল, যা থেকে তিনি সহজেই হতোদ্যম হতে পারতেন। কিন্তু অন্নামণি থেমে থাকেননি। বিজ্ঞান তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এক নতুন পথে। ১৯৪৫ সালে, তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি নিয়ে লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজ (Imperial College London)-এ যান। সেখানে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল পদার্থবিজ্ঞান, কিন্তু ভাগ্যের ফেরে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন আবহাওয়াবিজ্ঞানের যন্ত্র (Meteorological Instruments) নিয়ে। এই পরিবর্তনই তাঁকে ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে অমর করে তোলে। আরও পড়ুন - নিকোলা টেসলা, যাঁর আবিষ্কারগুলি ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অকল্পনীয় তৃতীয় অধ্যায়: স্বনির্ভরতার দিশারি ও IMD-তে যুগান্তকারী অবদান স্বাধীন ভারতে আবহাওয়া যন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন ১৯৪৮ সালে অন্নামণি স্বাধীন ভারতে ফিরে আসেন এবং পুনেতে ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD)-এর যন্ত্র বিভাগে যোগ দেন। সেই সময় সদ্য স্বাধীন হওয়া ভারত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতির জন্য বিদেশ থেকে আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। এই যন্ত্র আমদানি ছিল ব্যয়বহুল এবং এর রক্ষণাবেক্ষণও ছিল কঠিন। অন্নামণি এই নির্ভরতা দূর করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল: আবহাওয়া যন্ত্রপাতিতে ভারতকে স্বনির্ভর করা (Make in India - Swadeshi)। তাঁকে শুরুতে ব্রিটিশ আবহাওয়া যন্ত্রের ক্যাটালগ থেকে যন্ত্রপাতি তৈরির কাজটি তদারকি করতে দেওয়া হয়। কিন্তু অন্নামণি কেবল তদারকি করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি একটি কর্মশালা স্থাপন করেন এবং সেখানে প্রায় ১০০টিরও বেশি আবহাওয়া যন্ত্রপাতির নকশা ও অঙ্কন (design and drawing)-কে মানক বা Standardize করেন। তাঁর নেতৃত্বে, ভারত রেইন গেজ (Rain Gauges), অ্যানিমোমিটার (Anemometers), থার্মোগ্রাফ (Thermographs), এবং হাইগ্রোগ্রাফ (Hygrographs)-এর মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র দেশেই তৈরি করা শুরু করে। ১৯৫৩ সালের মধ্যে, তিনি যন্ত্র বিভাগের প্রধান হিসেবে ১২১ জন পুরুষের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন— যা ছিল তৎকালীন পুরুষ-অধ্যুষিত কর্মক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর মন্ত্র ছিল: "ভুল পরিমাপ না করার চেয়ে খারাপ" (Wrong measurements are worse than none)। তাঁর এই নির্ভুলতার নীতি ভারতকে আবহাওয়ার ডেটা-সংগ্রহে বিশ্বমানে উন্নীত করে। সৌর শক্তি ও বায়ু শক্তির পথিকৃৎ অন্নামণির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির মধ্যে ছিল বিকল্প শক্তি বা Renewable Energy পরিমাপের ভিত্তি স্থাপন করা। সৌর বিকিরণ (Solar Radiation): তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতে সৌর শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে জানতে হবে দেশের কোথায় কতটা রোদ বা তাপশক্তি পাওয়া যায়। এই লক্ষ্যে তিনি ১৯৫৭-৫৮ সালে সৌর বিকিরণ পরিমাপের জন্য একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে হাতে পাইরানোমিটার (Pyranometer)-সহ অন্যান্য যন্ত্র ডিজাইন ও নির্মাণ করেন। তিনি পরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশ করেন: The Handbook for Solar Radiation Data for India (1980) Solar Radiation over India (1981)এই বইগুলি আজও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষকদের জন্য প্রামাণ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বায়ু শক্তি (Wind Energy): সৌরশক্তির পাশাপাশি তিনি দেশের বায়ু শক্তির সম্ভাবনা জরিপ করার কাজ শুরু করেন। তিনি সারা দেশ জুড়ে ৭০০টিরও বেশি সাইটে বায়ুর গতি এবং দিক পরিমাপের জন্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর এই পরিশ্রমের ফলস্বরূপ প্রকাশিত হয়: Wind Energy Resource Survey in India (1992) আজ যখন ভারত বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্ব মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে, তার মূলে রয়েছে অন্নামণির সেই সুদূরপ্রসারী গবেষণা ও ডেটা-সংগ্রহের কাজ। ওজোন গবেষণা: বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড স্থাপন অন্নামণির আরেকটি যুগান্তকারী কাজ ছিল বায়ুমণ্ডলের ওজোন (Ozone) নিয়ে। ৬০-এর দশকে তিনি ভারতে ওজোন পরিমাপের কাজে নেতৃত্ব দেন।তিনি ভারতের প্রথম ওজোনোন্ডে (Ozonesonde) যন্ত্রের নকশা তৈরি করেন, যা একটি বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ৩৫ কিমি পর্যন্ত ওজোনের স্তর পরিমাপ করতে পারত।তাঁর কাজের ফলস্বরূপ পুনে (Pune) ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)-এর গ্লোবাল ওজোন ম্যাপিং প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। অন্নামণি ছিলেন সেই বিজ্ঞানী, যিনি ওজোন হ্রাসের বিপদ নিয়ে বহু দশক আগেই ভারতকে সতর্ক করেছিলেন। আরও পড়ুন - প্যারীচাঁদ মিত্র, বাংলা ভাষায় প্রথম ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিদ চতুর্থ অধ্যায়: একটি নিবেদিত জীবন ও অনুপ্রেরণামূলক উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের প্রতি পূর্ণ সমর্পণ অন্নামণি কখনও বিবাহ করেননি। তিনি তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞান, গবেষণা এবং দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবনে ট্রেকিং এবং পাখি দেখা ছিল প্রিয় শখ— প্রকৃতি তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। ১৯৭৬ সালে IMD-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বেঙ্গালুরুর রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন এবং পরে নিজেই একটি ছোট ওয়ার্কশপ তৈরি করেন, যা সৌর ও বায়ু শক্তি পরিমাপের যন্ত্র তৈরি করত। একজন বিজ্ঞানী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই যাত্রাও তরুণদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে। সম্মান ও স্বীকৃতি অন্নামণি তাঁর কাজের জন্য বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমি (INSA) কর্তৃক কে. আর. রামানাথন মেডেল (K. R. Ramanathan Medal) লাভ করেন। ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তরুণদের প্রতি তাঁর বার্তা অন্নামণি সেই সময়ের একজন নারী ছিলেন, যখন বিজ্ঞানকে "পুরুষের জগৎ" বলে মনে করা হতো। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবন্ধকতার সামনে মাথা নত করেননি। তাঁর এক সাক্ষাৎকারে, তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি একটি সহজ কিন্তু গভীর বার্তা দিয়েছিলেন: "আমাদের একটিই জীবন। প্রথমত, নিজের কাজের জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলো, তোমার প্রতিভা পুরোপুরি ব্যবহার করো, এবং তারপর কাজটিকে ভালোবাসো ও উপভোগ করো। প্রকৃতি এবং বাইরের জগতের সংস্পর্শে থাকার পূর্ণ সুযোগ নাও।" এই উক্তি তাঁর জীবনের সারমর্মকে তুলে ধরে: প্রস্তুতি, প্রতিভা এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা— এই তিনটির সমন্বয়ই সফলতার চাবিকাঠি। উপসংহার: আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান অন্নামণি ছিলেন এক সত্যিকারের 'কর্মযোগী'। তাঁর বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে উন্নত করেছে, দেশকে স্বনির্ভর করেছে এবং ভবিষ্যতের সবুজ শক্তির পথ প্রশস্ত করেছে। আবহাওয়ার যন্ত্রপাতিতে 'বিদেশি নির্ভরতা' থেকে 'স্বদেশী উৎপাদন'-এর দিকে ভারতকে টেনে আনার পুরো কৃতিত্বই তাঁর। তাঁর জীবনের গল্প আমাদের শেখায় যে, যদি লক্ষ্য স্থির থাকে এবং কাজ করার ইচ্ছা থাকে, তবে কোনো সামাজিক প্রথা বা লিঙ্গবৈষম্যই বাধার সৃষ্টি করতে পারে না। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নারী বা পুরুষ নয়, বিজ্ঞান কেবল মেধা ও পরিশ্রমকেই সম্মান করে। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা, বিজ্ঞানী অন্নামণির জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নাও। তোমরাও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে দক্ষ হও। তিনি যেমন ভারতের আকাশ ও আবহাওয়াকে নির্ভুলভাবে মাপতে পেরেছিলেন, তোমরাও তেমনি তোমাদের ভেতরের সম্ভাবনাকে নির্ভুলভাবে খুঁজে বের করো। ভারতের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই। --- > দীঘার ইতিহাস - দীঘার প্রাচীন নাম 'বীরকুল' থেকে আজকের আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। - Published: 2025-12-08 - Modified: 2025-12-08 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87/ দীঘার ইতিহাস - দীঘার প্রাচীন নাম 'বীরকুল' থেকে আজকের আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালির ভ্রমণ তালিকায় সবার উপরে যে নামগুলো থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো 'দীঘা'। দীপুদা (দীঘা, পুরী, দার্জিলিং)—এই শব্দবন্ধের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো দীঘা। সপ্তাহান্তের ছুটি হোক বা শীতের পিকনিক, বাঙালির প্রথম পছন্দ এই সমুদ্র সৈকত। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার প্রিয় এই দীঘার বালিয়াড়ির নিচে চাপা পড়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস? আজকের ঝলমলে নিউ দীঘা বা ওল্ড দীঘার ভিড়ের আড়ালে হারিয়ে গেছে একদা ব্রিটিশ সাহেবদের প্রিয় 'বীরকুল'-এর স্মৃতি। আজকের এই প্রবন্ধে আমরা দীঘার সেই অজানা ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটব, যেখানে ওয়ারেন হেস্টিংস থেকে শুরু করে জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ—অনেকেরই পদচিহ্ন আজও অক্ষত। আসুন জেনে নেওয়া যাক দীঘার জন্ম, নামকরণ এবং বিবর্তনের সম্পূর্ণ ইতিহাস। ১. দীঘার আদি নাম: বীরকুল পরগনার উপকথা আজ আমরা যে জায়গাটিকে দীঘা নামে চিনি, অষ্টাদশ শতাব্দীতে তার পরিচিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন নামে। তখন এই অঞ্চলের নাম ছিল 'বীরকুল' (Beerkul)। মুঘল ও পরবর্তীকালে ব্রিটিশ নথিপত্রে এই নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় মেদিনীপুর চাকলার অন্তর্গত একটি ছোট্ট উপকূলীয় গ্রাম ছিল বীরকুল। ঐতিহাসিক দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে জানা যায়, ১৭৬০ সালে মীরকাশিম যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মেদিনীপুর, চট্টগ্রাম ও বর্ধমানের অধিকার প্রদান করেন, তখন থেকেই বীরকুল ইংরেজদের নজরে আসে। তবে তারও আগে পর্তুগিজ নাবিকদের মানচিত্রে এই উপকূলের অস্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। 'নরীকুল' বা 'বড়িকুল' নামেও পুরোনো মানচিত্রে এর অস্তিত্ব দেখা গেছে, যা পরে 'বীরকুল'-এ রূপান্তরিত হয়। সেই সময় এটি ছিল মূলত জেলেদের গ্রাম, যেখানে নোনা হাওয়া আর ঝাউবনের শনশন শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যেত না। আরও পড়ুন - বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ, প্রাসাদ-নগরী ধান্যকুড়িয়ার বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে ২. ওয়ারেন হেস্টিংস এবং 'প্রাচ্যের ব্রাইটন' দীঘার ইতিহাসে যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকা উচিত, তিনি হলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings)। তিনি ছিলেন দীঘার (তৎকালীন বীরকুল) প্রথম হাই-প্রোফাইল পর্যটক। ১৭৮০ সাল নাগাদ হেস্টিংস সাহেব সস্ত্রীক এই সমুদ্রতীরে আসেন। সেই সময় যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্গম, তবুও এখানকার নির্জনতা, স্বাস্থ্যকর বাতাস এবং শান্ত সমুদ্র তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি এতটাই মোহিত হয়েছিলেন যে, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত 'ব্রাইটন'-এর সাথে তুলনা করে তিনি বীরকুলকে আখ্যা দিয়েছিলেন "Brighton of the East" বা "প্রাচ্যের ব্রাইটন"। হেস্টিংস তাঁর স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বীরকুলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, এখানকার সমুদ্র সৈকত হাঙর-মুক্ত এবং স্নানের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। তাঁর এই প্রশংসার পরেই ব্রিটিশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বীরকুল জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শোনা যায়, হেস্টিংস এখানে একটি বাংলোও তৈরি করেছিলেন, যা কালের গর্ভে সমুদ্রের গ্রাসে হারিয়ে গেছে। সেই সময় কলকাতা থেকে বহু ব্রিটিশ অফিসার 'চেঞ্জ' বা বায়ু পরিবর্তনের জন্য বীরকুলে আসতেন। ৩. বিস্মৃতির অতলে বীরকুল ওয়ারেন হেস্টিংসের বিদায়ের পর ধীরে ধীরে বীরকুলের জৌলুস কমতে থাকে। যাতায়াতের অসুবিধা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উনিশ শতকের দিকে এই জায়গাটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। জঙ্গল আর বন্যপ্রাণীর উপদ্রব বেড়ে যায়। ব্রিটিশরা নতুন নতুন হিল স্টেশন (যেমন সিমলা, দার্জিলিং) আবিষ্কার করায় সমুদ্রের প্রতি তাদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়। ফলে একসময়ের জমজমাট 'প্রাচ্যের ব্রাইটন' আবার জেলেদের ছোট্ট গ্রামে পরিণত হয় এবং ইতিহাসের পাতায় ধুলো জমতে শুরু করে। ৪. জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ: দীঘার আধুনিক রূপকার চিত্র সৌজন্য দীর্ঘ সময় অন্ধকারে থাকার পর, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দীঘা আবার নতুন করে আবিষ্কৃত হয়। আর এই আবিষ্কারের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ (John Frank Snaith)। তাঁকে বলা হয় 'আধুনিক দীঘার জনক' বা 'ফার্স্ট রেসিডেন্ট অফ দীঘা'। জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ ছিলেন কলকাতার বিখ্যাত জুয়েলারি শপ 'হ্যামিল্টন অ্যান্ড কোম্পানি'-র মালিক। ১৯২৩ সাল নাগাদ তিনি দীঘার (তৎকালীন বীরকুল) এই সৈকতে আসেন এবং এর বন্য সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি এতটাই প্রেমে পড়েছিলেন যে, সিদ্ধান্ত নেন এখানেই তিনি বসবাস করবেন। রানসউইক হাউস (Runswick House) স্নেথ সাহেব ১৯৩০-এর দশকে দীঘার সমুদ্রতীরে প্রায় ১১ একর জমি লিজ নিয়ে একটি চমৎকার বাংলো তৈরি করেন, যার নাম দেন 'রানসউইক হাউস'। তিনি ছিলেন একজন শৌখিন ও রোমান্টিক মানুষ। শোনা যায়, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ছোট বিমান (টু-সিটার প্লেন) চালিয়ে কলকাতা থেকে সোজা দীঘার সমুদ্র সৈকতে ল্যান্ড করতেন! দীঘার শক্ত বালির বিচ ছিল তাঁর রানওয়ে। তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি কেবল নিজের থাকার জন্যই বাংলো বানাননি, বরং দীঘাকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই আবার নতুন করে দীঘা (তৎকালীন বীরকুল) প্রচারের আলোয় আসতে শুরু করে। তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দীঘার সৌন্দর্য নিয়ে লেখালেখি করতেন এবং বন্ধুদের এখানে আসার আমন্ত্রণ জানাতেন। আজও ওল্ড দীঘায় তাঁর স্মৃতিবিজড়িত রানসউইক হাউস (বর্তমানে বিদ্যুৎ পর্ষদের বাংলো) এবং তাঁর সমাধি অটুট রয়েছে। আরও পড়ুন - পিঁপড়ে সম্পর্কে ৯৯টি মজার তথ্য যা আমাদের অবাক করে ৫. ডঃ বিধানচন্দ্র রায় এবং আজকের দীঘা চিত্র সৌজন্য ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৪৭ সালের পরবর্তী সময়ে দীঘার ভাগ্যাকাশে নতুন সূর্যোদয় ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের রূপকার এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়-এর হাত ধরে দীঘা পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ ব্যক্তিগতভাবে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়কে অনুরোধ করেছিলেন এই জায়গাটির উন্নয়নের জন্য। বিধান রায় নিজেও দীঘার সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন দার্জিলিং-এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য একটি সস্তা ও সুন্দর ভ্রমণের জায়গা তৈরি করতে। ১৯৫০-এর দশকে ডঃ রায়ের উদ্যোগে দীঘায় বিদ্যুৎ সংযোগ, রাস্তাঘাট এবং সরকারি অতিথিশালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাঁর আমলেই দীঘাকে 'পর্যটন কেন্দ্র' হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বালিয়াড়ি রক্ষা করার জন্য ঝাউ গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও সেই সময়েই নেওয়া হয়েছিল, যা আজ দীঘার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলেই বীরকুল নামটি পুরোপুরি মুছে গিয়ে 'দীঘা' নামটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি মধ্যবিত্ত বাঙালির প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়। ৬. ওল্ড দীঘা থেকে নিউ দীঘা: এক বিবর্তন সময়ের সাথে সাথে দীঘার ভৌগোলিক ও বাস্তবিক পরিবর্তনও ঘটেছে প্রচুর। ওল্ড দীঘা (Old Digha): বিধান রায়ের আমলে তৈরি মূল পর্যটন কেন্দ্রটিই আজকের ওল্ড দীঘা। কিন্তু অত্যধিক জনবসতি এবং সমুদ্রের ক্রমাগত ভাঙনের ফলে ওল্ড দীঘার সৈকত আজ অনেকটাই সঙ্কুচিত। পাথরের বাঁধ দিয়ে সমুদ্রকে আটকে রাখা হয়েছে। তবুও ওল্ড দীঘার বিশ্ব বাংলা পার্ক এবং পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত রাস্তাগুলো আজও পর্যটকদের টানে। নিউ দীঘা (New Digha): পর্যটকদের চাপ সামলাতে এবং ওল্ড দীঘার ভাঙন সমস্যার বিকল্প হিসেবে ২ কিলোমিটার দূরে তৈরি করা হয়েছে 'নিউ দীঘা'। এখানে সমুদ্রতট অনেক বেশি প্রশস্ত এবং বালুকাময়। ঝাউবনের ছায়া আর আধুনিক হোটেল-রিসর্টের সমাহার নিউ দীঘাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৭. দীঘার নাম কেন 'দীঘা' হলো? দীঘার নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রচলিত কিছু মতবাদ নিচে দেওয়া হলো: ১. দীর্ঘ তটরেখা: সংস্কৃত শব্দ 'দীর্ঘ' থেকে দীঘা নামের উৎপত্তি হতে পারে। এখানকার সুদীর্ঘ সমুদ্র সৈকত দেখেই হয়তো স্থানীয়রা একে 'দীর্ঘা' বা কালক্রমে 'দীঘা' বলতে শুরু করেন।২. স্থানীয় জনশ্রুতি: কারো কারো মতে, স্থানীয় কোনো বর্ধিষ্ণু পরিবারের বা মৌজার নামানুসারে এই জায়গার নাম দীঘা হয়েছে। তবে 'বীরকুল' নামটি যে প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আরও পড়ুন - ভক্ত কবির : ভক্তি আন্দোলনের পুরোধা কবির দাসের জীবন ও দর্শন ৮. ইতিহাসের সাক্ষী: দীঘার দর্শনীয় স্থানসমূহ চিত্র সৌজন্য একজন ইতিহাসপ্রেমী হিসেবে দীঘায় গেলে আপনি কেবল সমুদ্র দেখবেন না, দেখবেন ইতিহাসের চিহ্নগুলোও: রানসউইক হাউস: ওল্ড দীঘার কাছেই অবস্থিত জন ফ্রাঙ্ক স্নেথের সেই ঐতিহাসিক বাংলো। যদিও এখন এটি সরকারি সম্পত্তি এবং প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত, তবুও বাইরে থেকে এর স্থাপত্য দেখা যায়। স্নেথ সাহেবের সমাধি: রানসউইক হাউসের কাছেই একটি নির্জন জায়গায় শুয়ে আছেন দীঘার প্রথম বাসিন্দা জন ফ্রাঙ্ক স্নেথ। শঙ্করপুর ও মন্দারমণি: দীঘার আশেপাশের এই জায়গাগুলোও একসময় ব্রিটিশদের নজরে ছিল। মন্দারমণির কাছেই 'দাদনপাত্রবাড়' নামক স্থানটি ব্রিটিশ আমলের লবণ তৈরির ইতিহাসের সাক্ষী। জগন্নাথ মন্দির (নির্মীয়মান): বর্তমান সময়ে দীঘার মুকুটে নতুন পালক ওড়িশার আদলে তৈরি বিশাল জগন্নাথ মন্দির, যা ভবিষ্যতের ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে। ৯. উপসংহার: স্মৃতির সরণিতে দীঘা দীঘা কেবল বালুকাবেলা আর নোনা জলের গল্প নয়; এটি একটি রূপান্তরের গল্প। একসময়ের ম্যালেরিয়া-প্রবণ জঙ্গলাকীর্ণ 'বীরকুল' আজ পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রের হৃৎপিণ্ড। ওয়ারেন হেস্টিংসের শৌখিনতা, জন ফ্রাঙ্ক স্নেথের ভালোবাসা এবং বিধানচন্দ্র রায়ের দূরদর্শিতা—এই তিনের সংমিশ্রণেই গড়ে উঠেছে আজকের দীঘা। পরেরবার যখন দীঘার সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখবেন, তখন একবার মনে করবেন সেই সাহেবদের কথা, যারা হাতির পিঠে চড়ে বা ছোট প্লেন চালিয়ে এই সৈকতে আসতেন। মনে করবেন সেই 'বীরকুল'-এর কথা, যা আজ হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য দীঘা কেবল একটি ট্যুরিস্ট স্পট নয়, এটি একটি জীবন্ত টাইম মেশিন। --- > ত্রিবেণী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক জনপদ। প্রাচীন বন্দর সপ্তগ্রামের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। - Published: 2025-12-06 - Modified: 2025-12-06 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be/ ত্রিবেণী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক জনপদ। প্রাচীন বন্দর সপ্তগ্রামের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। ত্রিবেণী সঙ্গম ও ঘাট - চিত্র সৌজন্য ত্রিবেণী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার প্রাচীনতম জনপদগুলোর মধ্যে একটি অনন্য স্থান। বহু সহস্রাব্দ আগে থেকেই এটি ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রাচীন ভারতের বহু ঘটনা, কিংবদন্তি, সাধক-সন্ন্যাসীর পদচিহ্ন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী এই ছোট্ট অঞ্চলটি। স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত ত্রিবেণীর দীর্ঘ ইতিহাস নানা উত্থান-পতনে ভরপুর—যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি আজকের পর্যটকের জন্যও এক অনাবিল অনুসন্ধানের জায়গা। নদী, কীর্তিস্তম্ভ, সাধনভূমি এবং বাণিজ্যবন্দর—সব মিলিয়ে ত্রিবেণী এক বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের ধারক। এই প্রবন্ধে আমরা ত্রিবেণীর ইতিহাসের কালক্রমিক ধারায় প্রবেশ করব—প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, ইসলামি শাসনকালের পরিবর্তন, মুঘল ও নবাব আমল, ঔপনিবেশিক প্রভাব, এবং অবশেষে স্বাধীনতা-পূর্ব রাজনৈতিক উত্তাল সময়। পর্যটকদের জন্যও এখানে থাকছে বেশ কিছু দেখার জায়গার উল্লেখ। নামের উৎস ও ভৌগোলিক গুরুত্ব ‘ত্রিবেণী’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত ‘ত্রি’ (তিন) এবং ‘বেণী’ (প্রবাহ) থেকে। প্রবাদ ও পুরাণ অনুযায়ী, এখানে ভাগীরথী (গঙ্গা), যমুনা (বা কঞ্চরপাড়া খাল) এবং সরস্বতী নদী এসে মিলিত হয়েছে। উত্তর ভারতের প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) যেখানে ‘যুক্তবেণী’ নামে পরিচিত, সেখানে বাংলার এই সঙ্গমস্থলকে বলা হয় ‘মুক্তবেণী’। কারণ বিশ্বাস করা হয় যে, প্রয়াগে জট পাকিয়ে থাকা সরস্বতী নদী এখানে এসে মুক্ত হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে প্রাচীন বাংলায় ত্রিবেণীর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এটি ছিল তৎকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার প্রধান বন্দর ‘সপ্তগ্রাম’-এর প্রবেশদ্বার। বড় বড় সামুদ্রিক জাহাজগুলি সরস্বতী নদী দিয়ে সপ্তগ্রামে ঢুকতে না পারলে ত্রিবেণীতেই নোঙর করত। এখান থেকেই ছোট নৌকায় পণ্য সপ্তগ্রামে নিয়ে যাওয়া হতো। তাই ত্রিবেণী ছিল একাধারে ধর্মীয় সঙ্গম এবং বাণিজ্যের সঙ্গম। ১. প্রাচীন ও বৈদিক যুগে ত্রিবেণী - এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র ত্রিবেণীর প্রাচীনতার উল্লেখ পাওয়া যায় বৈদিক সাহিত্য এবং পরবর্তী পুরাণগুলিতেও। বিশ্বাস করা হয়, গঙ্গার একটি প্রাকৃতিক মোহনা থেকে বহু উপনদী বের হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যেত। সেই নদীগুলির মধ্যে “জামুনা” ও “সরস্বতী” আজ প্রবাহের চরিত্র বদলে হারিয়ে গেলেও তাদের কীর্তি ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। পুরাণ মতে, ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলে পাপমোচন হয়—এমন ধারণা বাংলা অঞ্চলে বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল। এর ফলে বৌদ্ধ, জৈন ও হিন্দু—তিন ধারার ধর্মীয় সাধক ও গৃহস্থরা এখানে বসতি স্থাপন করেন। সেই সময় তীর্থযাত্রা ও নদীবাণিজ্যের জন্য ত্রিবেণীর ভূগোলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোনো নদীপথের কেন্দ্রীয় ভূমিকা গঙ্গার প্রবাহ ত্রিবেণীর ঘাটকে পূর্ব ভারতের এক প্রধান বাণিজ্যপথের কেন্দ্র করে তুলেছিল। উত্তর ভারতের সঙ্গে বঙ্গীয় নগরগুলোর সংযোগ এই নদীপথের মধ্য দিয়েই ছিল। ফলে গঙ্গার স্রোত বদলালেও ত্রিবেণীর পরিচয় বদলায়নি—বরং তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন - প্রাসাদ-নগরী ধান্যকুড়িয়া: বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ ২. মধ্যযুগে ত্রিবেণী—সাহিত্যের উন্মেষ ও সাধক-সন্ন্যাসীদের কেন্দ্র শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ত্রিবেণী আগমন - চিত্র সৌজন্য এক ঐতিহাসিক সাহিত্য-ভূমি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের বিকাশে ত্রিবেণীর নাম আলাদা মর্যাদা পায়। অনন্ত বচন, ত্রিবেণী সাহিত্যের দলিল, এবং বহু পুরনো লিপি প্রমাণ করে যে ত্রিবেণী ছিল জ্ঞানচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসস্থল। বেদপাঠ, পুরাণ-কথন, সংস্কৃত শিক্ষার মঠ ও আশ্রম এখানে গড়ে ওঠে। চৈতন্যদেবের আগমন ১৫শ শতকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ত্রিবেণী আগমন এই অঞ্চলকে নতুন ধর্মীয় উন্মাদনায় ভরিয়ে তোলে।চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যচরিতামৃত-এ উল্লেখ রয়েছে—ত্রিবেণীতে স্নান শেষে তিনি নবদ্বীপে ফিরে যান এবং তাঁর ভক্তেরা ত্রিবেণীকে মহাপবিত্র স্থান হিসেবে মান্য করে আসেন। আজও পর্যটকরা ত্রিবেণী ঘাটে সেই স্মৃতি খুঁজে পান। ৩. মুসলিম শাসনকালে ত্রিবেণী—সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের পরিবর্তন জাফর খান গাজি মসজিদ - চিত্র সৌজন্য ১৩শ শতকের শুরুতে বাংলায় ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার পর ত্রিবেণীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসে। সেনরাজ্যের পতনের পর গৌড়ের মুসলিম সুলতানরা নদীবন্দরগুলোর গুরুত্ব বাড়ান। ত্রিবেণী তখন বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক দিক থেকেও কার্যকর ভূমিকা নেয়। মন্দির, মসজিদ ও সমন্বয়ের চিহ্ন এই সময়ে ত্রিবেণী অঞ্চলে বহু মসজিদ এবং খানকাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মন্দির-ঘাটের ঐতিহ্যও সমান জোরে টিকে ছিল। ইতিহাস বলে—ত্রিবেণীতে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির এক সহাবস্থান তৈরি হয়েছিল, যা অঞ্চলের সামাজিক চরিত্রকে সমৃদ্ধ করে। বন্দর সুবিধা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ ত্রিবেণীর নদীপথ দিয়ে সুতী কাপড়, লোহার সামগ্রী, ধান, এবং চন্দন কাঠ সহ বহু পণ্য বাংলার অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে গৌড় ও উত্তর ভারতের বাজারে যেত। এর ফলে এলাকাটি সমৃদ্ধ, কর্মচঞ্চল ও বহুজাতিক জনপদে পরিণত হয়। আরও পড়ুন - বিজ্ঞানের জানা-অজানা ৫০টি মজার তথ্য ৪. মুঘল ও নবাব আমলে ত্রিবেণী—এক প্রভাবশালী নৌ-বন্দর ১৬শ থেকে ১৮শ শতকের মধ্যে মুঘল শাসনামলে ত্রিবেণীর গুরুত্ব নতুন মাত্রা পায়। গঙ্গার তীর ধরে সেনানিবাস, নৌ-ঘাট এবং শুল্কঘর গড়ে ওঠে। মুঘল প্রশাসনের কাছে ত্রিবেণী ছিল নদীপথ রক্ষার একটি কৌশলগত স্থান। নদীবাণিজ্যের সুদিন মুঘল আমলে হুগলি নদীর ধার ধরে পর্তুগিজ, ফরাসি, ডাচ ও ব্রিটিশ বণিকদের আনাগোনা বাড়ে। ত্রিবেণীও এর প্রভাব অনুভব করে, যদিও প্রধান কুঠিগুলি ছিল হুগলি, চন্দননগর ও সুতানুটিতে। তবুও ত্রিবেণী ছিল ঐ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি অপরিহার্য অংশ। অঞ্চলের কৃষি ও বসতি বিস্তার গঙ্গার পলিযুক্ত ভূমি কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল। ফলে গ্রামসমূহ দ্রুত বাড়তে থাকে। স্থানীয় জমিদার ও প্রজাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ত্রিবেণী বাজার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ৫. ব্রিটিশ আমলে ত্রিবেণী—নতুন অবকাঠামো, রেলপথ ও রাজনৈতিক আন্দোলন ত্রিবেণী নতুন রেলপথ - চিত্র সৌজন্য ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বঙ্গদেশে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং ত্রিবেণীর উপরে তাঁদের প্রশাসনিক নজর আরও বাড়ে। রেলপথ ও শিল্পায়ন ১৮৫৪ সালে হাওড়া-রানাঘাট রেললাইন চালুর পরে ত্রিবেণী আরও বেশি সংযুক্ত হয়ে পড়ে। ত্রিবেণী স্টেশন স্থানীয় ব্যবসাকে নতুন উত্থান দেয়। পরবর্তীকালে ত্রিবেণীর আশপাশে ছোট শিল্পাঞ্চল, গুদামঘর, নৌ-ঘাট এবং বাজার গড়ে ওঠে।যদিও বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি, কিন্তু কৃষিপণ্য পরিবহনে ত্রিবেণী কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করত। শিক্ষা ও সমাজসংস্কার ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে ত্রিবেণীতে পাঠশালা, সংস্কৃত টোল এবং বাংলা শিক্ষার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে ত্রিবেণী ধীরে ধীরে এক সুশিক্ষিত জনপদে পরিণত হয়। ধর্মীয় উৎসবের বিকাশ ত্রিবেণী সঙ্গমে কালীপূজা, গঙ্গাস্নান, ম্যাঘী পূর্ণিমা, রথযাত্রা ইত্যাদি উৎসব তখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হুগলি জেলার চারধার থেকে মানুষ তীর্থ করতে আসতেন। এই ধর্মীয় ঐতিহ্য পরবর্তী পর্যটন গঠনের মূল ভিত্তি। ৬. স্বদেশি আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদ—ত্রিবেণীর জাগরণ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার পর সমগ্র বাংলায় যেভাবে স্বদেশি আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, ত্রিবেণীও তার ব্যতিক্রম ছিল না। স্থানীয় শিক্ষিত যুবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও কৃষকরা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। স্বদেশি শিল্প, বয়কট ও যুব সংঘের ভূমিকা ত্রিবেণীতে দেশি বস্ত্র ব্যবহার, বিদেশি পণ্যের বয়কট এবং দেশীয় কারিগরদের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুব সমাজের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধি পায়। গোপন সভা, স্বদেশি প্রবন্ধ পাঠ, নাট্যোৎসব—সবকিছুই আন্দোলনের ইন্ধন যোগাত। বিপ্লবী কার্যকলাপের প্রভাব হুগলি, চুঁচুড়া, বর্ধমান, হাওড়া—এই এলাকাগুলিতে বিপ্লবী দলগুলির কার্যকলাপ ব্যাপক ছিল। ত্রিবেণীর বহু যুবকই বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। যদিও ত্রিবেণী কোনও বড় সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়নি, তবুও জাতীয় আন্দোলনের স্রোত এখানে গভীরভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল। ৭. গান্ধীয় যুগে ত্রিবেণী—অসহযোগ থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন, সিভিল অবিডিয়েন্স এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়ে ত্রিবেণী ও আশপাশের এলাকাগুলি রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ছিল। স্থানীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যালয় ও গ্রামে গ্রামে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন অনেক স্থানে সরকারি বিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাত্র-যুবকরা স্বেচ্ছায় ইংরেজি শাসনের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমে পড়েন।নারীরাও খাদিপরিচালনা, সভা-সমিতি সংগঠনে অংশ নেন। গ্রামীণ প্রতিরোধ ও ব্রিটিশ প্রশাসনের নজরদারি ত্রিবেণীর ঘাট ও রেলপথের উপরে ব্রিটিশ প্রশাসন কড়া নজরদারি বসায়, কারণ এই পথ ধরে আন্দোলনকারীরা যাতায়াত করতেন। কয়েকটি ছোট সংঘর্ষ, গ্রেফতার ও জরিমানার ঘটনাও নথিবদ্ধ রয়েছে। ৮. স্বাধীনতার প্রাক্কালে ত্রিবেণী—অবক্ষয় থেকে পুনরুত্থানের অপেক্ষা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পরে গঙ্গার প্রবাহ ক্রমশ সরতে শুরু করে। ফলে ত্রিবেণীর কিছু পুরনো বন্দরঘাট অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবুও তীর্থযাত্রা, কৃষি এবং স্থানীয় ব্যবসার ওপর ভিত্তি করে অঞ্চলটি তার অস্তিত্ব রক্ষা করে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ত্রিবেণী একটি শান্ত, ঐতিহ্যপূর্ণ, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তার হাজার বছরের ইতিহাস এই ছোট্ট শহরটিকে এক মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিণত করেছে। পর্যটকদের জন্য ত্রিবেণীর উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হংসেশ্বরী মন্দির - চিত্র সৌজন্য একজন পর্যটকের জন্য ত্রিবেণী আজও এক ‘ওপেন এয়ার মিউজিয়াম’ বা উন্মুক্ত জাদুঘরের মতো। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই নিচের স্থানগুলি ভ্রমণ করতে হবে: ক. জাফর খান গাজি মসজিদ ও দরগা: ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মসজিদটি বাংলার ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের আদি নিদর্শন। কালো ব্যাসল্ট পাথরে তৈরি এই ইমারতের গায়ে হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যের অদ্ভুত মেলবন্ধন আপনাকে মুগ্ধ করবে। খ. ত্রিবেণী সঙ্গম ও ঘাট: যদিও সরস্বতী নদী আজ লুপ্তপ্রায়, তবুও গঙ্গার এই ঘাটে দাঁড়ালে এক পবিত্র অনুভূতি হয়। পূর্ণিমা বা সংক্রান্তির দিনে এখানে স্নান করা বা নিছক গঙ্গার হাওয়া খাওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা। গ. বেণীমাধব মন্দির: প্রাচীন এই মন্দিরের চূড়া এবং গঠনশৈলী বাংলার মন্দির স্থাপত্যের বিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। ঘ. হংসেশ্বরী ও অনন্ত বাসুদেব মন্দির (বাঁশবেড়িয়া): ত্রিবেণী থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির দুটি স্থাপত্যের বিস্ময়। রাজা নৃসিংহদেব রায় মহাশয় এবং তাঁর স্ত্রী রানী শঙ্করীর তৈরি হংসেশ্বরী মন্দিরটি তান্ত্রিক মতে মানবদেহের ‘ষড়চক্র’-এর আদলে নির্মিত, যা ভারতে বিরল। অনন্ত বাসুদেব মন্দিরটি তার অসামান্য টেরাকোটা কাজের জন্য বিখ্যাত। উপসংহার ত্রিবেণীর ইতিহাস শুধু নদীর ইতিহাস নয়—এটি মানুষের বসতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ধর্ম, সাহিত্য এবং রাজনীতির বহু যুগের সমন্বিত দলিল। প্রাচীন বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনের শেষ অবধি ত্রিবেণী এক বহুসাংস্কৃতিক, বাণিজ্যনির্ভর এবং ঐতিহ্যবাহী জনপদ হিসেবে টিকে এসেছে। ইতিহাসপ্রেমী পাঠকের কাছে ত্রিবেণী এক অমূল্য গবেষণাক্ষেত্র, আর পর্যটকের কাছে এটি শান্ত নদীতীরবর্তী এক মনোমুগ্ধকর ভ্রমণস্থান—যেখানে প্রতিটি ঘাট, প্রতিটি গলি অতীতের কথা বলে। নদীর স্রোত যেমন বদলায়, তেমনি বদলায় সময়ের ধারাও—কিন্তু ত্রিবেণীর ঐতিহ্য অমোঘভাবে টিকে আছে, আজও। ভ্রমণ টিপস: কিভাবে যাবেন: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে সহজেই ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নামা যায়। সড়কপথেও কলকাতা থেকে এটি সহজগম্য (প্রায় ৭০ কিমি)। কখন যাবেন: সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ঘোরার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। কুম্ভমেলা বা সংক্রান্তির সময় গেলে স্থানীয় সংস্কৃতির রূপ দেখা যাবে। ত্রিবেণীর এই হাজার বছরের পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নদী হয়তো পথ বদলায়, কিন্তু ইতিহাস তার ছাপ রেখে যায় পাথরে, ইটে আর মানুষের বিশ্বাসে। --- > রূপনারায়ণ নদীর তীরে, সবুজ ফসলের মাঠের মাঝে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন শহর - Published: 2025-12-04 - Modified: 2025-12-14 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0/ রূপনারায়ণ নদীর তীরে, সবুজ ফসলের মাঠের মাঝে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন শহর। আজকের তামলুক এক শান্ত, সাধারণ শহর মনে হলেও, ইতিহাস বলছে—এটাই ছিল ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরনো ও ব্যস্ততম প্রাচীন সমুদ্রবন্দর ‘তাম্রলিপ্ত’ (Tamralipta)। এখানকার ইতিহাসের পরিধি ২,৫০০ বছরেরও বেশি—মৌর্য যুগ থেকে গুপ্ত যুগ, পাল–সেন যুগ, সুলতানি ও মুঘল আমল, ব্রিটিশ শাসন, এবং শেষ পর্যন্ত Quit India আন্দোলনের সময়ে গঠিত ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’—সবকিছুই এই শহরের অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য। প্রাচীন তাম্রলিপ্ত থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তমলুকের ইতিহাস সহজ ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হল যাতে ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটক উভয়েই শহরটিকে নতুন চোখে দেখতে পারেন। ১. তাম্রলিপ্ত: উপমহাদেশের প্রাচীনতম বন্দর শহর কোলকাতা জন্মানোর বহু আগেই, নদী–নালা আর সাগরমুখের জটিল জলপথের পাশে গড়ে উঠেছিল তাম্রলিপ্ত, যা ভারত, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া এবং রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ‘তাম্রলিপ্ত’ নামের উৎপত্তি “তাম্র” মানে তামা“লিপ্ত” মানে আবৃত সম্ভবত এলাকায় তামার কাজ অথবা লালচে মাটির কারণে এ নামের উৎপত্তি। ভৌগোলিক গুরুত্ব রূপনারায়ণ নদী সুবর্ণরেখার শাখা গঙ্গার বদ্বীপ প্রাচীন সমুদ্রের নিকটবর্তীতা এসব মিলিয়ে তাম্রলিপ্ত ছিল সমুদ্রযাত্রার আদর্শ স্থান। কোথায় কোথায় 'তাম্রলিপ্ত' উল্লেখ পাওয়া যায় মহাভারত জাতক কাহিনি প্লিনি ও টলেমির গ্রন্থ চীনা ভিক্ষু হিউয়েন সাং এর ভ্রমণবৃত্তান্ত হিউয়েন সাং তাম্রলিপ্ত সম্পর্কে লিখেছিলেন—“দ্বীপদেশ থেকে আসা নাবিকদের ভিড়ে সকালের বন্দর জমজমাট হয়ে ওঠে।” এটি প্রমাণ করে, তমলুক একসময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আরও পড়ুন - পিঁপড়ে সম্পর্কে ৯৯টি মজার বিশেষত্ব যা আমাদের অবাক করে ২. মৌর্য ও গুপ্ত যুগ: তমলুকের সোনালি সময় মৌর্য আমল (খ্রি. পূ. ৩য় শতক) অশোকের শাসনকালে তমলুক ছিল বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারের প্রধান ঘাঁটি। এখানকার সন্ন্যাসীরা সুমাত্রা, বার্মা ও শ্রীলঙ্কায় ধর্মপ্রচার করতেন। গুপ্ত যুগ (খ্রি. ৪–৬ শতক) তাম্রলিপ্তর অর্থনীতি ও সংস্কৃতির চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। চমৎকার টেরাকোটা শিল্প বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি উন্নত নগর পরিকল্পনা নাবিক, কারিগর ও ব্যবসায়ীদের বসতি গুপ্ত আমলে তমলুক ছিল সত্যিকারের Golden Port City। ৩. সমুদ্রসীমার পরিবর্তন ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে উত্থান ৮ম–১০ম শতকে নদীর গতিপথ বদলাতে থাকে। বালুকাময়তা বাড়ায় বন্দরটির গভীরতা কমে যায়, ফলে তাম্রলিপ্তর বাণিজ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তবে শহরটি পরিণত হয় এক প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বর্গভীমা মন্দির প্রায় ১,১৫০ বছরের পুরনো ৫১ শক্তিপীঠের একটি ওড়িশার রঙ্গদেউল এবং বাংলার স্থাপত্যশৈলীর মিশ্র রূপ আজও তীর্থযাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে এই সময়ে তামলুকের পরিচিতি নতুন করে গড়ে ওঠে শক্তিপূজা ও মন্দিরসংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে। আরও পড়ুন - সাহসিকতার ওপর নাম বিয়ার গ্রিলস: একটি অনুপ্রেরণমূলক গল্প ৪. পাল, সেন ও সুলতানি আমলে তমলুক পাল যুগে (৮ম–১২শ শতক) বৌদ্ধ শিক্ষা, শিল্প ও স্থাপত্যের উন্নতি ঘটে। পাল বংশের পৃষ্ঠপোষকতায় তমলুকের আশপাশে শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। সেন যুগে (১২শ শতক) হিন্দু রাজাদের শাসনে: কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি মন্দির নির্মাণ স্থানীয় শিল্পের বিকাশ সুলতানি আমল (১৩শ–১৬শ শতক) তখন তমলুক হয়ে ওঠে: লবণ, চাল ও পানের বাণিজ্য কেন্দ্র নদীবন্দর আঞ্চলিক প্রশাসনিক সদর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে একটি মিশ্র জনপদ তৈরি হয়। ৫. মুঘল শাসনে তমলুক মুঘল আমলে তমলুক ছিল একটি রাজস্ব জেলা। অর্থনৈতিক কার্যক্রম চাল, পাট, শাঁস, লবণ—উল্লেখযোগ্য রপ্তানি নদীর ঘাটে পণ্য ওঠানামার ব্যস্ততা স্থানীয় জমিদারদের উত্থান ইউরোপীয় বণিকদের আগমন পর্তুগিজ ও অন্যান্য নাবিকেরা তমলুক–হুগলি নদীপথ ব্যবহার করতেন। যদিও প্রধান ইউরোপীয় বাণিজ্য হুগলিতে গড়ে ওঠে, তমলুক রয়ে যায় অভ্যন্তরীণ নদীবাণিজ্যের কেন্দ্র হিসাবে। ৬. ব্রিটিশ শাসনে তমলুক ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর তমলুক চলে আসে ব্রিটিশ শাসনে। কোলকাতা তখন ব্রিটিশদের রাজধানী হওয়ায় তমলুককে বড় বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। তবে তমলুক হয়ে ওঠে: উপমেদিনীপুরের প্রশাসনিক কেন্দ্র রাজস্ব ও আদালতের প্রধান শহর চাল–মাছ–লবণ–জুটের বাণিজ্য কেন্দ্র ১৯শ শতকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তমলুক ব্রিটিশ বাংলার Rural Intellectual Centre হিসেবে পরিচিতি পায়। ৭. বাংলার নবজাগরণে তমলুকের ভূমিকা বাংলার রেনেসাঁসের সময় তমলুকেও দেখা যায়: বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংস্কৃত পঠন-পাঠন সাহিত্যচর্চা জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশ এই প্রস্তুতি পরবর্তী সময়ে তামলুককে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র করে তোলে। ৮. স্বাধীনতা সংগ্রামে তমলুক : তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার চিত্র সৌজন্য তমলুকের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হলো ১৯৪২ সালের Quit India আন্দোলন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা ভারতের ইতিহাসে কয়েকটি অঞ্চলে গোপন বা সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়েছিল; কিন্তু তমলুকের ১৭ ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে Tamralipta Jatiya Sarkar ছিল সবচেয়ে সংগঠিত ও কার্যকর। এর নেতৃত্বে ছিলেন সতীশচন্দ্র সামন্ত – সরকারের প্রধান অজয় মুখার্জি, সুশীল ধাড়া, মাতঙ্গিনী হাজরা – প্রধান সংগ্রামীরাও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরকারের বিভাগ স্বাস্থ্য শিক্ষা ন্যায়বিচার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রতিরক্ষা ত্রাণ ও পুনর্গঠন তাদের কাজ কর সংগ্রহ বেসরকারি আদালত পরিচালনা গ্রামের নিরাপত্তা ব্রিটিশ বিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব এটি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অনন্য উদাহরণ। ৯. তমলুকের নারী সংগ্রামী: মাতঙ্গিনী হাজরা তমলুক subdivision-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন ৭৪ বছরের এক সাহসী স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৯৪২ সালে টাউন হলের দিকে স্বাধীনতা পতাকা নিয়ে মিছিল করার সময় ব্রিটিশ পুলিশ গুলি চালায়। গুলি লাগার পরও তিনি পতাকা উঁচু রেখেছিলেন। তাঁর শেষ কথা ছিল— “বন্দে মাতরম্ ! ” তমলুকের আন্দোলনকে তিনি অমরত্ব দিয়েছেন। ১০. ১৯৪৩ সালের ঘূর্ণিঝড় ও ‘জাতীয় সরকারের’ মানবিক ভূমিকা ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ ঝড় ও বন্যা তমলুক অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করে। ব্রিটিশ প্রশাসন তেমন সাহায্য না করলেও তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার নিজের উদ্যোগে: ত্রাণ শিবির খোলে খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করে গৃহহারা মানুষদের পুনর্বাসন করে জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যায়। ১১. স্বাধীনতার পূর্বমুহূর্তে তমলুক (১৯৪৪–১৯৪৭) ব্রিটিশ দমননীতির মুখে ১৯৪৪ সালে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ভেঙে দেয়া হয়।তবুও তমলুকের মানুষ জাতীয়তাবাদী চেতনায় অটল থাকে। ২৩ বছর পর—১৯৪৭ সালে—ভারত স্বাধীন হয়, এবং তমলুক নিজের সংগ্রামের ইতিহাসকে বুকে নিয়ে গণতন্ত্রের পথে পা বাড়ায়। ১২. ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য তমলুক কেন বিশেষ ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য প্রাচীন সমুদ্রবন্দর—তাম্রলিপ্তির নিদর্শন বৌদ্ধ, হিন্দু, ইসলামি ও ঔপনিবেশিক স্তরের মিশ্রণ স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্র ভারতবর্ষের বিরল সমান্তরাল সরকারের উদাহরণ পর্যটকদের জন্য কী দেখবেন বর্গভীমা মন্দির (শক্তিপীঠ) তমলুক রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ তমলুক মিউজিয়াম (টেরাকোটা, মুদ্রা, ভাস্কর্য, সামুদ্রিক নিদর্শন) মাতঙ্গিনী হাজরা স্মৃতিসৌধ রূপনারায়ণ নদীর তীর ঘোরাঘাটা ও গেঁয়োখালি—নদীর মিলনস্থল পুরনো চার্চ ও ঔপনিবেশিক ভবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ইতিহাসভরা জনপদ শান্ত নদীতীর ঐতিহ্যবাহী বাজার গ্রামীণ বাংলার পরিবেশ স্থানীয় মিষ্টি ও মাছের স্বাদ উপসংহার: নদীর মতোই বহমান ইতিহাস—তমলুক তমলুক শুধু একটি শহর নয়, এটি একটি সময়ের প্রবাহ— প্রাচীন বন্দর মধ্যযুগের ধর্মকেন্দ্র মুঘল–ব্রিটিশ প্রশাসনের অংশ স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্ময়কর গণআন্দোলন এই শহর আজও তার শান্ত পরিবেশে ইতিহাসের প্রতিটি স্তরকে ধারণ করে আছে।ইতিহাসপ্রেমী এবং নতুন জায়গা ঘুরতে ভালোবাসা পর্যটকদের জন্য তমলুক নিশ্চিতভাবে একটি অবশ্য-দর্শনীয়। --- > কলকাতার কাছেই উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রোডের ধারে প্রাসাদ-নগরী ধান্যকুড়িয়া: বাংলার বুকে এক টুকরো ইউরোপ এবং বিস্মৃত ইতিহাসের সন্ধানে একটি তথ্য - Published: 2025-12-02 - Modified: 2025-12-03 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf%e0%a6%af/ কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রোডের ধরে এগোলে হঠাৎই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অদ্ভুত দৃশ্য। চারপাশে দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত, বাঁশঝাড় আর মেঠো পথ—অথচ তার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে আকাশছোঁয়া সব দুর্গ, প্রাসাদের চূড়া, আর ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের স্তম্ভ। মনে হবে যেন জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বাংলার কোনো গ্রাম হঠাৎ ইংল্যান্ডের রাজকীয় কান্ট্রিসাইডে রূপান্তরিত হয়েছে। এই গ্রামের নাম ধান্যকুড়িয়া, যাকে অনেকে ভালোবেসে ডাকেন ‘বাংলার ক্যাসেল ভিলেজ’ বা ‘প্রাসাদ নগরী’। আজকের ধান্যকুড়িয়া পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় ‘অফবিট’ গন্তব্য হলেও, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগের ধান্যকুড়িয়া ছিল এক অন্য পৃথিবী। সেই ইতিহাস ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি এবং বাবু সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল। আসুন, ফিরে দেখা যাক সেই স্বর্ণযুগের ধান্যকুড়িয়াকে, যখন পাট ছিল ‘সোনালী আঁশ’ আর গ্রামের জমিদাররা স্বপ্ন দেখতেন নিজেদের গ্রামকে ইউরোপের ধাঁচে সাজানোর। ১. সূচনাপর্ব: সুন্দরবন হাসিল ও জনবসতি (১৭৪২–১৮০০) ধান্যকুড়িয়ার ইতিহাসের শুরুটা কিন্তু কোনো রাজপ্রাসাদ দিয়ে হয়নি, হয়েছিল কুঠার আর লাঙল দিয়ে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই অঞ্চলটি ছিল সুন্দরবনের উত্তর প্রান্তের এক ভয়ানক জঙ্গল। বাঘ, কুমির আর ডাকাতদের উপদ্রবে এই এলাকা ছিল বসবাসের অযোগ্য। ইতিহাস এবং জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৭৪২ সাল নাগাদ এই জঙ্গল হাসিল বা ‘আবাদ’ করার কাজ শুরু হয়। মনে করা হয়, বাংলায় তখন মারাঠা বর্গীদের হানা চলছে। বর্গীদের লুটতরাজ আর অত্যাচারের ভয়ে পশ্চিম ও দক্ষিণ বাংলার বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করেন। এমনই এক সময়ে জগন্নাথ দাস নামে এক সাহসী ব্যক্তি এখানে এসে আশ্রয় নেন। তিনিই প্রথম এই জঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে তাঁর সাথে যোগ দেয় মন্ডল, সাউ (Sahoo), গাইন (Gayen) এবং বল্লভ (Ballav) পরিবার। এঁরা কেউই শুরুতে জমিদার ছিলেন না; এঁরা ছিলেন মূলত কঠোর পরিশ্রমী কৃষক ও ব্যবসায়ী। লবণাক্ত জলাভূমিকে তাঁরা কঠোর পরিশ্রমে উর্বর কৃষি জমিতে রূপান্তরিত করেন, যেখানে শুরু হয় ধান ও আখের চাষ। এই সময়কালটি ছিল অস্তিত্ব রক্ষা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের যুগ। আরও পড়ুন: এ পি জে আব্দুল কালাম মহান ভারতীয় বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রপতি ২. বণিক রাজদের উত্থান (১৮০০–১৯০০) ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করছে এবং কলকাতাকে ‘প্রাসাদ নগরী’তে পরিণত করছে, তার প্রভাব এসে পড়ে ধান্যকুড়িয়াতেও। কৃষিকাজ থেকে সরে এসে ধান্যকুড়িয়ার প্রধান পরিবারগুলো—বিশেষ করে গাইন, সাউ এবং বল্লভরা—ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এই অঞ্চলের উর্বর জমিতে ধান আর আখের ফলন তো ভালো ছিলই, কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয় পাট (Jute) এবং গুড়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে তখন পাটের বস্তা আর দড়ির বিপুল চাহিদা। বাংলা হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে পাটের একচেটিয়া জোগানদার। ধান্যকুড়িয়ার এই পরিবারগুলো ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর সাথে সরাসরি ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তারা হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের ‘কম্প্রেডর’ বা মধ্যস্থতাকারী। পাটের কারবার এবং আড়তদারির মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থের মালিক হয়। এই নতুন ধনীরা সনাতন জমিদারদের মতো শুধু প্রজাদের করের টাকায় চলতেন না; এঁরা ছিলেন পুরোদস্তুর পুঁজিপতি বা ক্যাপিটালিস্ট। হাতে নগদ টাকার অভাব ছিল না, আর সেই টাকার জোরেই তাঁরা চাইলেন নিজেদের গ্রামকে বিলেতি সাহেবি কায়দায় সাজিয়ে তুলতে। ৩. স্থাপত্যের মহাযজ্ঞ: ইউরোপ যখন বাংলায় ১৯৪৭-এর আগের ধান্যকুড়িয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এই ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাসাদ তৈরির অঘোষিত প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে সুন্দর এবং বড় ইমারত তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে চলত রেষারেষি। তবে তাঁদের স্থাপত্যশৈলী ছিল অদ্ভুত—ভেতরে খাঁটি বাঙালি হিন্দু বাড়ির অন্দরমহল, আর বাইরে ইউরোপীয় দুর্গের আভিজাত্য। ক) গাইন বাগান বাড়ি (The Gaine Garden House) ধান্যকুড়িয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এই বাগান বাড়িটি। এটি স্থানীয়দের কাছে ‘গাইন ক্যাসেল’ নামেই বেশি পরিচিত। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।ইংরেজ সাহেবদের এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের আপ্যায়ন করার জন্য এটি তৈরি হয়েছিল। এর গঠনশৈলী অবাক করার মতো: মধ্যযুগীয় দুর্গ: এর ছাদের পাঁচিলগুলো দুর্গের মতো খাঁজ কাটা, যেন যুদ্ধক্ষেত্র। প্রবেশদ্বার: তোরণের ওপর দুই ইউরোপীয় পালোয়ান একটি সিংহের সাথে লড়াই করছে—যা ব্রিটিশ শক্তির প্রতীক। জলরাশি: দুর্গের সামনে পরিখার মতো একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল, যাতে এর প্রতিবিম্ব পড়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। খ) গাইন রাজবাড়ি বাগান বাড়ি যদি হয় বিনোদনের জন্য, তবে গাইন রাজবাড়ি ছিল বসবাসের জন্য। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মহেন্দ্রনাথ গাইন এই বিশাল অট্টালিকাটি নির্মাণ করেন। এটি ‘ফিউশন আর্কিটেকচার’ বা মিশ্র স্থাপত্যের সেরা উদাহরণ। এর বারান্দায় সারি সারি করিন্থিয়ান ও আইওনিয়ান পিলার। বাড়ির এক কোণে রয়েছে ‘নজর মিনার’—একটি গম্বুজাকার ওয়াচ-টাওয়ার, যার স্থাপত্যে ইসলামি এবং পাশ্চাত্য রীতির মিশ্রণ দেখা যায়। ভেতরে রয়েছে বিশাল ঠাকুর দালান, যেখানে প্রতি বছর ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হতো। গ) সাউ এবং বল্লভ ম্যানশন গাইনদের সাথে পাল্লা দিয়ে সাউ পরিবার (পতিত চন্দ্র সাউ প্রমুখ) এবং বল্লভ পরিবার (শ্যামাচরণ বল্লভ) তৈরি করেন তাদের নিজস্ব প্রাসাদ।বল্লভদের বাড়িটি ‘পুতুল বাড়ি’ নামেও পরিচিত। এই বাড়ির ছাদের কার্নিশে এবং বাগানে সাজানো ছিল সারি সারি মূর্তি—রোমান দেবী থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ান পুতুল। বাংলার গ্রামীণ পটভূমিতে এই বিদেশি মূর্তির সমাহার এক পরাবাস্তব দৃশ্য তৈরি করত। আরও পড়ুন: তোতা কাহিনী - সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি বিখ্যাত রম্যরচনা ৪. রাজ আমলের সমাজ ও সংস্কৃতি ১৯৪৭-এর আগে ধান্যকুড়িয়ার জীবনযাত্রা ছিল সাহেবিয়ানা এবং গোঁড়া হিন্দু ঐতিহ্যের এক বিচিত্র সংমিশ্রণ। বাবু কালচার:বাড়ির কর্তারা কলকাতায় গিয়ে সাহেবি পোশাক পরতেন, চেম্বার অফ কমার্সের মিটিংয়ে ইংরেজিতে কথা বলতেন। কিন্তু গ্রামে ফিরে তাঁরা হয়ে যেতেন আদ্যপান্ত বাঙালি জমিদার। বাগান বাড়িতে হয়তো পিয়ানো বাজিয়ে পার্টি হতো, কিন্তু অন্দরমহলে কঠোরভাবে পালিত হতো ধর্মীয় অনুশাসন। ধর্মীয় উৎসব:ইউরোপীয় স্থাপত্যের আড়ালে গ্রামের আত্মা ছিল কিন্তু বৈষ্ণব ও শাক্ত ধর্মে নিবেদিত। রাসমেলা: গ্রামের জমিদাররা মিলে একটি অপূর্ব ‘নবরত্ন’ শৈলীর ** রাসমঞ্চ** তৈরি করেন। এটি দেখতে একেবারেই বাংলার মন্দিরের মতো, যা প্রাসাদের স্থাপত্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। দুর্গাপুজো: পুজোর সময় সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে প্রাসাদের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হতো। সাউ, গাইন ও বল্লভ—সব বাড়ির ঠাকুর দালানে ঢাকের আওয়াজে মুখরিত হতো পরিবেশ। জনহিতকর কাজ:এই বণিক পরিবারগুলো বিশ্বাস করতেন, অর্থের সাথে সাথে সামাজিক দায়িত্বও আসে। তাঁরা গ্রামের উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। শিক্ষা: ১৮৮৫ সালে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ধান্যকুড়িয়া হাই স্কুল, যা ছিল সেই সময়ের অন্যতম সেরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। রেলপথ: বারাসাত-বসিরহাট লাইট রেলওয়ে (BBLR) তৈরিতে এঁদের বড় ভূমিকা ছিল। মার্টিন বার্ন কোম্পানির এই রেলপথে ‘ধান্যকুড়িয়া’ নামে একটি স্টেশনও ছিল, যা দিয়ে সহজেই কলকাতায় পাট পাঠানো হতো। ৫. স্বাধীনতার প্রাক্কাল (১৯০০–১৯৪৭) বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ধান্যকুড়িয়ার জমিদাররা সাধারণত ব্রিটিশ সরকারের অনুগত ছিলেন। উপেন্দ্রনাথ সাউ বা আশুতোষ গাইনের মতো ব্যক্তিরা জনসেবার জন্য ব্রিটিশদের কাছ থেকে ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব পেয়েছিলেন। তবে স্বদেশী আন্দোলনের ঢেউ থেকেও এই গ্রাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল না। বাড়ির নতুন প্রজন্মের ছেলেরা ক্রমশ কলকাতার রাজনৈতিক আবহে জড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৪৩-এর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় এই জমিদাররা তাঁদের গোলা খুলে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের জন্য—যা ছিল তাঁদের সামন্ততান্ত্রিক উদারতার শেষ নিদর্শন। ৬. ১৯৪৭: একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ধান্যকুড়িয়ার ইতিহাসে এক বড় ছেদ টেনে দেয়। যদিও গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গের (ভারতের) অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু পাটের ব্যবসায় ধস নামে। পাটের চাষ হতো মূলত পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশ), আর কলকারখানা ছিল পশ্চিমে। দেশভাগের ফলে কাঁচামালের জোগান বন্ধ হয়ে যায়। সেই পুরনো সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। এর কিছুদিন পরেই ১৯৫০-এর দশকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই পরিবারগুলোর আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং জীবিকার সন্ধানে পরিবারের অনেকেই কলকাতায় পাড়ি জমান। পড়ে থাকে বিশাল সব প্রাসাদ, যা আজ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পর্যটকদের জন্য গাইড: বর্তমান ধান্যকুড়িয়া ইতিহাসের সেই স্বর্ণযুগকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে ধান্যকুড়িয়া আজও আপনাকে হতাশ করবে না। এক বা দু'দিনের ভ্রমণের জন্য এটি আদর্শ। কী কী দেখবেন? ১. গাইন বাগান বাড়ি (দ্য ক্যাসেল): যদিও এটি এখন সরকারি মালিকানাধীন এবং ভেতরে ঢোকা সবসময় সম্ভব হয় না, কিন্তু টাকি রোডের ওপর দাঁড়িয়ে এর দৃশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবে। রূপকথার দুর্গের মতো এর গঠন ছবি তোলার জন্য আদর্শ।২. গাইন রাজবাড়ি: এই বাড়িতে এখনো বংশধররা বসবাস করেন। অনুমতি নিয়ে বা অনুরোধ করলে তাঁরা অনেক সময় পর্যটকদের তাঁদের বিখ্যাত ঠাকুর দালান এবং নজর মিনারটি দেখতে দেন।৩. বল্লভ ম্যানশন (পুতুল বাড়ি): সবুজ ও সাদা রঙের এই বাড়িটির গায়ে এবং ছাদে বিভিন্ন মূর্তির কাজ দেখার মতো।৪. রাসমঞ্চ: জমিদার বাড়িগুলোর কাছেই অবস্থিত এই সুউচ্চ নবরত্ন মন্দিরটি বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যের নিদর্শন।৫. পুরানো স্কুল ও হাসপাতাল: ১৮৮৫ সালে তৈরি স্কুল বিল্ডিংটি আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। কখন যাবেন? ধান্যকুড়িয়া যাওয়ার সেরা সময় হলো দুর্গাপুজোর (সেপ্টেম্বর/অক্টোবর) চার দিন। এই সময় সাউ এবং গাইন বাড়ির তালাবদ্ধ দালানগুলো খুলে দেওয়া হয়, ঝাড়বাতিতে আলো জ্বলে, এবং পরিবারের সদস্যরা শহর থেকে গ্রামে ফেরেন। সেই পুরনো আভিজাত্য তখন কিছুদিনের জন্য প্রাণ ফিরে পায়। কীভাবে যাবেন? গাড়িতে: কলকাতা থেকে টাকি রোড ধরে বারাসাত হয়ে সহজেই ধান্যকুড়িয়া পৌঁছানো যায় (দেড় থেকে দু'ঘণ্টার পথ)। ট্রেনে: শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ধরে কাঁকড়া মির্জানগর স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে অটো বা টোটো করে ১৫ মিনিটে গ্রামে পৌঁছানো যায়। উপসংহার ধান্যকুড়িয়া কেবল কিছু পুরনো ইটের পাঁজর নয়; এটি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প। এটি এমন এক সময়ের সাক্ষী, যখন বাংলার কিছু সাহসী মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজেদের গ্রামকে বিলেত বানানোর। সেই স্বপ্ন আজ হয়তো ফিকে হয়ে গেছে, কিন্তু ধান্যকুড়িয়ার প্রতিটি থাম, খিলান আর অলিন্দে কান পাতলে আজও শোনা যায় সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের ফিসফিসানি। তথ্য সৌজন্য :-theindianquestreserchgatehomegrownkolkatafirstthespace --- > পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য আমরা যতই জানতে পারি ততই যেন এই লড়াকু ও কর্মঠ প্রাণী সম্পর্কে শ্রদ্ধা বাড়ে। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রাণী - Published: 2025-11-27 - Modified: 2025-11-27 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%81%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5/ পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য আমরা যতই জানতে পারি ততই যেন এই লড়াকু ও কর্মঠ প্রাণী সম্পর্কে শ্রদ্ধা বাড়ে। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রাণী। পিঁপড়েরা দারুন শক্তিশালী, কিছু প্রজাতি তাদের শরীরের ওজনের ৫০ গুণ পর্যন্ত বহন করে এবং প্রাচীন পোকামাকড় যা ডাইনোসরের সময় থেকে বিদ্যমান। তারা ফেরোমোন নামক রাসায়নিক পথ ব্যবহার করে যোগাযোগ করে, দুটি পাকস্থলী থাকে (একটি নিজেদের জন্য, একটি উপনিবেশের জন্য), এবং তাদের ফুসফুস এবং কান নেই, তাদের শরীরের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয় এবং কম্পনের মাধ্যমে মাটি অনুভব করে। উপরন্তু, কিছু পিঁপড়ার উপনিবেশ সম্পূর্ণরূপে স্ত্রী, এবং রানী পিঁপড়া কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে। পিঁপড়ে সম্পর্কে মজার তথ্য: ৯৯টি জেনে নেওয়া যাক 1. পিঁপড়েরা খুবই শক্তিশালী! তারা নিজেদের ওজনের ৫০ গুণ ভার তুলতে পারে। 2. ‘সৈনিক পিঁপড়ে’ তাদের মাথা দিয়ে বাসার দরজা আটকে বহিরাগতদের ঢুকতে দেয় না। 3. পৃথিবীতে প্রায় ১২,০০০ প্রজাতির পিঁপড়ে রয়েছে। 4. শরীরের তুলনায় তাদের পেশি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। 5. পৃথিবীর সব মানুষের ওজন আর সব পিঁপড়ের ওজন যোগ করলে প্রায় সমান হয়। 6. পিঁপড়েরা গাছ থেকে গাছে অন্য পোকা বয়ে নিয়ে যায়—তাদের মিষ্টি রস পাওয়ার জন্য! 7. কিছু পিঁপড়ে অন্য কলোনির পিঁপড়েদের ধরে এনে জোর করে কাজ করায়। জোর করে কাজ করায় - চিত্র সৌজন্য 8. বিজ্ঞানীদের মতে, পিঁপড়ে পৃথিবীতে ১৩ কোটি বছর ধরে আছে। 9. এক ধরনের পিঁপড়ের নাম রাখা হয়েছে অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ডের নামে। 10. মানুষের আগেই পিঁপড়েরা চাষাবাদ করতে শিখেছিল—তাই তারা প্রথম “কৃষক”। 11. খাবারের পথ খুঁজতে তারা অন্য পিঁপড়ের গন্ধের পথ (ফেরোমোন) অনুসরণ করে। 12. রানি পিঁপড়ে মিলন সম্পন্ন করলে তার ডানা ঝরে যায়। 13. সব কর্মী পিঁপড়ে—অর্থাৎ শ্রমিক পিঁপড়ে—আসলেই মেয়ে এবং তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। 14. পুরুষ পিঁপড়েদের ডানা থাকে এবং তারা আকাশে উড়ে সঙ্গিনী খুঁজে বেড়ায়। 15. বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিঁপড়ে হলো “বুলেট অ্যান্ট”—দৈর্ঘ্য প্রায় ১. ৬ ইঞ্চি! বুলেট অ্যান্ট - চিত্র সৌজন্য 16. পুরুষ পিঁপড়ের একমাত্র কাজ হলো রানি পিঁপড়ের সঙ্গে মিলন করা; তারপর সে মারা যায়। 17. পিঁপড়েরা বরফযুগেও বেঁচে ছিল—ডাইনোসরের থেকেও বেশি টিকে গেছে। 18. তারা পৃথিবীর সব মহাদেশে থাকে, শুধু আর্কটিক ও আন্টার্কটিক ছাড়া। 19. পৃথিবীতে মোট পিঁপড়ের সংখ্যা প্রায় ১০,০০০ ট্রিলিয়ন! 20. এক প্রাগৈতিহাসিক পিঁপড়ের ডানার বিস্তার ছিল ৬ ইঞ্চি—নাম ছিল Titanomyrma giganteum। 21. উষ্ণমণ্ডলীয় জঙ্গলে সব প্রাণীর মোট ওজনের ২৫%–ই পিঁপড়ে! 22. সাধারণ কালো গৃহস্থ পিঁপড়ে কুকুরের থেকেও বেশি বাঁচে—গড়ে ১৫ বছর। 23. অনেকগুলো পিঁপড়েকে একসাথে বলা হয় “সোয়ার্ম” বা পিঁপড়ের ঝাঁক। 24. অনেক পিঁপড়ে মিলে একসাথে কাজ করলে যেন এক বিশাল “মস্তিষ্কের দল” তৈরি হয়। 25. অস্ট্রেলিয়ার সবুজ পিঁপড়ের পিছনের অংশ নাকি লেবুর মতো টক স্বাদ! 26. কিছু পিঁপড়ের বাসা মাটির নিচে দুই ফুট গভীর পর্যন্ত হয়। 27. অস্ট্রেলিয়ার “বুলডগ অ্যান্ট” মানুষের মৃত্যুও ঘটিয়েছে—এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক পিঁপড়ে। বুলডগ অ্যান্ট - চিত্র সৌজন্য 28. অ্যামাজনের আগুন পিঁপড়েরা একসঙ্গে পা জুড়ে ভেলা তৈরি করে নদী পার হয়। 29. একটি কলোনিতে তিন ধরনের পিঁপড়ে থাকে—রানি, বড় শ্রমিক ও ছোট শ্রমিক। 30. আশ্চর্য হলেও সত্যি—কলোনির প্রায় ২০% পিঁপড়ে কিছুই করে না! 31. রানি পিঁপড়ে ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে—সবচেয়ে দীর্ঘজীবী পোকা। 32. বুলেট অ্যান্টের হুল পৃথিবীর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক—ব্যথা ২৪ ঘণ্টা থাকে! 33. সৈন্য পিঁপড়েরা অন্য কলোনি থেকে ডিম চুরি করে এনে দাস শ্রমিক বানায়। 34. কিছু আমেরিকান উপজাতিতে ছেলেদের পরীক্ষায় বুলেট অ্যান্টের কামড় খাওয়ানো হয়। 35. রানি মারা গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই কলোনির বাকি সবাই মারা যায়। আরও পড়ুন - বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায় সালার ডি উয়ুনি ? 36. পিঁপড়েরা ‘হাইমেনোপটেরা’ পরিবারভুক্ত—মৌমাছি ও বোলতার মতো। 37. রানি পিঁপড়ের কাজ হাজার হাজার ডিম পাড়া। 38. পিঁপড়ে কান দিয়ে নয়—কম্পন দিয়ে ‘শোনে’! 39. পিঁপড়ের ফুসফুস নেই—ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে অক্সিজেন ঢোকে ও বের হয়। 40. কাঠ-পিঁপড়েরা (Carpenter ants) গাছ বা কাঠে বাসা বানায়—বাড়ির কাঠ নষ্ট করতে পারে। Carpenter ants - চিত্র সৌজন্য 41. কিছু পিঁপড়ে বাজে গন্ধ ছাড়ে—যেমন ‘ওডোরাস হাউস অ্যান্ট’-এর গন্ধ পচা নারকেলের মতো। 42. মহিলা কর্মী পিঁপড়েরা বাসা থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত হাঁটে—তাদের জন্য অনেক দূর। 43. বুলেট অ্যান্টের কামড়ে বড় মাকড়সাও প্যারালাইসড হয়ে যায়। 44. যদি পিঁপড়ে মানুষের সমান বড় হতো, তবে ঘোড়ার মতো দ্রুত দৌড়াতে পারত। 45. ৪০,০০০ পিঁপড়ে মিলে একটি মানুষের মতোই বুদ্ধিমান! 46. পিঁপড়ের দুটি পেট থাকে—একটি নিজের খাবারের জন্য, আরেকটি অন্যকে খাওয়ানোর জন্য। 47. অস্ট্রেলিয়ার সবুজ পিঁপড়ের কলোনি ১২টি গাছ জুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে। 48. পিঁপড়ের ডিম রানির লালা খেয়ে টিকে থাকে! 49. একটি ‘সুপার কলোনি’-তে ৩০ কোটি পিঁপড়ে থাকতে পারে। সুপার কলোনি - চিত্র সৌজন্য 50. কিছু পিঁপড়ে ঘর ছাড়াই সব সময় ঘুরে বেড়ায়—এরা ‘আর্মি অ্যান্ট’। 51. পৃথিবীতে প্রতি মানুষে প্রায় ১০ লাখ পিঁপড়ে রয়েছে। 52. পিঁপড়েরা সাঁতারও কাটতে পারে! 53. তারা সবচেয়ে বুদ্ধিমান পোকা—তাদের মস্তিষ্কে থাকে ২,৫০,০০০ কোষ। 54. পাতাকাটা পিঁপড়েরা ছত্রাক চাষ করে—তাই তারাও কৃষক! 55. আর্মি অ্যান্টরা কখনও স্থায়ী বাসা বানায় না—সব সময় চলতে থাকে। 56. তারা অন্য কলোনির সঙ্গে সপ্তাহের পর সপ্তাহ যুদ্ধ করতে পারে। আরও পড়ুন - হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময় : ওয়েলউইটশিয়া 57. পিঁপড়ের রক্ত বর্ণহীন, কোনো রং নেই। 58. বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোনি ক্যালিফোর্নিয়ায়—৬০০ মাইল জুড়ে। 59. ‘ড্রাইভার অ্যান্ট’ খুব ভয়ংকর—তারা দলে দলে সবকিছু খেয়ে ফেলে। 60. উইপোকা পিঁপড়ে নয়—তারা আসলে আরশোলার আত্মীয়। 61. পিঁপড়েরা একে অন্যকে শেখায়—এটা স্তন্যপায়ীদের বাইরে আর কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। 62. তারা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দেখে পথ চিনতে পারে—নেভিগেশনে মাস্টার! 63. মেক্সিকোতে পিঁপড়ের ডিম খুব দামি খাবার—যাকে বলা হয় ‘এস্কামোলেস’। এস্কামোলেস - চিত্র সৌজন্য 64. প্রতি বছর পিঁপড়েরা প্রতি বর্গমাইলে ৫০ টন মাটি সরায়। 65. ফুসফুস নেই বলে তারা একদিন পানির নিচেও বাঁচতে পারে। 66. আগুন পিঁপড়ে (Fire ant) প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা ঘুমায়। 67. ভারতবর্ষে প্রায় ৮২৮ প্রজাতির পিঁপড়ে পাওয়া যায়। 68. ডিম নিষিক্ত হলে মেয়ে পিঁপড়ে জন্মায়, না হলে ছেলে। 69. ডিম ফুটলে শিশু পিঁপড়েদের শ্রমিক পিঁপড়েরা লালন করে। 70. পিঁপড়ের চোখ বহু ছোট চোখের সমষ্টি—তারা নড়াচড়া ভালো দেখে। 71. আর্মি অ্যান্টের ঝাঁক ১০০ মিটার লম্বা হতে পারে! 72. বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পিঁপড়ে মাত্র ২ মিমি—নাম ‘ফেরাও অ্যান্ট’। 73. অস্ট্রেলিয়ার এক ধরনের মাকড়সা সবুজ পিঁপড়ের মতো ছদ্মবেশ ধরে তাদের বাসায় ঢোকে ও বাচ্চা খায়—এটাকে বলে ‘কেমিক্যাল মিমিক্রি’। 74. পাতাকাটা পিঁপড়েরা নিজেদের ওজনের ৫০ গুণ তুলতে পারে—এরা সবচেয়ে শক্তিশালী। সবচেয়ে শক্তিশালী পিঁপড়ে - চিত্র সৌজন্য 75. ফুলগাছ জন্মানোর পর জটিল মাটির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পিঁপড়ের বিবর্তন ঘটেছে—১০ কোটি বছর আগে। 76. হাওয়াই দ্বীপে ৫০ প্রজাতির পিঁপড়ে আছে—এর কোনোটাই সেখানকার নিজস্ব নয়। 77. রানি পিঁপড়ের তেমন ক্ষমতা নেই—পুরো কলোনি একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়। 78. বুলডগ অ্যান্টের কামড়ে ১৫ মিনিটে মানুষও মারা যেতে পারে। 79. বেশিরভাগ কলোনিতে একজন রানি থাকে, তবে কিছু আগুন পিঁপড়ে ও আর্জেন্টিনা পিঁপড়ে দুই রানিও রাখে। 80. পিঁপড়েরা শুঁয়োর মতো নাক নয়—অ্যান্টেনা দিয়ে গন্ধ পায়। 81. পিঁপড়ের চোয়াল কাঁচির মতো—সাইডওয়ে খোলে। 82. তারা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন—আবর্জনা বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে। 83. প্রতিটি কলোনির আলাদা গন্ধ থাকে—এতে অপরিচিত কে তা বোঝা যায়। 84. অনেক পাখি কালো পিঁপড়ে পালকে লাগায়—কারণ তাদের অ্যাসিড পরজীবী মারে। 85. ঠান্ডা পড়লে শ্রমিক পিঁপড়ে বাচ্চাদের বাসার ভেতর দিকে সরিয়ে আনে। 86. ‘হানি পট অ্যান্ট’ শরীরে মিষ্টি রস জমিয়ে রাখে—আর অন্যদের খাওয়ায়। হানি পট অ্যান্ট 87. পিঁপড়া হল পোকামাকড়ের জগতের মেষপালক এবং এফিডের পাল, যা তাদের শিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে। 88. ‘ক্যার্পেন্টার অ্যান্ট’ বিপদের সময় গা ফাটিয়ে বিষ বের করে আক্রমণকারীকে মেরে ফেলে। 89. মাদাগাস্কারে ‘ভ্যাম্পায়ার অ্যান্ট’ আছে—তারা বাচ্চা পিঁপড়ের রক্ত খায়। ভ্যাম্পায়ার অ্যান্ট - চিত্র সৌজন্য 90. একটি লার্ভা (শিশু পিঁপড়ে) যদি বেশি ভালো খাবার পায়, তবে সে রানি হতে পারে। 91. অ্যারিজোনায় পিঁপড়েরা ছোট রত্ন (গারনেট) খুঁজে মাটির উপর নিয়ে আসে। 92. রানি হওয়ার যোগ্য পিঁপড়েকে বলা হয় ‘প্রিন্সেস অ্যান্ট’। 93. পিঁপড়ে মারা গেলে তার শরীর থেকে গন্ধ বের হয়—অন্য পিঁপড়েরা তাকে কবরস্থানে নিয়ে যায়। 94. এক স্কাইডাইভার নাকি আগুন পিঁপড়ের কামড়ে বেঁচে গিয়েছিলেন—কামড়ে তার হার্ট চলতে থাকে! 95. পূর্ব আফ্রিকার কিছু উপজাতি কাটাছেঁড়া সারাতে পিঁপড়ের চোয়াল দিয়ে ক্ষত সেলাই করে। 96. ডানা-ওয়ালা পিঁপড়েরা সাধারণত বড় ও স্থায়ী কলোনিতে জন্মায়। 97. বুলেট অ্যান্টের কামড় নাকি গুলির মতোই ব্যথা দেয়—তাই নাম বুলেট অ্যান্ট! বুলেট অ্যান্ট - চিত্র সৌজন্য 98. পিঁপড়ের চোখ অনেক ছোট চোখের সমষ্টি—তাই তারা বহু দিক দেখতে পায়। 99. ‘জম্বি পিঁপড়ে’ সত্যি আছে—এক ধরনের ছত্রাক পিঁপড়েকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্য পিঁপড়েরা তা বুঝলে ওই আক্রান্ত পিঁপড়েকে মেরে ফেলে। --- > 'ব্যাঙ কন্যা' গল্পটি এক অপূর্ব সুন্দরী কুমারীকে নিয়ে, যদিও তার চেহারা ছিল ব্যাঙের মতো তবুও সে মানুষের মতো কথা বলত এবং মানুষের মতোই আচরণ করত - Published: 2025-11-24 - Modified: 2025-11-24 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/ 'ব্যাঙ কন্যা' গল্পটি এক অপূর্ব সুন্দরী কুমারীকে নিয়ে, যদিও তার চেহারা ছিল ব্যাঙের মতো তবুও সে মানুষের মতো কথা বলত এবং মানুষের মতোই আচরণ করত। মায়ানমারের লোককথা - ব্যাঙ কন্যা এক নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতি ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একটি সন্তানের জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাই যখন স্ত্রী জানতে পারলেন যে তিনি গর্ভবতী, তখন তাদের আনন্দের সীমা ছিল না। কিন্তু তাদের চরম হতাশা জাগল যখন স্ত্রী একটি মানুষের শিশুর জন্ম না দিয়ে একটি ছোট স্ত্রী-ব্যাঙের জন্ম দিলেন। তবে, এই ছোট ব্যাঙটি মানুষের শিশুর মতো কথা বলত এবং আচরণ করত বলে শুধু তার বাবা-মা-ই নন, প্রতিবেশীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করল এবং আদর করে ডাকত "ছোট্ট ব্যাঙ-খুকি"। কিছু বছর পর বৃদ্ধা মারা গেলেন, এবং বৃদ্ধ আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি এমন এক বিধবাকে বেছে নিলেন যার ছিল দুটি কদাকার মেয়ে। এই তিনজনই ছোট্ট ব্যাঙ-খুকির প্রতিবেশীদের মধ্যে যে জনপ্রিয়তা ছিল তাতে ভীষণ ঈর্ষান্বিত ছিল। তারা তিনজনই ব্যাঙ-খুকিকে নানাভাবে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পেত। -=- একদিন রাজার চার ছেলের মধ্যে কনিষ্ঠ রাজকুমার ঘোষণা করলেন যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট দিনে কেশ প্রক্ষালন অনুষ্ঠান (Hair-washing ceremony) করবেন। তিনি রাজ্যের সমস্ত যুবতীকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন, কারণ অনুষ্ঠানের শেষে তিনি তাদের মধ্যে থেকে একজনকে রাজকুমারী হিসেবে বেছে নেবেন। নির্দিষ্ট দিনের সকালে দুই কুৎসিত সৎ-বোন সুন্দর পোশাক পরে, রাজকুমারের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার প্রবল আশা নিয়ে রাজবাড়ির দিকে যাত্রা করল। ছোট্ট ব্যাঙ-খুকি তাদের পিছু পিছু দৌড়ে গেল এবং কাকুতি-মিনতি করে বলল, "দিদিরা, দয়া করে আমাকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও।" দিদিরা হেসে ঠাট্টা করে বলল, "কী, ছোট ব্যাঙ যাবে? আমন্ত্রণটা যুবতীদের জন্য, ছোট ব্যাঙের জন্য নয়! " ব্যাঙ-খুকি তাদের সঙ্গে রাজবাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল এবং যেতে দেওয়ার জন্য অনুনয় করতে থাকল। কিন্তু দিদিরা ছিল অনমনীয়। তাই রাজবাড়ির ফটকে তাকে ছেড়ে তারা ভেতরে চলে গেল। তবে, ব্যাঙ-খুকি ফটকের প্রহরীকে এত মিষ্টি করে বলল যে তারা তাকে ভেতরে যেতে দিল। ব্যাঙ-খুকি দেখল রাজবাড়ির বাগানে শাপলা ফুলে ভরা পুকুরের চারদিকে শত শত যুবতী জড়ো হয়েছে। সে তাদের মাঝে নিজের জায়গা করে নিল এবং রাজকুমারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকল। রাজকুমার এবার এলেন এবং পুকুরে নিজের চুল ধুলেন। যুবতীরাও তাদের চুল ছেড়ে দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিল। অনুষ্ঠানের শেষে রাজকুমার ঘোষণা করলেন যে, যেহেতু সব যুবতীই সুন্দরী, তাই তিনি কাকে নির্বাচন করবেন তা ঠিক করতে পারছেন না। তাই তিনি একগুচ্ছ জুঁই ফুলের তোড়া আকাশে ছুড়ে মারবেন; যার মাথায় সেই তোড়া পড়বে, সেই হবে তার রাজকুমারী। এই বলে রাজকুমার তোড়াটি আকাশে ছুড়ে দিলেন, আর উপস্থিত সব যুবতী সবিস্ময়ে ওপরের দিকে তাকাল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, তোড়াটি এসে পড়ল ছোট্ট ব্যাঙ-খুকির মাথায়! এতে অন্য যুবতীরা, বিশেষ করে দুই সৎ-বোন, খুব বিরক্ত হলো। রাজকুমারও হতাশ হলেন, কিন্তু তিনি অনুভব করলেন যে তাকে তার কথা রাখতেই হবে। তাই ছোট্ট ব্যাঙ-খুকির সাথে রাজকুমারের বিয়ে হলো, এবং সে হয়ে গেল ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী। -=- আরও পড়ুন - থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ৪টি লোককাহিনীর বাংলা অনুবাদ কিছুকাল পরে, বৃদ্ধ রাজা তার চার ছেলেকে ডাকলেন এবং বললেন, "আমার ছেলেরা, এখন দেশ শাসন করার জন্য আমি বড্ডো বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমি এখন বনে গিয়ে সন্ন্যাসী হতে চাই। তাই তোমাদের একজনকে আমার উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করতে হবে। যেহেতু আমি তোমাদের সকলকে সমান ভালোবাসি, তাই আমি তোমাদের একটি কাজ দেব, আর যে সফলভাবে কাজটি শেষ করতে পারবে, সে-ই হবে আমার স্থানে নতুন রাজা। কাজটি হলো: আজ থেকে সপ্তম দিনের সূর্যোদয়ের সময় আমার কাছে একটি সোনার হরিণ নিয়ে আসতে হবে।" কনিষ্ঠ রাজকুমার বাড়ি ফিরে ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারীকে সব কথা বললেন। "কী, শুধু একটা সোনার হরিণ! " ব্যাঙ-রাজকুমারী চেঁচিয়ে উঠল। "স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করুন রাজকুমার, আমি নির্দিষ্ট দিনে আপনাকে সোনার হরিণ এনে দেব।" সুতরাং কনিষ্ঠ রাজকুমার বাড়িতেই থাকলেন, আর তিন বড় রাজকুমার হরিণের খোঁজে জঙ্গলে গেলেন। সপ্তম দিন সূর্যোদয়ের আগে ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী তার স্বামীকে জাগিয়ে বললেন, "রাজকুমার, রাজবাড়িতে যান, আর এই নিন আপনার সোনার হরিণ।" যুবক রাজকুমার তাকালেন, চোখ ডললেন এবং আবার তাকালেন। কোনো ভুল নেই; ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী যে হরিণটিকে দড়ি দিয়ে ধরে আছেন, সেটি সত্যিই খাঁটি সোনার তৈরি। তাই তিনি রাজবাড়িতে গেলেন। বড় রাজকুমাররা সাধারণ হরিণ এনেছিলেন, তাদের চরম বিরক্তি ঘটিয়ে রাজা কনিষ্ঠ রাজকুমারকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করলেন। -=- তবে, বড় রাজকুমাররা আরও একবার সুযোগ চাইলেন, এবং রাজা অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলেন। রাজা বললেন, "তবে এই দ্বিতীয় কাজটি করো: আজ থেকে সপ্তম দিনের সূর্যোদয়ের সময় আমার কাছে এমন চাল নিয়ে আসবে যা কখনোই বাসি হয় না, এবং এমন মাংস যা সর্বদা তাজা থাকে।" কনিষ্ঠ রাজকুমার বাড়ি ফিরে ব্যাঙ-রাজকুমারীকে নতুন কাজের কথা বললেন। "চিন্তা করবেন না, প্রিয় রাজকুমার," বললেন ব্যাঙ-রাজকুমারী। "স্বাভাবিকভাবে খান, স্বাভাবিকভাবে ঘুমান, আর নির্দিষ্ট দিনে আমি আপনাকে চাল এবং মাংস এনে দেব।" তাই কনিষ্ঠ রাজকুমার বাড়িতেই থাকলেন, আর তিন বড় রাজকুমার চাল ও মাংসের সন্ধানে গেলেন। সপ্তম দিন সূর্যোদয়ের সময় ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী তার স্বামীকে জাগিয়ে বললেন, "আমার প্রভু, এখন রাজবাড়িতে যান, আর এই নিন আপনার চাল ও মাংস।" কনিষ্ঠ রাজকুমার চাল ও মাংস নিলেন এবং রাজবাড়িতে গেলেন। বড় রাজকুমাররা কেবল ভালো করে রান্না করা চাল ও মাংস এনেছিলেন। তাদের চরম বিরক্তি ঘটিয়ে রাজা আবার তাকেই উত্তরাধিকারী ঘোষণা করলেন। -=- আরও পড়ুন - কজাখস্থানের এক অমীমাংসিত রহস্য ‘ঘুমের গ্রাম’ – কালাচি কিন্তু দুই বড় রাজকুমার আবারও আরও একটি সুযোগ চাইলেন, এবং রাজা বললেন, "এটা নিশ্চিতভাবে শেষ কাজ। আজ থেকে সপ্তম দিনের সূর্যোদয়ের সময়, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" "হাহা! " তিন বড় রাজকুমার মনে মনে বললেন। "আমাদের স্ত্রীরা খুবই সুন্দরী, আমরা তাদের নিয়ে আসব। আমাদের মধ্যে একজন নিশ্চয়ই উত্তরাধিকারী নির্বাচিত হবে, আর আমাদের অকর্মা ভাই এবার কোথাও পাত্তা পাবে না।" কনিষ্ঠ রাজকুমার তাদের মন্তব্য শুনে দুঃখিত হলেন, কারণ তার স্ত্রী ছিল একটি ব্যাঙ এবং কুৎসিত। বাড়ি পৌঁছে তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, "প্রিয় রাজকুমারী, আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারীর সন্ধান করতে যেতে হবে। আমার ভাইয়েরা তাদের স্ত্রীদের নিয়ে আসবে, কারণ তারা সত্যিই সুন্দরী, কিন্তু আমি এমন কাউকে খুঁজে আনব যে তাদের থেকেও বেশি সুন্দরী।" "চিন্তা করবেন না, আমার রাজকুমার," উত্তর দিলেন ব্যাঙ-রাজকুমারী। "স্বাভাবিকভাবে খান, স্বাভাবিকভাবে ঘুমান, আর নির্দিষ্ট দিনে আপনি আমাকেই রাজবাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। নিশ্চিতভাবে আমাকেই সবচেয়ে সুন্দরী নারী ঘোষণা করা হবে।" রাজকুমার অবাক হয়ে রাজকুমারীর দিকে তাকালেন; কিন্তু তিনি তার অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাইলেন না, তাই আলতো করে বললেন, "ঠিক আছে, রাজকুমারী, আমি তোমাকে নির্দিষ্ট দিনে আমার সাথে নিয়ে যাব।" -=- সপ্তম দিনের ভোরের আলো ফোটার সময় ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী রাজকুমারকে জাগিয়ে বললেন, "আমার প্রভু, আমাকে এখন নিজেকে সুন্দর করে তুলতে হবে। তাই দয়া করে বাইরে অপেক্ষা করুন এবং যখন যাওয়ার সময় হবে, তখন আমাকে ডাকবেন।" রাজকুমার অনুরোধ অনুযায়ী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর, রাজকুমার বাইরে থেকে চিৎকার করে বললেন, "রাজকুমারী, এখন আমাদের যেতে হবে।" "ঠিক আছে, আমার প্রভু," উত্তর দিলেন রাজকুমারী। "দয়া করে আমার জন্য দরজাটি খুলে দিন।" রাজকুমার মনে মনে ভাবলেন, "হয়তো, যেমন সে সোনার হরিণ এবং সেই চমৎকার চাল ও মাংস জোগাড় করতে পেরেছিল, তেমনি সে নিজেকে সুন্দর করে তুলতেও সক্ষম হয়েছে।" এই ভেবে তিনি আগ্রহের সাথে দরজা খুললেন। কিন্তু তিনি হতাশ হলেন, কারণ তিনি দেখলেন ছোট্ট ব্যাঙ-রাজকুমারী তখনও একটি ব্যাঙ, এবং আগের মতোই কুৎসিত। তবে, তার অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়ার জন্য রাজকুমার কিছু বললেন না এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়িতে গেলেন। যখন রাজকুমার তার ব্যাঙ-রাজকুমারীকে নিয়ে দরবারে প্রবেশ করলেন, তখন তিন বড় রাজকুমার তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাজা অবাক হয়ে রাজকুমারের দিকে তাকালেন এবং বললেন, "তোমার সুন্দরী নারী কোথায়? " "আমি রাজকুমারের হয়ে উত্তর দেব, মহারাজ" বললেন ব্যাঙ-রাজকুমারী। "আমিই তার সুন্দরী নারী।" এই বলে তিনি তার ব্যাঙের চামড়াটি খুলে ফেললেন এবং রেশম ও দামি পোশাকে সজ্জিত এক অপূর্ব সুন্দরী কুমারী রূপে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাজা তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী ঘোষণা করলেন এবং রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে কনিষ্ঠ রাজকুমারকেই বেছে নিলেন। রাজকুমার তার রাজকুমারীকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি আর কখনও সেই কুৎসিত ব্যাঙের চামড়া না পরেন। রাজকুমারের অনুরোধ রাখতে ব্যাঙ-রাজকুমারী সেই চামড়াটি আগুনে ফেলে দিলেন। মায়ানমারের লোককথা এই গল্পের মূল নৈতিক উপদেশ হলো: রূপ দেখে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। বাইরের চেহারা যতই সাধারণ বা কদাকার হোক না কেন, ভেতরের গুণ, বুদ্ধি আর প্রতিভাটাই আসল শক্তি। বাস্তবেও, মানুষ বা জিনিসপত্রের আসল মূল্য তাদের ভেতরের যোগ্যতা এবং আন্তরিকতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে, যা একটি সুন্দর বাইরের আবরণের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং কাজের ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করে। ব্যাঙ-রাজকুমারী তার বুদ্ধিমত্তা ও ঐশ্বরিক ক্ষমতার জোরেই রাজকুমারকে রাজা বানাতে পেরেছিল, কেবল তার রূপের জাদুতে নয়। Image source --- > ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জনক। তাঁর দূরদৃষ্টি, দেশপ্রেম ও গবেষণা ভারতের বিজ্ঞানচর্চাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিল। - Published: 2025-10-28 - Modified: 2025-11-18 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be/ ভারতের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এক মহান বিজ্ঞানী – ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা। তিনি শুধু একজন প্রতিভাবান পদার্থবিজ্ঞানীই নন, বরং ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জনক বলেও পরিচিত। তাঁর দূরদৃষ্টি, দেশপ্রেম ও গবেষণার প্রতি অগাধ নিষ্ঠাই ভারতের বিজ্ঞানচর্চাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিল। জন্ম ও শিক্ষাজীবন ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৯ সালের ৩০ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের এক অভিজাত পারসি পরিবারে। তাঁর পিতা হোরমুসজি ভাবা ছিলেন এক সফল আইনজীবী। ছোটবেলা থেকেই ভাবার মধ্যে ছিল গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি প্রবল আগ্রহ।তিনি মুম্বাইয়ের ক্যাথেড্রাল অ্যান্ড জন কনন স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথমে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেও, শীঘ্রই নিজের আগ্রহ অনুসারে পদার্থবিজ্ঞানে মনোনিবেশ করেন এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৩৪ সালে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি কেমব্রিজে থাকাকালীন ভাবা কসমিক রে (Cosmic Ray) বা মহাজাগতিক রশ্মি ও ইলেকট্রন-পজিট্রন সংঘর্ষ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। এই গবেষণার ফলেই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হন। তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার “Bhabha Scattering” – যা আজও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে একটি মৌলিক ধারণা হিসেবে পড়ানো হয়। আরও পড়ুন - নিকোলা টেসলা: যাঁর আবিষ্কারগুলি ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অকল্পনীয় ভারতে প্রত্যাবর্তন ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভাবা ভারতে ফিরে আসেন এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc), বেঙ্গালুরু-তে স্যার সি. ভি. রমনের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে, টাটা ট্রাস্টের সহায়তায় তিনি ১৯৪৫ সালে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR) প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ভাবা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিশেষত পারমাণবিক শক্তি।তাঁর উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় “Atomic Energy Commission of India”, যার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন ভাবা নিজেই। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে তিনি গড়ে তোলেন ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (BARC) — যা আজও ভারতের পারমাণবিক গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। তিন-স্তরের পরমাণু কর্মসূচি: সীমিত ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং প্রচুর থোরিয়াম মজুদের কথা মাথায় রেখে হোমি ভাবা ভারতের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী তিন-স্তরের পরমাণু কর্মসূচি তৈরি করেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে থোরিয়ামকে কাজে লাগানো। এই অনন্য কৌশলই ভারতকে পরমাণু প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে। শান্তিপূর্ণ ব্যবহার: তিনি বরাবরই পরমাণু শক্তিকে শান্তির কাজে, যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। প্রথম পারমাণবিক চুল্লি: তাঁর নেতৃত্বে ১৯৫৬ সালে ভারতের প্রথম পারমাণবিক চুল্লি 'অপ্সরা' স্থাপিত হয়। ভাবা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, পারমাণবিক শক্তি শুধু অস্ত্র নয়, বরং শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে দেশের জ্বালানি, চিকিৎসা ও কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। তাঁর এই চিন্তাধারাই আজকের ভারতের পারমাণবিক শক্তি নীতির ভিত্তি। আরও পড়ুন - এ পি জে আব্দুল কালাম: মহান ভারতীয় বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রপতি ভাবার দূরদৃষ্টি ও উত্তরাধিকার ভাবা শুধু পারমাণবিক বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণারও ভিত্তি রচনা করেছিলেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে ডঃ বিক্রম সারাভাই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) প্রতিষ্ঠা করেন।ভাবা ভারতের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মতে, “বিজ্ঞান কেবল পেশা নয়, এটি একটি জাতির উন্নতির চালিকাশক্তি।” মৃত্যু ও স্মরণ দুঃখজনকভাবে ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি এক বিমান দুর্ঘটনায় ড. হোমি ভাবার মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠান, গবেষণার ক্ষেত্র এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজও ভারতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মূল স্তম্ভ। ডঃ হোমি জেহাঙ্গীর ভাবার মৃত্যু নিয়ে দানা বেঁধেছিল নানা বিতর্ক। অনেকে মনে করেন, নিছক বিমান দুর্ঘটনা নয়, তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে তিনি ভারতকে সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই প্রয়াস নাকি তৎকালীন ক্ষমতাবান রাষ্ট্রগুলির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। ভাবার স্থায়ী অবদান আধুনিক ভারতে TIFR – দেশের মৌলিক গবেষণার কেন্দ্র। BARC – ভারতের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও গবেষণার কেন্দ্র। Atomic Energy Commission – শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির রূপরেখা। Space and Nuclear Vision – ভারতকে আত্মনির্ভর বিজ্ঞানসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরের ভিত্তি। উপসংহার ড. হোমি জেহাঙ্গীর ভাবা শুধু একজন বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মাতা। তাঁর চিন্তা, কর্ম ও প্রতিষ্ঠান আজও ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আধুনিক ভারতের বিজ্ঞান, শক্তি ও মহাকাশ গবেষণার প্রতিটি অধ্যায়ে ভাবার অবদান অম্লান হয়ে আছে। image source --- > ইঁদুর আর সাপের বন্ধুত্ব এবং মুচি আর দুই বামন, প্রথম গল্পের শিক্ষা- সব বন্ধুত্ব ভালো নয় আর পরের গল্পের শিক্ষা- কর্মঠ আর সৎ থাকলে ঈশ্বরও সাহায্য করেন - Published: 2025-10-26 - Modified: 2025-10-26 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8/ ইঁদুর আর সাপের বন্ধুত্ব এবং মুচি আর দুই বামন গল্পের প্রথম গল্পে বোঝানো হয়েছে যে সব বন্ধুত্ব ভালো নয় আবার দ্বিতীয় গল্পে বলা হয়েছে কর্মঠ আর সৎ থাকলে ঈশ্বরও সাহায্য করেন 1. ইঁদুর আর সাপের বন্ধুত্ব চিত্র সৌজন্য এক দেশে এক সময় এক মা ইঁদুর একটি ছোট্ট ইঁদুরের জন্ম দিল। একই সময়ে কাছাকাছি এক মা সাপও একটি ছোট সাপের জন্ম দিল। মা ইঁদুর তার ছেলেকে বলল “বাবা, বাড়ির পাশের খালের ধারে খেলতে যেও না, সেখানে জল বেশি, পড়ে গেলে ডুবে যাবে।” কিন্তু একদিন ছোট ইঁদুর খেলার সময় ছোট সাপের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তারা দু’জন খুব বন্ধুত্ব করে একসাথে খেলতে শুরু করল।সন্ধ্যার দিকে খেলা শেষ করে দু’জনেই নিজেদের বাড়ি ফিরে গেল। যখন ছোট ইঁদুর ঘরে ফিরল, মা দেখল তার গায়ের লোম ভিজে গেছে।তিনি রেগে বললেন,মা ইঁদুর বলল - “তুই কি খালের ধারে গিয়েছিলি? আমি তো নিষেধ করেছিলাম! ”ছোট ইঁদুর বলল - “না মা, আমি খালের ধারে যাইনি।”মা ইঁদুর বলল - “তাহলে তোর গা এত ভেজা কেন? ”ছোট ইঁদুর বলল - “আমার সাপ বন্ধু আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল, তার থুতুতেই আমি ভিজে গেছি।” এ কথা শুনে মা ইঁদুর ভয় পেয়ে বললেন,“শোন বাবা, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই সাপ আমাদের শত্রু। তারা আমাদের খেতে ভালোবাসে। সাপ কখনও বন্ধু হতে পারে না। যদি আবার তার সঙ্গে খেলিস, সে তোকে মেরে ফেলবে। তাই সাপের কাছ থেকে দূরে থাকবি।” এদিকে ছোট সাপ ঘরে ফিরে এলে মা সাপ দেখল তার মুখে কয়েকটি ইঁদুরের লোম লেগে আছে।মা সাপ বলল - “তুই কি একা একা খাবার খেয়ে ফেললি? আমার জন্য কিছু রাখলি না? ”ছোট সাপ বলল - “না মা, আমি কিছু খাইনি।”মা সাপ বলল - “তাহলে মুখে ইঁদুরের লোম কোথা থেকে এল? ”ছোট সাপ বলল - “আমি ইঁদুর বন্ধুর সঙ্গে খেলছিলাম।” এ কথা শুনে মা সাপ চিৎকার করে বলল - “বোকা ছেলে! যাদের আমরা রোজ খাই, তারা তোর বন্ধু হয় কী করে? কাল যখন খেলতে যাবি, ওকে ধরে বিষ ঢেলে মেরে আনবি, আমরা ওকে খাব।” ছোট সাপ বলল - “ঠিক আছে মা, কাল ওকে নিয়ে আসব।” পরদিন সকালে ছোট সাপ আগেভাগেই সেই জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল, যেখানে তারা রোজ খেলত।সে আনন্দে ডেকে উঠল - “বন্ধু ইঁদুর, এসো না, খেলব চল! ” কিন্তু ছোট ইঁদুর একটু দূরে থেকে চুপচাপ লক্ষ্য করল সাপের চোখেমুখের ভাব।তার মায়ের কথা মনে পড়ল।তখন সে বলল - “না বন্ধু, আজ আমি খেলতে আসব না। আমাদের মায়েরা ঠিকই বলেছিল— আমরা একে অপরের বন্ধু নই, শত্রু। তুমি আমাকে মারতে চাও, তাই আমি তোমার কাছ থেকে দূরে থাকব।” এ কথা শুনে ছোট সাপ খুব দুঃখ পেল, ঘরে ফিরে গিয়ে মাকে বলল - “মা, ইঁদুরটা আর আমার সঙ্গে খেলতে চায় না, তার মা তাকে সাবধান করে দিয়েছে।” সেই দিন থেকে সাপ আর ইঁদুরের মধ্যে চিরকালের মতো শত্রুতা শুরু হয়ে গেল। গল্পের শিক্ষা: মা-বাবার কথা সবসময় মানা উচিত, কারণ তারা আমাদের ভালো-মন্দ বোঝেন। আর শত্রুকে কখনও বন্ধু ভাবা উচিত নয়। আরও পড়ুন - সুকুমার রায়ের ছোট গল্প, হাসির গল্প - গরুর বুদ্ধি 2. মুচি আর দুই বামন চিত্র সৌজন্য একটি দেশে এক গরিব মুচি ছিল। গরিব হলেও মুচি ছিল ভীষণ কর্মঠ আর সৎ। বেচারা অনেক খাটাখাটনি করেও কিছুতেই নিজের ভাগ্য ফেরাতে পারছিল না। দিনের পর দিন সে আরও গরিব হয়ে পড়ছিল। শেষমেশ অবস্হা এতটাই করুন হল যে চামড়া কিনে যে জুতো বানাবে সেই পয়সাও মুচির কাছে রইল না। যেটুকু চামড়া তার কাছে ছিল, সেটা দিয়ে বড়জোর একপাটি জুতো বানানো সম্ভব। কী আর করা যাবে! পরদিন সকালে একপায়ের জুতো তৈরি করার ইচ্ছায় সন্ধ্যার দিকে বসে মুচি চামড়া মাপ মতো কাটছাঁট করে রাখলো। তারপর শান্ত মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন ভোরে মুচি সকালে জুতো বানানোর কাজে বসতে গিয়ে দেখে তার টেবিলের উপর নিখুঁতভাবে তৈরি একজোড়া জুতো রাখা আছে। মুচি জুতো জোড়া দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তার মুখে কোনো কথাই ফুটলো না। জুতোজোড়া হাতে নিয়ে সে খুব খুঁটিয়ে দেখলো। জুতোর সেলাই এত চমৎকার কোথাও একবিন্দু খুঁত নেই! মুচি এমন অসাধারণ ভাবে তৈরি জুতো দেখেনি আগে। কিছু সময়ের মধ্যেই মুচির দোকানে এক ক্রেতা এলেন। জুতোজোড়া তার ভীষণ পছন্দ হলো। বেশ ভালো দামেই ক্রেতাটি জুতোজোড়া কিনে নিয়ে গেলেন। জুতো বিক্রির টাকায় মুচি আরো দুই জোড়া জুতো বানানোর মতো চামড়া কিনে আনলো। সকালে উঠে বানাবে বলে দ্বিগুণ উৎসাহে রাতেই মুচি দুই জোড়া জুতো কেটেছেঁটে রেখে দিলো। চামড়া কেটে রাখার কষ্টটুকু মুচির না করলেও মনে হয় চলতো। কারণ পরদিন সকালেও ঘুম ভেঙে সে তার কাজের টেবিলে দুই জোড়া তৈরি জুতো দেখতে পেলো। তৈরি সে জুতো কেনার জন্য ক্রেতারও যেন তর সইছিল না। অল্প সময়ের মধ্যে দ্বিগুণ দামে দু'জোড়া জুতোই বিক্রি হয়ে গেল। এবার মুচি সে টাকায় চার জোড়া জুতোর জন্য চামড়া কিনে আনলো। আরও পড়ুন - কজাখস্থানের ‘ঘুমের গ্রাম’ কালাচি – এক অমীমাংসিত রহস্য পরদিন সকালেও মুচি একই ঘটনা ঘটতে দেখলো। চার জোড়া তৈরি জুতো তার টেবিলে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। এই অদ্ভুত ঘটনা দিনের পর দিন চলতে থাকলো। প্রতি সন্ধ্যায় মুচি জুতো তৈরির জন্য মাপ মতো চামড়া কেটেছেঁটে রেখে দেয়, আর সকালে ওঠে টেবিলে তৈরি জুতো পেয়ে যায়। খুব শীঘ্র মুচির গরিবি ঘুচে গিয়ে অবস্হা ফিরতে লাগলো। একসময় মুচিটা বেশ ধনী হয়ে গেল। এদিকে বড় দিনের আর বেশি দেরি নেই। চারদিকে বড়দিনের উৎসব উপলক্ষে কেনাকাটা, আনন্দের হুল্লোড় শুরু হয়ে গেছে। এরকম এক সন্ধ্যায় জুতোর জন্য চামড়া কাটছাঁট সেরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুচি তার বউ কে বললো, "আচ্ছা আজ রাতে আমরা যদি না ঘুমিয়ে দেখার চেষ্টা করি, কে বা কারা আমাদের জুতো তৈরিতে সাহায্য করে, কেমন হয় ? " স্বামীর কথা মুচি বউয়ের খুব মনে ধরলো। কে তাদের সাহায্য করে সেটা দেখার কৌতূহলে, একখানা মোমবাতি জ্বেলে রেখে, মুচি আর মুচিবউ হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের আড়ালে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকলো। সময় পেরিয়ে যখন মধ্যরাত, তখন মুচি আর তার বউ দেখতে পেলো, দুজন ক্ষুদে আকারের দেবদূত কোত্থেকে বেরিয়ে এসে মুচির জুতো বানানোর টেবিলে বসে কেটে রাখা জুতো সেলাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বামন দুজন একদম ন্যাংটা পুঁটো। একটা সুতো পর্যন্ত নেই তাদের শরীরে। তারা তাদের ছোট্ট ছোট্ট হাতের আঙুল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জুতো সেলাই, হাতুড়ি দিয়ে পেরেক ঠোকা ইত্যাদি এত দ্রুত করছিল, যা দেখে মুচির চোখ ছানাবড়া হবার দশা! চোখের পলক না ফেলে, তাজ্জব হয়ে মুচি আর মুচিবউ লুকিয়ে বামন দুটোর কাজ দেখতে লাগলো। বমন দুটো এক মনে জুতো সেলাইয়ে কাজ করেটরে টেবিলের উপর তৈরি জুতো গুলো সাজিয়ে রেখে, যেমন ভোজবাজির মতো উপস্হিত হয়েছিল, তেমনি দ্রুত উবে গেল। পরদিন সকালে মুচিবউ তার স্বামীকে বললো, "ক্ষুদে বামন দুটোর জন্য আমাদের অবস্হা ফিরেছে, আমাদের অবশ্যই এজন্য তাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। হুটোপাটি করে তারা চলে গেল। খেয়াল করেছো তাদের পরনে কোনো কাপড় নেই। ঠাণ্ডায় বেচারারা না জানি কত কষ্ট পায়। ওদের জন্য কী করবো সেটা বলছি শোনো। আমি ওদের জন্য ছোটো ছোটো দুজোড়া জামা,প্যান্ট, কোট, আর দু'জোড়া হাত মোজা, পা মোজা তৈরি করে দেবো। আর তুমি দুজনের জন্য দু'জোড়া জুতো তৈরি করে দেবে।" মুচি খুশি মনে বললো, "ওদের জন্য কিছু করতে পারলে আমারও খুব আনন্দ হবে।" সবকিছু তৈরি হয়ে যাবার পর, একরাতে মুচি আর তার বউ উপহারগুলো টেবিলের উপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলো। সেদিন মুচি আর জুতো তৈরির জন্য কোনো চামড়া কেটে রাখলো না। তাদের উপহার পেয়ে বামন দুজন কি করে সেটা দেখার জন্য মুচি আর মুচিবউ আড়ালে লুকিয়ে থাকলো। ঠিক মাঝ রাতের দিকে বামন দুজন উপস্হিত হলো। এসেই তারা জুতো তৈরির জন্য কেটে রাখা চামড়ার খোঁজ করে পেলো না। তার বদলে দেখতে পেলো টেবিলের উপর সাজানো রয়েছে চমৎকার ছোট ছোট জামা, প্যান্ট, জুতো এসব। জিনিসগুলো দেখে প্রথমে বামন দুজন অবাক হলো। তারপর যখন বুঝলো উপহারগুলো তাদের জন্যই রাখা হয়েছে, তখন আনন্দে হাত পা ছুঁড়ে নেচে নিলো একপাক। উপহারগুলো তাদের এতই পছন্দ হয়েছে যে চোখের পলকে তারা সেগুলো পরা শুরু করলো। পরতে পরতে মনের আনন্দে বামন দুজন গান গাইতে লাগল - তারপর তারা গাইতে গাইতে আর নাচতে নাচতে দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে গেল। এরপর বামন দুজনকে মুচি তার বউ, আর কখনও দেখতে পেলো না। জুতো তৈরির জন্য বামন দুজন আর না এলেও মুচি কিন্তু নিজের কাজে এক বিন্দু ফাঁকি দিলো না। সে তার কাজ মন দিয়ে করে যেতে লাগলো। যে কারণে তার অবস্হার আরো উন্নতি হলো। বাকি জীবনটা মুচি আর মুচিবউ খুব সুখে শান্তিতে কাটালো। --- > জানুন বিজ্ঞানের মজার তথ্য: ৫০টি - মহাবিশ্ব, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ভাষায় সাজানো এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ - Published: 2025-10-11 - Modified: 2025-10-11 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d/ জানুন বিজ্ঞানের মজার তথ্য - মহাবিশ্ব, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ভাষায় সাজানো ৫০টি তথ্য যা ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ বিজ্ঞানের মজার তথ্য – এমন ৫০টি যা জানলে অবাক হবেন! বিজ্ঞান মানেই শুধু বই বা পরীক্ষার বিষয় নয়, এটি আসলে এক জাদুকরী জগৎ যেখানে প্রতিটি তথ্য আমাদের আশ্চর্য করে তোলে। আমরা প্রতিদিন বিজ্ঞানের নানা প্রভাবের মধ্যে বেঁচে আছি—চোখের সামনে সূর্য ওঠা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ব্যবহার পর্যন্ত! আজ চলুন জেনে নিই বিজ্ঞানের এমন ৫০টি চমকপ্রদ ও মজার তথ্য, যা জানলে আপনি আরও বেশি করে বিজ্ঞানের প্রেমে পড়বেন। মহাবিশ্ব ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। চাঁদের উপর আপনার ওজন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ কম হবে। মহাবিশ্বের বয়স আনুমানিক ১৩. ৮ বিলিয়ন বছর। ভেনাস (Venus) হলো একমাত্র গ্রহ যেখানে সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায় এবং পূর্ব দিকে ওঠে! মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০০ বিলিয়নেরও বেশি তারা রয়েছে। একদিন সূর্য তার জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়ে লাল দৈত্য (Red Giant) রূপ নেবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৮,০০০ কিমি গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে। মহাশূন্যে কোনো শব্দ শোনা যায় না, কারণ সেখানে বায়ু নেই। পৃথিবী প্রতি বছর প্রায় ৬ সেকেন্ড করে ঘূর্ণনের গতি হারাচ্ছে। শনির বলয় (rings) মূলত বরফ ও ক্ষুদ্র পাথরের টুকরো দিয়ে তৈরি। আরও পড়ুন - আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড নামের পেছনের ইতিহাস, রহস্য ও কৌশল পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য আলো হলো দ্রুততম জিনিস — এর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় ইলেকট্রন নামের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে। শূন্য কেলভিন (–273°C) তাপমাত্রায় সমস্ত অণুর গতি বন্ধ হয়ে যায়। মহাশূন্যে কোনো বস্তু নিচে পড়ে না কারণ সেখানে মাধ্যাকর্ষণ বল প্রায় নেই। চুম্বকীয় উত্তর মেরু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থান পরিবর্তন করে। লোহা গরম করলে তা প্রথমে লাল, তারপর কমলা এবং শেষে সাদা হয়ে যায়। নিউটনের তৃতীয় সূত্র—“প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটে।” রঙিন টেলিভিশনের ছবিতে আসলে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) তিনটি রঙ মিলেই সব রঙ তৈরি হয়। শব্দ তরঙ্গ জলে বাতাসের তুলনায় ৪ গুণ দ্রুত চলে। বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও ৫ গুণ বেশি হতে পারে! রসায়ন বিষয়ক তথ্য মানুষের দেহে প্রায় ৬০% জল থাকে। হিলিয়াম একমাত্র গ্যাস যা তরলে পরিণত হয় তবে বরফের মতো জমাট না বেঁধেই (বিশেষ ভাবে চাপ সৃষ্টি)। ডায়মন্ড ও কয়লা — দুটোই কার্বন দিয়ে তৈরি, শুধু গঠন ভিন্ন। লবণ হলো সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (Cl) এর যৌগ। অক্সিজেন না থাকলে আগুন জ্বলতে পারে না। সাবানের কাজ হলো জল ও তেলকে একসাথে মেশানো, যাতে ময়লা ধুয়ে যায়। মার্কারি (Hg) হলো একমাত্র ধাতু যা ঘরোয়া তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। অম্ল (acid) ও ক্ষার (base) মিশলে লবণ ও জল তৈরি হয়। জলের রাসায়নিক নাম হলো H₂O। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসই উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির মূল উপাদান। জীববিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য মানুষের দেহে প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ আছে। ডিএনএ (DNA) হচ্ছে জীবনের নকশা, যা প্রতিটি কোষে থাকে। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন আছে। হৃদয় দিনে গড়ে ১ লক্ষ বার স্পন্দিত হয়। মানুষ ঘুমের সময়েও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, তাই আমরা স্বপ্ন দেখি। বিরলভাবে মানুষের চোখের রঙ নীল বা সবুজ হয়, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের চোখ বাদামী। মানুষের দেহে থাকা আয়রন (লোহা) দিয়ে একটি ছোট পেরেক তৈরি করা যায়। পিঁপড়ে কখনো ঘুমায় না, তারা বিশ্রাম নেয় কয়েক সেকেন্ডের বিরতিতে। জিরাফের ঘাড়ে মানুষের মতোই ৭টি হাড় থাকে! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হলো নীল তিমি (Blue Whale) — যার হৃদয় একটি ছোট গাড়ির সমান। আরও পড়ুন - থাইল্যান্ডের 4 টি জনপ্রিয় লোককাহিনীর বাংলা অনুবাদ প্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য প্রথম কম্পিউটার ENIAC তৈরি হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। প্রথম ইমেল পাঠানো হয়েছিল ১৯৭১ সালে। ইন্টারনেটের জন্ম হয় ১৯৬৯ সালে, মার্কিন প্রতিরক্ষা গবেষণায়। প্রথম মোবাইল ফোনের ওজন ছিল প্রায় ১ কেজিরও বেশি! রোবট (Robot) শব্দটি এসেছে চেক ভাষার “Robota” থেকে, যার অর্থ “কাজ”। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন এমনকি মানুষের মুখ চিনতেও সক্ষম। থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে এখন ঘর, খাবার, এমনকি মানব অঙ্গও তৈরি হচ্ছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে লক্ষগুণ দ্রুত কাজ করতে পারে। সোলার প্যানেল সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন মানুষ মঙ্গল গ্রহে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। উপসংহার বিজ্ঞান আমাদের চারপাশে প্রতিদিন নানা রূপে উপস্থিত—আমাদের দেহে, প্রকৃতিতে, মহাবিশ্বে এবং প্রযুক্তিতে। এই ৫০টি মজার তথ্য হয়তো বিজ্ঞানের প্রতি আপনার কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিল। মনে রাখবেন, আজকের ছোট আবিষ্কারই হতে পারে আগামী দিনের বড় বিপ্লব! --- > পালং চিকেন রান্নার প্রধান উপকরন হল পালং শাক আর চিকেন । এটি একটি পুষ্টিকর সবুজ রঙের চিকেনের পদ। - Published: 2025-09-15 - Modified: 2025-09-15 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%82-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%82-%e0%a6%b6%e0%a6%be/ পালং চিকেন রান্নার প্রধান উপকরন হল পালং শাক আর চিকেন । এটি একটি পুষ্টিকর সবুজ রঙের চিকেনের পদ। মুরগির মাংস এবং পালং শাকের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলিকে একত্রিত হয়ে শরীরে প্রবেশ করে। পালং চিকেন তৈরি করা মোটামুটি সহজ। মাত্র কয়েকটি পদক্ষেপে আপনি এটি রান্না করতে পারেন। কাজু বাটা এই রেসিপির এক গোপন উপাদান। টমেটো এবং গুঁড়ো মসলা ছাড়াও দই ও কাজু বাদাম বাটা মাংসের গ্রেভিতে যোগ করলে পালং মুরগির টেক্সচার এবং গন্ধ আরো এক ধাপ উপরে ওঠে। পালং চিকেন রেসিপি তাহলে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি জোগাড় করুন এবং রান্না শুরু করুন পালং চিকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুস্বাদু এবং একটা মসৃণ স্বাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এবার হাতে কলমে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে রান্না করবেন সুস্বাদু পালং চিকেন। রান্নার সরঞ্জাম ১ কড়াই ১ ইনডাকশন কুকটপ ১ মিক্সার উপকরণ লাগবে মেরিনেশনে করার জন্য ৫০০ গ্রাম চিকেন হাড় ছাড়া ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ০. ৫ চা চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো ০. ৫ চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ তেল লবন স্বাদ অনুযায়ী গ্রেভি বানানোর জন্য ২৫০ গ্রাম পালং শাক ৪ টি কাঁচা লঙ্কা ১ টি পেঁয়াজ মাঝারি থেকে বড় ১ কাপ টমেটো কিউব করে কাটা ১ চা চামচ আদা পেস্ট ১ চা চামচ রসুনের পেস্ট ২০ টি কাজু বাদাম বা ফ্রেশ ক্রিম ১ টি কালো এলাচ ২-৩ টি সবুজ এলাচ ০. ৫ চা চামচ জিরা ৪-৫ লবঙ্গ ১ টি তেজপাতা ১ ইঞ্চি দারুচিনি স্টিক ০. ৫-১ চা চামচ কসুরি মেথি ০. ৫ চা চামচ গরম মসলা ১ টেবিল চামচ ফ্রেশ ক্রিম লবন স্বাদ অনুযায়ী চিনি স্বাদ অনুযায়ী তেল জল আরও দেখুন: বাড়িতে সহজে বানান জিভে জল আনা চিকেন টিকিয়া পালং চিকেন রান্নার প্রণালী চিকেন ম্যারিনেট করুন প্রথমে চিকেনের টুকরোগুলি পরিষ্কার করুন এবং তারপরে একটি বড় বাটিতে স্থানান্তর করুন। চিকেনের মধ্যে, তেল, লেবুর রস, কালো গোলমরিচ গুঁড়া, কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো, এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিন। সব উপকরণ ভালোভাবে মেশান। পাত্রটি ঢেকে একপাশে রেখে দিন। সবজি প্রস্তুত করুন গ্রেভির জন্য, পালং শাক ধুয়ে নিন। পালং শাক ভালো করে ধুয়ে ফেলার পর পেঁয়াজ খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে কেটে নিন। এরপর, টমেটো অর্ধেক করে কেটে নিন। তারপর, টমেটোর দুটি অর্ধেক কেটে নিন। আমাদের ১ কাপ কাটা টমেটো দরকার (করার আগে টমেটো খোসা ছাড়িয়ে নিন)। তেল গরম করুন এবার একটি প্যান বা কড়াই নিন এবং তাতে তেল দিয়ে দিন। যতক্ষণ না একটু ধোঁয়া আসে ততক্ষণ তেল গরম হতে দিন। এতে কাঁচা লঙ্কা ও কাজুবাদাম দিয়ে দিন। কাঁচা লঙ্কা ভাজা ভাজা না হওয়া পর্যন্ত এগুলি ভাল করে নাড়ুন। পালং শাক যোগ করুন এরপর, পালং শাক যোগ করুন এবং ভাজুন। যতক্ষণ না সব পাতা শুকিয়ে যায় ততক্ষণ নাড়ুন। এই সময়ের মধ্যে পালং শাকের কাঁচা গন্ধ চলে যেতে হবে। প্রায় ৫-৬ মিনিট ভাজার পরে, এটি একটি পাত্রে স্থানান্তর করুন এবং একপাশে রাখুন। পালং শাক ব্লেন্ড করুন এগুলিকে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন এবং তারপরে একটি ব্লেন্ডারে স্থানান্তর করুন। প্রায় আধা কাপ জল যোগ করুন এবং লঙ্কা, পালং শাক এবং বাদাম মিহি পিউরিতে ব্লেন্ড করুন। কোন গলদ যেনো না থাকে তা নিশ্চিত করুন। এরপর এটি পরে ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে রাখুন। মশলাগুলি ভেজে নিন একই প্যান বা কড়াই নিন এবং একটু তেল দিয়ে দিন। ধোঁয়া না আসা পর্যন্ত তেল গরম হতে দিন। তারপর এতে তেজপাতা, কালো এলাচ, সবুজ এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি স্টিক এবং জিরা দিয়ে দিন। যতক্ষণ না সুগন্ধ বের হচ্ছে ততক্ষণ অব্দি নাড়ুন। সবজিগুলি দিয়ে দিন এরপর এতে সরু-সরু করে কাটা পেঁয়াজ গুলি দিয়ে দিন। এগুলি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত ভালভাবে নাড়ুন মাঝারি আঁচে রেখে। এরপরে, আদা এবং রসুনের পেস্ট দিয়ে দিন। সব উপকরণ একত্রিত করে নাড়তে থাকুন। যখন ওগুলি একটু বাদামী হতে শুরু করবে, কাটা টমেটো যোগ করুন। সবগুলি ভালোভাবে নাড়ুন। স্বাদমত লবণ দিয়ে দিন এবং সবকিছু সুন্দরভাবে একত্রিত করুন। টমেটো মিশে গেলে স্প্যাটুলা দিয়ে অন্য সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। আঁচ মাঝারি রাখুন এবং কড়াই ঢেকে দিন। সেগুলিকে কয়েক মিনিটের জন্য বা যতক্ষণ না তেল বেরোতে শুরু করে রান্না হতে দিন। চিকেন যোগ করুন এরপর কড়াইয়ে মেরিনেট করা চিকেন দিয়ে দিন। মশলার সাথে চিকেন একত্রিত করুন এবং নাড়তে থাকুন। প্রায় ৫-৬ মিনিট বা সাদা না হওয়া পর্যন্ত চিকেন রান্না করুন। এরপর, গরম মশলা দিয়ে দিন এবং সুন্দরভাবে মেশান। অল্প গরম জল যোগ করুন এরপর আধ কাপ জল গরম করুন। জল ফুটে উঠলে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। সব উপকরণ একত্রিত করে ঢেকে দিন। রান্না করুন যতক্ষণ না গ্রেভি একটু ঘন হয় এবং মুরগির টুকরোগুলো নরম হয়ে যায়। পালং শাকের পিউরি দিয়ে দিন মুরগির মাংস নরম হয়ে এলে পালং শাক দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে সবকিছু সিদ্ধ হতে দিন। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন এবং সবকিছু একসাথে মেশান। গ্রেভি ঘন হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিন। আপনি যদি চান, স্বাদমত চিনি যোগ করতে পারেন। গ্রেভি খুব ঘন হলে গরম জল যোগ করুন। একটি স্বাদ চেক নিন এবং কিছু প্রয়োজন হলে যোগ করুন। এর সাথে যোগ করুন কসুরি মেথি। সবকিছু সুন্দরভাবে মিশ্রিত করুন এবং স্বাদে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। হয়ে গেলে পালং চিকেন একটি পাত্রে স্থানান্তর করুন। গার্নিশ এক চা চামচ ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে চিকেন সাজিয়ে নিন আপনার সাধের পালং চিকেন । Picture source : Youtube --- > কজাখস্থানের উত্তরাংশে রয়েছে কালাচি নামে একটি গ্রাম যেখানে কোন অজানা কারনে মানুষ হঠাৎ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়ছেন। 'ঘুমের গ্রাম' ও বলা হয়। - Published: 2025-09-12 - Modified: 2025-09-12 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/ কজাখস্থানের উত্তরাংশে রয়েছে কালাচি নামে একটি গ্রাম যেখানে কোন অজানা কারনে মানুষ হঠাৎ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়ছেন। একে 'ঘুমের গ্রাম' নামেও ডাকা হয়। চিত্র সৌজন্য মানুষের জীবনে ঘুম এক প্রাকৃতিক চাহিদা। সাধারণত রাতেই আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হই। কিন্তু কজাখস্থানে এমন একটি গ্রাম আছে, যেখানে ঘুম মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর অভিশাপ। কজাখস্থানের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম কালাচি আজ পরিচিত “ঘুমের গ্রাম” নামে। অদ্ভুতুড়ে এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে প্রথমবার সেখানে লক্ষ্য করা যায় অদ্ভুত এক ঘটনা। গ্রামের মানুষ হঠাৎ করেই যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে শুরু করেন। ২০১৩ সাল থেকে এ ঘটনা আরও প্রকট রূপ নেয়। কেউ স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে, কেউ মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে, আবার কেউ বা হাঁটতে হাঁটতেই ঘুমিয়ে পড়েন। কারও ঘুম দুই দিন স্থায়ী হয়, আবার কেউ কেউ আট দিন পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন। উপসর্গ ও ভয়াবহতা এই রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হয়ে জেগে ওঠার পর মানুষের স্মৃতিভ্রংশ হয়, দেখা দেয় প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঝিম ধরা, বমি-বমি ভাব এবং অনেকের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভ্রমও ঘটে। আক্রান্তদের হাঁটাচলায় অক্ষমতাও দেখা যায়। কালাচির প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছেন। পাশাপাশি পাশের শহর ক্রাসনোগোরস্কও ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়েছে। আরও পড়ুন. বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায়? 'হঠাৎ ঘুম' এর সম্ভাব্য কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনও এর সঠিক কারণ খুঁজে পাননি। কেউ কেউ মনে করেন, মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক তরলের উপস্থিতির কারণেই এমনটি হতে পারে। আবার কেউ সন্দেহ করছেন মেনিনজাইটিস জাতীয় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবকে। অন্যদিকে স্থানীয়দের ধারণা, সোভিয়েত আমলের পরিত্যক্ত ইউরেনিয়াম খনি থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় পদার্থই এর মূল কারণ। আশেপাশের মাটি ও জলে তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা কখনও এ রোগে আক্রান্ত হননি। আরও একদল গবেষক মনে করেন, এখানে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি থাকতে পারে। বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ধোঁয়া ও গ্যাস ওপরে না উঠে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাথাব্যথা, অবসাদ ইত্যাদি হওয়া সম্ভব হলেও দিনের পর দিন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি এখনো ব্যাখ্যাতীত। গ্রামের বহু মানুষ ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে অন্য শহরে চলে যাচ্ছেন, আবার অনেকে জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চাইছেন না। একসময় কর্মচাঞ্চল্যে ভরা শহর ক্রাসনোগোরস্ক এখন প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। কালাচি গ্রামও ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক ভুতুড়ে জনপদ। রহস্য এখনো অমীমাংসিত বিগত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা হলেও বিজ্ঞানীরা আজও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাই কালাচি আজও রয়ে গেছে এক অমীমাংসিত রহস্য, যেখানে ঘুম একদিকে মানুষের প্রাকৃতিক চাহিদা হলেও অন্যদিকে মৃত্যুভয়ের মতো আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই কালাচিকে 'মায়াপুরীর গ্রাম'ও বলা হয়, যেখানে বাস্তব জীবনে রূপকথার মতো হঠাৎ ঘুম মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে। --- > হেলেন কেলার ছিলেন অন্ধ ও বধির তবুও শিক্ষালাভ করেছেন, বই লিখেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন এবং সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। - Published: 2025-09-09 - Modified: 2025-09-09 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8/ হেলেন কেলার ছিলেন অন্ধ ও বধির তবুও শিক্ষালাভ করেছেন, বই লিখেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন এবং সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। চিত্র সৌজন্য বিশ্ব ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁদের জীবন কাহিনি মানুষের মনে অমলিন ছাপ ফেলে গেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হেলেন অ্যাডামস কেলার। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়, দৃঢ় মনোবল আর অক্লান্ত পরিশ্রম থাকলে কোনো বাধাই অসম্ভব নয়। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য হেলেন কেলার কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার উৎস। হেলেন কেলার : তাঁর জন্ম ও শৈশব হেলেন কেলার জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালের ২৭ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাসকুম্বিয়া নামের একটি ছোট শহরে। তিনি ছিলেন তাঁর পরিবারের প্রথম সন্তান। জন্মের পর প্রথম দেড় বছর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিলেন। কিন্তু ১৯ মাস বয়সে এক ধরনের মারাত্মক অসুখে (সম্ভবত মেনিনজাইটিস বা স্কারলেট ফিভার) আক্রান্ত হয়ে তিনি একসাথে তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি হারান। এই আকস্মিক পরিবর্তন তাঁর পরিবারকে হতাশ করে তোলে। এত ছোট্ট মেয়ের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি কিছুটা রাগী ও জেদি স্বভাবের হয়ে ওঠেন, কারণ চারপাশের মানুষ কী বলছে বা করছে তা তিনি বুঝতে পারতেন না। তবে তাঁর বাবা-মা আশা ছাড়েননি। তাঁরা চেয়েছিলেন, কোনোভাবে মেয়েটিকে শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। অ্যানি সুলিভান – আলোর পথপ্রদর্শক হেলেন কেলারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ১৮৮৭ সালে, যখন অ্যানি সুলিভান নামের এক তরুণী শিক্ষক তাঁর জীবনে আসেন। অ্যানি সুলিভান নিজেও ছোটবেলায় প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে আবার আংশিক দৃষ্টি ফিরে পান। তাই তিনি জানতেন অন্ধত্বের কষ্ট কী। অ্যানি সুলিভান হেলেনকে শেখাতে শুরু করেন এক অভিনব পদ্ধতিতে। তিনি হেলেনের হাতে ইংরেজি বর্ণমালা আকারে শব্দ বানিয়ে লিখতেন। যেমন— জলের ধারা হাতে ঢেলে দিয়ে তিনি হেলেনের হাতে "W-A-T-E-R" বানান লিখতেন। হেলেন প্রথমে বুঝতে পারতেন না, কিন্তু একসময় তাঁর মনে আলো জ্বলে ওঠে। তিনি বুঝতে পারেন প্রতিটি বস্তুরই একটি নাম আছে এবং সেই নাম হাতের মাধ্যমে শেখা যায়। এই ঘটনাই তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রথম দরজা খুলে দেয়। আরও পড়ুন - জানা অজানা মজার তথ্য শিক্ষা ও একাডেমিক জীবন অ্যানি সুলিভানের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় হেলেন দ্রুত নতুন শব্দ, বাক্য ও ধারণা আয়ত্ত করতে থাকেন। তিনি ব্রেইল লিপির মাধ্যমে পড়তে শিখেন এবং বিশেষ কৌশলে কথা বলারও চেষ্টা করেন।১৯০০ সালে হেলেন কেলার ভর্তি হন র ্যাডক্লিফ কলেজে। সেখানে তিনি সুলিভানের সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। কল্পনা করা যায় কতটা কঠিন ছিল এই কাজ—ক্লাসে তিনি শুনতে পান না, দেখতে পান না, তবুও অ্যানি সুলিভান প্রতিটি পাঠ্যবই তাঁকে স্পর্শের মাধ্যমে বোঝাতেন। ১৯০৪ সালে হেলেন কেলার স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের প্রথম অন্ধ ও বধির ব্যক্তি যিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সাহিত্যকর্ম ও রচনা চিত্র সৌজন্য হেলেন কেলার কেবল পড়াশোনাই করেননি বরং প্রচুর লিখেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই হলো “The Story of My Life” (আমার জীবনের গল্প), যেখানে তিনি নিজের শৈশব, সংগ্রাম ও শিক্ষার কাহিনি লিখেছেন। এই বই আজও সারা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। এছাড়াও তিনি বহু প্রবন্ধ, চিঠি এবং বক্তৃতা লিখেছেন, যেখানে শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সমাজসেবামূলক কাজ হেলেন কেলার সারা জীবন কাজ করেছেন অন্ধ, বধির ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বক্তৃতা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তাঁর মূল বার্তা ছিল—"শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের স্বপ্ন ও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।" তিনি দারিদ্র্য, নারীর অধিকার, শিক্ষা এবং শান্তি নিয়েও কথা বলেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আহত সৈনিকদের হাসপাতালে গিয়ে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ মানবকল্যাণে উৎসর্গিত ছিল। আরও পড়ুন - 'গরুর বুদ্ধি' সুকুমার রায়ের ছোট গল্প, হাসির গল্প হেলেন কেলারের শিক্ষণ হেলেন কেলারের জীবন আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়— অধ্যবসায় ও পরিশ্রমযত বড় সমস্যাই আসুক, চেষ্টা চালিয়ে গেলে সমাধান পাওয়া সম্ভব। ইচ্ছাশক্তির শক্তিচোখে দেখতে না পারা বা কানে শুনতে না পাওয়াই তাঁর জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করেনি। বরং তাঁর ইচ্ছাশক্তি তাঁকে মহৎ করে তুলেছে। শিক্ষার গুরুত্বশিক্ষা শুধু বই পড়া নয়, বরং জীবনকে আলোকিত করে। হেলেন কেলার প্রমাণ করেছেন যে শিক্ষা মানুষের প্রকৃত শক্তি। সহানুভূতি ও সমাজসেবাতিনি শিখিয়েছেন অন্যের কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ানোই মানুষের আসল মানবিকতা। আত্মবিশ্বাসনিজের সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না করে, আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন সম্ভব। উপসংহার হেলেন কেলার-এর জীবনকাহিনি কেবল একটি ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহামূল্যবান শিক্ষা। তাঁর সাহস, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সমাজসেবার মানসিকতা আজও লক্ষ মানুষের প্রেরণার উৎস। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর গল্প আমাদের শেখায় — কখনো হাল ছাড়বে না, নিজের স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকবে, এবং সবসময় অন্যের পাশে দাঁড়াবে। তাঁর নিজের কথায়— “The best and most beautiful things in the world cannot be seen or even touched – they must be felt with the heart. ” (পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস চোখে দেখা যায় না, হাতেও ধরা যায় না, শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়)। --- > গরুর বুদ্ধি - সুকুমার রায়ের ছোট গল্প। 'গরুর বুদ্ধি' ছোট এবং বড় সব বয়সের সমান প্রিয় একটি হাসির গল্প। - Published: 2025-09-08 - Modified: 2025-11-18 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc/ গরুর বুদ্ধি : সুকুমার রায়ের ছোট গল্প, হাসির গল্প পণ্ডিতমশাই ভটচার্যি বামুন, সাদাসিধে শান্তশিষ্ট নিরীহ মানুষ। বাড়িতে তাঁর সরষের তেলের দরকার পড়েছে, তাই তিনি কলুর বাড়ি গেছেন তেল কিনতে। কলুর ঘরে মস্ত ঘানি, একটা গরু গম্ভীর হয়ে সেই ঘানি ঠেলছে, তার গলায় ঘণ্টা বাঁধা। গরুটা চলছে চলছে আর ঘানিটা ঘুরছে, আর সরষে পিষে তা থেকে তেল বেরুচ্ছে। আর গলার ঘণ্টাটা টুংটাং টুংটাং ক’রে বাজছে। পণ্ডিতমশাই রোজই আসেন রোজই দেখেন, কিন্তু আজ তাঁর হঠাৎ ভারি আশ্চর্য বোধ হল। তিনি চোখমুখ গোল ক’রে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তাই তো! এটা তো ভারি চমৎকার ব্যাপার! কলুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ওহে কলুর পো, ও জিনিসটা কি হে? ” কলু বলল, “আজ্ঞে ওটা ঘানিগাছ, ওতে তেল হয়।” পণ্ডিতমশাই ভাবলেন— এটা কি রকম হল? আম গাছে আম হয়, জাম গাছে জাম হয়, আর ঘানি গাছের বেলায় তেল হয় মানে কি? কলুকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, “ঘানি ফল হয় না? ” কলু বললে, “সে আবার কি? ” পণ্ডিতমশাই টিকিতে হাত বুলিয়ে ভাবতে লাগলেন তাঁর প্রশ্নটা বোধহয় ঠিক হয়নি। কিন্তু কোথায় যে ভুল হয়েছে, সেটা তিনি ভেবে উঠতে পারলেন না। তাই খানিকক্ষণ চুপ ক’রে তারপর বললেন, “তেল কী ক’রে হয়? ” কলু বলল, “ঐখেনে সর্ষে দেয় আর গরুতে ঘানি ঠেলে— আর ঘানির চাপে তেল বেরোয়।” এইবারে পণ্ডিতমশাই খুব খুশি হ’য়ে ঘাড় নেড়ে টিকি দুলিয়ে বললেন, “ও বুঝেছি! তৈল নিষ্পেষণ যন্ত্র! ” তারপর কলুর কাছ থেকে তেল নিয়ে পণ্ডিতমশাই বাড়ি ফিরতে যাবেন, এমন সময় হঠাৎ তাঁর মনে আর একটা খট্ কা লাগল- ‘গরুর গলায় ঘণ্টা কেন? ’ তিনি বললেন, “ও কলুর পো, সবই তো বুঝলুম, কিন্তু গরুর গলায় ঘণ্টা দেবার অর্থ কী? ওতে কি তেল ঝাড়াবার সুবিধা হয়? ” কলু বলল, “সব সময় তো আর গরুটার উপরে চোখ রাখতে পারি নে, তাই ঘণ্টাটা বেঁধে রেখেছি। ওটা যতক্ষণ বাজে, ততক্ষণ বুঝতে পারি যে গরুটা চলছে। থামলেই ঘণ্টার আওয়াজ বন্ধ হয়, আমিও টের পেয়ে তাড়া লাগাই।” আরও পড়ুন - এ পি জে আব্দুল কালাম: মহান ভারতীয় বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রপতি পণ্ডিতমশাই এমন অদ্ভুত ব্যাপার আর দেখেননি; তিনি বাড়ি যাচ্ছেন আর কেবলই ভাবছেন— ‘কলুটার কি আশ্চর্য বুদ্ধি! কি কৌশলটাই খেলিয়েছে! গরুটার আর ফাঁকি দেবার যো নেই। একটু থেমেছে কি ঘণ্টা বন্ধ হয়েছে, আর কলুর পো তেড়ে উঠেছে! ’ এই রকম ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তাঁর মনে হল— ‘আচ্ছা, গরুটা যদি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ে তাহলেও ত ঘণ্টা বাজবে, তখন কলুর পো টের পাবে কী ক’রে? ’ ভটচার্যি মশায়ের ভারি ভাবনা হল। গরুটা যদি শয়তানি ক’রে ফাঁকি দেয়, তা হলে কলুর ত লোকসান হয়। এই ভেবে তিনি আবার কলুর কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে বললেন, “হ্যাঁ হে, ঐ যে ঘণ্টার কথাটা বললে, ওটার মধ্যে একটা মস্ত গলদ থেকে গেছে। গরুটা যদি ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টা বাজায় তাহলে কী করবে? ” কলু বিরক্ত হয়ে বললে, “ফাঁকি দিয়ে আবার ঘণ্টা বাজাবে কি রকম? ” পণ্ডিতমশাই বললেন, “মনে কর যদি এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ে, তা হলেও ত ঘণ্টা বাজবে, কিন্তু ঘানি ত চলবে না। তখন কী করবে? ” কলু তখন তেল মাপছিল, সে তেলের পলাটা নামিয়ে পণ্ডিতমশায়ের দিলে ফিরে গম্ভীর হয়ে বলল, “আমার গরু কি ন্যায়শাস্ত্র পড়ে পণ্ডিত হয়েছে, যে তার অত বুদ্ধি হবে? সে আপনার টোলে যায়নি, শাস্ত্রও পড়েনি, আর গরুর মাথায় অত মতলব খেলে না।” পণ্ডিতমশাই ভাবলেন, ‘তাও তো বটে। মূর্খ গরুটা ন্যায়শাস্ত্র পড়েনি, তাই কলুর কাছে জব্দ আছে।’ Image source --- > জানা অজানা মজার তথ্য জানতে কার না ইচ্ছে করে। এখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে কিছু তথ্য সংকলন করা হল। - Published: 2025-08-29 - Modified: 2025-08-29 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af/ জানা অজানা মজার তথ্য জানতে কার না ইচ্ছে করে। এখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে কিছু তথ্য সংকলন করা হল। আশাকরি তোমাদের ভাল লাগবে। চিত্র সৌজন্য জানা অজানা মজার তথ্য - সংকলন সাহারা মরুভূমি একসময় সবুজে ভরা অঞ্চল ছিল :- আজ পৃথিবীর সবচেয়ে রুক্ষ মরুভূমিগুলির মধ্যে একটি। তবে সাহারা একসময় একটি সমৃদ্ধ সবুজ স্বর্গ ছিল আর সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে। এটি ৬ থেকে ৭ হাজার বছর আগে পর্যন্ত এই অঞ্চলে হ্রদ, নদী এবং ঘন গাছপালা ছিল।প্রায় ১০,০০০ বছর আগে: জলের উৎস সহ সবুজ অরন্য ছিল।প্রায় ৫,০০০ বছর আগে: ক্রমশ মরুভূমিতে রূপান্তর হতে থাকে।আর বর্তমান দিনে: শুষ্ক মরুভূমি করাড যেখানে দুটি নদী মিলিত হয় কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয় :- মহারাষ্ট্রের একটি শহর করাড এখানে অনন্য নদী সঙ্গম রয়েছে যেখানে দুটি বিপরীত প্রবাহি নদী মিলিত হয়। কৃষ্ণা নদী পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং কোয়না নদী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। এই বিরল ভৌগোলিক ঘটনাটি করাডকে জলবিদ্যা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে তোলে। কলা তেজস্ক্রিয় :- কলায় পটাশিয়াম-৪০ থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, অর্থাৎ এগুলি অতি সামান্য তেজস্ক্রিয়। পাকস্থলীর স্ব-পাচন :- আপনার পাকস্থলী এত শক্তিশালী অ্যাসিড তৈরি করে যে এটি নিজেকে হজম করতে পারে, কিন্তু পাকস্থলীর আস্তরণ এটিকে রক্ষা করার জন্য পুনরুত্পাদন করে। শিশুদের হাড় :- শিশুদের প্রায় ৩০০টি হাড় থাকে, যা বৃদ্ধি এবং বিকাশের সাথে সাথে একত্রিত হয়। মানুষের আভা :- আপনার শরীর একটি ক্ষীণ আলো নির্গত করে যা মানুষের চোখের পক্ষে দেখতে খুব দুর্বল। একাধিক মস্তিষ্কের প্রাণী :- অক্টোপাসের একাধিক মস্তিষ্ক থাকে, একটি কেন্দ্রীয় এবং প্রতিটি বাহুতে বেশ কয়েকটি, এবং তিনটি হৃদয়। ওম্বাটের ঘন আকৃতির মল :- ওম্বাটগুলি ঘন আকৃতির মল তৈরি করে, যা বিষ্ঠাগুলিকে গড়িয়ে যেতে বাধা দিয়ে তাদের অঞ্চল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। ভারী মেঘ :- আলো দেখা সত্ত্বেও, ঘন জলের পরিমাণের কারণে মেঘের ওজন দশ লক্ষ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। মহাকাশে ঢেকুর তোলা যাবে না :- মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের অভাব কঠিন, তরল এবং গ্যাসের বিচ্ছেদকে বাধা দেয়, যার ফলে ঢেকুর তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। হীরাবৃষ্টি :- বৃহস্পতি এবং শনির মতো গ্যাসীয় দানব গ্রহের অভ্যন্তরে, তীব্র চাপের ফলে হীরাবৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সঙ্কুচিত চাঁদ :- চাঁদ আসলে সঙ্কুচিত হচ্ছে, যদিও প্রক্রিয়াটি খুবই ধীর। প্রাণীর সুদুর যাত্রা :- কিছু প্রাণী, যেমন পরিযায়ী পাখি এবং কচ্ছপ, নৌচলাচলের জন্য পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে। অনন্য জিহ্বার ছাপ :- আঙুলের ছাপের মতো, প্রত্যেকেরই একটি অনন্য জিহ্বার ছাপ থাকে। পড়ে দেখুন : আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড নামের পেছনে কি কোন ইতিহাস, রহস্য বা কৌশল রয়েছে? তোমরা কি জানো "বয়কট" (Boycott) শব্দের উৎপত্তি কিভাবে হয় ? Picture source জানলে অবাক হবে যে বয়কট আসলে একজন ব্যক্তির নাম ! ১৮৩২ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া চার্লস কানিংহাম বয়কট ছিলেন একজন নিষ্ঠুর জমিদার। তিনি আয়ারল্যান্ডে চাষিদের থেকে কঠোরভাবে কর আদায় করতেন, অনাদায়ে উচ্ছেদ করতেন। অতঃপর অতিষ্ট হয়ে ১৮৮০ সালে, চাষিরা খাজনা কমানোর দাবি তুললে তিনি আরো জোরপূর্বক খাজনা আদায় করতে থাকেন। চাষিরা এর প্রতিবাদে এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করে! সব চাষিরা তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়তার জমিতে যাওয়া আসা করা বন্ধ করে দেয় ! এমনকি তার যে বার্তাবাহক বা চিঠি আদানপ্রদান করতো সে ও তার চিঠি আদানপ্রদান বন্ধ করে দেয় ! এমতবস্থায় জমির ফসল পেকে নষ্ট হবার উপক্রোম , কিন্তু ফসল কাটার জন্যে কাউকেই পাচ্ছেনা ! তাই অনেক কষ্টে আয়ারল্যান্ডের শহরে খবর দেয়া হয় লোক পাঠানোর জন্যে ! অবশেষে লোক আসে এবং ৩৫০ পাউন্ডের কাজ দশ হাজার পাউন্ডে করাতে হয় ! অবশেষে হয়ে যায় চরম লোকসান ! ইতিমধ্যে সারা ইংল্যান্ড, আয়রল্যান্ডের বয়কটের কর্মকণ্ড এতটাই ছড়িয়ে যায় যে, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সংবাদপত্রে "বয়কট" শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যা এযুগের ভাইরাল হবার মতো ! সে সময় থেকেই কেউ কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করলেই চার্লস কানিংহাম বয়কটের নাম চলে আসে! অবশেষে ১৮৮৮ সালে "Boycott" শব্দটি অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। --- > 'তোতা কাহিনী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত রম্যরচনা। যেখানে একটি বুদ্ধিমান তোতা ছোট একটি ইঙ্গিত বুঝে নিজের খাঁচাবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পায় । - Published: 2025-08-08 - Modified: 2025-08-08 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%be/ 'তোতা কাহিনী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত রম্যরচনা। যেখানে একটি বুদ্ধিমান তোতা ছোট একটি ইঙ্গিত বুঝে নিজের খাঁচাবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পায়। সৈয়দ মুজতবা আলী তোতা কাহিনী :- সৈয়দ মুজতবা আলী ইরান দেশের এক সওদাগরের ছিল একটি ভারতীয় তোতা। সে তোতা জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভালেন্টিনা, পান্ডিত্যে ম্যাক্সম্যুলার। সদাগর তাই ফুরসৎ পেলেই সে তোতার সঙ্গে দুদন্ড রসালাপ, তত্ত্বালোচনা করে নিতেন। হঠাৎ একদিন সদাগর খবর পেলেন ভারতবর্ষে কার্পেট বিক্রি হচ্ছে আক্রাদরে। তখনই মনস্থির করে ফেললেন ভারতে যাবেন কার্পেট বেচতে। যোগাড়-যন্ত্র তদ্দন্ডেই হয়ে গেল। সবশেষ গোষ্ঠীকুটুমকে জিজ্ঞেস করলেন, কার জন্য হিন্দুস্থান থেকে কি সওদা নিয়ে আসবেন। তোতাও বাদ পড়লো না-তাকেও শুধালেন সে কি সওগাত চায়। তোতা বললে, “হুজুর, যদিও আপনার সঙ্গে আমার বেরাদরি, ইযারগিরি বহু বৎসরের, তবু খাঁচা থেকে মুক্তি চায় না কোন চিড়িয়া? হিন্দুস্থানে আমার জাতভাই কারোর সঙ্গে যদি দেখা হয়, তবে আমার এ অবস্থার বর্ণনা করে মুক্তির উপায়টা জেনে নিবেন কি? আর তার প্রতিকূল ব্যবস্থাও যখন আপনি করতে পারবেন, তখন এ-সওগাতটা চাওয়া তো অন্যায় কিছু নয়।’ সদাগর ভারতবর্ষে এসে মেলা পয়সা কামালেন, সব সওগাতও কেনা হল, কিন্তু তোতার সওগাতের কথা গেলেন বেবাক ভুলে। মনে পড়ল হঠাৎ একদিন বনের ভিতর দিয়ে যাবার সময় একঝাঁক তোতা পাখি দেখে। তক্ষনি তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,“তোমাদের এক বেরাদর ইরান দেশের খাঁচায় বন্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার মুক্তির উপায় বলে দিতে পারো? ” কোন পাখিই খেয়াল করল না সদাগরের কথার দিকে। শুধু দুঃসংবাদটা একটা পাকির বুকে এমনি বাজ হানল যে, সে তৎক্ষণাৎ মরে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। সদাগর বিস্তর আপসোস করলেন নিরীহ একটা পাখিকে বেমক্কা বদ-খবর দিয়ে মেরে ফেলার জন্যে। স্থির করলেন, এ মূর্খামি দুবার করবেন না। মনে মনে নিজের গালে ঠাস-ঠাস করে মারলেন গন্ডা দুই চড়। বাড়ি ফিরে সাদগর সওগাত বিলোলেন দরাজ হাতে। সবাই খুশি, নিশ্চয়ই ‘জয় হিন্দ’ বলেছিল ব্যাটা বাচ্চা সবাই। শুধু তোতা গেল ফাঁকি। সদাগর আর ও-ঘরে যান না পাছে তোতা তাঁকে পায়ে ধরে সওগাতের জন্য। উঁহু সেটি হচ্ছে না ও-খবরটা যে করেই হোক চেপে যেতে হবে। কিন্তু হলে কি হয়- গোঁপ কামানোর পরও হাত ওঠে অজান্তে চাড়া দেবার জন্য, বে-খেয়ালে গিয়ে ঢুকে পড়েছেন হঠাৎ একদিন তোতার ঘরে। আর যাবে কোথায়-‘অস্ -সালাম আলাই কুম ও রহমৎ উল্লাহি ও বরকত ওহু আসুন আসুন, আসতে আজ্ঞে হোক। হুজুরের আগমন শুভ হোক’ ইত্যাদি ইত্যাদি, তোতা চেঁচাল। তোতা কাহিনী চিত্র সৌজন্য সদাগর হেঁ হেঁ করে গেলেন। মনে মনে বললেন, খেয়েছে। তোতা আর ঘুঘু এক জিনিস নয় জানি, কিন্তু এ তো ঘুঘু। বললে,“হুজুর সওগাত? ” সদাগর কাঁটা বাঁশের মধ্যিখানে। বলতেও পারেন না, চাপতেও পারেন না। তোতা এমনভাবে সদাগরের দিকে তাকায় যে তিনি বেইমাস্য বেইমান। সওগাতের ওয়াদা দিয়ে গড্ ড্যাম্ ফক্কিকারি! মানুষ জানোয়ারটা, এই রকমই হয় বটে! তওবা, তওবা! কি আর করেন সদাগর। কথা রাখতেই হয়। দুম করে বলে ফেললেন। যেই না বলা তোতাটি ধপ করে পড়ে মরে গেল। তার একটা বেরাদর সেই দূর হিন্দুস্তানে তার দুরবস্থার খবর পেয়ে হার্ট ফেল করে মারা গেল, এরকম একটা প্রাণঘাতী দুঃসংবাদ শুনলে কার না কলিজা ফেটে যায়? আরও পড়ুন - সুকুমার রায়ের হাসির গল্প ‘পেটুক’ দিলের দোস্ত তোতাটি মারা যাওয়ায় সদাগর তো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ‘হায় হায়, কী বে-আক্কেল আমি। একই ভুল দু-বার করলুম।’ পাগলের মত মাথা থাবড়ান সদাগর। কিন্তু তখন আর আপসোস ফায়দা নেই। ঘোড়া চুরির পর আর আস্তাবলে তালা মেরে কি লভ্য! সদাগর চোখের জল মুছতে মুছতে খাঁচা খুলে বের করে আঙ্গিনায় ছুঁড়ে ফেললেন। তখন কী আশ্চর্য, কী কেরামতি! ফুরুৎ করে তোতা উড়ে বসল গিয়ে বাড়ির ছাদে। সদাগর তাজ্জব- হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন তোতার দিকে। অনেকক্ষণ পরে সম্বিতে ফিরে শুধালেন,“মানে” তোতা এবারে প্যাঁচার মতো গম্ভীর কন্ঠে বললো, ‘হিন্দুস্তানে যে তোতা আমার বদ্ নসিবের খবর পেয়ে মারা যায়, সে কিন্তু আসলে মরে নি। মরার ভান করে আমার খবর পাঠালো, আমিও যদি মরার ভান করি, তবে খাঁচা থেকে মুক্তি পাবো।’ সদাগর মাথা নিচু করে বললেন,‘বুঝেছি, কিন্তু বন্ধু যাবার আগে আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যাও। আর তো তোমাকে পাব না।’ তোতা বললে, “মরার আগেই মরতে পারো, তবেই মোক্ষ লাভ। মড়ার ক্ষুধা নেই, তৃষ্ণা নেই, মান-অপমান বোধ নেই। সে তখন মুক্ত, সে নির্বাণ মোক্ষ সবই পেয়ে গিয়েছে। মরার আগে মরবার চেষ্টা করো।” সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'তোতা কাহিনী' তোমাদের কেমন লাগল তা জানাতে ভুলনা। --- > ছোটদের হাসির গল্প, সুকুমার রায়ের লেখা একটি ছোটগল্প 'দুই বন্ধু', নীতিগল্প হিসাবে বর্তমান সময়েও সমান জনপ্রিয়। - Published: 2025-08-07 - Modified: 2025-08-07 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d/ ছোটদের হাসির গল্প, সুকুমার রায়ের লেখা ছোটগল্প 'দুই বন্ধু', নীতিগল্প হিসাবে বর্তমান সময়েও সমান জনপ্রিয়। ছোটদের হাসির গল্প, সুকুমার রায়ের লেখা একটি ছোটগল্প 'দুই বন্ধু', নীতিগল্প হিসাবে বর্তমান সময়েও সমান জনপ্রিয়। চিত্র সৌজন্য ছোটদের হাসির গল্প : দুই বন্ধু - সুকুমার রায় এক ছিল মহাজন আর এক ছিল সওদাগর। দুজনে ভারি ভাব। একদিন মহাজন এক থলি মোহর নিয়ে তার বন্ধুকে বললো, ভাই, কদিনের জন্য শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি; আমার কিছু টাকা তোমার কাছে রাখতে পারবে? সওদাগর বললো, পারব না কেন? তবে কি জানো, পরের টাকা হাতে রাখা আমি পছন্দ করি না। তুমি বন্ধু মানুষ, তোমাকে আর বলার কী আছে, আমার ঐ সিন্দুকটি খুলে তুমি নিজেই তার মধ্যে তোমার টাকাটা রেখে দাও আমি ও টাকা ছোঁব না। তখন মহাজন তার থলে ভরা মোহর সেই সওদাগরের সিন্দুকের মধ্যে রেখে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি গেল। এদিকে হয়েছে কি, বন্ধু যাওয়ার পরেই সওদাগরের মনটা কেমন উসখুস করছে। সে কেবলই ঐ টাকার কথা ভাবছে আর তার মনে হচ্ছে যে বন্ধু না জানি কত কী রেখে গেছে! একবার খুলে দেখতে দোষ কি? এই ভেবে সে সিন্দুকের ভেতর উঁকি মেরে থলিটা খুলে দেখল থলি ভরা চকচকে মোহর! এতগুলো মোহর দেখে সওদাগরের ভয়ানক লোভ হলো সে তাড়াতাড়ি মোহরগুলো সরিয়ে তার জায়গায় কতগুলো পয়সা ভরে থলিটাকে বন্ধ ক'রে রাখল। দশ দিন পরে তার বন্ধু যখন ফিরে এলো, তখন সওদাগর খুব হাসিমুখে তার সঙ্গে গল্প-সল্প করল, কিন্তু তার মনটা কেবলই বলতে লাগল, কাজটা ভালো হয়নি। বন্ধু এসে বিশ্বাস করে টাকাটা রাখল, তাকে ঠকানো উচিত হয়নি। একথা সেকথার পর মহাজন বললো, তাহলে বন্ধু, আজকে টাকাটা নিয়ে উঠি সেটা কোথায় আছে? সওদাগর বললো, হ্যাঁ বন্ধু, সেটা নিয়ে যাও। তুমি যেখানে রেখেছিলে সেইখানেই পাবে আমি থলিটা আর সরাইনি। বন্ধু তখন সিন্দুক খুলে তার থলিটা বের করে নিল। কিন্তু, কি সর্বনাশ! থলিভরা মোহর ছিল, সব গেল কোথায়? সব যে কেবল পয়সা! মহাজন মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল! সওদাগর বললো, ওকি বন্ধু! মাটিতে বসলে কেন? বন্ধু বললো, ভাই, সর্বনাশ হয়েছে! আমার থলিভরা মোহর ছিল এখন দেখছি একটাও মোহর নাই, কেবল কতগুলো পয়সা! সওদাগর বললো, তাও কি হয়? মোহর কখনো পয়সা হয়ে যায়? সওদাগর চেষ্টা করছে এরকম ভাব দেখাতে যেন সে কতই আশ্চর্য হয়েছে; কিন্তু তার বন্ধু দেখল তার মুখখানা একেবারে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। আরও পড়ুন - স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিজ্ঞানের 25 টি বিস্ময়কর তথ্য ব্যাপারটা বুঝতে তার আর বাকি রইল না তবু সে কোনো রকম রাগ না দেখিয়ে হেসে বললো, আমি তো মোহর মনে করেই রেখেছিলাম এখন দেখছি পয়সা। আচ্ছা বাদ দাও, কোথাও কোনো গোল হয়ে থাকবে। যাক যা গেছে তা গেছেই সে ভাবনায় আর কাজ নেই। এই বলে সে সওদাগরের কাছে বিদায় নিয়ে পয়সার থলি বাড়িতে নিয়ে গেল। সওদাগর হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। দুইমাস পরে হঠাৎ একদিন মহাজন তার বন্ধুর বাড়িতে এসে বললো, বন্ধু, আজ আমার বাড়িতে পিঠে হচ্ছে বিকেলে তোমার ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিও! বিকালবেলা সওদাগর তার ছেলেকে নিকে মহাজনের বাড়িতে রেখে এলো আর বললো, সন্ধ্যার সময় এসে নিয়ে যাব। মহাজন করল কি, ছেলেটার পোশাক বদলিয়ে তাকে কোথায় লুকিয়ে রাখল আর একটা বাঁদরকে সেই ছেলের পোশাক পরিয়ে ঘরের মধ্যে বসিয়ে দিল। সন্ধ্যার সময় সওদাগর আসতেই তার বন্ধু এসে মুখখানা হাঁড়ির মতো করে বললো, ভাই! একটা বড় মুশকিলে পড়েছি। তোমার ছেলেটিকে তুমি যখন দিয়ে গেলে, তখন দেখলাম দিব্যি কেমন নাদুস-নুদুস ফুটফুটে চেহারা কিন্তু এখন দেখছি কি রকম হয়ে গেছে। ঠিক যেন বাঁদরের মতো দেখাচ্ছে! কি করা যায় বলত বন্ধু! ব্যাপার দেখে সওদাগরের তো চক্ষুস্থির! সে বললো, কি পাগলের মতো বকছ? মানুষ কখনও বাঁদর হয়ে যায়? মহাজন অত্যন্ত ভালো মানুষের মতো বললো, কি জানি ভাই! আজকাল কি সব ভূতের কাণ্ড হচ্ছে, কিছু বুঝবার যো নেই। এই দেখ না সেদিন আমার সোনার মোহরগুলো খামখা বদলে সব তামার পয়সা হয়ে গেল। অদ্ভুত ব্যাপার! তখন সওদাগর রেগে বন্ধুকে গালাগালি দিয়ে কাজির কাছে দৌড়ে গেল নালিশ করতে। কাজির হুকুমে চার প্যায়দা এসে মহাজনকে পাকড়াও করে কাজির সামনে হাজির করল। কাজি বললেন, তুমি এর ছেলেকে নিয়ে কী করেছ? শুনে চোখ দুটো গোল ক'রে মস্ত বড় হাঁ করে মহাজন বললো, আমি? আমি মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ, আমি কি অত সব বুঝতে পারি? হুজুর! ওর বাড়িতে মোহর রাখলাম, দশদিনে সব পয়সা হয়ে গেল। আবার দেখুন ওর ছেলেটা আমার বাড়িতে আসতে না আসতেই ল্যাজ গজিয়ে দস্তুরমতো বাঁদর হয়ে উঠেছে। কি রকম যে হচ্ছে আমার বোধ হয় সব ভূতুড়ে কাণ্ড। এই বলে সে কাজিকে লম্বা সেলাম করতে লাগল। আরও পড়ুন - এ পি জে আব্দুল কালাম, ভারতীয় বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রপতি কাজি একজন চালাক লোক, ব্যাপারটা বুঝতে তার বাকি রইল না। তিনি বললেন, আচ্ছা, তোমারা ঘরে যাও। আমি দৈবজ্ঞ ফকির ডাকিয়ে মন্ত্র পড়ে ভূত ঝাড়িয়ে সব সায়েস্তা করছি। তোমার পয়সার থলি ওর কাছে দাও আর তোমার বাঁদর ছেলেকে এর কাছেই রাখ। কাল সকালের মধ্যে সব যদি ঠিক না হয় তবে বুঝব এতে তোমাদের কারুর শয়তানি আছে। সাবধান! তাহলে তোমার পয়সাও পাবে না, মোহরও পাবে না আর তোমার ছেলে তো মরবেই, ছেলের বাপ মা খুড়ো জ্যাঠা সবসুদ্ধ মেরে সাবাড় করব। সওদাগর পয়সার থলি সঙ্গে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘরে চলল। মহাজন বাঁদর নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরল। ভোর না হতেই সওদাগর থলির মধ্যে আবার মোহর ভ'রে মহাজনের বাড়ি গিয়ে বলছে, বন্ধু! বন্ধু! কি আশ্চর্য দেখে যাও! তোমার পয়সাগুলো আবার মোহর হয়েছে। মহাজন বললো, তাই নাকি? কি আশ্চর্য এদিকে সে বাঁদরটাও আবার তোমার খোকা হয়ে গেছে। তারপর মোহরের থালি নিয়ে সওদাগরের ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিয়ে মহাজন বললো, দেখ জোচ্চোর! ফের আমায় 'বন্ধু' 'বন্ধু' বলবি তো মেরে তোর থোঁতামুখ ভোঁতা করে দেব। সুকুমার রায়ের ছোটগল্প দুই বন্ধু তোমাদের কেমন লাগল তা জানাতে ভুলনা কিন্তু। --- - Published: 2025-08-05 - Modified: 2025-08-05 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%85%e0%a6%b6/ শিবরাম চক্রবর্তী "অশ্বত্থামা হত ইতি" একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। যেখানে "অশ্বত্থামা হত" এই বিখ্যাত উক্তিটির মাধ্যমে জীবনের অপ্রত্যাশিত বাঁক এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র একটি অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ে যা তাকে জীবনের নতুন অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। চিত্র সৌজন্য শিবরাম চক্রবর্তী "অশ্বত্থামা হত ইতি" একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। যেখানে "অশ্বত্থামা হত" এই বিখ্যাত উক্তিটির মাধ্যমে জীবনের অপ্রত্যাশিত বাঁক এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র একটি অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ে যা তাকে জীবনের নতুন অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। অশ্বত্থামা হত ইতি - লেখক: শিবরাম চক্রবর্তী পাশের বাড়ি বেরিবেরি হওয়ার পর থেকেই মন খারাপ যাচ্ছিল। পাশের বাড়ির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক যে ছিল, তা নয়, সম্পর্ক হবার আশঙ্কাও ছিল না, কিন্তু বেরিবেরির সঙ্গে সম্পর্ক হতে কতক্ষণ? যে বেপরোয়া ব্যারাম কোন দেশ থেকে এসে এতদূর পর্যন্ত এগুতে পেরেছে, তার পক্ষে আর একটু কষ্ট স্বীকার করা এমন কী কঠিন! কদিন থেকে শরীরটাও খারাপ বোধ করতে লাগলাম। মনের মধ্যে স্বগতোক্তি শুরু হয়ে গেল—‘ভালো করছ না হে, অশ্বিনী! সময় থাকতে ডাক্তার-টাক্তার দেখাও।’ মনের পরামর্শ মানতে হল। ডাক্তারের কাছেই গেলাম। বিখ্যাত গজেন ডাক্তারের কাছে। আমাদের পাড়ায় ডাক্তার এবং টাক্তার বলতে একমাত্র তাঁকেই বোঝায়। তিনি নানারকমে পরীক্ষা করলেন, পালসের বিট গুনলেন, ব্লাড প্রেশার নিলেন, স্টেথোস্কোপ বসালেন, অবশেষে নিছক আঙুলের সাহায্যে বুকের নানাস্থান বাজাতে শুরু করে দিলেন। বাজনা শেষ হলে বললেন, ‘আর কিছু না, আপনার হার্ট ডায়ালেট করেছে।’ ‘বলেন কী গজেনবাবু? ’—আমার পিলে পর্যন্ত চমকে যায়। তিনি দারুণ গম্ভীর হয়ে গেলেন—‘কখনো বেরিবেরি হয়েছিল কি? ’ ‘হুঁ। হয়েছিল। পাশের বাড়িতে।’ ভয়ে ভয়ে বলতে হল। ডাক্তারের কাছে ব্যারাম লুকিয়ে লাভ নেই! ‘ঠিকই ধরেছি। বেরিবেরির আফটার-এফেক্টই এই।’ ‘তা হলে কী হবে? ’ আমি অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়লাম—‘তা হলে কি আমি আর বাঁচব না? ’ ‘একটু শক্ত বটে। সঙ্গিন কেস। এরকম অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেল করা সম্ভব।’ ‘অ্যাঁ! বলেন, কী গজেনবাবু! না, আপনার কোনো কথা শুনব না। আমাকে বাঁচাতেই হবে আপনাকে।’—করুণ কন্ঠে বলি, ‘তা যে করেই পারেন আমি না বেঁচে থাকলে আমাকে দেখবে কে? আমাকে দেখবার আর কেউ থাকবে না যে! কেউ আমার নেই।’ পাঁচ টাকা ভিজিট দিয়ে ফেললাম। ‘আচ্ছা, চেষ্টা করে দেখা যাক’—গজেন ডাক্তার বললেন, ‘একটা ভিজিটালিসের মিক্সচার দিচ্ছি আপনাকে। নিয়মিত খাবেন, সারলে ওতেই সারবে।’ আমি আর পাঁচ টাকা ওঁর হাতে গুঁজে দিলাম—‘তবে তাই কয়েক বোতল বানিয়ে দিন আমায়, আমি হরদম খাব।’ ‘না, হরদম নয়। দিনে তিন বার। আর, কোথাও চেঞ্জে যান। চলে যান—পশ্চিম-টশ্চিম। গেলে ভালো হয়। সেখানে গিয়ে আর কিছু নয়, একদম কমপ্লিট রেস্ট।’ প্রাণের জন্য মরিয়া হতে বেশি দেরি লাগে না মানুষের। বললাম, ‘আচ্ছা, তাই যাচ্ছি না-হয়। ডালটনগঞ্জে মামার বাড়ি, সেখানেই যাব।’ ‘কমপ্লিট রেস্ট, বুঝেছেন তো? হাঁটাচলা, কি ঘোরাফেরা, কি দৌড়ঝাঁপ, কি কোনো পরিশ্রমের কাজ—একদম না! করেছেন কি মরেছেন—যাকে বলে হার্ট ফেল—দেখতে-শুনতে দেবে না—সঙ্গে সঙ্গে খতম। বুঝেছেন তো অশ্বিনীবাবু? ’ অশ্বিনীবাবু হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন, ডাক্তার দেখাবার আগে বুঝেছেন এবং পরে বুঝেছেন— যেদিনই পাশের বাড়িতে বেরিবেরির সূত্রপাত হয়েছে, সেদিনই তিনি জেনেছেন তাঁর জীবনসংশয়। তবু গজেনবাবুকে আশ্বস্ত করি, ‘নিশ্চয়! পরিশ্রম না করার জন্যই যা পরিশ্রম, তাই করব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। এখন থেকে অলস হবার জন্যই আমার নিরলস চেষ্টা থাকবে।’ এই বলে আমি, ওরফে অশ্বিনীবাবু, বিদায় নিলাম। শিবরাম চক্রবর্তী ও তিনি যে মেস বাড়িতে থাকতেন - চিত্র সৌজন্য মামারা থাকেন ডালটনগঞ্জে। সেখানে তাঁদের খেতখামার। মোটা বেতনের সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে জমিটমি কিনে চাষবাস নিয়ে পড়েছেন। বেকারসমস্যা সমাধানের মতলব ছোটোবেলা থেকেই মামাদের মনে ছিল, কিন্তু চাকরির জন্য তা করতে পারছিলেন না। চাকরি করলে আর মানুষ বেকার থাকে কী করে? সমস্যাই নেই তো সমাধান করবেন কীসের? অনেক দিন মনোকষ্টে থেকে অবশেষে তাঁরা চাকরিই ছাড়লেন। তারপরেই এই চাষবাস। কলকাতার বাজারে তাঁদের তরকারি চালান আসে। সরকারি-গর্বে অনেককে গর্বিত দেখেছি, কিন্তু তরকারির গর্ব কেবল আমার মামাদের! একচেটে ব্যাবসা, অনেক দিন থেকেই শোনা ছিল, দেখার বাসনাও ছিল; এবার এই রোগের অপূর্ব সুযোগে ডালটনগঞ্জে গেলাম, মামার বাড়িও যাওয়া হল, চেঞ্জেও যাওয়া হল এবং চাই কী, তাঁদের তরকারির সাম্রাজ্য চোখেও দেখতে পারি, চেখেও দেখতে পারি হয়তো-বা। মামারা আমাকে দেখে খুশি হয়ে ওঠেন। ‘বেশ বেশ, এসেছ যখন, তখন থাকো কিছুদিন।’ বড়োমামা বলেন। ‘থাকবই তো! ’ পায়ের ধুলো নিতে নিতে বলি—‘চেঞ্জের জন্যই তো এলাম! ’ মেজোমামা বলেন, ‘এসেছ, ভালোই করেছ, এতদিনে পটলের একটা ব্যবস্থা হল।’ ছোটোমামা সায় দেন, ‘হ্যাঁ, একটা দুর্ভাবনাই ছিল, যাক, তা ভালোই হয়েছে।’ তিন মামাই যুগপৎ ঘাড় নাড়তে থাকেন। আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কারের অবাককরা গল্প, জানা অজানা নোবেল জয়ীদের কথা বুঝলাম, মামাতো ভাইদের কারও গুরুভার আমায় বহন করতে হবে। হয়তো তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তা বেশ তো, ছেলেপড়ানো এমন কিছু শক্ত কাজ নয় যে, হার্ট ফেল হয়ে যাবে। গুরুতর পরিশ্রম কিছু না করলেই হল; টিউশনির যেগুলো শ্রমসাধ্য অংশ—পড়া নেওয়া, ভুল করলে শোধরাবার চেষ্টা করা, কিছুতেই ভুল না শোধরালে শেষে পাখাপেটা করা এবং মাস ফুরোলে প্রাণপণে বেতন বাগানো, এখন থেকেই এগুলো বাদ দিতে সতর্ক থাকলাম। হ্যাঁ, সাবধানই থাকব, রীতিমতোই, যাতে কান মলবার কষ্টস্বীকারটুকুও না করতে হয়, বরঞ্চ প্রশ্রয়ই দেব পটলকে—যদি পড়াশোনায় ফাঁকি দিতে থাকে, কিংবা কাঠফাটা রোদ—চেগে উঠলেই ওর যদি ডাণ্ডাগুলি খেলার প্রবৃত্তি জেগে ওঠে, ভেগে পড়তে চায়, আমার উৎসাহই থাকবে ওর তরফে। ভ্রাতৃপ্রীতি আমার যতই থাক, প্রাণের চেয়ে পটল কিছু আমার আপনার নয়, তা মামাতো পটলই কী, আর মাসতুতো পটলই কী! মামাতো ভাইদের সঙ্গে মোলাকাত হতে দেরি হল না। তিনটে ডানপিটে বাচ্চা—মাথাপিছু একটি করে—গুনে দেখলাম।—এর মধ্যে কোনটি পটল, বাজিয়ে দেখতে হয়। আলাপ শুরু করা গেল—‘তোমার নাম কী খোকা? ’ ‘রাম ঠনাঠন।’ ‘অ্যাঁ! সেআবার কী? ’ পরিচয়ের সূত্রপাতেই পিলে চমকে যায় আমার। দ্বিতীয় জনের অযাচিত জবাব আসে—‘হামার নাম ভটরিদাস হো! ’ আমার তো দম আটকাবার জোগাড়! —বাঙালির ছেলের এসব আবার কী নাম! এমন বিদঘুটে—এরকম বদনাম কেন বাঙালির? বড়োমামা পরিষ্কার করে দেন—‘যে দেশে থাকতে হবে, সেই দেশের দস্তুর মানতে হবে না? তা নইলে বড়ো হয়ে এরা এখানকার দশজনের সাথে মিলেমিশে খাবে কীসে, মানিয়ে চলবেই-বা কী করে? ’ মেজোমামা বলেন—‘এসব বাবা, ডালটনি নাম। যে-দেশের যা দস্তুর! ’ ছোটোমামা বলেন—‘এখানকার সবাই বাঙালিকে বড়ো ভয় করে। আমরা ব্যাবসা করতে এসেছি যুদ্ধ করতে আসিনি তো! তাই এদের পক্ষে ভয়ংকর বাঙালি নাম সব বাদ দিয়ে এদেশি সাদাসিদে নাম রাখা।’ তৃতীয়টিকে প্রশ্ন করতে আমার ভয় করে—‘তুমিই তবে পটল? ’ ছেলেটির দিক থেকে একটা ঝটকা আসে—‘অহঃ! হামার নাম গিধৌড়বা! ’ হার্ট ফেলের একটা বিষম ধাক্কা ভয়ানকভাবে কেটে যায়। পকেট থেকে বের করে চট করে এক দাগ ভিজিটালিস খেয়ে নিই—‘পটল তবে কার নাম? ’ তিন জনেই ঘাড় নাড়ে—‘জানহি না তো! ’ ‘তুমহারা নাম কেয়া জি? ’ জিগেস করে ওদের একজন! ‘আমার নাম? আমার নাম? ’ আমতা আমতা করে বলি, ‘আমার নাম শিব্রাম ঠনাঠন! ’ যস্মিন দেশে যদাচারঃ। ডালটনগঞ্জের ডালভাঙা কায়দায় আমার নামটার একটা হিন্দি সংস্করণ বার করতে হয়। ভটরিদাস এগিয়ে এসে আমার হাতের শিশিটি হস্তগত করে—‘সিরপ হ্যায় কেয়া? ’ তিনটি বোতল ওদের তিন জনের হাতে দিই—মেজোমামা একটি লেবেলের উপর দৃকপাত করে বলেন, ‘সিরপ নেহি। ভিজটলিস হ্যায়? খাও মত—তাকক উপর রাখ দেও।’ ভটরিদাস রাম ঠনাঠনকে বুঝিয়ে দেয়—‘সমঝা কুছ? ইসসে হি ডিজ লনঠন বনতি। এহি দবাই সে।’ বড়োমামা বলেন, ‘শিবু, সেই কাল বিকেলে গাড়িতে উঠেছ, খিদে পেয়েছে নিশ্চয়? কিছু খেয়েটেয়ে নাও আগে।’ ত্র্যম্বক ওঝার ডাক পড়ল। ছোটোমামা আমার বিস্মিত দৃষ্টির জবাব দেন—‘তোমার দাদামশায়ের সঙ্গে মামিরা সব তীর্থে গেছেন কিনা, তাই দিন কত-র জন্য এই মহারাজকে কাজ চালানোর মতন রাখা হয়েছে।’ তেইশটা চাপাটি আর কুছ তরকারি নিয়ে মহারাজের আবির্ভাব হয়। তিনটি চাপাটি বা চপেটাঘাত সহ্য করতেই প্রাণ যায় যায়, তারপর কিছুতেই আর টানতে পারি না। মামারা হাসতে থাকেন। অগত্যা লজ্জায় পড়ে আর আড়াইটা কোনোরকমে গলাধঃকরণ করি। টেনেটুনে পাঠাই গলার তলায়, ঠেলেঠুলে। মামা ভয়ানক হাসেন—‘তোমার যে দেখি পাখির খোরাক হে! ’ আমি বলি, ‘খেতে পারতাম। কিন্তু পরিশ্রম করা আমার ডাক্তারের নিষেধ কিনা।’ আঁচিয়ে এসে লক্ষ করি, আমার ভুক্তাবশেষ সেই সাড়ে সতেরোটা চাপাটি ফ্রম রাম ঠনাঠন টু গিধৌড় চক্ষের পলকে নি:শেষ করে এনেছে। এই দৃশ্য দেখাও কম শ্রমসাধ্য নয়, তৎক্ষণাৎ আর এক দাগ ভিজিটালিস খেতে হয়। বড়োমামা বলেন, ‘চলো একটু বেরিয়ে আসা যাক। নতুন দেশে এসেছ, জায়গাটা দেখবে না? ’ বলে আমাকে টেনে নিয়ে চলতে থাকেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেরুতে হয়। ডাক্তারের মতে বিশ্রাম দরকার—একেবারে কমপ্লিট রেস্ট। কিন্তু মামারা রেস্ট কাকে বলে, জানেন না, আলস্য ওঁদের দু-চক্ষের বিষ—নিজেরা অলস তো থাকবেনই না, অন্য কাউকে থাকতেও দেবেন না। সারা ডালটনগঞ্জটা ঘুরলাম, অনেক দ্রষ্টব্য জায়গা দেখা গেল, যা দেখবার কোনো প্রয়োজনই আমার ছিল না কোনোদিন। পুরো সাড়ে তিন ঘণ্টায় পাক্কা এগারো মাইল ঘোরা হল। প্রতি-পদক্ষেপেই মনে হয়, এই বুঝি হার্ট ফেল করল। কিন্তু কোনোরকমে আত্মসংবরণ করে ফেলি। কী করে যে করি, আমি নিজেই বুঝতে পারি না। আরও পড়ুন - সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক আশ্চর্য দেশ কাম্বোডিয়ার লোককথা বাড়ি ফিরে এবার বিয়াল্লিশটা চাপাটির সম্মুখীন হতে হয়। পাখির খোরাক বলে আমাকেই সব থেকে কম দেওয়া হয়েছে। পরে খাব জানিয়ে এক ফাঁকে ওগুলো ছাদে ফেলে দিয়ে আসি, একটু পরে গিয়ে দেখি, তার চিহ্নমাত্রও নেই। পাখির খোরাক তাহলে সত্যিই! খাবার পর শোবার আয়োজন করছি, বড়োমামা বলেন, ‘আমাদের খেতখামার দেখবে চলো।’ ছোটোমামা বলেন, ‘দিবানিদ্রা খারাপ। ভারি খারাপ! ওতে শরীর ভেঙে পড়ে।’ আমি বলি, ‘আজ আর না, কাল দেখব।’ ‘তবে চলো, দেহাতে গিয়ে আখের রস খাওয়া যাক, আখের খেত দেখেছ কখনো? ’ আখের রসের লালসা ছিল, জিজ্ঞাসা করলুম, ‘খুব বেশি দূরে নয় তো? ’ ‘আরে, দূর কীসের? কাছেই তো—দু-কদম মোটে।’ ক-দমে কদম হয় জানিনে, পাক্কা চোদ্দো মাইল হাঁটা হল, চোখে কদম ফুল দেখছি! তবু শুনি—‘এই কাছেই। এসে পড়লাম বলে।’ প্রাণের আশা ছেড়েই দিয়েছি, মামার পাল্লায় পড়লে প্রাণ প্রায়ই থাকে না—রামায়ণ-মহাভারতে তার প্রমাণ আছে। আরও দু-মাইল পরে দেহাত। আখের রস খেয়ে দেহ কাত করলাম। আমার অবস্থা দেখে মামাদের করুণা হল বোধ হয়, দেহাতি রাস্তা ধরে এক্কা যাচ্ছিল একটা, সেটাকে ভাড়া করে ফেললেন। এক্কায় কখনো চড়িনি; কিন্তু চাপবার পর মনে হল, এর চেয়ে হেঁটে ফেরাই ছিল ভালো। এক্কার এমনি দাপট যে, প্রতি মুহূর্তেই আমি আকাশে উদ্ধৃত হতে লাগলাম। এ যাত্রায় এতক্ষণ টিকে থাকলেও এর ধাক্কায় এবার গেলাম নির্ঘাত, সজ্ঞানে এক্কাপ্রাপ্তির আর দেরি নেই—টের পেলাম বেশ। বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে গেল—এক্কায় যতক্ষণ এসেছি, তার দুই-তৃতীয়াংশ সময় আকাশে-আকাশেই ছিলাম, একথা বলতে পারি; কিন্তু সেই আকাশের ধাক্কাতেই সারা গায়ে দারুণ ব্যথা! হাড়পাঁজরা যেন ভেঙে গুঁড়িয়ে ঝরঝরে হয়ে গেছে বোধ হতে লাগল। তেত্রিশটা চাপাটির মধ্যে সওয়া তিনখানা আত্মসাৎ করে শুয়ে পড়লাম। কোথায় রামলীলা হচ্ছিল, মামারা দেখতে গেলেন। আমায় সঙ্গে যেতে সাধলেন, বার বার অভয় দিলেন যে এক কদমের বেশি হবে না, আমি কিন্তু ঘুমের ভান করে পড়ে থাকলাম। ডালটনি ভাষায় এক কদম মানে যে একুশ মাইল, তা আমি ভালোরকমই বুঝেছি। আলাদা বিছানা ছিল না, একটিমাত্র বড় বিছানা পাতা, তাতেই ছেলেদের সঙ্গে শুতে হল। খানিকক্ষণেই বুঝতে পারলাম যে হ্যাঁ, সৌরজগতেই বাস করছি বটে—আমার আশেপাশে তিনটি ছেলে যেন তিনটি গ্রহ! তাদের কক্ষ পরিবর্তনের কামাই নেই। এই যেখানে একজনের মাথা দেখি, একটু পরেই দেখি, সেখানে তার পা; খানিক বাদে মাথা বা পা-র কোনোটাই দেখতে পাই না। তার পরেই অকস্মাৎ তার কোনো একটার সঙ্গে আমার দারুণ সংঘর্ষ লাগে। চটকা ভেঙে যায়, আহত স্থানের শুশ্রূষা করতে থাকি কিন্তু ওদের কারুর নিদ্রার বিন্দুমাত্রও ব্যত্যয় ঘটে না। ঘুমের ঘোরে যেন বোঁ বোঁ করে ঘুরছে ওরা—আমিও যদি ওদের সঙ্গে ঘুরতে পারতাম, তা হলে বোধ হয় তাল বজায় থাকত, ঠোকাঠুকি বাধার সম্ভাবনাও কমত কিছুটা। কিন্তু মুশকিল এই ঘুরতে গেলে আমার ঘুমানো হয় না, আর ঘুমিয়ে পড়লে ঘোরার কথা একদম ভুলে যাই। ছেলেগুলোর দেখছি পা দিয়েও বক্সিং করার বেশ অভ্যেস আছে এবং সব সময়ে ‘নট-টু-হিট বিলো-দি-বেল্ট’-এর নিয়ম মেনে চলে বলেও মনে হয় না। নাক এবং দাঁত খুব সতর্কভাবে রক্ষা করছি—ওদের ধাক্কায় কখন যে দেহচ্যুত হয়, কেবলই এই ভয়। ঘুমানোর দফা তো রফা! ভাবছি, আর ‘চৌকিদারি’তে কাজ নেই, মাটিতে নেমে সটান ‘জমিদার’ হয়ে পড়ি। প্রাণ হাতে নিয়ে এমন করে ঘুমানো যায় না। পোষায় না আমার। এদিকে দুটো তো বাজে। নীচে নেমে শোবার উদ্যোগে আছি, এমন সময়ে নেপথ্যে মামাদের শোরগোল শোনা গেল—রামলীলা দেখে আড়াইটা বাজিয়ে ফিরছেন এখন। অগত্যা মাটি থেকে পুনরায় প্রোমোশন নিতে হল বিছানায়। মামারা আমাকে ঘুম থেকে জাগালেন, অর্থাৎ তাঁদের ধারণা যে, জাগালেন। তারপর ঝাড়া দু-ঘণ্টা রামলীলার গল্প চলল। হনুমানের লম্ফঝম্প তিন মামাকেই ভারি খুশি করেছে—সে-সমস্তই আমাকে শুনতে হল। ঘুমে চোখের পাতা জড়িয়ে আসছিল, কেবল হুঁ, হাঁ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এক মামা প্রশ্ন করে বসলেন—‘হনুমানের বাবা কে জান তো শিব্রাম? ’ ঘুমের ঝোঁকে ইতিহাসটা ঠিক মনে আসছিল না। হনুমান প্লুরাল হলে মামাদের নাম করে দিতাম, সিঙ্গুলার অবস্থায় কার নাম করি? সংকোচের সঙ্গে বললাম ‘জাম্বুবান নয়তো? ’ বড়োমামা বললেন, ‘পাগল! ’ মেজোমামা বললেন, ‘যা আমরা নিশ্বাস টানছি, তাই।’ ‘ওঃ! এতক্ষণে বুঝেছি! ’—হঠাৎ আমার বুদ্ধি খুলে যায়, বলে ফেলি চট করে, ‘ও! যত সব রোগের জীবাণু! ’ বড়োমামা আবার বলেন, ‘পাগলা! ’ ‘উহুঁহুঁ! ’—মেজোমামাও আমায় দমিয়ে দেন, বলেন, ‘না ওসব নয়। জীবাণুটিবানু না।’ ‘জীবাণুটিবানুও না? তা হলে কী তবে? আমার তো ধারণা ছিল ওইসব প্রাণীরাই আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসে যাতায়াত করে।’—আমি দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বলি। ছোটোমামা বলেন, ‘পবনদেব।’ সাক্ষাৎ পবনদেবকে নিশ্বাসে টানছি এই কথা ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়েছি, কিংবা হয়তো ঘুমাইনি। বড়োমামা আমাকে টেনে তুললেন—‘ওঠো, ওঠো; চারটে বেজে গেছে, ভোর হয়ে এল। মুখ-হাত ধুয়ে নাও, চলো বেরিয়ে পড়ি। আমরা সকলেই প্রাতভ্রমণ করি রোজ। তুমিও বেড়াবে আমাদের সঙ্গে।’ মেজোমামা বললেন, ‘বিশেষ করে চেঞ্জে এসেছ যখন! হাওয়া বদলাতেই এসেছ তো? ’ ছোটোমামাও সায় দেন—‘ডালটনগঞ্জের হাওয়াই হল আসল! হাওয়া খেতে এসে হাওয়াই যদি না খেলে, তবে আর খেলে কী? ’ চোখে-মুখে জলের ছিটে দিয়ে মামাদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। সাড়ে সাত মাইল হাঁটবার পর বড়োমামা দু-ধারে যতদূর যায়, বাহু বিস্তার করলেন—‘এই সব—সবই আমাদের জমি।’ —‘যতদূর চোখ যায়, জমি! ’ কেবল জমিই চোখে পড়ে। মেজোমামা বলেন, ‘এবার যা আলু ফলেছিল, তা... --- > সুকুমার রায়ের হাসির গল্প 'পেটুক' আজও শিশু এবং বড়দের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। তার গল্পগুলোতে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন ও সামাজিক সমালোচনা। - Published: 2025-07-29 - Modified: 2025-07-29 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d/ সুকুমার রায়ের হাসির গল্প 'পেটুক' আজও শিশু এবং বড়দের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। তার গল্পগুলোতে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন ও সামাজিক সমালোচনা। সুকুমার রায়ের হাসির গল্প 'পেটুক' আজও শিশু এবং বড়দের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। তার গল্পগুলোতে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন ও সামাজিক সমালোচনা। পেটুক : সুকুমার রায়ের হাসির গল্প হরিপদ! ও হরিপদ! হরিপদর আর সাড়াই নেই! সবাই মিলে এত চ্যাঁচাচ্ছে, হরিপদ আর সাড়াই দেয় না। কেন, হরিপদ কালা নাকি? কানে কম শোনে বুঝি? না, কম শুনবে কেন, বেশ দিব্যি পরিষ্কার শুনতে পায়। তবে হরিপদ কি বাড়ি নেই? তা কেন? হরিপদর মুখ ভরা ক্ষীরের লাড়ু, ফেলতেও পারে না, গিলতেও পারে না। কথা বলবে কি করে? আবার ডাক শুনে ছুটে আসতেও পারে না তাহলে যে ধরা পড়ে যাবে। তাই সে তাড়াতাড়ি লাড়ু গিলছে আর জল খাচ্ছে, আর যতই গিলতে চাচ্ছে ততই গলার মধ্যে লাড়ুগুলো আঠার মতো আটকে যাচ্ছে। বিষম খাবার যোগাড় আর কি! এটা কিন্তু হরিপদর ভারি বদভ্যাস। এর জন্য কত ধমক, কত শাসন, কত শাস্তি, কত সাজাই যে সে পেয়েছে ও তবু তার আক্কেল হল না। তবু সে লুকিয়ে চুরিয়ে পেটুকের মতো খাবেই। যেমন হরিপদ তেমনি তার ছোট ভাইটি। এদিকে পেট রোগা, দুদিন অন্তর অসুখ লেগেই আছে, তবু হ্যাংলামি তার আর যায় না। যেদিন শাস্তিটা একটু শক্ত রকমের হয় তারপর কয়েক দিন ধরে প্রতিজ্ঞা থাকে, এমন কাজ আর করব না। যখন অসময়ে অখাদ্য খেয়ে, রাত্রে তার পেট কামড়ায়, তখন কাঁদে আর বলে, আর না, এইবারেই শেষ। কিন্তু দুদিন না যেতেই আবার যেই সেই। এই তো কিছুদিন আগে পিসিমার ঘরে দই খেতে গিয়ে তারা জব্দ হয়েছিল, কিন্তু তবু তো লজ্জা নেই! হরিপদর ছোট ভাই শ্যামাপদ এসে বললো, দাদা, শিগগির এস। পিসিমা এই মাত্র এক হাঁড়ি দই নিয়ে তার খাটের তলায় লুকিয়ে রাখলেন। দাদাকে এত ব্যস্ত হয়ে এ-খবরটা দেবার অর্থ এই যে, পিসিমার ঘরে যে শিকল দেওয়া থাকে, শ্যামাপদ সেটা হাতে নাগাল পায় না তাই দাদার সাহায্য দরকার হয়। দাদা এসে আস্তে আস্তে শিকলটা খুলে আগেই তাড়াতাড়ি গিয়ে খাটের তলায় দইয়ের হাঁড়ি থেকে এক খাবল তুলে নিয়ে খপ করে মুখে দিয়েছে। মুখে দিয়েই চীৎকার! কথায় বলে, ষাঁড়ের মত চ্যাঁচাচ্ছে, কিন্তু হরিপদর চেঁচানো তার চাইতেও সাংঘাতিক! চীৎকার শুনে মা-মাসি-দিদি-পিসি যে যেখানে ছিলেন সব 'কি হল' 'কি হল' বলে দৌড়ে এলেন। শ্যামাপদ বুদ্ধিমান ছেলে, সে দাদার চীৎকারের নমুনা শুনেই দৌড়ে ঘোষেদের পাড়ায় গিয়ে হাজির! পড়ে দেখুন : মহান ব্যক্তিদের জীবনী থেকে নেওয়া 10 টি হাসির গল্প সেখানে অত্যন্ত ভালো মানুষের মতো তার বন্ধু শান্তি ঘোষের কাছে পড়া বুঝে নিচ্ছে। এদিকে হরিপদর অবস্থা দেখে পিসিমা বুঝেছেন যে হরিপদ দই ভেবে তাঁর চুনের হাঁড়ি চেখে বসেছে। তারপর হরিপদর যা সাজা! এক সপ্তাহ ধরে সে না পারে চিবোতে, না পারে গিলতে, তার খাওয়া নিয়েই এক মহা হাঙ্গামা! কিন্তু তবু তো তার লজ্জা নেই আজ আবার লুকিয়ে কোথায় লাড়ু খেতে গিয়েছে। ওদিকে মামা তো ডেকে সারা! খানিক বাদে মুখ ধুয়ে মুছে হরিপদ ভালো মানুষের মতো এসে হাজির। হরিপদর বড়মামা বললেন, কিরে, এতক্ষণ কোথায় ছিলি? হরিপদ বললো, এইতো, উপরে ছিলাম। তবে, আমরা এত চ্যাঁচাচ্ছিলাম, তুই জবাব দিচ্ছিলি না যে? হরিপদ মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, "আজ্ঞে জল খাচ্ছিলাম কিনা। শুধু জল? না, কিছু স্থলও ছিল? হরিপদ শুনে হাসতে লাগল যেন তার সঙ্গে ভালই একটা রসিকতা করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মেজমামা মুখখানা গম্ভীর করে এসে হাজির। তিনি ভিতর থেকে খবর এনেছেন যে, হরিপদ একটু আগেই ভাঁড়ারঘরে ঢুকেছিল, আর তারপর থেকেই দশ-বারোখানা ক্ষীরের লাড়ু কম পড়েছে। তিনি এসেই হরিপদর বড়মামার সঙ্গে খানিকক্ষণ ইংরাজিতে ফিস্ফাস্ কি যেন বলাবলি করলেন, তারপর গম্ভীরভাবে বললেন, বাড়িতে ইঁদুরের যে রকম উৎপাত, ইঁদুর মারবার একটা কিছু বন্দোবস্ত না করলে আর চলছে না। চারদিকে যে রকম প্লেগ আর ব্যরাম এই পাড়া সুদ্ধু ইঁদুর না মারলে আর রক্ষা নেই। বড়মামা বললেন, হ্যাঁ, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিদিকে বলেছি, সেঁকো বিষ দিয়ে লাড়ু পাকাতে সেইগুলো একবার ছড়িয়ে দিলেই ইঁদুর বংশ নির্বংশ হবে। হরিপদ জিজ্ঞেস করল, লাড়ু কবে পাকানো হবে? বড়মামা বললেন, সে এতক্ষণে হয়ে গেছে, সকালেই টেঁপিকে দেখছিলাম একথাল ক্ষীর নিয়ে দিদির সঙ্গে লাড়ু পাকাতে বসেছে। হরিপদর মুখখানা আমসির মতো শুকিয়ে এল, সে খানিকটা ঢোঁক গিলে বলল, সেঁকো বিষ খেলে কি হয় বড়মামা? হবে আবার কি? ইঁদুরগুলো মারা পড়ে, এই হয়। আর যদি মানুষে এই লাড়ু খেয়ে ফেলে? তা একটু আধটু যদি খেয়ে ফেলে তো নাও মরতে পারে গলা জ্বলবে, মাথা ঘুরবে, বমি হবে, হয়তো হাত-পা খিঁচবে। আর যদি একেবারে এগারোটা লাড়ু খেয়ে ফেলে? বলে হরিপদ ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল। তখন বড়মামা হাসি চেপে অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে বললেন, বলিস কিরে? তুই খেয়েছিস নাকি? হরিপদ কাঁদতে কাঁদতে বলল, হ্যাঁ বড়মামা, তার মধ্যে পাঁচটা খুব বড় ছিল। তুমি শিগগির ডাক্তার ডাক বড়মামা, আমার কি রকম গা ঝিম্ঝিম্ আর বমি বমি করছে। পড়ে দেখুন : বাংলায় হালকা মজার ও ছোটদের জন্য হাসির গল্প মেজমামা দৌড়ে গিয়ে তার বন্ধু রমেশ ডাক্তারকে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনলেন। তিনি প্রথমেই খুব একটা কড়া রকমের তেতো ওষুধ হরিপদকে খাইয়ে দিলেন। তারপর তাকে কি একটা শুঁকতে দিলেন, তার এমন ঝাঁঝ যে, বেচারার দুই চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়তে লাগল। তারপর তাঁরা সবাই মিলে লেপ কম্বল চাপা দিয়ে তাকে ঘামিয়ে অস্থির করে তুললেন। তারপর একটা ভয়ানক উৎকট ওষুধ খাওয়ানো হল। সে এমন বিস্বাদ আর এমন দুর্গন্ধ যে, খেয়েই হরিপদ ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে লাগল। তারপর ডাক্তার তার পথ্যের ব্যবস্থা করে গেলেন। তিনদিন সে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবে না, চিরতার জল আর সাগু খেয়ে থাকবে। হরিপদ বলল, আমি উপরে মা-র কাছে যাব। ডাক্তার বললেন, না। যতক্ষণ বাঁচবার আশা আছে ততক্ষণ নাড়াচাড়া করে কাজ নেই। ও আপনাদের এখানেই থাকবে। বড়মামা বললেন, হ্যাঁ, মা-র কাছে যাবে না আরো কিছু! মাকে এখন ভাবিয়ে তুলে তোমার লাভ কি? তাঁকে এখন খবর দেবার কিছু দরকার নেই। তিনদিন পরে যখন সে ছাড়া পেল তখন হরিপদ আর সেই হরিপদ নেই, সে একেবারে বদলে গেছে। তার বাড়ির লোকে সবাই জানে হরিপদর ভারি ব্যারাম হয়েছিল। তার মা জানেন যে বেশি পিঠে খেয়েছিল বলে হরিপদর পেটের অসুখ হয়েছিল। হরিপদ জানে, সেঁকো বিষ খেয়ে সে আরেকটু হলেই মারা যাচ্ছিল। কিন্তু আসল ব্যাপারটা যে কি, তা জানেন কেবল হরিপদর বড়মামা আর মেজোমামা, আর জানেন রমেশ ডাক্তার। --- > ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে এমন ৮ টি ছোট গল্পের সংকলন দেওয়া হল। গল্পগুলি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয় - Published: 2025-07-25 - Modified: 2025-07-25 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc/ ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে এমন ৭ টি ছোট গল্পের সংকলন দেওয়া হল। গল্পগুলি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয় ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেয় এবং তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে এমন ৭ টি ছোট গল্পের সংকলন দেওয়া হল। গল্পগুলি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয় তবে এই উদ্যোগ সার্থক বলে মনে করব। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা (Short moral stories for kids) গল্প শিশুদের সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য শেখানোর একটি সুন্দর উপায়। এগুলি তাদের মৌলিক মানবিক নীতিশাস্ত্র এবং আচরণগত ধরণ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা অর্জনে সহায়তা করে। ছোটবেলায়, আমরা পঞ্চতন্ত্রের গল্প, ঠাকুরমার ঝুলি বা জাতক গল্পের মতো লোককাহিনী পড়ে এবং শুনে বড় হয়েছি । আমরা হয়তো তা বুঝতে পারি না কিন্তু ছোটদের নৈতিক শিক্ষা জন্য এই ছোট ছোট গল্পগুলি আমাদের আজকের অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 1. শিয়াল ও সারস চিত্র সৌজন্য এক বিশাল সবুজ জঙ্গলে, একটি শিয়াল এবং একটি সারস থাকত, তারা উভয়ই প্রতিবেশী ছিল। শিয়ালটি খুব চালাক এবং স্বার্থপর ছিল। একদিন সে তার প্রতিবেশী সারসকে তার বাড়িতে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। সারস আমন্ত্রণ শুনে অবাক হয়ে যায়, কিন্তু আনন্দের সাথে গ্রহণ করে। সেই সন্ধ্যায়, সারস শিয়ালের বাড়িতে যায় এবং তার লম্বা ঠোঁট দিয়ে দরজায় কড়া নাড়ে। শিয়াল দরজা খুলে সারসকে ভিতরে ডাকে। সারস শিয়ালের তৈরি সুস্বাদু স্যুপের গন্ধ পেতে পারে। সারস পাখিটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। শিয়াল সারস পাখিটিকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রাখল যাতে সারস পাখিটি আরও ক্ষুধার্ত হয়। এরপর সে অগভীর বাটিতে কৌশলে রাতের খাবারের জন্য স্যুপ পরিবেশন করল। যেহেতু এটি অগভীর বাটি ছিল, তাই শিয়ালের পক্ষে সবটা খাওয়া সহজ ছিল, কিন্তু দরিদ্র সারস পাখিটি এর কিছুই খেতে পারত না। খাবারটি এত অগভীর ছিল যে তার লম্বা ঠোঁট স্যুপ পান করতে পারত না। দরিদ্র সারস পাখিটি বিনয়ের সাথে হাসল এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় চলে গেল। শিয়ালকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সারস পরের সপ্তাহে শিয়ালকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানালো। শিয়াল যখন সারসের বাড়িতে পৌঁছালো, তখন সে সুস্বাদু কিছু রান্নার গন্ধ পেলো। শিয়াল ভেবেছিল সারস তার মতো ধূর্ত এবং ধূর্ত নয়। সে ভেবেছিল সারস তাকে বোকা বানাবে না। খাবারের কথা ভাবতে ভাবতে সারস দুটি বড় লম্বা জারে ভরা স্টু নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। শিয়াল প্রলুব্ধ হয়ে গেল, কিন্তু স্টু স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করার সাথে সাথেই তার মুখ বোতলের জারের গলায় আটকে গেল। সারস সহজেই জারের ভেতরে তার বড় ঠোঁট ঢুকিয়ে স্টু পান করল এবং শিয়াল কেবল পাত্রের প্রান্ত চাটতে এবং খাবার শুঁকতে পারল। যদিও সে চায়নি, শিয়ালকে স্বীকার করতে হয়েছিল যে সে চালাক ছিল এবং তাকে খালি পেটে বাড়ি যেতে হয়েছিল। শিক্ষা (শিয়াল ও সারস): এই নীতিগল্প আমাদের শেখায় যে অন্যদের সাথে সেই আচরণ করা যেমন তুমি চাও অন্যদের সাথেও করা উচিত। এটি শেখায় যে অন্যদের প্রতি চিন্তাশীলতা এবং শ্রদ্ধা অনেক দূর এগিয়ে যায়, এবং নির্দয় বা প্রতারণামূলক আচরণ প্রায়শই বিপরীত ফলাফল দেয়। 2. বড়াই চিত্র সৌজন্য একবার একজন লোক তার বাড়ি ছেড়ে অনেক দূরের দেশের একটি জায়গায় বেড়াতে গেছিল। পুরো একটা বছর সে সেখানে থাকল। অবশেষে বাড়ি ফিরে এসে নিজের গ্রামের লোকের কাছে দিনরাত সে সেই জায়গাটার কথা বলে প্রশংসা করে যেত। সর্বক্ষণ তার মুখে একই কথা। গ্রামের লোকদের এসব কথা শুনতে ভালো লাগতো না। বিরক্ত হয়ে একদিন একজন তাকে জিজ্ঞেস করল - জায়গাটা যখন তোমার এতই ভালো লেগেছিলো তাহলে সেখানেই তো থেকে গেলে পারতে? লোকটি বলল - এলাম কেনো? এলাম তোমাদের কাছে জায়গাটার কথা বলবো বলে। না হলে তো আসতামই না। ওখানকার লোকেরা কি ভালো লাফ দিতে পারে জানো? এমন লাফ দেওয়া তোমার বাপের জন্মেও দেখোনি! একদিন ওখানে লাফের প্রতিযোগিতা হলো। 'কে সবচাইতে বেশি লাফাতে পারে' - এই প্রতিযোগিতায় আমি এমন লাফ দিলাম যে সবাই দেখে এক্কেবারে অবাক হয়ে গেল! কেউ আমার সঙ্গে এটে উঠতে পারল না। তোমরা যদি সেখানে হাজির থাকতে তাহলে দেখতে কি দারুন আমার সে লাফ! শুনে একজন অমনি বলে উঠল - তোমার লাফ দেখতে অত দুর আমাদের যাবার কি দরকার, তুমি একবার এখানে লাফ দিয়ে দেখিয়েই দাও না, দাদা! বলা বাহুল্য, লোকটি তেমন লাফ দিতে পারল না। এরপর থেকে সে আর নিজেকে নিয়ে বড়াই করত না। আর বকবকও বন্ধ হয়ে গেল। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা: বাকচাতুরী বেশিদিন চলে না। আরও পড়ুন: কাম্বোডিয়ার লোককথা - সংস্কৃতি সম্পন্ন এক আশ্চর্য দেশ 3. বুদ্ধিমান বনিক চিত্র সৌজন্য এক ধনী ব্যবসায়ী ছিল। তার ছিল প্রচুর ধন সম্পত্তি। আর ছিল অনেক লোকজন, ঝি-চাকর গাড়িঘোড়া ইত্যাদি। তার একটা বড়ো কুকুরও ছিল। কুকুরটা ছিল খুবই প্রভুভক্ত। সে মনিবের সব লোকজনদের পাহারা দিত। কেউ কাজে ফাঁকি দিলে, জিনিসপত্তর ভেঙে ফেললে বা চুরি করলে ঘেউঘেউ করে ডেকে মনিবকে জানিয়ে দিত। আর কুকুরটার প্রধান কাজ ছিল খুব ভোরে মোরগ ডেকে ওঠবার সঙ্গে সঙ্গে সকলকে জাগিয়ে দেওয়া। ফলে লোকজনদের আর বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে থাকা চলত না। উঠে পড়তে হত সকাল না হতেই। আর উঠেই মনিবের কাজে লেগে যেতে হত। অত সকালে উঠে শীত নেই, বর্ষা নেই কাজ করা। ব্যবসায়ীটির লোকলস্করদের আর সইছিল না। তারা মতলব আঁটছিল কীভাবে কুকুরটাকে জব্দ করা যায়। অনেক ভেবেচিন্তে শেষে তারা কুকুরটির খাবারে একদিন বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলল। তারা ভাবল—এবার বাঁচা গেল, রাত ভোর হবার আগে আর তাদের উঠতে হবে না। কিন্তু এতে ফল হল উলটো। মনিব বেজায় রেগে গেলেন। তিনি ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। তারপর একটা ব্যবস্থা নিলেন। রাত দ্বিতীয় প্রহর থেকেই তিনি তার লোকজনদের উঠিয়ে কাজে লাগিয়ে দিতেন। মিষ্টি করে, মুখে বলতেন—ওরে তোরা উঠে পড়, রাত আর নেই। অনেক কাজ, সব পড়ে রয়েছে। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : মানুষের দুর্গতির জন্যে মানুষই দায়ী। 4. শিকারী কুকুর চিত্র সৌজন্য এক দেশে একজন খুব শক্তিশালী লোক ছিল। লোকটির একটি ভালো শিকারী কুকুর ছিল। কুকুরটির গায়ে ছিল খুব শক্তি। কুকুরটি খুব ভালো শিকার করতে পারত। শক্তিশালী লোকটি যখনই শিকারে যেত তখনই কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে যেত। বনে গিয়ে কোনও পশুকে দেখিয়ে একবার ইশারা করলেই কুকুরটি তীরের মতন ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে নিয়ে আসত তার মনিবের কাছে। যতদিন কুকুরটি গায়ে বল ছিল ততদিন এমনি করে অনেক পশু শিকার করে এনে খুশি করত তার মনিবকে। অবশেষে কুকুরটি বুড়ো হয়ে গেলো। বুড়ো হওয়ায় সে বেশ দুর্বলও হয়ে পড়েছিল। এই সময় তার মনিব একদিন তাকে নিয়ে শিকারে বেরিয়েছিল। জঙ্গলে গিয়ে একটা শুকর দেখতে পেল মনিবটি। মনিব ইশারায় কুকুরটিকে ওই শুয়োরটি ধরতে পাঠাল। কুকুরটি প্রাণপণে দৌড়ে গিয়ে শুয়োরটির ঘাড় কামড়ে ধরল কিন্তু গায়ে তার আগেকার মতো বল না থাকায় বেশিক্ষণ শুয়োরটির ঘাড় কামড়ে ধরে রাখতে পারল না। ফলে শুয়োরটি অনায়াসে কুকুরটির কামড় থেকে নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে গেল। লোকটি এতে ভীষন রেগে গিয়ে কুকুরটাকে খুব মারধর করল। কুকুরটি তখন কাদতে কাদতে বলল - কর্তা, বিনা দোষে আমাকে এমন করে মারা কি আপনার ঠিক হচ্ছে? ভেবে দেখুন, যতদিন আমার গায়ে জোর ছিল, ততদিন কত পশু ধরে এনে দিয়েছি আপনাকে। এখন আমি বুড়ো হয়ে গেছি, শরীরে আর আগেকার মত শক্তি নেই, তাই এখন আর আগের মত কাজ করতে পারি না। এই না পারার জন্যে আমায় এমন করে মারা কি আপনার ঠিক হচ্ছে? ছোটদের নৈতিক শিক্ষা: কারোরই কর্মক্ষমতা চিরকাল সমান থাকে না। আরও পড়ুন - ছোটদের জন্য 6 টি সুন্দর ছোট নৈতিক গল্প 5. দেবদারু গাছ ও কাঁটাগাছ চিত্র সৌজন্য এক পাহাড়ি দেশে এক পাহাড়ের ওপর একটা বিরাট দেবদারু এ গাছ ছিল। আর তার পাশেই ছিল একটা কাটাগাছের ঝোপ। দেবদারু গাছ একদিন পাশের সেই কাঁটাগাছের ঝোপটাকে ডেকে বলল— দেখেছিস? একবার চোখ মেলে আমার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখ—আমি কত বড়ো, কত মজবুত আমার কাঠ, কত সুন্দর দেখতে আর কী সুন্দর অঙ্গের গঠন আমার। আর তুই কিনা একটা কিম্ভূত কিমাকার! যেমন বেঁটে, তেমনি দুর্বল। অতি বিশ্রী আর কুৎসিৎ দেখতে তুই। দেবদারুর কথা শুনে কাঁটাগাছের মনটা বড়োই খারাপ হয়ে গেল— তাই তো, এটা তো মিথ্যে নয়। পর দিনই কাঠুরিয়ার দল কুড়ুল কাঁধে করে সেখানে হাজির হল। এসেই তারা ঝপাঝপ কুড়ুলের কোপ বসাতে লাগল দেবদারু গাছটার গোড়ায়। গাছটা কেটে নিয়ে গেল তারা। ছিন্নমূল দেবদারু গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়বার সময় বড়ো আপশোসের সঙ্গে নিজের মনে বলল—হায় হায়, এর চাইতে আমার কাঁটাগাছের ঝোপ হওয়াই ভালো ছিল। লোকগুলির হাতে তাহলে আমি এভাবে অকালে প্রাণ হারাতাম না। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : অহংকারীর পতন অবশ্যম্ভাবী। 6. গাধা আর ঘোড়া চিত্র সৌজন্য একটা গাধা ভারী বোঝা পিঠে নিয়ে অতি কষ্টে পথ চলেছে, এমন সময় এক লড়াইয়ের ঘোড়া খটখট করে সেই পথে এসে গাধাকে বলল—এই গাধা, তাড়াতাড়ি পথ ছেড়ে দে আমায়, নাহলে এক লাথিতে তোকে শেষ করে দেব। গাধাটি ঘোড়ার হুমকি শুনে তখনই তাকে পথ ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়াল আর নিজের দুর্ভাগ্যের জন্যে মনে মনে দুঃখ করতে লাগল। কিছুদিন পরে ওই ঘোড়াটি যুদ্ধ থেকে এমন আহত হয়ে ফিরল যে তাকে দিয়ে আর যুদ্ধের কাজ হল না। এমনকি তার ওপরে আর চড়াও চলল না। তখন ঘোড়ার মালিক তাকে জমিতে চাষবাসের কাজে লাঙল টানতে লাগিয়ে দিল। একদিন দুপুরে প্রচণ্ড গরমে রোদে ঘোড়া লাঙল টানছিল, গা দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। আর ঘোড়াটা চলতে একটু ঢিলে দিলেই তার পিঠে পড়ছিল চাবুকের বাড়ি। সেই সময় গাধাটা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ঘোড়াটাকে সে এই অবস্থায় দেখে নিজের মনে মনে বলতে লাগল, আরে কপাল, একেই তো একদিন আমি ঈর্ষা করেছিলাম ওর সৌভাগ্যের জন্যে আর এখন তো ওর অবস্থা দেখে চোখে জল আসছে। আহা বেচারা! মূর্খ, নিজের সৌভাগ্যের সময় অকারণে আমাকে অপমান করেছিল। এখন তো এর অবস্থা আমার চাইতেও শোচনীয়। শিক্ষা (গাধা আর ঘোড়া) : এই নীতিগল্প শেখায় যে সৌভাগ্য কারও চিরকাল থাকে না। 7. দাঁড়কাক ও ডুমুর চিত্র সৌজন্য এক দাঁড়কাক ছিল। তার খুব খিদে পেয়েছিল। তাই সে একটা ডুমুর গাছের ডালে গিয়ে বসল। তার ইচ্ছে পাকা ডুমুর খাবে। কিন্তু তার ভাগ্য খারাপ ছিল। গাছের ডুমুরগুলি ছিল একেবারে কাঁচা। আর বেশ শক্ত। কাক কিন্তু নড়ল না। সে ডালে বসেই রইল। ডুমুরগুলি পাকলেই সে খাবে। এক খ্যাঁকশিয়াল সেই গাছের তলা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার নজরে পড়ল যে একটা দাঁড়কাক সেই ডুমুরগাছের ডালে বসে আছে। সে কোনো কথা না বলে চলে গেল। সন্ধেবেলায় আবার খ্যাঁকশিয়ালটি সেই পথ ধরেই বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ তার ওই ডুমুরগাছটির দিকে নজর পড়ল। সে দেখতে পেল সেই দাঁড়কাকটি তখনও ডুমুরগাছের ডালে চুপ করে বসে আছে। এবার আর খ্যাঁকশিয়ালটা চুপ করে না থেকে, ঠায় বসে থাকা দাঁড়কাককে জিজ্ঞাসা করল, তুমি ওখানে বসে আছ কেন ? দাঁড়কাক বলল, আমার খুব খিদে পেয়েছে। ডুমুরগুলো পাকলে, পাকা ডুমুর খেয়ে খিদে মেটাব। এই কথা শুনে খ্যাঁকশিয়ালটি হো হো করে হাসতে লাগল। সে বলল – আরে ভাই কবে ডুমুর পাকবে তার আশায় তুমি বসে আছ? দূর, বোকা কাক। শিক্ষা (দাঁড়কাক ও ডুমুর) : এই নীতিগল্প শেখায় যে অনেকেই আশার গোলকধাঁধায় ভুলে বৃথা সময় নষ্ট করে। 8. যে সিংহ জ্যান্ত হয়ে উঠেছিল চিত্র সৌজন্য চারজন বিদ্বান ও জ্ঞানী বন্ধুর গল্প এটি। চতুর্থ বন্ধু, সুবুদ্ধি, ঠিক তেমন শিক্ষিত বা বিচক্ষণ ছিল না, কিন্তু তার মধ্যে একটি গুণ ছিল যা তার বুদ্ধিমান বন্ধুদের ছিল না: সাধারণ জ্ঞান। একদিন তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল যে তারা দূরবর্তী শহর ও গ্রামে কাজের সন্ধানে যাবে। তারা তাদের জ্ঞানের জন্য আর্থিক প্রতিপত্তি অর্জন করতে চেয়েছিল। কারণ, শাস্ত্র ও বিজ্ঞানে এত বিদ্বান হয়েও যদি তার থেকে কিছু অর্জন না হয়, তবে সেই বিদ্যার কী লাভ? তিন বন্ধু সুবুদ্ধিকে তার বুদ্ধির অভাবে সঙ্গে নিতে চায়নি, কিন্তু যেহেতু সে ছোটবেলার বন্ধু ছিল, তাই তাকেও আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিল। চার বন্ধু অর্থের সন্ধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করল। একটি ঘন জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার সময়, তারা একটি গাছের নিচে একগুচ্ছ হাড় দেখতে পেল। তারা সিদ্ধান্ত নিল যে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি চমৎকার সুযোগ উপস্থিত হয়েছে। প্রথম বন্ধু তার দক্ষতা ব্যবহার করে হাড়গুলোকে একত্রিত করে একটি কঙ্কাল তৈরি করল। যখন কঙ্কালটি তৈরি হয়ে গেল, দ্বিতীয় বন্ধু একটি মন্ত্র পাঠ করল, যার ফলে কঙ্কালের উপর মাংস ও পেশী গঠিত হল। এটি দেখতে একটি নির্জীব সিংহের মতো লাগছিল। তৃতীয় বন্ধু যখন সিংহটিকে জীবিত করে প্রদর্শন শেষ করতে যাচ্ছিল, তখন চতুর্থ বন্ধু তাকে থামাল। সুবুদ্ধি জানত যে একবার হিংস্র সিংহটিকে জীবিত করা হলে, এটি তাদের রেহাই দেবে না। তবে, তৃতীয় বন্ধু তার উপদেশ উপেক্ষা করল, তাকে নিয়ে মজা করল এবং এমন কিছু নিয়ে এগিয়ে গেল যা স্পষ্টতই একটি খারাপ ধারণা ছিল। সুবুদ্ধি দ্রুত কাছেই একটি গাছে উঠে নিজেকে রক্ষা করল যখন তৃতীয় বন্ধু মন্ত্র পাঠ শুরু করল, এবং এর ফলে সিংহটি জীবন ফিরে পেল। চতুর্থ বন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, সিংহটি তিন জ্ঞানী বন্ধুকেই মেরে ফেলল, আর সুবুদ্ধি জীবিত অবস্থায় গ্রামে ফিরে গেল। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা : সাধারণ জ্ঞান ছাড়া বিদ্যা অর্থহীন। --- > আবুল ফকির জয়নুলাবেদিন আব্দুল কালাম বা এ পি জে আব্দুল কালাম ছিলেন এক ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং দেশের 'জনগণের রাষ্ট্রপতি' রাষ্ট্রপতি। - Published: 2025-07-07 - Modified: 2025-07-07 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%8f-%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e/ আবুল ফকির জয়নুলাবেদিন আব্দুল কালাম বা এ পি জে আব্দুল কালাম ছিলেন এক ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং দেশের 'জনগণের রাষ্ট্রপতি' রাষ্ট্রপতি। চিত্র সৌজন্য প্রারম্ভিক জীবন ও পড়াশোনা এ পি জে আব্দুল কালাম জন্মগ্রহণ করেন তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম শহরে। তিনি ছিলেন একটি দরিদ্র তামিল মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তান। তাঁর বাবা জয়নুলাবেদিন ছিলেন একজন ইমাম এবং নৌকার মালিক। তাঁর মা আশিয়াম্মা ছিলেন একজন গৃহিণী। পরিবারের ব্যবসা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং ছোটবেলায় তাঁকে পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য সংবাদপত্র বিক্রি করতে হতো। কিন্তু সব কষ্টের মধ্যেও তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। গণিতে ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। তিনি তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং পরে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। এখানেই একবার তাঁর ডিন তাঁকে একটি প্রকল্প শেষ করার জন্য মাত্র তিন দিন সময় দেন। আব্দুল কালাম কঠোর পরিশ্রম করে সময়মতো কাজ শেষ করেন এবং ডিনের প্রশংসা পান। বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন ১৯৬০ সালে তিনি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-তে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ISRO) যোগ দেন এবং ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী রকেট SLV-III-র প্রকল্প পরিচালক হন। ১৯৮০ সালে এই রকেট সফলভাবে "রোহিণী" স্যাটেলাইটকে মহাকাশে স্থাপন করে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত 'প্রজেক্ট ডেভিল' এবং 'প্রজেক্ট ভ্যালিয়েন্ট'-এর মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে থাকে। এ সময় ইন্দিরা গান্ধীর সরকার গোপনে এই প্রকল্পগুলিতে অর্থসাহায্য করে। তিনি সরকারকে এমন গোপন প্রকল্পে বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হন। তাঁর নেতৃত্বে 'অগ্নি' ও 'পৃথ্বী' ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজবুত ভিত গড়ে তোলে। তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীদের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ছিলেন এবং এই সময় ভারতের দ্বিতীয় পরমাণু পরীক্ষায় (পোখরান-II, ১৯৯৮) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এছাড়াও, তিনি ডাক্তার সোমা রাজুর সঙ্গে কাজ করে একটি সস্তা হৃদরোগের স্টেন্ট তৈরি করেন, যার নাম হয় "কালাম-রাজু স্টেন্ট"। পরে তাঁরা মিলে "কালাম-রাজু ট্যাবলেট" তৈরি করেন, যা গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত হয়। আরও পড়ুন: স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিজ্ঞানের 25 টি বিস্ময়কর তথ্য জানুন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম ২০০২ সালে আব্দুল কালাম ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী ও প্রথম অবিবাহিত ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রপতি হন। তিনি শাসক দল ও বিরোধী দলের সম্মিলিত সমর্থনে নির্বাচিত হন এবং সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সবাই তাঁকে ভালোবেসে ডাকতে শুরু করেন "জনতার রাষ্ট্রপতি"। তিনি একটি অভিন্ন নাগরিক আইন (Uniform Civil Code) চালুর পক্ষে মত দেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তবে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অবসরের পর জীবন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষাদান শুরু করেন। তাঁর শিক্ষাদানের জায়গাগুলোর মধ্যে ছিল IIM শিলং, IIM আহমেদাবাদ, IIM ইন্দোর এবং আন্না বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১২ সালে তিনি "What Can I Give" নামে একটি আন্দোলন শুরু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের উৎসাহিত করা। চিত্র সৌজন্য মৃত্যু ২৭ জুলাই ২০১৫ সালে, কালাম শিলং-এ IIM-এ এক বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। বক্তৃতার কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মঞ্চেই অচেতন হয়ে যান। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৩ বছর। তাঁর মৃতদেহ দিল্লিতে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁর দেহ রামেশ্বরমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৩০ জুলাই ২০১৫ সালে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয়। ৩. ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ তাঁর শেষ যাত্রায় অংশ নেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া ভারতজুড়ে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সরকার সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। বাংলাদেশ, ভুটান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দক্ষিণ এশীয় দেশের নেতারা তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে "জনতার রাষ্ট্রপতি" বলে উল্লেখ করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রমুখও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। স্মৃতিসৌধ ২০১৭ সালে রামেশ্বরমের পেই কারুম্বু এলাকায় ডঃ এ. পি. জে. আব্দুল কালাম জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেন। এখানে কালামের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি, তাঁর বানানো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল, এবং বীণা বাজানোর ভঙ্গিতে তাঁর একটি মূর্তি রয়েছে। উপসংহার:ডঃ এ. পি. জে. আব্দুল কালাম ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষ, যিনি কঠোর পরিশ্রম, সততা, ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি আজও আমাদের প্রেরণার উৎস। --- > বিশ্ব মানচিত্রে দুটি দ্বীপ আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড । মনে হতে পারে গ্রিনল্যান্ড সবুজে মোড়া আর আইসল্যান্ড বরফে ঢাকা। বাস্তবে কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। - Published: 2025-07-05 - Modified: 2025-07-05 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%93-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/ বিশ্ব মানচিত্রে এমন দুটি দ্বীপ রয়েছে যাদের নাম শুনেই বিভ্রান্তি জন্ম নেয়—আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড। সাধারণভাবে মনে হতে পারে, ‘গ্রিনল্যান্ড’ হবে সবুজে মোড়া, উর্বর এক ভূমি, আর ‘আইসল্যান্ড’ হবে বরফে আবৃত, শীতল এক ভূখণ্ড। বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। ‘গ্রিনল্যান্ড’-এর প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চল বছরভর বরফে ঢাকা থাকে; অন্যদিকে ‘আইসল্যান্ড’-এ বরফের আস্তরণ রয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ এলাকায়। তাহলে এমন বিভ্রান্তিকর নামকরণ কেন? এর পেছনে আছে এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস, ভাইকিংদের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ুগত প্রতিক্রিয়ার সূক্ষ্ম প্রভাব। আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে দূরত্ব কত? আইসল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে কাছের ইউরোপীয় প্রতিবেশী। যদি আপনি এটিকে সবচেয়ে সংকীর্ণ বিন্দু থেকে পরিমাপ করেন, তাহলে আইসল্যান্ডের মোট দূরত্ব মাত্র ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) এবং আপনি রেইকজাভিক থেকে বিমানে পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৩ ঘন্টায় পৌঁছাতে পারবেন। ভাইকিংদের ছলনাময় কৌশলের শুরু নামকরণের এই চমকপ্রদ গল্প শুরু হয় উত্তর ইউরোপের এক দাপুটে যোদ্ধা ও নাবিক জাতি—ভাইকিংদের মাধ্যমে। তারা যখন উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দুই দ্বীপে পদার্পণ করে, তখন তারা দ্বীপদ্বয়ের প্রকৃতি ও বসবাসের উপযোগিতা বিচার করে কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়। তুলনামূলকভাবে উর্বর ও বসবাসযোগ্য দ্বীপ, অর্থাৎ আজকের ‘আইসল্যান্ড’, যাতে বহিরাগতদের নজরে না আসে, তার নাম তারা রাখে ‘আইসল্যান্ড’। অন্যদিকে, যেখানে কঠিন আবহাওয়া ও প্রচুর বরফের আধিপত্য, সেই কঠোর অঞ্চলের নাম দেওয়া হয় ‘গ্রিনল্যান্ড’—শুধু যেন অন্যদের আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে। এই নামকরণ ছিল একটি কৌশলগত ছলনা, যাতে ভাইকিংরা নিজেদের পছন্দের ভূখণ্ডে নির্ভেজালভাবে বসতি স্থাপন করতে পারে, আর অপর দ্বীপে আগ্রহ সৃষ্টি করে লোকজন পাঠানো যায়। পড়ে দেখুন: অবাককরা গল্প, জানা অজানা নোবেল জয়ীদের কথা আইসল্যান্ড: বরফের নামে সবুজ দ্বীপ আইসল্যান্ডের ইতিহাস নবম শতকের কাছাকাছি সময় থেকে বিকশিত হতে থাকে। প্রথম যিনি এই দ্বীপে আসেন তিনি ছিলেন নরওয়ের ভাইকিং নাদাদর। আবিষ্কারের সময় সেখানে তুষারপাত হচ্ছিল, তাই প্রথা অনুসারে তিনি দ্বীপটির নাম দেন ‘স্নোল্যান্ড’। এরপর আরও এক সুইডিশ ভাইকিং, গারো সভাভারোসন, এই দ্বীপে আসেন এবং তার নিজের নামে দ্বীপটির নাম রাখেন ‘Garðarshólmur’। কিন্তু যিনি ‘আইসল্যান্ড’ নামটি স্থায়ীভাবে প্রবর্তন করেন, তিনি হলেন ফ্লোকি ভিলগারোরসন। ফ্লোকির যাত্রা ছিল এক দুর্ভাগ্যপূর্ণ অভিযান। পথিমধ্যে তার কন্যার মৃত্যু হয়, এবং তার সঙ্গী পশুরাও মারা যায়। হতাশ ফ্লোকি দ্বীপের এক উঁচু পর্বতচূড়ায় উঠে চারপাশের বরফঢাকা উপকূল অবলোকন করেন। তখনই তিনি এই দ্বীপের নাম দেন ‘আইসল্যান্ড’। এই নাম ছিল কেবল এক প্রাকৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ নয়, বরং তার যাত্রার দুঃখ-কষ্টের প্রতীকও বটে। গ্রিনল্যান্ড: নামের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক বিপণন গ্রিনল্যান্ডের নামকরণ সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। ১০ম শতকে এরিক দ্য রেড নামের এক নরওয়েজিয়ান ভাইকিং হত্যার দায়ে নির্বাসিত হন। এরপর তিনি আবিষ্কার করেন এক বিশাল বরফাচ্ছন্ন ভূখণ্ড, যার দক্ষিণাংশ গ্রীষ্মকালে কিছুটা সবুজ হয়ে ওঠে। বসতির জন্য উপযোগী এলাকাগুলো দেখে এরিক ভাবলেন, এই দুর্গম অঞ্চলে নতুন উপনিবেশ গড়তে হলে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হবে। তাই তিনি দ্বীপটির নাম দেন ‘গ্রিনল্যান্ড’। উদ্দেশ্য ছিল সরল—নাম শুনেই যেন মনে হয় এটি বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান, এবং ফলে আগ্রহীরা সেখানে চলে আসবে। এই নাম যেন ছিল এক মানসিক বিপণনের কৌশল—যেখানে বাস্তবতা নয়, নামই হয়ে উঠেছে আকর্ষণের মূল উপাদান। আরও পড়ুন: ভক্ত কবির বা কবির দাসের জীবন ও দর্শন উপকথা, ইতিহাস ও চাতুর্যের সংমিশ্রণ একটি প্রচলিত লোককাহিন্য বলছে, ভাইকিংরা ইচ্ছাকৃতভাবেই একটি সবুজ দ্বীপকে 'আইসল্যান্ড' বলে চিহ্নিত করে এবং বরফাবৃত অঞ্চলের নাম দেয় 'গ্রিনল্যান্ড'—শুধু যাতে প্রতিপক্ষ বিভ্রান্ত হয় এবং তাদের পছন্দের দ্বীপে নির্বিঘ্নে বসতি স্থাপন সম্ভব হয়। এই উপাখ্যান হয়তো সম্পূর্ণ সত্য নয়, তবে ভাইকিংদের চালাকি ও বাস্তববুদ্ধির নিদর্শন হিসেবে এটি আজও আলোচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে নামের সত্যতা আজকের দিনে গ্রিনল্যান্ডের বরফ ধীরে ধীরে গলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেখানে সবুজ অঞ্চল বাড়ছে, যা নামের সাথে মিল খুঁজে পেতে শুরু করেছে। অপরদিকে, যদি গাল্ফ স্ট্রিম ধীর হয়ে আসে, তবে আইসল্যান্ডে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে এবং বরফের বিস্তার ঘটতে পারে। তখন হয়তো বাস্তবতাই মিলবে সেই পুরনো ভাইকিং নামের সঙ্গে। কিন্তু এই সম্ভাব্য পরিবর্তন এক গভীর সংকেত বহন করে—জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতা। নামকরণ আর ইতিহাসের মজার গল্পের পেছনে আজ লুকিয়ে রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশগত বিপদের তীব্র বার্তা। উপসংহার:গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড—এই দুটি দ্বীপের নাম শুধুই ভৌগোলিক পরিচয়ের অংশ নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে এক ঐতিহাসিক ছলনা, একটি প্রাচীন কৌশল ও প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। ভাইকিংদের পরিকল্পনা, মানুষের মানসিকতা ও পরিবেশের পরিবর্তন মিলে এই নামকরণকে এক অনন্য ইতিহাসে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে যখন প্রকৃতির রূপ বদলাবে, তখন হয়তো এই নামগুলোর আড়ালের ছলনাও একদিন বাস্তব রূপ পাবে। --- > ভক্ত কবির বা কবির দাস ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন ভক্তি সাধক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক যিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। - Published: 2025-06-29 - Modified: 2025-06-29 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87/ ভক্ত কবির বা কবির দাস ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন ভক্তি সাধক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক যিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চিত্র সৌজন্য ১৫শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বর্তমান উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (কাশী) নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন মহৎ কবি ও সাধক কবির দাস। তাঁর জীবন সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন; ইতিহাস, উপাখ্যান ও কিংবদন্তির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে তাঁর জীবনচিত্র। তাঁর জীবনের প্রাচীনতম উৎসের মধ্যে রয়েছে ‘বিজক’ ও ‘আদি গ্রন্থ’। এছাড়াও 'ভক্ত মাল'-এর লেখক নবাজি, মোহসিন ফানির ‘দবিস্তান-ই-তাওয়ারিখ’ এবং ‘খাজিনাতুল আসফিয়া’-তেও কবির সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়। কবিরের প্রারম্ভিক জীবন: 'কবির' নামটি সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল একেবারেই অচেনা। একটি কিংবদন্তি অনুসারে, এক কাজি শিশুটির নাম রাখার সময় বারবার কোরআন শরীফ খুললে প্রতিবারই ‘কবির’ নামটি আসে, যার অর্থ 'মহান' – এটি মূলত আল্লাহর জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ। কবির দাস কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। এমনকি তাঁকে তাঁতির কাজেও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, যদিও তাঁর রচনায় তাঁত শিল্পের বহু উপমা পাওয়া যায়। তাঁর আসল মনোযোগ ছিল আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে – এক মহাসত্যের সন্ধানে, যা তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই আত্মসন্ধানেই তিনি বারাণসীর প্রসিদ্ধ সাধু রামানন্দের শিষ্য হতে চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন, গুরু তাঁর নামে যা উচ্চারণ করবেন তাই তাঁর দীক্ষামন্ত্র হয়ে উঠবে। একদিন রামানন্দ যখন প্রতিদিনকার মতো ঘাটে যাচ্ছিলেন, কবির ইচ্ছাকৃতভাবে সিঁড়িতে শুয়ে পড়েন। হঠাৎ রামানন্দের পায়ে লাগলে তিনি চমকে উঠে বলেন, "রাম! " কবির এই শব্দকেই নিজের দীক্ষামন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেন এবং পরে রামানন্দ তাঁকে শিষ্য হিসেবে স্বীকার করেন। তবে ‘খাজিনাতুল আসফিয়া’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, কবিরের ওপর সুফি পীর শেখ তাক্কি-র প্রভাবও ছিল। তাঁর দর্শনে সুফি চিন্তাধারার ছাপ স্পষ্ট। বারাণসীর ‘কবির চৌরা’ অঞ্চলটিকে কবিরের বসবাসস্থল হিসেবে মনে করা হয়। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ‘লোই’ নামের এক মহিলাকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের দুটি সন্তান – পুত্র কমল ও কন্যা কমলি ছিল বলে জানা যায়। তবে অনেক উৎসে বলা হয়েছে তিনি কখনোই বিবাহ করেননি বা একাধিকবার বিবাহ করেছিলেন – এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরও পড়ুন: বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু - বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা ভক্ত কবির: জীবন দর্শন কবির ছিলেন একজন একেশ্বরবাদী সাধক। মোহসিন ফানির ‘দবিস্তান’ ও আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থে তাঁকে ‘মুয়াহিদ’ অর্থাৎ এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী বলা হয়েছে। প্রভাকর মাচওয়ে-র ‘কবির’ গ্রন্থের ভূমিকায় প্রখ্যাত পণ্ডিত হজারিপ্রসাদ দ্বিবেদী লিখেছেন, কবির রামের ভক্ত হলেও তাঁকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে নয়, নিরাকার সর্বশক্তিমান রূপেই পূজা করতেন। তিনি উপনিষদের অদ্বৈতবাদ, ইসলামি একত্ববাদ ও বৈষ্ণব ভক্তিবাদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর ঈশ্বর রূপ-গুণহীন, সময় ও স্থানের ঊর্ধ্বে, তিনি শব্দ, জ্ঞান ও আনন্দের একমাত্র উৎস। কবির জাতপাতের প্রথা মানতেন না। একবার কিছু ব্রাহ্মণ গঙ্গায় স্নান করছিলেন, পাপ মোচনের আশায়। কবির তাঁদের কাঠের পাত্রে গঙ্গাজল দিয়ে পান করতে বললে তাঁরা অপমান বোধ করেন। তখন কবির বলেন, "যদি গঙ্গাজল আমার পাত্রকে পবিত্র করতে না পারে, তবে সে কীভাবে তোমার পাপ ধুয়ে দেবে? " তিনি কেবল জাতপ্রথার বিরুদ্ধেই নয়, মূর্তিপূজা, অন্ধ বিশ্বাস ও উভয় ধর্মের (হিন্দু-মুসলিম) অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠানও সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, ঈশ্বরকে পাওয়া যায় একমাত্র নিঃস্বার্থ ভক্তির মাধ্যমে। তাঁর সমস্ত ভাবনা উঠে এসেছে কবিতার মাধ্যমে। তিনি ছিলেন আত্মসন্ধানী, তাঁর কাব্যধারা সেই অন্বেষণেরই ভাষা। কবির সচেতনভাবে কবিতা লেখেননি, তাঁর আনন্দ, বেদনা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধিই রূপ পেয়েছে পদ ও দোহায়। তিনি লেখার জন্য ব্যবহার করেছেন কথ্য ভাষা – হিন্দি, খড়িবোলি, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, উর্দু, ফার্সি ও মারোয়ারির সংমিশ্রণে গঠিত এক অনন্য কাব্যভাষা। যদিও তাঁর জীবনের অনেক তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়, তবুও তাঁর কবিতা যুগ যুগ ধরে বেঁচে রয়েছে – মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে, পরবর্তীতে সংগীতের সুরে বাঁধা হয়েছে। তাঁর দোহা ও পদগুলোর ভাষা সরল হলেও তাৎপর্য গভীর ও প্রতীকী। কবিরের ভাবধারা বহু সাধককে প্রভাবিত করেছে – গুরু নানক, দাদু দয়াল, জীবনদাস প্রমুখ তাঁকে উদ্ধৃত করেছেন। আজও কবির পন্থ অনুসরণকারীরা তাঁকে গুরু রূপে মান্য করে থাকেন। এটি কোনও ধর্ম নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক দর্শন। পড়ে দেখুন: বাংলা ভাষায় প্রথম ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিদ প্যারীচাঁদ মিত্র কবিরের শেষ জীবন জীবনের শেষ পর্বে কবির দাস চলে যান মগহর নামক স্থানে, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। একটি কিংবদন্তি অনুসারে, মৃত্যুর পর হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে দেহ সৎকার নিয়ে বিবাদ হলে তাঁর কফনের নিচে ফুল পাওয়া যায় – যার একাংশ কাশীতে দাহ ও অন্য অংশ মগহরে সমাহিত করা হয়। আজও মগহরে কবিরের সমাধি রয়েছে। ভক্ত কবীর সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য: ভক্ত কবীর সত্যকে জানার করার জন্য অহম বা আত্ম-অহংকার ত্যাগ করার কথা বলেছিলেন। ভক্ত কবীরের কবিতা হিন্দির বিভিন্ন উপভাষায় যেমন ব্রজ, ভোজপুরি এবং অবধিতে পাওয়া যায়। ভক্ত কবীর ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে কাশী (বারাণসী) এর লাহারতা'র কাছে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। কবির দাস নীরু এবং নীমা নামে এক তাঁতি দম্পতির দ্বারা লালিত-পালিত হন। কবির দাস লোই নামে এক মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যার থেকে তাঁর দুটি সন্তান ছিল, কমল এবং কমলী। ভক্ত কবীর বিখ্যাত বৈষ্ণব গুরু রামানন্দ তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন । তিনি একেশ্বরবাদী ছিলেন এবং সকল ধরণের আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছিলেন। ভক্ত কবীর তাঁর শেষ জীবনে মগহরে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। --- > হাসির গল্প পড়তে সবাই পছন্দ করেন, তাই যারা নির্ভেজাল মজার গল্প পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য কয়েকটি ছোট বাংলা কৌতুক বা হাসির অনুগল্প দেয়া হল। - Published: 2025-06-24 - Modified: 2025-06-24 - URL: https://www.sabjanta.info/bengali-funny-stories-light-jokes/ চিত্র সৌজন্য হাসির গল্প পড়তে সবাই পছন্দ করেন, তাই যারা নির্ভেজাল মজার গল্প পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য কয়েকটি ছোট বাংলা কৌতুক বা হাসির অনুগল্প দেয়া হল। আপাতত ৭ টি কৌতুক দেওয়া হল, আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে । ১. বাজে গল্ফ খেলোয়াড়: ছোট্ট হাসির গল্প চিত্র সৌজন্য একজন লোক তার ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। ডাক্তার তাকে ভালো করে দেখে বললেন "দেখে মনে হচ্ছে আপনি অনেক শরীরচর্চা করেন! " লোকটি হেসে বলল "একদম ঠিক বলেছেন! এইতো কদিন আগেই আমি মাইল পাঁচেক হাঁটলাম — পাথরের ওপর দিয়ে, গাছের নিচ দিয়ে। একটা হ্রদের ধার ধরে হাঁটলাম, কাঁটাঝোপ ঠেলে ঠেলে এগোলাম, এমনকি বালির ঢাল বেয়ে নিচেও নামলাম — জানেন, চোখে মুখে বালি ঢুকে গেল! " ডাক্তার মুগ্ধ হয়ে বললেন "অসাধারণ! আপনি নিশ্চয়ই প্রকৃতি-প্রেমী, একজন দারুণ আউটডোর অ্যাডভেঞ্চারিস্ট! " লোকটা গম্ভীর মুখে বলল "না না ডাক্তারবাবু, এসব কিছুই না... আমি আসলে গল্ফ খেলতে গিয়ে এ অবস্থা করেছি। আমি খুব বাজে গল্ফ খেলোয়াড় ! " ২. কৃষকের বুদ্ধি : বাংলা হাসির গল্প (Bengali Funny Story) এক বৃদ্ধ কৃষকের অনেক বড় খামার ছিল। খামারের একপ্রান্তে একটা বড় পুকুর ছিল, যেটা সাঁতারের জন্য একদম আদর্শ। তিনি ওখানে বসার বেঞ্চ, ফলের গাছ আর খেলার মাঠ বানিয়ে বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছিলেন। একদিন সন্ধ্যায় কৃষকটি ঠিক করলেন বহুদিন পর পুকুরের দিকে একটু হাঁটবেন । সাথে হাতেকরে একটা সাদা বালতি নিলেন — ফল তুলবেন বলে। পুকুরের কাছে যেতেই তিনি চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পেলেন। কাছে গিয়ে দেখেন, কয়েকজন তরুণী পুকুরে নগ্ন হয়ে স্নান করছে! বৃদ্ধ লোকটি নিজেকে উপস্থিতি জানান দিতেই, মেয়েরা সব গিয়ে পুকুরের গভীর দিকে লুকিয়ে পড়ল। একজন চিৎকার করে বলল "আপনি চলে না গেলে আমরা জল থেকে উঠব না! " বৃদ্ধ লোকটি মুখ গোমড়া করে বলল "তোমাদের স্নান দেখতে আমি এখানে আসিনি! " তারপর তিনি বালতিটা উঁচু করে দেখিয়ে বললেন "আমি এসেছি কুমিরটাকে খাওয়াতে! " হ্যাঁ, কিছু কিছু বুড়ো এখনো মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে জানে! আরও পড়ুন: লাওসের লোককথা - 5 টি জনপ্রিয় বিদেশী লোককাহিনী ৩. আগাছা চিনে রাখার সহজ উপায় ( Bengali jokes ) আমি একটা গোলাপ আর একটা দান্দেলিয়নের (এক ধরনের ফুল) মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি না। ফলে বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে একেবারে ধাঁধায় পড়ে যাই — কোনটা রাখব, কোনটা তুলব বুঝতেই পারি না। তখন মা বললেন এক অসাধারণ বুদ্ধি "সব গাছ উপড়ে ফেল। যেটা আবার ফিরে আসে, বুঝবে ওটাই আগাছা! " ৪. কুকুর নাকি ভালুক ! ( Funny bengali joke ) চিত্র সৌজন্য আমি একদিন হ্রদে নৌকা নিয়ে ঘুরছিলাম, হঠাৎ দেখলাম জলের মধ্যে একটা বাদামি রঙের কুকুরের মাথা ভেসে আছে। বিশ্বাসই হচ্ছিল না! পাড় পর্যন্ত ঠিকমতো দেখা যায় না, কেউ কুকুরটাকে জলে ফেলে দিয়ে গেছে নাকি? আমি দ্রুত নৌকা চালিয়ে সোজা ওই দিকেই গেলাম, ভাবলাম কুকুরটাকে উদ্ধার করব, না হয় ডুবে যাবে। যতই এগোলাম, হঠাৎ সেই ‘কুকুরটা’ আমার দিকে ফিরে চিৎকার করে গর্জন করে উঠল! আমি সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত পাল্টালাম, বুঝতে পারলাম – ওই ছোট্ট বাদামি ভালুকটা নিজের জোরেই পাড়ে পৌঁছে যাবে! ৫. জর্জ ওয়াশিংটনের মতন সততা (Bengali humorous story) চিত্র সৌজন্য এক তরুণ তার প্রেমিকাকে খামারে নিমন্ত্রণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাড়ির বাইরের দিকে থাকা প্রাচীন কাঠের টয়লেটটা নিয়ে সে ভীষণ লজ্জায় ছিল। সে বাবার কাছে অনেকবার বলেছিল আধুনিক ইনডোর টয়লেট বসানোর কথা কিন্তু কিছুতেই তার বাবা রাজি হচ্ছিল না। শেষে ছেলেটা একরাতে চুপিচুপি গিয়ে পুরো টয়লেটটা ঠেলেই খাদের ঢাল বেয়ে ফেলে দিল। পরদিন সকালে, বাবা জিজ্ঞেস করলেন “তুই কি টয়লেটটা ফেলে দিয়েছিস? ” সঙ্গে সঙ্গে সেই পুরনো গল্পও টানলেন — জর্জ ওয়াশিংটন আর তার চেরি গাছ কাটা। ছেলেটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল “হ্যাঁ বাবা, আমিই করেছি।” বাবা হাসলেন “তোর এই সততার জন্য ধন্যবাদ। আর তাই শাস্তি হিসাবে এখনই নতুন গর্ত খুঁড়ে শুরু কর! ” ছেলেটা অবাক হয়ে বলল “কিন্তু বাবা, জর্জ ওয়াশিংটনের বাবা তো ওকে শাস্তি দেননি! ” বাবা ঠান্ডা গলায় বললেন “হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। কিন্তু জর্জের বাবা তো তখন গাছে চড়ে ছিলেন না! ” আরও পড়ুন: প্রাচীন ইরানের লোককথা - একটি শিয়াল ও উটের কাহিনী ৬. টয়লেট-ভিত্তিক ক্যাম্পিং সিস্টেম ( Funny story) চিত্র সৌজন্য একটা ছোট ক্যাম্পগ্রাউন্ডে দিনের শেষে একটা মিনিভ্যান এসে ঢুকল। গাড়ি থামতেই চারজন বাচ্চা লাফিয়ে নেমে পড়ল, যেন কেউ রিমোটে চালাচ্ছে। তারা এক ঝটকায় তাঁবু খাটানো, রান্নাঘর বানানো, কাঠ জোগাড় — সব কিছু সেরে ফেলল। পাশের ক্যাম্পার অবাক হয়ে ছেলেমেয়েদের বাবাকে বললেন “এত দ্রুত ক্যাম্প তৈরি করতে কেউ কখনও দেখিনি। অসাধারণ টিমওয়ার্ক! ” বাবা জবাবে গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে বললেন “আমার একটা নিয়ম আছে — ক্যাম্প তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কেউ টয়লেটে যেতে পারবে না।” আরও কিছু ক্যাম্পিং প্রজ্ঞা: হাঁটতে গিয়ে যদি ভোরে বের হও, তাহলে আগে মুখে জাল প্রতিরোধক লাগাও, না হলে প্রথম পদক্ষেপেই মাকড়সার জালে মুখ আটকে যাবে। টেন্টে কেউ যদি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকায়, আর তোমার হাতে যদি একটা পারকার হুডের দড়ি থাকে... তাহলে তুমি বিপদের মধ্যে নও, তুমি সমাধানে আছো! ৭. "বি. সি. " মানে কি? - বাংলা কৌতুক গল্প এক ভদ্রমহিলা ক্যাম্পিং-এ যাওয়ার আগে ক্যাম্পগ্রাউন্ডে চিঠি লিখবেন, জানতে চাইবেন ওখানে টয়লেট আছে কিনা। কিন্তু ‘toilet’ শব্দটি ব্যবহার করতে কেমন যেন লাগছিল, তাই তিনি লিখলেন –“Does the campground have its own BC? ” ক্যাম্পগ্রাউন্ড মালিক চিঠি পেয়ে মাথা চুলকাতে লাগলেন। 'BC' কী? অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেও কিছু বোঝা গেল না। একজন মহিলা ধারণা করলেন, হয়তো এটা ‘Baptist Church’-এর কথা বলছে, যেটা রাস্তায় সামনেই। তাই মালিক বসে লিখলেন উত্তরের চিঠি: প্রিয় মহোদয়া, আমার জানাতে আনন্দ হচ্ছে যে, ক্যাম্পগ্রাউন্ড থেকে ৯ মাইল দূরে একটি BC আছে, যেখানে একসাথে ২৫০ জন বসতে পারে। হ্যাঁ, একটু দূরে বটে, কিন্তু যারা নিয়মিত যায়, তারা দুপুরের খাবার নিয়ে যায় এবং পুরো দিন কাটিয়ে আসে। জায়গাটা এত সুন্দর — শব্দ প্রতিধ্বনি পর্যন্ত শোনা যায়! গতবার আমি আর আমার স্ত্রী গিয়েছিলাম, এত ভিড় ছিল যে আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছি। শুনেছি, আরও সিট কেনার জন্য এক ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। আপনি যদি আসেন, তাহলে এখানে কিছু লোক আছে যারা আপনার সঙ্গে প্রথমবার যাবে, পাশে বসবে, আর আপনাকে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেবে। আমাদের এটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ একটা কমিউনিটি। আপনার শুভেচ্ছায়,(ক্যাম্পগ্রাউন্ড মালিক) উপরে যে কয়েকটি ছোট ছোট বাংলা হাসির গল্প বা জোকস দেওয়া হল যেমন: বাজে গল্ফ খেলোয়াড়, কৃষকের বুদ্ধি, আগাছা চিনে রাখার সহজ উপায়, কুকুর নাকি ভালুক বা জর্জ ওয়াশিংটনের মতন সততা ইত্যাদি নির্ভেজাল জোকস কেমন লাগল টা অবশ্যই জানাবেন। আপনাদের উত্তর আমাদের এরকম আরও লেখা উপস্থাপনে উদ্বুদ্ধ করবে। --- > এই লেখাতে আমরা বিজ্ঞান সম্পর্কে ২৫টি বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য সংকলন করেছি। আশাকরি এগুলি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করবে এবং তাদের কল্পনাকে জাগিয়ে তুলবে। - Published: 2025-06-17 - Modified: 2025-06-17 - URL: https://www.sabjanta.info/amazing-25-science-facts-for-young-minds/ এই লেখাতে আমরা বিজ্ঞান সম্পর্কে ২৫টি দারুণ তথ্য সংকলন করেছি। আশাকরি এগুলি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করবে এবং তাদের কল্পনাকে জাগিয়ে তুলবে। বিজ্ঞান আমাদের চারপাশে সর্বত্র বিদ্যমান, যে বাতাসে আমরা শ্বাস নিই, যে খাবার আমরা খাই, অথবা যে গ্যাজেট ছাড়া আমাদের দিন চলে না, এসব কিছুতেই বিজ্ঞান রয়েছে। কৌতূহলী মনের জন্য, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও ছোটদের জন্য, বিজ্ঞান বিস্ময় ও সম্ভাবনার এক নতুন জগৎ খুলে দেয়। আমরা বিশ্বাস করি যে ছোটবেলা থেকেই এই কৌতূহলকে লালন করা উজ্জ্বল মন এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করে। বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য : ২৫ টি এই লেখাতে আমরা 25 টি দারুন বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য সংকলন করেছি । আশাকরি এগুলি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করবে এবং তাদের কল্পনাকে জাগিয়ে তুলবে। ১. পৃথিবীর অর্ধেক অক্সিজেন সমুদ্রে উৎপন্ন হয় আমাদের মনে হতে পারে যে রেইনফরেস্টই হল অক্সিজেনের প্রধান উৎস। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, বিশ্বের মোট অক্সিজেনের অর্ধেক তৈরি হয় প্ল্যাঙ্কটন, সামুদ্রিক শৈবাল এবং সমুদ্রের অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে, যারা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি করে থাকে। ২. মানুষের পাকস্থলী রেজার ব্লেড গলিয়ে ফেলতে পারে চিত্র সৌজন্য অ্যাসিডকে ০-১৪ স্কেলে পরিমাপ করা হয় (পিএইচ লেভেল যত কম, অ্যাসিড তত শক্তিশালী)। মানুষের পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা সাধারণত ১. ০ থেকে ২. ০ এর মধ্যে থাকে, যার অর্থ এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। ৩. হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ প্রতি বছর আলাস্কার কাছাকাছি সরে আসছে পৃথিবীর ভূত্বকটি টেকটোনিক প্লেট (tectonic plates) নামক বিভিন্ন অংশে বিভক্ত। গরম এবং কম ঘনত্বের পাথর উপরে উঠে আসে, তারপর ঠান্ডা হয়ে আবার নিচে নেমে যায়। এর ফলে শিলা এবং তার উপরের ভূমি ধীরে ধীরে সরে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটটি ধীরে ধীরে উত্তর আমেরিকান প্লেটের দিকে সরে যাচ্ছে, যার ফলে হাওয়াই প্রতি বছর প্রায় ৭. ৫ সেন্টিমিটার কাছাকাছি চলে আসে। ৪. আপনার শরীরে মানব কোষের চেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া আছে! আমাদের শরীরে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন মানব কোষ আছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি, প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়ার কোষ থাকে! ভাবা যায়? পড়ে দেখুন: বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায় আছে এটি ৫. প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে চিত্র সৌজন্য মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (U. S. Geological Survey) অনুযায়ী, কিছু প্রাণী, যেমন সামুদ্রিক কচ্ছপ, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অনুভব করতে পারে এবং এই ক্ষমতাকে তারা দিক খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করে। ৬. ২৩০ কোটি বছর পর পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রতি বছর বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ২৩০ কোটি বছর পরে পৃথিবীর তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে যাবে এবং পৃথিবী আজকের মঙ্গল গ্রহের মতো একটি বিশাল মরুভূমিতে পরিণত হবে। ৭. পৃথিবীতে তারার চেয়ে বেশি গাছ আছে নাসা (NASA)-র বিশেষজ্ঞদের মতে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন তারা রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে গাছের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, যা প্রায় ৩ ট্রিলিয়নেরও বেশি বলে অনুমান করা হয়। পড়ে দেখুন: বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী - 11 টি রঙিন হ্রদ ও নদীর খবর ৮. শুক্র গ্রহের একটি দিন তার একটি বছরের চেয়েও লম্বা! শুক্র গ্রহ (Venus) নিজের অক্ষের উপর এত ধীরে ঘোরে যে, সেখানে একটা দিন (একবার সম্পূর্ণ ঘুরতে যে সময় লাগে) সূর্যের চারপাশে তার একবার ঘুরে আসার (একটি বছর) থেকেও বেশি লম্বা হয়। ৯. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে আট মিনিটের কিছু বেশি সময় লাগে চিত্র সৌজন্য আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ভ্রমণ করে। সূর্য থেকে আমাদের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। তাই সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় লাগে। ১০. আইফেল টাওয়ার গ্রীষ্মকালে লম্বা হয় পদার্থকে গরম করলে তার কণাগুলো আরও বেশি নড়াচড়া করে এবং বেশি জায়গা নেয়। এই প্রভাবটি গ্যাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও তরল এবং কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রেও ঘটে। এই কারণেই বড় সেতু তৈরির সময় প্রসারণের জন্য কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। ১১. ইনফ্রারেড ক্যামেরায় মেরু ভালুককে সহজে দেখা যায় না মেরু ভালুক তাপ সংরক্ষণে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের শরীরে এমন একাধিক স্তর রয়েছে যা আর্কটিকের চরম ঠান্ডাতেও তাদের শরীরকে গরম রাখে। এই কারণে তাদের শরীর থেকে খুব কম তাপ বেরিয়ে আসে এবং ইনফ্রারেড ক্যামেরায় তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়। ১২. বজ্রপাত সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও বেশি গরম! একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা প্রায় ৩০,০০০ কেলভিন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এটি সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি গরম ! ১৩. জল একই সাথে ফুটতে এবং জমতে পারে চিত্র সৌজন্য বিজ্ঞানে 'ট্রিপল পয়েন্ট' বা 'ত্রৈধ বিন্দু' বলে একটি অবস্থা রয়েছে। এটি এমন একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা এবং চাপে ঘটে যখন কোনো পদার্থের তিনটি অবস্থা (গ্যাসীয়, তরল এবং কঠিন) একই সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে অবস্থান করতে পারে। ১৪. ব্যাঙ জমে গিয়েও আবার জীবিত হতে পারে! কিছু প্রজাতির ব্যাঙ শীতকালে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ জমিয়ে ফেলে এক ধরনের সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। বসন্তকালে বরফ গলে গেলে তারা আবার স্বাভাবিক হয়ে লাফালাফি শুরু করে! প্রকৃতির এক দারুণ রহস্য এটি! ১৫. পৃথিবী একটি বিশাল চুম্বক পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলটি কঠিন লোহার একটি গোলক। তাপমাত্রা এবং ঘনত্বের তারতম্যের কারণে এই লোহা একটি বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে মিলে এটি একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা বিশ্বজুড়ে কম্পাসের কাঁটা ব্যবহার করে দিক নির্ণয়ে সাহায্য করে। ১৬. মহাকাশযানগুলো আমাদের সৌরজগতের প্রান্তের দিকে ছুটে চলেছে নিউ হরাইজনস (New Horizons) মহাকাশযান, যা প্লুটোকে অতিক্রম করেছে, সেটি ঘণ্টায় প্রায় ৩৬,০০০ মাইল বেগে ভ্রমণ করছে। অন্যদিকে, পৃথিবীর দ্রুততম বিমান এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড (SR-71 Blackbird) ঘণ্টায় ২,৭০০ মাইল বেগে চলে। ১৭. মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই বিগ ব্যাং কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘটেনি, এটি মহাবিশ্বের সর্বত্র একই সময়ে ঘটেছিল। আর মহাকাশ এখনও সব দিকে প্রসারিত হচ্ছে। তাই মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই - বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য । ১৮. শুক্র গ্রহ ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে চিত্র সৌজন্য আমাদের পৃথিবীসহ বেশিরভাগ গ্রহই উপর থেকে দেখলে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে। কিন্তু এর দুটি ব্যতিক্রম আছে: ইউরেনাস তার পাশে হেলে ঘোরে এবং শুক্র গ্রহ ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুদূর অতীতে বিশাল কোনো গ্রহাণুর সংঘর্ষের কারণে এমনটা হতে পারে। ১৯. একটি বলকে ঘোরানোর সাথে সাথে নিচে ফেললে সেটি উড়ে যাবে এই ঘটনাটিকে ম্যাগনাস প্রভাব (Magnus effect) বলা হয়। যখন একটি ঘূর্ণায়মান বস্তুর সামনের দিকের বাতাস তার ঘূর্ণনের দিকেই যায়, তখন বলটি নিচের দিকে পড়ার সাথে সাথে বাইরের দিকেও সরে যায়। ২০. তোমার মস্তিষ্ক ক্রমাগত নিজেকে খাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটিকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলা হয়, যেখানে কোষগুলি ছোট কোষ বা অণুগুলিকে ঢেকে রাখে এবং গ্রাস করে তাদের সিস্টেম থেকে অপসারণ করে। চিন্তা করবেন না! ফ্যাগোসাইটোসিস ক্ষতিকারক নয়, তবে আসলে তোমার ধূসর পদার্থ সংরক্ষণে সাহায্য করে। ২০. একটি মাছি মহাকাশযানের চেয়ে দ্রুত গতি বাড়াতে পারে একটি মাছি লাফ দেওয়ার সময় এক মিলিসেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। এই সময় তার ত্বরণ (acceleration) হয় ১০০জি (g), যেখানে একটি স্পেস শাটলের সর্বোচ্চ ত্বরণ হয় প্রায় ৫জি। ২১. মানুষের মস্তিষ্ক একটি লাইটবাল্ব জ্বালানোর মতো বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে! আপনার মস্তিষ্ক প্রায় ২০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সক্ষম। এই বিদ্যুৎ একটি অনুজ্জ্বল আলো জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট! ২২. শিশুদের শরীরে প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশি হাড় থাকে জন্মের সময় একটি শিশুর প্রায় ৩০০টি হাড় থাকে। এই অতিরিক্ত হাড় তাদের জন্ম নালী দিয়ে সহজে বেরিয়ে আসতে এবং দ্রুত বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। বয়সের সাথে সাথে অনেক হাড় একসাথে জুড়ে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে মোট ২০৬টি হাড় থাকে। ২৩. ইতিহাসে রেকর্ডকৃত দশজন সবচেয়ে ভারী ব্যক্তির মধ্যে নয়জনই আমেরিকান ছিলেন এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভারী ব্যক্তি ছিলেন জন ব্রাউয়ার মিনোক, যার জন্ম ১৯৪১ সালে এবং ওজন ছিল প্রায় ৬৩৬ কেজি। গত ২৫০ বছরের রেকর্ডে, বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ভারী ব্যক্তির মধ্যে নয়জনই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন মেক্সিকোর ম্যানুয়েল উরিবে। ২৪. অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড এবং নীল রক্ত আছে অক্টোপাসের দুটি হৃৎপিণ্ড তার ফুলকাগুলিতে রক্ত পাম্প করে, আর তৃতীয় হৃৎপিণ্ডটি শরীরের বাকি অংশে রক্ত পাঠায়। তাদের রক্ত নীল হয় কারণ তাতে হিমোসায়ানিন নামে তামা-সমৃদ্ধ একটি প্রোটিন থাকে। ২৫. আমাদের মস্তিষ্ক ক্রমাগত নিজেকে খাচ্ছে এই প্রক্রিয়াটিকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলা হয়, যেখানে কোষগুলি ছোট কোষ বা অণুগুলিকে ঢেকে রাখে এবং গ্রাস করে তাদের সিস্টেম থেকে অপসারণ করে। চিন্তার বিশেষ কারণ নাই। ফ্যাগোসাইটোসিস ক্ষতিকারক নয়, তবে আসলে এটি আমাদের মাথার ধূসর পদার্থ (grey mater) সংরক্ষণে সাহায্য করে। এটি সত্যই বিজ্ঞানের অবাক করা তথ্য । --- > নোবেল পুরস্কার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক পুরষ্কার। সম্মান, মর্যাদা এবং উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারের অর্থ ছাড়াও, প্রাপক একটি স্বর্ণপদকও পান - Published: 2025-06-10 - Modified: 2025-06-10 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97/ নোবেল পুরস্কার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক পুরষ্কার। সম্মান, মর্যাদা এবং উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারের অর্থ ছাড়াও, প্রাপক একটি স্বর্ণপদকও পান চিত্র সৌজন্য নোবেল পুরস্কার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক পুরষ্কার। সম্মান, মর্যাদা এবং উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারের অর্থ ছাড়াও, প্রাপক একটি স্বর্ণপদকও পান যার মাধ্যমে এই পুরষ্কার প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেল (১৮৩৩ - ১৮৯৬) কে স্মরণ করা হয়। প্রতি বছর এটি রসায়ন, সাহিত্য, পদার্থবিদ্যা, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা, অর্থনীতি এবং শান্তি বিভাগে বিজ্ঞানী এবং পণ্ডিতদের দেওয়া হয়। এখানে আমরা কয়েকটি নোবেল পুরস্কার বা তার বিজেতা সম্পর্কে জানব ও উদ্বুদ্ধ হব। নোবেল জয়ীদের কথা: ৪ টি পুরস্কার সম্পর্কে 1. জোসলিন বেল বার্নেল চিত্র সৌজন্য আজ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের বেক্তিদের মধ্যে ৮ শতাংশেরও কম ছিলেন মহিলা, যা থেকে কেউ কেউ দাবি করেন যে পুরস্কার কমিটি মহিলাদের উপেক্ষা করেছেন বা করেন। এর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত একটি অভিযোগ হলো জোসলিন বেল বার্নেলের প্রতি অবিচার। তিনি ১৯৬৭ সালে পালসার আবিষ্কার করেন এবং পরে তার উপদেষ্টা অ্যান্টনি হুইশের সাথে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র অ্যান্টনি হুইশ এবং আরেক সহকর্মী মার্টিন রাইলকে ১৯৭৪ সালে পালসার আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। আরও পড়ুন: নিকোলা টেসলা - যাঁর আবিষ্কারগুলি আধুনিক সভ্যতার স্তম্ভ 2. নোবেল দেওয়া হলো শুধু একটা বিক্রিয়ার জন্য চিত্র সৌজন্য ১৯৯৫ সালে কেমিস্ট্রির নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো শুধু একটা বিক্রিয়ার জন্য! হ্যাঁ, ওজোন গ্যাস আর ক্লোরিনের বিক্রিয়া। বিক্রিয়াটি হয়তো অনেকে পড়েও থাকবে । এটা দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে “কেবল, এইটুকুর জন্য আবার নোবেল পুরস্কার ? ” কিন্তু কাজটা মোটেও সোজা ছিল না। তখনকার দিনে কম্পিউটার মানে আজকের মত AI বা Simalation software ছিল না। সেই সময়ে উপরের স্তরের বায়ুমণ্ডলে (stratosphere) কী হচ্ছে সেটা বোঝা তো দূরের কথা, ওখানে ক্লোরিন কেমন করে ওজোন ধ্বংস করে, সেটা কল্পনাই ছিল দুরূহ। Paul Crutzen, Mario Molina, আর Frank Sherwood Rowland—এই তিনজন বিজ্ঞানী মাথার খাঁটনি দিয়ে (সরাসরি বললে, পেন-কাগজ নিয়ে বসে) দেখালেন যে CFC (chlorofluorocarbon) থেকে বের হওয়া ক্লোরিন কীভাবে একটা একটা করে ওজোন অণুকে ভেঙে ফেলছে। শুধু ভাঙেই না—একটা ক্লোরিন অণু হাজার হাজার ওজোন ধ্বংস করতে পারে, একটা চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে। এটাকে অনেকেই মনে করতেন একটা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিপদ সংকেত ! কারণ, তখনো কেউ জানতো না যে স্প্রে ক্যান বা ফ্রিজের ভেতর থাকা গ্যাস একদিন আকাশের রং বদলে দেবে। কিন্তু এই তিনজন সেই অদৃশ্য বিপদের গন্ধ পেয়েছিলেন। গবেষণা করলেন, মানুষকে সচেতন করলেন, এবং পৃথিবীকে একটা বড় বিপদ থেকে রক্ষা করলেন। ওই একটা বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্যই আজকে আমরা জানি যে ওজোন লেয়ার রক্ষা কতটা জরুরি। এবং সরকারিভাবে CFC নিষিদ্ধ করার পেছনে এই গবেষণাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ। একটা ছোট রাসায়নিক বিক্রিয়া, একটা ছোট রাডিক্যাল আর একটা গভীর বোঝাপড়া—এই তিন মিলে রক্ষা পেয়েছে একটা আস্ত গ্রহের পরিবেশ। পড়ে দেখুন: বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না কি, কোথায় 3. জন ফোর্বস ন্যাশ জুনিয়রের অর্থনীতিতে নোবেল চিত্র সৌজন্য গণিতবিদ জন ফোর্বস ন্যাশ জুনিয়রকে গেম থিওরিতে তার কাজের জন্য (১৯৯৪ সালে) অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। তিনি 'ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম' নামক একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারণার জন্য পরিচিত। ত্রিশের কোঠায় থাকাকালীন ন্যাশের প্যারানয়েড স্কিৎজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে এবং তাকে বেশ কিছু সময় চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকতে হয়েছিল। সিলভিয়া নাসারের একই নামের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'এ বিউটিফুল মাইন্ড' মুক্তির পর তার কাহিনীটি খ্যাতি লাভ করে। জন ফোর্বস ন্যাশ, জুনিয়র প্রথমে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করলেও, পরে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকায় যোগ দেন। মানসিক অসুস্থতার মুখে ন্যাশের দৃঢ়তা তাকে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তার গল্প স্কিৎজোফ্রেনিয়ার সাথে জড়িত অন্যায্য কলঙ্কের ঊর্ধ্বে উঠে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির কৃতিত্বকে সাধুবাদ জানাতে মানুষকে উৎসাহিত করে। 4. অ্যারন সিচানোভার - রসায়নে নোবেল ২০০৪ চিত্র সৌজন্য অ্যারন সিচানোভার যুদ্ধবিধ্বস্ত ইজরায়েলে বড় হয়েছেন এবং নিজেকে একসময়কার কিশোর অপরাধী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনাথ হওয়ার পর তার বড় ভাই জোসেফ তাকে বড় করেন এবং তার কিশোরসুলভ আচরণ ত্যাগ করে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করেন। অ্যারন ১৮ বছর বয়সে হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি পড়া শুরু করেন এবং একই সাথে তার বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবাও সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে স্নাতক হওয়ার কিছুদিন পরেই, অ্যারন ইয়োম কিপুর যুদ্ধে নৌবাহিনীর সার্জন হিসেবে আহতদের অস্ত্রোপচার করেন। অনেককে অবাক করে দিয়ে, যুদ্ধের মাত্র ছয় মাস পরে অ্যারন তার সার্জনের পেশা ছেড়ে দেন। একজন গবেষক হিসেবে, তিনি একটি অজনপ্রিয় বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন: শরীর কীভাবে তার অপ্রয়োজনীয় প্রোটিনগুলো নিষ্কাশন করে। অ্যারন শরীরের 'আবর্জনা-সংগ্রহ ব্যবস্থা' হিসেবে যা বর্ণনা করেছেন তার উপর মনোনিবেশ করেন। তিনি এবং তার গবেষণা সহযোগী আরউইন রোজ ও আব্রাম হার্শকো আবিষ্কার করেন যে কীভাবে 'ইউবিকুইটিন' নামক একটি পরিচিত প্রোটিন অণু ব্যবহৃত প্রোটিনগুলোর ধ্বংস নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রক্রিয়াটি ছাড়া শরীরে প্রদাহ, স্নায়বিক ও পেশী সংক্রান্ত রোগ, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। প্রাক্তন সার্জন অ্যারন সিচানোভারের জৈব রাসায়নিক আবিষ্কারগুলো তাকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে। সিচানোভারের কাজ ক্যান্সার-রোধী ওষুধের বিকাশের মতো বাস্তব প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সেই পথটি এমন সব আবিষ্কারের দিকে পরিচালিত করেছে যা মানব শারীরবিদ্যা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও গভীর করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার সম্ভাবনা রাখে। --- > বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না বলতে সালার ডি উয়ুনি অর্থাৎ উয়ুনি অঞ্চলের বিশাল সাদা লবণের সমতল ভূমির উপর আলোক প্রতিফলনের কথা বলা হয়। - Published: 2025-06-03 - Modified: 2025-06-03 - URL: https://www.sabjanta.info/salar-de-uyuni-worlds-largest-natural-mirror/ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না বলতে সালার ডি উয়ুনি অর্থাৎ উয়ুনি অঞ্চলের বিশাল সাদা লবণের সমতল ভূমির উপর আলোক প্রতিফলনের কথা বলা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক আয়না বলতে সালার ডি উয়ুনি অর্থাৎ উয়ুনি অঞ্চলের বিশাল সাদা লবণের সমতল ভূমির উপর আলোক প্রতিফলনের কথা বলা হয়। চিত্র সৌজন্য ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন যখন চাঁদে তাদের ঐতিহাসিক পদযাত্রা করেন, তখন পৃথিবীর দিকে তাকালে তারা প্রথমে যে জিনিসটি দেখতে পান তা হল একটি বিশাল সাদা দাগ, যা তারা প্রথমে বরফ বলে বিশ্বাস করেছিলেন। তবে, দেখা গেল যে তারা যা দেখেছিলেন তা দক্ষিণ-পশ্চিম বলিভিয়ার আলটিপ্লানোতে সালার ডি উয়ুনি নামে একটি বিশাল, আয়নার মতো লবণের চাদর ছিল। আসলে পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে, যেগুলো বাস্তব হয়েও অবাস্তব বলে মনে হয়। বলিভিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সালার ডি উয়ুনি তেমনই এক বিস্ময়কর ভূপ্রাকৃতিক রত্ন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম লবণাক্ত সমতলভূমি, যার আয়তন প্রায় ১০,৫৮২ বর্গকিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩,৬৫৬ মিটার, অর্থাৎ আন্দেস পর্বতমালার এক উচ্চ মালভূমিতে এর অবস্থান। আরও পড়ুন: ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ - নীল সাগরের ক্ষুদে দৈত্য প্রাকৃতিক আয়না - সৃষ্টির ইতিহাস: সালার ডি উয়ুনি তৈরি হয়েছে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ বছর আগে। সেই সময় অঞ্চলটি ছিল একটি বিশাল প্রাগৈতিহাসিক হ্রদের অংশ—লেক মিনচিন নামে পরিচিত। কালক্রমে এই হ্রদ শুকিয়ে গেলে তার জলে দ্রবীভূত লবণ শুকিয়ে গিয়ে বর্তমান সমতলভূমিটি তৈরি হয়। এর নিচে রয়েছে লবণের মোটা স্তর এবং তার নিচে রয়েছে লিথিয়াম সমৃদ্ধ কাদামাটি। বিস্ময়কর প্রতিফলন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর "আয়না-প্রভাব"। প্রতি বছর বর্ষাকালে (ডিসেম্বর থেকে মার্চ), বৃষ্টির জল পাতলা একটি স্তর তৈরি করে সমগ্র লবণভূমির ওপর। মসৃণ ও সমান ভূমির কারণে এই জলপৃষ্ঠে সূর্য, আকাশ, মেঘ এমনকি মানুষ পর্যন্ত এত নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয় যে স্থির দৃষ্টিতে তাকালে বাস্তব আর প্রতিবিম্বের তফাৎ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রতিফলনের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ: অত্যন্ত সমান পৃষ্ঠভূমি: পৃথিবীর অন্যতম সমান ও মসৃণ অঞ্চল। সাদা লবণের প্রতিফলন ক্ষমতা: সূর্যালোক খুব সহজেই প্রতিফলিত হয়। পাতলা জলস্তর: প্রাকৃতিক আয়নার মতো কাজ করে। পর্যটন ও ফটোগ্রাফির যেন স্বর্গ: সালার ডি উয়ুনি-তে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সেই সময়ে আলো ও ছায়ার খেলা পুরো অঞ্চলকে রূপ দেয় এক স্বপ্নময় জগতে। পর্যটকের ছায়া আকাশের সঙ্গে মিশে যায়, দূরে দাঁড়ানো গাড়ির প্রতিবিম্ব মেঘের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে ফটোগ্রাফাররা এখানে আসেন এই স্বর্গীয় দৃশ্যের খোঁজে। অনেকে আবার সৃজনশীল প্রতিফলনের মাধ্যমে অসাধারণ ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তৈরি করেন—যেমন এক হাতে গাড়ি ধরা বা ছোট ছোট মানুষদের বিশাল দেখা যাওয়া, যেটি এই আয়নার প্রেক্ষাপটেই সম্ভব। সালার ডি উয়ুনির বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব: এই সমতলভূমি শুধু পর্যটনের জন্যই নয়, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। উপগ্রহ নির্ভর অবস্থান নির্ধারণে (GPS) এই অঞ্চল ব্যবহার করা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ অত্যন্ত সমান। এখানে রয়েছে বিপুল লিথিয়াম সম্পদ (বৈদ্যুতিক ব্যাটারি তৈরির প্রধান উপাদান) যা ভবিষ্যতের টেকসই শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত। মনে করা হয় যে এখানে বিশ্বের মোট লিথিয়াম রিজার্ভের অর্ধেকেরও বেশি সঞ্চিত অরয়েছে। যা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। সালার ডি উয়ুনি নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী ভূপ্রাকৃতিক বিস্ময়, যেখানে প্রকৃতি নিজের কল্পনার রঙ দিয়ে এক বাস্তব মঞ্চ নির্মাণ করেছে। এটি কেবল একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, বরং এক অনন্য অনুভূতির উৎস। এমন একটি প্রাকৃতিক আয়নার মুখোমুখি হওয়া জীবনে একবার হলেও আবশ্যক। কারণ এখানে বাস্তব ও কল্পনার মাঝের সীমারেখা ধুয়ে যায় মেঘের প্রতিবিম্বে, জলের স্তরে। --- > আজ আমরা জানবো সারদাসুন্দরী দেবী সম্পর্কে, যিনি ছিলেন বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা। - Published: 2025-05-30 - Modified: 2025-05-30 - URL: https://www.sabjanta.info/saradasundari-devi-mother-of-rabindranath-tagore/ চিত্র সৌজন্য আজ আমরা জানবো সারদাসুন্দরী দেবী সম্পর্কে, যিনি ছিলেন বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা। ছোট্ট সারদাসুন্দরীর বিয়ে সারদাসুন্দরী দেবীর আসল নাম ছিল শাকম্ভরী। তিনি জন্মেছিলেন যশোরের দক্ষিণডিহি গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন গ্রামনারায়ণ চৌধুরী। তোমরা শুনে অবাক হবে, ১৮৩৪ সালের মার্চ মাসে যখন তাঁর বিয়ে হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর (কেউ কেউ বলেন ৮ বছর)। তাঁর বিয়ে হয়েছিল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। সারদাসুন্দরীর পুত্রবধূ জ্ঞানদানন্দিনী দেবী তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির বিয়ের একটা মজার ঘটনা বলেছেন। সারদাসুন্দরীর এক কাকা কলকাতায় শুনেছিলেন যে, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য সুন্দরী মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। তিনি তখন গ্রামে এসে সারদাসুন্দরীকে, তাঁর মায়ের অনুপস্থিতিতেই, কলকাতায় এনে বিয়ে দিয়ে দেন। সারদাসুন্দরীর মা তখন গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে যখন শুনলেন যে, তাঁর মেয়েকে না বলে কয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তিনি উঠোনের এক গাছের নিচে শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনা সারদাসুন্দরীর জীবনে খুব দুঃখের ছিল। বিয়ের পর তিনি আর কখনোই নিজের বাবার বাড়িতে যেতে পারেননি। ঠাকুরবাড়ির বউ বিয়ের পর সারদাসুন্দরী একেবারে নতুন একটা পরিবেশে এলেন। ঠাকুরবাড়িতে তখন অনেক ধনসম্পদ ছিল। দেবেন্দ্রনাথের বিয়েতে প্রচুর টাকা খরচ করা হয়েছিল। সারদাসুন্দরী ঠাকুরবাড়িতেই বড় হয়ে ওঠেন এবং সেখানকার রীতিনীতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। তিনি দেখতে খুব সুন্দরী ছিলেন। ঠাকুরবাড়িতে তাঁর শ্বাশুড়ি এবং দিদিশাশুড়ি দুজনেই ধর্মপ্রাণ ছিলেন। তাঁরা সবসময় পুজো-আর্চা নিয়ে থাকতেন। তাঁদের দেখাদেখি সারদাসুন্দরীও নিজেকে তেমনইভাবে গড়ে তোলেন। তবে তাঁর স্বামী দেবেন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভক্তি। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও নিজের বিশ্বাস দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় ঠাকুরবাড়িতে মূর্তি পূজা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সারদাসুন্দরী দেবী পুরোনো রীতিনীতি মানতে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁর স্বামীর কথায় নতুন ধর্ম মানতে একটু দ্বিধা করতেন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি স্বামীর কথা মেনে মূর্তি পূজা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু মনে মনে তিনি নিজের ইষ্টদেবতার নাম জপ করতেন। আবার, মাঝে মাঝে তিনি স্বামীর অজান্তেই কালীঘাট বা তারকেশ্বরে পূজা পাঠাতেন। এতে বোঝা যায়, তিনি স্বামীকে শ্রদ্ধা করলেও নিজের ধর্মবিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সংসার ও মাতৃত্ব সারদাসুন্দরীর জীবন ছিল মূলত তাঁর স্বামী এবং পরিবারকে ঘিরে। দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন খুব সুন্দর এবং গুণী মানুষ। সারদাসুন্দরী এবং দেবেন্দ্রনাথের প্রথম সন্তানটি ছিল একটি মেয়ে, কিন্তু সে জন্মানোর আগেই মারা যায়। এরপর তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ এবং হেমেন্দ্রনাথের মতো গুণী সন্তানেরা। এই তিন ছেলের জন্মের পর দেবেন্দ্রনাথের মনে ঈশ্বরকে জানার ইচ্ছা জাগে। তিনি ধ্যান করার জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তখন সারদাসুন্দরীর এক অন্য রূপ দেখা যায়। তিনি স্বামীর আপত্তিতেও কান না দিয়ে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেন এবং শেষ পর্যন্ত কেঁদে কেটে স্বামীর সঙ্গে যাত্রা করেন। অবশ্য সব সময় এমনটা হয়নি। তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির সব সাংসারিক দায়িত্ব পালন করতেন। বই পড়া ও স্বামীর জন্য চিন্তা সারদাসুন্দরী দেবী পড়াশোনা জানতেন এবং বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন। বাড়ির ভেতরে থাকলেও তিনি সবসময় বই পড়তেন। চাণক্য শ্লোক পড়ে শোনাতেন। মাঝে মাঝে ছেলেদের কাছে ডেকে রামায়ণ-মহাভারত শুনতে চাইতেন। বিশেষ করে তাঁর ছোট ছেলে রবীন্দ্রনাথের সুন্দর গলায় রামায়ণ-মহাভারত শুনতে তিনি খুব পছন্দ করতেন। পরিবার ও বই পড়া ছাড়াও তিনি সবসময় তাঁর স্বামীর জন্য চিন্তিত থাকতেন। ১৮৫৭ সালে যখন সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন তিনি সিমলায় ছিলেন। দেবেন্দ্রনাথের জন্য তাঁর এতটাই চিন্তা হয়েছিল যে, তিনি খাওয়া-ঘুম সব ছেড়ে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথও তাঁর 'জীবনস্মৃতি' বইয়ে মায়ের এই উদ্বেগের কথা লিখেছেন। স্বামী বাড়িতে থাকলে তিনি নিজে রান্নাঘরের সব কাজ তদারকি করতেন। পড়ে দেখুন: নিকোলা টেসলা - যাঁর আবিষ্কারগুলি ছাড়া বর্তমান সভ্যতা অকল্পনীয় পুরোনো ও নতুন চিন্তা ঠাকুরবাড়িতে এসে সারদাসুন্দরী দেবী যেমন পুজো-আর্চায় মন দিয়েছিলেন, তেমনই অনেক পুরোনো কুসংস্কার থেকেও বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু যশোরের কিছু পুরোনো সংস্কার তিনি এখনো ধরে রেখেছিলেন। নারী স্বাধীনতার বিষয়টা তাঁর মনে ততটা পৌঁছায়নি। রবীন্দ্রনাথের দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন যে, তাঁর মা নারী স্বাধীনতার কথা শুনলে বকা দিতেন। তবে রবীন্দ্রনাথের আরেক দাদা বীরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী প্রফুল্লময়ী সারদাসুন্দরীকে অন্যভাবে দেখেছেন। তিনি লিখেছেন যে, সারদাসুন্দরী খুব দয়ালু এবং পতিভক্তিপরায়ণা নারী ছিলেন। তিনি এত বড় বাড়ির বউ হয়েও তাঁর মনে কোনো অহংকার ছিল না। তাঁর মন ছিল শিশুর মতো নরম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ও সারদাসুন্দরীর ছোট ছেলে। ছোটবেলায় তিনি মায়ের আদর খুব বেশি পাননি, কারণ তাঁর মা ৫০ বছরের বেশি বাঁচেননি। তাই মা তাঁর বড় হয়ে ওঠা এবং তাঁর লেখালেখি দেখতে পারেননি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মনে তাঁর মায়ের জন্য ছিল গভীর ভালোবাসা। তিনি লিখেছিলেন যে, ছোটবেলায় মাকে হারানোর জন্য মায়ের চরিত্র তাঁর লেখায় খুব বেশি আসেনি। এমনকি মাকে কোনো লেখা উৎসর্গও করেননি। তবে একটা অদ্ভুত ঘটনা আছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'জীবনস্মৃতি' বইয়ে ১৩১৫ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণে দেখা একটি স্বপ্নের কথা লিখেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেন তিনি ছোটবেলাতেই ফিরে গেছেন। গঙ্গার ধারে বাগানবাড়িতে মা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা) একটি ঘরে বসে আছেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মায়ের ঘরের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ মনে হলো যে মা আছেন। তখন তিনি মায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে প্রণাম করলেন। মা তাঁর হাত ধরে বললেন, "তুমি এসেছ? " এই কথা বলতেই স্বপ্ন ভেঙে গেল। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের আরও কিছু কবিতায় মায়ের উপস্থিতি দেখা যায়। --- > ডিমের নানা রকম পদ সব সময়ই ভোজনরসিকদের কাছে প্রিয়। ডিমের ডেভিল, ডিমের কাটলেট থেকে শুরু করে ডিমের কালিয়া— ডিমের কারি রেসিপি। - Published: 2025-05-24 - Modified: 2025-05-24 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%87/ ডিমের নানা রকম পদ সব সময়ই ভোজনরসিকদের কাছে প্রিয়। ডিমের ডেভিল, ডিমের কাটলেট থেকে শুরু করে ডিমের কালিয়া— ডিমের কারি রেসিপি। চিত্র সৌজন্য ডিমের নানা রকম পদ সব সময়ই ভোজনরসিকদের কাছে প্রিয়। ডিমের ডেভিল, ডিমের কাটলেট থেকে শুরু করে ডিমের কালিয়া—ডিম খেতে ছোট থেকে বড় সবারই পছন্দ। কিন্তু যখনই রোজ ডিম খাওয়ার প্রসঙ্গ আসে তখন ঘুরে ফিরে সেই ডিম সেদ্ধ, ডিম ভাজা, ডিমের পোচ, ডিমের ঝোল, ডিমের তরকারি কিংবা ডিমের কালিয়াতেই বিষয়টা আটকে যায়। বাড়িতে খুব বেশি নতুন পদ ডিম দিয়ে রান্না তেমন হয় না। তবে এবার অল্প উপকরণে এবং বেশ কম সময়ে এই দই ডিম রান্না করুন। আশাকরি সবাই পছন্দ করবে। পড়ে দেখুন: মেয়নেজ পাস্তা বানানোর রেসিপি সুস্বাদু দই-ডিম কিভাবে বানাবেন: ডিমের কারি রেসিপি দই ডিম তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ: ৬ টি ডিম গোটা গরম মশলা ১/২ কাপ পেঁয়াজ কুচি ২ চামচ আদা-রসুন বাটা ১টা বড় টমেটো কুচি ১ চামচ জিরে গুঁড়ো ১ চামচ ধনে গুঁড়ো ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো ১ চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ কাপ টক দই ২ চামচ ধনে পাতা কুচি স্বাদ অনুযায়ী নুন আর প্রয়োজন মতো সর্ষের তেল। দই ডিম রান্না করার পদ্ধতি: ডিমগুলো সেদ্ধ করতে দিন। সেদ্ধ করার পর অল্প তেলে ডিমগুলো ভেজে নিন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করুন। এতে পেঁয়াজ কুচিগুলো ভেজে নিন। রঙ বদলাতে শুরু করলে পেঁয়াজ তুলে আলাদা করে রাখুন। এবার ওই তেলেই গোটা গরমমশলা থেঁতো করে ফোড়ন দিন। ফোড়নের সুগন্ধ বেরোলে এতে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, আদা ও রসুন বাটা ও স্বাদ অনুযায়ী নুন দিয়ে দিন। মশলাটা ভাল করে কষতে থাকুন। কম আঁচে কষবেন। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ জল দেবেন। অন্যদিকে, মিক্সিতে ভেজে রাখা পেঁয়াজ, টমেটো কুচি ও টক দই দিয়ে ভাল করে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এই মসৃণ পেস্টটা কড়াইতে মশলার সঙ্গে দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে একটু ফুটতে দিন। কারি কষা হয়ে এলে দেখবেন কড়াইতে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। এই সময় ভেজে রাখা ডিমগুলো দিয়ে দিন। একটু নেড়েচেড়ে দিন। উপর থেকে ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। ব্যস তৈরি দই ডিম। ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন গরম গরম দই ডিম। --- > নান সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতে গড়া রুটির মধ্যে একটি। এই গার্লিক বাটার নান রেসিপি জেনে নিয়ে তন্দুর ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন নরম তুলতুলে নান। - Published: 2025-05-23 - Modified: 2025-05-24 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf/ নান সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতে গড়া রুটির মধ্যে একটি। এই গার্লিক বাটার নান রেসিপি জেনে নিয়ে তন্দুর ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন নরম তুলতুলে নান। চিত্র সৌজন্য নান সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতে গড়া রুটির মধ্যে একটি। এই গার্লিক বাটার নান রেসিপি জেনে নিয়ে তন্দুর ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন নরম তুলতুলে নান। এটি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পছন্দ করেন। ঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান ছড়িয়ে দিয়েই দারুন গার্লিক বাটার নান তৈরি করা যায়। নানের নরম ও তুলতুলে গড়ন সবার পছন্দ হবে। এটি মশলাদার উত্তর ভারতীয় কারিগুলির সাথে একেবারে রাজযোটক বলা যায় । এই তন্দুর আইটেমটি তন্দুর ছাড়াও যে তৈরি করা যায়, টা এবার দেখে নিন । আপনার রান্নাঘরে যান আর নিজের হাতেই তৈরি করুন এবং আপনার দুপুরের খাবার বা রাতের খাবারের সময় সবাইকে পরিবেশন করুন। তাহলে চলুন আমরা বাটার গার্লিক নান বানানোর উপাদানগুলির তালিকা এবং এটি তৈরি করার পদ্ধতিটি দেখে নি। পড়ে দেখুন: ধনেপাতার বড়া চট-জলদি রেসিপি গার্লিক বাটার নান রেসিপি (Garlic Butter Naan Recipe) বাড়িতে অল্প সময়ের মধ্যে সুস্বাদু গার্লিক বাটার নান বানানোর রেসিপি। সহজে তন্দুর ছাড়াই ঘরোয়া পদ্ধতিতে গার্লিক বাটার নান রান্নার উপকরণ, প্রণালী ও সরঞ্জাম। সরঞ্জাম 1 ইনডাকশন কুকটপ বা গ্যাস বার্নার 1 তাওয়া উপকরণ ২ কাপ ময়দা লবন স্বাদ অনুযায়ী ১ চা চামচ ক্যাস্টর সুগার ২ টেবিল চামচ রিফাইন তেল ২-২. ৫ চা চামচ টক দই ১ কাপ দুধ ০. ৫ চা চামচ বেকিং সোডা ১-২ চা চামচ রসুন সূক্ষ্মভাবে কাটা ২-৩ টেবিল চামচ ধনে পাতা সূক্ষ্মভাবে কাটা মাখন ১ টেবিল চামচ তিল ঐচ্ছিক প্রণালী ময়দা প্রস্তুত করুন প্রথমে একটি বড় বাটি নিন এবং তাতে ময়দা ঢেলে নিন। এরপর, এটিতে ক্যাস্টর চিনি, স্বাদ মতো লবণ এবং বেকিং সোডা যোগ করুন। সবকিছু মেশান এবং সুন্দরভাবে একত্রিত করুন। এরপরে, শুকনো ময়দার মিশ্রণে টক দই দিয়ে দিন। এবার ধীরে ধীরে তাদের মেশানো শুরু করুন। সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। একটি প্যানে দুধ গরম করুন। এরপরে, অল্প অল্প করে ময়দার মিশ্রণে উষ্ণ দুধ যোগ করা শুরু করুন। নরম এবং মাখা মাখা হওয়া পর্যন্ত ময়দা মাখতে থাকুন। প্রায় ১০ মিনিটের জন্য এটি করুন। এর পরে, তালুতে কিছুটা তেল নিন এবং ময়দা বলের আকারে রোল করুন ও তেল দিয়ে গ্রীস করুন। একটি ভেজা কাপড় দিয়ে বাটিতে ঢেকে প্রায় ১ ঘন্টার জন্য আলাদা করে রাখুন। আপনি এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্রাম দিতে পারেন। ময়দা প্রস্তুত করুন ময়দা কিছুক্ষন রেখে দেওয়ার পরে, এটি আরও একবার প্রায় ৩-৪ মিনিটের জন্য মেখে নিন। এরপরে, ময়দার বলটিকে ৪ টি ছোট অংশে ভাগ করুন। অংশগুলোকে বল বানিয়ে নিন। এরপরে, একটি চাকি (রোলিং বোর্ড) এবং একটি বেলন (রোলিং পিন) নিন। রোলিং বোর্ডে কিছুটা ময়দা ছড়িয়ে দিন। বোর্ডে একটি ছোট ময়দার বল নিন এবং রোল করা শুরু করুন। এটি একটি বড় গোল আকার তৈরি করুন। এমনকি আপনি এটি একটি ডিম্বাকৃতি আকারেও তৈরি করতে পারেন। রোল করার সময় ময়দা ছড়িয়ে দিন। সূক্ষ্মভাবে কাটা রসুন, ধনেপাতা এবং তিল দিয়ে দিন। এটিকে আবার রোল করুন যাতে এগুলি ময়দার সাথে ভালভাবে লেগে যায়। এর পরে, ময়দাটি ঘুরিয়ে দিন এবং এর অন্য দিকটি ওপরে করুন। এই খালি দিকটিতে কিছু জল প্রয়োগ করুন। এটি সমানভাবে ছড়িয়ে দিন তবে খুব বেশি নয়। এটি তাওয়ায় ময়দা আটকাতে সাহায্য করবে। নান তৈরি করুন এবার তাওয়া নিন এবং তা গরম করতে দিন । এটি মাঝারি আঁচে রাখুন। তাওয়া আগুনে রাখুন এবং সাবধানে তাওয়ায় রোল করা ময়দার জলযুক্ত দিকটি রাখুন। তাওয়ায় এটি একটু চেপে চেপে দিন যাতে এটি ভালোভাবে লেগে যায়। যখন নানের উপরের অংশটি চারদিক থেকে ভালোভাবে ফুলে উঠতে শুরু করবে, তখন নান টি তুলে উল্টে দিন। উপরের অংশটি রান্না করতে উনুনের শিখার উপর ধীরে ধীরে এবং অবিচলিতভাবে তাওয়া নাড়তে থাকুন। জ্বাল মাঝারি রাখুন এবং এটি পুড়ে না যায় সেটি নিশ্চিত করুন। যতক্ষণ না পুরো উপরের অংশ এবং প্রান্তগুলি বেশ একটু লাল লাল না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটি শিখার উপর রেখে নাড়তে থাকুন। এতক্ষণে নান টি ভালো করে বেক হয়ে যাবে। এখন, এটি শিখা থেকে সরিয়ে নিন এবং একটি স্প্যাটুলা ব্যবহার করে সাবধানে তাওয়া থেকে আলাদা করুন। এটি মসৃণভাবে বেরিয়ে আসবে। তাওয়া থেকে আলাদা করার সাথে সাথে এর ওপরে মাখন ছড়িয়ে দিন। ময়দার বাকি অংশ দিয়ে, ওই একই পদ্ধতি পুনরাবৃত্তি করুন। --- > নিকোলা টেসলা যদি জন্মগ্রহণ না করতেন তবে আধুনিক জীবনের অনেক সুবিধাই হয়ত আজ অধরা থাকত, যেমন আলো, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ব্যবসা-বাণিজ্য - Published: 2025-05-20 - Modified: 2025-05-20 - URL: https://www.sabjanta.info/nikola-tesla-the-inventor-of-induction-motor/ নিকোলা টেসলা যদি জন্মগ্রহণ না করতেন তবে আধুনিক জীবনের অনেক সুবিধাই হয়ত আজ অধরা থাকত, যেমন আলো, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ব্যবসা-বাণিজ্য চিত্র সৌজন্য নিকোলা টেসলা যদি জন্মগ্রহণ না করতেন তবে আধুনিক জীবনের অনেক সুবিধাই হয়ত আজ অধরা থাকত, যেমন আলো, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ আমাদের আধুনিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা রয়েছে নিরাপদ, দক্ষ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যালটারনেটিং কারেন্ট (AC) বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর। একইভাবে, যদি না থাকত Wi-Fi, রেডিও, রিমোট কন্ট্রোল বা রোবোটিক্স, তাহলে আমাদের পৃথিবী ঠিক কেমন হতো? এসব অসাধারণ আবিষ্কারের পেছনে রয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও মানবতাবাদী: নিকোলা টেসলা। মাত্র ছয় বছর বয়সে নিকোলা টেসলা তাঁর আবিষ্কারের যাত্রা শুরু করেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ, বুদ্ধিমত্তা ও কৌতূহলের মিশ্রণে তিনি ছোটবেলায় তৈরি করেন জুনবাগ চালিত মোটর, এয়ার পিস্টন বন্দুক এবং ব্যাঙ ধরার যন্ত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তিনি জলচালিত টারবাইন তৈরি করেন এবং তখনই স্বপ্ন দেখেন নাইয়াগ্রা জলপ্রপাত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের — একটি স্বপ্ন, যা বাস্তবে রূপ পায় ১৮৯৬ সালে। যৌবনে টেসলা গণিত, পদার্থবিদ্যা, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর প্রথম দিককার একটি চাকরি ছিল বুদাপেস্ট টেলিফোন এক্সচেঞ্জে, যেখানে তিনি যন্ত্রপাতির উন্নতি ঘটান এবং একটি অ্যাম্পলিফায়ার তৈরি করেন। এরপর প্যারিসে আরেকটি চাকরিতে কাজ করার সময় তিনি এডিসনের ডায়নামোর উন্নয়ন সাধন করেন এবং একটি স্বয়ংক্রিয় রেগুলেটর তৈরি করেন। ১৮৮৪ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে নিকোলা টেসলা আমেরিকায় পা রাখেন এবং ১৮৮৮ সালে তাঁর প্রথম পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন। এরপর তিনি একের পর এক নতুন আবিষ্কার করতে থাকেন এবং ১৯৪৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি পেটেন্ট অর্জন করেন। মানবকল্যাণের জন্য প্রকৃতির শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতি তাঁর আজীবন প্রতিশ্রুতি আজও বিশ্বকে উপকৃত করে চলেছে। পড়ে দেখুন: আলবার্ট আইনস্টাইনের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও বিজ্ঞান জগতে তার প্রভাব নিকোলা টেসলার প্রথম জীবন নিকোলা টেসলা ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের স্মিলজানে জন্মগ্রহণ করেন, বর্তমানে যার নাম ক্রোয়েশিয়া। তাঁর বাবা, মিলুটিন টেসলা ছিলেন একজন সার্বিয়ান অর্থোডক্স যাজক এবং তাঁর মা, জুকা ম্যান্ডিচ, ছিলেন গৃহস্থালীর সরঞ্জাম উদ্ভাবক। কলেজে পড়ার সময় টেসলা প্রথমে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত পড়তে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু শীঘ্রই তিনি বিদ্যুতের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি ১৮৭৩ সালে কার্লস্ট্যাডের রিয়ালশুলে, অস্ট্রিয়ার গ্রাজের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং প্রাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮৮১ সালে বুদাপেস্টে একটি টেলিফোন কোম্পানিতে তড়িৎ প্রকৌশলী হিসেবে তিনি চাকরি পান। ইন্ডাকশন মোটরের ধারণা ১৮৮৩ সালে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে থাকাকালীন এক বন্ধুর সাথে পার্কে হাঁটার সময় তিনি ইন্ডাকশন মোটরের ( অর্থাৎ তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ দ্বারা চালিত একটি এসি মোটর) একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেন এবং সফলভাবে পরীক্ষা করেন। যেহেতু তিনি ইউরোপে এটির প্রতি কারো আগ্রহ খুঁজে পাননি, তাই নিকোলা টেসলা নিউইয়র্কে টমাস এডিসনের সাথে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। টেসলার নায়াগ্রা জলপ্রপাত ঘিরে স্বপ্ন টেসলা যুবক বয়স থেকেই কল্পনা করতেন নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে শক্তি উত্পন্ন করা। ১৮৯৫ সালে, তিনি জলপ্রপাতে প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ডিজাইন করেন, যা পরিবর্তী প্রবাহের বিজয় নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে, তাঁর সম্মানে গোট দ্বীপে একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। টেসলার অদ্ভুত অভ্যাস এত প্রতিভাময় টেসলা বেশ অদ্ভুত স্বভাবের ছিলেন যেমন :– খাদ্যাভ্যাস: টেসলা মাংস খাওয়া পুরো ছেড়ে দিয়েছিলেন - এক পর্যায়ে কঠিন খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন। তিনি উষ্ণ দুধ এবং আর্টিকোক ও সেলারির মতো সবজি দিয়ে তৈরি একটি পানীয় পান করতেন এবং মধু খেতেন। ঘুমের অভ্যাস: তাঁর ঘুমের অভ্যাসও ছিল অস্বাভাবিক। তিনি বলতেন যে তিনি একবারে ২ ঘণ্টার বেশি ঘুমাননি। তবে, তিনি মাঝে মাঝে শরীরের "ব্যাটারি রিচার্জ" করার জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি একবার ৮৪ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে কাজ করেছিলেন। টমাস এডিসনের সাথে মতানৈক্য নিউ জার্সিতে টমাস আলভা এডিসনের ল্যাবে কাজ করার সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহের সর্বোত্তম রূপ নিয়ে তাঁর মতবিরোধ শুরু হয়। এডিসন ডিরেক্ট কারেন্ট বা ডিসি (যা এক দিকে প্রবাহিত হয়)-এর পক্ষপাতি ছিলেন, যেখানে নিকোলা টেসলা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি (যা পর্যায়ক্রমে দিক পরিবর্তন করে)-এর পক্ষপাতী ছিলেন। এর ফলে 'কারেন্টের যুদ্ধ' শুরু হয়, যেখানে এসির বৃহত্তর দক্ষতার কারণে টেসলা জয়ী হন। সারা আমেরিকা জুড়ে বিদ্যুত পৌছে দিতে উদ্যোগ ১৮৮৮ সালে টেসলা একটি ক্লাসিক পেপার লেখেন যেখানে তিনি তাঁর মোটর এবং বৈদ্যুতিক সিস্টেমের ধারণা প্রবর্তন করেন, যার শিরোনাম ছিল 'এ নিউ সিস্টেম অফ অল্টারনেটিং কারেন্ট মোটরস অ্যান্ড ট্রান্সফরমার্স'। তিনি শিল্পপতি ও উদ্ভাবক জর্জ ওয়েস্টিংহাউসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের অংশীদারিত্ব আমেরিকার বাকি অংশে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অংশীদার হন। টেসলা কয়েল আবিষ্কার ১৮৯১ সালে, টেসলা একটি ইন্ডাকশন কয়েল তৈরি করেন যা উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তী প্রবাহ উৎপন্ন করত, যা এখন টেসলা কয়েল নামে পরিচিত। তিনি বৈদ্যুতিক আলো, এক্স-রে এবং ওয়্যারলেস পাওয়ার উৎপাদনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এটি ব্যবহার করেছিলেন এবং এটি রেডিও ও টিভির ভিত্তি হয়ে ওঠে। বর্তমানে, কয়েলগুলি মূলত শিক্ষামূলক প্রদর্শনী এবং বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। টেসলার বৈবাহিক জীবন সারা জীবনে টেসলা অবিবাহিত ছিলেন, তবে একবার তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি একটি পায়রার প্রেমে পড়েছিলেন। শোনা যায়, টেসলা পার্কে পায়রাদের খাওয়াতে যেতেন। একটি সাদা পায়রার সাথে তাঁর অদ্ভুত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পায়রাটি প্রতিদিন তাঁর কাছে উড়ে আসত। টেসলা একবার বলেছিলেন, 'আমি সেই পায়রাটিকে একজন পুরুষের মতো ভালোবেসেছিলাম যেমন একজন মহিলাকে ভালোবাসে এবং সেও আমাকে ভালোবাসত। যতক্ষণ সে আমার কাছে ছিল ততক্ষণ আমার জীবনের একটি উদ্দেশ্য ছিল।' --- > বিখ্যাত মনিষীদের ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই, বিশেষত মজার বা হাসির ঘটনা। তাদের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। - Published: 2025-05-14 - Modified: 2025-05-14 - URL: https://www.sabjanta.info/10-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%9f%e0%a6%a8%e0%a6%be/ বিখ্যাত মনিষীদের ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই, বিশেষত মজার বা হাসির ঘটনা। তাদের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। যদি সেই ব্যক্তিগত জীবনে কোনো মজার বা হাসির ঘটনা ঘটে থাকে, তবে কৌতূহল যেন আকাশ স্পর্শ করে। তেমনই কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের কিছু হাসির গল্প এখানে তুলে ধরা হলো। এই মজার কাহিনিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে পৃথিবীর খ্যাতনামা মনিষীদের জীবনকথা থেকে। এই মনিষীদের জীবন যেমন বিস্ময়কর, তেমনই তাদের উক্তি এবং জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গল্প বা হাসির ঘটনাও বেশ চমৎকার। নিচে আপনাদের জন্য চয়ন করা 10 টি সুন্দর হাসির ঘটনার উল্লেখ করা হল। আশাকরি ভাল লাগবে। 1. মাতালকে সাহায্য ( Humorous moment by Ishwar Chandra Vidyasagar ) চিত্র সৌজন্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের আর্থিক অনটনের সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় ওনাকে আর্থিক সাহায্য করতেন। একদিন এক মাতাল বিদ্যাসাগর মহাশয়ের কাছে সাহায্য চাইতে এলে বিদ্যাসাগর বললেন, "আমি কোন মাতালকে সাহায্য করি না।" কিন্তু আপনি যে মধুসুদনকে সাহায্য করেন তিনিও তো মদ খান - মাতালের উত্তর। তখন বিদ্যাসাগর উত্তর দেন, "ঠিক আছে আমিও তোমাকে মধুসূদনের মত সাহায্য করতে রাজী আছি তবে তুমি তার আগে একটি “মেঘনাদ বধ” কাব্য লিখে আন।" পড়ে দেখুন: গোপাল ভাঁড়ের 10টি সেরা হাসির গল্প 2. আমার এত টাকা কি আছে? ( Humorous moment by Publo Picasso ) চিত্র সৌজন্য শিল্পী পাবলো পিকাসোর বাসায় একবার এক অতিথি এলেন।অতিথি বাড়ি ঘুরে ঘুরে লক্ষ করলেন, পুরো বাড়িতে বিচিত্র ধরনের জিনিসপত্র থাকলেও কোথাও পিকাসোর কোনো চিত্রকর্ম নেই। বেশ অবাক হয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ব্যাপার কী বলুন তো? আপনার বাড়িতে আপনারই কোনো চিত্রকর্ম নেই যে? ’ রসিক পিকাসো বললেন, ‘আমার এত টাকা কি আছে যে বাসায় পিকাসোর ছবি রাখব? তাঁর একেকটা ছবির যা দাম! ’ 3. লেট ট্রেন চিত্র সৌজন্য অনেক বছর আগের কথা। সে সময় আমেরিকান ট্রেনগুলো বেশ ধীরগতিতে চলত। লেট করত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সকাল ৮টার ট্রেন রাত ৮টায় আসবে কি না সে বিষয়ে সবাই থাকত সন্দিহান। এমনই এক সময়ে বিখ্যাত রম্যসাহিত্যিক মার্ক টোয়েন একবার কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে চেপে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর কামরায় উঠল টিকিট চেকার। মার্ক টোয়েন গম্ভীর মুখে চেকারের দিকে একটা 'হাফ টিকিট' বাড়িয়ে দিলেন। বুড়ো মানুষের হাতে 'হাফ টিকিট' দেখে টিকিট চেকার অবাক! তাঁর প্রশ্ন, 'কী মশাই, আপনি হাফ টিকিট কেটেছেন কেন? গোঁফ, মাথার চুল সবই তো সাদা। আপনি কি জানেন না চৌদ্দ বছরের বেশি হলে আর হাফ টিকিট চলে না? ' মার্ক টোয়েনের সোজা জবাব, "যখন ট্রেনে চড়েছিলাম, তখন তো বয়স চৌদ্দই ছিল। কে জানত, ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতে এত লেট করবে! " পড়ে দেখুন: বাবুর্চির বুদ্ধি - হাততালি দিলে পাতের বকটা উড়ে যেত যে 4. আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ( Funny moment of Mark Twain ) সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন একবার শেভ করতে সেলুনে গেলেন। শেভ করানোর ফাঁকে নাপিতের সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিলেন, ‘আপনাদের শহরে এবারই প্রথম বেড়াতে এলাম।’ নাপিত বলল, ‘ভালো সময়ে এসেছেন। আজ রাতে এখানে মার্ক টোয়েন বক্তৃতা দেবেন। সেখানে যাচ্ছেন তো? ’ ‘আশা করছি যাব।’ ‘টিকিট কিনেছেন? ’ ‘না তো! ’ ‘সম্ভবত আর টিকিট পাবেন না। যদিও পান, তাহলে আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।’ ‘আমার ভাগ্যটা আসলেই খারাপ। ভদ্রলোক যখনই বক্তৃতা দেন, তখনই আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়! ’ টোয়েন বললেন। 5. যদি তুমি শিখে নাও ( A humorous event from life of Bertrand Russell) চিত্র সৌজন্য ‘পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরছে’ সে সম্পর্কে একবার বক্তৃতা করছিলেন বারট্রান্ড রাসেল। বক্তৃতার মাঝখানে এক বৃদ্ধলোক দাঁড়িয়ে রাসেলের কথার প্রতিবাদ করে বললেন, "ওহে তরুণ তুমি বেশ বুদ্ধিমান এতে কারো সন্দেহ নেই। তবে পৃথিবী যে চ্যাপ্টা আর তা কচ্ছপের পিঠে করে বয়ে বেড়াচ্ছে তা মনে করেছ আমরা জানিনা! " রাসেল বৃদ্ধের কথা শুনে অবাক হলেন। প্রশ্ন করলেন, "ঠিক আছে, তাহলে আপনি এবার বলুন, ওই কচ্ছপটা কিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে? " বৃদ্ধ একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, "হুঁ, আমি তোমাকে বলে দিই আর যদি তুমি শিখে নাও! সেটা হতে দেবনা।" 6. সাদা বেল্ট আর হাতমোজা চিত্র সৌজন্য লেখক অ্যাডগার অ্যালান পো তাঁর জীবনের বেশ কিছু সময় সামরিক বাহিনীতে কাটিয়েছেন। একবার পাবলিক প্যারেডে নির্দেশ এল, সাদা বেল্ট আর হাতমোজা পরে আসতে হবে। পরদিন পো আক্ষরিকভাবে উলঙ্গ হয়ে প্যারেডে যান। পরনে ছিল কেবল সাদা বেল্ট আর হাতমোজা। 7. দণ্ড - (Humorous event from Tagor's life) চিত্র সৌজন্য শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক নেপাল রায়কে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, "আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য কাল বিকেলে আমার এখানে এসে আপনাকে দণ্ড নিতে হবে।" চিন্তিত, শঙ্কিত নেপালবাবু পরদিন শশব্যস্ত হয়ে কবির কাছে উপস্থিত হলেন। আগের রাতে দুশ্চিন্তায় তিনি ঘুমাতে পারেননি। এখনো তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ উৎকণ্ঠার মধ্যেই বসিয়ে রেখেছেন কবিগুরু। অবশেষে পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে আবির্ভূত হলেন কবি। নেপালবাবুর তখন ভয়ে কাণ্ডজ্ঞান লুপ্তপ্রায়। তিনি ভাবলেন, সত্যি বুঝি লাঠি তাঁর মাথায় পড়বে। কবি সেটি বাড়িয়ে ধরে বললেন, "এই নিন আপনার দণ্ড ! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন তো? " পড়ে দেখুন: সুন্দর অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে 8. ঘ্যানর ঘ্যানর ( A light moment by Thomas Alva Edison ) টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অযথাই আক্রমন করে বসল, "কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে। আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না... ।" তরুণী বলেই যাচ্ছে, থামার কোনো লক্ষণ নেই। অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন। পরে বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন। আসলে সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর। আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছেমতো থামানো যায়।" 9. চিনির গান ( A light moment by Promothanath Bishi ) প্রমথনাথ বিশী মরিস সাহেব ছিলেন শান্তিনিকেতনে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অধ্যাপক। একা থাকলে তিনি প্রায়ই গুনগুন করে গান গাইতেন। একদিন তিনি তৎকালীন ছাত্র প্রমথনাথ বিশীকে বললেন, জানো গুরুদেব(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) চিনির ওপর একটি গান লিখেছেন, গানটি বড়ই মিষ্টি।’ প্রমথনাথ বিশী বিস্মিত হয়ে বললেন, “কোন গানটা? তার আগে বলুন, এই ব্যাখ্যা আপনি কোথায় পেলেন? ” উত্তরে মরিস সাহেব জানালেন, ‘কেন, স্বয়ং গুরুদেবই তো আমাকে এটা বলে দিয়েছেন।’ অতঃপর তিনি গানটি গাইতে লাগলেন, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে... ।’ প্রমথনাথ বিশী মুচকি হেসে বললেন,তা গুরুদেব কিন্তু ঠিকই বলেছেন, চিনির গান তো মিষ্টি হবেই”। 10. মাথা ব্যাথার ওষুধ ( Funny moment by George Bernard Shaw ) চিত্র সৌজন্য জর্জ বার্নাড শ প্রায় সত্তর বছর পর্যন্ত মাথা ব্যাথায় ভুগেছিলেন। এ ব্যাপারে শ’ উত্তর মেরুর আবিষ্কারক নানসেন কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আচ্ছা আপনি মাথা ধরার কোন ঔষধ আবিষ্কার করেছেন কি? নানসেন তো অবাক। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, “না তো! ” শ’ তখন বললেন, “কি আশ্চার্য্য! উত্তর মেরু আবিষ্কারের জন্য সারাজীবন কাটালেন! অথচ পৃথিবীর কাছে তার মূল্য দু পয়সাও নয়। আপনি মাথা ধরার কোন ঔষধ আবিষ্কারের চেষ্টাও করেননি; অথচ পৃথিবীর সমগ্র মানুষ এই মহৌষধের জন্য কেঁদে কেটে আকুল”। --- > আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তিনি হলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর চিন্তাশক্তি, কল্পনার গভীরতা এবং জ্ঞানের বিস্তার - Published: 2025-05-10 - Modified: 2025-05-10 - URL: https://www.sabjanta.info/albert-einstein-biography-his-india-connection/ আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তিনি হলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর চিন্তাশক্তি, কল্পনার গভীরতা এবং জ্ঞানের বিস্তার চিত্র সৌজন্য আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তিনি হলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর চিন্তাশক্তি, কল্পনার গভীরতা এবং জ্ঞানের বিস্তার আমাদের ভৌত বিজ্ঞানের অনেক ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। শুধু বিজ্ঞান নয়, মানবতা, শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে তিনি সবসময় সক্রিয় ছিলেন। আজকের এই ব্লগে আমরা জানব তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী, বিজ্ঞানে তাঁর অসাধারণ অবদান এবং ভারত ও ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। জন্ম ও শৈশবকাল আলবার্ট আইনস্টাইন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ, জার্মানির উলম নামক শহরে। তাঁর পরিবার ছিল ইহুদি ধর্মাবলম্বী। ছোটবেলায় আইনস্টাইন খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিলেন এবং অনেকেই মনে করতেন তিনি বুঝি কিছুটা ধীরবুদ্ধির। কিন্তু খুব অল্প বয়সেই গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি তাঁর অসাধারণ আগ্রহ দেখা যায়। বড় হয়ে তিনি সুইজারল্যান্ডের জুরিখ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট-এ পড়াশোনা করেন এবং পরে একজন পেটেন্ট অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই কাজের পাশাপাশি তিনি চালিয়ে যান তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বিজ্ঞান জগতে অবদান আলবার্ট আইনস্টাইন সর্বাধিক পরিচিত তাঁর আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব (Theory of Relativity)-এর জন্য। ১৯০৫ সালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যাকে বলা হয় "চমৎকার বছর" বা Annus Mirabilis। এই বছরেই তিনি এমন কিছু গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে: বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদ (Special Relativity): এতে বলা হয়, সময় এবং স্থান আপেক্ষিক, এবং আলোর গতি সকল পরিস্থিতিতে ধ্রুব। এই তত্ত্বেরই অংশ হল বিখ্যাত সূত্রটি:$E = mc^2$অর্থাৎ, শক্তি (E) = ভর (m) × আলোর বেগ (c)²। ব্রাউনিয়ান গতি: গ্যাসে ভাসমান অণুগুলির আন্দোলন বিশ্লেষণ করে তিনি অণুর অস্তিত্বের প্রমাণ দেন। ফটোইলেকট্রিক প্রভাব (Photoelectric Effect): এতে তিনি দেখান, আলো কণিকা (ফোটন) আকারে কাজ করতে পারে। এই কাজের জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ (General Relativity) উপস্থাপন করেন, যেখানে মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা করা হয় স্থান-কাল (spacetime) এর বক্রতার মাধ্যমে। এই তত্ত্ব ১৯১৯ সালে একটি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হয় এবং আলবার্ট আইনস্টাইন তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আরও পড়ুন: বিধানচন্দ্র রায় - বাংলার রূপকার হয়ে ওঠার কাহিনী ভারতের সঙ্গে সংযোগ আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে ভারতের কিছু উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক ছিল, যা ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ: ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ: ১৯৩০ সালে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আলবার্ট আইনস্টাইনের আমন্ত্রণে তাঁর জার্মানির বাসভবনে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞান ও দর্শন নিয়ে একটি গভীর আলোচনা হয়, যা আজও বিখ্যাত। এই আলোচনা "Science and the Indian Mind" নামে পরবর্তীকালে ছাপা হয়। এই আলোচনায় আইনস্টাইন বলেছিলেন, "আমি বিশ্বাস করি সত্যের একটি চূড়ান্ত সার্বজনীন মান আছে এবং মানুষের মন স্বাধীনভাবে সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে।" এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, "সত্য, যা সর্বজনীন, তা অবশ্যই ব্যক্তিগত অনুভূতির মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে হবে।" তাঁদের এই মতপার্থক্য সত্ত্বেও, আলোচনাটি জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র ছিল। ২. সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি সমর্থন: যদিও আলবার্ট আইনস্টাইন সরাসরি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করেননি, তবু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আইনস্টাইনের অবস্থান এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংগ্রামের প্রতি সহানুভূতির নজির পাওয়া যায় তাঁর বিভিন্ন চিঠিপত্রে। ৩. ডঃ চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামনের সঙ্গে সম্পর্ক: রামন স্ক্যাটারিং (Raman Effect) আবিষ্কারের জন্য যিনি ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান, সেই ডঃ সি. ভি. রামনের গবেষণাকর্ম আইনস্টাইনও গভীর আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করতেন। তিনি একাধিক ভারতীয় বিজ্ঞানীর প্রতিভা ও মেধার প্রশংসা করেছিলেন। ৪. ডঃ এস. এন. বোস ও বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক হল ডঃ সত্যেন্দ্রনাথ বোস ও আইনস্টাইনের মধ্যে। ১৯২৪ সালে বোস একটি মৌলিক তত্ত্ব প্রস্তাব করেন যা পরবর্তীকালে "বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান" নামে পরিচিত হয়। আইনস্টাইন নিজে এই তত্ত্বকে আরও উন্নত করেন এবং তাঁর নাম যুক্ত করেন। এই যৌথ তত্ত্বই আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভিত্তি স্থাপন করে এবং "বোসন" নামক কণার ধারণার জন্ম দেয়। মানবতার পক্ষে আইনস্টাইন আইনস্টাইন ছিলেন কেবলমাত্র একজন বিজ্ঞানী নন, তিনি ছিলেন একজন মানবতাবাদী চিন্তাবিদও। নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর নির্যাতনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে একটি চিঠিতে নিউক্লিয়ার গবেষণার গুরুত্ব জানান, যদিও পরবর্তীকালে তিনি পারমাণবিক বোমার ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি জাতিসংঘ গঠন, বিশ্ব শান্তি, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং শিক্ষার প্রসারে সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শুধু বিজ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তা মানব সভ্যতার উন্নয়নের পথ নির্দেশ করেছিল। শেষ জীবন ও মৃত্যু আইনস্টাইন জীবনের শেষভাগে "এককতত্ত্ব" (Unified Field Theory) আবিষ্কারের চেষ্টা করেন, যা মহাকর্ষ ও তড়িচ্চুম্বকত্বকে একটি তত্ত্বে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে চায়। যদিও জীবদ্দশায় তিনি এতে সফল হননি, কিন্তু তাঁর এই প্রচেষ্টা পরবর্তী বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন শহরে মৃত্যুবরণ করেন। উপসংহার আলবার্ট আইনস্টাইন শুধু একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীই নন, তিনি একান্তভাবেই একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। তাঁর চিন্তা, গবেষণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বিজ্ঞান ও সমাজের অনেক দিককে বদলে দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ভারতীয়দের সম্পর্ক, বিশেষত সত্যেন্দ্রনাথ বোসের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। স্কুল ছাত্রছাত্রীদের জন্য আইনস্টাইনের জীবন কেবলমাত্র পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়, বরং অনুপ্রেরণার এক অবিরাম উৎস। আমাদের উচিত তাঁর কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুসরণ করা। জেনে রাখো: "Imagination is more important than knowledge. " – Albert Einstein(কল্পনা জ্ঞানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ) --- > শিক্ষনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আপনার মনকে ভালো করতে সাহায্য করবে। নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করতে হলে শিক্ষনীয় মোটিভেশনাল গল্প - Published: 2025-04-30 - Modified: 2025-04-30 - URL: https://www.sabjanta.info/3-motivesional-stories-in-bengali-language/ শিক্ষনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আপনার মনকে ভালো করতে সাহায্য করবে। নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করতে হলে শিক্ষনীয় মোটিভেশনাল গল্পের জুড়ি মেলা ভার চিত্র সৌজন্য শিক্ষনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প যা আপনার মনকে ভালো করতে সাহায্য করবে। নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করতে হলে শিক্ষনীয় মোটিভেশনাল গল্পের জুড়ি মেলা ভার। মোটিভেশনাল গল্পই আপনার মনকে শক্তিশালী ও চাঙ্গা করতে পারে। আজকে আপনাদের ৩ টি ছোট অনুপ্রেরণামূলক গল্প শেয়ার করবো। আশাকরি, এই গল্পগুলি আপনাদের আরও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করবে। মন ভালো করার জন্য ছোট গল্প বেশ কাজের । গল্পই মানুষের জীবন পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে। আশা করি এই গল্প গুলো শুনতে খুব ভালো লাগবে আপনাদের। স্বপ্ন পূরণ - A motivational story in Bengali 'স্বপ্ন পূরণ' গল্প - যখন স্বপ্ন নিজে নিজেই সত্যি হয়ে যায় একটি ছোট ছেলে অনাথ আশ্রমে বেড়ে উঠছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো সে একদিন পাখির মতো উড়তে পারবে। সে বুঝতে পারতো না যে কেন সে উড়তে পারে না। চিড়িয়াখানায় বড় বড় পাখিদেরকেও সে খাঁচার ভেতর উড়তে দেখেছে। সে মনে মনে ভাবতো আমি কেন পারি না? আমার কি তাহলে কোনো সমস্যা আছে? আরেকটি ছোট ছেলে ছিলো,যে পায়ের সমস্যার জন্যে ঠিক মতো হাঁটতে পারতো না। সে স্বপ্ন দেখতো তার বয়সের অন্য ছেলে-মেয়েদের মতো সেও হাটতে পারছে। দৌড়ে বেড়াচ্ছে। সে ভাবতো,আমি কেন ওদের মতো নই? একদিন সেই অনাথ ছেলেটি, যে পাখি হতে চাইতো, সে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্র সৈকতে এসে পড়লো। সেখানে সে দেখলো যে পঙ্গু ছেলেটি বালিতে বসে খেলছে। বালি দিয়ে বাড়ি-ঘর বানাচ্ছে। পাখি বানাচ্ছে। তাকে পাখি বানাতে দেখে সে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, -তুমিও কি পাখির মত আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখো? -না। কিন্তু আমি আর সবার মতো হাঁটতে পারার স্বপ্ন দেখি, দৌড়ে গিয়ে বাবার কোলে ওঠার স্বপ্ন দেখি। তার কথা শুনে ছেলেটি খুব কষ্ট পেল। সে বললো -আমরা কি বন্ধু হতে পারি? -অবশ্যই আমরা বন্ধু হতে পারি। এরপর তারা দুইজন মিলে প্রায় অনেক ক্ষণ খেলল । তারা সৈকতের বালি দিয়ে ঘর বানালো, পাখি বানালো, দুজন মিলে নানান রকম শব্দ করছিল । এক সময় পঙ্গু ছেলেটির বাবা হুইল চেয়ার নিয়ে ছেলেটিকে নিতে এলো। যে ছেলেটি পাখির মত উড়তে চাইতো সে পঙ্গু ছেলেটির বাবার কানে কানে কিছু একটা বললো। উত্তরে তিনি বললেন -ঠিক আছে। আমার কোনো আপত্তি নেই। ছেলেটি তখন তার পঙ্গু বন্ধুকে বললো, -তুমি আমার একমাত্র বন্ধু। আমি যদি কিছু করতে পারতাম যাতে তুমি আর সবার মতো হাঁটতে আর দৌড়াতে পারতে তাহলে আমি খুব খুশি হতাম। কিন্তু আমি তো তা পারি না। তবু আমি কিছু একটা করতে চাই। এই বলে সে ঘুরে দাড়ালো এবং তার বন্ধুকে বললো তার পিঠে উঠে বসতে। সে উঠে বসলে ছেলেটি বালুর উপর দিয়ে ধীরে ধীরে দৌড়াতে শুরু করলো। দৌড়াতেই থাকলো। দৌড়ের গতি বাড়লে তাদের দুজনের মুখে সমুদ্রের বাতাস এসে ধাক্কা দিতে লাগলো। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে তার বাবা চোখের জল আটকে রাখতে পারলো না। পঙ্গু ছেলেটি খুশিতে তার দু হাত দুদিকে মেলে ঠিক একটি পাখির মতো উপরে নিচে করতে লাগলো এবং চিৎকার করে বলতে লাগলো ''আমি উড়ছি, বাবা, আমি উড়ছি! '' শিক্ষাঃ অন্যের স্বপ্ন পূরণ করুন, আপনার স্বপ্ন নিজে নিজেই সত্যি হয়ে যাবে। আরও পড়ুন: ছোটদের জন্য 5 টি অসাধারণ নীতি শিক্ষামূলক গল্প দৃষ্টিভঙ্গি 'দৃষ্টিভঙ্গি' গল্প - কাদা না খুজে আকাশের তারা খোঁজার চেষ্টা করুন একবার এক নববিবাহিতা স্ত্রীকে বিয়ের পর পরই তার স্বামীর সাথে চলে যেতে হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে। যেহেতু সে শহরে বেড়ে উঠেছিল তাই মরুভূমি তার কাছে অত্যন্ত প্রত্যন্ত, গেঁয়ো এবং নিরানন্দ লাগছিল। তাদের যেখানে থাকার ব্যবস্থা হল সেটা তার কাছে মোটেও সহজ হলো না । গ্রামের জীর্ন একটা চালা ঘর, ধূসর মরুভূমি, আদিবাসী প্রতিবেশি। স্বভাবতই কেউই আদিবাসী ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় কথা বলতে পারে না। প্রচন্ড গরমের মধ্যে অসহায় একাকিত্ব সময় পার করতে লাগল। এর মধ্যে যখন তার স্বামী কাজের প্রয়োজনে কিছু দিনের জন্য দূরে চলে গেল। তখন সে তার মাকে লিখে পাঠাল যে, এখানে এই অদ্ভুত মানুষ আর তাদের সংস্কৃতির সাথে মিলে চলতে পারছে না। তাই সে বাড়ি ফিরে আসছে। কয়েক দিন পরে তার মায়ের কাছ থেকে উত্তর এল । সেটাতে লেখাছিল :- “দুই জন লোক কারাগারের ফটক দিয়ে বাহিরে তাকালএকজন দেখতে পেল কাদা আর অন্যজন আকাশের তারা ” ব্যাস, এই কয়েকটা শব্দতেই তার অন্তরদৃষ্টি খুলে গেল। এবার সে আর পরিবেশকে নয় বরং নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করল। আদিবাসী প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরন শুরু করলো। আপন মনে মরুভুমির সৌন্দর্য্ আবিষ্কার করার চেষ্টা করল। তার পৃথিবী বদলে গেল। অল্প সময়েই তার কাছে ঐ জায়গা মনে হল এক নতুন জগৎ এক নতুন পৃথিবী। এক নতুন আনন্দলোক । শিক্ষাঃ সময়ের প্রয়োজনে একটু ভালো থাকার আশায় নিজেকে বদলে নিন, উপযোগী করে তুলুন পরিবেশের সাথে। কালো বিন্দু - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প 'কালো বিন্দু' গল্প - আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে যদি আরও বিস্তৃত করতে পারি তবে পটভূমির কালো বিন্দুরা ক্ষুদ্রতর হয়ে যায়। একটি স্কুলের পরিদর্শন চলা অবস্থায়, স্কুলের প্রধান পরিদর্শককে শেষ-বর্ষের ছাত্রদের সামনে কিছু অনুপ্রেরণা মুলক কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। পরিদর্শক ছাত্রদের উদ্দেশ্য একটি সাদা কাগজ দেখান এবং বল পয়েন্ট দিয়ে কাগজের মাঝে একটি বিন্দু দেন। অতপর ছাত্রদের জিজ্ঞাসা করেন- “এখানে তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ? ” সামনের সারির একজন দাড়িয়ে জবাব দেয়- “একটি কাল বিন্দু দেখতে পাচ্ছি” পরিদর্শক আবার সকলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেন- “আর কেউ কি কিছু দেখতে পাচ্ছ? ”সকলে সমস্বরে উত্তর দেয়- “কালো বিন্দু” পরিদর্শক তখন কাগজটি ভাঁজ করে পকেটে রেখে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন:- “তোমরা কি এই সম্পূর্ণ সাদা পৃষ্ঠাটি দেখতে পাচ্ছ? আমাদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা খুব সাফল্যমণ্ডিত আর আনন্দদায়ক এবং খুব রোমাঞ্চকর-ঠিক এই সাদা পৃষ্ঠার মত, আবার এমন অনেক ভুল আর ব্যর্থতা আসে যা আমদের চলার পথকে থমকে দেয়, ঠিক এই কালো বিন্দুর মত।” আমরা যদি আমাদের দৃষ্টিকে আরও বিস্তৃত পটভূমিতে দেখি তাহলে কালো বিন্দুটাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র মনে হবে যাকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে পারব, নতুবা সঙ্কীর্ণ মনে শুধু কালো বিন্দুটাই নজরে আসবে। ব্যর্থতার মাঝে নিজেকে কেবল হতাশই মনে হবে। --- > থাইল্যান্ডের লোককথা বলতে আমরা আজ যা বুঝি, তা অনেক রকমের গল্প, পুরনো বিশ্বাস আর মুখে মুখে চলে আসা কথার ভাণ্ডার। বৌদ্ধ ধর্ম আসারও আগে - Published: 2025-04-16 - Modified: 2025-04-16 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-4-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9c/ থাইল্যান্ডের লোককথা বলতে আমরা আজ যা বুঝি, তা অনেক রকমের গল্প, পুরনো বিশ্বাস আর মুখে মুখে চলে আসা কথার ভাণ্ডার। বৌদ্ধ ধর্ম আসারও আগে চিত্র সৌজন্য থাইল্যান্ডের লোককথা বলতে আমরা আজ যা বুঝি, তা অনেক রকমের গল্প, পুরনো বিশ্বাস আর মুখে মুখে চলে আসা কথার ভাণ্ডার। বৌদ্ধ ধর্ম আসারও আগে থাইল্যান্ডে লোককথা ছিল। থাইরা বিশ্বাস করে যে 'থান' নামে এক আত্মা প্রথম সবকিছু তৈরি করেছিল। একে আকাশের আত্মা বলা হয়। তার আগে পৃথিবী ফাঁকা ছিল, কোনো মানুষ, গাছপালা বা পশু-পাখি কিছুই ছিল না। এমনকি সূর্য আর চাঁদও ছিল না। এই লোকবিশ্বাসগুলো এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের লোককথায় এক পবিত্র দেবতা হল – গরুড়। তিনি এই মহাবিশ্বের পালনকর্তা। আজও থাইল্যান্ডে গরুড়ের ছবি তাদের জাতীয় প্রতীক। থাইল্যান্ডের লোককথা : জনপ্রিয় 4 টির অনুবাদ মাত্র থাইল্যান্ডের লোককথার একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন আত্মা আর ভূতের অস্তিত্ব। থাই লোককথার গুরুত্বের পেছনে এদের একটা বড় ভূমিকা আছে। হয়তো সারা বিশ্বে এটা খুব বেশি পরিচিত নয় বা তেমন আলোচনা হয় না, কিন্তু এর মিথের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আজও রক্ষা করা হয়। আজ আমরা এখানে থাইল্যান্ডের 4 টি জনপ্রিয় লোককহিনীর বাংলা অনুবাদ নিচে প্রস্তুত করলাম, আশাকরি আপনাদের ভাল লাগবে। 1. লিলিত ফ্রা লো - চিত্র সৌজন্য ('লিলিত ফ্রা লো' একটি মর্মান্তিক ত্রিভুজ প্রেমের গল্প) অনেকদিন আগের কথা। থাইল্যান্ডের দুইটি রাজ্য ছিল — সোং এবং সুয়াং। এই দুই রাজ্যের মধ্যে ছিল শত্রুতা। একদিন সুয়াং রাজ্য সোং-এর উপর আক্রমণ করে। যুদ্ধে সোং-এর রাজা মারা যান, তবে শহরটি রক্ষা পায়। এরপর নতুন রাজা সিংহাসনে বসেন। তাঁর ছিল দুই কন্যা — ফুয়েন এবং ফ্যাং। এদিকে সুয়াং-এর রাজা মারা যাওয়ার পর, তাঁর ছেলে ফ্রা লো রাজা হন। ফ্রা লো ছিলেন অতুলনীয় সুন্দর, তাঁর সৌন্দর্যের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। রাজকুমারীরা ফুয়েন ও ফ্যাং যখন ফ্রা লোর সৌন্দর্যের কথা শুনলেন, তখনই তাঁরা তাঁর প্রেমে পড়ে যান — যদিও তাঁকে একবারও দেখেননি। তাঁরা ঠিক করলেন, তাঁকে আকর্ষণ করার জন্য কিছু করা দরকার। তাঁদের দুই সেবিকা — রুয়েন এবং রয়, কিছু ব্যবসায়ীদের সাহায্যে গান ছড়িয়ে দিলেন রাজ্য জুড়ে, যাতে ফ্রা লো সেই গান শুনে রাজকুমারীদের প্রেমে পড়ে যান। তাঁরা এক পুরনো বাঘ আত্মার সাহায্যও চাইলেন, যে এক বিশেষ প্রেমের মন্ত্র ছুঁড়ে দিল ফ্রা লোর উপর। যদিও ফ্রা লোর মা সেই মন্ত্র ভাঙার চেষ্টা করেন, তবুও ফ্রা লো রাজকুমারীদের প্রেমে পড়ে যান এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা হন। পথে যেতে যেতে তাঁর মনে পড়তে থাকে — পেছনে রেখে আসা তাঁর রাজরানী, উপপত্নী ও মা; আর সামনে অপেক্ষা করা দুই রাজকুমারী। তিনি বিভ্রান্ত হন, কিন্তু প্রেমের টানে এগিয়ে চলেন। শেষে এক রাজকীয় উদ্যানে, এক প্যাভিলিয়নের মধ্যে, ফ্রা লোর সঙ্গে ফুয়েন ও ফ্যাং-এর দেখা হয়। তাঁরা একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু, সোং-এর প্রাক্তন রানি, যিনি নিজের স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন, গোপনে একদল গুপ্তঘাতক পাঠালেন। এক রাতের আক্রমণে, বিষাক্ত তীরের আঘাতে ফ্রা লো ও দুই রাজকুমারী নিহত হন। তাঁদের তিনজনকেই একসঙ্গে দাহ করা হয়। দুই রাজ্যে তাঁদের স্মরণে স্তূপ তৈরি করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুই রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা শেষ হয় এবং মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার লোককাহিনী- 5 টি জনপ্রিয় মালয় লোককথা পড়ুন 2. নাং সিপ সঙ – বারো বোনের গল্প Picture credit ('বারো বোনের গল্প' একটি থাই লোককথা থেকে নেওয়া) অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী খুব করে চাইছিলেন যেন তাঁদের সন্তান হয়। একদিন দেবতার উদ্দেশ্যে মন্দিরে বারোটি কাঁচকলার থোড় সহ প্রার্থনা করলেন। দেবতা তাঁদের কথা শুনলেন।কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রী গর্ভবতী হলেন। ব্যবসায়ী একটি পুত্রসন্তান আশা করেছিলেন, কিন্তু হল একটি কন্যাসন্তান।এরপর একে একে তাঁর স্ত্রীর গর্ভে আরও সন্তান এল। এইভাবে তাঁদের মোট বারোটি কন্যা সন্তান হল! এদিকে ব্যবসায়ীর ভাগ্যও বিশেষ ভালো যাচ্ছিল না।তার জাহাজে করে যে মাল বিদেশে পাঠানো হতো, সেগুলো সব ডাকাতেরা লুটে নিচ্ছিল।সে বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার নিয়েও কোনো লাভ করতে পারছিল না। এতগুলো মুখে খাবার জোগানো কঠিন হয়ে উঠল।তখন এক দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায়ী — সে চুপিচুপি তার বারোটি মেয়েকে জঙ্গলে রেখে আসার পরিকল্পনা করল, স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে। প্রথমবার যখন সে তাদের জঙ্গলে নিয়ে গেল,তখন সবচেয়ে ছোট মেয়ে রাস্তায় চিহ্ন রেখে এসেছিল, ফলে তারা ফেরত আসতে পেরেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বার, আর রক্ষা পেল না। জঙ্গলের অনেক ভেতরে ঢুকে তারা হাঁটতে লাগল।তাদের হাতে ছিল বারোটি প্যাকেট — মনে করেছিলো হয়তো খাবার আছে, কিন্তু খুলে দেখল একটিতে চাল, আর বাকি এগারোটিতে শুধু বালি! এভাবে হাঁটতে হাঁটতে তারা পৌঁছে গেল এক অদ্ভুত রাজ্যে — দানবরাজ্য ‘যক্ষপুরী’তে।সেখানে বাস করত এক দানবী, নাম সানত্রা। সানত্রা এক জাদু দিয়ে নিজেকে সুন্দরী রাণী রূপে রূপান্তর করল এবং বারো বোনকে নিজের দত্তক কন্যা হিসেবে গ্রহণ করল। অনেক বছর তারা সেই রাণীর কাছেই ছিল। সানত্রার দেখাশোনায় তারা বড় হল, সুন্দরী যুবতীতে পরিণত হল। কিন্তু একদিন, সানত্রা যখন শিকারে গিয়েছিল, তারা এক বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে জানতে পারল যে সানত্রা আসলে একজন রাক্ষসী এবং সে যুবতীদের খেয়ে ফেলে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তারা পালিয়ে গেল সেই যক্ষপুরী থেকে।পথে হাঁটতে হাঁটতে তারা এক ঝকঝকে নদীর ধারে পৌঁছাল,সেখানে তারা একটু স্নান করতে নামল। ঠিক তখনই, এক রাজা স্নানরত বারোটি বোনকে দেখতে পেলেন ।তাদের দেখে এতই মুগ্ধ হয়ে গেলেন, যে তিনি সবাইকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে এলেন এবং তাদের বারো জনকেই বিয়ে করলেন। অন্যদিকে, যক্ষপুরীতে ফিরেই সানত্রা জানতে পারল তারা পালিয়ে গেছে। সে প্রচণ্ড রেগে গেল এবং প্রতিশোধ নেবার পরিকল্পনা করল। সে আবার রূপ পাল্টে অদ্ভুত রূপবতী নারী রূপে সেই রাজাকে দেখা করতে গেল।রাজা তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকেও বিয়ে করলেন এবং তাঁকে করলেন প্রথম রাণী। এবার শুরু হল সানত্রার প্রতিশোধ। সে রাজাকে বলল,– “আমার এই অসুখের কারণ হচ্ছে তোমার অন্য বারো স্ত্রী। তাদের চোখের জল থেকে তৈরি ওষুধ না পেলে আমি মরেই যাব।” রাজা বিশ্বাস করলেন।তার আদেশে ১১ বোনের দুই চোখ উপড়ে ফেলা হলো, আর ছোটো বোনের একটি চোখ। তারপর সবাইকে ফেলে দেওয়া হলো এক অন্ধকার গুহায়। খাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ততদিনে বারো বোন সবাই সন্তান-সম্ভবা ছিল। দুঃখের কথা, সন্তান জন্মানোর পর অনাহারে-অর্ধাহারে তারা নিজের সন্তানদের খেয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু সর্বকনিষ্ঠ বোনটি তার ছেলেকে লুকিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল।সে অন্য বোনদের বলেছিল – “আমার সন্তান জন্মেই মারা গেছে।” সে চুপিচুপি নিজের ছেলেকে লালন-পালন করল। ছেলের নাম রাখল রোথাসেন। রোথাসেন বড় হয়ে গুহার এক গোপন পথ খুঁজে পেল। সে এক জাদুকাঠি পেয়ে গেল, যেটা দিয়ে দানবী সানত্রাকে পরাজিত করা যেত। সে সাহস করে বেরিয়ে পড়ল, সানত্রার সঙ্গে যুদ্ধ করল — এবং শেষ পর্যন্ত সানত্রাকে হারিয়ে দিল। এইভাবেই সে নিজের মা আর মাসিদের সেই অন্ধকার গুহা থেকে উদ্ধার করল। নীতিশিক্ষা: সত্য আর সাহস যত কঠিন সময়ই আসুক না কেন, শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। আর প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আরও পড়ুন: কাম্বোডিয়ার লোককথা - জানুন সমৃদ্ধ সংস্কৃতির আশ্চর্য এই দেশ 3. সোনালি বোয়াল মাছ ('সোনালি বোয়াল মাছ' একটি দুঃখের কিন্তু ন্যায়ের জয়গাথা) এক দেশে এক ধনী বণিক ছিল। তাঁর ছিল দুই স্ত্রী। দুই স্ত্রীর স্বভাব ছিল একদম বিপরীত। দুই স্ত্রীই এক সময় একটি করে কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন। আশ্চর্যের ব্যাপার, দুই মেয়ের চেহারায় ছিল আশ্চর্য মিল। তবে, চিনতে ভুল হতো না। এক মেয়ের নাম ছিল আউয়াই — সে ছিল মায়ের মতো দয়ালু, নম্র আর সবার পাশে দাঁড়ানো এক কোমল হৃদয়ের মেয়ে। আরেক মেয়ের নাম আই — সে ছিল ঈর্ষাকাতর, রাগী আর কু-চরিত্রের। আই আর তার মা আউয়াইকে সহ্য করতে পারত না। তারা একজোট হয়ে আউয়াই ও তার মাকে কষ্ট দেওয়ার নানান ফন্দি আঁটতে লাগল। একসময় তারা এক খুনি ভাড়া করে আউয়াইয়ের মাকে হত্যা করায়। তারা ভাবল কাজ শেষ, কিন্তু গল্প তখনই নতুন মোড় নিল। আউয়াইয়ের মা তার সৎ জীবনের কারণে সোনালি বোয়াল মাছ রূপে পুনর্জন্ম নিলেন। তিনি নদীতে থাকতেন, কিন্তু নিয়ম করে দেখা করতে আসতেন আউয়াইয়ের সঙ্গে, মায়ের মমতায় ভরে দিতেন মেয়ের মন। কিন্তু দুষ্টরা কি সহজে হারে? আই আর তার মা যখন বুঝল সোনালি বোয়াল মাছ আসলে আউয়াইয়ের মা, তখন তারা মাছটিকে ধরে রান্না করে সবাইকে খাওয়াল। দুঃখের ব্যাপার, আউয়াইকেও বাধ্য করা হলো সেই খাবার খেতে — সে বুঝতেও পারেনি, সে নিজের মাকে খাচ্ছে! এরপর একদিন এক রাজপুত্র এল। সে আউয়াইয়ের সৌন্দর্য আর ভালো মন দেখে প্রেমে পড়ে গেল। আউয়াইয়ের জীবনে আবার সুখের আলো ফুটতে শুরু করল। কিন্তু ঈর্ষাকাতর আই সেটা কিছুতেই সহ্য করতে পারল না। সে একটা ফাঁদ পাতল — বলল, তাদের বাবা খুব অসুস্থ। আউয়াই যখন বাবাকে দেখতে গেল, তখন তাকে ফাঁদে ফেলে গরম তেলে ফেলে দিল! আই এরপর আউয়াইয়ের পরিচয় নিয়ে রাজপুত্রের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করল। তবে সত্য বেশি দিন চাপা থাকে না। আইয়ের মিথ্যে এক সময় প্রকাশ পেল। তার অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে কঠোর সাজা দেওয়া হলো। অন্যদিকে, আউয়াইকে এক জাদুকর জীবিত করে তোলে। রাজপুত্র তাকে ফিরে পায় এবং তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। নীতিশিক্ষা: সত্য আর ভালোবাসা কখনও মরে না। অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক, একদিন তা ধ্বংস হবেই। 4. সানো নোই রুয়েন ঙ্গাম ('সানো নোই রুয়েন' যে রাজকুমারী একটি ঘর নিয়ে জন্মেছিল) অনেক অনেক দিন আগে, রোম বিশাই নামে এক ছোট্ট সুন্দর রাজ্যে বাস করতেন এক সদয় রাজা ও রানি।তাঁদের একটি সুন্দর মেয়ে জন্মায়, যার নাম রাখা হয় সানো নোই। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সানো নোই জন্মের সময়ই হাতে ধরে রেখেছিল একটি ছোট, থাই-ধাঁচের কাঠের ঘর! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছো — জন্মের সময়ই ঘর হাতে ছিল তার।তবুও, রাজা-রানি তাতে কিছু মনে করলেন না। তাঁরা ভালোবাসায় ভরিয়ে বড় করতে লাগলেন সানো নোই-কে। সানো নোই সেই ছোট কাঠের ঘরটা খুব ভালোবাসত।সে ঘরের দেয়াল আর দরজায় আঙুল বুলিয়ে স্বপ্ন দেখত — একদিন সে ঠিক এই ঘরের ভেতরেই বাস করবে। একদিন সে এমন গভীরভাবে স্বপ্নে ডুবে গিয়েছিল যে,চোখ খুলে দেখল ঘরটা বড় হয়ে গেছে! এই প্রথমবার - সে ঘরের ভিতরের অংশ দেখতে পেল — কিন্তু চোখ আবার বন্ধ করে খুলতেই — ঘরটা আবার আগের মতো ছোট হয়ে গেল । এর কিছুদিন পর, রাজ দরবারের জ্যোতিষী এক অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী করল।সে বলল — সানো নোই-এর ভাগ্যে বিপদ আসছে। তাকে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হবে একাকী এক যাত্রায়, না হলে সে বিপদে পড়বে। রাজা-রানির মন ভেঙে গেল, তবুও মেয়ের মঙ্গলের জন্য তাঁরা সানো নোই-কে বিদায় দিলেন। তাঁরা বললেন,– “তুমি কারও কাছে নিজের পরিচয় দেবে না।”– “তোমার কাঠের ঘরটাও সঙ্গে নিতে পারবে না।” সানো নোই চোখে জল নিয়ে প্রাসাদ ছাড়ল। পথে যেতে যেতে সে এক মেয়ের প্রাণ বাঁচাল।মেয়েটির নাম ছিল কুলা।কুলা কৃতজ্ঞ হয়ে বলল – “তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছো, আমি তোমার সেবিকা হতে চাই। আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।” সানো নোই রাজি হয়ে গেল। তারা একসঙ্গে পথ চলতে লাগল। একদিন তারা পৌঁছাল এক নতুন দেশে — নোপে পারাত।সেখানে শুনল, রাজপুত্র ভিচিত চিন্ডা সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সানো নোই সিদ্ধান্ত নিল তাকে বাঁচাবে।সে রাজকীয় পোশাক পরে গেল প্রাসাদে। জানাল যে, সে একজন রাজ-চিকিৎসক।আরও বলল:– “রাজপুত্রকে বাঁচাতে হবে, কিন্তু আমাকে পর্দা টানিয়ে দিতে হবে যেন কেউ না দেখে।”– “আর একটি স্নানের টব চাই আমার জন্য।” সেই মত ব্যবস্থা হলো। সানো নোই এক গোপন ওষুধ বের করে রাজপুত্রের ক্ষত স্থানে ঢালল।বিষ যেন আগুনে জ্বলে উঠল — বাষ্প হয়ে উঠল চারপাশে।সেই বাষ্পে সানো নোই ঘেমে উঠল, কাশতে লাগল।সে নিজের পোশাক খুলে দ্রুত স্নান করতে গেল বিষ ধুয়ে ফেলতে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই, কুলা সব কিছু দেখে ফেলেছিল। সে চুপিচুপি সানো নোই-এর কাপড় চুরি করল,আর রাজপুত্রের সামনে নিজেকে উদ্ধারকারী রাজকন্যা বলে পরিচয় দিল। রাজপুত্র যখন জ্ঞান ফিরে পেল, সামনে কুলাকে দেখে বিশ্বাস করল — ও-ই তাকে বাঁচিয়েছে। সানো নোই যখন ফিরে এল, দেখল তার পোশাক পরে কুলা দাঁড়িয়ে।সে সত্যি বলার চেষ্টা করল, কিন্তু কুলা বলল – “ও আমার সেবিকা। ওর কথা বিশ্বাস করো না।” সেই থেকে শুরু হল সানো নোই-এর কুলার সেবিকা হয়ে থাকা। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজপুত্র বুঝে গেল কিছু একটা ঠিক নয়।কুলার আচরণ ছিল একেবারেই রাজকন্যার মতো নয়। আর সানো নোই, সে ছিল বিনয়ী, শান্ত, আর মিষ্টি। এক অভিযানে বেরিয়ে রাজপুত্র সত্য জানতে পারল — সানো নোই-ই প্রকৃত রাজকন্যা! সে ফিরিয়ে আনল সানো নোই-এর কাঠের ঘরও। রাজপুত্র কুলাকে রাজ্য থেকে বের করে দিতে চাইল।কিন্তু সানো নোই বলল – “না, কুলাকেও নিজের ভুল বুঝে নতুন পথে চলার সুযোগ দেওয়া উচিত।” এভাবেই শেষ হল সানো নোই-এর যাত্রা। নীতিশিক্ষা: সত্য ও সাহস একদিন প্রকাশ পায়ই। আর ক্ষমা — সেটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। --- > লাওসের লোককথা শুধু নয় যেকোন দেশের লোককাহিনী হল সুপরিচিত গল্প যা প্রায়শই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাচ্চাদের কাছে বলা হয়ে আসছে। - Published: 2025-04-13 - Modified: 2025-04-13 - URL: https://www.sabjanta.info/top-5-popular-folklore-from-laos/ লাওসের লোককথা শুধু নয় যেকোন দেশের লোককাহিনী হল সুপরিচিত গল্প যা প্রায়শই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাচ্চাদের কাছে বলা হয়ে আসছে। এগুলি এমন গল্প যা মানুষ একে অপরকে লিখিতভাবে নয় বরং মৌখিকভাবে বলে। শিশুদের জন্য লোককাহিনী জীবনের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে বলে। লোককাহিনীর গল্পগুলিতে দুঃখ, আনন্দ, নায়ক, জাদু এবং খলনায়ক থাকতে পারে। বিভিন্ন লোককাহিনী এবং গল্প শিশুদের বিভিন্ন শিক্ষা দেয়। প্রতিটি অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহ্য এবং লোককাহিনী রয়েছে। লাওসের সেরা ৫ টি লোককাহিনী আপনি কি কখনও লাওসের লোককাহিনী শোনার চেষ্টা করেছেন? যদি না করেন, তাহলে আমরা এখানে আপনাকে 5টি লাওসের লোককাহিনী একটি সারসংক্ষেপ দেব যা নীতিশাস্ত্রের সাথে আকর্ষণীয় বিভিন্ন শিক্ষাও দেয়। ১. জাদুর সাদা রাজহাঁস - লাওসের লোককথা একদিন এক গরিব কৃষক মাছ ধরতে গেল। তার হাতে ছিল লম্বা জাল, মাথায় জড়ানো ছিল একটা কাপড়। সে জাল ফেলে মাছ ধরার চেষ্টা করল। একবার ফেলল — কিছুই না। আবার ফেলল — তাও কিছুই না। তিনবার, চারবার — তবুও কিছুই উঠল না! শেষবার সে জাল ফেলল আর বলল, “এইবার যদি কিছু না পাই, তবে আর আসব না! ”সে জাল টানল... টানল... টানতেই থাকল... জাল অনেক ভারী মনে হচ্ছিল।অবশেষে জাল তুলে দেখে, একখানা চকচকে সাদা পাথর! পাথরটা ছিল খুব সুন্দর। কৃষক সেটি বাড়ি নিয়ে গিয়ে মাথার ওপরে আলমারিতে রেখে দিল। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন সকালে উঠে দেখে, পাথরটা আর পাথর নেই — সেটা হয়ে গেছে এক সাদা রাজহাঁস! রাজহাঁসটি বলল,“চলো, আমি তোমাকে এক ফুলের বাগানে নিয়ে যাব। তুমি যা খুশি, নিতে পারো! ” কৃষক রাজহাঁসের পিঠে উঠে বসল, রাজহাঁস উড়ে গেল। বাগানে গিয়ে কৃষক কয়েকটি ফুল তুলল। প্রথমটা তুলতেই মনে হলো ভারী। দ্বিতীয়টা তুলল — আরও ভারী। তৃতীয়টা তুলতেই ভাবল,“না, আর তুলব না। রাজহাঁস আমাকে নিয়ে উড়তে পারবে না।” সে রাজহাঁসের পিঠে চড়ে বাড়ি ফিরে এল। রাজহাঁস উড়ে চলে গেল। আর কৃষক যখন ফুলগুলো ঘরে রাখল, দেখল — ফুলগুলো সোনা হয়ে গেছে! কৃষক হয়ে গেল ধনী! এই খবর তার এক বন্ধু শুনে গেল। সে বলল, “আমিও তো পারি ধনী হতে! ”পরদিন সে গিয়েই জাল ফেলল নদীতে। অনেকবার ফেলার পর পেয়ে গেল একটা সাদা পাথর। সে খুশিতে লাফিয়ে উঠল! পাথরটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রেখে দিল। পরদিন সকালেই সেই পাথর হয়ে গেল রাজহাঁস। রাজহাঁস বলল,“চলো, তোমাকেও ফুলের বাগানে নিয়ে যাই।” সে রাজহাঁসের পিঠে উঠে বসল। বাগানে গিয়ে প্রথমে তিনটি ফুল তুলল, তারপর বলল,“আরও নেব! যত পারি নেব! ”সে দুই হাতে ফুল ভরল, যত পারল তুলল। তারপর বলল,“এগুলো রেখে আবার আসব।” রাজহাঁস কষ্ট করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিল। লোকটা বলল, “তুই এখানেই থাক, আমি আবার আসব।”সে ঘরে ফুল রেখে বাইরে এল — রাজহাঁস তখন আর নেই! ফিরে গিয়ে দেখে — সব ফুলই সাধারণ, একটাও সোনা হয়নি। লোভ করলে লাভ নয়, বরং ক্ষতি হয়। পরিমিতি ও কৃতজ্ঞতাই সত্যিকারের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। 'জাদুর সাদা রাজহাঁস' গল্পের নৈতিক শিক্ষা: লোভ করলে লাভ নয়, বরং ক্ষতি হয়। পরিমিতি ও কৃতজ্ঞতাই সত্যিকারের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। আরও জানুন: পারস্যের লোককাহিনী - চাষীর ছেলে ও জাদুকর ২. প্রজাদের স্বপ্নপূরণ : লাওসের একটি লোককাহিনী এক সময় ফারানাসি নামে এক রাজ্য ছিল। সেই রাজ্যের রাজা ফ্রোম্মথাত ছিলেন খুবই মহান ও দয়ালু। তার রাজত্বে সবাই সুখে-শান্তিতে বাস করত। রাজা তার প্রজাদের সব কিছু দিতেন—ভালো খাবার, ভালো পোশাক, ঘরবাড়ি, নিরাপত্তা। একদিন রাজা ভাবতে লাগলেন,“আমি কি আমার প্রজাদের সব কিছু দিয়েছি? ”তিনি নিজেই উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, সবই দিয়েছি... তবে... তাদের স্বপ্ন তো পূরণ করিনি! ” তখন রাজা ঘোষণা করলেন “আজ থেকে, যার যে স্বপ্ন আছে—আমাকে বলো। আমি সেই স্বপ্ন সত্যি করে দেব।” পরদি1ন থেকেই রাজ্যের মানুষ রাজপ্রাসাদে এসে নিজেদের রাতে দেখা স্বপ্ন বলত, আর রাজা সেই স্বপ্ন পূরণ করতেন। একদিন এক বৃদ্ধ এল। সে বলল, “মহারাজ, গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি রাজ্যের সবচেয়ে ধনী লোকের মেয়েকে বিয়ে করেছি।” রাজা বললেন, “ঠিক আছে। আগামীকাল আমি ধনী লোকটিকে ডাকব এবং তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করব।” বৃদ্ধ আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল! ভাবল, “ওই সুন্দর তরুণী মেয়েটা এখন আমার স্ত্রী হবে! ” বাড়ি ফেরার সময় সে ওই ধনী লোকের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। সে থেমে গিয়ে বলল,“গত রাতে স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করেছি, এবং রাজা বলেছেন তিনি সেই বিয়ের আয়োজন করবেন।” ধনী লোক হতবাক হয়ে গেল, কিন্তু মেয়েকে ডেকে বিষয়টি জানাল। মেয়েটি খুব বুদ্ধিমতী ছিল। সে হাসিমুখে বলল, “প্রিয় দাদু, যদি রাজা আদেশ দেন, তাহলে তো মানতেই হবে। তবে আপনি এখন বাড়ি ফিরে যান। আমি রাজআদেশ পেলেই আপনার স্ত্রী হব।” বৃদ্ধ খুশিতে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে গেল। মেয়ের বাবা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করল “তুমি কি সত্যিই রাজাকে মান্য করে তাকে বিয়ে করবে? ” মেয়েটি বলল “না বাবা, সে তো আমার দাদুর বয়সী! আমি তাকে বিয়ে করতে পারি না। তবে আমাদের একটা উপায় বের করতে হবে।” সারা রাত ধরে তারা চিন্তা করল। শেষমেশ মেয়েটি এক অসাধারণ বুদ্ধি বের করল। তারা বাগানের মালীকে ডেকে পরিকল্পনা করল। পরদিন সকালে মালী সবার আগে রাজপ্রাসাদে গেল। সে বলল “মহারাজ, শুনেছি আপনি এখন সবার স্বপ্ন পূরণ করছেন। তাই আমি খুব খুশি।” রাজা বললেন, “তোমার স্বপ্ন কী ছিল? ” মালী বলল “আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি রাণীমাকে বিয়ে করেছি! ” রাজা রেগে উঠলেন “কি বলছ! তুমি একজন মালী, আর স্বপ্ন দেখেছো রাণীকে বিয়ে করেছো? এটা অসম্ভব! তোমার শাস্তি হবে! ” তখন মালী শান্তভাবে বলল “মহারাজ, আপনি তো বলেছিলেন আপনি সবার স্বপ্ন পূরণ করবেন। আমি শুধু আপনার আদেশই মানছি। একজন বৃদ্ধও তো স্বপ্নে ধনী লোকের মেয়েকে বিয়ে করেছিল, আর আপনি তাও পূরণ করতে চেয়েছিলেন! ” রাজা কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেন “ঠিক আছে। আজ থেকে স্বপ্ন পূরণের আদেশ বন্ধ। তুমি রাণীকে বিয়ে করবে না। আর বৃদ্ধও ধনী লোকের মেয়েকে বিয়ে করবে না।” রাজ্যে আবার শান্তি ফিরে এল। 'প্রজাদের স্বপ্নপূরণ' গল্পের নৈতিক শিক্ষা: সব স্বপ্ন পূরণ করা যায় না। বুদ্ধি ও বিবেচনা দিয়ে ঠিক-ভুল বোঝা খুবই দরকার। আরও পড়ুন: 2টি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প যা আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে ৩. স্বপ্নবিলাসী লোকটি : লাওস দেশের লোককথা চিত্র সৌজন্য অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে এক লোক একা থাকত। তার বিয়ে হয়নি, পরিবারও ছিল না। সে সারাদিন কেবল স্বপ্নে হারিয়ে থাকত। ওই স্বপ্নবিলাসী মানুষটির সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল—একটা সুন্দর মাটির হাঁড়ি। সে হাঁড়িটা খুব যত্ন করে বিছানার পাশে এক বাক্সে রেখে দিত। প্রতিদিন সকাল ও রাতে সে হাঁড়ি বের করে আদর করে বলত, “তুমি আমার সবকিছু! তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই না! ”এই বলে সে হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে স্বপ্নের জগতে চলে যেত। একদিন সকালে সেই স্বপ্নবিলাসী হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবল “এটা যদি বিক্রি করি, তাহলে তো অনেক টাকা পাব! ”এই ভাবতেই সে আনন্দে চিৎকার করে উঠল— “আমি কোটিপতি হব! ” তারপর সে ভাবল “টাকার একভাগে নিজের খরচ চালাব। আরেকভাগে কিনব একটা গরু। গরুর যত্ন নেব। ও বাচ্চা দেবে। দশ বছরে অনেক গরু হবে! ” এরপর সে ভাবল “এত গরু একা সামলানো যাবে না। আমাকে বিয়ে করতে হবে। আমার স্ত্রী হবে সুন্দর ও ভালো। আমাদের একটি ছেলে হবে—মেধাবী, আজ্ঞাবহ।” সে ভাবতে লাগল— “ছেলে বড় হচ্ছে। এবার সে স্কুলে যাবে। আমি ওর জন্য সুন্দর ব্যাগ, খাতা-কলম সব কিনেছি।” “প্রতিদিন আমি ওকে স্কুলে নিয়ে যাই। একদিন সময় না থাকায় আমি ওকে একা পাঠাই।ও বাড়ি ফেরার সময় দেখি একটা কুকুর ওর পেছনে দৌড়াচ্ছে! কুকুরটা ওকে কামড় দিল! আমি রেগে গিয়ে চিৎকার করে বললাম ‘এই কুকুর! আমার ছেলেকে কামড়ালে? ’এই বলে আমি লাঠি তুলে ওকে মারলাম... এভাবে... ! ” বলতে বলতে লোকটা বাস্তবে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করল— "খটাস" তার প্রিয় হাঁড়ি ভেঙে একেবারে গুঁড়ো হয়ে গেল! সে চমকে উঠল। তাকিয়ে দেখল— না গরু আছে, না স্ত্রী, না ছেলে, না কুকুর... শুধু ভাঙা হাঁড়ি পড়ে আছে সামনে। স্বপ্নবিলাসী মানুষটি কাঁদতে কাঁদতে বলল— “সব শেষ! আমি সব হারিয়ে ফেললাম! ” 'স্বপ্নবিলাসী' গল্পের নৈতিক শিক্ষা: শুধু স্বপ্ন দেখলে চলবে না—বাস্তব কাজ না করলে সব হারিয়ে যেতে পারে। অলস কল্পনায় সময় নষ্ট না করে নিজের জীবন নিজেই গড়তে হয়। ৪. ভিক্ষু আর রঙিন মুরগি ( Folklore of Laos ) অনেক দিন আগের কথা। তখন গ্রামের মানুষরা তাদের ছেলেদের পড়ালেখা শেখার জন্য মন্দিরে পাঠাতো। অনেক ছেলেই ছোট ভিক্ষু হতো এবং তারা মন্দিরের বড় ভিক্ষু বা অধ্যক্ষ ভিক্ষুর (অভিভাবক ভিক্ষু) সেবা করতো। সকাল সকাল তারা গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা সংগ্রহ করতে বড় ভিক্ষুর সঙ্গে যেত। কেউ কেউ মন্দিরের উঠোন ঝাঁট দিতো বা ভিক্ষুদের ঘর পরিষ্কার করতো। একদিন বড় ভিক্ষু ভিক্ষা নিতে যাবার সময় দেখলেন, ছোট ভিক্ষু এখনো প্রস্তুত নয়। তিনি বললেন, "যদি তুমি আমার সঙ্গে না যাও, তবে মন্দিরের উঠোন খুব ভালো করে ঝাঁট দেবে। আর একটা কথা মনে রেখো, আমার কুটিরের চারপাশে যেন কোনো মুরগি না আসে। যদি মুরগির পায়খানা দেখি, তাহলে তা নিজেই চেটে পরিষ্কার করতে হবে! " ছোট ভিক্ষু একটু বিরক্ত হলেও সম্মত হয়ে বলল, "আজ্ঞে ঠিক আছে।" বড় ভিক্ষু চলে যাওয়ার পর, ছোট ভিক্ষু খুব মনোযোগ দিয়ে পুরো উঠোন এবং কুটির পরিষ্কার করল। কিন্তু তখন তার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এল। সে খেজুর গুড় জ্বালিয়ে খুব ঘন করে ফেলে কুটিরের আশেপাশে কয়েকটা ফোঁটা ফেলে রাখল। শুকিয়ে গেলে সেই গুড়ের ফোঁটাগুলো দেখতে মুরগির পায়খানার মতো লাগছিল। বড় ভিক্ষু ফিরে এসে চারপাশে এইসব ফোঁটা দেখে রেগে আগুন। তিনি ডাক দিলেন, "এই ছোট ভিক্ষু! এখানে দেখ! কত মুরগির পায়খানা! বলেছিলাম না, থাকলে চেটে পরিষ্কার করবে? " ছোট ভিক্ষু দৌড়ে এল। খুব মন খারাপ করে বলল, "ওই রঙচঙে মুরগিটাই আবার এসব করেছে। ঠিক আছে গুরুজি, আমি এখনই পরিষ্কার করছি।"সে নিচু হয়ে একটা ফোঁটা চেটে দেখল এবং বলে উঠল,"আহা! কী মিষ্টি! "সে একে একে সবগুলো চেটে খেতে লাগল আর বলল, "বাহ! দারুণ! এত মিষ্টি! " বড় ভিক্ষু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। শেষ ফোঁটার দিকে ভিক্ষু বললেন, "থামো, ওইটা আমি খাব। দেখি সত্যিই মিষ্টি কিনা! " ছোট ভিক্ষু হাসিমুখে অনুমতি দিল। ভিক্ষু নিচু হয়ে সেটাও চেটে খেলেন। "আহা! দারুণ মিষ্টি! কাল আবার সেই রঙচঙে মুরগিটাকে এনে দিও। যেন আবার এমন মিষ্টি পায়খানা করে।" পরদিন ভিক্ষু যেমনটি বলেছিলেন, তেমনই করলেন। সকালে ভিক্ষা নিয়ে এসে বললেন, "আজ কিন্তু তুমি ছুঁবে না, খাবারের পর আমি নিজেই খেয়ে নেব।" খাবার শেষে তিনি চেটে চেখে দেখলেন প্রথম ফোঁটা। মুখ ভেঙে গেল তার— "উফ! কী বাজে গন্ধ! এটা তো আগের দিনের মতো নয়! ""ওহে গুরুজি," বলল ছোট ভিক্ষু, "সম্ভবত এটা রঙচঙে মুরগির নয়, অন্য কোনো মুরগির! " বড় ভিক্ষু একে একে সব ফোঁটা চেখে দেখলেন, তারপর বুঝলেন—তিনি একেবারে বোকা বনেছেন! নীতিকথা: অতিরিক্ত কড়াকড়ি আর অহংকারের ফল কখনো ভালো হয় না। অন্যকে ছোট করে দেখালে, নিজের সম্মানই হারাতে হয়।অথবা: বুদ্ধি খাটিয়ে কখনো কখনো ছোটরাও বড়দের ভুল বুঝিয়ে দিতে পারে। ৫. শিয়াংমিয়াং আর শামুকের দৌড় - লাওসের একটি লোককথা চিত্র সৌজন্য একদিন শিয়াংমিয়াং তার গ্রামের পাশে এক জলাভূমির ধারে হাঁটছিল। হঠাৎ সে দেখে, একটা শামুক ধীরে ধীরে জলাভূমির কোল ধরে হেঁটে যাচ্ছে। শিয়াংমিয়াং হাসতে হাসতে বলল, — “আহাহা! শামুক, তুমি তো কী ভয়ানক ধীরে হাঁটো! কোথায় যাচ্ছো ? ”শামুক বলল, — “আমি ঐ পাড়ে যাচ্ছি।”শিয়াংমিয়াং আবার হেসে বলল, — “তাহলে তো ঐ পাড়ে পৌঁছাতে তোমার এক মাস লেগে যাবে! ” এ বলে সে জোরে হেসে উঠল। শামুকের একটু রাগ হল, তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে বলল, — “তুমি যদি নিজেকে এত দ্রুতগামী ভাবো, তাহলে চলো এক দৌড় প্রতিযোগিতা হোক! ” শিয়াংমিয়াং এত মজা পেল যে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল। — “অবশ্যই! কখন করবো দৌড়? এখনই? ”শামুক গম্ভীরভাবে বলল, — “না না, এখন না। আমি চাই তুমি প্রস্তুতি নাও, শরীরটা গুছিয়ে নাও।” শিয়াংমিয়াং একটু অবাক হয়ে বলল,— “তাহলে কবে? ”— “আগামীকাল এই সময়, এখানেই।”— “ঠিক আছে! ” তারপর শামুক দৌড় নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল। সে গিয়ে তার অন্যান্য শামুক আত্মীয়দের সাহায্য চাইল। সবাই খুশি হয়ে রাজি হয়ে গেল—তাদের অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল শিয়াংমিয়াং একবার ঠকে যাক! পরদিন শামুক এসে দৌড়ের জায়গায় হাজির। শিয়াংমিয়াং এলে শামুক বলল, — “আমি তো খুব ছোট। তুমি বুঝতে পারবে না আমি দৌড়ে কোথায় আছি। তুমি মাঝেমাঝে আমার নাম ডাকো—‘শামুক! ’ আর আমি বলব—‘কুঁক! ’ কেমন? ” শিয়াংমিয়াং রাজি হয়ে বলল,— “ঠিক আছে, আগে একটু চর্চা করি।”— “শামুক! ”— “কুঁক! ” তারপর শুরু হলো দৌড়। শিয়াংমিয়াং ছুটে চলল ঝড়ের মতো। কিছুদূর গিয়ে পিছনে তাকাল—শামুককে দেখা যায় না। সে ডাক দিল,— “শামুক! ”— “কুঁক! ”উত্তর এল তার অনেক সামনে থেকে! শিয়াংমিয়াং অবাক! — “এটা কী করে সম্ভব? আমি তো দৌড়ে এসেছি, ও তো আমাকে পেরিয়ে গেছে? না, আমাকে আরও জোরে দৌড়াতে হবে! ” সে আবার ছুটতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আবার ডাক দিল,— “শামুক! ”— “কুঁক! ”আবারও উত্তর এল তার সামনে থেকে। এবার শিয়াংমিয়াং একটু চিন্তিত হল, কিন্তু বলল, — “চিন্তা নেই, আমি ওকে ধরে ফেলবই।” সে আরও দৌড়াল, হাঁপাতে লাগল, কিন্তু বারবার ডাক দিলে, উত্তর এল তার আগেই—— “কুঁক! ” শেষে তার শরীর আর সইল না। সে দুর্বল গলায় বলল,— “শামুক... ”— “কুঁক! ”ফিরে এল উত্তর, এখনও তার অনেক সামনে থেকে। অজ্ঞান হওয়ার আগে শিয়াংমিয়াং ভাবছিল, “এত ধীরে চলা শামুক কীভাবে আমাকে হারাতে পারে? ” কিন্তু আমরা তো জানি, শামুক চতুর বুদ্ধি করেছিল। সে তার আত্মীয়-শামুকদের পুরো পথজুড়ে বসিয়ে রেখেছিল, যাতে শিয়াংমিয়াং যখনই ডাকে, সামনে থেকে উত্তর আসে। সব শামুক দেখতে এক রকম, ডাকও এক—“কুঁক! ” 'শিয়াংমিয়াং আর শামুকের দৌড়' থেকে শিক্ষণীয় : এইভাবেই ধুরন্ধর শিয়াংমিয়াং এবার নিজের চালাকিতে হার মানল। --- > কাম্বোডিয়ার লোককথা বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো, কাম্বোডিয়ার লোকেরাও শতাব্দী ব্যাপী লোককথা সৃষ্টি করেছে। বয়স্করা শিশুদের এই গল্পগুলো শুনিয়েছেন। - Published: 2025-04-04 - Modified: 2025-07-25 - URL: https://www.sabjanta.info/folktales-of-cambodia-in-bengali-laguage/ কাম্বোডিয়ার লোককথা বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো, কাম্বোডিয়ার লোকেরাও শতাব্দী ব্যাপী লোককথা সৃষ্টি করেছে। বয়স্করা শিশুদের এই গল্পগুলো শুনিয়েছেন। Picture source: lonelyplanet. com কাম্বোডিয়ার লোককথা বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো, কাম্বোডিয়ার লোকেরাও শতাব্দী ব্যাপী লোককথা সৃষ্টি করেছে। বয়স্করা শিশুদের এই গল্পগুলো শুনিয়েছেন। কাম্বোডিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সুন্দর দেশ, যার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ইতিহাস যুগে যুগে মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। আজ থেকে এক হাজার বছর আগে, খমের জাতি এক গৌরবময় সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল। তারা অঙ্করের জঙ্গলমন্দির অঙ্করভাট-এর মতো স্থাপত্য কীর্তি রেখে গেছে, যা আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। আজকের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি পর্যটক খমের জাতির সৌন্দর্যকে স্থানীয় ঐতিহ্যের মাঝে অনুভব করেন। কাম্বোডিয়া বরাবরই একটি উষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অফুরন্ত। প্রতি বছর বিশাল মেকং নদী এবং মৌসুমি বর্ষার জল উর্বর মাটিকে জীবন দান করে। এই কারণেই কাম্বোডিয়ায় বিপুল পরিমাণে ধান, মাছ, ফল এবং সবজি উৎপন্ন হয়—যা কৃষক এবং প্রাণীদের জন্য আনন্দের উৎস। কাম্বোডিয়ার লোককথা : জনপ্রিয় 3 টি গল্প বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো, কাম্বোডিয়ার লোকেরাও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোককথা সৃষ্টি করেছে। বয়স্করা শিশুদের এই গল্পগুলো শুনিয়েছেন—কখনও শিক্ষা দেওয়ার জন্য, আবার কখনও শুধুই আনন্দ দেওয়ার জন্য। তবে এই প্রাচীন ভূমিতে, যেখানে আছে হাতি, বাঘ আর গোখরোর মতো বিষধর সাপ, সেখানে কিছু গল্পের নায়ক সত্যিই অবাক করার মতো — কখনও একটি ছোট খরগোশ এমনকি একটি কাক ! আজ আমরা কম্বোডিয়ার ৩ টি জনপ্রিয় লোককাহিনী জানব। আশাকরি তোমাদের ভাল লাগবে । কাক ও হরিণ - (The Crow and the Deer ) Picture source: Pinterest কাক ও হরিণ - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প: (কাম্বোডিয়ার লোককথা)একসময় একটি কাক ও একটি হরিণ একসাথে বন্ধুত্ব করে বনে বাস করত। পরে একদিন এক নেকড়ে হরিণের সঙ্গে দেখা করে বন্ধুত্ব করতে চায়, আর হরিণও রাজি হয়ে যায়। তারপর থেকে হরিণ ও নেকড়ে প্রায়ই দেখা করতে লাগল। কিন্তু কাক জানত নেকড়েটি খুবই ধূর্ত এবং অসৎ। তাই সে হরিণকে সাবধান করে দেয় যেন সে নেকড়ের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ না হয়। কাকটি বলে, "নেকড়ে বন্ধুত্বের ভান করে, কিন্তু তুমি যদি তার ফাঁদে পা দাও, তবে সে একদিন তোমাকে মেরে ফেলবে।" ধীরে ধীরে হরিণ নেকড়ের ধোঁকায় পড়ে যায় এবং কাকের কথা আর শোনে না। সে প্রতিদিন নেকড়ের কাছে যেতে শুরু করে। একদিন নেকড়ে বনে একটি ফাঁদ দেখে এবং ভাবে সে হরিণকে সেখানে নিয়ে যাবে। হরিণ যখন ফাঁদে ধরা পড়বে, তখন সে তাকে খাবে। হরিণকে মারার পরিকল্পনা করে সে হরিণের কাছে যায় এবং বলে, "বনের মধ্যে একজায়গায় ভালো খাবার পাওয়া যাচ্ছে।" বনে খাবার পাওয়া সহজ ছিল না, তাই হরিণ এই খবর শুনে খুব খুশি হয় এবং নেকড়ের সঙ্গে যেতে রাজি হয়। নেকড়ে তাকে ফাঁদের কাছে নিয়ে যায় এবং শেষে হরিণ ফাঁদে ধরা পড়ে। মৃত্যুভয়ে হরিণ সাহায্যের জন্য নেকড়েকে ডাকে, কিন্তু নেকড়ে তখন মানুষের ভয় দেখিয়ে ভান করে পালিয়ে যায়, যেন সে ভয় পেয়েছে। সে বনে লুকিয়ে থাকে, ভাবছে মানুষ হরিণকে মারবে, তারপর সে তাকে খাবে। একদিন সন্ধ্যাবেলা কাক হরিণকে না দেখে চিন্তিত হয় এবং পুরো বনজুড়ে খুঁজতে থাকে, যতদূর যেতে পারে। তখন সে ফাঁদে ধরা হরিণকে দেখে এবং বলে, “ওহে বন্ধু! তুমি ফাঁদে ধরা পড়লে কেন? ” হরিণ কাকে বলে, "এটা আমার ভুল ছিল, আমি নেকড়ের কথা বিশ্বাস করেছিলাম যে সে আমাকে খাবারের জন্য এখানে নিয়ে আসবে। কিন্তু এখন আমি ফাঁদে ধরা পড়েছি, আর সে আমাকে ফেলে পালিয়ে গেছে। দয়া করে আমাকে বাঁচাও।" তখন কাক হরিণকে এক বুদ্ধি দেয় এবং বলে, "যখন তুমি দেখবে শিকারি ফাঁদ দেখতে এসেছে, তখন মৃতের মতো পড়ে থাকবে। নড়বে না, এমনকি নিঃশ্বাসও নেবে না। শিকারি ভাববে তুমি মরে গেছ। সে যখন তোমাকে ফাঁদ থেকে খুলে ফেলবে, আমি ডাক দিয়ে ইঙ্গিত দেব, তখন তুমি উঠে দৌড়ে বনে পালিয়ে যাবে।" হরিণ এই পরিকল্পনায় রাজি হয়। শিকারি যখন ফাঁদ দেখতে আসে, সে হরিণকে দেখে মনে করে সে মরে গেছে। তখন সে হরিণকে ফাঁদ থেকে খুলে পাশের একপাশে রেখে দেয় এবং আশেপাশে দেখতে থাকে। কাক দেখে শিকারির মনোযোগ হরিণের দিকে নেই, তখন সে ডাক দেয়। সঙ্গে সঙ্গে হরিণ দৌড়ে বনের দিকে ছুটে যায়। শিকারি হরিণকে দৌড়াতে দেখে তরবারি হাতে নিয়ে তার পেছনে দৌড়ায় এবং তরবারি ছুড়ে মারে। কিন্তু তরবারিটি গিয়ে পড়ে সেই নেকড়ের ওপর, যে ফাঁদের কাছে গাছের আড়ালে হরিণের মাংস খাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। তরবারিটি নেকড়ের গলায় আঘাত করে, এবং সে মারা যায়। এরপর কাক হরিণকে বনের এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে শিকারি আর তাকে ক্ষতি করতে পারবে না। আরও পড়ুন: 2টি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প যা আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে কালো পাখি ও বানর ( The Blackbird and the Monkey ) Picture source: story. com কালো পাখি ও বানর: এটি কাম্বোডিয়ার লোককথা - নীতিশিক্ষামূলক গল্প একসময় একটি গাছে একটি কালো পাখি ও তার সঙ্গিনী বাসা বেঁধে থাকত। একদিন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সময় এক গৃহহীন বানর, যে ঠান্ডায় কাঁপছিল, গিয়ে ঐ গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। কালো পাখিরা যখন বানরকে এতটা কাঁপতে দেখে, তখন একটি পাখি পরামর্শ দিয়ে বলল “ওহে ভাই বানর, তোমার তো মানুষের মতোই দুটি হাত ও দুটি পা আছে। তাহলে তুমি নিজের থাকার জন্য একটা ঘর বা আশ্রয় কেন তৈরি করো না? ” বানর জবাব দেয় “আমার হাত-পা মানুষের মতো হলেও আমি গৃহহীন। সত্যি বলতে আমি তা করতে পারি না।” পাখিটি আবার বলে “বাসা বানাতে তো কোনো বিশেষ জ্ঞানের দরকার হয় না। দেখো, পাখিদের তো কেবল একটা ঠোঁটই আছে, কিন্তু তারাও ঠান্ডা আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের প্রয়োজনীয় বাসা বানাতে পারে। তুমি একবার ভেবে দেখো, আমি কি ভুল বলছি? ” “পৃথিবীর সব প্রাণীরই একটা বাসা থাকে, যেখানে তারা তাদের সঙ্গী আর বাচ্চাদের কষ্ট থেকে রক্ষা করে। যদি তুমি ভালো বাসা বানাতে না পারো, অন্তত কিছু ডালপালা জড়ো করে তার ওপর কিছু পাতা দিয়ে একটা অস্থায়ী বাসা বানাও। তুমি অন্যের গাছ বা ডালের ওপর নির্ভর করে থাকো কেন? এটা তোমার সঙ্গী ও সন্তানের জন্য খুব কষ্টকর।” “বানর, তোমার তো হাত-পা আছে, তুমি নিশ্চয়ই এটা পারো। অনুগ্রহ করে এটা করো, জ্ঞান আসার অপেক্ষায় থেকো না।” “সব প্রাণীই নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে কাজ করে। তারা মানুষের মতো কাজ করে না। এমনকি কীট, পঙ্গপাল, কিংবা উইপোকাও, যারা খুবই ছোট, তারাও নিজের থাকার জায়গা তৈরি করে। আর তুমি, তুমি কেন পারো না? ” “অন্য প্রাণীদের তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞান নেই, তবুও তারা নিজের ঘর বানাতে পারে। তুমি বলো তুমি পারো না কারণ তুমি করতে চাও না। তুমি এক অলস প্রাণী।” এই কথা শুনে বানর খুব রেগে যায়, কারণ সে কালো পাখিদের সামনে অপমানিত বোধ করে। তারপর সে সোজা ঝাঁপিয়ে পড়ে কালো পাখির বাসার ওপর এবং সেটাকে নিচে ফেলে দেয়। কালো পাখি ও বানর গল্পের শিক্ষা: যারা শুনতে চায় না, তাদের উপদেশ দেওয়া উচিত নয়। খরগোশ ও পাকা তাল ( The Rabbit and the Palm fruit ) Picture source: dreamstime. com খরগোশ ও পাকা তাল: কাম্বোডিয়ার লোককথা একসময় এক খরগোশ একটি ছোট পাহাড়ের পাশে একটি তালগাছের নিচে বাস করত। একদিন সে গভীর ঘুমে ছিল, তখন একটি পাকা তাল ফল মাটিতে পড়ে যায়। সেই সঙ্গে শুকনো তালপাতার ফাটার শব্দ হয়। এই শব্দ শুনে খরগোশ ভয়ে চমকে উঠে বলল "ভূমিকম্প হয়েছে! "তারপর সে পেছনে না তাকিয়ে ছুটতে শুরু করে। এই সময় গরুর দল তাকে এত জোরে ছুটতে দেখে জিজ্ঞাসা করল "খরগোশ ভাই ! তুমি এত জোরে ছুটছো কেন? কী হয়েছে? " খরগোশ তাড়াহুড়ো করে চিৎকার করে বলল "ভাই গরু! ভূমিকম্প হয়েছে! এখানে থেকো না! দৌড়াও! " খরগোশের কথা শুনে গরুরাও ভয়ে দৌড়াতে শুরু করে। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা শুকর ও হরিণদের সাথে দেখা করে। তারা-ও গরুর পেছনে দৌড়াতে শুরু করে। হাতির দল তাদের ছুটতে দেখে জিজ্ঞাসা করে "তোমরা কেন ছুটছো? কী হয়েছে? "গরুরা উত্তর দেয় "এখানে থেকো না! ভূমিকম্প আসছে! " এই কথা শুনে হাতিরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সবাই একসাথে সিংহের গুহার কাছে পৌঁছে যায়। বুদ্ধিমান সিংহ সবাইকে এত আতঙ্কিত দেখে হাতিদের জিজ্ঞাসা করল "তোমরা কেন দৌড়াচ্ছো? ব্যাপার কী? " হাতিরা বলল "আমরা আসলে ঠিক জানি না। আমরা শুধু গরুগুলিকে দৌড়াতে দেখেছি, আর শুনেছি ভূমিকম্প হচ্ছে। তাই আমরাও দৌড়েছি।" সিংহ এবার গরুদের জিজ্ঞেস করল "তোমরা কেন দৌড়াচ্ছো? কী হয়েছে? "গরুরা বলে "আমরাও ঠিক জানি না। আমরা খরগোশকে দৌড়াতে দেখেছিলাম, তাই আমরাও তার পেছনে ছুটে ছিলাম।" সিংহ এরপর হরিণ আর শুকরদের জিজ্ঞেস করে, তারাও একইরকম উত্তর দেয়। শেষ পর্যন্ত সিংহ খরগোশকে জিজ্ঞেস করল । খরগোশ উত্তর দিল "আমিও নিশ্চিত নই। আমি তালগাছের নিচে ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন হঠাৎ মাটির ফাটার মতো একটা শব্দ কানে আসে, আমি ভয়ে ছুটে পালাই।" বুদ্ধিমান সিংহ তখন সব পশুদের নিয়ে তালগাছের কাছে যায় এবং মাটিতে পড়ে থাকা ভাঙা পাকা তালটি দেখিয়ে দিল। এই দৃশ্য দেখে সব প্রাণী লজ্জা পায় এবং খরগোশকে ভালোভাবে ধমক দিয়ে তারা সবাই নিজের নিজের জায়গায় ফিরে গেল । খরগোশ ও পাকা তাল গল্পের শিক্ষা: না বুঝে আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়, সত্য যাচাই করা দরকার। --- > 'জামাকাপড় কাচা' এবং 'কূপের গাধা' দুটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, এর অন্তর্নিহিত অর্থ আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে। - Published: 2025-03-16 - Modified: 2025-03-17 - URL: https://www.sabjanta.info/2-motivational-stories-help-us-become-good-human/ 'জামাকাপড় কাচা' এবং 'কূপের গাধা' দুটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, এর অন্তর্নিহিত অর্থ আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে। 1. জামাকাপড় কাচা - সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প (Motivational story-1 ) চিত্র সৌজন্যে : DALL-E এক তরুণ দম্পতি একটি নতুন বাড়িতে এসে বসবাস করতে লাগল । পরের দিন সকালে যখন তারা ব্রেকফাস্ট খাচ্ছিল, তখন তরুণী মহিলাটি তার প্রতিবেশীকে বাইরে কাপড় শুকাতে দিতে দেখল। "ওই জামাকাপড়গুলো তো একেবারেই পরিষ্কার নয়; মহিলাটি ঠিকমতো ধুতে জানে না। সম্ভবত তার আরও ভালো ডিটারজেন্ট দরকার।" তার স্বামী চুপচাপ বসে দেখছিল, কোনো কথা বলল না। প্রতিবার যখনই প্রতিবেশী কাপড় শুকাতে দিত, তরুণী মহিলাটি একই মন্তব্য করত। এক মাস পর, তরুণী মহিলাটি পরিষ্কার জামাকাপড় দেখে অবাক হয়ে তার স্বামীকে বলল, "দেখো, অবশেষে সে ঠিকমতো ধুতে শিখেছে। কে তাকে এটা শিখিয়েছে, কে জানে? " স্বামী উত্তর দিল, "আমি আজ সকালে তাড়াতাড়ি উঠে আমাদের জানালাগুলো পরিষ্কার করেছি।" জীবনটাও ঠিক এমনই... অন্যদের দেখার সময় আমরা যা দেখি, তা নির্ভর করে আমরা যে জানালা দিয়ে দেখি, তার স্বচ্ছতার উপর। তাই অন্যদের বিচার করতে খুব তাড়াহুড়ো করো না, বিশেষ করে যদি জীবনের প্রতি তোমার দৃষ্টিভঙ্গি রাগ, ঈর্ষা, নেতিবাচকতা বা অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা দ্বারা মেঘাচ্ছন্ন থাকে। "অন্যকে বিচার করা তার পরিচয় দেয় না। এটা তোমার পরিচয় দেয়।" আরও পড়ুন: প্রতিটা কাজ হতে পারে শেষ কাজ: শিক্ষণীয় একটি গল্প গল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা: 'জামাকাপড় কাচা' গল্পটি একটি সাধারণ ঘটনার মাধ্যমে জীবনের একটি গভীর সত্য তুলে ধরে। নতুন বাড়িতে আসা তরুণী প্রতিবেশী মহিলার কাপড় ধোয়ার পদ্ধতি নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনা করে। তার মনে হয়, মহিলাটি ঠিকমতো কাপড় ধুতে জানে না। আসলে, তরুণীর মন ছিল নেতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। সে তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই সবকিছু বিচার করছিল। এক মাস পর, যখন সে দেখে যে প্রতিবেশীর কাপড়গুলো পরিষ্কার, তখন সে অবাক হয়ে যায়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, কে মহিলাটিকে কাপড় ধোয়া শিখিয়েছে। তখন তার স্বামী জানায় যে সে সকালে তাদের জানালা পরিষ্কার করেছে। এর মাধ্যমে স্বামী বোঝাতে চান যে, জানালা নোংরা থাকার কারণে তরুণী প্রতিবেশীর কাপড় নোংরা দেখছিল। জানালা পরিষ্কার হওয়ার পর, সবকিছু পরিষ্কার দেখাচ্ছে। এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, আমরা যখন অন্যদের বিচার করি, তখন আসলে আমরা নিজেদেরকেই বিচার করি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি নেতিবাচকতায় ভরা থাকে, তাহলে আমরা সবকিছুতেই নেতিবাচকতা দেখব। আর যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়, তাহলে আমরা সবকিছুতেই ইতিবাচকতা দেখতে পাব। 'জামাকাপড় কাচা' গল্পের মূল শিক্ষা: দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। আমরা যেভাবে বিশ্বকে দেখি, বিশ্বও আমাদের কাছে সেভাবেই ধরা দেয়। অন্যদের বিচার না করা: অন্যদের বিচার করার আগে, আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরীক্ষা করা উচিত। ইতিবাচক চিন্তা: ইতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলে। আত্ম-বিশ্লেষণ: নিজের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে সংশোধন করা উচিত। সহানুভূতি: অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। এই 'জামাকাপড় কাচা' গল্পটি একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমাদের উচিত নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে জীবনকে সুন্দর করে তোলা। আমাদের উচিত অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং অন্যদের বিচার করার আগে নিজেদের বিচার করা। 2. কূপের গাধা - একটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প (Motivational story-2 ) চিত্র সৌজন্যে : DALL-E এক কৃষকের গাধা একদিন হঠাৎ করে একটি কূপে পড়ে গেল। প্রাণীটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা করুণভাবে চিৎকার করতে লাগল, আর কৃষক কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে, তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে প্রাণীটি বৃদ্ধ হয়ে গেছে, এবং কূপটি এমনিতেও বন্ধ করে দেওয়া দরকার-গাধাটিকে উদ্ধার করা আর লাভজনক নয়। তিনি তার সকল প্রতিবেশীকে ডেকে আনলেন এবং তাদের সাহায্য করতে বললেন। তারা সবাই একটি করে কোদাল নিল এবং কূপে মাটি ফেলতে শুরু করল। প্রথমে, গাধাটি বুঝতে পারল কী ঘটছে এবং ভয়ানকভাবে চিৎকার করতে লাগল। তারপর, সবার বিস্ময়ের জন্য, সে চুপ হয়ে গেল। কয়েক কোদাল মাটি ফেলার পরে, কৃষক অবশেষে কূপের দিকে তাকালেন। তিনি যা দেখলেন তাতে অবাক হয়ে গেলেন। তার পিঠে প্রতিটি কোদাল মাটি পড়ার সাথে সাথে, গাধাটি আশ্চর্যজনক কিছু করছিল। সে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে উঠছিল। যখন কৃষকের প্রতিবেশীরা প্রাণীটির উপরে মাটি ফেলতে লাগল, তখন সে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে উঠতে লাগল। খুব শীঘ্রই, সবাই অবাক হয়ে দেখল গাধাটি কূপের কিনারা পেরিয়ে উপরে উঠে আনন্দে ছুটে চলে গেল! কূপের গাধা গল্পের নৈতিক শিক্ষা: জীবন আপনার উপর মাটি ফেলবে, নানা ধরনের মাটি। কূপ থেকে বের হওয়ার কৌশল হলো মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে ওঠা। আমাদের প্রতিটি সমস্যা একটি করে ধাপ। আমরা হাল না ছেড়ে, কখনও থেমে না গিয়ে গভীরতম কূপ থেকেও বের হতে পারি! জঞ্জাল-মাটি ঝেড়ে ফেলুন আর এক ধাপ উপরে উঠুন। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার 5 টি জনপ্রিয় লোককাহিনী পড়ুন কূপের গাধা গল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গল্পটি একটি সাধারণ ঘটনার মাধ্যমে জীবনের একটি গভীর সত্য তুলে ধরে। একজন কৃষক তার বৃদ্ধ গাধাকে কূপ থেকে উদ্ধার করতে না পেরে কূপটি মাটি দিয়ে ভরাট করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেশীরাও এসে মাটি ফেলতে শুরু করে। গাধাটি প্রথমে বুঝতে পেরে খুব কষ্ট পায় এবং চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু তারপর সে বুঝতে পারে যে, চিৎকার করে কোনো লাভ নেই। বরং তাকে নিজের চেষ্টায় বাঁচতে হবে। গাধাটি প্রতিটি কোদাল মাটি পড়ার সাথে সাথে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ করে উপরে উঠতে থাকে। তার এই প্রচেষ্টা সবাইকে অবাক করে দেয়। শেষ পর্যন্ত, গাধাটি কূপের কিনারা পেরিয়ে উপরে উঠে আসে এবং আনন্দে ছুটে চলে যায়। এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসবেই। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি সমস্যাকে একটি ধাপ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই ধাপ পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কূপের গাধা গল্পের মূল শিক্ষা: বিপদে ভেঙে না পড়া: জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসবেই, কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আত্মবিশ্বাস: নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব। ধৈর্য: ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ইতিবাচক মনোভাব: প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। প্রচেষ্টা: চেষ্টা চালিয়ে গেলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাল না ছাড়া: জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেনো, কখনো হাল ছাড়া যাবে না। সমস্যাকে সুযোগ হিসেবে দেখা: জীবনের প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। সমস্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। আত্ম-উন্নয়ন: প্রতিটি সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে নিজের আত্ম-উন্নয়ন করা সম্ভব। জীবন একটি সংগ্রাম: জীবন একটি সংগ্রাম, তাই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হবে। এই গল্পটি আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমাদের উচিত বিপদে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। --- > বিয়ার গ্রিলস শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্যই নয়, বরং সাহস, ধৈর্য এবং জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দক্ষতার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। - Published: 2025-03-15 - Modified: 2025-03-15 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/ বিয়ার গ্রিলস শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্যই নয়, বরং সাহস, ধৈর্য এবং জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দক্ষতার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিয়ার গ্রিলস শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্যই নয়, বরং সাহস, ধৈর্য এবং জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দক্ষতার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। একজন ব্রিটিশ অভিযাত্রী, লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা কেবলই শারীরিক শক্তির পরিচয় নয়, বরং মনের দৃঢ়তারও এক অনন্য উদাহরণ। পর্বত আরোহনের বিস্ময়কর যাত্রা মাত্র ২৩ বছর বয়সে বিয়ার গ্রিলস সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এভারেস্টের হিমশীতল বাতাস, তুষারঝড় আর প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে তিনি দেখিয়ে দেন, ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও জয় করা সম্ভব। কিন্তু তার এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। এভারেস্ট অভিযানের কয়েক বছর আগে এক ভয়ানক দুর্ঘটনায় তিনি তার পিঠের তিনটি হাড় ভেঙে ফেলেন। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, হয়তো তিনি আর কখনো আগের মতো চলাফেরা করতে পারবেন না। কিন্তু বিয়ার হাল ছাড়েননি। নিজের সীমাহীন অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি শুধু সুস্থই হননি, বরং পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত জয় করে প্রমাণ করেন, সাফল্য শুধু তাদেরই হাতে ধরা দেয়, যারা কখনো হার মানে না। আরও পড়ুন: 2 টি মোটিভেশনাল গল্প যা তোমার জীবনে উন্নতির অনুপ্রেরণা হতে পারে অন্য আরেকটি অসাধারণ অভিযান: আমা দাবলামের শীর্ষে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের পর বিয়ার আরও একটি অসাধারণ পর্বতারোহণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। হিমালয়ের অন্যতম ভয়ঙ্কর এবং বিপজ্জনক শৃঙ্গ, ২২,০০০ ফুট উচ্চতার আমা দাবলামে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অনেক অভিজ্ঞ পর্বতারোহীও যেখানে হিমশীতল বাতাস আর বিপজ্জনক খাড়াইয়ের কারণে পিছিয়ে আসেন, সেখানে বিয়ার গ্রিলস তার দলে থাকা প্রত্যেক সদস্যকে অনুপ্রাণিত করে চূড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করেন। অ্যাডভেঞ্চার থেকে সমুদ্রজয় শুধু পাহাড় নয়, বিয়ার গ্রিলসের দুঃসাহসিক অভিযান ছড়িয়ে পড়ে সাগরেও। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর পার হওয়ার এক বিপজ্জনক অভিযান তিনি সম্পন্ন করেন একটি রিজিড ইনফ্ল্যাটেবল বোটে (RIB) চড়ে। প্রচণ্ড ঠান্ডা, শক্তিশালী ঢেউ এবং প্রাণঘাতী ঝড়ের মুখেও তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখেন এবং সফলভাবে এই অভিযান সম্পন্ন করেন। এই রেকর্ড-ব্রেকিং অভিযানটি ছিল তার অসীম ধৈর্য ও নেতৃত্বগুণের এক অনন্য নিদর্শন। টেলিভিশনের পর্দায় বিয়ার গ্রিলস ২০০৬ সালে বিয়ার গ্রিলস বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন তার জনপ্রিয় টেলিভিশন শো "Man vs. Wild"-এর মাধ্যমে। এই অনুষ্ঠানে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম জায়গায় বেঁচে থাকা সম্ভব। ভয়ানক বন-জঙ্গল, মরুভূমি, হিমবাহ বা উঁচু পর্বতের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকার কৌশল তিনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আরও অনেক টেলিভিশন শোতে তিনি তার অ্যাডভেঞ্চার ও বেঁচে থাকার কৌশল শেয়ার করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো "Born Survivor"। এই সব শো তাকে শুধু জনপ্রিয় করেই তোলেনি, বরং কোটি কোটি মানুষকে দুঃসাহসিক অভিযানের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে। আরও পড়ুন: আমাদের আনন্দ বা রাগের প্রতিক্রিয়া কে ঠিক করবে? অনুপ্রেরণার নাম - বিয়ার গ্রিলস বিয়ার গ্রিলসের জীবন আমাদের শেখায়, চ্যালেঞ্জ ও বিপদের মুখোমুখি হয়েও কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়। তার জীবন কেবলমাত্র অভিযানের গল্প নয়, বরং তা সাহস, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, ইচ্ছাশক্তির জোরে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। এটাই বিয়ার গ্রিলস—এক সাহসী অভিযাত্রীর গল্প, যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে একের পর এক চ্যালেঞ্জ জয় করে চলেছে। তার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, "Never Give Up! " --- > বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী অর্থাৎ একটি নদীর অনেক রঙ হিসাবে ক্যানো ক্রিস্টালেস সেরা। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রঙিন নদী এবং হ্রদের তালিকা দেওয়া হল - Published: 2025-03-13 - Modified: 2025-03-13 - URL: https://www.sabjanta.info/most-colorful-11-rivers-and-lakes-in-the-world/ বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী অর্থাৎ একটি নদীর অনেক রঙ হিসাবে ক্যানো ক্রিস্টালেস সেরা। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রঙিন নদী এবং হ্রদের তালিকা দেওয়া হল। বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী অর্থাৎ একটি নদীর অনেক রঙ হিসাবে ক্যানো ক্রিস্টালেস সেরা। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রঙিন নদী এবং হ্রদের তালিকা দেওয়া হল। অনেকেরই হয়তো মনে হতে পারে যে জল নীল হওয়ার জন্য চারপাশের মহাসাগরগুলো নীল। কিন্তু আসলে জল স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। তাই আমরা হ্রদ, মহাসাগর বা অন্য জলে যে রঙ দেখি তা আসলে জলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন কণার আলোর প্রতিসরণ। যেমন সূর্যের আলো সমুদ্রে প্রবেশ করে খুব দ্রুত শোষিত হয়। এর ফলে সমুদ্র নীল দেখায়। বিশাল জলরাশি মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রহস্যে ভরা বলে মনে হয়। বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী: ক্যানো ক্রিস্টালেস (Cano cristales) Picture credit: unusualplaces. org ক্যানো ক্রিস্টালেস নামে ছোট এই নদীটি, কলম্বিয়ার মেটা অঞ্চলে অবস্থিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন নদী হিসেবে খ্যাত। বিশেষত গ্রীষ্ম ও বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে এই নদী লাল, হলুদ, সবুজ, নীল ও কালচে রঙ ধারণ করে। তাই একে "তরল রামধনু" বা (Liquid rainbow) এবং "পাঁচ রঙা নদী" বা (River of five colors) নামেও ডাকা হয় । কোথায় আছে : কলম্বিয়ার 'সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা' জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত। রঙ পরিবর্তনের কারণ: নদীর তলদেশে থাকা রাইঙ্কোলাসিস ক্লাভিগেরা নামক জলজ উদ্ভিদের কারণে এই অনন্য রঙের সৃষ্টি হয়। পর্যটন আকর্ষণ: প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক নদীটির অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। সুরক্ষা ব্যবস্থা: পরিবেশগত সংরক্ষণের কারণে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। পাঁচ রঙা নদী সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য: ক্যানো ক্রিস্টালেস হল একটি কলম্বিয়ান নদী যাকে "পাঁচ রঙের নদী" আবার 'liquid rainbow' বা "তরল রামধনু" বলা হয় কারণ এর আকর্ষণীয় রঙগুলি সারা বছর ধরে পরিবর্তিত হতে থাকে। এটি "সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা" জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত, একটি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল যেখানে আন্দিজ, আমাজন এবং ল্যানোস মিলিত হয়। ক্যানো ক্রিস্টালেসের প্রধান আকর্ষণ হল নদীর তলদেশে জন্মানো রঙিন জলজ উদ্ভিদ, বিশেষ করে রাইঙ্কোলাসিস ক্লাভিগেরা (আগে ম্যাকারেনিয়া ক্লাভিগেরা নামে পরিচিত ছিল ), যা এই অঞ্চলে স্থানীয়। এই উদ্ভিদটি তরুণ বয়সে সবুজ, কিন্তু পরিপক্ক হওয়ার পরে হলুদ, লাল বা গোলাপী হয়ে যায়, সূর্যালোক এবং জলের অবস্থার উপর নির্ভর করে। জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে উদ্ভিদটি সবচেয়ে প্রচুর এবং প্রাণবন্ত থাকে, যখন বর্ষাকাল তার বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত জল এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। এই নদীতে বিভিন্ন রঙের অন্যান্য উদ্ভিদও রয়েছে, যেমন হলুদ পোডোস্টেমেসি, নীল-সবুজ শৈবাল এবং কালো পাথর। নদীটি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কচ্ছপ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল, পাশাপাশি আশেপাশের বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী বিভিন্ন ধরণের পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ এবং পোকামাকড়ের আবাসস্থল। ১৯৬৯ সালে একদল গবাদি পশুপালক ক্যানো ক্রিস্টালেস আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত এটি বাইরের বিশ্বের কাছে অজানা ছিল, যখন একজন কলম্বিয়ান সাংবাদিক এটি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তবে, সরকার, গেরিলা এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের কারণেও এই অঞ্চলটি প্রভাবিত হয়েছিল, যা পর্যটক এবং গবেষকদের জন্য এটিকে অনিরাপদ এবং দুর্গম করে তুলেছিল। সহিংসতা ও দূষণের কারণে নদীটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ২০০৯ সালের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এবং স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পরিবেশ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নদীটি দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। কালো নদী: রিও নিগ্রো (Rio Negro ) Picture credit: ynetnews. com রিও নিগ্রো বিশ্বের বৃহত্তম কালো জলের নদী। নদীর নামকরণ করা হয়েছিল নিগ্রো, যার পর্তুগিজ ভাষায় অর্থ কালো কারণ এর জলের রঙ গাঢ়। জলপ্রবাহের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদীগুলির মধ্যে একটি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪০০ মাইল (২,২৫০ কিমি), যার মধ্যে ৮৫০ মাইল (১,৩৭০ কিমি) ব্রাজিলে অবস্থিত। কোথায় আছে: রিও নিগ্রো পূর্ব কলম্বিয়ার রেইন ফরেস্টে গুয়েনিয়া নামে উৎপন্ন হয়ে, ভেনেজুয়েলা সীমান্ত হয়ে ব্রাজিলে প্রবেশ করে আমাজন নদীতে মিলিত হয়েছে। কালো রঙের কারণ: জৈব পদার্থের পচন এবং আশেপাশের গাছপালা থেকে নির্গত ট্যানিনের উপস্থিতির কারণে এটি ঘটে, যা নদীটিকে তার স্বতন্ত্রভাবে সমৃদ্ধ রঙ দেয়। বিশেষত্ত্ব: রিও নিগ্রো বিশ্বের বৃহত্তম কৃষ্ণজল নদী। এর জল কালো বা রঙিন হওয়া সত্ত্বেও এর জলে খুব কম পলি থাকে এবং রিও নিগ্রো পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার নদীগুলির মধ্যে একটি হিসাবে স্থান পায়। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার 5 টি জনপ্রিয় লোককাহিনী পড়ুন হলুদ নদী: হোয়াংহো, চীন Picture credit: thoughtco. com হলুদ নদী বা পীত নদী যা 'হোয়াং হো' নামে পরিচিত। এটি চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী এবং বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ নদী। প্রায় ৫,৪৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী চীনের কৃষি, সভ্যতা ও ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নদীর ঘন কাদাযুক্ত জল এবং ব্যাপক বালুকণা বহনের ক্ষমতার কারণে একে "চীনের দুঃখ" বলেও অভিহিত করা হয়। কোথায় অবস্থান: ছিংহাই প্রদেশে হুযাংহো নদী উৎপত্তি হয়ে নদীটি পীতসাগরে পতিত হয়েছে। হলুদ রঙের কারণ: নদীটি প্রচুর পরিমাণে Loess (বেলে দোআঁশ মাটি) বহন করে, যা জলের সঙ্গে মিশে একে হলুদাভ রঙ প্রদান করে। কৃষিকাজে গুরুত্ব: এই নদীর অববাহিকায় চীনের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল এবং আজও এটি কৃষি ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা: অতীতে এই নদীর ভয়াবহ বন্যা ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে, তবে বর্তমানে উন্নত বাঁধ ও সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হলুদ নদী সম্পর্কে আরও তথ্য: প্রাচীন চীনে প্রায়ই হোয়াংহো নদী ছাপিয়ে উঠে সবকিছু বন্যায় ভাসিয়ে দিতো বলে এই নদীর নাম ছিল "চীনের দুঃখ"। ইতিহাস বলে এপর্যন্ত ছাব্বিশবার এই নদী গতিপথ বড় রকমের পরিবর্তন করেছে। আর প্রত্যেকবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুদর্শা। তবে এই নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে ঘিরেই চীনা সভ্যতার গোড়া পত্তন হয়েছে। হোয়াংহো হলো চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ও এশিয়ার ২য় বৃহত্তম এবং বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘ নদী। নদীটি চীনের ৯টি প্রদেশের মধ্য দিয়ে মোট ৫৪৬৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। হোয়াংহো নদী চীনের মাতৃনদী হিসেবে পরিচিত। হুয়াংহো নদীর অববাহিকার পশুচারণ ভূমি বেশ উর্বর ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এই নদীর অববাহিকাতে চীনের প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এ নদীর অববাহিকা চীনের সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর। রিও রিন্টো নদী: লাল নদী, স্পেন Picture credit: mybestplace. com রিও রিন্টো নদী স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত অদ্ভুত একটি নদী, যা গাঢ় লালচে রঙের জন্য পরিচিত। আয়রন ও অন্যান্য খনিজের কারণে নদীর জল প্রাকৃতিকভাবেই লালচে রঙ ধারণ করে, যা এটিকে পৃথিবীর অন্যতম অদ্ভুত প্রাকৃতিক জলধারা হিসেবে গড়ে তুলেছে। কোথায় রয়েছে : স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের হুয়েলভা প্রদেশে অবস্থিত। লাল রঙের কারণ: নদীর জলে উচ্চমাত্রার আয়রন ও অ্যাসিডিক উপাদান থাকায় এটি লালচে হয়ে থাকে। কি কি খনিজ সম্পদ: এই অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই তামা, সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ আহরণ করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা: নাসার গবেষকরা রিও রিন্টো নদীর পরিবেশ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন, কারণ এই নদীর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য মঙ্গল গ্রহের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। রিও রিন্টো সম্পর্কে আরও তথ্য: স্পেনের এই রহস্যময়ী নদীটির পোশাকি নাম “রিও টিন্টো”। সিয়েরা মরেনা পাহাড় এই নদীর উৎসস্থল। নদীটি ১০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মিলিত হয় হুয়েলভার গাল্ফ অফ কাডিজে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সাল নাগাদ আন্দালুসিয়া প্রদেশ তামা, সোনা, রূপা ও অন্যান্য খনিজদ্রব্যে ভরপুর ছিল। খনিজদ্রব্যের সন্ধানে দফায় দফায় ওই এলাকায় খননকার্য শুরু হয়। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় খননকার্যের ফলে নদীর জল মারাত্মক আম্লিক হয়ে পড়ে। অ্যাসিড ও লৌহের মারাত্মক উপস্থিতির জন্যে নদীর জলের রঙ লাল হয়ে যায়। মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়ে নদীর জল। পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই নদীর জলে চরমজীবি অবায়বীয় প্রকারের ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত। এগুলি এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা অতি কঠিন পরিস্থিতিতেও বংশ বৃদ্ধি করতে পারে এমনকি অক্সিজেনের অভাবেও। এই ব্যাকটেরিয়া জলের সঙ্গে মিশে এতটাই শক্তিশালী ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে কোনও জন্তু বা মানব দেহাংশের সংস্পর্শে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা গলে কঙ্কালে পরিণত হয়ে যেতে পারে। বৈজ্ঞানিকরা এই জল নিয়ে তখন আরও গবেষণা করতে শুরু করেন। জানা যায়, এই নদীর জলের চরিত্রের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের অনেকটা মিল আছে। এই জলে সালফেট ও লৌহ বিজারণ করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান বৈজ্ঞানিকরা। অর্থাৎ এই জল খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সালফেট বিজারণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলি শরীরের ভেতরের কোনও ক্ষতি করে না। কিন্তু জলের সঙ্গে মিশে ভয়ংকর বিষাক্ত হয়ে ওঠে। জলে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির জেরে জল থেকে পচা ডিমের গন্ধ বের হয়। এমনকি কিছুদিন এই জল সংরক্ষণ করলে জলের রঙ কুচকুচে কালো হয়ে যেতে পারে। আরও পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী বা সবচেয়ে চওড়া নদী সম্পর্কে জানুন লেক হিলিয়ার, অস্ট্রেলিয়া Picture credit: wisata. app অস্ট্রেলিয়ার লেক হিলিয়া বাবলগাম গোলাপি রঙের। এটি একটি অত্যাশ্চর্য। হ্রদটি মাত্র ২০০০ ফুট লম্বা আর ৮০০ ফুট চওড়া। কেলিমুতু হ্রদ, ইন্দোনেশিয়া Picture credit: wikivoyage. org কেলিমুতু আগ্নেয়গিরির শীর্ষের প্রতিটি হ্রদের একটি আলাদা রঙ রয়েছে। যা কিনা সত্যই অবাক করার মত । তবে আশ্চর্যের বিষয় হল এই হ্রদ সর্বদা তাদের রঙ পরিবর্তন করে। ড্রিনা নদী, সার্বিয়া Picture credit: panacomp. net ড্রিনা নদীর জল সবুজ। এর চেয়ে সন্দর সবুজ হয়ত আর কোথাও দেখা যাবে না। ৩৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটিকে সার্বিয়ার সবচেয়ে সুন্দর নদীগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। সেলেস্ট নদী, কোস্টারিকা Picture credit: asuaire. com কোস্টারিকার টেনোরিও আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যানে সেলেস্ট নদী অবস্থিত। নদীটি তার অদ্ভুত জলের ফিরোজা রঙের জন্য বিখ্যাত। এই রঙটি সালফার এবং ক্যালসিয়াম কার্বনেটের মধ্যে সঞ্চালিত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে ঘটে। লেগুনা কলোরাডা, বলিভিয়া Picture credit: Johnson Barrows via Flickr. com লেগুনা কলোরাডা অর্থ হচ্ছে রেড লেক। জনশ্রুতি আছে যে, হ্রদটি দেবতাদের রক্তে ভরা বলেই লাল রঙ। এটি বলিভিয়ার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক আশ্চর্য। ওকামা ক্রেটার লেক, জাপান Picture credit: ynetnews. com এই হ্রদটি জাও পর্বতে অবস্থিত। মাউন্ট বান্দাইয়ের অগ্ন্যুৎপাতের পরে এটি তৈরি হয়েছিল। পাঁচ রঙের হ্রদ নামেও পরিচিত এটি। ওকামা ক্রেটার লেক বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হ্রদগুলোর মধ্যে একটি। লাল নদী, উত্তর আমেরিকা Picture credit: usgs. gov উত্তর আমেরিকার লাল নদীটি রেড রিভার ভ্যালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা এবং উত্তর ডাকোটা রাজ্যের মধ্যে একটি সীমানা তৈরি করেছে। এই নদীর লাল জল চারদিকের দৃশ্যকে অন্যরকম সৌন্দর্য প্রদান করে। --- - Published: 2025-03-09 - Modified: 2025-03-09 - URL: https://www.sabjanta.info/the-fox-and-the-camel-a-persian-folktale/ 'একটি শিয়াল যে উটের পিঠে চড়েছিল' গল্পটি প্রাচীন ইরানের লোককথা। আসলে লোককাহিনী শিশুদের জন্য অন্য সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার একটা ভাল উপায়। এগুলি ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে শেখায় এবং প্রায়শই কাল্পনিক চরিত্র এবং অবিশ্বাস্য অ্যাডভেঞ্চার অন্তর্ভুক্ত করে । 'একটি শিয়াল যে উটের পিঠে চড়েছিল' গল্পটি প্রাচীন ইরানের লোককথা। আসলে লোককাহিনী শিশুদের জন্য অন্য সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার একটা ভাল উপায়। এগুলি ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে শেখায় এবং প্রায়শই কাল্পনিক চরিত্র এবং অবিশ্বাস্য অ্যাডভেঞ্চার অন্তর্ভুক্ত করে । একটি শিয়াল যে উটের পিঠে চড়েছিল এক সময় এক শিয়াল একটি বড় পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বাগানের কাছেই বাস করত। প্রায় প্রতিদিনই সে বাগানের প্রাচীরের একটি ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঢুকে যেত এবং বাগানের সুস্বাদু ফলগুলো পেট ভরে খেত। রসালো পার্সিমন, সুস্বাদু পীচ এবং লোভনীয় ট্যানজারিন (এক প্রকার লেবু), সে সবকিছুই খেত, তারপর দু-একটা মুরগি ধরারও চেষ্টা করত। শিয়ালের দিনগুলো এইভাবে বেশ অনন্দেই কাটছিল। হঠাৎ একদিন সকালে মালী তাকে দেখতে পেল এবং ঝাড়ু নিয়ে বাগান জুড়ে তার পিছু ধাওয়া করল। শিয়ালটি প্রাচীরের ছিদ্র দিয়ে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু খুব দেরিতে বুঝতে পারল যে মালী তাজা কাদা প্লাস্টার দিয়ে ছিদ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে, তাই সে পালাতে পারল না। মালীকে একটি বড় লাঠি নাড়তে নাড়তে কাছে আসতে দেখে এবং পালানোর কোনো উপায় না জেনে শিয়ালটি মৃত হওয়ার ভান করার সিদ্ধান্ত নিল। সে মাটিতে পড়ে গেল, পিঠের উপর গড়াগড়ি দিল এবং চোখ শক্ত করে বন্ধ করল। যখন মালী শিয়ালের কাছে পৌঁছাল, তখন সে দেখল যে শিয়ালটি মৃত মানুষের মতো মাটিতে পড়ে আছে। মালী তার লাঠি দিয়ে কয়েকবার শিয়ালটিকে খোঁচা মারল, কিন্তু শিয়ালটি নড়ল না। মালী ভাবল যে শিয়ালটি ভয়ে মারা গেছে, তাই সে তাকে তুলে বাগানের বাইরে ছুঁড়ে ফেলল। কয়েকদিন কেটে গেল কিন্তু শিয়ালটি বাগানে ফিরে যাওয়ার অন্য কোনো উপায় খুঁজে পেল না। এদিকে দিন কাটে আর তার খিদে আরও বাড়তে লাগল। তখন সে অন্য একটি পরিকল্পনা করল। সে নিকটবর্তী বনে বসবাসকারী একটি সিংহের সাথে দেখা করার কথা ভাবল, যদি সিংহের খবরের কিছু অবশিষ্ট টুকরো অন্তত পাওয়া যায়। সে হাঁটতে হাঁটতে বনের কাছের একটি গুহায় সিংহের গুহায় পৌঁছাল। আরও পড়ুন: লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো - ভিয়েতনামের লোককাহিনী শিয়ালটি গুহার প্রবেশদ্বারের কাছে বসে চিৎকার করে বলল, "ও সিংহ মশাই! আমি শিয়াল, আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি, আমার পুরনো বন্ধু! " সিংহ নিজস্ব মেজাজে তার গুহা থেকে বেরিয়ে এসে শিয়ালকে অভ্যর্থনা জানাল "আরে শিয়াল ভায়া, কেমন আছ? আর তোমার এখানে আগমন কি মনে করে? " শিয়াল বলল, "আমি শুধু তোমার সাথে দেখা করার জন্য এত দূর হেঁটে এসেছি । সর্বোপরি, বন্ধুরা যদি মাঝে মাঝে তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করতে না পারে, তবে বন্ধুত্বের মানেই বা কী," "তবে আমাকে জিজ্ঞাসা করো না আমি কেমন আছি, কারণ আজ আমার দু:খের বোঝা অনেক।" "কেন, শিয়াল, কী হয়েছে? " সিংহ সামান্য উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করল। শিয়ালটি উত্তর দিল, "সত্যিটা হলো আমি কয়েকদিন ধরে কিছু খাইনি, এবং আমার পেট খালি কারণ এখানে আসার পথে আমি কোনো খাবার খুঁজে পাইনি।" "তোমার কাছে কি কিছু খাবার আছে, কারণ আমি তোমার সাথে দেখা করার জন্য অনেক দূর এসেছি, এবং আমি খুব ক্ষুধার্ত! " সিংহ বলল, "আমার বলতে খারাপ লাগছে যে আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মত কোনো খাবার নেই, শিয়াল ভাই, কারণ আমি সম্প্রতি একটি মোটা বুনো শূকর ধরেছিলাম, কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি তা সব খেয়ে ফেলেছি এবং তোমার সাথে ভাগ করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই।" "তবে, তুমি যদি একটু অপেক্ষা করতে পারো, তবে আমি আগামীকালই বনে শিকার করার চেষ্টা করব।" শিয়াল, আরও একদিন খাবার জন্য অপেক্ষা করতে পারছিল না। সিংহকে ধন্যবাদ জানাল এবং বলল, "প্রিয় সিংহ মশাই, আমি তোমাকে কোনো ঝামেলায় ফেলতে চাই না। আমি কাছেই একটি শস্য খামারে কাজ করা একটি বোকা এবং নিস্তেজ উটকে চিনি। হয়তো আমি তাকে এখানে আসতে প্রলুব্ধ করতে পারি, যাতে আমরা দুজনেই ভালোভাবে খেতে পারি! " আরও পড়ুন: ছোটদের জন্য 6 টি ছোট নৈতিক গল্প সিংহ শিয়ালের পরিকল্পনায় রাজি হলো এবং বলল যে সে উটের আগমনের জন্য অপেক্ষা করবে। এখন শিয়ালের যা করার ছিল তা হলো উটের সাথে দেখা করা এবং কোনোভাবে তাকে সিংহের গুহার কাছে আসতে রাজি করানো। তাই শিয়ালটি পাশের গ্রামে গেল, যেখানে সত্যিই একটি উট একটি শস্য খামারে কাজ করত। উটটি দিনের পর দিন বৃত্তাকারে ঘুরে, জাঁতা পাথরটি ঘুরিয়ে গম এবং ওট পিষে ময়দা তৈরি করত। কাজ করার সময় উটটি শিয়ালকে কাছে আসতে দেখে বলল, "হ্যালো শিয়াল, কী কারণে তোমার এখানে আসা? " শিয়ালটি আনন্দের সাথে বলল, "হ্যালো উট! তোমাকে দেখে আমি খুব খুশি।" "আমি শুধু তোমার সাথে দেখা করার জন্য অনেক দূর এসেছি, পুরনো বন্ধু, কারণ বন্ধুরা যদি মাঝে মাঝে একে অপরের সাথে দেখা না করে তবে বন্ধুত্বের মানে কী? " উট শিয়ালকে আসার জন্য ধন্যবাদ জানালো এবং জিজ্ঞাসা করল, "তুমি কেমন আছ? " "আমি কখনোই এত খুশি হইনি, উট, কারণ আমি সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি গোপন ভূমির দিকে যাচ্ছি, যেখানে ঘাস সবসময় সবুজ, যেখানে প্রচুর খাবার আছে এবং কাজ করার কোনো প্রয়োজন নেই।" তারপর, উদ্বেগ প্রকাশ করে শিয়ালটি তার কণ্ঠস্বর নিচু করে জিজ্ঞাসা করল, "বলতো উট, কেন তুমি সারাদিন বৃত্তাকারে ঘুরে বেড়াও? এভাবে কি তুমি তোমার জীবন নষ্ট করার পরিকল্পনা করছ? " উট কিছুক্ষণ চিন্তা করে উত্তর দিল, "আমাকে আমার ভরণপোষণের জন্য কাজ করতে হবে। আমি প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই জাঁতা পাথরটি ঘুরাই, এবং সন্ধ্যায় মিলার আমাকে কিছু খাবার এবং ঘুমানোর জন্য একটি নিরাপদ জায়গা দেয়। সত্যি বলতে, এটা কঠিন কাজ, কিন্তু আমি সন্তুষ্ট।" শিয়ালটি কিছুক্ষণ অন্যমনস্কভাবে তার লেজ নাড়তে নাড়তে গভীর চিন্তায় মগ্ন হওয়ার ভান করল এবং তারপর উত্তেজিতভাবে বলল, "কিন্তু আমার একটা বুদ্ধি আছে! কেন তুমি আমার সাথে আমার গোপন ভূমিতে আসছ না? আমার সঙ্গীর প্রয়োজন, এবং সেখানে তোমাকে আর কখনোই জাঁতা পাথর ঘুরাতে হবে না, আমার প্রিয় বন্ধু! " উট কিছুক্ষণ স্থির হয়ে এটা নিয়ে চিন্তা করল এবং তারপর শিয়ালের সাথে যেতে রাজি হলো। শিয়ালটি উটের জোয়াল কেটে তাকে জাঁতা পাথর থেকে মুক্ত করল। তারপর সে উটকে বলল, "আমার প্রিয় বন্ধু, তুমি তো জানো আমি এই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য অনেকক্ষণ হেঁটেছি। তুমি কি আমাকে তোমার পিঠে চড়তে দেবে, যাতে আমি তোমাকে আমার গোপন ভূমিতে পথ দেখাতে পারি? " উটটি রাজি হলো, যেহেতু সে একজন বন্ধুত্বপূর্ণ ধরনের উট ছিল, এবং শিয়ালটি উটের পিঠে লাফিয়ে উঠল এবং তারা দুজন বনের দিকে রওনা হলো। সারাক্ষণ শিয়ালটি উটের কানে তার কথিত আবিষ্কৃত গোপন ভূমি সম্পর্কে অনেক মিথ্যা কথা ফিসফিস করে বলতে লাগল, যাতে উটের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখা যায়। উট হাঁটতে হাঁটতে সিংহের গুহার কাছে পৌঁছাল। সেই মুহূর্তে, উট ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সিংহকে দেখতে পেল এবং তার জন্য পাতা ফাঁদটি আবিষ্কার করল। "হায়, আমি কীভাবে নিজের চার পায়ে নিজের মৃত্যুর দিকে যাচ্ছি! " উট নিজেকে তিরস্কার করল। "খুব দেরি হওয়ার আগেই আমাকে এই ফাঁদ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে! " তাই সে তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়াল এবং মিলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। আরও পড়ুন: হাজার বছরের জীবন্ত উদ্ভিদ নামিব মরুভূমির বিস্ময় ওয়েলউইটশিয়া বিভ্রান্ত শিয়াল জিজ্ঞাসা করল, "তুমি এখন কেন ফিরে যাচ্ছ, উট? " "ওহ, আমার সর্বনাশ! আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস ভুলে গেছি, এবং আমাকে এখনই সেটা আনতে হবে, কারণ সেটা ছাড়া আমি কোথাও যেতে পারব না! " উট চিৎকার করে বলল। হতাশ হয়ে শিয়াল চিৎকার করে বলল, "কী! তুমি এমন কী ভুলে গেছ যা এত গুরুত্বপূর্ণ? ! " "আমার বাবার রেখে যাওয়া একটি উপদেশ বই। আমাকে প্রতি রাতে বালিশের নিচে রেখে ঘুমাতে হয়, না হলে আমার খারাপ স্বপ্ন হয়," উট উত্তর দিল, এবং লুকিয়ে থাকা সিংহ থেকে যত দ্রুত সম্ভব দূরে যাওয়ার জন্য তার গতি বাড়িয়ে দিল। শিয়াল দেখল যে উটকে থামানোর ক্ষমতা তার নেই, তাই সে তাল মিলিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিল এবং পরের দিন উটকে সেই জায়গায় ফিরে আসার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করল। "কোনো ব্যাপার না। আমরা তোমার বই আনব, উট, এবং তারপর আমরা আগামীকাল ফিরে আসতে পারি। কিন্তু আমাকে বলো, তোমার বাবা এই বইয়ে কী উপদেশ লিখেছিলেন যা এত গুরুত্বপূর্ণ? " হাঁপাতে হাঁপাতে উট বলল "পাঁচটি ছিল। প্রথমটি ছিল 'উপদেশের এই বইটি ছাড়া কখনো কোথাও যেও না', কিন্তু বাকি চারটি আমি ভুলে গেছি। আমি খামারে ফিরে গেলেই সেগুলো মনে পড়বে।" আর যেই উট খামারের নিরাপদ স্থানে পৌঁছাল, সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শিয়ালকে বলল, "আহ! এবার আমার বাবার দেওয়া অন্য উপদেশগুলো মনে পড়েছে। দ্বিতীয়টি ছিল 'সৎ কাজে কোনো লজ্জা নেই।' তৃতীয়টি ছিল, 'তোমার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকো।' চতুর্থটি ছিল 'কখনো প্রতারকদের সাথে বন্ধুত্ব করো না, কারণ শেষ পর্যন্ত তারাও তোমাকে প্রতারণা করবে।' কিন্তু আমার বাবা আমাকে পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলেছিলেন... 'সিংহের কাছে যেও না! '" এই বলে উট শিয়ালকে তার পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলে আবার তার খামারের কাজে লেগে পড়ল । --- > মালয়েশিয়ার লোককাহিনী মূলত পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি, উপকথা নিয়ে গঠিত । মালয়েশিয়ার লোকগল্পগুলিতে ভারতীয়, জাভা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব রয়েছে - Published: 2025-03-07 - Modified: 2025-03-07 - URL: https://www.sabjanta.info/top-5-folktales-of-malaysia/ মালয়েশিয়ার লোককাহিনী মূলত পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি, উপকথা ইত্যাদি লক্ষ করা যায়। মালয়েশিয়ার লোকগল্পগুলিতে ভারতীয়, জাভানিজ বা মধ্যপ্রাচ্যের লোককাহিনীর যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায় । মালয়েশিয়ার সংস্কৃতিতে ছায়া পুতুলের নাটকের বেশ বড় অবদান রয়েছে। Picture credit: The Bangsawan মালয়েশিয়ার লোককাহিনী মূলত পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি, উপকথা ইত্যাদি লক্ষ করা যায়। মালয়েশিয়ার লোকগল্পগুলিতে ভারতীয়, জাভানিজ বা মধ্যপ্রাচ্যের লোককাহিনীর যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায় । মালয়েশিয়ার সংস্কৃতিতে ছায়া পুতুলের নাটকের বেশ বড় অবদান রয়েছে। এই নাটকগুলি সাধারণত ঐতিহ্যগত গল্পের উপর ভিত্তি করে করা হয়। বিশেষ করে রামায়ণ এবং মহাভারতের গল্পের উপর ভিত্তি করে বহুসংখ্যক আখ্যান রয়েছে। নিচে মালয়েশিয়ার 5 টি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোককহিনীর বাংলা অনুবাদ দেওয়া হল। আশাকরি ভাল লাগবে। সং কানচিল ও পরিত্যক্ত কুয়া - (Sang Kancil and the Well) সং কানচিল - সেই চালাক ইঁদুর-হরিণ যেমন দেখতে ( সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে কিংবদন্তি চালাক, সং কানচিল, ইঁদুর-হরিণ, তার ধূর্ত বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত চিন্তাভাবনার জন্য পরিচিত। সং কানচিলের গল্প মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার অনেক শিশুর মনে গেঁথে আছে। এই গল্পটি ইঁদুর-হরিণ যে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়েছে তার মধ্যে একটি। মালয়েশিয়ার লোককাহিনী ইঁদুর-হরিণ কি চালাক নাকি অসৎ? তোমরাই ভেবে দেখ! ) গুড়গুড়! সং কানচিলের পেট চোঁ চোঁ শব্দ করতে লাগল। সে জঙ্গলে খাবারের সন্ধান করছিল, কিন্তু তার পছন্দ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিল। চারপাশে প্রচুর খাবার থাকলেও সে শুধুমাত্র সেরা খাবারটাই খেতে চেয়েছিল। সে মিষ্টি কুঁড়ি ও তরতাজা পাতা খুঁজতে লাগল, কিন্তু কিছুই তার মনঃপুত হচ্ছিল না। ঠিক তখনই, গাছের ওপর দোল খাচ্ছিল একদল দুষ্টু বানর। তারা সং কানচিলকে দেখে এক দুষ্টু ফন্দি আঁটল। বানরেরা তো সং কানচিলকে বোকা বানাতে খুব ভালোবাসে! “কানচি——ল... ওহ, সং কানচিল! এখানে এসো! তুমি কী খুঁজছ? ” এক বানর চেঁচিয়ে বলল। “উফ! বিরক্ত কোরো না। আমি খাবারের সন্ধান করছি। তোমরা নিশ্চয়ই কিছু জানো না, তাই আমাকে সাহায্য করতে পারবে না। যাও এখান থেকে! ” সং কানচিল বিরক্ত হয়ে বলল। “ওহ, সং কানচিল! তুমি তো জঙ্গলের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী! আমরা তোমার মতো চালাক নই, তবে এই জঙ্গল সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা আছে। তুমি অনেকক্ষণ ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছো, কী পেয়েছ বলো তো? ” আরেক বানর মুচকি হেসে বলল। সং কানচিল প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত বলল, “ঠিক আছে, জানতে চাচ্ছ বলেই বলছি। আমি সুস্বাদু কুঁড়ি আর কচি পাতার খোঁজ করছি। কিন্তু এখানে কিছুই নেই! ” “ওহ! তুমি ভুল জায়গায় খুঁজছ! এগুলো তো শুধু গাছের ওপরে পাওয়া যায়, আমাদের গাছে! এসো, উপরে ওঠো! ” “হ্যাঁ, ওহে চালাক! ওঠো আমাদের সাথে! ” আরেক বানর চেঁচিয়ে উঠল। “ওঠো! ওঠো! ওঠো! ” বানরের দল মিলে চিৎকার করতে লাগল। সং কানচিল তখনই বুঝতে পারল যে বানরেরা তাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। সে কি আর গাছে উঠতে পারে? লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে গেল। সে দ্রুত পালিয়ে গেল, কিন্তু দুষ্টু বানরেরা তখনও খিলখিল করে হাসছিল। রাগে আর অপমানে অন্ধ হয়ে সং কানচিল দৌড়াতে থাকল, খেয়ালই করল না সে কোথায় যাচ্ছে। হঠাৎ সে গিয়ে পড়ল এক পুরনো পরিত্যক্ত কুয়ায়! দম ফেলার আগেই সে ধপ করে কুয়ার নিচে পড়ে গেল। অন্ধকার, ঠান্ডা, একলা কুয়ার মধ্যে পড়ে সে বুঝতে পারল, তার কোনো উপায় নেই বেরোনোর। তখনই তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো! সে জোরে গান গাইতে শুরু করল, যেন কোনো প্রাণী এসে তাকে খুঁজে পায়। কিছুক্ষণ পরেই সে শুনতে পেল এক গম্ভীর গর্জন। সে সাথে সাথেই বুঝতে পারল, এটি সং হারিমাউ, ভয়ংকর বাঘ! সং হারিমাউ কুয়ার ওপরে এসে নিচের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। তার সবচেয়ে বড় শত্রু আজ ফাঁদে পড়েছে! এবার সে নিশ্চিন্তে সং কানচিলকে খেয়ে ফেলতে পারবে! “ওহ! সং কানচিল! বেশ মজা করছো দেখছি! উপভোগ করো যতদিন পারো, কারণ এবার তোমার পালা শেষ! ” বাঘটি হেসে বলল। সং কানচিল বুঝতে পারল, তাকে বাঁচতে হলে কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। সে মিষ্টি হেসে বলল, “আমি খুবই খুশি, সং হারিমাউ! আমি এমন এক জায়গা পেয়েছি, যেখানে আমি নিরাপদ। তুমি কিন্তু সাবধান হও! খুব শীঘ্রই আকাশ আমাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়বে! ” সং হারিমাউ প্রথমে বিশ্বাস করল না। কিন্তু ঠিক তখনই আকাশে বিদ্যুৎ চমকালো, বজ্রধ্বনি কেঁপে উঠল। বাঘটি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। যদি সত্যিই আকাশ ভেঙে পড়ে? সে দ্রুত বলল, “সং কানচিল! দয়া করে আমাকেও কুয়ার মধ্যে থাকতে দাও! ” একথা বলেই সে কুয়ার মধ্যে লাফিয়ে পড়ল! সং কানচিল মনে মনে হাসল। এবার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার পালা। সে গান গাইতে লাগল, যত জোরে সম্ভব। এতে সং গজাহ, হাতি এসে পৌঁছাল। সে জিজ্ঞেস করল, “সং কানচিল, তুমি আর সং হারিমাউ কুয়ার মধ্যে কী করছ? ” সং কানচিল তাকে একই গল্প শোনাল। আর ঠিক তখনই বজ্রধ্বনি আরও প্রবল হয়ে উঠল। ভয় পেয়ে হাতিও কুয়ায় লাফিয়ে পড়ল! এভাবেই একে একে আরও প্রাণীরা কুয়ায় ঢুকে পড়ল, আর কুয়াটি গিয়ে ঠাসাঠাসি হয়ে গেল। এদিকে, সং কানচিল তো ছোট প্রাণী, সে সহজেই ছোট জায়গা দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু তার তো কৌশল চাই! সে সং হারিমাউকে গুঁতোগুঁতি শুরু করল, আর বাঘটি বিরক্ত হয়ে ছটফট করতে লাগল। তারপর সে হাতিকে গুঁতাতে লাগল। হাতিটি হেসে কাঁদতে লাগল, “সং কানচিল, থামো! না হলে তোমাকে কুয়া থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেব! ” এটাই ছিল সং কানচিলের পরিকল্পনা! হাতিটি রেগে গিয়ে তার শুঁড় দিয়ে সং কানচিলকে তুলে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিল! সং কানচিল নিরাপদে কুয়ার বাইরে পড়ল। সে খুশিতে লাফিয়ে উঠল। তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে! সে গিয়ে কুয়ার ধারে দাঁড়িয়ে হাসতে লাগল। “আহা! সং হারিমাউ, তুমি ভেবেছিলে আমাকে ধরবে, কিন্তু আমি তোমাকে আবারও হারিয়ে দিলাম! আকাশ পড়ে যাচ্ছে না, এটা তো শুধু একটা ঝড় ছিল! ” সং কানচিল হাসতে হাসতে বলল। ঠিক তখনই এক বজ্রপাত হলো, আর বৃষ্টি নামল। কুয়ার ভেতরের সবাই বুঝতে পারল, তারা সং কানচিলের চালাকির শিকার হয়েছে! সং হারিমাউ রাগে গর্জন করল, “একদিন আমি তোমার প্রতিশোধ নেব, সং কানচিল! ” কিন্তু ততক্ষণে সং কানচিল অনেক দূরে চলে গিয়েছে, তার নতুন কৌশলের খোঁজে! আরও পড়ুন: পারস্যের লোককাহিনী - চাষীর ছেলে ও জাদুকর রাজকুমারী লেডাং - (Puteri Gunung Ledang) মালয়েশিয়া কিংবদন্তী অনুযায়ী মালাক্কার সুলতান মনসুর শাহের শাসনকালে , মাউন্ট লেডাং-এর চূড়ায় জাদু প্রাসাদে অপরূপ সুন্দরী এক পরী রাজকুমারী বাস করতেন। তার সৌন্দর্য এবং জাদুকরী ক্ষমতার গল্প সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, শীঘ্রই তা সুলতানের কানেও পৌঁছায়। একসময়, তাকে বিয়ে করার জন্য সুলতান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে, হাং তুয়াহ ও তার যোদ্ধাদের দলটিকে মাউন্ট লেডাং থেকে রাজকুমারীকে আনার জন্য পাঠান। হাং তুয়াহ এবং তার দল পুতেরিকে (অর্থাৎ রাজকুমারীকে) খুঁজে পান এবং তাকে সুলতানের প্রস্তাব জানান। পুতেরি তখন সুলতানকে মেনে নেওয়ার আগে ৭টি শর্ত দেন – মালাক্কা থেকে পাহাড় পর্যন্ত একটি সোনার পথ, পাহাড় থেকে মালাক্কা পর্যন্ত একটি রূপার পথ, সাতটি থালায় মশার হৃদয়, সাতটি থালায় জীবাণুর হৃদয়, সাত ব্যারেল কচি সুপারি রস, সাত ব্যারেল কুমারীর অশ্রু এবং সুলতানের পুত্রের রক্তে ভরা একটি রূপার কাপ। অবশ্যই, সুলতান এই অসম্ভব দাবিগুলি পূরণ করতে পারেননি, যদিও তিনি চেষ্টা করেছিলেন। আর সুলতানের এই প্রচেষ্টায় তার রাজ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কিংবদন্তী অনুসারে, পুতেরি আজও মাউন্ট লেডাং-এর চূড়ায় তার জাদু প্রাসাদে বাস করেন। এই গল্পটি সুলতানের অতিরিক্ত লোভ এবং অসম্ভব চাওয়া এবং রাজকুমারীর বিচক্ষণতা এবং কঠোর শর্তের একটি সুন্দর উদাহরণ। পুতেরি জালেহা - (Puteri Zaleha) এই পৌরাণিক রাজকুমারীর গল্পের পেছনে রয়েছে দুই বোন, এক অহংকারী রাজপুত্র (অবশ্যই এটি একটি অপরিহার্য উপাদান), রক্ত এবং চাঁদ। কিংবদন্তী অনুসারে, কেদাহের সুলতানের দুই সুন্দরী কন্যা ছিল, পুতেরি জালেহা এবং পুতেরি মরিয়ম। জালেহা ছিলেন খুব সুন্দরী এবং বলা হতো তার সাধারণ লাল রক্তের পরিবর্তে সাদা রক্ত ছিল। জালেহার সৌন্দর্য এবং বিরল সাদা রক্তের খবর অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আচেহের রাজপুত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাজপুত্র তখন কেদাহ রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, প্রতিজ্ঞা করেন যে যতক্ষণ না সাদা রক্তের রাজকুমারী তাকে বিয়ে করতে রাজি হন ততক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণ বন্ধ করবেন না। রাজপুত্র যেহেতু জালেহাকে চিনতেন না, তাই মরিয়ম তার পরিবর্তে রাজপুত্রের সাথে বিয়ে করতে রাজি হন। পরবর্তীকালে তাদের গোপন কথা ফাঁস হয়ে যায় । একবার যখন মরিয়ম ভুলবশত তার আঙুল কেটে ফেললে তার ক্ষত থেকে লাল রক্ত বের হতে শুরু করে। প্রতারণায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপুত্র তার সেনাবাহিনীকে কেদাহে পাঠান তার আসল কনেকে দাবি করার জন্য। যাইহোক, জালেহাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আক্রমণের খবর শুনে সুলতান জালেহাকে গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে রাখেন, যেখানে এমনকি চাঁদের আলোও তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। তাই তার ডাকনাম 'পুতেরি লিন্ডুঙ্গান বুলান' (অর্থাৎ চাঁদের আলোর থেকেও লুকানো রাজকুমারী)। তার সমাধি সেপুতেহ পাহাড়ে অবস্থিত এবং বলা হয় যে আজও নাকি চাঁদ তার সমাধিতে আলো ফেলতে অস্বীকার করে। এই গল্পটি বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মত্যাগ এবং রহস্যময় কিংবদন্তীর একটি মিশ্রণ। এটি একটি সুন্দর এবং বিষাদময় লোককথা, যা মালয়েশিয়ার সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। আরও পড়ুন: ভিয়েতনামের জনপ্রিয় লোকগাথা - লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো তুন ফাতিমা - (Tun Fatimah) এই গল্পটি একটি গভীর দুঃখজনক ঘটনা। ১৬ শতকে তুন ফাতিমা ছিলেন মালাক্কার বেন্দাহারার কন্যা এবং তার সৌন্দর্যের কোনো সীমা ছিল না। তার এক ভ্রমণের সময়, তিনি একজন সাধারণ মানুষের প্রেমে পড়েন এবং শীঘ্রই তাদের বিয়ে হয়। যদিও তার বাবা এই বিয়েতে কোনো আপত্তি করেননি, তবুও বেন্দাহারার কন্যার সুলতানের সাথে বিয়ে হওয়ার প্রথা ছিল। এটি বেন্দাহারার শত্রুদের তাকে নিচে নামানোর সুযোগ করে দেয়। তারা তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে এবং সুলতানকে তুন ফাতিমার স্বামীসহ পরিবারের সমস্ত পুরুষকে হত্যা করতে রাজি করায়। এটা উল্লেখ করা ভালো যে সুলতানও তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এরপর সুলতান পরিবারের মহিলাদের প্রাসাদে তার সুরক্ষার অধীনে নিয়ে যান এবং অবশেষে তুন ফাতিমাকে বিয়ে করেন। তার শাসনামলে, তুন ফাতিমা তার বাবাকে যারা অপবাদ দিয়েছিল তাদের সকলের উপর প্রতিশোধ নেন এবং এমনকি পর্তুগিজরা যখন মালাক্কা আক্রমণ করে তখন তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। তবে বলা হয়, তুন ফাতিমা আর কখনো হাসেননি। আমরা প্রায় নিশ্চিত যে তিনি "রেস্টিং বিচ ফেস" (RBF) এর সূচনা করেছিলেন। এই গল্পটি বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতিশোধ এবং গভীর শোকের একটি শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরে। এটি একটি দুঃখজনক কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প, যা তুন ফাতিমার দৃঢ়তা এবং সাহসের পরিচয় দেয়। রাজকুমারী বিদাসরী - (Puteri Bidasari) এক দয়ালু এবং ধনী বণিক তার বাড়ির কাছের একটি নদীতে ভাসমান একটি সাম্পানে একটি শিশু মেয়েকে খুঁজে পেয়েছিল। বণিক এবং তার স্ত্রী মেয়েটিকে গ্রহণ করে এবং মেয়েটির নাম রাখে বিদাসরী। তিনি এবং তার স্ত্রী শিশুটির আত্মাকে একটি ছোট মাছের মধ্যে স্থাপন করে, মাছটিকে তাদের বাগানের একটি পুকুরের একটি কৌটার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। সময়ের সাথে সাথে বিদাসরী একটি সুন্দরী কন্যাতে পরিণত হয়। এদিকে ইন্দ্রপুরা রাজ্যটির রাজা ছিল খুব সুদর্শন ও দক্ষ কিন্তু তাঁর রানী ছিল খুব অহংকারী । সেই রানীর সারাক্ষণ এই চিন্তায় ডুবে থাকত, যে রাজা যদি তার পরিবর্তে প্রিয় স্ত্রী হিসেবে অন্য কোন নারীকে পছন্দ করে ফেলেন। তাই তিনি তার চেয়ে সুন্দরী যে কোনও মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য চারজন কর্মচারীকে চারদিকে পাঠান। ফল স্বরূপ বিদাসরীকে আবিষ্কার করা হয়। তিনি বিদাসরীকে তার কাছে আনার নির্দেশ দেন, বলেন যে তিনি তার সাথে দত্তক কন্যার মতো আচরণ করবেন। তার বাবা-মা অনিচ্ছুকভাবে তাকে যেতে দেন। বিদাসরী এলে, রানী তাকে আটকে রাখেন এবং তাকে মারধর করেন। রানী তাকে হত্যা করতে চান কিন্তু যতক্ষণ না হতাশ বিদাসরী - যে বিশ্বাস করে যে তার বাবা-মা তাকে পরিত্যাগ করেছেন - তাকে তার আত্মা ধারণকারী মাছের কথা বলেন। রানী মাছটি পেয়ে তার নিজের গলায় ফিতা বেঁধে রাখেন, ফলে বিদাসরী অজ্ঞান হয়ে যান। মহা-আনন্দে রানী তার দেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তার বাবা মাছটি ব্যবহার করে তাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু দেখেন যে মাছটি চুরি হয়ে গেছে। মধ্যরাতে, বিদাসরী জীবিত হয়ে ওঠে এবং তার বাবা-মাকে কী ঘটেছিল তা বলে, কিন্তু ভোরবেলা সে আবার "মারা যায়"। তার বাবা-মা, রাণীর ভয়ে, মরুভূমিতে একটি আশ্রয় তৈরি করে । সেখানে তারা বিদাসরীকে তার নিরাপত্তার জন্য একা রেখে যায়, নিয়মিত জিনিসপত্র নিয়ে আসে। আর এভাবেই, বিদাসারী সারাদিন ঘুমাতো এবং কেবল মধ্যরাতের ঘণ্টাধ্বনিতে জেগে উঠতো। একদিন এই ইন্দ্রপুরার রাজা শিকার অভিযানে বেরিয়ে, গভীর জঙ্গলে সেই প্রাসাদের দেখা পান। কৌতূহলী হয়ে তিনি প্রাসাদে প্রবেশ করেন এবং বিদাসরীকে গভীর ঘুমে দেখেন। তিনি তাকে মধ্যরাতে জেগে ওঠা পর্যন্ত দেখেন। রাজাকে সেখানে দেখে, বিদাসরী তাকে যা ঘটেছিল তার সবকিছু বলে। রাজা তখন বিদাসরীকে বিয়ে করেন এবং তারা একসাথে একটি দুর্গে সুখে বসবাস করতে থাকেন। এভাবে বিদাসরীর উপর করা দুষ্ট রানীর জাদু ভেঙে যায়। এই গল্পটি সৌন্দর্য, ঈর্ষা, জাদু এবং প্রেমের বিজয়ের একটি ক্লাসিক রূপকথা। এটি একটি পরিচিত গল্প, যা প্রায়শই বিভিন্ন সংস্কৃতির রূপকথার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। --- > পারস্যের লোককাহিনী বর্তমান ইরানের প্রাচীন লোকগাথা যা যুগ যুগ ধরে সামাজিক সদর্থক মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়। 'চাষীর ছেলে ও জাদুকর' অত্যন্ত জনপ্রিয় গল্প - Published: 2025-02-22 - Modified: 2025-02-22 - URL: https://www.sabjanta.info/persian-folktale-the-farmers-son-and-magician/ পারস্যের লোককাহিনী অর্থাৎ বর্তমান ইরানের প্রাচীন লোকগাথা যা যুগ যুগ ধরে সামাজিক সদর্থক মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়। 'চাষীর ছেলে ও জাদুকর' অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গল্প। পারস্যের লোককাহিনী - এবারের গল্প চাষীর ছেলে ও জাদুকর পারস্যে একসময় এক বিধবা বৃদ্ধা ছিলেন আর 'কিয়ান' তার একটি ছেলে ছিল। কিয়ান ছিল খুব ভালো ছেলে, যে তার বৃদ্ধ মাকে সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করত। তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে সে তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া খামারটি চালাত। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারে কাজ করত, ভেড়া ও গবাদি পশুর দেখাশোনা করত, আর তাদের খাওয়ার জন্য শস্য ও ঘাস সংগ্রহ করত। একদিন, কিয়ান তার মাকে বলল যে, সে শহরের বাজারে, যেখানে সে তার গবাদি পশু বিক্রি করতে যেত, সেখানে একটি মেয়ের সাথে দেখা করেছে। তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। সেই সময়ের রীতি অনুযায়ী, কিয়ান তার মাকে অনুরোধ করল সেই মেয়ের বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতে। বৃদ্ধা বিধবা প্রথমে খুব খুশি হলেন যে তার ভালো ছেলে বড় হয়েছে এবং বিয়ের কথা ভাবছে। তিনি মেয়েটির নাম জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু যখন কিয়ান বলল যে মেয়েটি হল শাহজাদী, রাজার একমাত্র মেয়ে, তখন বিধবা অবাক হয়ে গেলেন। তিনি তার ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে রাজা কখনই এই বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হবেন না। কিন্তু কিয়ান জিদ ধরে বসে থাকায়, শেষ পর্যন্ত মা রাজি হলেন এবং পরের দিনই রাজার সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শাহজাদী রাজার একমাত্র মেয়ে তার কথামতো, পরের দিন সকালেই বিধবা রাজপ্রাসাদের গেটে হাজির হলেন এবং রাজার সাথে দেখা করার অনুরোধ করলেন। রাজা তাকে সসম্মানে বসতে বললেন এবং ধৈর্য সহকারে তার কথা শুনলেন। যখন কিয়ানের মা বললেন যে তার ছেলে রাজার একমাত্র আদরের মেয়েকে বিয়ে করতে চায়, তখন দরবারের সবাই, কর্মকর্তারা এবং রাজপ্রহরীরা হতবাক হয়ে গেল। কিন্তু বিচক্ষণ রাজা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালেন না, শুধু তার দাড়িতে হাত রেখে চুপচাপ ভাবতে লাগলেন। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর রাজা বললেন, “আমি তোমার স্বামীকে চিনতাম, সে ছিল খুবই সৎ এবং পরিশ্রমী। সবাই বলে যে কিয়ানও তার বাবার মতোই কর্তব্যপরায়ণ। তবে তোমার ছেলে এখনও তরুণ। তার কোনো শিক্ষা নেই, কোনো দক্ষতা নেই, আর সে তোমাদের খামার ছাড়া পৃথিবীর কিছুই দেখেনি। তাকে বলো, সে যখন নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করবে, তখনই আমার মেয়ের হাত পাবে। তার আগে নয়।” সেই সন্ধ্যায়, কিয়ান তার মায়ের কাছ থেকে খবর শুনে খুবই মন খারাপ করল। সে তখনই শপথ নিল যে সে এমন সব দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জন করবে যা রাজাকে গর্বিত করবে। সে ঠিক করল, যে সে তার পরের দিনই বাড়ি থেকে দূরে যাত্রা শুরু করবে এবং পৃথিবী সম্পর্কে যতটা সম্ভব শিখবে। তার দরিদ্র মা তাকে আবারও বারন করতে পারলেন না, তাই তিনি তার জন্য রুটি বানালেন এবং যখন সে পরের দিন সকালে যাত্রা শুরু করল তখন তাকে আশীর্বাদ করলেন। কিয়ান মাসের পর মাস হাঁটতে লাগল, উপত্যকা, বন এবং পাহাড়ের চূড়া পেরিয়ে অনেক শহর এবং গ্রামে গেল। সে পৃথিবী অনেক দেশের ও সেখানকার বাসিন্দাদের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখল। অবশেষে, সে একটি নদীর কাছে পৌঁছে ভাবল যে কাছাকাছি একটি বড় আখরোট গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবে। বিশ্রাম নিতে বসে আড়ামোড়া ভাঙতে ভাঙতে যখন সে বলল “ও-আহ-ও! আমি এত হাঁটাহাঁটি করে ক্লান্ত এবং ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, কিন্তু আমি যা শিখেছি তা হল পৃথিবী যেখানেই যাই না কেন, সব জায়গায় একই! ” এই কথাগুলো তার মুখ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই একটি অদ্ভুত ছোট্ট মানুষ আখরোট গাছের পথে হাজির হল। মানুষটির উচ্চতা কিয়ানের হাঁটু পর্যন্তই হবে, কিন্তু তার দাড়ি এত লম্বা যে তা মাটিতে লুটিয়ে যাচ্ছিল। সে একটি বিশাল সবুজ পাগড়ি পরেছিল যা দেখতে একটি তাজা আখরোটের মতো, আর তার চপ্পল ছিল গাছের বাকল দিয়ে তৈরি। “হ্যালো, ক্লান্ত বন্ধু আমার, তোমাকে কে এখানে নিয়ে এসেছে, আর তুমি কেন আমার নাম ডাকলে? ” ছোট মানুষটি জিজ্ঞাসা করল। “আমি তোমার নাম ডাকিনি, আর আমি তোমাকে চিনিও না! ” কিয়ান উত্তর দিল, যেটি এই অদ্ভুত ছোট মানুষটিকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। ও-আহ-ও “আমার নাম "ও-আহ-ও", আর তুমি যখন এই আখরোট গাছের নিচে বসেছিলে তখন স্পষ্টতই আমার নাম ডেকেছিলে। বলো, তুমি কোন পৃথিবী থেকে এসেছ? ” ছোট মানুষটি বলল। “পৃথিবী কি মুরগির দাঁতের মতো, এর বাইরেও অনেক কিছু আছে? ” কিয়ান বিভ্রান্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, যার উত্তরে ছোট মানুষটি বলল, “হয়তো অনেক, অনেক বেশি! কিন্তু দয়া করে বলো তুমি আমার কাছ থেকে কী চাও, আমি খুশি হয়ে সাহায্য করব।” কিয়ান কিছুক্ষণ ভাবল, এবং তার গল্প ছোট মানুষটিকে বলার সিদ্ধান্ত নিল। যখন ও-আহ-ও কিয়ানের গল্প শুনল, তখন সে জোরে হেসে বলল, “তুমি স্পষ্টতই সঠিক জায়গায় এসেছ, কারণ আমি ও-আহ-ও, সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর যিনি কখনও বেঁচে ছিলেন, এবং আমি একজন যোগ্য শিষ্য খুঁজছি। আমি তোমাকে অন্য অনেক পৃথিবীর মধ্যে একটি দেখাব, কিন্তু শুধুমাত্র যদি তুমি এই আখরোট গাছের মধ্যে আমার অনুসরণ করো।” এটি বলার পর, সে তার লাঠি দিয়ে আখরোট গাছের দিকে ইশারা করল, যা সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল। গাছের ফাঁক দিয়ে একটি উজ্জ্বল আলো বেরিয়ে এল, এবং ছোট মানুষটি ফাঁকের মধ্যে পা বাড়াল, কিয়ানকে তার অনুসরণ করতে ইশারা করে। কিয়ান ছোট মানুষটিকে অনুসরণ করতে দ্বিধা করছিল, কিন্তু যখন সে গাছের ফাঁকের মধ্যে উঁকি দিল, তখন সে একটি সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেল। সেখানে আখরোটের ভিতর দিয়ে তৈরি একটি ছোট ঘর ছিল, পরিপাটি এবং সুন্দর, অদ্ভুত গাছপালা এবং ফুলে ঢাকা ঢালু পাহাড়ের উপর। ঘরের কাছে একটি ছোট নদী বয়ে যাচ্ছিল, এবং সেখানে সে একটি সুন্দর যুবতী মেয়েকে দেখতে পেল, যেটি গাছের পাতা দিয়ে তৈরি পোশাক পরেছিল এবং জলে খেলছিল। কৌতূহল কিয়ানকে জয় করল, এবং সে ছোট মানুষটির পিছনে গাছের মধ্যে প্রবেশ করল, যা তার পা অন্যদিকে রাখার সাথে সাথেই পিছনে বন্ধ হয়ে গেল। আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা মেয়েটি, যার নাম ছিল পরী এবং যে ও-আহ-ও-এর কন্যা, তাদের সাথে দেখা করতে ছুটে এল। সে তার বাবা এবং তার অতিথিকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাল এবং তাদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিল। সে তার বাবাকে তার অদ্ভুত জুতো এবং পাগড়ি খুলতে সাহায্য করল এবং ক্লান্ত ভ্রমণকারীদের জন্য খাবার তৈরি করল। তার বাবা যখন হাত-মুখ ধুয়ে ধুলোমাখা পোশাক পরিবর্তন করছিলেন, তখন সে চুপচাপ কিয়ানকে জিজ্ঞাসা করল যে সে তার বাবার সাথে কী করছে। কিয়ান যখন তার অনুসন্ধানের কথা ব্যাখ্যা করল এবং ও-আহ-ও-এর শিষ্য হতে চাওয়ার কথা বলল, তখন সে তার জন্য ভীত হয়ে পড়ল। "তুমি ঘোর বিপদে আছ," পরী কিয়ানকে সতর্ক করল, "কারণ এটা সত্যি যে আমার বাবা একজন মহান জাদুকর, কিন্তু জাদু তাকে একজন দুষ্ট মানুষে পরিণত করেছে। তিনি অনেক শিষ্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, কিন্তু তারা তার কাছ থেকে কিছু শিখলেই তিনি তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেন এবং বেসমেন্টের আচার রাখার জারগুলোর ভিতরে রেখে দেন। তিনি যখন কাজ করার জন্য খুব বৃদ্ধ এবং ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, তখন তিনি তাদের পুনরুজ্জীবিত করার এবং তাদের দিয়ে তার কাজ করানোর পরিকল্পনা করেছেন।" এই কথা শুনে কিয়ান অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়ল এবং পরীকে তার নিজের জগতে ফিরে যেতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করল। পরী তাকে বলল যে শুধুমাত্র তার বাবাই আখরোট গাছটি খুলতে পারে, কিন্তু তার একটি পরিকল্পনা আছে যা কিয়ানকে বাঁচাতে পারে: "আমার বাবা তোমাকে যে জাদুই শেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, ভান করবে যেন তুমি কিছুই শিখতে পারছ না। সবসময় বোকা সেজে থাকবে, এবং হয়তো শেষ পর্যন্ত তিনি তোমাকে এমনিই যেতে দেবেন।" কিয়ান পরীর পরামর্শ গ্রহণ করল এবং পরবর্তী মাসগুলোতে যখনই ও-আহ-ও তাকে জাদুর কোনো পাঠ শেখানোর চেষ্টা করত, সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভান করত যেন সে কিছুই শিখতে পারছে না। কিয়ান এত ভালোভাবে বোকা সেজেছিল যে বৃদ্ধ জাদুকরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ও-আহ-ও কিয়ানকে বিভিন্ন প্রাণীতে রূপ পরিবর্তন করা, মানুষের চিন্তাভাবনা পড়া এবং ভবিষ্যৎ গণনা করা শেখানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ও-আহ-ও যত বেশি কিয়ানকে জাদু শেখানোর চেষ্টা করত, কিয়ান তত কম শিখত এবং তত বেশি বোকা হয়ে উঠত। অনেক হতাশাজনক মাস পরে, যখন মনে হলো কিয়ান একটিও জাদুর মন্ত্র শিখতে পারেনি, তখন ও-আহ-ও সিদ্ধান্ত নিল যে যথেষ্ট হয়েছে এবং সে তার বোকা শিষ্যকে বিদায় করতে চায়। সে কিয়ানকে বলল, "বাবা, তুমি অনেকদিন ধরে তোমার বাড়ি থেকে দূরে আছ এবং তোমার মা নিশ্চয়ই তোমার জন্য চিন্তিত। হয়তো তোমার ফিরে গিয়ে তার সাথে দেখা করা উচিত? " আরও পড়ুন: 'জাকা তারুব ও দেবকন্যা' ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককাহিনী কিয়ান, যে অবশ্যই পালানোর এই সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিল, সঙ্গে সঙ্গে ও-আহ-ও-এর সাথে একমত হলো এবং তারা দুজনেই আখরোট গাছের দিকে রওনা হলো। ও-আহ-ও তার লাঠি নাড়ালো এবং আগের মতো গাছটি খুলে গেল। কিয়ান দ্রুত ও-আহ-ও-কে বিদায় জানাল এবং খোলার মধ্য দিয়ে পা বাড়াল, নিজের জগতে ফিরে এসে খুশি হলো। কিয়ান অন্য দিকে পা দেওয়ার সাথে সাথেই ও-আহ-ও তার পেছনে চিৎকার করে বলল, "বিদায় এবং মুক্তি! তুমি কয়েক মাস ধরে আমার মেয়ের রান্না খেয়েছ, এবং আমি যতই চেষ্টা করি না কেন জাদুর কিছুই শিখতে পারোনি। যাও, আর কখনও এখানে ফিরে আসার চেষ্টা করো না! " তারপর সে তার লাঠি নাড়ালো এবং গাছটি ধপ করে বন্ধ হয়ে গেল। কিয়ান, যে জাদুকরের হাত থেকে পালাতে পেরে খুশি এবং স্বস্তি পেয়েছিল, তার আর কখনও ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না এবং সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দিকে ছুটে গেল। তার বৃদ্ধ মা তাকে দেখে খুশি হলেন এবং বললেন, "বলো বাবা, এত দীর্ঘ যাত্রার পর তোমাকে কী দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারি? " কিন্তু কিয়ান যখন তার পুরনো বাড়ির দিকে তাকাল, তখন সে দেখল যে তার মায়ের দেওয়ার মতো কিছুই নেই, কারণ তার অনুপস্থিতিতে তিনি দরিদ্র হয়ে পড়েছিলেন এবং জমিটি অযত্নে পড়ে ছিল। কিয়ান তার মাকে নিঃস্ব অবস্থায় ফেলে যাওয়ার জন্য অপরাধবোধ করল, তাই সে হেসে বলল, "চিন্তা করো না, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। আগামীকাল সকালে, যখন তুমি গোয়ালঘরে যাবে, তখন সেখানে একটি চমৎকার ছাগল দেখতে পাবে। তাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে ১০টি রুপোর মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করবে, এবং তার চেয়ে কম কিছুতে নয় - তবে নিশ্চিত করবে যে বিক্রি করার আগে ছাগলের মুখ থেকে লাগাম খুলে আনবে, এবং লাগামটি বাড়িতে নিয়ে আসবে।" কিয়ানের মা রাজি হলেন, এবং পরের দিন সকালে তিনি অবাক হয়ে দেখলেন যে সত্যিই, একবার খালি থাকা গোয়ালঘরে একটি সুদর্শন ছাগল রয়েছে। এটির লম্বা, বিলাসবহুল এবং সিল্কের মতো কাশ্মীরি পশম, উজ্জ্বল চোখ এবং বিশাল শিং ছিল। তিনি ছাগলটিকে বাজারে নিয়ে গেলেন এবং বিক্রির জন্য প্রস্তাব দিলেন। অনেক লোক ছাগলের দাম জিজ্ঞাসা করল, এবং যখন তিনি বললেন যে এটির দাম ১০টি রুপোর মুদ্রা, তারা সবাই পিছিয়ে গেল। তবে দিনের শেষে, একজন ধনী জমিদার এলেন, এবং ছাগলটি দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে যে কোনো মূল্যে এটি তার চাই। যখন তার বন্ধুরা এত উচ্চ মূল্যে ছাগলটি কিনতে নিষেধ করল, তখন ধনী জমিদার ঘোষণা করলেন যে তিনি এর চেয়ে ভালো ছাগল আর কখনও দেখেননি, এবং এটি দামের যোগ্য, কারণ এটি তার প্রতিবেশীদের যে কোনও ছাগলের চেয়ে ভালো, এবং নিঃসন্দেহে একই মানের অনেক বাচ্চা হবে যা তিনি বিক্রি করতে পারবেন, এইভাবে তার টাকা পুনরুদ্ধার করে এবং অবশেষে তাকে আরও ধনী করে তুলবে। তিনি বৃদ্ধ বিধবাকে ১০টি রুপোর মুদ্রা গুনে দিলেন, কিন্তু যখন তিনি ছাগলের মুখ থেকে লাগাম খুলে নিলেন, তখন তিনি বিরক্ত হলেন। ক্রেতা অর্ধেক রসিকতা করে জিজ্ঞাসা করলেন, "এই সুদর্শন ছাগলের জন্য আমি যে দাম দিয়েছি তার জন্য কি তুমি আমাকে এই পুরনো দড়িটুকুও দিতে পারবে না? " কিন্তু বৃদ্ধ মহিলা অনড় ছিলেন যে তাকে লাগামটি রাখতে হবে, কারণ তার ছেলে তাকে নির্দেশ দিয়েছিল। ধনী জমিদার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ছাগলের মুখে নিজের লাগাম পরিয়ে দিলেন এবং তার বন্ধু ও নতুন ছাগলকে নিয়ে গর্বের সাথে বাজার থেকে বেরিয়ে গেলেন। জমিদার তার নিজের সম্পত্তির দিকে শহরের বাইরে কিছুটা হেঁটেছিলেন, যখন ছাগলটি হঠাৎ করে তার গলার লাগামটি এমন জোরে ঝাঁকুনি দিল এবং টানল যে এটি জমিদারের হাত থেকে পড়ে গেল এবং ছাগলটি মুক্ত হয়ে গেল। জমিদার অভিশাপ দিলেন, সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেন এবং তার বন্ধুদের সহায়তায় ছাগলটিকে ধরার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ছাগলটি দ্রুত কিছু ঝোপঝাড় এবং কাঁটাগাছের মধ্যে দৌড়ে গেল, যেখানে কেউ তাকে দেখতে বা ধরতে পারল না। সেখানে ছাগলটি হঠাৎ করে একটি ইঁদুরে রূপান্তরিত হলো, এবং বাজারের দিকে ছুটে গেল। এদিকে, বৃদ্ধ বিধবা টাকা দিয়ে যতটা সম্ভব খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছিলেন এবং বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন, তার প্যাকেজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরটিকে লক্ষ্য না করে। যখন তিনি বাড়িতে পৌঁছালেন, তিনি প্যাকেজগুলো নামিয়ে রাখলেন এবং তার ধুলোমাখা পোশাক পরিবর্তন করতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ইঁদুরটি চুপচাপ তার লুকানোর জায়গা থেকে বেরিয়ে এল এবং ধোঁয়ার কুন্ডলী দিয়ে তার ছেলে কিয়ানে পরিণত হলো। সে ও-আহ-ও-এর কাছ থেকে রূপ পরিবর্তনের পাঠ ভালোভাবে শিখেছিল, শেষ পর্যন্ত! বৃদ্ধ বিধবা তার ছেলেকে ছাগল বিক্রির টাকা গর্বের সাথে দেখালেন, তিনি জানতেন না যে ছাগলটি আসলে তার ছেলেই ছিল। তারা রাতে ভালো খাবার খেল এবং গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ল, কিন্তু বিধবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে, তার ছেলে তাকে বলল যে ঠিক পরের দিন সকালে, তিনি যেন কুকুরের ঘরে যান, যেখানে তিনি একটি চমৎকার শিকারী কুকুর পাবেন। তারপর তিনি কুকুরটিকে বাজারে নিয়ে গিয়ে ৪০টি রুপোর মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করবেন, কিন্তু কিয়ান তাকে মনে করিয়ে দিলেন যে তিনি যেন কুকুরের কলারটি কুকুরের সাথে বিক্রি না করেন এবং পরিবর্তে এটি বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। দেখলেন সুন্দর চেহারার শিকারী কুকুর রয়েছে এবং ঠিক পরের দিন সকালে, বিধবা অবাক হয়ে দেখলেন যে একবার খালি থাকা কুকুরের ঘরে সত্যিই একটি সুন্দর এবং সম্ভ্রান্ত... --- > লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো লোকগাথাটি আজও ভিয়েতনামের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সমাজে পিতা-মাতার ধার্মিকতা ও আনুগত্য ইত্যাদি কনফুসীয় প্রভাব - Published: 2025-02-20 - Modified: 2025-02-20 - URL: https://www.sabjanta.info/vietnamese-mythology-of-lac-long-quan-and-au-co/ ভিয়েতনামী সমাজের উপর কনফুসীয় প্রভাব প্রবল যেমন পিতা-মাতার ধার্মিকতা এবং আনুগত্য কেন্দ্রীক। ভূত, আত্মা এবং পৌরাণিক প্রাণী সহ অতিপ্রাকৃত ইত্যাদি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে সংযোগের প্রতীক। লাখ লং কুয়ান এবং আউ কো: লোকগাথা আজও ভিয়েতনামের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক আউ কো এবং লাখ লং কুয়ান হাজার হাজার বছর আগে, কিং দিওং ভুয়াং-এর রাজত্বকালে, শিক কুয়ি রাজ্য ছিল এক বিস্তীর্ণ অজানা ভূমি, যেখানে একদিকে ছিল সুউচ্চ পর্বতমালা, আর অন্যদিকে ছিল এক দীর্ঘ উপকূলরেখা, যা সাগরের দিকে প্রসারিত। কিং দিওং ভুয়াং বিয়ে করেন লং নু নামের এক রাজকন্যাকে, যিনি দোং দিং লেকের শাসক দোং দিং ভুয়াং-এর কন্যা ছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় সুন লাম, কিন্তু রাজ্যে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন লাখ লং কুয়ান নামে, যার অর্থ "লাকের ড্রাগন প্রভু"। লং নুর বংশধারার কারণে, সবাই বিশ্বাস করত যে লাখ লং কুয়ান ড্রাগন বংশের সন্তান। সত্যিই, তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক শক্তিশালী ও অতুলনীয় বুদ্ধিমান। কিন্তু তার মায়ের জলজগতের উত্তরাধিকার তাকে সাগরের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করাতে লাগল। তরুণ লাখ লং কুয়ানকে প্রায়শই দেখা যেত উপকূলের ধারে ঢেউ উপভোগ করতে ও সামুদ্রিক জীবজগৎ অন্বেষণ করতে। সময় অতিবাহিত হলে তিনি পিতার সিংহাসনে বসেন এবং লাক-ভিয়েত জাতিগোষ্ঠীর শাসক হন। এদিকে, উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে আরেকটি শক্তিশালী রাজ্য ছিল, যার রাজা ছিলেন দে লাই। দে লাই-এর এক অপরূপা কন্যা ছিলেন, যার নাম আউ কো। দুই রাজ্যের ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দে লাই তার কন্যার বিবাহ লাখ লং কুয়ানের সঙ্গে সম্পন্ন করতে রাজি হন। এক বিরাট রাজকীয় ভোজসভা আয়োজন করা হয়, এবং আউ কো ও লাখ লং কুয়ানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই বিবাহের মাধ্যমে দুই রাজ্যের মিলন ঘটল এবং সবাই আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠল। আরও পড়ুন: চু কোই ও বট গাছ - ভিয়েতনামের আরও একটি সুন্দর রূপকথা কিছুদিন পর, আউ কো এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটান—তিনি একটি থলির মধ্যে একশোটি ডিম প্রসব করেন! এই ডিমগুলো থেকে একশোটি সুদর্শন ও বলবান শিশু জন্ম নেয়। তারা তাদের পিতার মতো শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ছিল, আবার মায়ের মতো দয়ালু ও দক্ষ ছিল। তাদের শিখানো হয় কীভাবে জমি চাষ করতে হয় এবং কীভাবে সম্মান ও গৌরবের সঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়। কিন্তু অল্প কিছুদিন পর, লাখ লং কুয়ান ও আউ কোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। লাখ লং কুয়ানের মন সবসময় সমুদ্রের দিকে টানত, আর আউ কোর হৃদয় সবসময় পাহাড়ের উচ্চতার জন্য আকুল হতো। অবশেষে, তারা একটি সিদ্ধান্ত নেন—তাদের সন্তানদের দুই ভাগে ভাগ করবেন। Picture credit: thesmartlocal. com লাখ লং কুয়ান তার পঞ্চাশ সন্তানকে উপকূলে নিয়ে গেলেন এবং তাদের বিভিন্ন অঞ্চলের শাসনভার দিলেন। তিনি তাদের শিখালেন কীভাবে মাছ ধরতে হয়, কীভাবে সমুদ্রের ভয়ংকর প্রাণীদের থেকে আত্মরক্ষা করতে হলে শরীরে উল্কি আঁকতে হয়, এবং কীভাবে বাঁশের নল ব্যবহার করে চাল রান্না করতে হয়। অন্যদিকে, আউ কো তার পঞ্চাশ সন্তানকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে গেলেন। তিনি তাদের শেখালেন কীভাবে অরণ্যে ও পাহাড়ে বসবাস করতে হয়, কীভাবে পশুপালন করতে হয়, এবং কীভাবে জমি চাষ করে ফলগাছের চাষ করতে হয়। এছাড়া, তিনি তাদের শেখালেন কীভাবে বাঁশের খুঁটির ওপর ঘর তৈরি করে বন্য পশুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হয়। লাখ লং কুয়ান ও আউ কোর এই সন্তানদেরই ভিয়েতনামের পূর্বপুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। আজও, ভিয়েতনামের জনগণ নিজেদের "ড্রাগনের সন্তান ও পরীদের বংশধর" বলে মনে করে, যা লাখ লং কুয়ানের ড্রাগন বংশ ও আউ কোর পরী জাতির মিলিত উত্তরাধিকার প্রকাশ করে। তারা বিশ্বাস করে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, সবার শেকড় এক। ঠিক যেমন লাখ লং কুয়ান ও আউ কো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যে তারা কখনও একে অপরকে ভুলবে না এবং সবসময় একে অপরকে সাহায্য করবে—তেমনি, সমস্ত ভিয়েতনামবাসীকে পরস্পরকে ভালোবাসতে, সম্মান করতে ও রক্ষা করতে হবে। এই কিংবদন্তি আজও ভিয়েতনামের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং তাদের গর্বের উপাখ্যান হিসেবে বিবেচিত হয়। --- > ওয়েলউইটশিয়া মিরাবিলিসের একটি আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ, যা হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বাসস্থান নামিব মরুভূমি, যেখানে বৃষ্টিহীন বছর কাটে। - Published: 2025-02-18 - Modified: 2025-02-18 - URL: https://www.sabjanta.info/welwitschia-live-2000-year-found-in-namib-desert/ আপনি কি কখনও এমন একটি গাছ দেখেছেন যা দেখতে যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার অংশ? একটি উদ্ভিদ যার মাত্র দুটি পাতা, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লম্বা হতে থাকে? তাহলে পরিচয় করিয়ে দিই ওয়েলউইটশিয়া মিরাবিলিসের সঙ্গে—একটি আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ, যা হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে! কী কারণে ওয়েলউইটশিয়া এত অনন্য? আজীবন দুটি পাতা ওয়েলউইটশিয়া কখনোই দুটি পাতার বেশি গজায় না। এটি যখন একটি ছোট চারা থাকে, তখন থেকেই এর পাতা গজানো শুরু হয় এবং পুরো জীবদ্দশায় ক্রমাগত লম্বা হতে থাকে! এই পাতাগুলি ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং জট পাকানো ফিতার মতো দেখতে হয়। দীর্ঘতম জীবন্ত পাতা উদ্ভিদ জগতের মধ্যে ওয়েলউইটশিয়ার পাতা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী! কিছু ওয়েলউইটশিয়ার বয়স ২,০০০ বছরের বেশি বলে মনে করা হয়, এবং এত বছর পরেও এর পাতা বাড়তেই থাকে! মরুভূমির বাসিন্দা ওয়েলউইটশিয়া নামিব মরুভূমির মতো কঠিন পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। এটি নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলার রুক্ষ, শুষ্ক এলাকায় জন্মায় এবং কঠিন আবহাওয়ায় বেঁচে থাকার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত। কুয়াশা থেকে জলের যোগান এই উদ্ভিদটির পাতা এমনভাবে গঠিত যে, সমুদ্র থেকে আসা কুয়াশা থেকে জল সংগ্রহ করতে পারে। এটি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পেতে সাহায্য করে। লুকানো কাণ্ড ওয়েলউইটশিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত, মোটা কাণ্ড থাকে, যা বেশিরভাগই মাটির নিচে লুকানো থাকে। এটি জল ও পুষ্টি সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। Picture credit: uni-hamburg. de ওয়েলউইটশিয়া কীভাবে মরুভূমিতে টিকে থাকে? ওয়েলউইটশিয়া মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য কিছু চমৎকার কৌশল ব্যবহার করে— লম্বা শিকড়: এর গভীর শিকড় মাটির গভীরে পৌঁছে জল সংগ্রহ করতে পারে। প্রশস্ত পাতা: এর চওড়া পাতা উদ্ভিদটিকে ছায়া দেয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ধীর বৃদ্ধির হার: এটি খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, যা শক্তি ও সম্পদের সংরক্ষণে সাহায্য করে। আরও পড়ুন: চিলির আটাকামা মরুভূমিতে উজ্জল সবুজ শক্ত ঢিপিগুলি কি পাথর ? কেন ওয়েলউইটশিয়া গুরুত্বপূর্ণ? ওয়েলউইটশিয়া নামিব মরুভূমির বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয় ও খাদ্য সরবরাহ করে এবং মাটি স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি এমন একটি উদ্ভিদ, যা চরম পরিবেশে টিকে থাকার আশ্চর্যজনক অভিযোজন সম্পর্কে আমাদের শেখায়। কোথায় দেখা যাবে ওয়েলউইটশিয়া? যদি কখনো আপনি নামিব মরুভূমিতে ভ্রমণের সুযোগ পান, তাহলে ওয়েলউইটশিয়া মিরাবিলিস খুঁজে দেখতে ভুলবেন না! এটি বিশ্বের অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না—এটি প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়! মজার তথ্য! ওয়েলউইটশিয়া মিরাবিলিস ১৮৫৯ সালে অস্ট্রিয়ান উদ্ভিদবিদ ফ্রিডরিখ ওয়েলউইটশ আবিষ্কার করেন। তিনি এই অদ্ভুত উদ্ভিদ দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে, তার নিজের নামেই এর নামকরণ করেন! Picture credit: iugs-geoheritage. org নামিব মরুভূমি: সমুদ্রের সঙ্গে মিশে থাকা বিস্ময় আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে - অ্যাঙ্গোলা, জাম্বিয়া, বোতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সীমান্তে - নাম্বিয়া অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি, প্রায় মঙ্গোলিয়ার সমান। দক্ষিণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলি প্রায় জনশূন্য। নামিব মরুভূমির ভূগঠনে নুড়িপাথর, স্থানান্তরিত বালির টিলা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাহাড় রয়েছে। নামিবের বালির টিলাগুলি 1,000 ফুট (300 মিটার) উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা এগুলিকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বালির টিলাগুলির মধ্যে একটি করে তোলে। নামিবে প্রায় কোনও বৃষ্টিপাত হয় না। তবে উপকূল বরাবর প্রায়শই ঘন কুয়াশা থাকে। সমুদ্রের উপর থেকে ঠান্ডা বাতাস স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে কুয়াশা তৈরি হয়। Picture credit: global-geography. org বিশ্বের কয়েকটি মরুভূমি এমন এক অপূর্ব ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা সত্যিই বিস্ময়কর। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ হলো নামিব মরুভূমি। দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তৃত এই মরুভূমি নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। নামিব মরুভূমিকে বিশ্বের প্রাচীনতম মরুভূমিগুলোর একটি বলে ধরা হয়। গবেষকদের মতে, এটি প্রায় ৫৫-৮০ মিলিয়ন বছর ধরে শুষ্ক পরিবেশ বজায় রেখেছে, যা একে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মরুভূমিতে পরিণত করেছে। নামিব মরুভূমির উচ্চ বালিয়াড়িগুলো (dunes) সরাসরি আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে, যা বিশ্বের খুব কম জায়গায় দেখা যায়। এই বালিয়াড়িগুলো লালচে-কমলা বর্ণের এবং উচ্চতায় ৩২৫ মিটারেরও বেশি হতে পারে। "বিগ ড্যাডি" ও "ডিউন ৪৫" হলো এর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত বালিয়াড়ি। নামিব মরুভূমির আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক, কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আসা কুয়াশা এখানে প্রাণের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। এখানকার ফ্লোরা ও ফাউনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওয়েলউইচিয়া উদ্ভিদ, টোক-টোকী পোকা এবং মরুভূমির অভিযোজিত সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী। নামিব মরুভূমির সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সোসুসভ্লাই (Sossusvlei), ডেডভ্লাই (Deadvlei) এবং স্কেলেটন কোস্ট (Skeleton Coast) নামিব মরুভূমির বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। নামিব মরুভূমি এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক গঠন, যেখানে অরণ্যহীন বালির ঢেউ মহাসাগরের জলরাশির সঙ্গে মিশে এক স্বপ্নিল দৃশ্যের জন্ম দেয়। এর প্রাচীনত্ব, অনন্য ভূ-প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য একে বিশ্বে এক বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। --- > লেবুর ব্যবহার, মানে কাগজি অথবা পাতিলেবু যাকে রান্নার উপকরন হিসাব বাদেও রান্নাঘরের সবথেকে বেশি ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন পরিষ্কার করা, - Published: 2025-02-14 - Modified: 2025-02-14 - URL: https://www.sabjanta.info/various-usage-of-lemon-in-kitchen/ লেবুর ব্যবহার, মানে কাগজি অথবা পাতিলেবু যাকে রান্নার উপকরন হিসাব বাদেও রান্নাঘরের সবথেকে বেশি ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন পরিষ্কার করা রান্নাঘর বা অন্যান্য উপকরন। ফ্রিজে মাছ, মাংস রাখলে গন্ধ বেরোচ্ছে? ফ্রিজে লেবুর একটা টুকরো রেখে দিন, ব্যাস, দুর্গন্ধ কেটে যাবে। আপেল বা অন্যান্য ফল কেটে রাখলে লালচে হয়ে যায়? সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে রাখুন আর লালচে হবে না। ভাত রান্নার শেষ দিকে অল্প পরিমাণ লেবুর রস দিয়ে নিন। ধবধবে সাদা ভাত তো হবেই, সাথে বেশ একটা সুগন্ধও আসবে। গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অর্ধেকটা লেবু নিয়ে রস চুষে খেয়ে ফেলুন, কাঁটা নরম হয়ে নেমে যায়। সাদা কাপড়কে আরো ধবধবে সাদা করতে চান ? গরম জলে লেবুর টুকরো দিয়ে মিনিট ১০ ডুবিয়ে রাখলেই হবে। মুরগী বা পাঁঠার মাংস সিদ্ধ হতে সমস্যা? রান্না করার আগে লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে রাখুন আধ ঘণ্টার মত। ব্রয়লার মুরগি রান্নার আগে লেবুর রস মাখিয়ে রাখলে যেকোন উটকো গন্ধটা অনেকটাই কমে যায়। রান্না অতিরিক্ত ঝাল হয়ে গিয়েছে? লেবুর রস মিশিয়ে দিন এক চামচ, এতে খাবারের অতিরিক্ত ঝাল কমে যায়। আদা-রসুন কাটার পর বা পেস্ট বানানোর পর হাত থেকে গন্ধ বের হয়? হাতে লেবুর রস মেখে নিন, এতে হাতের দুর্গন্ধ কমে যায়। ছোট মাছের চচ্চড়ি রান্নায় পিল করে লেবুর খোসা মাছের ওপরে বিছিয়ে দিন, তারপর ঢাকনা দিয়ে ওভেন নিভিয়ে দিন। খোসা গুলো ফেলে দিয়ে পরিবেশন করুন। ফ্লেভার অসাধারণ হয়। ঘরে ভ্যানিলা এসেন্স নেই? লেবুর খোসা ভেজিটেবল পিলার দিয়ে ছিলে নিন অথবা লেবুর রস ব্যবহার করুন। লেবুর সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে খুব সহজেই বেসিন পরিষ্কার করা যায়। এক-দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডার এবং এক টেবিল চামচ লেবুর রস এক কাপ গরম জলে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রণটিকে বেসিনে ছিটিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ সেটিকে রেখে জল দিয়ে বেসিনটি ধুয়ে নিতে হবে। আপনার কাটিং বোর্ড হিজিবিজি কালো দাগে ভরে গেছে? অথবা তীব্র গন্ধযুক্ত? অর্ধেক লেবুর রস এবং মোটা লবণ দিয়ে ঘষুন। তারপর স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে শুকাতে দিন। রান্নাঘরে যদি খুব বেশি পিপড়ে বা মশার উপদ্রব? তাহলে লেবুর রস, জল এবং একটি দারুচিনির কাঠি ফুটিয়ে নিন। প্রতি লিটার জলের জন্য প্রায় ৪-৫টি লেবু। এটি বাটিতে ঢেলে সুরক্ষিত জায়গাগুলিতে ছড়িয়ে দিন । পিঁপড়ে দূরে রাখতে, যেখানে তারা সাধারণত দেখা যায় সেখানে লেবুর জল (দুই ভাগ জল থেকে এক ভাগ লেবু) স্প্রে করুন। আরও পড়ুন: রান্নাঘরের সু-অভ্যাস যা পুরো পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে মনে রাখা ভাল:- বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম রান্নায় লেবুর রস ব্যবহার করলে ভিটামিন সি-এর উপকারিতাগুলি নষ্ট হয়ে যায়। অনেকের মতে তা আবার উপকারের পরিবর্তে শরীরের ক্ষতি করে। তাহলে এবার থেকে গরম খাবারে লেবুর রস ব্যবহারের আগে স্বাস্থ্যের কথাও ভেবে নিন। --- > চিলির আতাকামা মরুভূমিতে ইয়রেটা নামক হাজার বছরের পুরনো ঘন ঝোপঝাড় আছে, দেখে মনে হয় পাথরের উপর শ্যাওলা জমে আছে। আসলে এটি জীবন্ত - Published: 2025-02-06 - Modified: 2025-02-07 - URL: https://www.sabjanta.info/iireta-wonder-plants-on-andes-atacama/ চিলির আটাকামা মরুভূমিতে ইয়রেটা নামক হাজার বছরের পুরনো ঘন ঝোপঝাড় আছে, যা দেখে মনে হয় পাথরের উপর শ্যাওলা জমে আছে। আসলে এটি ডালপালা এবং পাতার একটি গুচ্ছ যা এত শক্ত যে এর উপর বসা বা শোয়া পর্যন্ত যায়। ইয়রেটা - Iiareta বা Yareta : কি এগুলি ? দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা আন্দিজ। দৈর্ঘে ৭ হাজার এবং প্রস্থে ৫০০ কিলোমিটার, গড় উচ্চতা ১৩ হাজার ফুট। আন্দিজের বিবর্ণ ধূসর রঙা উপত্যকার রুক্ষ পাথুরে জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাশি রাশি উজ্জ্বল পান্না সবুজ ঢিপিগুলির দেখা পেয়ে আনন্দে নেচে ওঠে বহিরাগত পর্যটক বা অভিযাত্রীদের মন। মরুভূমির মধ্যে মরুদ্যানের দেখা পেলে বেদুইনদের মনে যেমন অপরিসীম আনন্দের সৃষ্টি হয় ঠিক তেমনই । আলগা পাথর, রুক্ষ পাথুরে মাটির মধ্যে উজ্বল সবুজ গোলাকার মসৃণ বোল্ডারগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দেখে মনে হয় কেউ যেন নরম মখমলের ঢাউস কুশন পেতে রেখেছে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য। পাথরের গায়ে কি তাহলে সবুজ শ্যাওলা জমেছে! ছুটে গিয়ে ছুঁতে চান অভিযাত্রীরা। কাছে গিয়েই ভুলটা ভাঙে। দেখতে সেরকম মনে হলেও, আদৌ মখমলের মত নরম নয়। সবুজ গোলাকার ঢিপিগুলি পাথরের মত শক্ত ও নিরেট। অনেকটা ঠিক এঁচোড়ের গায়ের মতো। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে আঙুল ডোবেই না। কী এগুলো! বিস্ময়ে অবাক হয়ে যান পর্যটক থেকে অভিযাত্রীরা। একটা পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যদি এসে শুয়ে পড়েন একটি সবুজ বোল্ডারের ওপর। বোল্ডারগুলি এতটাই শক্ত ও এতটাই নিরেট যে একটুও বসে যায় না। Picture credit: S. Rae under CC-by-2. 0 via Wikicommons একটা ছুরি দিয়ে এই সবুজ বোল্ডারের মত দেখতে বস্তুটির একটা অংশ কেটে নিয়ে ওই অংশে আগুন দিলে তা সহজেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। তবে এটা কোন ভাবেই পাথরে আগুন নয় অর্থাৎ এর নীচেও কোনও পাথর নেই। আমরা যাকে সবুজ বোল্ডার বলে উল্লেখ করছিলাম তা আসলে এক একটি গাছ। যাদের বয়স প্রায় ৩০০০ বছর বা তারও বেশি । চিরসবুজ এই গাছটির নাম ইয়রেটা। বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাজোরেলা কমপ্যাক্টা। পৃথিবীর দীর্ঘজীবী উদ্ভিদগোষ্ঠীদের মধ্যে অন্যতম হল এই ইয়রেটা। চিলির অত্যন্ত শুষ্ক আটাকামা মরুভূমি, বলিভিয়া, পেরু ও পশ্চিম আর্জেন্টিনায় মূলত এদের বাস। আন্দিজ পর্বতমালার সাড়ে ১০ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় এই উদ্ভিদদের দেখা মেলে। জনমানবহীন ওই স্থানগুলিতে রৌদ্রস্নাত দিনের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি। রোজ রাতে তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমে যায়। অত্যন্ত শীতল, শুষ্ক, বৃষ্টিহীন এলাকায় এরা টিকে থাকে হাজার হাজার বছর ধরে। অনুর্বর মাটি, বেশি পরিমাণ অ্যাসিড বা ক্ষার যুক্ত মাটি, জল দাঁড়ায় না এমন মাটিতেই জন্মায় আজব উদ্ভিদ ইয়রেটা। মাটির একেবারে কাছাকাছি জন্মায় ইয়রেটা। যেখানকার তাপমাত্রা পরিবেশের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এক দুই ডিগ্রি থাকে মাটির ফিরিয়ে দেওয়া তাপের কারণে। ইয়রেটা বৃদ্ধি হয় খুবই মন্থরগতিতে। প্রতি বছর গড়ে মাত্র দেড় সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। জানলে অবাক হতে হয়, Apiaceae পরিবারের এই সপুষ্পক উদ্ভিদটির আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে আমাদের অতি পরিচিত পার্সলে আর গাজর গাছ। যদিও চেহারা, আকৃতি ও চরিত্রে ভগ্নাংশের মিলও নেই। আরও পড়ুন: বাংলা ভাষায় প্রথম ঔপন্যাসিক ও ভাষাবিদ প্যারীচাঁদ মিত্র পাথরের মতো শক্ত কেন সবুজ ইয়রেটা? সমস্ত পর্যটকের মনেই একই প্রশ্ন থাকে কারণ এরকম গাছের কথা সত্যই কেউ শোনেননি। তাই বলতে হয় ইয়রেটার কাণ্ডের ওপরে লক্ষ লক্ষ ছোট পাতা ও কুঁড়ি একেবারে গায়ে গায়ে জমাট বেঁধে আছে। সবুজ ফুলকপি বা ব্রকোলির ওপরটা যেমন নিরেট মনে হয় এই গাছের চারদিকটা তেমনই নিরেট মনে হয়। কাণ্ড দেখা যায় না - কিন্তু কেন! আসলে চরম আবহাওয়ায় টিকে থাকতে গেলে নিরেট হওয়া ছাড়া এদের উপায় ছিল না। মাটিতে জলের ভয়ংকর অভাব, যাতে শরীরের জল বাষ্প হয়ে বেরিয়ে না যায় তাই পাতাগুলি গায়ে গায়ে জুড়ে থাকে। লম্বা হলে প্রবল হাওয়া মূলশুদ্ধ গাছকে উপড়ে দেবে, তাই উচ্চতায় না বেড়ে পাশাপাশি বেড়ে হাওয়াকে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেয় বুদ্ধিমান ইয়রেটা। গোলাপি ও ল্যাভেন্ডার রঙের ছোট ছোট ফুল হয়। একই গাছের পুরুষফুল ও স্ত্রী ফুলের মধ্যে পরাগমিলন ঘটায় পতঙ্গ। ইয়রেটারা - এখন কেমন আছে ! কদিন থাকবে জানি না। সহজে জ্বালানো যায় বলে প্রাচীন কাল থেকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করার কারণে ও বৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম হওয়ার জন্য আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে ইয়রেটারা। গাছগুলিকে যদিও সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে, তবে আমার মনে হয় এরা আর বেশি দিন নেই। --- > জাকা তারুব ও দেবকন্যা গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিখ্যাত লোককাহিনী। একজন পুরুষ ও তার দেবদূত স্ত্রীর গল্প। - Published: 2025-02-03 - Modified: 2025-02-03 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/ জাকা তারুব ও দেবকন্যা গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিখ্যাত লোককাহিনী। একজন পুরুষ ও তার দেবদূত স্ত্রীর গল্প। বেশিরভাগ জাভানিজ মানুষ এই গল্পটি মাধ্যমে যেকোনো মানুষ এমনকি তাদের প্রিয়জনদের কাছে মিথ্যা বলা এড়াতে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাকা তারুব ও দেবকন্যা গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিখ্যাত লোককাহিনী। একজন পুরুষ ও তার দেবদূত স্ত্রীর গল্প। বেশিরভাগ জাভানিজ মানুষ এই গল্পটি মাধ্যমে যেকোনো মানুষ এমনকি তাদের প্রিয়জনদের কাছে মিথ্যা বলা এড়াতে স্মরণ করিয়ে দেয়। Picture credit: jalapantura. com জাকা তারুব ও দেবকন্যা - ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলের লোকগাথা অনেকদিন আগের কথা, একবার এক যুবক ছিল, তার নাম ছিল জাকা তারুব। সে ছিল এক সাধাসিধে মানুষ, প্রকৃতির সৌন্দর্যে মোহিত হতে ভালোবাসত। একদিন সে বনের পথ ধরে চলছিল। হঠাৎ সে এক হ্রদের ধারে এসে দাঁড়ায়। সে শুনতে পায় মিষ্টি হাসির শব্দ, যেন কেউ বা করা জলকেলি করছে। কৌতূহলবশত সে লুকিয়ে দেখল—সাতজন অপরূপ সুন্দরী নারী হ্রদের জলে আনন্দে মগ্ন! তারা হাসছে, কৌতুক করছে, খেলছে। জাকা তারুব তাদের অপূর্ব সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে গেল। একটু ভালো করে দেখতেই সে বুঝল—এরা কোনো সাধারণ নারী নয়, দেবকন্যা! অজানা আকর্ষণে সে চুপিচুপি একটি দেবকন্যার ওড়না বা "শাল" তুলে নিল, যা তাদের স্বর্গে ফেরার একমাত্র মাধ্যম ছিল। কিছুক্ষণ পর, দেবকন্যারা জল থেকে উঠে আসতে লাগল। সবাই তাদের শাল পরে একে একে আকাশে উড়ে চলল। কিন্তু একজন দেখতে পেল তার শাল নেই! সে বড়ই বিপদে পড়ল। তার ছয় বোন অনেক খুঁজেও শালটি পেল না। আকাশে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। নিরুপায় হয়ে তার বোনেরা তাকে একা ফেলে স্বর্গে ফিরে গেল। অসহায় দেবকন্যা বসে কাঁদতে লাগল। এমন সময় জাকা তারুব এগিয়ে এসে দুঃখভরা মুখে বলল, "তুমি কেঁদো না, আমি তোমার সাহায্য করতে পারি।" তিনি দেবকন্যাকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের বন্ধন গড়ে উঠল। কিছুদিন পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলো। দেবকন্যার নাম ছিল নাওয়াং উলান। বিয়ের পর তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করতে লাগল। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নিল এক কন্যাসন্তান, যার নাম রাখা হলো নাওয়াংসিহ। কিন্তু নাওয়াং উলানের একটি রহস্য ছিল। তিনি রান্নার জন্য প্রতিদিন মাত্র একটি ধানের দানা ব্যবহার করতেন, যা দিয়ে এক হাঁড়ি ভাত তৈরি হয়ে যেত! তবে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, জাকা তারুব কখনোই তার রান্নার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। আরও পড়ুন: আসল বন্ধুত্ব - সুন্দর একটি চৈনিক উপকথা কিন্তু কৌতূহলী জাকা তারুব একদিন লুকিয়ে দেখে নিল তার রান্নার রহস্য। সে দেখতে পেল হাঁড়ির ভেতর সত্যিই মাত্র একটি ধানের দানা রয়েছে! পরদিন থেকে নাওয়াং উলানের সেই অলৌকিক শক্তি হারিয়ে গেল। এখন তাকে সাধারণ নারীদের মতো ধান কুটতে এবং চালে রূপান্তর করতে হলো। এরপর ধীরে ধীরে তাদের ঘরের ধানের ভান্ডার কমতে লাগল। একদিন, ধানঘরে চাল খুঁজতে গিয়ে নাওয়াং উলান হঠাৎই তার সেই হারিয়ে যাওয়া শালটি খুঁজে পেল! সে বুঝতে পারল, এতদিন তার স্বামীই ওড়নাটি লুকিয়ে রেখেছিল। ক্রোধে ও কষ্টে নাওয়াং উলান আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকতে চাইল না। সে জাকা তারুবকে বলল, "তুমি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ! আমি আর তোমার সঙ্গে থাকতে পারব না।" জাকা তারুব কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চাইতে লাগল, অনুরোধ করল তাকে ছেড়ে না যেতে। কিন্তু নাওয়াং উলানের মন নরম হলো না। তবে তিনি একটি শর্ত দিলেন—তিনি মাঝে মাঝে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, শুধু তার কন্যা নাওয়াংসিহকে দুধ খাওয়ানোর জন্য। তবে সে এলে, জাকা তারুব তার সামনে থাকতে পারবে না। তাকে একা কন্যার কাছে রেখে যেতে হবে। বিধ্বস্ত জাকা তারুব তার শাস্তি মেনে নিল। চোখের সামনে তার প্রিয় স্ত্রী আকাশে উড়ে স্বর্গে ফিরে গেল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুসারে, মাঝে মাঝে নাওয়াং উলান পৃথিবীতে ফিরে আসত, কন্যাকে কোলে নিয়ে স্নেহ করত। কিন্তু জাকা তারুবের কাছে সে আর কখনোই ফিরে আসেনি। এটি ছিল জাকা তারুব ও দেবকন্যা নাওয়াং উলানের মর্মস্পর্শী কাহিনি, যা বলে— মিথ্যা ও প্রতারণা ভালোবাসার বন্ধন নষ্ট করে দেয়। --- > ঈশপ কে ছিলেন? ঈশপ ছিলেন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন যিনি খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বেঁচে ছিলেন। তিনি ছয়শোরও বেশি কল্পকাহিনী লিখেছিলেন। - Published: 2025-01-30 - Modified: 2025-01-30 - URL: https://www.sabjanta.info/aesop-fables-and-life-of-aesop/ ঈশপ কে ছিলেন? ঈশপ ছিলেন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ যিনি খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বেঁচে ছিলেন। তিনি ছয়শোরও বেশি কল্পকাহিনী লিখেছিলেন। ঈশপের কল্পকাহিনীগুলি ছিল ছোট ছোট গল্প। এগুলির মধ্যে নৈতিক বা পাঠ শেখানোর বিষয় থাকে। ঈশপের কল্পকাহিনীগুলির বৈশিষ্ট্য ছিল যে তার গল্পের চরিত্রগুলি মানুষের বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রাণী। তাঁর গল্পগুলির মধ্যে নৈতিক বা শিক্ষণীয় বিষয় অবশ্যই থাকবে । কল্পকাহিনী মুখে বলার মাধ্যমে অনেক নীতি-কথা ব্যক্ত করে আধুনিক বিশ্বে অমর হয়ে রয়েছেন। ঈশপ কে ছিলেন? : একটি বিস্ময়কর জীবন অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখনও গ্রিস আর রোমের সভ্যতা ছিল দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সভ্যতা। কিন্তু সেই সময়েও পৃথিবীতে চলত অন্য এক কঠিন নিয়ম— কিছু মানুষ ছিল স্বাধীন, আর কিছু মানুষ ছিল দাস। এই দাসদের জীবন ছিল খুব কঠিন। তাদের নিজেদের কোনো ইচ্ছা-স্বাধীনতা ছিল না। ঠিক এমনই একজন দাস ছিলেন ঈশপ। কিন্তু সাধারণ দাসদের থেকে তিনি ছিলেন একেবারেই আলাদা। কেন জানো? কারণ, ঈশপ ছিলেন অসম্ভব বুদ্ধিমান! তাঁর কথা বলার ধরন, গল্প বলার কৌশল, আর মানুষের ভাবনা বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। কিন্তু কেমন ছিল তাঁর জীবন? আসো, শোনা যাক এক আশ্চর্য গল্প! আরও পড়ুন: গোপাল ভাঁড়ের 10টি সেরা হাসির গল্প পড়ুন এক ক্রীতদাসের জন্ম অনেকেই বলেন, ঈশপ জন্মেছিলেন আজকের তুরস্কের কাছাকাছি কোনো এক জায়গায়, খ্রিস্টপূর্ব ৬২০ থেকে ৫৬০ সালের মধ্যে। তবে কোথায়, সেটি কেউ ঠিক নিশ্চিত করে বলতে পারে না। এমনকি আফ্রিকা, জাপান আর ইংল্যান্ডের কিছু লোকও দাবি করেছিল যে, ঈশপ তাঁদের দেশেরই মানুষ! তবে জন্ম যেখানে-ই হোক না কেন, ঈশপের শৈশব কিন্তু ছিল কষ্টের। তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস। তাঁর মালিক ছিলেন কঠোর মানুষ, যিনি ঈশপকে অবহেলা করতেন। তাছাড়া, ঈশপ দেখতে খুব সুন্দরও ছিলেন না। তাঁর চেহারা দেখে, গলার আওয়াজ শুনে, অন্যরা অনেক সময় তাঁকে নিয়ে মজা করত, ব্যঙ্গ করত। কিন্তু ঈশপ কি দমে গিয়েছিলেন? মোটেও না! বুদ্ধির জোরেই মুক্তি ঈশপের ভাগ্যে পরিবর্তন আসে তখন, যখন তিনি অন্য এক মালিকের কাছে গেলেন। নতুন মনিব ছিলেন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ। তিনি ঈশপের অসাধারণ বুদ্ধি দেখে অবাক হয়ে গেলেন! কেবল গল্প বলার মাধ্যমে ঈশপ মানুষকে হাসাতে পারতেন, ভাবাতে পারতেন, এমনকি শেখাতেও পারতেন। এই গুণ দেখে তাঁর মনিব একদিন বললেন, “তুমি এত বুদ্ধিমান! তোমার তো দাস হয়ে থাকার কথা নয়।” আর তারপরই ঈশপকে তিনি মুক্তি দিয়ে দিলেন। মুক্ত হয়েই ঈশপ বেরিয়ে পড়লেন নতুন এক জগতে। তিনি রাজা-বাদশাদের দরবারে গেলেন, মানুষের ভিড়ে গিয়ে গল্প শুনিয়ে মন জয় করলেন। তাঁর গল্প ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু প্রতিটি গল্পের মধ্যে ছিল এক গভীর শিক্ষা। আরও পড়ুন: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা’র পৌরাণিক গল্প - চালাক মাকড়সা আনান্সি গল্পের জাদু ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে গ্রিস, রোমের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল ঈশপের গল্প। রাজা থেকে সাধারণ মানুষ— সবাই তাঁর গল্প শুনে মুগ্ধ হত। এমনকি শোনা যায়, বন্দি অবস্থায় বসে মহাজ্ঞানী সক্রেটিস পর্যন্ত ঈশপের কিছু গল্প লিখে রেখেছিলেন! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় জানো? ঈশপ কখনোই নিজের গল্পগুলো নিজে লিখে রাখেননি। তাই তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে ডেমেত্রিয়াস নামে এক ব্যক্তি প্রথমবার তাঁর গল্পগুলো একত্র করে লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। তারপর থেকে এই গল্পগুলোই হয়ে উঠল দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় নীতিকথার গল্প। আজও আমরা যখন শেয়াল ও কাকের গল্প, খরগোশ আর কচ্ছপের দৌড়ের গল্প শুনি, তখন কি ভাবতে পারি, সেই গল্পগুলোর স্রষ্টা ছিলেন এক বুদ্ধিমান ক্রীতদাস? যিনি কেবল গল্পের মাধ্যমেই জয় করেছিলেন দুনিয়া? এটাই তো আসল শিক্ষা, তাই না? জন্ম কিংবা চেহারা নয়, মানুষের সত্যিকারের শক্তি লুকিয়ে থাকে তার জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, আর গল্প বলার ক্ষমতায়! --- > আমরা জানব পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী এবং জানব পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া নদী কোনটি । কোন জলধারাকে নদী বলতে গেলে কিছু আবশ্যিক বৈশিষ্ট দরকার। - Published: 2025-01-29 - Modified: 2025-01-29 - URL: https://www.sabjanta.info/narrowest-and-widest-river-in-the-world/ আমরা জানব পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী এবং জানব পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া নদী কোনটি । কোন জলধারাকে নদী বলতে গেলে কিছু আবশ্যিক বৈশিষ্ট দরকার। যেমন নদী বলতে সাধারণত মিষ্টি জলের একটি প্রাকৃতিক জলধারা যা প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট নদী পথ হয়ে প্রবাহ শেষে অন্য কোন নদী বা জলাশয়ে পতিত হয়। যদিও নদীর গঠন অনুযায়ী আমরা তাদের শাখানদী, উপনদী, নদ ইত্যাদি নামে ডেকে থাকি । 1. পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া নদী : আমাজন Picture credit: cntraveler. com আমাজন হল পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া নদী। যখন গরমকালে নদীর জল কমে যায় তখনও আমাজনের অনেক এলাকা চওড়ায় প্রায় ১১ কিমি থাকে যেগুলি বর্ষায় প্রায় ৪০ কিলোমিটারে দাঁড়ায় । আমাজন নদীর জল নিঃসরণের পরিমাণে বিশ্বের বৃহত্তম নদী। আমাজন নদী সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় অন্তর্দৃষ্টি দেওয়া হল নিচে। আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ জুড়ে প্রবাহিত। আমাজন নদীর উৎস হল রিও আপুরিম্যাক, পেরুর আরেকুইপা অঞ্চলে অবস্থিত মিসমি পিক। সাম্প্রতিক অতীতে একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম পেরুর মান্তারো নদীই আমাজন নদীর প্রকৃত উৎস। পৃথিবীর সমস্ত নদী একত্রে যত জল সমুদ্রে ঢালে, আমাজন একাই তার 20% বহন করে আটলান্টিক মহাসাগরে নিয়ে যায়। আমাজন নদীর জল নিষ্কাশনের পরিমাণ হল, আমাজনের পরবর্তী সাতটি বৃহত্তম স্বাধীন নদীর মিলিত পরিমাণের চেয়েও বেশি। আমাজন নদীর অববাহিকা অনেক দক্ষিণ আমেরিকার দেশ যেমন ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, গায়ানা, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া এবং বলিভিয়ার অন্তর্ভুক্ত।আমাজন নদীর অববাহিকার বেশিরভাগই রেনফরেস্ট দ্বারা আচ্ছাদিত যা পৃথিবীর বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। আরও পড়ুন: নিজের শব্দের প্রতিধ্বনি কেবল নিজে শুনুন অদ্ভুত 2. পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী : হুয়ালাই Picture credit: newstrack. com হুয়ালাই হল পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী। মঙ্গোলিয়ার এই ছোট্ট নদী এক লাফেই পার হওয়া যায় । পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে যার। এর গড় প্রস্থ ১৫ সেন্টিমিটার। সবচেয়ে সরু পয়েন্টটি মাত্র ৪ সেন্টিমিটার চওড়া। তবে লম্বায় মোটেই ক্ষুদ্রতম নয়, পুরো দস্তুর ১৭ কিলোমিটার। নদী হতে গেলে যেসব শর্ত মানতে হয়, সেগুলো মেনেই নদীর মর্যাদা পেয়েছে হুয়ালাই। এক লাফে পার হওয়া যায় বলে হুয়ালাইকে হেলাফেলা করা যাবে না । কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ হাজার বছর ধরে হুয়ালাইতে জলের প্রবাহ একই রকম আছে। মাটির তলায় থাকা একটি স্রোত থেকেই এ নদীর উৎপত্তি। এরপর থেকে কখনই এর প্রবাহ বন্ধ হয়নি। অর্থাৎ নদী শুকিয়েও যায়নি। নদীর জল এঁকে বেঁকে গিয়ে পড়েছে হেক্সিগট্যান গ্রাসল্যান্ড নেচার রিজার্ভের দালাই নুর লেকে। সারাবছরই এই হুয়ালাই নদীতে স্রোত থাকে। গভীরতা গড়পড়তায় ৫০ সেন্টিমিটার হলেও এর জল কিন্তু একদম স্বচ্ছ। যা দিয়ে আশপাশে সেচের কাজ তো হয়ই, বন্য প্রাণীরাও আসে নদীতে তৃষ্ণা মেটাতে। --- > মোটিভেশনাল গল্প বা উক্তি আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিতে ও ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আমরা জীবনে ভালো মানুষ হবার অনুপ্রেরণা পাই। - Published: 2025-01-26 - Modified: 2025-01-26 - URL: https://www.sabjanta.info/top-2-motivetional-stories-in-bengali-language/ মোটিভেশনাল গল্প বা উক্তি আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিতে ও ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আমরা জীবনে ভালো মানুষ হবার অনুপ্রেরণা পাই। মোটিভেশনাল গল্প বা উক্তি আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিতে ও ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আমরা জীবনে ভালো মানুষ হবার অনুপ্রেরণা পাই। সেই গল্পগুলো আমরা পড়ি, আমরা জানি, তা থেকে শিক্ষাও নিই । কিন্তু সেগুলো বেশীদিন মেনে চলা হয়ে ওঠে না। তাই বার বার গল্পগুলো পড়তে হয়। 1. ঝুঁকি নিতে পারলেই জীবনে সাফল্য আসবে: একটি অনুপ্রেরনা বা মোটিভেশনাল গল্প এক গ্রামে পিন্টু ও মিন্টু নামে দুই যুবক বাস করত । তারা দুজনেই বেকার । দিনমজুরের কাজ ছাড়া গ্রামে আর কোনো কাজই তারা দেখছে না । এইদিকে নব বিবাহিতা স্ত্রী নিয়ে দুজনের একই রকম পারিবারিক অবস্থা । ভিন্ন মানসিকতার হলেও দুজনের একটাই সাধারণ সমস্যা, আর সেটা হলো কীভাবে রোজগার করা যায় । এই সব ভাবতে ভাবতে পিন্টুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল । সে মিন্টুকে বলল দুজনে মিলে যদি একটা করে গরু কেনা যায়, তাহলে কেমন হবে । গরুর দুধ বিক্রি ক’রে কিছু টাকা পাওয়া যাবে । আর গরুর বাচ্চাও হবে, ফলে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকবে । দুধও বেশি বেশি হবে । আর এভাবে দুজনই একদিন অনেক টাকার মালিক হয়ে যাবে । গরুর সংখ্যা যখন বাড়বে, তখন অনেক লোক রাখবে দেখাশুনার জন্য ফলে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হবে —-এভাবে দুজনই একদিন ধনী হয়ে উঠবে । এভাবে পিন্টু তার ভাবনার কথা মিন্টুকে জানায় । এই প্রস্তাবটি মিন্টুরও খুব ভালো লাগে । সেও প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায় । তারা দুজনে কথা পাক্কা করে ফেলে । খুব আনন্দ আর উদ্দীপনা নিয়ে দুজনেই বাড়ি যায় । দুজনেই তাদের এই উদ্যোগের কথা তাদের নিজেদের স্ত্রীকে জানায় । পিন্টুর স্ত্রী সব শুনে খুব আনন্দের সঙ্গে তার গয়না খুলে স্বামীর হাতে দিয়ে বলল ” খুব ভালো পরিকল্পনা, আমার গয়না বিক্রি করে গরু কেনো । যখন বেশি রোজগার হবে, তখন নাহয় আবার গয়না কেনা যাবে । ” স্ত্রীর কথায় গর্বিত হয় পিন্টু । এদিকে মিন্টু তার পরিকল্পনার কথা স্ত্রীকে জানালে তার স্ত্রী বলল ”দেখো একে তো আমাদের কিছুই নেই । খালি কয়েকটা মাত্র গয়না সম্বল । আর তা বিক্রি করে গরু কিনবে । কিন্তু যদি গরুটি মরে যায তখন কি হবে”। মিন্টুর মনেও খটকা লাগে । মনে হয় তার স্ত্রী ঠিকই বলছে । কারণ গরু যদি মরে যায় তাহলে তাদের একমাত্র সম্বল গয়নাগুলিও যাবে — গরু ও যাবে । এত ঝুঁকি নেওয়াটা উচিৎ হবে না । পরের দিন দুই বন্ধুর দেখা হলে মিন্টু বলে ”ভাই পিন্টু, গরু যদি মরে যায় তাহলে... . ? “ পিন্টু তখন বলল ”এত নেগেটিভ চিন্তা করছিস কেন ? কেনার আগেই গরুর মরার কথা ভাবছিস ? আর গরু কোন কারণেই বা মরতে যাবে ? ” মিন্টু একই সুরে হতাশ জবাব দেয় ”তা তো বুঝলাম যে গরু মরবে না । কিন্তু ধর, যদি মরে যায় ? তাহলে কী হবে ? “ পিন্টু অত্যন্ত স্নেহ ভ’রে জবাব দেয় “তোর ‘তাহলে’র জবাব আমার কাছে নেই । ” মিন্টু বলে ”এই তাহলে’র জবাব আমার কাছে আছে । আমরা বরবাদ হয়ে যাবো । সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবো ।“ অত্যন্ত বেদনাহত হয়ে পিন্টু বলল ”কিন্তু তুই কেন বার বার ভাবছিস যে গরুটা মরে যাবে ... . . একটু অন্যভাবে ভেবে দেখ , গরুটা দুধ দেবে । আমরা বিক্রি করবো । প্রথমে পয়সাগুলো জমাবো । তারপর আরও গরু কিনবো । অনেক পয়সা হবে যখন, তখন অনেক গয়না কেনা যাবে, বাড়িও বানানো যাবে । এভাবে দুধের বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠব দুজন । ” কিন্তু মিন্টুর ওই এক কথা এক যুক্তি ”ব্যবসা টাকা বাড়ি গয়না সব হবে তখনই, যখন গরুটা বেঁচে থাকবে । ” এরপর অনেক বোঝানোর পরেও মিন্টু তোতাপাখির মতো বলতে থাকে গরু মরার কথা । পিন্টু আর বোঝাতে পারে না শুধু বলে ”দেখ মিন্টু, ঐরকম ভাবলে তুই কোনোদিনও কোনো কাজ করতে পারবি না । এই ধরণের ভাবনা ঠিক নয় । কারণ তুই আগে অন্ধকার দিকটাই দেখছিস । ” এইভাবে দুই বন্ধুর তর্কের পর কয়েকদিন গেল । পিন্টু একাই একটা দুগ্ধবতী গরু কিনে ফেলল । সে এখন আর দিন মজুরের কাজ করে না । সকাল থেকে সন্ধ্যা গরুর দেখাশুনা করে, দুধ দোয় । প্রথম কিছুদিন দুধের ক্রেতা খুঁজতে, গরুর পরিচর্যা করতে কষ্ট হয়েছিল । কিন্তু ধীরে ধীরে পিন্টু এই কাজগুলোতে দক্ষ হয়ে উঠতে লাগলো । Picture credit: padmatimes24. com আর দিনমজুরের কাজের শেষে মিন্টু রোজ তার কাছে আসতো, আর পিন্টুর সংঘর্ষ করার, পরিশ্রমের বিষয়টি দেখতো । আর ভাবতো তাদের দিনমজুরের জীবন কত ভালো ছিল । রোজ সকালে কাজে যেত আর বিকেলে ফিরে এসে সন্ধ্যায় কাজ কর্মহীন আড্ডা দিতে পারত । এখন পিন্টুর জীবনে আড্ডা দেবার অবসর নেই । তার উপর এত ঝুঁকি নিয়ে কেন যে গরু কিনলো । গরু যদি মরেই যায় । সবই যাবে তার । আর ঐ দিকে কালো গরুর মধ্যেই জীবনের আলো দেখতে পায় পিন্টু । সে দ্বিগুন উৎসাহে কাজ করতে লাগলো । এটা ঠিক যে তার কাছে এখন অবসর নেই । কিন্তু সুন্দর ভবিষ্যতের কল্পনায় সময় নষ্ট করতে সে রাজি নয় । এইভাবে দিন যায় । আস্তে আস্তে তার ক্রেতা বাড়তে থাকে । গরু বাড়তে থাকে । কাজের লোকও বাড়তে থাকে । গরু ও তার মরে নি । অন্যদিকে মিন্টু গরু মরার কথা ভাবে আর একইভাবে দিনমজুরের কাজ করে যায় । এদিকে পিন্টু ধীরে ধীরে ধনী হতে থাকে ক্রমশঃ । বন্ধুরা - এই গল্পের অন্তর্নিহিত অর্থ যদি আমরা বুঝতে পারি, তাহলে আমাদের জীবনে পদক্ষেপ নেওয়ার শিক্ষাটি অর্জন করতে পারবো । এসো খুব কম কথায় দেখে নেই আমরা শিখলাম:- 'কিন্তু', 'যদি', 'তবে' ইত্যাদির জালে আটকে পড়ে থাকতে নেই । নেতিবাচক ভাবনা কখনোই মাথায় আনতে নেই । 'নো রিস্ক, নো গেইন' অর্থাৎ ঝুঁকি নিতে পারলেই জীবনে সাফল্য আসবে । আরও পড়ুন: তিমুন মাস - ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় লোককথা 2. 'আজ'- এটাই একমাত্র সত্য : অনুপ্রেরনামূলক বা মোটিভেশনাল গল্প 'আজ - এটাই একমাত্র সত্য' কোন কাল্পনিক গল্প নয় । এটা চার্লস ক্যাটারিং 'এর জীবনের একটা অংশ। এই মোটিভেশনাল গল্প আমাদের উদ্বুদ্ধ করে সফলতার দিকে যেতে। অনেকদিন আগের কথা । একটা সময় ছিল যখন মোটর গাড়ি স্টার্ট করতে হতো ইংরেজি Z অক্ষরের মতো একটা হ্যান্ডেল দিয়ে । অনেক পরিশ্রম, শক্তি ও সময় ব্যায় ক’রে গাড়িগুলো স্টার্ট করতে হতো । অর্থাৎ সেই সময় যে কোনো গাড়ি স্টার্ট করা ছিল একটা রীতিমতো হুজ্জতির ব্যাপার । একজন তরুণ যুবক যিনি ছিলেন ‘জেনারেল মোটর্স রিসার্চ কর্পোরেশনের ‘ ভাইস প্রেসিডেন্ট । তিনি বন্ধুদের বললেন যে একটা ছোট্ট চাবি দিয়ে গাড়িগুলো স্টার্ট করা যেতে পারে । কিন্তু বন্ধুরা হেসে উড়িয়ে দিলেন তার কথাটি । এবং যারা শুনলেন সকলেই বললেন যে , অসম্ভব কল্পনা তার । আর তার খেয়ালি কল্পনার জন্য মজাও করতে ছাড়লেন না । বললেন যে , “একটা ছোট্ট চাবি দিয়ে এত বড় মোটর গাড়িকে স্টার্ট করা সম্ভব নয় ।” কিন্তু আজ আমরা জানি যে এটাও সম্ভব হয়েছে । এখন একটা ছোট্ট চাবি দিয়ে অর্থাৎ সেল্ফ স্টার্টারের মাধ্যমে গাড়ি স্টার্ট করা যায় । কীভাবে এটা সম্ভব হলো ? এবার সে বিষয়ে বলা যাক। তার নাম চার্লস ফ্রাঙ্কলিন ক্যাটারিং (Charles Franklin Kettering) । সংক্ষেপে চার্লস এফ ক্যাটারিং নামেই পরিচিত আজ । যিনি এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন । তিনি যখন গাড়ির সেল্ফ স্টার্ট এর আবিষ্কারের স্বপ্ন দেখতেন । তখন তার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রচুর সময় এবং পরিশ্রম । বাধ্য হয়েই তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন । যে কোনো গবেষণার জন্য অর্থেরও প্রয়োজন । চাকরি না থাকায় তাঁর অর্থের অভাব দেখা দিল । তাঁর ব্যাংক ব্যালান্স ফুরোতে লাগলো । একটা সময় সবই ফুরিয়ে গেল । তখনও চার্লস ক্যাটারিং সফল হতে পারলেন না । একটার পর একটা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে লাগলো । গবেষণা চালিয়ে যাবার জন্য আরো পয়সার প্রয়োজন হতে লাগলো । হতাশ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেবেন , নাকি কাজ চালিয়ে যাবেন । তিনি জমি জমা গয়না ইত্যাদি বিক্রি করতে লাগলেন । একটা সময় সেসবও ফুরিয়ে গেল । শেষ সম্বল রইলো পৈতৃক সম্পত্তি চাষের খেত আর বসত বাড়িটি । পৈতৃক সম্পত্তি আর ফিরে পাওয়া যায় না , তাই তিনি বসত বাড়িটি বিক্রি করে দিলেন । আর ক্ষেতের এক ধারে কুঁড়ে ঘর বানিয়ে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাস করতে লাগলেন । গভীর গবেষণায় তিনি এতই নিমগ্ন যে , আত্মীয় বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে লাগলেন । তার উপর বন্ধু , আত্মীয় সকলেই তার স্ত্রীকে বললেন যে তিনি কেন এত পাগলামি মেনে নিচ্ছেন ? সন্তানদের ভবিষ্যৎ নেই ? কিন্তু তাঁর স্ত্রী বললেন যে তারা তো কষ্ট করছেনই , কিন্তু ক্যাটারিং সাহেব নিজে যে এত পরিশ্রম করছেন নিজের শরীরের দিকে তাকানোর পর্যন্তও অবসর নেই -এটাই তাকে বেশি চিন্তায় রাখছে । অর্থাৎ তার স্ত্রী স্বামীর কাজকে, তার অধ্যবসায়কে সমর্থনই করছেন । আরও পড়ুন: ভারতীয় রসায়নের জনক ও এক মনীষী এত কিছু সত্ত্বেও চার্লস ক্যাটারিং কিন্তু বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে , তিনি একদিন সফল হবেন । দীর্ঘ কয়েক বছর পর অবশেষে তাঁর স্বপ্ন সফল হলো । তিনি যেদিন সেল্ফ স্টার্টের প্রদর্শন করেন , সে দিন সকলেই অবাক । সমস্ত মোটর শিল্পের লোকেরা তার টেকনিক কিনে নিতে লাগলেন আর দেখতে দেখতে তিনি অনেক অর্থের মালিক হয়ে উঠলেন । বিশ্বের বিখ্যাত সব পত্র পত্রিকা তাঁকে ঘিরে ধ’রে তাঁর সাফল্যের কারণ জানতে চাইলো । ” অনেক অনেক বাধার পরেও নিজের লক্ষ্য পূরণ করেই ছাড়লেন , আপনার এতো ধৈর্যের উৎস কী ? ” এর উত্তর দেওয়ার জন্য ক্যাটারিং সাংবাদিককে তাঁর সেই কুঁড়ে ঘরে নিয়ে গেলেন , আর ঘরের সমস্ত জিনিসের মাঝে থেকে একটা ছোট্ট পাথর বের করে দেখালেন আর বললেন , ” এটাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি “। দেখা গেল সেই পাথরে লেখা ছিল একটি ছোট্ট কথা “আজ” । তিনি বললেন ” এই ‘আজ’ই আমার সফলতার উৎস । কারণ গতকাল মানুষের জীবনে হতাশা এনে দেয় , আগামী কাল এনে দেয় অলসতা । তাই আজই একমাত্র সত্য । আর তাই দেখুন আজ আমি সফল । ” তাহলে বন্ধুরা , দেখো এই গল্প থেকে আমরা যে শিক্ষাগুলি নিতে পারি সেগুলি হলো :- যারা ‘আজ’ নিয়ে বাঁচে তারাই সফল হয় । দুনিয়ার সমস্ত কাজ আসলে ‘আজ’ই সম্পন্ন হয় । তাই বর্তমানকে নিয়ে বাঁচাই সাফল্যের মূল সূত্র । এখন নয় তো কক্ষণো নয় । প্রতিটি সময়ই মূল্যবান । তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করা উচিত । --- > তিমুন মাস ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককথা। এটি ইন্দোনেশিয়ার তরুণীদের জীবনে যা কিছু ঘটতে পারে তার মুখোমুখি হওয়ার সাহসকে উপস্থাপন করে। - Published: 2025-01-17 - Modified: 2025-01-18 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0/ তিমুন মাস ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককথা। এটি ইন্দোনেশিয়ার তরুণীদের জীবনে যা কিছু ঘটতে পারে তার মুখোমুখি হওয়ার সাহসকে উপস্থাপন করে। তিমুন মাস ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় লোককথা। এটি ইন্দোনেশিয়ার তরুণীদের জীবনে যা কিছু ঘটতে পারে তার মুখোমুখি হওয়ার সাহসকে উপস্থাপন করে। এই গল্পটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চল থেকে সৃষ্ট । তিমুন মাস - জাভা, ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় লোককথা এক সময় মধ্য জাভার একটি গ্রামে এমবোক শ্রীনি নামে একজন মধ্যবয়সী বিধবা বাস করতেন। তার স্বামী কয়েক বছর আগে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সে একা ছেলেমেয়ে ছাড়া বাস করছিল। একাকীত্বের কারণে, সে কোন সন্তানের উপস্থিতি কামনা করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই আশা পূর্ণ হওয়া ব্যর্থ হয়েছিল কারণ তার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। এমবোক শ্রীনি ( শ্রীনি ) শুধুমাত্র কোন অলৌকিক ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন যাতে তার সন্তান হতে পারে। সে কল্পনা করত যে তার সাথে কোন একদিন একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটবে। সদা সর্বদা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করত যাতে সে একটি সন্তান পেতে পারে। এক রাতে, সেই আশা তার স্বপ্নের মাধ্যমে এসেছিল। স্বপ্নে, শ্রীনি একজন দৈত্যকে দেখেছিল । স্বপ্নে দৈত্য তাকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিল যে, বনের যে অংশে সে কাঠ কুড়াতে যায়, সেখানে একটি বড় গাছের নিচে একটি পুঁটুলি আছে । সকালে যখন সে ঘুম থেকে উঠে শ্রীনি গত রাতের তার স্বপ্নকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। Picture credit: mythfolks. com "আমার সাথে কি সত্যিই একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটতে পারে? " সে নিজের মনেই ভাবতে লাগল । তবে, শ্রীনি নিজের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক আশা নিয়ে, সে দৈত্য যা নির্দেশ করেছিল সেই বনের দিকে ছুটে গেল। বনে পৌঁছে, সে একটি বড় গাছের নিচে পুঁটুলির খোঁজ করতে লাগল । কিন্তু সে আসলে খুব অবাক হয়েছিল যখন সে একটি পুঁটুলি পেয়েছিল যা সে ভেবেছিল পুঁটুলির ভিতর একটি শিশুর থাকবে, কিন্তু দেখল কেবল একটি শশার বীজ । শ্রীনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। "দৈত্য আমাকে শশার বীজ দেওয়ার অর্থ কী? " হতভম্ব শ্রীনি আপন মনে বলতে লাগল । তার এই বিভ্রান্তির মাঝে, অজান্তেই যেন তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক দৈত্যাকার একটি ছবি যেন হাসছিল । "হা হা হা... ! " দৈত্যের হাসির শব্দ হল। শ্রীনি অবাক হয়ে তার শরীর ঘুরিয়ে তাকাল । তার স্বপ্নে দেখা দৈত্যকে স্বচক্ষে দেখে অবাক হয়ে গেল। সে ভয় পেয়ে গেল। "হে ভগবান, দৈত্যরাজ ! আমাকে খাবেন না! আমি এখনও বাঁচতে চাই," শ্রীনি ফ্যাকাসে মুখ নিয়ে অনুরোধ করলেন। "ভয় পেও না, বৃদ্ধা! আমি তোমাকে খাব না। আচ্ছা, তুমি কি সন্তান চাও না? " দৈত্য জিজ্ঞাসা করল। "ঠ... ঠিকই তো, হ্যাঁ প্রভু সন্তান চাই ! " শ্রীনি অসহায়ের মত উত্তর দিলেন। "তাহলে, অবিলম্বে ওই বীজ রোপণ কর! পরে তুমি একটি কন্যা পাবে। কিন্তু, মনে রেখো! মেয়েটি বড় হলে তুমি তাকে আমাকে দিয়ে দেবে । কারণ ভবিষ্যতে ওই হবে আমার খাদ্য" দৈত্য বলল। আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা যেহেতু সে সারা জীবন তার মন কেবল সন্তান পেতেই চেয়েছিল, তাই শ্রীনি ধীরে উত্তর দিল, "ঠিক আছে, দৈত্য! আমি ওই শিশুটি তোমাকে দিতে রাজি।" শ্রীনি তার সম্মতি দেওয়ার পরই দৈত্য অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপর শ্রীনি অবিলম্বে তার ক্ষেতে শশার বীজ রোপণ করল। আশায় আশায় প্রতিদিন সে ছোট্ট চারা গাছটির যত্ন নিত। দুই মাস পর, গাছটি ফল ধরতে শুরু করল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, শশা গাছটি শুধুমাত্র একটি ফল ধারণ করল। প্রতিদিন শ্রীনি লক্ষ করত শশাটি অন্য সাধারণ শশার চেয়ে বেশ বড় এবং আরও বড় হতে থাকে। রঙটিও বেশ আলাদা, কারণ এটি সোনালী হলুদ। শশাটি পাকলে, শ্রীনি তার ক্ষেত থেকে ভারী শশাটি তুলে নিলেন। শশাটি ভাঙতেই শ্রীনি একেবারে অবাক হয়ে গেল। শশাটির ভিতর থেকে একটি সুন্দর শিশু কন্যা প্রকাশিত হল। তাই সে শিশুটির নাম রাখল তিমুন মাস। সে তিমুন মাসের যত্ন নেয় এবং সুশিক্ষা দেয় যতক্ষণ না সে একজন সুন্দরী মহিলা হয়ে ওঠে। শ্রীনি খুব গর্বিত, কারণ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি তিমুন মাসের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা এবং একটি চমৎকার মনোভাব রয়েছে। অতএব, সে তাকে খুব ভালোবাসত। এক রাতে, শ্রীনি আবার স্বপ্ন দেখল যে একজন দৈত্য তাকে বার্তা দিয়েছে যে সে এক সপ্তাহের মধ্যে তিমুন মাসকে নিতে আসবে। সেই থেকে, সে সবসময় একা বসে থাকত। তার হৃদয় দুঃখে ভরে উঠল, কারণ তার অত্যন্ত প্রিয় সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে। সে এখন বুঝতে পারল যে দৈত্যটি আসলে একজন দুষ্ট দৈত্য, কারণ তিমুন মাসকে সে খেয়ে ফেলবে ! শ্রীনিকে প্রায়শই চিন্তিতভাবে বসে থাকতে দেখে, তিমুন মাসও মনে মনে খুব অবাক হয় । একদিন বিকেলে, তিমুন মাস তার মায়ের উদ্বেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার সাহস করল। "মা, তুমি কিছুদিন ধরে কেন তোমাকে সবসময় দুঃখী মনে হচ্ছ? " তিমুন মাস জিজ্ঞাসা করল। আসলে শ্রীনি তার উদ্বেগের কারণটি বলতে চাইনি, কারণ সে চাইত না যে তার সন্তানও দুঃখিত হোক। তবে, ক্রমাগত চাপের ফলে, সে অবশেষে তিমুন মাসের উৎপত্তি সম্পর্কে সব বলে দিল, যা এতদিন গোপন করে রেখেছিল । "আমি দুঃখিত, তিমুন ! এতদিন আমি তোমার কাছ থেকে কিছু গোপন করেছি" শ্রীনি দুঃখিত মুখে বললেন। "কি গোপন? " তিমুন মাস কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করল। "আসলে, তুমি আমার জৈবিক সন্তান নও, যেমন সকলে তাদের মায়ের গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করে" শ্রীনি উত্তর দিলেন । শ্রীনি তিমুন মাসকে এও বলেছিলেন যে একজন বিশাল দৈত্য তার সন্তানকে নিতে আসবে। গল্পটি শুনে, তিমুন মাস অবাক হয়ে গেল কারণ সে এটা বিশ্বাস করতে পারছিল না। "আমি দৈত্যের সাথে যেতে চাই না। আমি সত্যিই মাকে ভালোবাসি যিনি তিমুনকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং লালন-পালন করেছেন," তিমুন মাস বলল। টিমুন মাসের কথা শুনে, শ্রীনি আবার চিন্তিত হয়ে পড়লেন। সে তার মেয়েকে নিরাপদে রাখার উপায় খুঁজছে যাতে তিমুন দৈত্যের খাবার না হয়। দৈত্য যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেদিন পর্যন্ত, শ্রীনি এখনও কোনো উপায় খুঁজে পায়নি। তার হৃদয় উদ্বিগ্ন হতে শুরু করল। তার উদ্বেগে, সে হঠাৎ করে একটা উপায় পেল। সে তিমুন মাসকে সে বলল অসুস্থতার ভান করতে। এভাবে, দৈত্য তাকে খেতে চাইবে না। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু করল, দৈত্য তিমুন মাসকে নিতে শ্রীনির ঘরে এল। এদিকে, তিমুন মাস অসুস্থ থাকায়, শ্রীনি দৈত্যকে তিন দিন পর ফিরে আসতে বলল যতক্ষণ না তার মেয়ে সুস্থ হয়। শ্রীনি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর, দৈত্য অদৃশ্য হয়ে গেল। শ্রীনি তার মেয়েকে এরপর কীভাবে বাঁচাবে তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল। হটাৎ শ্রীনির মনে পড়ল তাদের গ্রাম থেকে দূরে পাহাড়ের অনেক উঁচুতে এক পরম জ্ঞানী তপস্বী থাকেন। পরের দিন, খুব ভোরে শ্রীনি সেই পাহাড়ের অনেক উপরের দিকে যেতে লাগল। সেখানে পৌঁছে, সে অবিলম্বে তপস্বীর সাথে দেখা করল। "হে তপস্বী! আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য হল আপনার কাছ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা " শ্রীনি বললেন। "আমি তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি, শ্রীনি? " তপস্বী জিজ্ঞাসা করলেন। শ্রীনি তার উদ্বেগের কারণটিও বলে দিলেন। শ্রীনির গল্প শুনে, তপস্বী সাহায্য করতে রাজি হলেন। "ঠিক আছে, এক মুহূর্ত অপেক্ষা করো! " তপস্বী বললেন যখন সে তার গোপন কক্ষে গেল। অল্পক্ষণ পর, তপস্বী চারটি ছোট পুঁটুলি নিয়ে ফিরে এল এবং শ্রীনিকে সেগুলি দিলেন । "এই পুঁটুলিগুলি তোমার মেয়েকে দাও। এই চারটি পুঁটুলির একেকটির ভিতর শস্যের বীজ, সূঁচ, লবণ এবং চিংড়ির পেস্ট রয়েছে। যদি দৈত্য তাকে তাড়া করে, তাকে বলো এই পুঁটুলির সামগ্রী ছড়িয়ে দিতে! " তপস্বী বললেন। এই ব্যাখ্যা শুনে শ্রীনি চারটি পুঁটুলি নিয়ে ফিরে এলেন। তাঁর ঘরে পৌঁছে শ্রীনি চারটি প্যাকেট তিমুন মাসকে দিয়ে তাদের কাজ ব্যাখ্যা করলেন। এখন শ্রীনির মন কিছুটা শান্ত হচ্ছে, কারণ তার মেয়ের কাছে ইতিমধ্যেই দানবের সাথে লড়াই করার অস্ত্র আছে। দুই দিন পর সেই দৈত্য শ্রীনির কাছে তার প্রতিশ্রুতি মত তিমুনকে নিতে এল। সে তিমুন মাসকে খাবার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছিল না। “আরে, বুড়ি! এবার তোমাকে তোমার প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। নইলে তোমাকেও আমার খাবার বানিয়ে ফেলব! ” দানব হুমকি দিল। শ্রীনি আর ভয় পায় না। শান্তভাবে সে তিমুন মাসকে ঘর থেকে বের হতে বলল। কিছুক্ষণ পরেই তিমুন মাস বেরিয়ে এসে তার মায়ের পাশে দাঁড়াল। “ভয় কোরো না, সোনা মেয়ে! যদি দানব তোমাকে ধরতে চায়, তাহলে তুমি দৌড়ে পালাবে এবং আমি যে নির্দেশ দিয়েছি তা মেনে চলবে,” শ্রীনি তিমুন মাসকে ফিসফিস করে বলল। “হ্যাঁ মা! ” টিমুন মাস উত্তর দিল। আরও পড়ুন: অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে - দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু’ র লোককথা বড় হয়ে ওঠা তিমুন মাসকে দেখে দানব আর অপেক্ষা করতে পারল না। তাকে ধরতে যাওয়ার সময় টিমুন মাস দ্রুত দৌড়াতে লাগল। দানব তার পিছনে ছুটে গেল। দূর দৌড়ানোর পর তিমুন মাস ক্লান্ত হয়ে পড়ল, আর দানব তার কাছে এগিয়ে আসছিল। অবশেষে সে তপস্বীর উপহারের পুঁটুলি বের করল। প্রথমে তিমুন মাস তার মায়ের দেওয়া শসা বীজ ছড়িয়ে দিল। অলৌকিকভাবে, আশেপাশের বন হঠাৎ করে শসার ক্ষেত হয়ে গেল। এক মুহূর্তে শসার ডালপালা ছড়িয়ে দানবের পুরো শরীর জড়িয়ে ধরল। তবে দানব সেসব ছিঁড়ে বেরিয়ে, আবার তিমুন মাসকে তাড়া করতে লাগল। তিমুন মাস সঙ্গে সঙ্গে সূঁচের প্যাকেট ছুড়ে ফেলল। এক মুহূর্তে সূঁচগুলি লম্বা ও কাঁটাযুক্ত বাঁশ গাছের বনে পরিণত হল। তবে দানব আবার সে বাধা পর করে, পুনরায় তিমুন মাসকে তাড়া করতে থাকল, যদিও বাঁশের কাঁটায় তার পা রক্তাক্ত হয়েছিল। তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে দেখে তিমুন মাস লবণের তৃতীয় প্যাকেট খুলল এবং তা ছড়িয়ে দিল। সেই মুহূর্তে, সে যে বন পার হয়ে এসেছিল তা হঠাৎ করে বিশাল ও গভীর সমুদ্রে পরিণত হল, কিন্তু দানব তখনও সাঁতার কেটে সহজেই বাধা পার করে এগিয়ে আসছিল । তিমুন মাস চিন্তিত হতে লাগল, কারণ তার কাছে আর একটি অস্ত্র ছিল। যদি অস্ত্রটি দানবকে অচল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে খাওয়া হবে। পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সে শুঁটকির শেষ প্যাকেট ছুড়ে ফেলল। অবিলম্বে, যেখানে পড়েছিল সেখানে হঠাৎ করে উত্তপ্ত কাদার সমুদ্র হয়ে গেল। ফলে, দানব কাদার সমুদ্রে পড়ে মারা গেল। সর্বশক্তি দিয়ে তিমুন মাস তার ঘরে গিয়ে তার মায়ের সাথে দেখা করল। তার মেয়ে নিরাপদে আছে দেখে শ্রীনি সর্বশক্তিমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। সেই থেকে শ্রীনি এবং তিমুন মাস সুখে বসবাস করল। --- > মালিন কুন্দাং - মূল গল্পটি পশ্চিম সুমাত্রার পদাং-এর এয়ার মানিস সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে তৈরি। এটি মালিন কুন্দাং নামে এক অকৃতজ্ঞ পুত্রের গল্প - Published: 2025-01-15 - Modified: 2025-01-15 - URL: https://www.sabjanta.info/malin-kundang-folktale-from-sumatra-indonesia/ মালিন কুন্দাং - মূল গল্পটি পশ্চিম সুমাত্রার পদাং-এর এয়ার মানিস সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে তৈরি। এটি মালিন কুন্দাং নামে এক অকৃতজ্ঞ পুত্রের গল্প, যাকে তার মা পাথরে পরিণত করার জন্য অভিশপ্ত করে। Picture credit: jakartaglobe. id মালিন কুন্দাং - মূল গল্পটি পশ্চিম সুমাত্রার পদাং-এর এয়ার মানিস সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে তৈরি। এটি মালিন কুন্দাং নামে এক অকৃতজ্ঞ পুত্রের গল্প, যাকে তার মা পাথরে পরিণত করার জন্য অভিশপ্ত করে। মালিন কুন্দাং - ইন্দোনেশিয়ার একটি লোককথা অনেক দিন আগে পশ্চিম সুমাত্রার পদাং শহরের এয়ার মানিস সৈকতের একটি জেলে পাড়ার একটি গল্প। সেখানে মান্দে রুবায়াহ নামে এক বিধবা তার ছেলে মালিন কুন্দাংকে নিয়ে থাকতেন। মান্দে রুবায়াহ তার ছেলেকে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং আদর করতেন। মালিন ধীরে ধীরে একজন পরিশ্রমী এবং মায়ের প্রতি অনুগত ছেলে হয়ে ওঠে। যখন মালিন একটু বড় হল, একবার এয়ার মানিস সৈকতে একটি বড় জাহাজ নোঙর করেছিল। তখন সে তার মায়ের কাছে ভ্রমণে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তার মা প্রথমে অনুমতি দিতে চাননি, কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে তার ছেলের যদি কিছু হয়ে যায় । কিন্তু মালিন এখন বড় হয়েছে, সে নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য তার মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করল। ভারী মনে হলেও মান্দে রুবায়াহ অবশেষে মালিনকে যেতে দিলেন। তিনি সবসময় প্রার্থনা করতেন, যাতে তার ছেলে নিরাপদে থাকে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। কিছু দিন পর যখনই কোন জাহাজ নোঙর করত, তিনি সেখানে তার ছেলের খবর জানতে চাইতেন। বহু বছর ধরে মান্দে রুবায়াহ এভাবেই খবর জানতে চাইতেন, কিন্তু কোনো উত্তর পেতেন না। এভাবেই সময়ের সাথে সাথে তিনি বুড়ো হয়ে যেতে থাকেন , তার পিঠ নুয়ে পড়ে । একদিন মান্দে রুবায়াহ কোন এক জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে খবর পেলেন যে মালিন এখন একটি ধনী অভিজাতের কন্যাকে বিয়ে করেছে। অবশেষে, এক রৌদ্রজ্জ্বল দিনে দূর থেকে একটি বিশাল এবং সুন্দর জাহাজ সৈকতের দিকে আসতে দেখা গেল। গ্রামপ্রধানরা তাকে স্বাগত জানানোর আগে, মালিনের মা আগে এগিয়ে গেলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ মালিনকে জড়িয়ে ধরলেন, যেন আবার ছেলেকে হারিয়ে ফেলবেন এমন ভয়ে। মালিন হতবাক হয়ে গেলেন, কারণ তাঁকে একজন বৃদ্ধা ছেঁড়া কাপড় পরিহিত মহিলা জড়িয়ে ধরেছে। তিনি বিশ্বাস করতে পারলেন না যে ওই মহিলা তাঁর মা। কথা বলার আগেই তাঁর সুন্দরী স্ত্রী রাগে বলল,'এই কুৎসিত মহিলা কি তোমার মা? তুমি প্রথমেই কেন আমাকে মিথ্যা বলেছিলে! তুমি তো বলেছিলে তোমার মা আমার মতোই এক অভিজাত! ' স্ত্রীর কঠোর কথা শুনে মালিন কুন্দাং সঙ্গে সঙ্গে তার মাকে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে বলল,'পাগল মহিলা! আমি তোমার ছেলে নই! ' মান্দে রুবায়াহ ছেলের এই আচরণ বিশ্বাস করতে পারলেন না। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে বললেন,'মালিন, মালিন, আমার ছেলে। আমি তোমার মা! তুমি এমন করলে কেন? ! ' মালিন কুন্দাং তার মায়ের কথা কানে নিল না। সে তার মাকে অস্বীকার করল । স্ত্রীর সামনে সে লজ্জা পাচ্ছিল। মালিন তার মাকে পা দিয়ে দূরে সরিয়ে বলল,"পাগল মহিলা! আমার মা তোমার মতো গরিব এবং মলিন নয়! " বৃদ্ধা বালিতে পড়ে কাঁদলেন আর ব্যথা পেলেন। যাঁরা এই দৃশ্য দেখলেন, তাঁরা হতবাক হয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে গেলেন। মান্দে রুবায়াহ অজ্ঞান হয়ে বালিতে পড়ে রইলেন। যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, দেখলেন এয়ার মানিস সৈকত ফাঁকা ছিল। মালিনের জাহাজ দূরে চলে যাচ্ছিল। মান্দে রুবায়াহ ভাবতেও পারেননি, যাকে তিনি এত ভালোবাসতেন, সে এমন কাজ করবে। তাঁর হৃদয় ব্যথিত ও আহত হল। আরও পড়ুন: চু কোই ও বট গাছ - ভিয়েতনামের একটি সুন্দর রূপকথা তারপর তিনি আকাশের দিকে হাত তুলে বললেন,'হে প্রভু, যদি সে আমার ছেলে না হয়, আমি তাকে ক্ষমা করে দিই। কিন্তু যদি সে আমার ছেলে মালিন কুন্দাং হয়, তবে তোমার ন্যায় বিচার চাই, হে প্রভু! ' কিছুক্ষণের মধ্যেই, সমুদ্রে আগের উজ্জ্বল রোদলা আবহাওয়া হঠাৎ অন্ধকারে ঢেকে গেল। প্রবল বৃষ্টি নামল। বড় ঝড় এল, মালিন কুন্দাংয়ের জাহাজে আঘাত করল। তারপর একটি বজ্রপাতের শব্দ হল। সেই মুহূর্তে জাহাজটি ধ্বংস হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। পরের দিন সকালে, যখন পূর্ব আকাশে সূর্য উঠল, ঝড় থেমে গিয়েছিল। সৈকতে ভাঙা জাহাজের টুকরো পড়েছিল, যা পাথরে পরিণত হয়েছে। এটি মালিন কুন্দাংয়ের জাহাজ! তার মধ্যে একটি পাথর এমন দেখাচ্ছিল যেন একজন মানুষের দেহ। --- > দ্বিজেন্দ্রলাল রায় উনবিংশ শতকের বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক ও নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন । - Published: 2025-01-10 - Modified: 2025-01-10 - URL: https://www.sabjanta.info/dwijendralal-ray-a-patriot-poet-writer-singer/ Picture credit: anandabazar. com দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডিএল রায়) জন্মেছিলেন ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই, কৃষ্ণনগরের রাজপরিবারের দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র এবং প্রসন্নময়ী দেবীর সপ্তম সন্তান হিসেবে। তাঁর ঠাকুর্দা মদনগোপাল রায় ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সেনাপতি। তাঁর পরিবারের পরিবেশ ছিল সাংস্কৃতিক এবং জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া ছিল নিয়মিত। শৈশবে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় শৈশবেই গানের প্রতি আকর্ষণ জন্মে দ্বিজেন্দ্রলালের। মাত্র ছয়-সাত বছর বয়সে হারমোনিয়াম বাজানো শিখে ফেলেন। নয় বছর বয়সে তিনি প্রথম গান লিখেছিলেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘আর্যগাথা’ প্রকাশিত হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। দ্বিজেন্দ্রলালের বয়স যখন পাঁচ বছর। পিতা কার্তিক চন্দ্র রায় ছিলেন একজন সুগায়ক। একদিন তিনি হারমোনিয়াম বাজিয়ে খেয়াল গান গাইছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল একমনে শুনছে। গাইতে গাইতে পিতা কি একটা কাজে হঠাত্ উঠে গেলেন। দ্বিজেন্দ্রলাল সেই অবসরে হারমোনিয়াম নিয়ে বসলো এবং চাবি টিপতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে কার্তিক চন্দ্র ফিরে এসে শিশু পুত্রের কান্ড দেখে অবাক। ছেলে তার গাওয়া কঠিন গানটি ঠিক ভাবে শুরু করে গাইছে। ৭ কি ৮ বছর বয়সে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একজনের অনুকরণে বক্তৃতা দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল সে। আর কি সুন্দর আবৃত্তি করতে পারত। একবার পড়েই গড়গড় করে তা বলে যেত। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় এক অবাক কান্ড ঘটল। একদিন ক্লাসের বেশিরভাগ ছাত্র পড়া তৈরি করে আসেনি। তাই শিক্ষক মহাশয় তাদের বললেন- "তোমরা সব ঘরের ধারে দাঁড়িয়ে পড়া মুখস্ত কর"। ছাত্ররা তাই করতে লাগল। খানিক পরে তিনি দ্বিজেন্দ্রলালের দিকে তাকিয়ে বললেন-"তুমি কি করছো? ও, তোমার বই নেই? তাহলে কি করে পড়বে? " দ্বিজেন্দ্র বলল-"আমার পড়া মুখস্থ হয়ে গেছে"। শিক্ষক মহাশয় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- "কিভাবে? " দ্বিজেন্দ্র জবাব দিল-"ওদের পড়া শুনে শুনে" শিক্ষক মহাশয় পরীক্ষা করে দেখলেন সত্যিই তাই অন্য ছেলেদের পড়াশোনা মুখস্থ হয়ে গেছে অথচ সেই সব ছাত্র দের কেউ বই দেখে পড়া মুখস্ত করতে পারেনি। আরও পড়ুন: প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ - ভারতবর্ষে রাশিবিঞ্জানের জনক দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কর্ম জীবন দ্বিজেন্দ্রলাল রায় পড়াশোনায়ও ছিলেন কৃতী। প্রবেশিকা, এফএ, বিএ এবং এমএ পাস করার পর তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে কৃষিবিদ্যা শেখার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখানে কৃষিবিদ্যায় বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীত ও থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। দেশে ফিরে তিনি সমাজের রীতি ভাঙার সাহস দেখান। বিলেতে যাওয়া নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারকে চ্যালেঞ্জ করেন। কৃষকদের সহায়তায়ও তিনি ছিলেন অগ্রণী। সরকারি কাজে তিনি কৃষকদের খাজনা কমিয়ে দিয়েছিলেন, যার জন্য তাঁকে ‘দয়াল রায়’ নামে ডাকত তারা। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। তিনি রচনা করেছিলেন প্রায় ৫০০টি গান, যা দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। তাঁর কালজয়ী নাটকগুলোর মধ্যে ‘রানা প্রতাপসিংহ’, ‘সাজাহান’, ‘চন্দ্রগুপ্ত’, ‘নূরজাহান’ অন্যতম। এই নাটকগুলিতে দেশাত্মবোধক গান সংযোজন করে তিনি বাঙালির মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করেছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলির মধ্যে ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ এবং ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ আজও স্মরণীয়। তিনি ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনস্কদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছিল। ১৯১৩ সালের ১৭ মে, মাত্র ৫০ বছর বয়সে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় চিরবিদায় নেন। তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতের অবদান বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আজও অনুপ্রেরণার উৎস। --- > আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, প্রখ্যাত রসায়নবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি ও ভারতীয় রসায়নের জনক। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। - Published: 2025-01-06 - Modified: 2025-01-06 - URL: https://www.sabjanta.info/prafulla-chandra-ray-father-of-indian-chemistry/ Picture credit: telegraphindia. com আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, প্রখ্যাত রসায়নবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি ও ভারতীয় রসায়নের জনক। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। এই বেঙ্গল কেমিকলস হল ভারতের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি । আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় 1861 সালের 2 আগস্ট বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির যশোর জেলার জন্মগ্রহণ করেন এবং 16 জুন 1944 তারিখে 82 বছর বয়সে কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । তাঁর মায়ের নাম ভূবনমোহিনী দেবী এবং পিতার নাম হরিশচন্দ্র রায়। জমিদার বংশের সন্তান হলেও অত্যন্ত সাদামাটা জীবনের অধিকারী ছিলেন তিনি। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় : ছাত্র জীবন 1874 সালে প্রফুল্লচন্দ্র কলকাতায় অ্যালবার্ট স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই 1878 সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন কলেজে (যা বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ) ভর্তি হন। 1881 সালে সেখান থেকে এফ এ পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে প্রেসিডেন্সী কলেজে বি এ ক্লাসে ভর্তি হন। প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় কলেজে তৎকালীন রসায়নের অধ্যাপক ছিলেন আলেক্সান্ডার পেডলার। পেডলার মূলত তার শিক্ষাদান পদ্ধতিতে তাত্ত্বিক দিকের চেয়ে ব্যবহারিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিতেন। রসায়নের চমকপ্রদ এক্সপেরিমেন্ট দিয়ে অতি সহজেই তিনি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতেন । তরুণ প্রফুল্লচন্দ্র ছিলেন তার গুণমুগ্ধ শ্রোতা। পেডলার কলেজ ল্যাবে যেসব এক্সপেরিমেন্ট করতেন তিনি বাড়ি ফিরে তার নিজের বানানো রসায়ন ল্যাবে সেই একই পরীক্ষাগুলো পুনরায় করতেন। মূলত রসায়নের প্রতি তার ভালোলাগার শুরু ওখান থেকেই। যদিও তার প্রথম ভালোবাসা ছিল সাহিত্য। যার ধারাবাহিকতায় তিনি ঘরে বসেই ল্যাটিন ও ফ্রেঞ্চ ভাষা রপ্ত করেন। কিন্তু পরবর্তী কালে তিনি রসায়নেই পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পড়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে সম্মানসূচক গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গে । সেখান থেকে বিএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন । তার থিসিসের বিষয় ছিল “কনজুগেটেড সালফেট অফ কপার ম্যাগনেসিয়াম গ্রুপ”। তার অসাধারণ গবেষনার জন্য তিনি সে বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোপ পুরষ্কার লাভ করেন এবং আরো এক বছর থিসিস করার অনুমতি পান। তার জ্ঞানের গভীরতা, দায়িত্বশীলতা, সুন্দর আচরণে তার সহপাঠী ও শিক্ষকগণ এতোই মুগ্ধ ছিলেন যে তাকে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকেল সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। আরও পড়ুন: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা - সত্যেন্দ্রনাথ বসু সেই সময়ের আরো একটি ঘটনা থেকে আমরা প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের তেজস্বীতার পরিচয় পাই । 1885 সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলার স্যার স্টারফোরড নর্থকোর্ট এক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন যার বিষয়বস্তু ছিল “ব্রিটিশ দাসত্বের আগে ও পরে উপমহাদেশের চালচিত্র।" প্রফুল্ল চন্দ্র এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি তার প্রবন্ধে তুলে ধরেন কিভাবে উপমহাদেশীয় ব্রিটিশ শাসকরা শিক্ষা সংস্কার এর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যায় অবিচার ও লুটপাটের দিকে অধিক ঝুকে পড়ছে। যদিও তিনি ওই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতেন নি, কিন্তু তার উচ্চমার্গীয় ও সোজাসাপ্টা কথা বিচারকদের মুগ্ধ করে। 1888 সালে প্রফুল্ল চন্দ্র মাতৃভূমির শিক্ষা ও গবেষণার প্রচার ও প্রসারের জন্য তিনি দেশে ফিরে আসেন। সেসময়ে ব্রিটিশরা শিক্ষক সমাজের জন্য দুটি আলাদা স্তরের সৃষ্টি করেছিল। ইম্পেরিয়াল সার্ভিস ও প্রভিন্সিয়াল সার্ভিস । ইম্পেরিয়ালের অধীনে থাকতো ব্রিটিশ শিক্ষকরা। তারা উচ্চ বেতন ও গবেষনার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেত। যার ফলে এডিনবার্গের মত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ করে এসেও প্রফুল্ল চন্দ্র রায় মাত্র ২৫০ টাকার নাম সর্বস্ব বেতনে প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগদান করেন। তখনকার আরেক বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুও ছিলেন একই বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন । তবে প্রফুল্ল চন্দ্র থেমে থাকেননি, সব বাধা মেনে নিয়েই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। সীমাবদ্ধতাকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগান তিনি। হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়েই তিনি রসায়নের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারতেন ও শিক্ষার্থীদের কাছে চমত্কার ভাবে উপস্থাপন করতেন। তবে তিনি অনুধাবন করেছিলেন রসায়নকে শুধু শ্রেণী কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না, একে কাজে লাগাতে হবে, গবেষনা করতে হবে। তিনি জানতেন যে ভবিষ্যত ভারতের উন্নয়ন নির্ভর করবে গবেষনার উপর । তাই তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার বীজ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন । যারা প্রতিনিধিত্ব করবে সমগ্র দেশের। ভারতীয় রসায়নের জনক : আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় Picture credit: newsbharati. com তিনি শুধু ভালো মেধাবী শিক্ষার্থীই চান নি চেয়েছিলেন একদল দেশপ্রেমী মেধাবী। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় নিজে কিছু ত্যগী মেধাবীকে এক ছাদের নিচে জড়ো করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক দল গড়ে তোলেন । এই দলের অনেক মেধাবী (পঞ্চানন নিয়োগী, নিল রতন ধর, প্রিয়াদা রঞ্জন রায়, বিরেশ চন্দ্র গুহ, এস এস ভাটনগর প্রমুখ) পরবর্তীতে সারা ভারতবর্ষে বিজ্ঞান গবেষনার প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় নিজে প্রায় রসায়নের 150 টি গবেষনা পত্র প্রকাশ করেছিলেন, যার 60 টি প্রকাশ পেয়েছিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সংস্থা রয়েল সোসাইটির সংবাদপত্রে। তিনি 1895 খ্রিস্টাব্দে মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করে। এটি তার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তার সমগ্র জীবনে মোট 12 টি যৌগিক লবণ এবং 5 টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন। 1916 সালে প্রফুল্ল চন্দ্র প্রেসিডেন্সী কলেজ ছেড়ে বিজ্ঞান কলেজে যোগদান করেন। 1921 সালে 60 বছর বয়সে তিনি তার পরবর্তী সমস্ত বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যানে উৎসর্গ করেন। যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফেলোশিপকারীদের ২ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়। এভাবে তিনি 75 বছর বয়স পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষাদান করে গেছেন। জীবনের শেষ 20 বছর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কাটান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট একটি ঘরে । মাথার উপর পাখাকেও তিনি বিলাস দ্রব্য মনে করে ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান। তখনকার দিনে একটি নিয়ম ছিল শিক্ষক যখন ক্লাস নিতেন তার আগে একজন কর্মচারী এসে ব্ল্যাকবোর্ড ও টেবল মুছে দিত । এক শীতের দিনে দেখা গেল একজন কর্মচারী কোট পরে ব্ল্যাকবোর্ড মুছতে এল। কিছুক্ষন পর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ওই একই রকম একটি কোট পরে ক্লাসে প্রবেশ করলেন। পরে জানা গেল যে তিনি একই কাপড় থেকে দুটি কোট তৈরি করান, একটি তার জন্য আরেকটি ওই কর্মচারীর জন্য। দৈনিক আহারে তিনি কখনও ১ পয়সার বেশি খরচ করতেন না, কিন্তু কেউ সাহায্য চাইলে হাজার টাকা দিতেও কুন্ঠাবোধ করতেন না । --- > পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করব যেগুলি আমাদের অবাক করে দেয় যেমন অতল মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বা অদ্ভুদ আকৃতির ডেভিলস টাওয়ার ইত্যাদি - Published: 2025-01-04 - Modified: 2025-01-08 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d/ পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করব যেগুলি আমাদের অবাক করে দেয়। যেমন পাহাড় হল জলের ভাণ্ডার। বলার কারণ, পাহাড়ের উপর হিমবাহ, যা আসলে বিশাল স্বাদু জলের ভান্ডার। এই হিমবাহগুলি থেকে অনেক নদীর উৎপত্তি। হিমবাহের বরফ গলা জলে পুষ্ট নদীর জলে বাঁধ নির্মাণ করে সাথে জলাধার তৈরি করে সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। সুউচ্চ পাহাড় পার্শবর্তী এলাকার জলবায়ুকেও প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ হিমালয় পর্বত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়। শীতকালে মধ্য এশিয়ার ঠান্ডা বাতাস থেকেও তারা আমাদের রক্ষা করে। পার্বত্য অঞ্চল সাধারনত খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ হয় যা শিল্পের জন্য অপরিহার্য। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ: প্রকৃতির গোপন গভীর সমুদ্র Picture credit: geographical. co. uk মারিয়ানা ট্রেঞ্চ হলো প্রকৃতির এক আশ্চর্য রহস্য। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে, ফিলিপাইনের পূর্বে আর জাপানের দক্ষিণে লুকিয়ে আছে এই গভীর সমুদ্রের পরিখা। মনে হয়, এটা যেন পৃথিবীর হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছানোর গোপন পথ! চ্যালেঞ্জার ডিপ – পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর অংশের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। এটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,৯১৬ মিটার (৩৫,৮১৪ ফুট) নিচে। এতটাই গভীর যে যদি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত এভারেস্টকে উল্টে এর মধ্যে রাখা হয়, তাও চূড়াটা জলের নিচেই থাকবে! ভাবো তো, ওখানে থাকলে মাথার ওপর ১,০০০ হাতির ওজনের চাপ পড়বে! এটা কোথায় আর এর মজার তথ্য মারিয়ানা ট্রেঞ্চ কোথায় ? মারিয়ানা ট্রেঞ্চ গুয়ামের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। আর এটা মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের অংশ। মজার ব্যাপার হলো, ম্যানিলা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার, যা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের বেশি কাছে! কেমন করে তৈরি হলো? মারিয়ানা ট্রেঞ্চ তৈরি হয়েছে এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক সংঘর্ষের মাধ্যমে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট মারিয়ানা প্লেটের নিচে গিয়ে ঢুকে গেছে, আর তাই এমন গভীর পরিখা তৈরি হয়েছে। এই এলাকা "রিং অফ ফায়ার" নামে পরিচিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প আর আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হয়। রহস্যে ভরা জগৎ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতায় সূর্যের আলো একেবারেই পৌঁছায় না। জলের চাপ এতটাই বেশি যে বেশিরভাগ সাবমেরিন পর্যন্ত এখানে যেতে পারে না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এখানে এমন সব অদ্ভুত প্রাণী থাকতে পারে, যাদের পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। চ্যালেঞ্জের পর চ্যালেঞ্জ এ পর্যন্ত খুব কম মানুষই চ্যালেঞ্জার ডিপের তলদেশে পৌঁছাতে পেরেছেন। তারা মনে করেন, চাঁদে যাওয়ার চেয়েও এটা কঠিন! কারণ চাঁদে অনেক বেশি মানুষ গিয়েছেন, কিন্তু এখানে ডুব দেওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ যেন পৃথিবীর এক অজানা গভীর দানব! বিজ্ঞানীরা এর রহস্য উন্মোচনে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন। এই গভীরতা আমাদের শেখায়, প্রকৃতির গোপনীয়তা আসলেই কত বিস্ময়কর আর অসীম! আরও পড়ুন: নিজের শব্দের প্রতিধ্বনি কেবল নিজে শুনুন ডেভিলস টাওয়ার: এক অদ্ভুত আর চমকপ্রদ পাহাড় Picture credit: pappyhoelcampground. com ডেভিলস টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে একটা দারুণ অদ্ভুত আর মজার পাহাড়। এটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় মাইল উঁচু আর আশপাশের জমি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার উঁচুতে উঠে গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন একটা বিশাল পাথরের টুকরো হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এর বিশেষ ব্যাপার হলো, এর মাথাটা একেবারে সমান আর পাশে পাশে এমনভাবে খাঁজ কাটা, যেন মনে হয় এক বিশাল ভালুক এসে নখ দিয়ে আঁচড় কেটেছে! এটা দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। ভাবতে অবাক লাগে, এর সৃষ্টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে মজার একটা বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। চল তো, এক মিনিট ধরে আমরা কল্পনা করি, এটা কীভাবে তৈরি হলো! বিজ্ঞানীরা ১৮০০ সালের শেষ দিক থেকেই ডেভিলস টাওয়ার নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রায় ৬ কোটি বছর আগে উত্তপ্ত ম্যাগমা (গলিত শিলা) মাটির তলা থেকে উঠে আসে, কিন্তু উপরে বের হতে পারেনি। মাটির নিচেই সেটা ঠান্ডা হয়ে শক্ত পাথরে পরিণত হয়। ঠান্ডা হতে হতে ওটার গায়ে ফাটল ধরে। এরপর লাখ লাখ বছর ধরে নরম মাটিগুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে বিলীন হয়ে যায়, আর শক্ত পাথরগুলো রয়ে যায়, যা আজ আমরা ডেভিলস টাওয়ার নামে দেখি। ডেভিলস টাওয়ার আমাদের পৃথিবীর এক দারুণ প্রাকৃতিক বিস্ময়। এর দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি কত সুন্দর আর রহস্যে ভরা! পৃথিবীটা সত্যিই কত মজার, তাই না? বৈকাল হ্রদ : পৃথিবীর এক অনন্য রহস্য Picture credit: lakebaikal. org সাইবেরিয়ার বরফঢাকা অঞ্চলে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ রহস্যময় হ্রদ—বৈকাল হ্রদ! এটি পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ। প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে, পৃথিবীর বুকে একটি বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছিল, আর সেই ফাটল থেকেই জন্ম নেয় বৈকাল হ্রদ। এর গভীরতা প্রায় ১,৬৪২ মিটার! আর মজার বিষয় হলো, এটি প্রতি বছর প্রায় ২ সেন্টিমিটার করে প্রসারিত হচ্ছে! কেন? কারণ এটি দুইটি টেকটোনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় প্রতি বছর হ্রদটি একটু একটু করে বড় হয়ে যাচ্ছে—যেন পৃথিবী নিজেই এর বিস্তার ঘটাচ্ছে! এই হ্রদের জল এতটাই পরিষ্কার যে গ্রীষ্মকালে ৪০ মিটার নিচের তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। আর শীতকালে বরফের নিচেও এর সৌন্দর্য গোপন থাকে না। বৈকাল হ্রদের নিচে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া নতুন নতুন ফাটল তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, একদিন হয়তো বৈকাল হ্রদ পুরো মহাদেশকেই দু'ভাগ করে ফেলবে! বৈকাল হ্রদে এমন কিছু প্রাণী আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। এর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত হলো বৈকাল সিল। বিজ্ঞানীরা আজও জানেন না, কীভাবে এই সিল এখানে এলো। বৈকাল হ্রদের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এর জলের রং। ঋতু আর আবহাওয়ার পরিবর্তনে এই জল কখনো নীল, কখনো সবুজ, কখনো কালো আবার কখনো সোনালী বর্ণ ধারণ করে! ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো এই হ্রদকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। লেক বৈকাল সত্যিই পৃথিবীর এক অদ্ভুত সুন্দর রহস্য! পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য Picture credit: earth. com জলের টাওয়ার: পাহাড়গুলোকে প্রায়ই "জলের টাওয়ার" বলা হয় কারণ এরা তুষার গলে যাওয়া জল আর বৃষ্টির জল ধরে রাখে এবং তা থেকেই নদী আর ঝর্ণা তৈরি হয়। পৃথিবীর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ স্বাদু জল এই সমস্ত পাহাড় বা পর্বত থেকেই আসে। আন্দিজ ও নিরক্ষরেখা: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পর্বতমালা আন্দিজ, সাতটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশের মধ্য দিয়ে চলে এবং নিরক্ষরেখাকে দুবার অতিক্রম করে। সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা: ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় লোহার সমৃদ্ধ পাথরের জন্য অদ্ভুত চৌম্বকিয় বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এতে কম্পাসের নির্ভুলতা ব্যাহত করতে পারে, যা অভিযাত্রীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। হুয়াশান পর্বত: চীনের হুয়াশান পর্বতে একটি বিরল ঘটনা ঘটে, যাকে বলা হয় ট্রাইবোলোমিনেসেন্স। এতে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ পদার্থ যান্ত্রিক চাপে একটি হালকা নীল আলো নিঃসরণ করে। সম্ভবত মহাজাগতিক রশ্মির সঙ্গে খনিজের বিক্রিয়ায় এটি ঘটে, যা চোখ ধাঁধানো অদ্ভুদ দৃশ্য তৈরি করে। নবীন ও প্রবীণ পাহাড়: পাহাড় সম্পর্কে কিছু তথ্য হল হিমালয়ের মতো তরুণ পাহাড়গুলো এখনও টেকটোনিক ক্রিয়াকলাপের কারণে উঁচু হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকার অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার মতো পুরানো পাহাড়গুলো সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। পর্বত-বহুল দেশ: ভুটান পৃথিবীর সবচেয়ে পর্বত-বহুল দেশ, এর ৯৮% এরও বেশি জমি পাহাড়ে আচ্ছাদিত। এটি বিশ্বের উচ্চতম না আরোহণ করা পর্বতশৃঙ্গ গাংখার পুয়েনসাম সহ বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আবাসস্থল। --- > অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে গল্পটি দক্ষিণ অমেরিকার দেশ পেরু'র একটি লোককথা, যা অপরকে সাহায্য করা ও নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝায় আমাদের - Published: 2024-12-31 - Modified: 2025-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/the-frog-and-the-condor-a-folktale-from-peru/ অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে গল্পটি দক্ষিণ অমেরিকার দেশ পেরু'র একটি লোককথা, যা অপরকে সাহায্য করা ও নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝায় আমাদের আন্দিজ পর্বতের ঠান্ডা ঝর্ণার কাছে একটা ছোট্ট ব্যাঙ বাস করত। ব্যাঙটার দুই পায়ের মাঝে এক অদ্ভুত পার্থক্য ছিল—ডান পা বাম পায়ের থেকে অনেক লম্বা। ব্যাঙটা যখন জলে নিজের ছায়া দেখত, দুঃখ করে বলত, “ইশ! যদি আমার ভাই-বোনদের মতো সুন্দর দুই পা থাকত! ” এই ভেবে সে কেঁদে ফেলত। আর নিজের ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে বা মিশতে যেত না, একা একা থাকত। এদিকে, পাহাড়ের উঁচুতে এক গুহায় থাকত এক মেয়ে। মেয়েটার নাম ছিল তারা, যার মানে “ভোরের তারা”। কিন্তু সে গুহায় নিজের ইচ্ছায় থাকত না। তাকে বন্দি করে রেখে ছিল বিশাল এক শকুন, যার নাম শকু। মেয়েটি পাহাড়ের নিচের মাঠে নদীর পাড়ে ভেড়া চরাত। একদিন শকু তাকে ছোঁ মেরে উড়িয়ে নিয়ে আসে এই উচু গুহায়। এই কনডরের অর্থাৎ শকু'র ডানার মাপই ১০ ফুটেরও বেশি। শকু মেয়েটাকে তার খাবারের ব্যবস্থা করতে আর ভিকুনা (মানে এক ধরনের লামা) চামড়া দিয়ে বিছানা বানাতে বাধ্য করত। মেয়েটা গুহা থেকে বেরোতেই পারত না, কারণ ওই শকু তাকে নজরে রাখত। একদিন, ব্যাঙটি দূর থেকে শকুকে অনেক দূরে উড়তে দেখে ভাবল, “চল দেখি, শকু'র বাসাটা কেমন! ” সে তার অদ্ভুত লম্বা পা নিয়েও পাহাড়ে উঠে গুহায় পৌঁছল। সেখানে গুহার ভিতর থেকে শুনল মেয়েটা বলছে: “আমাকে একটু ঝর্ণায় যেতে দাও, জামাকাপড় ধুতে হবে।”শকু রেগে বলল, “না! তুমি পালানোর চেষ্টা করবে।”তারা বোঝানোর চেষ্টা করল, “আমি পালাতে পারব না, আমি কাপড় পাথরে মারার (মানে কাপড় কাচার) আওয়াজ করলে তুমি বুঝতে পারবে আমি এখানেই আছি।” এটা শুনে ব্যাঙের মনে একটা বুদ্ধি এল। সে নিচে নেমে মেয়েটার সঙ্গে দেখা করল।“কেঁদো না,” বলল ব্যাঙটা।তারা অবাক হয়ে বলল, “তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে? ” ব্যাঙ বলল, “হ্যাঁ, আমি জাদু জানি। আমি তোমার রূপ ধারণ করে কাপড় থোপাতে থাকব, আর তুমি পালিয়ে যাবে! ”তারা খুশিতে ব্যাঙের কপালে চুমু খেল। ব্যাঙটা সেই মুহূর্তেই তারার মতো হয়ে গেল। তারা ছুটে পালিয়ে গেল। ব্যাঙ তার রূপ ধরে কাপড় মারতে থাকল। শকু কিছুক্ষণ পর এসে চিৎকার করল, “তুমি গুহায় ফিরে এসো! ” কিন্তু ব্যাঙটা কিছু না বলে জলের স্রোতে ঝাঁপ দিল। শকু আর কিছু বুঝতে পারল না। তারা মুক্ত হয়ে তার বাড়ি ফিরে গেল। আর সেই ছোট্ট ব্যাঙ? তার কপালে তারা চুমু খেয়েছিল, সেখানে এখন এক উজ্জ্বল তারার মতো রত্ন ঝলমল করছে। সেই থেকে, ব্যাঙটা আর তার নিজের ছায়াকে ভয় পায় না। সে গর্ব করে বলে, “আমি বিশেষ, আমিই অনন্য! ” অদ্ভুত ব্যাঙ আর বন্দি মেয়ে - গল্পটি অন্যকে সাহায্য করতে ও নিজেকে ভালোবাসতে শেখায় --- > সব মরুভূমি বিশাল বা শুষ্ক ভূপ্রকৃতি ও চরম আবহাওয়া যুক্ত নয় পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত মরুভূমি আছে যেটি জলে প্লাবিত হয় বা কোনটি কেবল 1 বর্গ কিমি - Published: 2024-12-29 - Modified: 2024-12-29 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93-%e0%a6%85/ 'মরুভূমি' নাম শুনলেই যেন তাদের শুষ্ক ভূপ্রকৃতি এবং সঙ্গত কারণেই চরম অবস্থার কোথায় কেবল মনে আসে। তবে পৃথিবীতে কিছু অদ্ভুত মরুভূমি রয়েছে যাদের বৈশিষ্ঠ অনন্য ও রহস্যময় মনে হয়। যেমন ব্রাজিলের "ফ্লাডেড ডেজার্ট" বা বলিভিয়ার ইথারিয়াল লবণের ফ্ল্যাট ইত্যাদি প্রতিটি মরুভূমি ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়। আমরা এখানে কয়েকটি 'অনন্য এবং রহস্যময় মরুভূমি' সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব যেখানে প্রকৃতির রহস্যময় শক্তিগুলি এমন ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করেছে যা আমাদের বিস্ময়ের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। আরল মরুভূমি : এক পরিবেশগত বিপর্যয়ের করুণ ফলশ্রুতি Picture source: euronews. com আরল মরুভূমি আসলে মধ্য এশিয়ার বুকে গড়ে ওঠা এক পরিবেশগত বিপর্যয়ের করুণ কাহিনি। যেখানে একসময় ছিল বিশাল আরল সাগরের জলরাশি, আজ সেখানে শুধুই শুষ্ক মরুভূমির প্রাধান্য। কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানের মধ্যবর্তী এই এলাকা প্রকৃতির উপর মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত হস্তক্ষেপের এক চূড়ান্ত নিদর্শন। একসময় আরল সাগর ছিল পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ। এর জলভাণ্ডার স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া বিশাল সেচ প্রকল্পের কারণে এর দুটি প্রধান নদী, আমু দরিয়া এবং সির দরিয়া, ভিন্ন পথে মোড় নেওয়া হয়। এর ফলে আরাল সাগরের জল দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। জল হারিয়ে যাওয়ার পর সাগরের তলদেশটি এক বিরাট শূন্য মরুভূমিতে রূপান্তরিত হয়, যা এখন আরাল মরুভূমি নামে পরিচিত। এই মরুভূমি থেকে ওঠা ধুলিকণাগুলি বিষাক্ত লবণ, কীটনাশক, এবং রাসায়নিক পদার্থে পূর্ণ। ফলে আশেপাশের অঞ্চলে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জমিগুলির উর্বরতা হারিয়েছে, জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি মাছ ধরার শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আরাল সাগরের কিছু অংশ পুনরুদ্ধারের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক-আরাল বাঁধ নির্মাণ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই বাঁধের সাহায্যে সাগরের উত্তর অংশে জল ফিরিয়ে আনার কিছুটা সাফল্য পাওয়া গেছে এবং জীববৈচিত্র্যের আংশিক পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। তবে আরাল সাগরের ক্ষতির বেশিরভাগ অংশই স্থায়ী এবং অপূরণীয়। আরাল মরুভূমি কেবল একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাহিনি নয়, এটি মানব সভ্যতার ভুল পরিকল্পনার ভয়াবহ পরিণতিরও উদাহরণ। এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে দেয় যে প্রকৃতির সঙ্গে অসতর্ক আচরণের পরিণতি কতটা বিধ্বংসী হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানোর জন্য দায়িত্বশীল ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা আমাদের প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়ার বার্তা দেয়। আরও পড়ুন: অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক বাছাই করা 10টি গল্প বানভাসি মরুভূমি বা Flooded desert : প্রকৃতির এক অদ্ভুত মরুভূমি Picture credit: whenonearth. net উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যে অবস্থিত লেনসয়েস মারেনহেনসিস জাতীয় উদ্যান সত্যিই একটা অবাক করা জায়গা। এখানে প্রায় ১০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে শুধু সাদা মসৃণ বালি, আর তার মাঝখানে হালকা নীলচে রঙের ছোট ছোট হ্রদ। দেখে মনে হয় মরুভূমি তবে অনেকের বলেন এটা মরুভূমি নয়! এই বানভাসি মরুভূমি আমাজন বেসিনের খুব কাছে, আর বছরের শুরুতে এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির জল জমে বালির টিলাগুলোর মাঝে গর্তে তৈরি হয় সুন্দর নীল-সবুজ লেগুন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই লেগুনগুলো থাকে একেবারে ভরপুর। অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এই লেগুনগুলোতে মাছও পাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে লেগুন শুকিয়ে গেলেও ডিম থেকে আবার মাছ জন্ম নেয়। পার্কটিতে শুধু বালি আর লেগুন নয়, আছে ম্যানগ্রোভ গাছ, নির্জন সমুদ্রতট, সুন্দর পাম গাছ এবং প্রিগুইকাস নদী। সব মিলিয়ে জায়গাটা একেবারে ছবির মতো। Picture credit: whenonearth. net লেনসয়েস মারেনহেনসিস তৈরি হতে লেগেছে হাজার হাজার বছর। নদীর তলদেশ থেকে বালি উঠে আসে, আর বাতাস ও সমুদ্রের ঢেউ সেগুলো টেনে নিয়ে আসে ভেতরের দিকে। ফলে বালির টিলাগুলো প্রায় ৩১ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং ২৭ মাইল পর্যন্ত উপকূল বরাবর বিস্তৃত। এই জাতীয় উদ্যানের কিছু লেগুন বেশ বড়। যেমন, লাগোয়া বনিতা এবং লাগোয়া আজুল, যেগুলো বারিরিনহাস শহরের কাছে। আর লাগোয়া দা গাইভোটা, যেটা অন্যতম সুন্দর এবং বড়, সান্তো আমারো দো মারানহাওর কাছে অবস্থিত। এই পার্ক ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো মে থেকে সেপ্টেম্বর। তখন লেগুনগুলো জল ভরতি থাকে, আর আকাশও থাকে একেবারে ঝকঝকে। তাই যদি সুযোগ পান, এই অদ্ভুত সুন্দর জায়গাটা একবার দেখে আসতে ভুলবেন না। কারক্রস মরুভূমি (Carcross desert ): বিস্ময়কর ছোট্ট মরুভূমি Picture credit: dailypassport. com কানাডার ইউকন টেরিটরিতে অবস্থিত কারক্রস মরুভূমি একটি ছোট্ট অথচ বিস্ময়কর জায়গা। জানো কি, এটি মাত্র ১ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে গঠিত? আকারে ছোট হলেও, এটাই একে আকর্ষণীয় করে তুলেছে! অনেকে একে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মরুভূমি বলেন, আবার কেউ কেউ বলেন, এটি উত্তরতম মরুভূমি। তবে মজার বিষয় হলো, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন কারক্রস মরুভূমি আসলে মরুভূমি নয়, কারণ এখানকার মাটি বেশ আর্দ্র। তা সত্ত্বেও, একসময় এটি প্লাইস্টোসিন যুগের হিমবাহের হ্রদ ছিল বলে জানা যায়। আশেপাশের পাহাড়ের বৃষ্টি-ছায়ার কারণে জায়গাটি বেশ শুকনো থাকে। এখানকার তীব্র বাতাস বেশিরভাগ উদ্ভিদের বেড়ে ওঠা কঠিন করে তোলে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, কারক্রস মরুভূমিতে কিছু বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়। যেমন, ইউকন লুপিন ফুল আর ডাল প্রজাতির ভেড়া! এটি কি কৌতূহল উদ্রেক করে না? --- > আমেরিকার তুলসা শহরে একটি অদ্ভুত রহস্যময় কারণ সহ একটি শাব্দিক অসঙ্গতি রয়েছে যেখানে নিজের শব্দের জোরালো প্রতিধ্বনি খুব কাছে শোনা যায় - Published: 2024-12-21 - Modified: 2024-12-21 - URL: https://www.sabjanta.info/mysterious-acoustic-anomaly-at-tulsa-in-america/ জানা অজানা: আমেরিকার তুলসা শহরে একটি অদ্ভুত রহস্যময় কারণ সহ একটি শাব্দিক অসঙ্গতি রয়েছে যেখানে নিজের শব্দের জোরালো প্রতিধ্বনি খুব কাছ থেকে শোনা যায় Picture credit: atlasobscura. com আমেরিকার তুলসা'র (Tulsa) উপকন্ঠে তথাকথিত 'মহাবিশ্বের কেন্দ্রস্থল' বলে পরিচিত একটি জায়গা রয়েছে। এই কেন্দ্রে ইটের একটি বড় বৃত্তের মাঝখানে একটি ছোট কংক্রিটের বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত জায়গা রয়েছে । বাইরে থেকে দেখার মতো তেমন কিছু নয়, তবে এর মজার ব্যাপারটি হল শোনার। আপনি যদি ওই বৃত্তের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটি শব্দ করেন, তবে শব্দটি নিজস্ব ধ্বনির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জোরে প্রতিধ্বনিত হয়। এটি একেবারে যেন নিজস্ব Amplifier ইকো চেম্বারের মত। আরও পড়ুন: রহস্যময় উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ, সর্বাপেক্ষা বিচ্ছিন্ন উপজাতির বাসভূমি লোকজন বলেন, বৃত্তের কেন্দ্রের বাইরের লোকেরা এটি শুনতে পাবে না। বৃত্তের বাইরে থেকে শোনার সময় আপনার ভয়েস অত্যন্ত বিকৃত শোনায়। এটি একটি অবিশ্বাস্য বিষয় । এক কথায় বলতে গেলে আপনার কণ্ঠস্বর আপনি পরিষ্কার শুনতে পাবেন অথচ বাইরের কেউ শুনতে পাবে না। বৃত্তের মতো গোল এই অংশটিকে বলা হয় সেন্টার অফ ইউনিভার্স। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেও কোন বিজ্ঞানী আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে পারেনি এই বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে এরকম ইকো সিস্টেমের প্রকৃত কারণ কি। --- > প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম একটি স্তম্ভ, একজন ভাষাবিদ, সমাজকর্মী, নিষ্ঠাবান সংগঠক। - Published: 2024-12-07 - Modified: 2024-12-07 - URL: https://www.sabjanta.info/peary-chand-mitra-first-novelist-in-bengali/ প্যারীচাঁদ মিত্র : বাংলায় প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম একটি স্তম্ভ। একজন ভাষাবিদ্রোহী, নিবেদিত সমাজকর্মী, নিষ্ঠাবান সংগঠক, নব আকাঙ্ক্ষালব্ধ সাহিত্যিক এবং নির্ভীক সাংবাদিক ছাড়াও বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক। প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২শে জুলাই কলকাতার এক বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র। প্যারীচাঁদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। শৈশবে একজন গুরুমহাশয়ের নিকট বাংলা, পরে একজন মুন্সির নিকট ফারসি শিখেন। প্যারীচাঁদ মিত্রের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। শৈশবে একজন গুরুমহাশয়ের নিকট বাংলা, পরে একজন মুন্সির নিকট ফারসি শিখেন। ইংরেজি শিক্ষা লাভের জন্য ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। ঐ সময় ভিভিয়ান ডিরোজিও, বাংলার নব জাগরণের হোতা, ছিলেন হিন্দু কলেজের অধ্যাপক। প্যারীচাঁদ তার শিষ্য ও ভাবশিষ্য ছিলেন। তিনি মহিলাদের জন্য একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এক্ষেত্রে তাঁর সহযোগী ছিলেন রাধানাথ শিকদার। প্যারীচাঁদ মিত্র দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল সেপক্টেটর পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তিনি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেও সফল হয়েছিলেন। ১৮৩৬-এ কলকাতায় শুরু হয় ‘দ্য ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি’ এবং প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয় এই লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে । ১৮৪৮ সালে প্যারীচাঁদই হলেন পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান গ্রন্থাগারিক, কিউরেটরও— মাইনে একশো টাকা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখছেন, ‘তিনি এত মিশুক ছিলেন ও তাঁহার পড়াশুনা এত বেশী ছিল যে, কি ইংরাজ, কি বাঙ্গালী, যাঁহার যখন কিছু জানিবার দরকার হইত, মেটকাফ হলে লাইব্রেরিতে গিয়া উপস্থিত হইতেন এবং তিনি তাঁহার সাধ্যমত তাঁহাদের উপকার করিতে চেষ্টা করিতেন। মেটকাফ হল তখন বড় রকম একটী পণ্ডিতের আড্ডা হইয়াছিল।’ ১৮৬৬ সালে বৈতনিক পদ ত্যাগ করার পরেও সুদক্ষ, বিদগ্ধ মানুষটিকে ছাড়েননি কর্তৃপক্ষ। প্যারীচাঁদ এর পরে ছিলেন অবৈতনিক সেক্রেটারি, লাইব্রেরিয়ান ও কিউরেটর, সব পদেই! কালক্রমে সেই লাইব্রেরি ‘ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি’, স্বাধীনতার পরে ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি’ হয়েছে। আরও পড়ুন: রাজা রামমোহন রায় - বাঙলার নবজাগরণের পুরোধা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখছেন, ‘বাঙ্গালী সমাজের কোনও বিপদ সম্পদ্ উপস্থিত হইলে, একটা বড় রকম আন্দোলন উপস্থিত হইলে, প্যারীচাঁদ মহাশয় তাহাতে একহাত আছেনই আছেন। কিন্তু কোথাও... প্রধান (অগ্রণী, নেতা) হইবার চেষ্টা করিতেন না। ইংরাজীতে তাঁহার কলম খুব চলিত। সভাসমিতির কাজকর্ম্ম ইংরাজীতেই হইত; সুতরাং প্যারীচাঁদ ভিন্ন চলিত না। তিনিও ইচ্ছা করিয়া ধরা দিতেন এবং খুব খাটিয়া কাজ উদ্ধার করিয়া দিতেন।’ উনিশ শতকের কলকাতায় এমন কোনও সক্রিয় সংস্থা ছিল না, প্যারীচাঁদ যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন না। লেখক বন্ধু রাধানাথ সিকদারের একান্ত অনুরোধে প্যারিচাঁদ মিত্র খুব সহজ সরল ভাষায় এ কাহিনিটি লেখা শুরু করেন। তখন যে কয়টি বাংলা পত্রিকা ছিল সব পত্রিকাগুলো রাশভারী লিখার পিছনে দৌড়াত। সহজ সরল বাংলা ভাষায় কোন লিখা তারা সহজে ছাপাতে রাজী হতো না। বন্ধু রাধানাথ সিকদার ও প্যারীচাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় বের হয় ‘মাসিক পত্রিকা’। এই পত্রিকায় তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে লিখা শুরু করেন- ‘আলালের ঘরের দুলাল’। বইটিতে মোট ত্রিশটি পরিচ্ছদের মধ্যে সাতাশটি পরিচ্ছদ এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। ‘আলালের ঘরের দুলাল’ প্রথমেই আস্ত বই হয়ে বেরোয়নি। আগে পত্রিকায় মুখ দেখিয়েছে ধারাবাহিক ভাবে। সেই ‘মাসিক পত্রিকা’ও প্যারীচাঁদেরই গড়া, বন্ধু রাধানাথ শিকদারের সঙ্গে মিলে, শুরু ১৮৫৪-র অগস্ট থেকে। পত্রিকার উপরের পাতায় লেখা, ‘এই পত্রিকা সাধারণের বিশেষতঃ স্ত্রীলোকদের জন্যে ছাপা হইতেছে, যে ভাষায় আমাদিগের সচরাচর কথাবার্ত্তা হয়, তাহাতেই প্রস্তাব সকল রচনা হইবেক। বিজ্ঞ পণ্ডিতেরা পড়িতে চান পড়িবেন, কিন্তু তাঁহাদিগের নিমিত্তে এই পত্রিকা লিখিত হয় নাই।’ স্পষ্ট বলে দেওয়া । তিনি লিখেছেন আরো সতেরোটি গ্রন্থ; কিন্তু এই একটি বই-ই বাঙালির কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। নানামাত্রিক বিতর্ক থাকলেও আলালের ঘরের দুলালকেই বলা হয় বাংলাসাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। বাংলা উপন্যাস-সাহিত্যের প্রধান সব সমালোচকই আলালের ঘরের দুলালকে, সব সীমাবদ্ধতা আমলে নিয়েই, বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আরও পড়ুন: কলকাতার আড্ডার বিবর্তন বৈঠকখানা থেকে ক্যাফে বা কফি শপ 'আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসে বিশেষত অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে কোলকাতা ও তাঁর নগর কেন্দ্রিক সামাজিক চিত্র আশ্চর্য নিপুণতার সাথে অঙ্কিত হয়েছে। নব্য শিক্ষিত ইয়ংবেঙ্গলদের কার্যকলাপ ও পরিণতি গ্রন্থটির মূল উপপাদ্য বিষয়। তিনি তখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন যে, ধর্ম ও নীতি হীনতায় উচ্ছৃঙ্খলতার মূল কারণ। শুধুমাত্র জীবনযাত্রার প্রণালীর মধ্যেই রয়েছে এ মরণ দশা থেকে উত্তরণের উপায় ও মুক্তির পথ। নকশার রীতি এই কাহিনির উপর যতটা না প্রভাব ফেলেছে তার চেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে কাহিনির ধারাবাহিকতা, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বাস্তব চিত্রাঙ্কন। ১৮৮৩ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্যারীচাঁদ মিত্র একাধিক কারণে বর্তমান কালেও সবার কাছে প্রাসঙ্গিক। সমকালীন জীবন ও চলিত ভাষাকে লিখনে নিয়ে আসার দুঃসাহসিক দৃষ্টান্ত প্রথম তিনিই বাংলা সাহিত্যে সংযোজন করেছিলেন। Picture credit: anandabazar. com --- > চিকেন টিকিয়া রেসিপি, জেনে নিন ও সহজেই বাড়িতে তৈরি করুন মজাদার চিকেন টিকিয়া, যদিও সাধারণত মাটন দিয়ে টিকিয়া বানানো হয়। - Published: 2024-12-06 - Modified: 2024-12-06 - URL: https://www.sabjanta.info/chicken-tikia-recipe/ মুরগির মাংস দিয়ে কত রকমের লোভনীয় খাবার যে তৈরি হয় রসনাবিলাসী বাঙালিদের হেঁসেলে! সাধারণত মাটন দিয়ে টিকিয়া বানানো হয় কিন্তু চিকেন দিয়েও খুব সহজ রেসিপিতে বাড়িতেই টিকিয়া বানিয়ে নেওয়া যায়! যারা কাবাব, টিক্কা বা কাটলেট জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করে, তাদের জন্য এটা একদম পারফেক্ট। আর বেশ তাড়াতাড়ি ও সহজে তৈরি করা যায়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সহজ চিকেন টিকিয়া রেসিপি। সহজ চিকেন টিকিয়া রেসিপি উপকরণ মুরগির বুকের মাংস বা চিকেন ব্রেস্ট পিস- ৫০০ গ্রাম ছোলার ডাল- ১/২ কাপ আদা বাটা- ১ চা চামচ রসুন বাটা- ১ চা চামচ জিরা গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ পেঁয়াজ কুঁচি- ১ টেবিল চামচ কাঁচামরিচ কুঁচি- ১ চা চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ ডিম- ১টি গরম মসলার গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ লবণ- স্বাদ অনুযায়ী তেল- ভাজার জন্য প্রস্তুত প্রণালী প্রথমে সামান্য জল দিয়ে ছোলার ডাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। মুরগির বুকের মাংস (chicken breast) মিহি কিমা করে নিন। এবার একটি প্যানে তেল দিয়ে গরম করে তাতে চিকেন কিমা, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুঁড়ো, গরম মসলার গুঁড়ো ও পরিমাণ মত নুন দিয়ে দিন। সব মসলার সাথে মুরগির মাংসের কিমা খুব ভালোভাবে কষে নিতে হবে। চিকেন কিমা সেদ্ধ হয়ে গেলে ওভেন বন্ধ করে দিন। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এতে সেদ্ধ করে রাখা ছোলার ডাল মিশিয়ে দিন। তারপর একে একে পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা লঙ্কা কুঁচি ও গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। একটি ডিম ফাটিয়ে নিয়ে চিকেনের মিশ্রণে যোগ করুন। সব উপকরণ একসাথে চটকে নিতে হবে। এবার হাতের তালুতে একটু তেল মেখে নিয়ে চিকেনের এই মিশ্রণ থেকে একটু করে নিয়ে টিকিয়ার আকার দিয়ে দিন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী ছোট বা মাঝারী, গোল বা লম্বা করে টিকিয়ার আকার দিয়ে দিন। অন্যদিকে একটি প্যানে তেল গরম করতে দিন। তেল গরম হয়ে আসলে টিকিয়াগুলো আস্তে আস্তে গরম তেলে ছেড়ে দিন। চিকেন টিকিয়াগুলো ডীপফ্রাই করতে পারেন অর্থাৎ ডুবো তেলে ভাজতে পারেন। আবার অল্প তেল দিয়েও ফ্রাই করে নিতে পারেন। মাঝারী আঁচে টিকিয়াগুলো ভেজে নিন। একপাশ ভাজা হয়ে গেলে সাবধানে উলটিয়ে দিন। যেহেতু ছোলার ডাল ও মুরগির কিমা আগেই সেদ্ধ করে নেওয়া, তাই খুব বেশি সময় ধরে ভাজার দরকার নেই! গোল্ডেন কালার হয়ে গেলেই তেল থেকে নামিয়ে কিচেন টিস্যুতে রাখুন। ব্যস, চিকেন টিকিয়া তৈরি হয়ে গেলো ! পোলাও, খিচুড়ি বা গরম গরম ভাতের সাথে এটি দারুণ মানিয়ে যাবে। আবার বিকালে স্ন্যাকস হিসাবেও পছন্দের সসের সাথে পরিবেশন করতে পারবেন সুস্বাদু এই আইটেমটি। তাহলে, হাতের কাছে সব উপকরণ থাকলে আজই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিকেন টিকিয়া ! আর জানাতে ভুলবেন না কেমন লাগল এই চিকেন টিকিয়া রেসিপি । Picture credit: mytrystwithfoodandtravel. blogspot. com --- > প্রকৃত বন্ধুত্ব এই গল্পটি চীন দেশের জনপ্রিয় একটি উপকথা। এই গল্পটি বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ অর্থাৎ নিস্বার্থ ভালোবাসাকে বোঝাতে চেয়েছে। - Published: 2024-12-01 - Modified: 2024-12-01 - URL: https://www.sabjanta.info/real-friendship-a-chainese-folktale/ প্রকৃত বন্ধুত্ব এই গল্পটি চীন দেশের জনপ্রিয় একটি উপকথা। এই গল্পটি বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ অর্থাৎ নিস্বার্থ ভালোবাসাকে বোঝাতে চেয়েছে। প্রকৃত বন্ধুত্ব - এই গল্পটি চীন দেশের সুন্দর একটি উপকথা। অনেক, অনেক বছর আগে চিন দেশে লে গুয়াং আর কুয়াফু নামে দুই বন্ধু থাকত। এই দুজন অল্পবয়েসি মানুষ পরস্পরকে খুব ভালোবাসত এবং সবসময়ে একসঙ্গে থাকত। তারা কেউ কাউকে খারাপ কথা বলত না; কোনো কু-চিন্তা তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারেনি। তাদের এই নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব আর পরিরা তাদের এই গুণের জন্য কীভাবে তাদের সত্যিকারের পুরস্কার দিয়েছিল। তাদের ভালোবাসা কতটা জোরদার ছিল সেটা এই গল্পটা শোনালেই বোঝা যাবে। বসন্তের গোড়ায় একটা সুন্দর ঝলমলে দিনে শহরের ক্লান্তিকর, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ থেকে একটু মুক্তির আশায় লে গুয়াং আর কুয়াফু একসঙ্গে হাঁটতে বেরোল। লে গুয়াং আপনমনে বলল "চলো, পাইনের জঙ্গলের একদম গভীরে যাওয়া যাক।" ওখানে আমরা সমস্ত চিৎকার চেঁচামেচি ভুলে থাকতে পারব; ওখানে আমরা ফুলের সুন্দর গন্ধও বুক ভরে নিতে পারব আর শ্যাওলায় ঢাকা মাটিতে শুয়ে থাকতে পারব।" "বাঃ! " বলল, কুয়াফু,"আমিও ক্লান্ত। জঙ্গলই বিশ্রাম নেওয়ার উপযুক্ত জায়গা।" বেশ একটা ছুটির দিনে, দূরের গাছগুলোর মাথার দিকে চোখ রেখে দুই পরম বন্ধু আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল। তারা যতই বনের কাছে আসতে লাগল, ভাল সময় কাটানোর উত্তেজনায় তাদের হৃৎস্পন্দন যেন তত দ্রুত হতে লাগল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে লে গুয়াং বলল "গত এক মাস ধরে আমি প্রচণ্ড পড়াশোনা করেছি। এই তিরিশ দিন আমি কোনো বিশ্রাম পাইনি। আমার মাথার মধ্যে এত এখন এত কিছু গিজগিজ করছে যে, মনে হচ্ছে, মাথাটা বোধ হয় ফেটেই যাবে। উফ, সবুজ বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া টাটকা বাতাস বুক ভরে নেব।" "আর আমি" দুঃখের সঙ্গে বলল কুয়াফু,"ক্রীতদাসের মতো আমার মালিকের দোকানে কাজ করেছি। তোমার লেখাপড়ার কাজটার মতোই আমার কাজটাও খুব একঘেয়ে। মালিক আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। তাঁর হাতের নাগালের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারাটা সত্যিই খুব ভালো ব্যাপার।" আরও পড়ুন: চু কোই ও বট গাছের গল্প - ভিয়েতনামের একটি সুন্দর রূপকথা কথা বলতে বলতে তারা ছোট জঙ্গলটার প্রায় সীমানায় চলে এল, একটা ছোট নদী পেরোল আর তারপর সামনের লম্বা লম্বা গাছ আর ঘন ঝোপের মধ্যে যেন হারিয়ে গেল। বেশ কয়েক ঘণ্টা তারা এদিক-ওদিক এলোমেলো ঘুরে বেড়াল, গল্প করল, মজার গল্প করে হাসতে লাগল। হঠাৎ এক সময় রাশি রাশি ফুলে ঢাকা ঝোপ পেরোতে গিয়ে তারা দেখতে পেল, তাদের সামনেই রাস্তাটার ওপর একটা সোনালি আপেলের মত কি যেন চকচক করছে। "দেখো! দেখো! " অপেলটার দিকে আঙুল দেখিয়ে দুজনে একসঙ্গে বলে উঠল। তাদের নাক বরাবর রাস্তার ওপর একটা আপেল সোনার মত চকচক করছে। লে গুয়াং ঝুঁকে সোনার অপেলটা কুড়োল। সেটা প্রায় একটা আপেলের মতো বড়ো আর সূর্যের আলোয় ঝলমল করছিল। তার গায়ে ছিল খুব সুন্দর কারুকার্য করা। "বন্ধু, এটা তোমার" বলে কুয়াফুর হাতে সেটা দিয়ে সে বলল "তোমার, কারণ তুমিই এটা প্রথম দেখতে পেয়েছ।" কুয়াফু অমনি বলে উঠল,"না, না, তুমি ভুল করছ ভাই, তুমিই তো প্রথম বললে। এখন তুমি আর বলতে পারবে না যে, মন দিয়ে পড়াশোনা করার জন্য পরিরা তোমাকে কোনো পুরস্কার দেয়নি।" "আমার পড়াশোনার পুরস্কার! কেন? হতেই পারে না। জ্ঞানী মানুষরা কি সবসময় বলেন না, যে, পড়াশোনা করলে আপনাআপনিই তার পুরস্কার পাওয়া যায়? না ভাই, এই সোনাটা তোমার; আমি বলছি, তোমার। দিনের পর দিন যে তুমি কঠিন পরিশ্রম করেছ সে কথাটা একবার ভাবো— খাটিয়ে খাটিয়ে মালিক তোমার হাড়মাস কালি করে দিল! তার চেয়ে এটা অনেক ভালো। নাও" এই বলে সে হাসতে লাগল। "এটা সেই লক্ষ্মীর ঝাঁপি হতেও তো পারে যা দিয়ে তুমি তোমার ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে।" তারা এভাবেই কিছুক্ষণ হাসিঠাট্টা করল, দুজনেই সেই দামি জিনিষটা নিজের কাছে নিতে অস্বীকার করল। এ ওকে আর ও একে জিনিসটা নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে লাগল। শেষমেষ, যেখানে তারা সোনার টুকরোটা প্রথম দেখেছিল সেখানেই সেটা পড়ে রইল আর দুই বন্ধু চলে গেল। সোনার টুকরোটাকে ফেলে যাওয়ার জন্য তাদের একটুও দুঃখ ছিল না, কারণ এই জগতে অন্য কোনো কিছুর চেয়ে তাদের কাছে তাদের বন্ধুত্ব অনেক দামি ছিল। আর তাই কোনোরকম ঝগড়াঝাঁটিও তাদের কাছ ঘেঁষতে পারেনি। "আমরা কিন্তু সোনা পাব বলে শহর ছাড়িনি" লে গুয়াং মন থেকে বলল। "না" তার বন্ধু উত্তর দিল,"এই জঙ্গলে একটা দিন কাটানোটা হাজার হাজার সোনার টুকরোর সমান।" লে গুয়াং প্রস্তাব দিল,"চলো, ঝরনাটার কাছটায় যাই, পাথরের ওপর একটু বসি। গোটা বনটার মধ্যে এই জায়গাটাই সবচেয়ে ঠান্ডা।" তারা যখন ঝরনাটার কাছে পৌঁছোল, দুঃখের সঙ্গে দেখল যে জায়গাটা ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গেছে। গ্রাম থেকে আসা একটা লোক মাটির ওপর লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। কুয়াফু চেঁচিয়ে বলল,"এই যে হে, উঠে পড়ো! খুব কাছেই তোমার জন্য ধনসম্পদ পড়ে আছে। ওইখানে রাস্তার ওপর একটা সোনার আপেল অপেক্ষা করছে, কখন কে গিয়ে তাকে তুলে নেবে।" তারপর তারা সেই অবাঞ্ছিত আগন্তুককে বুঝিয়ে দিল ঠিক কোনখানটায় সোনার টুকরোটা ছিল। আর সেকথা শুনে লোকটাও ছুটল সেই দিকে। তাই না দেখে দুই বন্ধু খুব মজা পেল। প্রায় ঘণ্টা খানেক তারা একে অন্যের সঙ্গে আনন্দে কাটাল, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশা আকাঙ্ক্ষার কথা আলোচনা করল, মাথার ওপর ডাল থেকে ডালে উড়ে যাওয়া পাখিদের গান শুনল। আরও পড়ুন: পুরাণের গল্প - জেনে নেওয়া যাক, পুরাণ কয়টি বা কিই বা আছে তাতে অনেকক্ষণ পরে তারা একটা রাগী গলার আওয়াজে চমকে গেল। এটা সেই লোকটারই গলা, যে সোনার টুকরোটা কুড়োতে গিয়েছিল। "বাবুরা, আমাকে নিয়ে এমন মস্করা তোমরা কেন করলে? এমন গরমের দিনে আমার মতো একটা গরিব মানুষকে কেন মিছিমিছি দৌড় করালে? " "কী বলছ, হে? " অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল লে গুয়াং। "আমরা তোমাকে যে ফলটার কথা বললাম সেটা খুঁজে পাওনি? " রাগ-চাপা গলায় সে বলল,"না। কিন্তু তার জায়গায় ছিল একটা রাক্ষুসে সাপ, আমার তলোয়ারটা দিয়ে আমি যেটা দু-টুকরো করে ফেলেছি। ভগবান এবার বনের প্রাণী মেরে ফেলার জন্য আমায় অভিশাপ দেবেন। তোমরা যদি ভেবে থাক যে ওরকম একটা কৌশল করে তোমরা আমাকে এখান থেকে তাড়াবে, তাহলে তোমরা ভুল ভেবেছ, কারণ আমি এখানে আগে এসেছি; আমাকে ভুল কথা বলে এখান থেকে সরানোর অধিকার তোমাদের কে দিল বাবুরা? " "এই যে হে, বকবক থামাও। তোমার হয়রানির জন্য একটা পয়সা নাও। আমরা ভেবেছিলাম আমরা তোমার একটা উপকার করলাম। এখন, তুমি যদি অন্ধ হও, সেজন্য একমাত্র তুমিই দায়ী। কুয়াফু, চলো আমরা ফিরে যাই। সোনার আপেলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এই আজব সাপটার দিকে একবার দেখি।" গ্রাম থেকে আসা লোকটাকে ফেলে রেখে তারা দুই বন্ধু গল্পগুজব করতে করতে সেই সোনার টুকরোটার খোঁজে চলে গেল। "আমি যদি ভুল না করি," ছাত্রটি বলল, "ওই যে গাছটা কেটে রাখা আছে, তার পেছনে সোনাটা আছে।" "একদম ঠিক; খুব শিগগিরি আমরা মরা সাপটা দেখতে পাব।" মাটির দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে তাড়াতাড়ি তারা বাকি রাস্তাটা পেরোল। যেখানে তারা সেই চকচকে অপেলটা ফেলে রেখে গিয়েছিল সেই জায়গাটায় পৌঁছে অবাক হয়ে তারা দেখল, একটা সোনার আপেল নয়, ভবঘুরের বর্ণনা মতো কোনো মরা সাপও নয়, তার বদলে দুটো সুন্দর সোনার আপেল, প্রত্যেকটা, তারা প্রথমে যেটা দেখেছিল তার থেকে আকারে বড়ো। দুজনেই একটা করে আপেল তুলে নিল আর আনন্দের সঙ্গে বন্ধুর হাতে দিল। "শেষ পর্যন্ত পরি'রা তোমাকে তোমার স্বার্থহীনতার পুরস্কার দিল! " বলল লে গুয়াং। "হ্যাঁ," উত্তর দিল কুয়াফু,"তোমাকে তোমার প্রাপ্যটা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে।" এটি একটি চৈনিক উপকথা থেকে নেওয়া হয়েছে। --- > পুরাণের গল্প অর্থাৎ হিন্দু ধৰ্মীয় সাহিত্যের যে স্তম্ভ স্বরূপ পুরাণ তার বিষয় সম্পর্কে বলা যেতে পারে মহাবিশ্ব ও জীবজগত সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ই পুরাণে রয়েছে। - Published: 2024-11-25 - Modified: 2024-11-25 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%9f%e0%a6%bf/ পুরাণের গল্প অর্থাৎ হিন্দু ধৰ্মীয় সাহিত্যের যে স্তম্ভ স্বরূপ পুরাণ তার বিষয় সম্পর্কে বলা যেতে পারে মহাবিশ্ব ও জীবজগত সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ই পুরাণে রয়েছে। পুরাণের গল্প অর্থাৎ হিন্দু ধৰ্মীয় সাহিত্যের যে স্তম্ভ স্বরূপ পুরাণ তার বিষয় সম্পর্কে বলা যেতে পারে মহাবিশ্ব ও জীবজগত সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ই পুরাণে রয়েছে। Picture credit:commons. wikimedia. org পুরাণ শব্দের অর্থ প্রাচীন কাহিনী। তবে পুরাণ হল হিন্দু প্রাচীন ধৰ্মীয় সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ । বিভিন্ন বিষয়ের উপর পুরাণ রয়েছে। পুরাণের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কীত পঞ্চলক্ষণ ও দশলক্ষণ সূত্র রয়েছে। এককথায় বলা যেতে পারে মহাবিশ্ব ও জীবজগত সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ই পুরাণের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি তত্ত্ব, দেবদেবীদের কথা,ঈশ্বরের অবতার তত্ত্ব, রাজা, ঋষি প্রভৃতির বংশ পরম্পরার কাহিনী, ধর্মতত্ত্ব, পূজো- আচ্চা, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষ, ব্যাকরণ, বৃত্তি ইত্যাদি সমস্ত বিষয়েই বিভিন্ন পুরাণ আলোকপাত করে। পুরাণ অনুসারে, মহর্ষি বেদব্যাস বদ্রীনাথের একটি গাছের নীচে বসে গভীর ধ্যান করেছিলেন। অবশেষে, তিনি জ্ঞানের শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং তিনি মহাভারত, বেদ এবং পুরাণ রচনা করতে অনুপ্রাণিত হন। মোট 18 টি পুরাণ রয়েছে , প্রতিটি পুরাণের নিজস্ব তাৎপর্য ও মূল্য রয়েছে। পুরাণগুলি এমনভাবে রচিত যে সেগুলি বিভিন্ন যুগে তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে। ব্রহ্ম পুরাণ সবচেয়ে প্রাচীন হল ব্রহ্ম পুরাণ । এই পুরাণে ব্রহ্মার মাহাত্ম্য, সৃষ্টির উৎপত্তি, গঙ্গার অবতার ও রামায়ণ এবং কৃষ্ণ অবতারের কাহিনী সংকলিত রয়েছে । পদ্ম পুরাণ পদ্ম পুরাণে পৃথিবী, আকাশ ও নক্ষত্রের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে। ভারতের সমস্ত পর্বত ও নদীর বিস্তারিত বর্ণনাও রয়েছে। পদ্ম পুরাণ শকুন্তলা দুষ্যন্ত থেকে ভগবান রাম পর্যন্ত বহু পূর্বপুরুষের ইতিহাস বলে। শকুন্তলা-দুষ্যন্তের পুত্র ভরতের নামানুসারে আমাদের দেশের নাম জম্বুদ্বীপ এবং পরে ভারত রাখা হয়। আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প - অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা বিষ্ণু পুরাণ বিষ্ণু পুরাণে ভগবান বিষ্ণু, শিশু ধ্রুব এবং কৃষ্ণাবতারের গল্প সংকলিত হয়েছে। এছাড়া সম্রাট পৃথুর কাহিনীও রয়েছে যার কারণে আমাদের পৃথিবীর নাম পৃথ্বী হয়েছে। বিষ্ণু পুরাণ আসলে একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ। শিব পুরাণ শিব পুরাণে ভগবান শিবের মাহাত্ম্য এবং তাঁর সাথে সম্পর্কিত ঘটনাগুলি চিত্রিত করা হয়েছে। এই গ্রন্থকে বায়ু পুরাণও বলা হয়। এতে কৈলাস পর্বত, শিবলিঙ্গ ও রুদ্রাক্ষের বর্ণনা, সপ্তাহের দিনের নাম সৃষ্টি ইত্যাদি। ভাগবত পুরাণ ভাগবত পুরাণে আধ্যাত্মিক বিষয়ের উপর কথোপকথন রয়েছে। ভক্তি, জ্ঞান ও ত্যাগের মাহাত্ম্য দেখানো হয়েছে। বিষ্ণু ও কৃষ্ণাবতারের কাহিনী ছাড়াও মহাভারত যুগের পূর্বের অনেক রাজা, ঋষি ও অসুরের কাহিনীও সংকলিত হয়েছে। নারদ পুরাণ নারদ পুরাণে সমস্ত ১৮ টি পুরাণের সারাংশ এই গ্রন্থে দেওয়া আছে। গঙ্গার অবতারণের কাহিনীও বিশদভাবে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে সঙ্গীতের সাতটি স্বরলিপি সঙ্গীত পদ্ধতির এই জ্ঞান আজও ভারতীয় সঙ্গীতের ভিত্তি। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অন্যান্য পুরাণের তুলনায় মার্কণ্ডেয় পুরাণ একটি ছোট পুরাণ। এই বইটিতে ঋষি মার্কণ্ডেয় এবং ঋষি জৈমিনীর মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং যোগব্যায়াম বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে। অগ্নি পুরাণ অগ্নি পুরাণকে ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বকোষ বলা যেতে পারে। মৎস্যাবতার, রামায়ণ ও মহাভারতের সংক্ষিপ্ত কাহিনীও এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ভবিষ্য পুরাণ ভবিষ্য পুরাণে সূর্যের গুরুত্ব, বছরের ১২ মাসের সৃষ্টি, ভারতের সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাগত আইন ইত্যাদি অনেক বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। Picture credit:commons. wikimedia. org ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে ব্রহ্মা, গণেশ, তুলসী, সাবিত্রী, লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং কৃষ্ণের মাহাত্ম্য চিত্রিত করা হয়েছে এবং তাদের সাথে সম্পর্কিত গল্পগুলি সংকলিত হয়েছে। লিঙ্গ পুরাণ লিঙ্গ পুরাণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের যুগে সৃষ্টির উৎপত্তি এবং যুগ, কল্প প্রভৃতির ছক রয়েছে। এই গ্রন্থে অঘোর মন্ত্র এবং অঘোর বিদ্যা সম্পর্কেও উল্লেখ আছে। বরাহ পুরাণ বরাহ পুরাণে বরাহ অবতারের কাহিনী ছাড়াও এই গ্রন্থে ভগবত গীতার মাহাত্ম্যের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এই পুরাণে সৃষ্টি, স্বর্গ, পাতাল এবং অন্যান্য জগতের বিকাশের বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। স্কন্দ পুরাণ স্কন্দ পুরাণ হল বৃহত্তম পুরাণ । স্কন্দ পুরাণে প্রাচীন ভারতের একটি ভৌগলিক বর্ণনা রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ২৭টি নক্ষত্রমণ্ডল, ১৮টি নদীর গল্প। এই পুরাণে শ্যাহাদ্রি পর্বতমালা এবং কন্যা কুমারী মন্দিরের কথাও বলা হয়েছে। বামন পুরাণ বামন পুরাণে বামন অবতারের কাহিনী বিশদভাবে বলা হয়েছে । এ ছাড়া এই গ্রন্থে সৃষ্টি, জম্বুদ্বীপ ও অন্যান্য সাতটি দ্বীপের উৎপত্তি, পৃথিবীর ভৌগলিক অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে। কূর্ম পুরাণ কূর্ম পুরাণে চারটি বেদের সার সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হয়েছে। কূর্ম অবতার সম্পর্কিত সাগর মন্থনের কাহিনী কূর্ম পুরাণে বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে। আরও পড়ুন: গ্রিক পৌরাণিক গল্প, মূলত দেবদেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের কাহিনী মৎস্য পুরাণ মৎস্য পুরাণে মৎস্য অবতারের কাহিনী এই গ্রন্থে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সৃষ্টির উৎপত্তির ইতিহাস, আমাদের সৌরজগতের সমস্ত গ্রহ, চার যুগ বর্ণনা করা হয়েছে। গরুড় পুরাণ গরুড় পুরাণে মৃত্যুর পরের ঘটনা, ভূত জগৎ, যম জগৎ, নরক ও নরকের মতো ৮৪ লাখ প্রজাতির জীবন ইত্যাদি বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ মনে করা হয় যে অধ্যাত্ম রামায়ণ আগে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের একটি অংশ ছিল, যা এখন একটি পৃথক গ্রন্থ। এই পুরাণে মহাবিশ্বে অবস্থিত গ্রহগুলি বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে সময় অনুযায়ী পরপর সাজালে প্রথমে আসে চারটি বেদ, বেদের শেষাংশ উপনিষদ,তারপর আসবে মহাকাব্যগুলি-রামায়ণ ও মহাভারত তারপর পুরাণ গুলির কথা আমরা পাই। বেদে মূলতঃ আধ্যাত্মিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং তা চর্চা বা বোধগম্যতার দিক দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। উপনিষদে বেদের বিষয়গুলোকে একটু সহজ করে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখানো হয়েছে। কিন্তু তখনো তা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরেই ছিল । এবার বিষয়গুলোকে সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা হল গল্পকথার মাধ্যমে। আর তা করা হল মহাকাব্য ও পুরাণের মধ্য দিয়ে। এগুলোতে বেদের আধ্যাত্মিকতার বিশুদ্ধ চর্চা সম্পূর্ণ ভাবে বদলে গেল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যতটুকু এর চর্চা করা যায় সেই দিকে। আপাত দৃষ্টিতে পুরাণ ও মহাকাব্যগুলিকে নিছক কিছু গল্পগাথার সমাহার মনে হলেও আসলে এগুলির কাহিনীর মধ্যেই বেদের বিষয়বস্তুর প্রতিফলন দেখা যায় । --- > গ্রিক পৌরাণিক গল্প মূলত দেব–দেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের নিয়ে গল্প ও কিংবদন্তির সংকলন। হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল গ্রিক পুরাণের গল্প। - Published: 2024-11-21 - Modified: 2024-11-21 - URL: https://www.sabjanta.info/selected-stories-from-greek-mythology/ গ্রিক পৌরাণিক গল্প মূলত দেব–দেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের নিয়ে গল্প ও কিংবদন্তির সংকলন। হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল গ্রিক পুরাণের গল্প। Picture credit: devianart. com গ্রিক পৌরাণিক গল্প মূলত দেব–দেবী ও অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাণীদের নিয়ে গল্প ও কিংবদন্তির সংকলন। হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল গ্রিক পুরাণের গল্পগুলো। কে বা কারা এসব রচনা করেছেন, তার সঠিক তথ্য ইতিহাসে তেমন পাওয়া যায় না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে গল্পগুলো। এসব গল্পের বেশির ভাগই ছিল ভয়ংকর সব যুদ্ধের বর্ণনা। কখনো মানুষ, কখনো দেব–দেবীরা লড়ছেন ভয়ংকর সব প্রাণীর বিরুদ্ধে। বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা, নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে এসব কাহিনিতে। গ্রিক পুরাণে দেখা যায়, মানুষের মতো দেবতাদেরও কর্মফল ভোগ করতে হয়। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজের জন্য তিরস্কার জোটে তাঁদের ভাগ্যে। গ্রিসের বিভিন্ন মন্দির ও মাটি খুঁড়ে পাওয়া নানা পুরাকীর্তিতে পাওয়া গেছে অনেক গল্পের বর্ণনা। আমরা এখানে গ্রিক পুরাণের কিছু কিংবদন্তি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। দেবীদের কলহের জেরে ট্রোজান যুদ্ধ শুরু: গ্রিক পৌরাণিক গল্প Picture credit: wga. hu পেলিয়াস আর থেটিসের বিয়ের ভোজে অলিম্পাসের সমস্ত দেব দেবীদেরই নিমন্ত্রণ ছিল। ডাকা হয়নি শুধু ঝগড়ার দেবী এরিসকে। মহা ক্রোধে এরিস ঠিক করলেন, অলিম্পাসের সবাইকে সাজা দিতে হবে! তিনি দেবদেবীদের মাঝখানে ছুঁড়ে দিলেন একটি সোনার আপেল, তাতে লেখা ‘সবচেয়ে সুন্দরী যে, তার জন্য’। তিনজন দেবী আপেলটির অধিকার চেয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু করলেন— সংসারের দেবী হেরা, মেধা এবং গুণের দেবী এথিনা, আর প্রেমের দেবী আফ্রোদিতে। এই তিন দেবীর মধ্যে কে সবচেয়ে সুন্দরী, এবং আপেলটি কার প্রাপ্য, সে-বিচার করার দুঃসাহস কোনও দেবতা করলেন না, এমনকী স্বয়ং দেবরাজ জিউসও না। অতএব অনেক আলোচনার পরে তিন দেবীকে বলা হল ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিসের কাছে যেতে, কারণ তিনি নারীর সৌন্দর্যের মর্ম বোঝেন এবং সুবিচার করে থাকেন। তিন দেবী অতঃপর প্যারিসের কাছে গিয়ে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে তাঁর মন জয় করার চেষ্টা করলেন। প্যারিস যখন মনস্থির করতে পারলেন না, তখন তিনজনেই তাঁকে নানা ভাবে ঘুষ দেবার চেষ্টা করলেন। হেরা বললেন, তোমায় আমি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রাজত্বের রাজা করে দেব। এথিনা বললেন, তোমায় আমি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবার মাননীয় যোদ্ধা করে দেব। আর আফ্রোদিতে বললেন, তোমার সঙ্গে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী হেলেনের মিলন ঘটিয়ে দেব। প্যারিস আফ্রোদিতের দাবি মেনে নিলেন এবং তাঁকে সোনার আপেলটি পুরস্কার দিয়ে আজীবন নিজেকে এবং নিজের দেশ ট্রয়কে হেরা আর এথিনার বিরাগভাজন করে তুললেন। অতএব ট্রয়ের যুদ্ধের পিছনে যতটা না ছিল মানুষের ভুলভ্রান্তি, তার চেয়েও বেশি ছিল দেবতাদের হিংসা এবং প্রতিযোগিতা । আরও পড়ুন: চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প - ঘানা’র পৌরাণিক গল্প হেরাক্লিস ও হাইড্রার যুদ্ধ: একটি গ্রিক পৌরাণিক গল্প Picture crdit: paleothea. com গ্রিক পুরাণে ৯ মাথার এক ভয়ংকর সাপের নাম হাইড্রা। জলাভূমিতে বাস করত। আর হেরাক্লিস বা হারকিউলিস ছিলেন গ্রিক দেবতা জিউসের সন্তান। তবে পুরোপুরি দেবসন্তানের মর্যাদা ছিল না তাঁর। মা মানুষ হওয়ায় হেরাক্লিস দেবতাদের মতো অমরত্ব পাননি। অমরত্বের জন্য হেরাক্লিসকে ১২টি কঠিন কাজ দেওয়া হয়। এর একটা ছিল হাইড্রাকে পরাস্ত করা। হাইড্রার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আগুনের বর্শা ছুড়ে মারেন হেরাক্লিস। জবাবে হাইড্রা হেরাক্লিসকে আক্রমণ করতে এলে তরবারি দিয়ে কেটে ফেলেন মাথা। কিন্তু মরে যাওয়ার বদলে হাইড্রার কাটা মাথা থেকে গজিয়ে ওঠে আরও দুটি মাথা। আসলে হাইড্রার জাদুকরি শক্তি ছিল এটি। যতবারই মাথা কাটা হোক না কেন, দ্বিগুণ হয়ে গজিয়ে যাবে সেটা। যাহোক, হেরাক্লিসের সঙ্গে ছিল বন্ধু লোলাস। হাইড্রার মাথা গজানো বন্ধ করার একমাত্র অস্ত্র হলো আগুন। হেরাক্লিস হাইড্রার মাথা কাটার সঙ্গে সঙ্গে কাটা স্থান আগুনে পুড়িয়ে দিতে থাকে লোলাস। দীর্ঘ সময় ধরে এ বহুমুখী দানবের সঙ্গে এভাবে লড়াই করে দুই বন্ধু। অবশেষে একসময় পরাজিত হয়ে মারা যায় হাইড্রা। বিজয়ের আনন্দ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে দুই বন্ধু। আরও পড়ুন: নীল সাগরের ক্ষুদে দৈত্য ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার পার্সিসাস ও মেডুসার লড়াই: একটি গ্রিক পৌরাণিক গল্প Picture credit: indigomusic. com গ্রিক পুরাণের অন্যতম দানব মেডুসা'র মাথায় চুলের বদলে লিকলিক করত অজস্র সাপ। ছিল ভয়ংকর দাঁত। চোখের দৃষ্টিতে ছিল ভয়ংকর জাদুকরি শক্তি। কেউ সে চোখের দিকে তাকালে সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হতো পাথরের মূর্তিতে। রাজাকে খুশি করার জন্য পার্সিসাস নামের এক যোদ্ধা এই দানবকে হত্যা করতে বেরিয়ে পড়েন। পার্সিয়াস বেরিয়ে পড়লেন এই অসম্ভব কাজটি সম্পন্ন করতে। কিন্তু একা এই কাজটি করা সম্ভব? প্রায় অসম্ভব কাজটি করতে পার্সিয়াসের পাশে ছিলেন জ্ঞানের দেবী অ্যাথেনা স্বয়ং, আর দেবতাদের বার্তাবাহক হার্মিস। তারা পার্সিয়াসকে শিখিয়ে দিলেন বেশ কিছু কৌশল, আর দিলেন বিশেষ কিছু জিনিস। অ্যাথেনা তাকে দিলেন নিজের বুকের পাতলা বর্ম (মতান্তরে ব্রোঞ্জের একটি ঢাল), হার্মিস তাকে দিলেন একটি তরবারি আর হেডিসের জাদুর টুপি- যা পরলে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে থাকা যায়, জাদুর থলি, যার ভেতরে যেকোন কিছু আঁটানো যায়। হার্মিস তাকে আরো দিলেন পাখাওয়ালা এক জোড়া জুতো, যা পরে যেখানে খুশি যাওয়া যায়। এতকিছু পেয়ে পার্সিয়াসের মনে বল পেল, মেডুসাকে হত্যা করা এখন তার কাছে আর কোনো ব্যাপারই নয়। বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে মেডুসার দ্বীপে এসে পৌঁছুল পার্সিয়াস। গর্গনরা তিন বোনই থাকত এখানে। দেবী অ্যাথেনা পার্সিয়াসকে মেডুসা কোনটি তা চিনিয়ে দিলেন, কারণ অন্য দুই বোন ছিল অমর। তিনি তাকে আরও বললেন, মেডুসার দিকে যেন সে কোনভাবেই সরাসরি না তাকায়। কারণ তাতে সে পাথর হয়ে যাবে। তাই তিনি চকচকে ব্রোঞ্জের সেই ঢালের মাঝে মেডুসার প্রতিফলনের দিকে তাকে চোখ রাখতে বলেন। পার্সিয়াস জাদুর জুতো জোড়া পায়ে পরে উড়ে উড়ে সেই ঢালের দিকে তাকিয়ে মেডুসার দিকে লক্ষ রাখতে লাগল। একসময় মেডুসা এসে পড়ল তার হাতের নাগালে, সে ঢালের দিকে তাকিয়ে তলোয়ারের এক কোপে মেডুসার মাথা কেটে ফেলল। ঢাল থেকে চোখ না সরিয়েই মেডুসার মাথাটি মুঠি করে ধরে জাদুর থলেতে ঢুকিয়ে ফেলল। অন্য দুই বোন মেডুসার এই পরিণতি খেয়াল করে তাকে ধরবার আগেই জাদুর টুপি আর জুতোর সাহায্যে সেখান থেকে পালিয়ে গেল। --- > ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ এক ধরনের সামুদ্রিক ও গভীর জলের মাছ। এরা সমুদ্রের উপরিতলে আসে না। কখনো কখনো এই মাছ মারা গেলে ভেসে উপরে আসে। - Published: 2024-11-08 - Modified: 2024-11-08 - URL: https://www.sabjanta.info/black-swallower-fish-the-little-demons-of-oceans/ ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ এক ধরনের সামুদ্রিক ও গভীর জলের মাছ। এরা সমুদ্রের উপরিতলে আসে না। কখনো কখনো এই মাছ মারা গেলে উপরে ভেসে ওঠে । Picture credit: oddfeed. net এই যে নীল সমুদ্র, কত বিচিত্র প্রাণ, এর কতটুকু আসলে জানি আমরা? মুগ্ধ বিস্ময়ে নীল-সবুজের সৌন্দর্য তো নিয়ত দেখতে পাই, কিন্তু প্রকৃতির অদ্ভুত নির্মমতা কতটুকু দেখি? প্রকৃতির এই নির্মমতাই আসলে বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠোর করে চলেছে যুগ যুগ ধরে । অকুল সমুদ্রের মাঝের এমন এক বিচিত্র প্রাণী ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছ । এই মাছটাকে এক কথায় বলা যায় দুঃস্বপ্ন! আবার, আমাদের সৌভাগ্যও বলা যায় কারণ এরা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে না। না হলে, এদের কাজকর্ম আমাদের ঘুম কেড়ে নিত । মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরা কিন্তু দৈর্ঘ্যে খুবই ছোট। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্যই হয় এক ফুটের মতো। তবে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে দৈঘ্যের পরিমাণ হয় ৬-৮ ইঞ্চি। কিন্তু মুখটা প্রকাণ্ড। বিশাল সব শিকার গিলে ফেলতে পারে অনায়াসে। নিজেদের থেকে বিশাল কাউকে চট করে গিলে ফেলা তো সহজ কথা নয়। কাজেই, রেজর ব্লেডের মতো ধারালো দাঁত রয়েছে এদের। আর, একবার শিকার মুখে ঢুকে গেলে আর যাতে বেরিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য রয়েছে কাঁটাযুক্ত তালু। কিন্তু খালি গিললেই তো হবে না, জায়গাও তো দিতে হবে। আরও পড়ুন: পয়েন্ট নিমো একটি রহস্যময় জায়গা, এটা কি কবরস্থান নাকি মরুভূমি? ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছের ছোট্ট দেহের নিচে একটি বেলুনের মতো পেট আছে এদের। নিজ দৈর্ঘ্যের প্রায় দ্বিগুণ এবং ভরের দিক থেকে নিজের দশ গুণ ওজনের যেকোনো মাছকে আস্ত গিলে ফেলতে পারে! শিকারকে এরা ঠেসে পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। একেবারে আস্ত আঁটানো চাই! আঁটানোর জন্য তীক্ষ্ণ দাঁত ব্যবহার করতে কোনো রকম কার্পণ্য করে না এরা। Picture credit: ocean. si. edu শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এদের কাজের ধরন আসলে খুব সরল। এরা থাকে আটলান্টিক মহাসাগরের ট্রপিক্যাল ও সাবট্রপিক্যাল অংশে, সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে ৩,৩০০ থেকে ১৩,০০০ ফুট নিচে। অন্ধকার এই গভীর জলে খুব সহজে শিকার পাওয়া যায় না। তাই কোনোক্রমে একটা শিকার পেলেই এরা একবারে পুরোটা গিলে নিয়ে সেটা জমিয়ে রাখে তাদের পেটের নিচের দিকে একটা বড় থলিতে । পরে ওই জমানো খাদ্য থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আহরণ করে। কিন্তু সবসময় ব্যাপারটা এত সহজ ও শান্তিপূর্ণ হয় না । সবকিছুরই একটা সীমা আছে তো! অনেক সময়, খাদ্য সংগ্রহের পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি হলে যথা সময়ে এরা পুরো খাবার হজম করতে পারে না। তখন এই খাবার ওদের শরীরের নিচের থলিতে পচতে শুরু করে, ফলে গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস পেটের মধ্যে চাপ দিতে থাকে। ফলাফল, ক্ষেত্রবিশেষে বিস্ফোরিতও হতে দেখা যায় ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার মাছকে ! অনেক সময় বিস্ফোরণের ফলে ব্ল্যাক সোয়ালোয়ারের মৃতদেহ ভেসে ওঠে সমদ্রপৃষ্ঠে। আরও পড়ুন: চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প - ঘানা’র একটি পৌরাণিক গল্প এই ভেসে ওঠা মৃতদেহ থেকেই এদের ব্যাপারে যা কিছুটা জানা গিয়েছে। যেমন এদের ডিমের আকার হয় সাধারণত ১১ মিলিমিটারের মতো। আর দেখা গেছে, বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝের সময়টায় পাওয়া মৃতদেহগুলোর পেটেই কেবল ডিম পাওয়া গেছে। তার মানে, এই সময়টাই তাদের প্রজননের সময়। ২০০৭ সালে এরকম একটি ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার ম্যাচের মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল সমুদ্রপৃষ্ঠে। এর পেটের নিচের থলি থেকে স্নেক ম্যাকারেল নামে একটি মাছের দেহ পাওয়া গিয়েছিল, যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩৪ ইঞ্চি কিন্তু ক্ষুদে দৈত্যের নিজের দৈর্ঘ্যের প্রায় সাড়ে চারগুণ! --- > রান্নাঘরের সু-অভ্যাস, এখানে 9 টি অভ্যাসের উল্লেখ করা হল যাতে রান্নাঘরের পরিমণ্ডল অস্বাস্থ্যকর না হয়, খাবার ভাল হয় ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য অটুট থাকে - Published: 2024-11-07 - Modified: 2024-11-07 - URL: https://www.sabjanta.info/9-kitchen-tips-for-better-cooking-and-health/ রান্নাঘরের সু-অভ্যাস, এখানে 9 টি অভ্যাসের উল্লেখ করা হল যাতে রান্নাঘরের পরিমণ্ডল অস্বাস্থ্যকর না হয়, খাবার ভাল হয় ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য অটুট থাকে রান্নাঘরের সু-অভ্যাস, এখানে 9 টি অভ্যাসের উল্লেখ করা হল যাতে রান্নাঘরের পরিমণ্ডল অস্বাস্থ্যকর না হয়, খাবার ভাল হয় ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য অটুট থাকে আমরা কেউই সামগ্রিক ভাবে নিখুঁত নয় তাই হয়ত অনেক মানুষের মধ্যে হয়ত কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থাকে। কিন্তু কিছু সু-অভ্যাস পরিবারের সবার স্বাস্থ্য রক্ষায় ভীষণভাবে কার্যকরী হয়। অনেকেই রান্নাঘর ভালোভাবে গুছিয়ে রাখেন না। কিন্তু গোছানো আর পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর মানেই বাড়তি কিছু সুবিধা আছে, একথা গৃহিণীরা মানবেন। গোছানো রান্নাঘরে হাতের কাছে সবকিছু যেমন নিমেষে খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি রান্নাও করা যায় নির্বিঘ্নে। এর মধ্যে রান্নাঘরের কিছু বাজে অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন অনেকেই হয়তো রান্নাঘরের কল খুলে রাখা বা রান্না না থাকলেও উনুন জ্বালিয়ে রাখেন ইত্যাদি । এ ধরনের অভ্যাস নানাভাবে পারিবারিক সুস্বাস্থের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ত্যাগ করা উচিৎ এমন কয়েকটি অভ্যাসের কথা আলোচনা করলাম :- রান্নাঘরের সু-অভ্যাস, পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য: ৯ টি 1. সিঙ্ক বেয়ে জল পড়া অনেকেই মাঝে মাঝে রান্না ঘরে জলের ট্যাপ বন্ধ করতে ভুলে যান, ফলে সিঙ্ক বেয়ে জল পড়া । আবার কখনো সিঙ্কের নিচে থাকা পাইপেও ফুটো থাকে জল চুঁইয়ে পড়তে পারে। রান্নাঘর যাতে এভাবে স্যাঁতসেঁতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এতে রান্নাঘরে আরশোলা বাসা বাঁধতে পারে । এতে নানা রকম রোগ ছড়ায়। খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ডায়রিয়া এভাবে বাড়তে পারে। জল ছাড়া এক সপ্তাহের বেশি বাঁচতে পারে না আরশোলারা । তাই রান্নাঘরে কোথায় জল পড়ছে, তা দ্রুত সারিয়ে নিন ও ট্যাপ ঠিকমতো বন্ধ করুন। আরও পড়ুন: ভেজিটেবিল চপ রেসিপি, বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু চপ বানান 2. চোখের সামনে জাঙ্কফুড রাখা যখনই খিদে পায়, অনেকে রান্নাঘরের দিকে ছোটেন। রান্নাঘরের তাকে রাখা অনেক লোভনীয় খাবার যখন তখন খান, যা আসলে অস্বাস্থ্যকর। এর কারণ হচ্ছে, এসব খাবার রান্নাঘরে চোখ বরাবর রাখা হয়। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এড়াতে তাই রান্নাঘর গোছগাছ রাখা বেশ জরুরি। বিশেষ করে বিস্কুট, চিপস, কোল্ড ড্রিংকস বা ঐ জাতীয় অন্যান্য খাবার একটু চোখের আড়ালে বা ওপরের দিকের তাকে রাখা উচিত। এর বদলে বাদাম, শুকনো ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার রান্নাঘরে এমনভাবে রাখতে হবে, যেগুলি সহজেই চোখে পড়ে। 3. স্ক্র্যাবার পরিষ্কার না করা Picture credit: onmanorama. com অনেকেই স্ক্র্যাবার দিয়ে বাসন মাজেন কিন্তু তা হয়তো রোজ পরিষ্কার করে রাখা হয়ে ওঠেনা। স্ক্র্যাবার ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় ও পরে বাসন-কোসনে ওই ব্যাকটেরিয়া চলে আসে। স্ক্র্যাবার ঠিকমতো ধুয়ে রাখার অভ্যাস খুব জরুরী । 4. পুরোনো ননস্টিক কড়াই অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো কড়াই ব্যবহার করেন। যাঁরা একই কড়াই তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে ব্যবহার করছেন, তাঁরা একে বিদায় দিতে পারেন। ননস্টিক কড়াই তেলমুক্ত রান্নার জন্য ভালো। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে এ ধরনের কড়াই থেকে ক্ষতিকর পদার্থ খাবারে মিশতে পারে। তাতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী টেফলন থাকতে পারে। তাই বেশি পুরোনো ননস্টিক কড়াই ব্যবহার না করাই ভাল। 5. একই চপিং বোর্ড বারবার ব্যবহার Picture credit: bbcgoodfood. com একই চপিং বোর্ড বারবার ব্যবহার করা ঠিক নয়। একই চপিং বোর্ডে মাংস ও সবজি না কাটার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। একই বোর্ডে এসব জিনিস কাটা স্বাস্থ্যকর নয় বলে পৃথক বোর্ড ব্যবহার করতে হবে। আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প, যেগুলি অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক 6. ঠিকমতো ঢাকনা না দেওয়া অনেকেই কোনো বয়ামের বা কৌটার ঢাকনা খুলে পরে ঠিকমতো আটকাতে ভুলে যান । এর ফলে ওই পাত্রে রাখা খাবারে পিঁপড়া বা অন্য পোকামাকড় ঢুকে পড়তে পারে । এ ছাড়া সামান্য ধাক্কা লাগলেই তা পড়ে গিয়ে রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বয়াম বা কৌটা আটকানোর ব্যাপারে বেশি সজাগ থাকতে হবে। 7. বেশি আঁচে রান্না Picture credit: telegraphindia. com অধৈর্য হয়ে হয়তো অনেকেই বেশি আঁচে রান্না করতে শুরু করেন। আগুনের আঁচ বাড়ানোর ফলে রান্না একটু তাড়াতাড়ি হয় ঠিকই কিন্তু তাতে খাবারের গুণগত মান কম হয়। অনেক গন্ধ ও নমনীয় উপাদান হারিয়ে যায় এর মাঝে । যাঁরা বেশি সুস্বাদু রান্না করতে চান, তাঁরা মাঝারি বা অল্প আঁচে রান্না করুন। 8. পড়ে যাওয়া খাবার তোলা অনেকেই রান্নাঘর ঠিকমতো পরিষ্কার করেন না। রান্নাঘরের মেঝেতে কিছু পড়ে গেলে তা দ্রুত তুলে তা খেয়ে ফেলেন বা রান্নার মধ্যে দেন। তাঁরা মনে করেন, পড়ে যাওয়ার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে ফেললে কিছু হয় না। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। রান্নাঘর কতটা পরিষ্কার তা জানা জরুরি। 9. রান্নাঘরের স্ল্যাব ঠিকমতো পরিষ্কার করা Picture credit: firstforwomen. com ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু এড়াতে রান্নাঘরের স্ল্যাব ঠিকমতো পরিষ্কার রাখুন । সঠিক মনের জীবাণুনাশক ব্যবহার করে রান্নাঘরের স্ল্যাব পরিষ্কার করুন। --- > ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক নীতি গল্প যেকোন সময়েরই ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই বিভিন্ন ভাষা থেকে এই নীতি গল্পগুলি চয়ন করা হয়েছে। - Published: 2024-11-02 - Modified: 2024-11-02 - URL: https://www.sabjanta.info/top-7-moral-story-for-children-in-bengali/ ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক নীতি গল্প যেকোন সময়েরই ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই বিভিন্ন ভাষা থেকে এই নীতি গল্পগুলি চয়ন করা হয়েছে। সংকলন সম্পর্কে যেকোনো মতামত আমাদের আরও উত্সাহিত করবে। ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক নীতি গল্প : বাছাই করা 7 টি নিচে দেওয়া হল। 1. রাজহাঁস আর কাক - Swan and Crow story Picture credit: blogspot. com একটা কাক ও রাজহাঁসের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। রাজহাঁসকে দেখেকাক একদিন দুঃখ করে বলল—তুমি কী সুন্দর দেখতে! তোমার গায়ের রং কী ধপধপে সাদা। আমিও যদি তোমার মতো সাদা হতে পারতাম! আমার রং কালো, তাই কী বিচ্ছিরিই না দেখতে আমি। কাক ভেবেছিল যে, রাজহাঁস জলে থাকে বলেই হয়তো তার গায়ের সব ময়লা ধুয়ে ধুয়ে ফরসা হয়ে গেছে। যেই না ভাবা অমনি তার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। কাকটিও জলে নেমে পড়ল, তারপর জলে বার কয়েক ডুব দিয়ে সে পাড়ে উঠে এল। কিন্তু দেহের দিকে তাকিয়ে কাক দেখল সে যেমন আগে কালো ছিল এখনও তেমনি কালো রয়ে গেছে। তারপর কাকের মনে হল শুধু জলে নামলেই হবে না, ওই জলেই তাকে বাস করতে হবে। এই ভেবে সে দিনরাত জলেই থাকতে লাগল। কাক যত দিন ডাঙায় ছিল এখানে ওখানে উড়ে গিয়ে কিছু না কিছু খাবার জোগাড় করতে পারত— কিন্তু জলের মধ্যে তো কাকের খাবার পাওয়া যায় না। খিদে পাওয়া সত্ত্বেও কাক জেদ করে জলে বসে থাকত। এদিকে না খেয়ে না খেয়ে সে দিন দিন রোগা হয়ে যেতে লাগল। রাজহাঁস তাকে ফরসা হবার বৃথা চেষ্টা না করতে বলল, কিন্তু কাক রাজহাঁসের কথা শুনল না। সে রাজহাঁসের মতো সাদা হবার চেষ্টা করে যেতে লাগল। এমনি করে জলে থেকে থেকে কাক সাদা হওয়া তো দূরের কথা—না খেয়ে খেয়ে দুর্বল হয়ে একদিন মারাই গেল। নীতি : প্রকৃতিকে মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। 2. স্বার্থপর ঘোড়া ও তার পরিণতি একটি লোক একদিন একটা ঘোড়া আর একটা গাধা নিয়ে রাস্তা এ | দিয়ে যাচ্ছিল। গাধার পিঠে ছিল মস্ত বড়ো দুটো বোঝা। সে আর বইতে পারছিল না। তার খুব কষ্ট হচ্ছিল। সে তখন ঘোড়াকে বলল, ভাই, আমি যে আর চলতে পারছি না, তুমি বোঝার কিছুটা মাল তোমার পিঠে নাও । ঘোড়া তাতে রাজি হল না। একটু পরেই বোঝার ভার সইতেনা পেরে গাধাটা পথের মাঝখানে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে মারা গেল। লোকটি তখন গাধা যে বোঝা বইছিল তা তো ঘোড়ার পিঠে চাপালই, এমনকি মরা গাধার ছাল ছাড়িয়ে সেটাও ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে দিল। এবার ভারের চোটে ঘোড়া কোঁকাতে কোঁকাতে করুণ সুরে বিলাপ করে বলতে লাগল—আমার দুর্মতির জন্যেই আজ এই দশা হয়েছে। গাধার বোঝার খানিকটা আমি বইতে রাজি হইনি, তাই এখন তার পুরো বোঝা—এমনকি তার চামড়া পর্যন্তও আমাকে বইতে হচ্ছে। নীতি : স্বল্প দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করলে, বড়ো দায়িত্ব থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আরও পড়ুন: চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প - ঘানা’র পৌরাণিক গল্প 3. অতি চালাকের গলায় দড়ি একবার এক গাধা আর শেয়ালের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয়েছিল। দুই বন্ধু একদিন শিকার করতে গেল। কিছু দূর যাবার পর সামনে এক সিংহ দেখতে পেয়ে বিপদ বুঝে শেয়ালটা নিজেকে বাঁচাবার জন্যে সিংহের একেবারে কাছে গিয়ে বলল – মহারাজাধিরাজ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা কথা বলি। তারপর ফিসফিস করে বলল— ওই গাধাটাকে আপনার একেবারে হাতের মুঠোর মধ্যে এনে দিতে পারি। তবে কথা দিতে হবে আমাকে ছেড়ে দেবেন। সিংহ বলল—বেশ তো, তাই হবে। কথা দিচ্ছি আমি। সিংহের এই কথা শুনে শেয়াল গাধাটাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে সিংহের কাছাকাছি একটা ফাঁদের মধ্যে ফেলল। আর এদিকে সিংহ যখন দেখল গাধাটার আর পালাবার কোনো উপায় নেই তখন প্রথমেই শেয়ালটাকে শেষ করল, তারপর ধীরে সুস্থে গেল গাধাটার কাছে। নীতি : অন্যের সর্বনাশের চেষ্টা করলে নিজেরই ক্ষতি হয়। ( অর্থাৎ অতি চালাকের গলায় দড়ি ) 4. শকুন, সিংহ আর শূকর Picture credit: pinterest এক বনে এক সিংহ বাস করত। সেখানে অন্যান্য প্রাণীরাও থাকত। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম পড়ল। চারিদিকে কোথাও একটুও জল নেই। জঙ্গলের গাছেরা সব শুকিয়ে যেতে লাগল। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেল। আকাশে মেঘের দেখা নেই। চারিদিকে প্রচণ্ড গরম হাওয়া বইছিল। বনের প্রাণীরা খাবার জলের খোঁজে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। জঙ্গল থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা ছোট্ট ঝরনা ছিল। একটি শুকর একদিন সেই ঝরনাটির সন্ধান পেল। তৃষ্ণার্ত শূকরটি মনের আনন্দে সেই ছোট্ট ঝরনার দিকে এগিয়ে গেল। আর যেই-না ঝরনার জলে সে মুখ দিতে গেল, অমনি সে দেখতে পেল ঝরনার জল যেখান দিয়ে বয়ে যাচ্ছে এবং সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার উলটোদিক থেকে একটি সিংহ এই ঝরনাতেই জল খেতে আসছে। ক্রমে সে আরও কাছে এল। সিংহের ভীষণ রাগ হল। সে হচ্ছে বনের রাজা। তার আগে শূকরটা জল খাবে! কিছুতেই তা হতে পারে না। তাকে সে কিছুতেই এই ঝরনার জল খেতে দেবে না। তা ছাড়া বনের রাজা সে। রাজার সঙ্গে একই জল কেউ খেতে পারে? অতএব জল খাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি বেঁধে গেল। সে এক ভীষণ লড়াই। অনেকক্ষণ ধরে সেই লড়াই চলল। কেউই কাউকে হারাতে পারছিল না। সিংহ আর শূকর লড়াই করতে করতে দুজনেই হাঁপিয়ে গিয়েছিল। তাই একটু হাঁফ ছেড়ে নিতে উভয়েই লক্ষ করল যে, কোন্ ফাঁকে এক শকুনি তাদের থেকে একটু দূরে বসে অপেক্ষা করছে। কে আগে মরে। মরলেই শকুনি তার মাংস খাবে। এই দেখে সিংহ আর শূকর একটু ঘাবড়ে গেল। শকুনের পেটে যাওয়ার চেয়ে ঝগড়া বন্ধ করাই ভালো, ঝগড়া করে আমাদের কারোরই লাভ হবে না। মাঝখান থেকে শকুনেরই লাভ হবে। তারা একটু থেমে কী যেন ভাবতে লাগল। শকুনিকে দেখে ওদের দুজনেরই মাথায় বুদ্ধি খুলে গেল। তারা স্থির করল আর ঝগড়া নয়। অতএব সিংহ শূকরকে প্রস্তাব দিল—ভাই, আমরা ঝগড়া করব না। মারামারি করে আমরা যদি মারা যাই তবে ওই শকুনেরই লাভ হবে। আমাদের সে তখন ঠুকরে ঠুকরে খাবে। সেটি আমরা কিছুতেই হতে দেব না। তার চেয়ে, ভাই শূকর, এসো আমরা বিবাদ মিটিয়ে নিই। তুমি তো আগে ঝরনার জল খেতে এসেছিলে, তাই তুমি ভাই আগে জল পান করো। আমি পরে এসেছি, তাই আমি পরে জল পান করব। শূকরটি সিংহকে বলল – আপনি রাজার মতোই আচরণ করলেন। তাই আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল। আপনি বনের রাজা। রাজাকে সম্মান জানাতে হয়। তাই আমার অনুরোধ রাজা হিসেবে আপনি প্রথমে জল পান করুন, তারপর আমি আপনার প্রসাদ গ্রহণ করব। সিংহ আর শূকর এইভাবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়ায় শকুনটি ভাবল, আর এখানে অপেক্ষা করে কোনো লাভ নেই, আজ তার কপাল মন্দ ৷ এইসব ভেবে আর একটুও অপেক্ষা না করে শকুনটি উড়ে অন্য জায়গায় চলে গেল। নীতি : দুজনের কলহে তৃতীয় জনেরই লাভ। আরও পড়ুন: চু কোই ও বট গাছের গল্প - ভিয়েতনামের রূপকথা 5. গাধা আর ঘোড়া একটা গাধা ভারী বোঝা পিঠে নিয়ে অতি কষ্টে পথ চলেছে, এমন সময় এক লড়াইয়ের ঘোড়া খটখট করে সেই পথে এসে গাধাকে বলল—এই গাধা, তাড়াতাড়ি পথ ছেড়ে দে আমায়, নাহলে এক লাথিতে তোকে শেষ করে দেব। গাধাটি ঘোড়ার হুমকি শুনে তখনই তাকে পথ ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়াল আর নিজের দুর্ভাগ্যের জন্যে মনে মনে দুঃখ করতে লাগল। কিছুদিন পরে ওই ঘোড়াটি যুদ্ধ থেকে এমন আহত হয়ে ফিরল যে তাকে দিয়ে আর যুদ্ধের কাজ হল না। এমনকি তার ওপরে আর চড়াও চলল না। তখন ঘোড়ার মালিক তাকে জমিতে চাষবাসের কাজে লাঙল টানতে লাগিয়ে দিল। একদিন দুপুরে প্রচণ্ড গরমে রোদে ঘোড়া লাঙল টানছিল, গা দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। আর ঘোড়াটা চলতে একটু ঢিলে দিলেই তার পিঠে পড়ছিল চাবুকের বাড়ি। সেই সময় গাধাটা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ঘোড়াটাকে সে এই অবস্থায় দেখে নিজের মনে মনে বলতে লাগল, আরে কপাল, একেই তো একদিন আমি ঈর্ষা করেছিলাম ওর সৌভাগ্যের জন্যে আর এখন তো ওর অবস্থা দেখে চোখে জল আসছে। আহা বেচারা! মূর্খ, নিজের সৌভাগ্যের সময় অকারণে আমাকে অপমান করেছিল। এখন তো এর অবস্থা আমার চাইতেও শোচনীয়। নীতি : সৌভাগ্য কারও চিরকাল থাকে না। 6. জ্যোতির্বিদ এক দেশে এক জ্যোতির্বিদ ছিলেন। তার কাজ, রোজ রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখা। একদিন রাত্রে সেই জ্যোতির্বিদ তারা দেখতে দেখতে অন্যমনস্ক হয়ে পথ চলছিলেন। পথে যেতে যেতে তিনি হঠাৎ একটা কুয়োর মধ্যে পড়ে গেলেন। তারপর তিনি—কে কোথায় আছ শিগগির এসে আমায় কুয়ো থেকে তুলে বাঁচাও, বলে চিৎকার করতে লাগলেন। তার পাশ দিয়ে এক পথিক যাচ্ছিল। চিৎকার শুনে পথিকটি কুয়োর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কী করে কুয়োর ভেতরে হঠাৎ পড়ে গেলেন? জ্যোতির্বিদ তার উত্তরে নিজের কুয়োতে পড়বার কারণ যখন জানালেন তখন পথিকটি বলল "কী আশ্চর্য জ্যোতির্বিদ নিজে আপনি যে পথে চলেন, তার কোথায় কী আছে তারই খোঁজ রাখেন না, অথচ আকাশের কোথায় কী আছে তা জানবার জন্যে আপনি এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন"। নীতি : নিজের পরিবেশ না জেনে দুনিয়ার খবর নেওয়া অর্থহীন। 7. বোকা পায়রার গল্প Picture credit: sawmillriveraudubon. org এক বনে একটা হিংস্র চিল ছিল। সেখানে অনেক পায়রাও বাস করত। পায়রাগুলির সঙ্গে চিলের ছিল দারুণ শত্রুতা। ওই চিলের ভয়ে পায়রাগুলো তাদের বাসা ছেড়ে বের হতে পারত না, তাই চিলও তাদের কিছু করতে পারত না। একদিন সেই দুষ্টু চিল মনে মনে এক ফন্দি এঁটে পায়রাদের কাছে গিয়ে বলল—কোনো ভয় নেই তোমাদের, আমার কথা শোনো। মিছিমিছি তোমরা আমাকে ভয় পাও কেন? তোমরা সকলে একমত হয়ে আমাকে তোমাদের রাজা করো। তাহলে আমিই তোমাদের দেখাশোনা করব। তোমরা তখন আমার প্রজা হবে। তোমাদের ওপরে কেউ যাতে কোনো অত্যাচার না করে তাই দেখাই হবে আমার কাজ। বোকা পায়রাগুলি চালাক চিলের মিষ্টি কথায় ভুলে সবাই মিলে চিলকেই তাদের রাজা করল। আর চিল রাজা হবার পর থেকেই প্রতিদিনই একটি করে পায়রা মেরে খেতে লাগল। পায়রারা তখন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল, আমরা মূর্খের মতো যেমন আমাদের শত্রুর মিষ্টি কথায় ভুলেছিলাম, এখন তারই ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে। নীতি: শত্রুর মিষ্টি কথায় কখনও বিশ্বাস করতে নেই। --- > পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা'র পৌরাণিক কাহিনীর এক চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প, সে কিভাবে পৃথিবীর সমগ্র জ্ঞান চুরি করার চেষ্টা করেছিল, তার গল্প। - Published: 2024-10-29 - Modified: 2025-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/anansi-the-spider-t-folktale-of-ghana/ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা'র পৌরাণিক কাহিনীর এক চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প, সে কিভাবে পৃথিবীর সমগ্র জ্ঞান চুরি করার চেষ্টা করেছিল, তার গল্প এটি । পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা'র পৌরাণিক কাহিনীর এক চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প, সে কিভাবে পৃথিবীর সমগ্র জ্ঞান চুরি করার চেষ্টা করেছিল, তার গল্প এটি । চিত্র সৌজন্যে: gathertales. com চালাক মাকড়সা আনান্সির গল্প ঘানার পৌরাণিক কাহিনীর অনুসারে সেখানে আনান্সি নামে মাকড়সা বাস করত। সে এক অত্যন্ত দ্রুত বুদ্ধির ও তীক্ষ্ণ মনের অধিকারী ছিল বলে সকলের কাছে সে জ্ঞানী প্রাণী হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আনানসি তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। সে জ্ঞানের সর্বোচ্চ ও একমাত্র অধিকারী হতে চেয়েছিল। একদিন আনান্সি একটা পরিকল্পনা করল । সে ঠিক করল পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান একত্র করে একটা বড় পাত্রে রাখবে। সে ভাবল, "সমস্ত বুদ্ধি থাকে যদি আমার কাছে থাকে, তবে সবাই আমার কাছে উপদেশের জন্য আসবে। আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হব! " যেমন ভাবা তেমন কাজ, আনান্সি পৃথিবীর প্রতিটি কোণ থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করার জন্য দূর থেকে বহুদূরে ভ্রমণ করল । সে উঁচু পাহাড়, গভীর সমুদ্র বা ঘন জঙ্গল, সর্বত্র পরিদর্শন করেছিল। যাদের সাথেই সাক্ষাত হল তাদের সবাইকে তার পাত্রে তাদের জ্ঞানের কিছুটা দিতে বলল। অনেক দিন পরিশ্রমের পর, আনান্সির পাত্রটি জ্ঞানে কানায় কানায় পূর্ণ হল। সে পাত্রটির দিকে তাকিয়ে বলল, "এখন, আমি সবার চেয়ে জ্ঞানী। এই পাত্রটি লুকানোর জন্য আমাকে একটি নিরাপদ জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।" আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প - অপূর্ব নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা আনান্সি ভেবেছিল তার জ্ঞানের পাত্র লুকানোর সবচেয়ে ভালো জায়গা হবে বনের সবচেয়ে উঁচু গাছের শীর্ষে। সে পাত্রের চারপাশে একটি দড়ি বেঁধে গাছে উঠতে শুরু করল, পাত্রটিকে তার মাথার উপর টেনে নিয়ে গেলেন। কিন্তু, পাত্রটি বেশ বড় এবং ভারীও ছিল, যার জন্য এটি নিয়ে গাছে ওঠা দুষ্কর হচ্ছিল । আনান্সি যখন ওঠার জন্য কসরত করছিল, তখন আনান্সির ছোট ছেলে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ তাকে দেখছিল। তারপর সে বলল, "বাবা, মাথার বদলে পাত্রটি তোমার পিঠে বেঁধে রাখা কি সহজ হবে না? এভাবে, আপনি আরও সহজে গাছে উঠতে পারবেন। আনান্সি হতবাক হয়ে গেল। সে জ্ঞান সংগ্রহে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে এত সহজ সমাধানের কথা মাথাতেই আসেনি । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, বাস্তবে পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান তার নেই। আর সেই অবসরে একটা ছোট্ট ধাক্কায় আনান্সির হাত ফস্কে পাত্রটি মাটিতে পড়ে যায়। সাথে সাথে পাত্রটি ভেঙ্গেও গেল আর ঘড়া থেকে যত জ্ঞান সব বেরিয়ে এল, আচমকা একপশলা বৃষ্টি আর ঝড়ের দাপটে সে-জ্ঞান গিয়ে পড়ল নদীতে, আর নদীর স্রোতের টানে শেষকালে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ল জগৎজোড়া সমুদ্রের জলে। আর এ-কারণেই আজ পৃথিবীতে সবাই সেই জ্ঞান খানিকটা করে অধিকার করে নিতে পেরেছে। আর সেই কারণেই, আজও, জ্ঞান কেবল একটি প্রাণী বা একটি পাত্রের মধ্যে নয়, প্রতিটি ব্যক্তি এবং প্রতিটি জায়গায় পাওয়া যায়। --- > চিরকালই ছোট নৈতিক গল্প নৈতিক শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। সেই উদ্দেশ্যে 6 টি বাছাই করা, ছোট নৈতিক গল্প দেওয়া হল । - Published: 2024-10-25 - Modified: 2024-10-25 - URL: https://www.sabjanta.info/selected-6-short-moral-stories-for-children/ চিরকালই ছোট নৈতিক গল্প নৈতিক শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। সেই উদ্দেশ্যে 6 টি বাছাই করা, ছোট নৈতিক গল্প দেওয়া হল । চিরকালই ছোট নৈতিক গল্প নৈতিক শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। সেই উদ্দেশ্যে 6 টি বাছাই করা, ছোট নৈতিক গল্প দেওয়া হল। শিশুদের নীতির পাঠ শেখানোর ক্ষেত্রে ছোট গল্প একটি ভাল উপায়। ছোটগল্প নৈতিক শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে । শিশুরা নৈতিক পাঠের সাথে আরও বেশি সম্পর্কযুক্ত হতে পারে যদি নৈতিকতাকে গল্প হিসাবে সরবরাহ করা হয়। তাই তাদের নিয়মানুবর্তিতা বোঝানোর চেষ্টা করার পরিবর্তে যদি আমরা নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে তাদের একটি গল্প বলি, তাহলে গল্পের মাধ্যমে পাঠটি আরও পরিষ্কার হয়। গল্পে নিয়মানুবর্তিতার ইতিবাচক প্রভাব এবং সম্ভবত নিয়মনিষ্ঠ না হওয়ার খারাপ প্রভাবগুলি ব্যাখ্যা করা সহজ হয় । এছাড়াও বাচ্চারা ছোটগল্প পছন্দ করে। স্ক্রীন মুক্ত পরিবেশে বাচ্চাদের সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য এটি একটি ভাল উপায়। 1. সূঁচ গাছ - নৈতিক গল্প : Needle tree - a moral story একবার দুই ভাই বনের প্রান্তে বসবাস করত। বড় ভাই তার ছোট ভাইয়ের প্রতি খুব নীচ মনোভাব জ্ঞাপন করত এবং সমস্ত খাবার খেয়ে ফেলতো ও তার সমস্ত ভাল কাপড় নিয়ে নিত। একদিন, বড় ভাই বাজারে বিক্রি করার জন্য কিছু কাঠের সন্ধানে বনে গিয়েছিল। সে বৃক্ষের পরে বৃক্ষের ডালপালা কাটতে কাটতে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে, একটি যাদুকর সূঁচ গাছের মনে এল। সূঁচ গাছটি তাকে বলল, ‘ওহে মহাশয়, দয়া করে আমার শাখা কাটবেন না। আপনি যদি আমাকে ছেড়ে দেন, আমি আপনাকে আমার সোনার আপেল দেব। বড় ভাই রাজি হল কিন্তু গাছ যে কটা আপেল দিল তাতে সে হতাশ হল। সে লোভে কাবু হয়ে গেল, এবং সূঁচ গাছকে হুমকি দিল যে আরো আপেল না দিলে সে গোড়া থেকে গাছটি কেটে ফেলবে। তার পরিবর্তে গাছটি বড় ভাইয়ের উপর শত শত ক্ষুদ্র সূঁচ বর্ষণ করল। যখন সূর্য দিগন্তের নিচে নেমে গেল, বড় ভাই বেদনায় মাটির উপর শুয়ে পড়ল। ছোট ভাই চিন্তিত হয়ে বড় ভাইয়ের সন্ধানে গেল। সে তাকে চামড়ার উপর শত শত সূঁচ ফোটা অবস্থায় দেখতে পেল। সে তার ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গেল এবং যন্ত্রনা সহ্য করেও ভালোবাসার সাথে প্রতিটি সূঁচ তুলে ফেলল। শেষ হওয়ার পর, বড় ভাই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য ক্ষমা চাইল এবং এবার থেকে ভালো হওয়ার অঙ্গীকার করল। সূঁচ গাছটি বড় ভাইয়ের অন্তরের পরিবর্তন দেখল এবং তাদের যত সোনার আপেলের প্রয়োজন ছিল সব দিল। শিক্ষা: সদয় এবং ক্ষমাশীল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটির জন্য সবসময় পুরস্কৃত করা হবে। আরও পড়ুন: রহস্যময় কৈলাশ পর্বত আজও কেন অজেয় রয়েছে 2. কৃপণ ও তার সোনা : নীতিশীক্ষমূলক ছোটগল্প একবার এক বৃদ্ধ কৃপণ ছিল সে একলা একটা বাগান সহ একটি বাড়িতে বাস করত। বৃদ্ধ কৃপণ তার সমস্ত স্বর্ণমুদ্রা তার বাগানের এক জায়গায় পাথরের নিচে লুকিয়ে রাখতেন। প্রতি রাতে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, বৃদ্ধ কৃপণ তার মুদ্রা গুনতে তার বাগানে বেরিয়ে যেতেন। তিনি প্রতিদিন একই রুটিন চালিয়ে যেতেন কিন্তু তিনি কখনও একটি স্বর্ণমুদ্রাও খরচ করতেন না । একদিন এক চোর বৃদ্ধ কৃপণকে তার মুদ্রা লুকিয়ে রাখতে দেখল। যেই বৃদ্ধ কৃপণ তার ঘরে ফিরে গেল, চোর লুকিয়ে গিয়ে সমস্ত সোনা নিয়ে গেল। পরের দিন, কৃপণ লোকটি যখন তার মুদ্রা গুনতে বেরিয়েছিল, সে স্বর্ণমুদ্রগুলি দেখতে না পেয়ে জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করল । তার প্রতিবেশীর তার কান্না শুনে দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে। সবকিছু সোনার পর, এক প্রতিবেশী জিজ্ঞাসা করলেন, "কেন আপনি শুধু আপনার বাড়ির ভিতরেই অর্থ লুকননি, ঘরই নিরাপদ জায়গা ছিল তো ? " প্রতিবেশী আরও বলেছিল, "তাছাড়া ঘরের ভিতরে থাকলে আপনার কিছু কেনার প্রয়োজন হলে মুদ্রা নেওয়াও সহজ হত।" "কিছু কেনার প্রয়োজন ? " কৃপণ উত্তর দিল, "আমি কখনই আমার সোনা খরচ করব না।" একথা শুনে প্রতিবেশী একটি পাথর ছুঁড়ে। তারপর, বলল “যদি তাই হয়, তবে পাথরের টুকরোটা লুকিয়ে রাখুন । এটা আপনার হারিয়ে যাওয়া সোনার মতো মূল্যহীন।” নীতিকথা : কোন জিনিষ কাছে থাকা ততটা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক যতটা তার প্রয়োজনীয়তা আছে । 3. সোনার স্পর্শ : একটি আদর্শ নৈতিক গল্প এটি একটি খুব লোভী ধনী মানুষের গল্প, যে একটি পরীর দেখা পেয়েছিল। পরীর চুল কিছু গাছের শাখায় আটকে যায়। তাঁর আরো অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে বুঝতে পারে, তিনি পরীকে সাহায্য করার বদলে তার একটি ইচ্ছা পূরণ করতে বললেন। তিনি বললেন, ‘যা আমি স্পর্শ করব তা–ই যেন সোনা হয়ে যায়‘, এবং তার এই ইচ্ছা কৃতজ্ঞ পরী মেনে নিল। লোভী লোকটি তার স্ত্রী ও মেয়েকে তার নতুন পাওয়া বড় অর্থাৎ সোনার স্পর্শ সম্পর্কে বলার জন্য বাড়িতে ছুটলেন, পথে সব পাথর ও নুড়ি স্পর্শ করে সোনায় রূপান্তরিত করতে করতে চললেন। বাড়ি ফেরার পর তাঁর মেয়েটি তাঁকে অভিবাদন করার জন্য দৌড়ে এল। যেই তিনি ঝুঁকে তাকে কোলে নিলেন, সে একটি সোনার মূর্তিতে পরিণত হল। তিনি তাঁর মূর্খতা বুঝতে পারলেন এবং তাঁর বাকি দিনগুলোতে তার ইচ্ছাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরীর অনুসন্ধান করেছিলেন। শিক্ষা: লোভ সবসময় পতন ডেকে আনে। আরও পড়ুন: বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প - অপূর্ব নীতিশিক্ষামূলক গল্পমালা 4. বুদ্ধি খাটিয়ে গণনা : বুদ্ধিদীপ্ত বীরবলের ছোটগল্প একবার আকবর তার আদালতে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন যা সবাই কে অবাক করেছিল । রাজসভার সবাই যখন উত্তর বের করার চেষ্টা করছিল তখন বীরবল এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলেন কি ব্যাপার। আর তাই তারা বিরবলকে প্রশ্নটি করে জানতে চাইল , “শহরে কতগুলো কাক আছে ? ’ বীরবল সাথে সাথেই হাস্য বদনে আকবরের কাছে গিয়ে ঘোষণা করলেন যে তাঁর প্রশ্নের উত্তর হল, একুশ হাজার পাঁচশো তেইশটি কাক গোটা শহরে উপস্থিত। যখন সম্রাট জানতে চাইলেন যে বীরবল কিভাবে উত্তরটি দিতে পারলেন, তখন বীরবল উত্তরে বলেছিলেন , ‘ মহারাজ ,আপনার লোকেদের কাকেদের সংখ্যা গণনা করতে বলুন। যদি আরো কাক থাকে, তাহলে শহরের বাইরে থেকে কাকেদের আত্মীয়রা তাদের দেখা করতে এসেছে অর যদি কম থাকে, তাহলে কাকেরা শহরের বাইরে তাদের আত্মীয়–স্বজনের সাথে দেখা করতে গেছে। ‘ উত্তর পেয়ে খুশী হয়ে, আকবর বীরবলকে পুরস্কৃত করেছিলেন। শিক্ষা: প্রত্যেক উত্তরেরই একটি সঠিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। 5. গর্বিত গোলাপ : একটি ছোট্ট নৈতিক গল্প একসময় একটি গোলাপ ছিল যে তার সুন্দর চেহারা নিয়ে গর্বিত ছিল। তার একমাত্র হতাশা ছিল যে সে কুৎসিত ক্যাকটাসের পাশে বেড়ে উঠেছিল। প্রতিদিন, গর্বিত গোলাপ ক্যাকটাসকে তার চেহারা নিয়ে অপমান করত, কিন্তু ক্যাকটাস চুপ করে থাকত। বাগানের অন্যান্য সমস্ত গাছপালা গোলাপকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে তার নিজের ভালো চেহারা নিয়ে খুব প্রভাবিত ছিল। এক গ্রীষ্মে, বাগানে উপস্থিত কুয়োটি শুকিয়ে গেল এবং গাছগুলির জন্য জল রইল না। গর্বিত গোলাপ নিস্তেজ হতে শুরু করল। সে দেখল একটি চড়ুই ক্যাকটাসের মধ্যে ঠোঁট ডুবিয়ে জল খাওয়ার চেষ্টা করছে। লজ্জিত হলেও, সে ক্যাকটাসকে জিজ্ঞেস করল, যদি সেও কিছু জল পেতে পারে। সদয় ক্যাকটাস সহজেই সম্মত হল এবং তারা উভয়ই কঠিন গ্রীষ্ম বন্ধু হিসাবে পার করে দিল। শিক্ষা: চেহারা দিয়ে কাউকে বিচার করবে না। 6. লোভী কুকুর : আদর্শ নীতিশিক্ষামূলক গল্প Picture credit: teachers. gov. bd একদিন একটি লোভী কুকুর একটি কসাই – এর দোকান থেকে এক টুকরো মাংস চুরি করল। তা দেখে কসাই তাঁর পিছনে তাড়া করল কিন্তু কিছুদূর পর্যন্ত গিয়ে সে তার নিজের দোকানে ফিরে এল। এদিকে কুকুরটা ভীষণ ভয়ে ছুটতে লাগল প্রাণপণে। অনেকটা যাওয়ার পর সে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল যে কসাইটা তার দিকে তাড়া করে আসছে কিনা। কাউকে আসতে না দেখে সে তার গতি কমিয়ে ধীরে সুস্থে হাঁটতে লাগল।কিছুক্ষণ পরে সে এসে পৌঁছল একটা ছোট্ট নদীর কাছে। সে তখন মুখের মাংসের টুকরোটা নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে নদী পার হতে লাগল ।সেসময় নদীর পরিষ্কার জলে তার প্রতিবিম্ব ভেসে উঠতে সে সেদিকে তাকিয়ে দেখল। বোকা আর লোভী কুকুরটা নিজের প্রতিবিম্বকে মাংস মুখে অন্য একটি কুকুর মনে করল।সেই মাংসের টুকরোটাও পাওয়ার জন্য তার খুব লোভ হলো। সে এবার অন্য কিছু চিন্তা ভাবনা না করে নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল আর সঙ্গে সঙ্গে জলের স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। লোভী কুকুরটা মাংসের টুকরোটার সাথে সাথে তার মূল্যবান প্রাণ টা ও হারাল। শিক্ষা: অতিরিক্ত লোভ মানুষের সর্বনাশের কারন। --- > বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প আসলে ভগবান বুদ্ধের পূর্ববর্তী জন্মের গল্প। এই অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পগুলির মাধ্যমে বুদ্ধদেব অনুগামীদের শিক্ষা দিতেন - Published: 2024-10-23 - Modified: 2025-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/jatakas-bodhisattva-story-buddhas-earlier-lives/ বোধিসত্ত্ব বা জাতকের গল্প আসলে ভগবান বুদ্ধের পূর্ববর্তী জন্মের গল্প। এই অপূর্ব সদর্থক নীতিশিক্ষামূলক গল্পগুলির মাধ্যমে বুদ্ধদেব অনুগামীদের শিক্ষা দিতেন বোধিসত্ত্ব শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, বুদ্ধত্ব (শাশ্বত জ্ঞান) প্রাপ্তিই যাঁর ভবিতব্য অর্থাৎ যিনি বোধিলাভ করার জন্যই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন। বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন শাখায় বোধিসত্ত্বের বহুবিধ ব্যাখ্যা থাকলেও মহাযান বৌদ্ধধর্ম মতে বোধিসত্ত্ব হলেন তিনিই যিনি জগতের কল্যাণার্থ স্বয়ং নির্বাণলাভ থেকে বিরত থাকেন এবং বিশ্বের সকল জীবের মুক্তিলাভের উপায় করেন। আসলে বোধিসত্ত্ব বুদ্ধদেব শিষ্যদের উপদেশ দিতেন গল্পচ্ছলে। বলতেন তাঁর বুদ্ধ হয়ে জন্ম নেওয়ার আগেকার সব জন্মজন্মান্তরের কাহিনী। 1. ধার্মিক রাজা পুরাকালে বোধিসত্ত্ব একবার মহারাজ ব্রহ্মদত্তের পুত্ররুপে জন্মগ্রহণ করেন। ষোলো বছর বয়সে তক্ষশীলার পাঠ শেষ করে রাজ্যে ফিরে আসলে তিনি যুবরাজ হিসাবে বাবার রাজকার্যে সাহায্য করেন। মহারাজের মৃত্যুর পর বোধিসত্ত্ব রাজা হলেন। ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি রাজ্য চালাতে লাগলেন। একদিন একজন বিশিষ্ট রাজকর্মচারী একটি অপরাধ করে। রাজা বোধিসত্ত্বের কানে এই খবর যাওয়া মাত্রই বোধিসত্ত্ব ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জানতে পারলেন যে, লোকটি সত্যি সত্যি অপরাধ করেছে। তখন রাজা বোধিসত্ত্ব কর্মচারীটিকে নির্বাসন দিলেন। কর্মচারীটি দেশ ছেড়ে অন্য আর এক রাজ্যে গিয়ে সেই রাজ্যের রাজার কাছে আশ্রয় নিল, এবং মনে মন প্রতিজ্ঞা করলো যে ভাবেই হোক এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই হবে। কর্মচারীটি প্রতিদিন রাজাকে কুবুদ্ধি দিতে থাকে। বলে, ' মহারাজ আমি জানি উনি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য তৈরি হচ্ছেন।' মহারাজা জিজ্ঞেস করেন, ' আচ্ছা, সৈন্যবাহিনী কিরকম আছে? ' ' ভয় পাওয়ার মতন কিছু নেই মহারাজ, যুদ্ধে আপনারই জয় হবে।' রাজা দু-একবার পরীক্ষা করে বোধিসত্ত্বের মনোভাব জানবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাতে কোনওরকম সাড়া পেলেন না। একদিন তিনি বারণাসির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, প্রধান সেনাপতির কানে এই খবর যাওয়ামাত্রই প্রধান সেনাপতি রাজাকে রাজ্য আক্রমণের কথা বললেন। এতবড় একটা সংবাদ শুনে রাজা বোধিসত্ত্ব কিন্তু বিচলিত হলেন না। তিনি সমস্ত সমস্ত সৈন্যবাহিনী সহ আমত্যবর্গকে যুদ্ধে বিরত থাকবার জন্য আদেশ দিলেন। ফলে ওই রাজ্যের রাজা অতি সহজেই বোধিসত্ত্বকে বন্দী করলেন। বোধিসত্ত্ব কিন্তু তাতেও বিচলিত হলেন না। তিনি কয়েদখানায় বসে রাজাকে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য উপদেশ দিলেন, ধর্মকথা শোনালেন। কিন্তু ওই রাজ্যের রাজা বোধিসত্ত্বের কথা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হেসে উড়িয়ে দিলেন, আর ঠিক সঙ্গে সঙ্গেই রাজার গায়ে আগুন ধরে গেল। একজন রাজকর্মচারী বললেন, ' মহারাজ, ধার্মিক রাজাকে আক্রমণ করায় এই অবস্থা হয়েছে আপনার।' রাজা সঙ্গে সঙ্গে বোধিসত্ত্বকে মুক্ত করে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেন এবং তাকে সসম্মানে তার রাজ্য ফিরিয়ে দিলেন। আর পড়ুন: মোল্লা নাসিরুদ্দিন বা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প পর্ব-২ 2. মরা ইঁদুর সেই যে-বার তিনি বারানসীর এক বিখ্যাত বণিক বোধিসত্ত্ব হয়ে জন্মেছিলেন, অসাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধির জন্য তাঁর তখন খুব নামডাক হয়েছিল, তো, সেই জন্মের একটি অভিজ্ঞতার কথা বুদ্ধদেব একদিন তাঁর শিষ্যদের কাছে বলেছিলেন... গল্পে বণিক বোধিসত্ত্ব একদিন রাজপথ দিয়ে রথে চেপে যাচ্ছিলেন রাজবাড়ি। হঠাত পথের পাশে দেখতে পেলেন পড়ে আছে একটা মরা ইঁদুর। তাই দেখে তিনি আপন মনে বললেন, কারও যদি বুদ্ধি থাকে, বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর উদ্যম থাকে, তাহলে এই মরা ইঁদুরটা দিয়েই সে জীবনে কিছু করে উঠতে পারবে। বোধিসত্ত্বের রথের পাশ দিয়ে তখন যাচ্ছিল শহরের এক যুবক। সে শুনতে পেল বোধিসত্ত্বর স্বগত কথা। শুনে ভাবল, বোধিসত্ত্ব তো আলটপকা কথা বলার লোক নন, ইনি যখন বলছেন তখন নিশ্চয়ই এই ইঁদুরটা দিয়ে সত্যিই জীবনে কিছু একটা করে ওঠা যাবে। তাছাড়া বুদ্ধি আর উদ্যম তো তার আছেই। একবার চেষ্টা করে দেখাই যাক না কি হয়। এসব ভেবেটেবে সে ইঁদুরটা পথের পাশ থেকে হাতে নিল তুলে। তারপর হাঁটতে শুরু করল শহরের এক গলি পথ দিয়ে। এদিকে হয়েছে কি, সেই গলিতেই এক মহাজন তার পুষ্যি বেড়ালের জন্য বেরিয়েছে খাবার খুঁজতে। তাই যুবকের হাতে বেড়ালের প্রিয়খাবার ইঁদুরটা দেখে মহাজনের খুশি আর ধরে না, সে অমনি কটা পয়সা দিয়ে ইঁদুরটা কিনে নিল যুবকের কাছ থেকে। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো পয়সা কটা পেয়ে যুবকও খুব খুশি হল। ভাবল, বাঃ বেশ হল তো! মরা ইঁদুর দিয়ে এই যে পয়সা কটা রোজগার হল, দেখা যাক তো, তাই দিয়ে কিছু করা যায় কি না! এই না ভেবে, সেই পয়সা ক’টা দিয়ে সে কিছু গুড় আর ছাতু কিনে ফুলবনের পথের ধারে গিয়ে বসল। অবেলায় সেই পথে ফুল তুলে ঘরে ফিরতে লাগল মালিদের দল। সারাটিদিন তারা বনে বনে ঘুরে খিদেয় তেষ্টায় খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই সেই যুবক যখন তাদের ছাতু, গুড় আর জল খেতে দিল, তখন মালিরা খুব খুশি হল। খুশি হয়ে তারা কিছু কিছু ফুল উপহার দিল যুবককে। সেই ফুল বেচে যুবকের গুড় ছাতুর কখরচের চেয়ে লাভ হল প্রায় দ্বিগুণ। সেইসঙ্গে যুবকের কপালগুণেই বোধ হয় সেদিন বিকেলে আকাশ কালো করে খুব ঝড় উঠল। সেই ঝড়ে রাজার বাগানের বড় বড় গাছের ডাল গেল ভেঙে। কাজেই বাগানের মালির মাথায় পড়ল হাত। এত ডালপালা সে সরাবে কেমন করে! তখনই কোথা থেকে খবর পেয়ে যুবকটি হাজির হল গিয়ে সেই মালির কাছে। মালিকে বলল, মালিভাই, তোমার কোন চিন্তা নেই, ভাঙা ডালপালাগুলো যদি বিনিপয়সায় আমায় দিয়ে দাও, তাহলে বাগান পরিষ্কারের ভার আমার। তাই শুনে মালি যেন হাতে চাঁদ পেল। সে তক্ষুনি বেজায় খুশি হয়ে রাজি হয়ে গেল। তখন যুবকটি করল কি, কয়েক পয়সার গুড় কিনে গেল পাড়ার ছেলেদের কাছে। গুড় খাইয়ে বাগান পরিষ্কারের কথা বলতেই অমনি তারা এক পায়ে খাড়া। নিমেষের মধ্যেই নাচতে নাচতে তারা ভাঙা ডালপালা সব জড়ো করে ফেলল এক জায়গায়। অন্যদিকে এক কুমোর তখন পড়েছে বিপদে। সে তো পোয়ানে হাঁড়ি পোড়াবে বলে পোয়ান সাজিয়ে তৈরি, কিন্তু ঘরে তার একটাও ডালপালা নেই। এবার কি করবে সে ভেবে পায় না কিছুতেই। এমন সময় সে একজন লোকের কাছে খবর পেল যে, রাজার বাগানে প্রচুর ডালপালা এক যুবক জমা করে রেখেছে বেচবে বলে। তক্ষুনি এসে সে সব ডালপালা নগদ পয়সায় কিনে নিয়ে গেল। এতে বেশ কিছু পয়সা এসে গেল যুবকের হাতে। সেই পয়সা দিয়ে সে কিছু গুড় আর ছোলা কিনে এক মাঠের ধারে এসে একদিন বসল। কারণ, সেই মাঠে পাঁচশো ঘেসেড়া ঘাস কাটতে আসে প্রতিদিন। ঘাস কেটে আঁটি বেঁধে বাজারে বিক্রি করে তারা। সেদিন ঘাস কেটে রোদে তেতেপুড়ে ঘেসেড়ারা যখন খুবই ক্লান্ত হয়ে গেল তখন যুবক তাদের কাছে গিয়ে গুড়জল আর ছোলা খেতে দিল। ঘেসেড়েরা বেজায় খুশি হয়ে তাকে এক এক আঁটি করে ঘাস দিতে চাইল। তখন যুবকটি বলল যে, যেদিন তার দরকার হবে সে ঠিক চেয়ে নেবে। এমনি করে কয়েকদিন কেটে যায়। তারই মধ্যে একদিন যুবক শুনল যে, শহরে এক বণিক নাকি পাঁচশো ঘোড়া নিয়ে সওদা করতে আসছে। খবরটা শুনেই সে গুড় ছোলা নিয়ে মাঠে গেল। সেদিন সে ঘেসেড়াদের বলল, ভাই, আজ তোমরা আমায় এক এক আঁটি করে ঘাস দিও, আর একটা কথা আমি বললে তবেই তোমরা ঘাস বেচো আজ, তার আগে নয়। ঘেসেড়ারা বলল, বেশ তাই হবে। তারপরেই গুড় ছোলা খেয়ে সবাই এক এক আঁটি করে ঘাস দিল সেই যুবককে। যুবকের কথা মতো ঘেসেড়ারা সেদিন ঘাস বেচতে বেরল না। তাই বণিকেরা কোথাও ঘোড়ার জন্য ঘাস পেল না। শেষমেশ অনেক খুঁজে যুবকের কাছে গিয়ে পাঁচশো ঘোড়ার জন্য পেল মাত্র পাঁচশো আঁটি ঘাস। তাই সেগুলো তারা বেশ চড়া দাম দিয়েই যুবকের কাছ থেকে কিনে নিল। ঘাস বেচে যুবকের হাতে এতে এসে গেল একসঙ্গে অনেকগুলো টাকা। আর একদিন সে শুনল যে, জাহাজঘাটায় এসেছে এমন একটি জাহাজ, যাতে নাকি রয়েছে অনেক মূল্যবান সব সম্পদ। সেই শুনে অমনি সে জমানো সব টাকাকড়ি নিয়ে হাজির হল এক্কেবারে জাহাজ ঘাটায়। সেখানে পৌঁছেই সটান সেই জাহাজের সমস্ত মাল সে বায়না করে দিল। তারপর বন্দরেই চাকরবাকর নিয়ে শিবির বানিয়ে বড় এক বেনের মতো সাজগোজ করে সময়ের অপেক্ষা করতে লাগলো। এদিকে দেশে তো সেই খবর শুনে মহা শোরগোল পড়ে গেল। এমন বেনে কে আছে, যে একাই জাহাজসুদ্ধ মাল কিনে নেয়! তখন তাকে দেখতেই ভিড় করতে লাগল কত কত লোক। তার জন্য ব্যবসা লাটে ওঠার ভয়ে, দেখা করতে এলো শয়ে শয়ে শহরের সব বেনে। তারা জানালো যে, যুবক যদি জাহাজের মাল তাদের মধ্যে ভাগ করে বিক্রি করতে দেয়, তাহলে ব্যবসার কিছু কিছু মুণাফা তারা যুবককে দেবে। যুবক একটু ভাবনাচিন্তার ভান করে শেষমেশ বেনেদের কথায় রাজি হয়ে যায়। এইভাবেই কোথাও কিছু না করে স্রেফ বুদ্ধির জোরে তাদের মুণাফার ভাগ পেয়ে যুবক একেবারে হয়ে গেল দুলাখ টাকার মালিক। এমনি করে সে অল্পদিনেই হয়ে উঠল শহরের সবচেয়ে বড়লোকদের একজন। তখন সে একদিন দেখা করতে গেল মহান বণিক বোধিসত্ত্বের কাছে। গিয়ে প্রণাম করে সমস্ত বৃত্তান্ত সে জানাল তাঁকে। তার উদ্যম ও বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে বোধিসত্ত্ব এতটাই খুশি হলেন যে ধুমধাম করে নিজের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন। 3. শুক কাহিনী অতীতকালে পাঞ্চল নগরের রাজা ছিলেন পাঞ্চল। বোধিসত্ত্ব রাজা পাঞ্চলের রাজ্যকালে শুকপাখি হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একটি নদীর তীরে পাহাড়ের কোলে শিমুলগাছে তিনি বসবাস করতেন, তার সঙ্গে থাকত তার ছোট ভাই। পাহাড়ের একপাশে বাস করত একদল চোর। আর অন্যপাশে ছিল ঋষিদের গ্রাম। একদিন প্রচন্ড ঝড়ে শিমুলগাছ থেকে ছিটকে বোধিসত্ত্ব পড়লেন ঋষিদের গ্রামে, আর ভাই গিয়ে পড়ল চোরদের গ্রামে। পাঞ্চলরাজ একদিন শিকারের সন্ধানে গভীর বনে প্রবেশ করেছিলেন। বিকেল গড়িয়ে যখন প্রায় সন্ধে হতে চলল তখন পাঞ্চলরাজের হুশ হল তার সঙ্গিসাথিরা সকলেই হারিয়ে গেছে। সঙ্গীদের খুঁজতে খুঁজতে একসময় ক্লান্ত হয়ে তিনি গাছের নিচে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। রাজাকে এ অবস্থায় দেখে বোধিসত্ত্বের ভাই এক চোরকে ডেকে রাজার পোশাক গয়নাগাটি সব খুলে নিতে বলল। দুজনের কথা বার্তায় রাজার ঘুম ভেঙে গেল, তাদের কথা বার্তা শুনে রাজা খুব ভয় পেয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে পালিয়ে গেলেন। ঋষিদের গ্রাম ধরে তিনি ঘুরতে লাগলেন, শুকপাখিরূপি বোধিসত্ত্ব রাজাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ' মহারাজ, এভাবে আপনি ছুটছেন কেনো? ' রাজা থমকে দাড়িয়ে পড়লেন। একভাবে অনেকটা পথ দৌড়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। শুকপাখি বলল, ' গ্রামের ঋষিরা সকলে গঙ্গা স্নানে গেছেন, তাই আপনি অথিতি হয়েও আপনার সেবা করবার মতো কেউ নেই। অনুগ্রহ করে নিজেই এই গাছ থেকে ফল পেড়ে আহার করুন এবং শীতল জল পান করুন।' রাজা পাঞ্চল অবাক হয়ে চোরেদের গ্রামের শুকপাখির কথা বললেন, এবং বললেন তাদের কথোপকথন শুনে তিনি পালিয়ে এসেছেন। শুক পাখিরূপি বোধিসত্ত্ব তখন বললেন, 'মহারাজ, ওই শুকপাখিটি আমার ছোট ভাই। দুর্ভাগ্যক্রমে একদিনের ঝড়ে সে গিয়ে পড়েছিল চোরেদের গ্রামে। ফলে ওকে মিথ্যা আর চুরির আশ্রয় নিতে হয়েছে, আর আমি এসে পড়লাম ঋষিদের গ্রামে। তাই তার ধর্ম সে করছে, আমার ধর্মের পালন আমি করছি।' আর পড়ুন: চু কোই ও বট গাছের গল্প - ভিয়েতনামের একটি সুন্দর রূপকথা 4. পথ কুকুর জাতকের প্রতিটি কাহিনীতেই পাপ-পুণ্য, ধর্ম-অধর্মের কথা বলা হয়েছে। সেই সারমেয় বা কুকুরের গল্পটা ধরা যাক। এই গল্পটাও জাতকের আর পাঁচটা গল্পের মতোই নীতিকাহিনী। কুকুরটি ছিল গৃহহীন। পথেঘাটেই ছিল তার বাস। জাতকের এই কাহিনী থেকে জানা যায়, একবার বুদ্ধদেবের এরকম জন্ম হয়েছিল। কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল কুকুরটির। এই চরিত্রগুণেই সে একদিন রাস্তার সব কুকুরদের নেতা হয়ে যায়। কোনো একটি ঘটনার জন্য রাজার বিষনজর পড়েছিল রাস্তার কুকুরগুলোর ওপর। আর তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব কুকুরদের দলনেতা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। রাজার রথের জন্য যে ঘোড়ার সাজ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল। রাতভর বৃষ্টিতে সাজ একেবারে ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সাজের চামড়ার অংশটুকু হয়ে গিয়েছিল নরম আর সুসিদ্ধ। এক ঝাঁক শিকারি কুকুর ছিল রাজার। চামড়ার সাজ টুকরো-টুকরো করে সেই শিকারি কুকুরের দল ভোজনপর্ব সেরেছিল। খবর গেল রাজার কাছে। কিন্তু প্রাসাদের ভৃত্যরা জানালো, রাস্তার কুকুরগুলো পয়ঃপ্রণালী দিয়ে প্রাঙ্গণে ঢুকে চামড়ার সাজ খেয়েছে। রাজা খুব ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন, আদেশ দিলেন, শহরের সমস্ত কুকুরকে নিধন করতে হবে। ভীতসন্ত্রস্ত ক্ষুদ্ধ কুকুরের দল ছুটে এলো সেই গৃহহীন কুকুরের কাছে। সেই কুকুর তার বিক্ষুব্ধ অনুগামীদের শান্ত করলো এবং প্রাসাদের পথে রওনা হলো। সবসময় সত্যের ওপর ভরসা রাখার সহজ পথটি অনুসরণ করতো কুকুরটি। আর সেই সত্যের জোরেই সে পৌঁছে গেল রাজার কাছে। পথে কোনো নিপীড়নের শিকার হতে হলো না তাকে। রাজাকে বুঝিয়ে বললো সে। কুকুরটি রাজাকে তার নিজের শিকারি কুকুরদের ঘাস আর ঘোল খাওয়ানোর পরামর্শ দিল। রাজা সেইমতো আদেশ দিলেন। রাজার শিকারি কুকুরদের ঘাস আর ঘোল খাওয়ানোর সাথে-সাথে বমি করলো কুকুরের দল। বেরিয়ে এলো চামড়ার সব টুকরো। কুকুরটি প্রমাণ করলো, তার অনুগামীরা একেবারেই নির্দোষ। ভবঘুরে কুকুরটির জ্ঞানবুদ্ধির পরিচয় পেয়ে রাজা তারই খাবার থেকে কুকুরটিকে নিয়মিত ভাগ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। কোনো প্রাণীকেই কখনও হত্যা করা হবে না, কুকুরটির এই অনুরোধ রাজা মঞ্জুর করলেন। এই কাহিনীর প্রধান চরিত্রটি যে স্বয়ং বুদ্ধদেব, তা আগেই বলা হয়েছে। আর রাজা হলেন তারই প্রধান শিষ্য আনন্দ। 5. অতি যত্নের ফল গেরস্তের পোষা শালুক অতীতকালে বোধিসত্ত্ব এক গৃহস্থের বাড়িতে গোরু হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার নাম হয় মহালোহিত। তার একটি ছোট ভাই ছিল। তার নাম চুল্লোলোহিত। কিছুদিন পর ওই গৃহস্থ তার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। একটি ভালো পাত্রও পাওয়া গেলো। শালুক নামে গেরস্তের বাড়িতে একটি শুয়োর থাকত। বিয়ের দিন পাকা হওয়ার পর গৃহস্থ শুয়োরটাকে খুব যত্ন করে খাওয়াতে লাগলেন। তার ইচ্ছা, বিয়ের দিন এই শুয়োরটাকে মেরে বরযাত্রীদের মাংস খাওয়াবেন। চুল্লোলোহিত শুয়োরের খাবারের ঘটা দেখে তার দাদাকে বলল, ' দাদা, আমরা গৃহস্থের কত কাজ করি। অথচ আমাদের ঠিকমতো খেতে দেয় না। এমনকি কোনও আদরযত্নও করে না। শুয়োরকে কত আদরযত্ন করে, ভাল ভাল খাবার খেতে দেয়।' মহালোহীতরুপি বোধিসত্ত্ব বললেন, ' ভাই, তুমি আর জানবে কি করে যে, গৃহস্থ কেন এই শুয়োরকে এত আদরযত্ন করছে। ওর আয়ু আর বেশিদিন নেই। মেয়ের বিয়ের দিন ওকে জবাই করা হবে। তাই শুয়োরটাকে খাইয়েদাইয়ে মোটা করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর বিয়ের দিন এসে গেল। শুয়োরটাকে সেদিন সত্যি সত্যি জবাই করা হল। চুল্লোলোহীত সব দেখেশুনে তার দাদাকে বলল, 'তুমি ঠিকই বলেছ দাদা। আমাদের আদরযত্ন... --- > চু কোই ও বট গাছের গল্প হল ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় রূপকথা। সেখানে মানুষ এখনও ঐ শারদীয়া পূর্ণিমার দিন চাঁদ দেখার উত্সব পালন করেন। - Published: 2024-10-21 - Modified: 2024-10-21 - URL: https://www.sabjanta.info/chu-cuoi-and-banyan-tree-folklore-of-vietnam/ চু কোই ও বট গাছের গল্প হল ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় রূপকথা। সেখানে মানুষ এখনও ঐ শারদীয়া পূর্ণিমার দিন চাঁদ দেখার উত্সব পালন করেন। চু কোই ও বট গাছের গল্প হল ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় রূপকথা। সেখানে মানুষ এখনও ঐ শারদীয়া পূর্ণিমার দিন চাঁদ দেখার উত্সব পালন করেন। আজও চু কোই চাঁদে বসে আছে চু কোই ও বট গাছের গল্প অনেক অনেক কাল আগে, ভিয়েতনামের এক গ্রামে চু কোই নামে এক গরীব কাঠুরে বাস করত। তিন কূলে তার কেউ ছিলনা । গ্রামের এক প্রান্তে ছোট্ট এক বাঁশের কুটিরে সে থাকত । রোজ সকাল সকাল জামা-জুতো পরে একটি কুঠার নিয়ে সে বনের পথ ধরে এগিয়ে যেত । সঙ্গে থাকত একটি বাঁশের লাঠি। কিছু কাঠ কেটে পুঁটলি বেঁধে ঝুলিয়ে নিত ঐ বাঁশের লাঠির আগায় আর লাঠিটা কাঁধে বয়ে নিয়ে হাজির হত গ্রামের হাটে। সেখানে কাঠকুটো বেচে সামান্য যা পয়সা পেত তাই দিয়ে চাল-আটা-আনাজ কিছু কিছু কিনে বাড়ি ফিরত । নিজেই রেঁধে বেড়ে দুটি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। তারপর আবার পরদিন সকালে বনের পথ ধরা, এইভাবেই কষ্টেসৃষ্টে চলছিল তার দিন। একদিন বনে গিয়ে কাটার উপযুক্ত কাঠ পেল না চু কোই। জঙ্গলে কাঠ কাটারও কিছু নিয়ম আছে। যে কোনও গাছ কেটে নেওয়া যায় না, পাহারাদার জানতে পারলে শাস্তি হবে। সামনে উৎসবের মরসুম। চু কোই-এর ভারি মন খারাপ হল। সারাদিন বনে ঘুরে ঘুরে তার তেষ্টাও পেয়েছে। জলের সন্ধানে সে একটু গভীর বনের দিকে হাঁটা দিল। কিছুক্ষণ পরে দূর থেকে কুলকুল করে ঝর্ণার শব্দ কানে আসতেই বুঝতে পারল, কাছেই মিষ্টি জলের উৎস আছে। সেদিকে এগিয়ে গিয়ে একটা ভারি সুন্দর দৃশ্য দেখে সে দাঁড়িয়ে পড়ল। দেখে কী, একটু দূরে ঝিরঝির করে বয়ে চলেছে একটি ঝর্ণা, তার পাশে একটি বাঁকাচোরা প্রাচীন বটগাছ। সেই গাছেরই গুঁড়ির নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে তিনটে ছোট্ট ছোট্ট বাঘের ছানা। ছানাদের এখনও চোখ ফোটেনি। বাঘিনী মা হয়তো কাছেই কোথাও গেছে খাবার আনতে। চু কোই-এর মনে একটা দুর্দম আশা জেগে ওঠে। ভাবে, একটা বাঘের ছানাকে যদি ধরে নিয়ে, শহরে যারা জন্তুজানোয়ার নিয়ে খেলা দেখায়, তাদের কাছে বেচে দেওয়া যায়, তাহলে ভালই পয়সা পাওয়া যাবে। তার জুতোজোড়া ছিঁড়ে গেছে, একজোড়া ভাল জুতো কেনা যাবে। শীত আসছে। ঘরের উপর নতুন ছাউনিও দিতে হবে। আর পড়ুন: হীরের হার - একটি ছোট্ট গল্প এইসমস্ত ভেবে চু কোই সাহস সঞ্চয় করে পা টিপে টিপে কাছে গেল। এদিক ওদিক ভাল করে দেখে নিয়ে টপ করে তুলে নিল একটা বাঘের ছানা আর চালান করে দিল তার কাঁধের পুঁটলিতে। যেই না পিছন ফিরে দু-পা গেছে, বিকট হুঙ্কারে তার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগার। বাঘিনী মা এদিকেই ছুটে আসছে! ওদিকে পুঁটলির ভিতর বাঘের ছানাটা হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করছে। কোনরকমে দৌড়ে চু কোই উঠে পড়ল সামনের একটা গাছে আর অসাবধানে পুঁটলি থেকে বাঘের ছানাটা পড়ে গেল মাটিতে। অনেকটা উঁচু থেকে পড়ল ছানাটা। খুব জোর ব্যথা পেয়েছে আর ঘ্যা ঘ্যা করে কান্নাও জুড়েছে। চু কোই ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল। একটুখানি চোখ খুলে দেখে, ছানাটার মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে। মা বাঘিনী চটপট সেই বাঁকাচোরা বটগাছের কয়েকটা পাতা চিবিয়ে থেতো করে রাখল তার ছানার মাথার কাটা জায়গার উপরে। চু কোই অবাক হয়ে দেখল যে, সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল আর ছানাটা দিব্যি হাত-পা নেড়ে খেলতে লাগল। একটু পরে বাঘিনী তার ছানাপোনা নিয়ে সেই জায়গা থেকে চলে গেল। আরও খানিকক্ষণ পরে, চারদিক দেখেশুনে আস্তে আস্তে গাছের উপর থেকে নামল চু কোই। ধীরে ধীরে গেল বটগাছের কাছে। কটি পাতা ছিঁড়ে গন্ধ শুঁকল। নাহ, আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য তো টের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু একটু আগে সে যা দেখেছে, তাতে মনে হচ্ছে যে, গাছটার একটা ভেষজ গুণ আছে। সে আরও কিছু পাতা ছিঁড়ে নিজের পকেটে রাখল, তারপর ঘরের পথ ধরল। যেতে যেতে দেখে কী, পথের ধারে মরে পড়ে রয়েছে একটা কুকুর। দেখেই সে চিনতে পারলো, "আরে! এটা তো আমার কয়েকটা ঘর পরেই থাকে চাঙ্গু কাকা, তার ছেলের পোষা কুকুর! " চু কোই-এর কী খেয়াল হল, ও বাঘিনীটাকে যেমন করতে দেখেছে, ঠিক তেমন করে পকেট থেকে কয়েকটা পাতা বের করে অল্প একটু চিবিয়ে থেতো করে কুকুরটার গায়ে ঐ রস বুলিয়ে দিল। কী আশ্চর্য! অমনি ওটা চার-পা ঝাড়া দিয়ে লাফিয়ে উঠেছে! চু কোই চলে আর কুকুরটা চলে ওর সাথে সাথে লেজ নাড়তে নাড়তে। চু কোই আজ কোন কাঠ কাটতে পারেনি, তাই আর হাটের দিকে গেল না। সোজা ঘরে ঢুকে পড়ল। তার আগে কুকুরটাকে পৌঁছে দিয়ে এল তার মালিকের কাছে। মনে মনে ভাবল, বটগাছটার পাতার রসে সত্যিই কোন বিশেষ গুণ আছে। আগামীকাল বনে না গিয়ে শহরের দিকে যাবে ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ল। শীতের মরসুম মানেই ছুটির মেজাজ। উৎসবের আমেজ। কিন্তু শহরটা যেম কেমন মনমরা হয়ে রয়েছে। ছেলেপিলেরা ছোটাছুটি করে খেলছে না। বয়স্কদের মুখ গম্ভীর। হলটা কী? চু কোই একজন বুড়ো লোককে জিজ্ঞাসা করল, "শহর এমন চুপচাপ কেন? কোথাও উৎসবের ব্যস্ততা নেই কেন? " বুড়ো লোকটা দুঃখিত মুখে বলল, "তুমি জানো না? রাজার মেয়ের ভারি অসুখ। কী যে হয়েছে কোনও বৈদ্য রোগ ধরতে পারছে না। আমাদের রাজকুমারী খাওয়াদাওয়া করছে না। দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে সে যে মারা যাবে। রাজামশাইয়ের তাই ভারি মনখারাপ। আমাদেরও সেইজন্য উৎসবে মেতে উঠতে ভাল লাগছে না।" আর পড়ুন: কপোত কপোতী - ব্রহ্মপুরাণ থেকে নেওয়া একটি গল্প চু কোই ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দিকে পা বাড়ায়। পকেটে হাত দিয়ে দেখে নেয়, পাতাগুলো আছে কি না। আসার আগে সে বটগাছের কিছু পাতা পকেটে করে নিয়ে এসেছে। কিন্তু রাজবাড়ির প্রহরীরা চু কোই-এর মলিন জামাকাপড়, ধুলোভরা ছেঁড়া জুতো দেখে তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। সে বারবার অনুনয় করে বলতে লাগল, "আমার কাছে একটি দাওয়াই আছে, রাজার মেয়েকে একটিবার খাইয়ে দেখো, অসুখ ভাল হয়ে যাবে।" অবশেষে একজন প্রহরী রাজার কাছে গিয়ে সব জানাতে তিনি চু কোইকে ভিতরে নিয়ে আসতে আদেশ দিলেন। চু কোই ভয়ে ভয়ে রাজবাড়ির অন্দরে প্রবেশ করল। বিছানায় মরার মত পড়ে আছে রাজকন্যা নুয়েন তিয়েন। রানীমা পাশেই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। প্রথম দর্শনেই চু কোই নুয়েন তিয়েনকে ভালবেসে ফেলল। এত মিষ্টি একটা মেয়ে, অথচ এমন দশা কী করে হল? সে ধীরে ধীরে পকেট থেকে সেই আশ্চর্য ফলদায়ী পাতা কয়েকটি বের করে হাতে চটকে নিল। তারপর খানিকটা রস রাজকন্যার মুখের ভিতরে পুরে দিল। ধীরে ধীরে চোখ মেলল রাজকন্যা। তার মুখে ফুটে উঠল ঝলমলে আভা। প্রথমেই সে তাকালো চু কোই-এর দিকে। আর তারও প্রথম দর্শনেই চু কোইকে ভাল লেগে গেল। রাজা আর রানী খুব খুশি হলেন। রাজা বললেন, "কত বৈদ্য এসেছে, আমার মেয়ের অসুখ কেউ ভাল করতে পারেনি। একমাত্র তুমি পেরেছ, তাও এত কম সময়ে। যার জীবন দান করেছ তুমি, তার জীবনের উপর তোমারই অধিকার। আমার মেয়ের বিয়ে আমি তোমার সঙ্গেই দেব, সেইসঙ্গে দেব অনেক ধনরত্ন, যাতে তোমরা সুখে থাকতে পার।" চু কোই রাজা ও রানীমাকে প্রণাম জানিয়ে বিয়েতে সম্মতি দিয়ে বলল, "আমি আগে গ্রামে গিয়ে ঘরদোর ঠিকঠাক করে মেরামত করে তারপর এসে নুয়েনকে নিয়ে যাব।" সকলেই বলল, "আচ্ছা, সে তো ভাল কথা।" চু কোই রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে ভাবল, "ঐ বটগাছের কাছেই বানাবো আমার নতুন বাসা।" রাজার দেওয়া ধনে সে অনেক জিনিস কিনল, লোক লাগিয়ে বনের ধারে ঝর্ণার পাশে সেই বটগাছ সমেত অনেকখানি জায়গা বেড়া দিয়ে ঘিরে তৈরি করল নিজের সুন্দর একখানা বাড়ি। তারপর নুয়েন তিয়েনকে নিয়ে এল আর খুব সুখে দিন কাটাতে লাগলো। মানুষের অসুখবিসুখে সে ঐ গাছের পাতা দিয়ে সাহায্য করে। রাজার দেওয়া ধনসম্পদে সে শহরে একটা ব্যবসা আরম্ভ করেছে। নুয়েন তিয়েনের আবার গাছপালার খুব শখ। সেও মনের আনন্দে অনেক ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে বাড়িটাকে যেমন সুন্দর করে তুলেছে, তেমনই ঘরোয়া বাগানের ফলমূল খেতেও পাচ্ছে। কিন্তু চু কোই তাকে সাবধান করে দিয়েছে, "দেখো, বটগাছের চারপাশে যে জট পাকানো শিরার মত শিকড়গুলো রয়েছে, সেগুলোতে যেন আঘাত কোরো না। তাহলে গাছটার ক্ষতি হবে। এই গাছ থেকেই আমার ভাগ্য ফিরেছে। অতএব, একে যত্ন করে রাখতে হবে! " নুয়েন তিয়েনও সাবধানে বাগান করে। সে বটগাছের চারপাশের খানিকটা জায়গা ছেড়ে নিজের শখের বাগান করেছে। আর পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক - ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য এক বুড়ো জ্যোতিষী গাছটা দেখেই চিনেছিল। বলেছিল, "এ যে দেবতা গো! এর অমর্যাদা যেন কখনও না হয়। নইলে কিন্তু একে ধরে রাখতে পারবে না। খুব সাবধান! সর্বদা পরিষ্কার জল দেবে এর গোড়ায়, আর শিকড়ে যেন আঘাত না লাগে, এ বিষয়ে যত্ন নেবে! " চু কোই আর নুয়েন তিয়েন দুজনেই গাছটিকে দেবতার মত সেবাযত্ন করে। আর গাছটিও কত মানুষের রোগব্যাধি সারিয়ে তুলেছে, তার সীমাসংখ্যা নেই। রোজকার মত চু কোই শহরে গেছে ব্যবসার কাজে। নুয়েন সারাদিনের সব কাজ সেরে বাগানে আসে ফুলগাছগুলোর পরিচর্যায়। প্রত্যেকদিন বিকেলে ও সব গাছে পরিষ্কার জল দেয়, প্রয়োজনে ফুলগাছের গোড়ায় সার দেয়, হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা ছেঁটে ফেলে, বাগানের শুকনো ঝরা পাতা ঝাঁট দিয়ে বাগানটিকে ঝকঝকে তকতকে করে রাখে। আজ দেখে, অনেকগুলো বীজ থেকে নতুন অঙ্কুর বেরিয়েছে। সে খুব সাবধানে অঙ্কুরিত চারাগুলো নিয়ে বেছে বেছে বাগানের ফাঁকা জায়গায় লাগাতে শুরু করে। হাওয়া চলাচল করানোর জন্য গাছের গোড়ার মাটি হালকা হাতে কুপিয়ে দেয়। কোদাল চালাতে চালাতে হঠাৎ কোদালের কোপ লাগে বটের একটি শিকড়ে। সঙ্গে সঙ্গে গাছের ভিতর থেকে একটি অস্ফুট শব্দ ওঠে আর সমস্ত গাছ ভীষণ জোরে কাঁপতে থাকে। নুয়েন তিয়েন প্রচণ্ড ঘাবড়ে গিয়ে দেখে যে বটগাছটি তার শিকড়ের মাটি আলগা করে উঠে আসছে মাটির উপরে। নুয়েন একেবারে দিশেহারা বোধ করে। কী যে করবে, কিছু কূলকিনারা পায় না। এই সময় দূর থেকে চু কোইকে ফিরে আসতে দেখে ও ছুটতে ছুটতে গিয়ে তাকে সব কথা বলে। চু কোই একমুহূর্তও দেরী না করে এক ছুটে এসে গাছটাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে, গাছের গুঁড়িতে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলে, "নুয়েন ইচ্ছে করে আঘাত করেনি। ভুল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমা করে দিন হে বৃক্ষরাজ! আমাদের ছেড়ে যাবেন না! " চু কোই-এর সমস্ত চেষ্টা বিফল হয়, বটগাছ ক্রমশ উপরে উঠতে থাকে। চু কোই বটগাছের সঙ্গে আকাশে উঠতে থাকে একসময় চু কোই ও নুয়েন তিয়েন দুজনেই বুঝতে পারে যে, গাছটাকে জড়িয়ে ধরে থাকার জন্য চু কোই বটগাছের সঙ্গে সঙ্গে শূন্যে, আকাশে উঠে গেছে। এখন আর কিছুই করার নেই। নুয়েন নিচে দাঁড়িয়ে কাঁদে আর কাঁদে। তারই একটা ছোট্ট ভুলের জন্য তাকে এমন সাজা পেতে হল। সেই দিব্য ওষধির গাছ সাঁ সাঁ করে আকাশে ভাসতে ভাসতে একেবারে চাঁদে গিয়েই থামে। বেচারা চু কোই আর কী করে? ক্লান্ত হয়ে গাছের ডালে বসে পড়ে। কেঁদে কেঁদে একসময় নুয়েনও ক্লান্ত হয়ে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর রোজ এসে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে, যদি একবার তার প্রিয় চু কোই-এর দেখা পায়! কিন্তু খুবই ঝাপসা দেখা যায় অতদূরের চাঁদ। পূর্ণিমার দিন চাঁদকে যখন খুব পরিষ্কার দেখা গেল, তখন তার মধ্যে ও খুব আবছা ভাবে চু কোইকে বসে থাকতে দেখল। নুয়েন বুঝতে পারল, যেদিন চাঁদ সবচেয়ে বড় হবে, সবচেয়ে উজ্জ্বল হবে তার আলো, সেদিন সে তার স্বামীকে ভাল করে দেখতে পাবে। সেই দিনটির অপেক্ষায় সে থাকে সারাবছর। তারপর শারদীয়া পূর্ণিমার রাত্রে, চু কোই-এর প্রিয় পিঠে বানিয়ে ও জেগে বসে থাকে, নুয়েন যে তাকে ভোলেনি, এখনও তাকে আগের মতই ভালবাসে, আর তার জন্য খাবার বানিয়ে ও তারই অপেক্ষায় রাত জেগে বসে আছে, এটাই বলবার জন্য নুয়েন তিয়েন চাঁদের দিকে চেয়ে থাকে। সেদিন সে চু কোইকে ভাল ভাবে দেখতে পায়। এক বিরাট ঝাঁকড়া গাছের নিচে উদাস হয়ে বসে আছে সে। আজও ভিয়েতনামের গ্রামে-গঞ্জে মেয়েরা তাদের স্বামীর সঙ্গে আজীবন কাটাবার আশীর্বাদ চেয়ে শারদীয়া পূর্ণিমায় চাঁদের মত গোল মুন-কেক বানায় আর রাত্রে চাঁদের শোভা দেখে। মূল গল্পের উত্স --- > এই ভেজিটেবিল চপ রেসিপি আপনাকে বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু, মুচমুচে ও আপনার প্রিয় ভেজিটেবল চপ সহজেই তৈরি করতে সহায়তা করবে। - Published: 2024-10-20 - Modified: 2024-10-20 - URL: https://www.sabjanta.info/vegetable-chop-recipe-tasty-and-healthy-chop/ এই ভেজিটেবিল চপ রেসিপি আপনাকে বাড়িতে দোকানের মত সুস্বাদু, মুচমুচে ও আপনার প্রিয় ভেজিটেবল চপ সহজে তৈরি করতে সহায়তা করবে। ভেজিটেবল চপ কলকাতার দারুন জনপ্রিয় একটি জলখাবার ৷ বাইরেটা মুচমুচে অথচ ভিতরে বেশ একটু মিষ্টি আর ভাজা মশলার অপূর্ব স্বাদ । বাঙালি ভেজিটেবিল চপ রেসিপি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভেজ কাটলেটের রেসিপি-র মধ্যে বেশ একটা পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে । এটি শুধু কলকাতা কেন, সমগ্র বাংলার একটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। সবজি এবং মশলা দিয়ে ভরা এই খাবারটি সবার নজর কেড়ে নেয়। এই পদটি চটকদার স্বাদ ও বিভিন্ন টেক্সচারের একটি সম্পূর্ণ মিশ্রণ ধারণ করে। শুধু একটি কামড় দিলে আপনার মন প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। নরম এবং বাদামি ফিলিং সহ খাস্তা বাইরের আবরণ একটি নিখুঁত ধরণের ফর্মুলেশন (এই ভেজিটেবিল চপ রেসিপি)। তাহলে চলুন আমরা কলকাতা স্টাইলে ভেজিটেবল চপ বানানোর উপাদান এবং প্রক্রিয়াটি দেখে নেওয়া যাক। বাড়িতে অল্প সময়েই মুচমুচে ভেজিটেবল চপ বানানোর রেসিপি। সহজ পদ্ধতিতে স্ট্রিট ফুড স্টাইল বাঙালির ভেজিটেবল চপ তৈরী করার উপকরণ, প্রণালী ও সরঞ্জাম। আর পড়ুন: বাংলা ধাঁচের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি ভেজিটেবিল চপ রেসিপি : Vegetable Chop Recipe সরঞ্জাম ১ কড়াই ১ ইনডাকশন কুকটপ অথবা গ্যাস ওভেন উপকরণ ২ টি আলু ১ টি বিটরুট ১ টি গাজর মাঝারি ২ টেবিল চামচ মটরসুটি ৩ চা চামচ ভাজা চিনাবাদাম ১ টেবিল চামচ নারকেল সূক্ষ্মভাবে কাটা বা গ্রেট করা ৬ টি কাঁচা লঙ্কা মিঃ করে কাটা ১-১. ৫ চা চামচ আদা পেস্ট ০. ৫ কাপ ধনে পাতা ০. ৫ চা চামচ জিরা ০. ৫ চা চামচ পাঁচ ফোড়ন ১ চা চামচ আমচুর পাউডার ০. ৫ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া ০. ৫ চা চামচ মৌরি বীজ ( ঐচ্ছিক ) ২-৩ টুকরা শুকনো লাল লঙ্কা ২ টি সবুজ এলাচ ৫ টি লবঙ্গ ১ ইঞ্চি দারুচিনি রিফাইন তেল সরিষা তেল লবন স্বাদমতো চিনি স্বাদমতো ১ কাপ ময়দা ২ কাপ ব্রেড ক্রাম্বস ২-৩ টি ডিম প্রণালী প্রথমে সবজিগুলি প্রস্তুত করে নিন প্রথমে সব সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপরে, আলুগুলিকে সেদ্ধ করুন যতক্ষণ না সেগুলি ভালভাবে রান্না করা এবং চিকন হয়। এগুলিকে ঠান্ডা হতে দিন এবং তারপরে ত্বকের খোসা ছাড়িয়ে নিন। একপাশে রাখুন। এবার গাজর ও বিটরুটের খোসা ছাড়িয়ে নিন। এগুলিকে ছোট কিউব করে কেটে আলাদা করে রাখুন। তারপর মশলা প্রস্তুত করুন একটি শীল-নোড়া নিন যদি আপনার কাছে থাকে এবং সমস্ত মশলা পিষতে শুরু করুন; জিরা, শুকনো লাল লঙ্কা, এলাচ, দারুচিনি, মৌরি বীজ এবং লবঙ্গ। এগুলিকে মিহি গুঁড়ো করে নিন। নারকেল কুচি গুলি ভেজে নিন একটি কড়া বা ফ্রাইং প্যান নিন। সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে গরম হতে দিন। এর সাথে মিহি করে কাটা বা গ্রেট করা নারকেল যোগ করুন। কম আঁচে সোনালি বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এটি যাতে পুড়ে না যায় তার জন্য ক্রমাগত নাড়ুন। এটা একপাশে রেখে দিন। ফিলিং তৈরি করে নিন একই তেলে পাঁচ ফোড়ন দিয়ে দিন। প্রয়োজনে আরও একটু তেল দিন। এগুলি ভাজুন যতক্ষণ না তারা ফাটতে শুরু করে এবং তারপরে আদার পেস্ট এবং সূক্ষ্মভাবে কাটা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিন। এগুলি ক্রমাগত নাড়ুন এবং এটি কিছুটা সোনালী হয়ে গেলে কাটা বিটরুট এবং গাজর দিয়ে দিন। কিছু লবণ ছিটিয়ে দিন এবং সমস্ত উপাদান ভালভাবে একত্রিত করুন। এগুলিকে ভাজতে থাকুন যতক্ষণ না তারা নরম হয়ে যায় এবং পুরোপুরি সেদ্ধ না হয়। চামচের পিছন দিয়ে কয়েক টুকরো শাকসবজি থেঁতলে নিন। এরপরে, সবুজ মটর যোগ করুন। আরও ভালো টেক্সচারের জন্য এগুলিকে কিছুটা চূর্ণ করুন। ভেজি মিক্সে ভুনা মশলা দিয়ে দিন। তাদের একটু নাড়ুন এবং স্বাদের জন্য কিছু লবণ এবং চিনি দিয়ে দিন। এগুলি প্রায় ৩ মিনিটের জন্য রান্না করুন। এখন, সেদ্ধ করা এবং খোসা ছাড়ানো আলুগুলিকে সুন্দরভাবে ম্যাশ করুন যতক্ষণ না তারা মসৃণ হয়ে যায় এবং তারপরে এটি কড়াইতে দিয়ে দিন। ভালো ভাবে প্রতিটি উপাদান একত্রিত করুন। সব ভেজির টুকরা যেন ভেঙ্গে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মিশ্রণটি শুকানো শুরু না হওয়া পর্যন্ত এগুলি রান্না হতে দিন। ভাজা নারকেল, ধনেপাতা এবং চিনাবাদাম যোগ করুন (এগুলি যোগ করার আগে কিছুটা গুঁড়ো করুন)। মাঝারি আঁচে আরও 2-3 মিনিটের জন্য সেগুলি মেশান। কালো গোলমরিচ গুঁড়ো যোগ করুন। আঁচ বন্ধ করুন এবং আলতো করে সমস্ত কিছু একবার মিশিয়ে নিন। একটি প্লেটে ফিলিং স্থানান্তর করুন এবং এটি ঠান্ডা হতে দিন। ফিলিংটিকে চপের আকৃতি দিন ফিলিংটিকে সমানভাবে ৪ ভাগে ভাগ করুন। আপনার তালুতে কিছু তেল মাখিয়ে নিন। এগুলিকে আপনার হাতের তালুর মধ্যে ঘুরিয়ে গোলক, ডিম্বাকৃতি বা সিলিন্ডারে আকৃতি দিন। এবার কোটিং প্রস্তুত করুন একটি প্লেটে ময়দা নিন এবং অন্য প্লেটে ব্রেড ক্রাম্বস নিন। কিছু লবণ দিয়ে তাদের সিজন করুন। একটি পাত্রে তিনটি ডিম ভেঙে কিছু লবণ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ভেজিটেবল চপ প্রস্তুত করুন ফিলিং দিয়ে প্রস্তুত করা আকৃতির একটি অংশ নিন এবং ময়দা দিয়ে আলতো করে মাখিয়ে নিন। অতিরিক্ত ময়দা ঝেড়ে ফেলুন এবং ফেটানো ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে দিন। ডিম ধোয়ার সাথে এটিকে ভালভাবে প্রলেপ দিন এবং তারপরে ব্রেড ক্রাম্বসে রাখুন। ব্রেড ক্রাম্বস দিয়ে একটি প্রলেপ দিয়ে দিন সমান করে। এরপরে, ডাবল আবরণের জন্য, চপটিকে আবার ফাটানো ডিমে চুবিয়ে নিন এবং তারপরে ব্রেড ক্রাম্বসে রাখুন। চপটি চারদিক থেকে আলতো করে চেপে একপাশে রেখে দিন। এটি করা হয় যাতে চপটি ভেঙে না যায়। অন্যান্য সমস্ত চপের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন। (আপনার শুকনো এবং ভেজা হাত আলাদা রাখুন তা নাহলে ময়দা এবং ব্রেড ক্রাম্বগুলি দলা পাকিয়ে যেতে শুরু করবে। ডিম ধোয়ার জন্য একটি হাত ব্যবহার করুন এবং ময়দা ও ব্রেড ক্রাম্বগুলি পরিচালনা করার জন্য বিপরীতটি ব্যবহার করুন)। ভেজিটেবল চপ ভাজুন এবার এখন, একটি কড়াই বা একটি ফ্রাইং প্যান নিন এবং প্রচুর পরিমাণে রিফাইন তেল দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে গরম হতে দিন। তেল গরম হয়ে গেলে ভেজিটেবল চপগুলো আলতো করে নামিয়ে দিন। এগুলিকে ব্যাচে ভাজুন। ভাজার সময় আঁচ মাঝারি রাখুন। সব দিক থেকে সোনালি বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। রান্নাঘরের টিস্যু বা কাগজের তোয়ালে দিয়ে আবৃত প্লেটে স্থানান্তর করুন। এতে চপ থেকে অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে যাবে। গার্নিশ করুনকিছুটা কালো লবণ এবং আমচুর পাউডার ছিটিয়ে ভেজিটেবিল চপগুলো গার্নিশ করুন। সবশেষে একটিই অনুরোধ রইল, এই ভেজিটেবিল চপ রেসিপি আপনাদের কেমন লাগল তা জানাতে ভুলবেন না। --- > কপোত কপোতী, লুব্ধক নামে একটি ভয়ানক ব্যাধের মন পশু হত্যা থেকে অহিংসাকে গ্রহণ করার গল্প। এটি ব্রহ্মপুরাণ থেকে নেওয়া একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প। - Published: 2024-10-18 - Modified: 2025-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/kapot-tirtha-moral-story-from-brahma-purana/ কপোত-তীর্থ, লুব্ধক নামে এক ভয়ানক ব্যাধের মন নির্বিচারে পশু হত্যা থেকে অহিংসাকে জীবনের ব্রত হিসাবে গ্রহণ করার গল্প। এটি ব্রহ্মপুরাণ থেকে নেওয়া একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প । কপোত কপোতী ও লুব্ধক ব্যাধের কাহিনী অনেকদিন আগেকার কথা। ব্রহ্মগিরিতে লুব্ধক নামে এক ভয়ানক হিংস্র প্রকৃতির ব্যাধ বাস করত। সে শুধু যে পশুপাখি শিকার করত, তাই নয়, কি ব্রাহ্মণ, কি সাধু, সকলকেই হত্যা করত। তাকে দেখতেও ছিল উগ্র, ভীষণাকার। একদিন সেই ব্যাধ বনে বনে সারাদিন ঘুরে পশুপাখি শিকার করল, মৃত পশুগুলো সে থলেয় ভরে নিল আর জীবিত পাখিগুলো খাঁচায় বন্দী করল। বাড়ির ফেরার সময় পথে সন্ধ্যা হয়ে বনের মধ্যে আঁধার ঘনিয়ে এল। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে অঝোরে বৃষ্টি আরম্ভ হলো। কড়কড় শব্দে বাজ পড়তে লাগল। ব্যাধ খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তার সমস্ত শরীর কাঁটায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল, ঠাণ্ডায় সে থরথর করে কাঁপছিল। লুব্ধক ভাবল, এই অবস্থায় ঘরে ফেরা অসম্ভব। অবশেষে এক বিরাট বটগাছের নীচে সে তার শ্রান্ত, অবসন্ন শরীর এলিয়ে দিল। ঘরে স্ত্রী ও শিশুপুত্র তার ফেরার পথ চেয়ে বসে আছে—একথা চিন্তা করে তার মন আকুল হয়ে উঠল। কিন্তু তার আর একটুও নড়ার শক্তি ছিল না। ঐ গাছেই বাস করত এক কপোত-দম্পতি। কপোতী তখনও দানা খুঁটে ঘরে ফেরেনি, তাই তার কপোত স্বামী চিন্তিত হয়ে অনুচ্চ স্বরে বলতে লাগল, "তাই তো, সন্ধ্যা হয়ে গেল দেখছি, প্রিয়া তো এখনও ফিরল না! তার কি কোনও বিপদ হলো? সে আমার সুখদুঃখের সাথী। আমার সুখে সে সুখী হয়, আমি দুঃখিত হলে সে আমাকে কত ভাবে সান্ত্বনা দেয়। তার মতো পতিগতপ্রাণ স্ত্রী অতি ভাগ্যে মেলে! হায় হায়, এখন আমি কোথায় তাকে খুঁজব? " আর পড়ুন: 10 টি বাছাই করা গোপাল ভাঁড়ের গল্প তার বিলাপ শুনে কপোতী ক্ষীণ কণ্ঠে বলে উঠল, "নাথ, আমি এখানে, ব্যাধের খাঁচায় বন্দী হয়ে আছি! তুমি আমার জন্য চিন্তা কোর না। আমার কর্মফলে আমার এই দশা হয়েছে। ব্যাধের উপর তুমি ক্রুদ্ধ হয়ো না। ব্যাধ এখন ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর। সে যখন আমাদের গৃহে সন্ধ্যার সময় এসেই পড়েছে, সে আমাদের অতিথি। তুমি তোমার অতিথি ধর্ম পালন কর। শ্রান্ত অতিথির রূপ ধরে সকল দেবতা ও পিতৃপুরুষের আগমন হয়—শাস্ত্রে এমন কথাই বলে। অতিথি সেবা করলে দেবসেবারই ফল হয়। আর অতিথি নিরাশ বা রুষ্ট হয়ে ফিরে গেলে সমস্ত দেবতা অপ্রসন্ন হন। তুমি একথা ভেবে অতিথির দোষ দেখো না যে, সে তোমার স্ত্রীকে আটকে রেখেছে। কারণ উপকারের প্রতিদান দেওয়া মানুষের ধর্ম, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু অপকারী ব্যক্তির প্রতিও যে দ্বেষ না করে সুন্দর ব্যবহার করে, সেই আসল পুণ্যের ভাগীদার হয়"। নিজের স্ত্রীর এই অপূর্ব ত্যাগ ও আদর্শের কথা শুনে কপোতের মনের কষ্ট দূর হয়ে গেল। তার ধর্মবোধ জাগ্রত হলো। সে ব্যাধের সামনে উপস্থিত হয়ে হাতজোড় করে বলল, "আপনি আমার অতিথি। আমার কর্তব্য সাধ্যমত আপনার সেবা করা। এই সময় আপনি ক্ষুধার্ত ও শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। একটু অপেক্ষা করুন"। এই বলে সে উড়ে গিয়ে কোথা থেকে একটা জ্বলন্ত কাঠি ঠোঁটে করে এনে শুকনো কাঠকুটোর স্তুপে ফেলে দিল। ধীরে ধীরে আগুন জ্বলে উঠল। ব্যাধের শীত দূর হলো। এবার সেই কপোত ব্যাধকে পরিক্রমা করে প্রণাম জানাল। বলল, "আপনার খাবারের বন্দোবস্ত করছি"। তারপর সেই জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই ব্যাপার দেখে লুব্ধক হতবম্ভ হয়ে পড়ল, সে নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিয়ে কপোতীকে খাঁচা থেকে মুক্তি দিল। মুক্তি পাওয়া মাত্র কপোতী তার স্বামীর পথ অনুসরণ করে আগুনে ঝাঁপ দিল। সামান্য কপোত কপোতীর এমন ব্যবহার দেখে নিষ্ঠুর ব্যাধও একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল। তার বুকেও যেন কষ্ট হতে লাগল। দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। মনটা যেন হাহাকার করে উঠল। নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিল খুব। একটা কপোত কপোতীর হৃদয়ে যে উদারতা যে সহানুভূতি, আর সে কিনা মানুষ হয়ে তার এতটুকুও গুণ নেই। এবং সে আকুল হয়ে উঠল তার মন, খাঁচায় সব পাখিদের ছেড়ে দিল সে। আর তার ঘরে ফিরে যাওয়া হল না। ব্যাধ আত্মগ্লানিতে কাঁদতে লাগল। বলল, "কি করলে আমার উদ্ধার হবে? " কপোত তাকে বলল, "আপনি গোদাবরী তীরে গিয়ে বাস করুন, জীবহিংসা ত্যাগ করে প্রত্যহ গোদাবরী নদীতে স্নান করুন"। ব্যাধ কপোতের নির্দেশ অনুসারে গোদাবরী তীরে গিয়ে অহিংস ভাবে বাস করতে শুরু করল । অবশেষে একসময় তার সব পাপ ক্ষয় হয়ে গেল এবং লুব্ধক স্বর্গলোকে গমন করল। গোদাবরী তীরে সেই স্থান আজও কপোত-তীর্থ নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। --- > বাংলায় ছোটদের জন্য কিছু শিক্ষণীয় ছোট গল্প বা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প যা ভবিষ্যত জীবনে চলার পথে উত্সাহ জাগাতে পারে এমন ৯টি ছোটগল্প দেওয়া হল - Published: 2024-10-15 - Modified: 2024-10-15 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-9-%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%95-%e0%a6%9b/ বাংলায় ছোটদের জন্য কিছু শিক্ষণীয় ছোট গল্প বা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প যা ভবিষ্যত জীবনে চলার পথে উত্সাহ জাগাতে পারে এমন ৯টি ছোটগল্প দেওয়া হল। আশাকরি বর্তমান সময়ে এগুলি উপযোগী হবে। বাংলায় ছোটদের জন্য কিছু শিক্ষণীয় ছোট গল্প বা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প যা ভবিষ্যত জীবনে চলার পথে উত্সাহ জাগাতে পারে এমন ৯টি ছোটগল্প দেওয়া হল। আশাকরি বর্তমান সময়ে এগুলি উপযোগী হবে। বাছাই করা ৯টি অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প 1. অন্য ভাবে ভাবুন - Think out of the box গল্পটি শত বছর পুর্বে ইতালির একটি ছোট শহরের একজন ব্যাবসায়ীর মেয়ের বুদ্ধিদীপ্ত কাজের। একজন বৃদ্ধ ব্যাবসায়ী তার ব্যাবসার জন্য শহরের একজন রক্তচোষা মহাজনের থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ।কিন্তু কিন্তু কয়েক বার টানা লোকসান হওয়ায় এবং মহাজনের সুদের টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে বেরে যাওয়ায় ব্যাবসায়ীর জন্য টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যায়। সে সময় মতো টাকা পরিশোধ করতে পারছিলো না। এমন সময় মহাজন বললো সে এক শর্তে সকল কর্জ মাফ করে দিবে, যদি ব্যাবসায়ী তার মেয়েকে মহাজনের সাথে বিয়ে দেয়। মহাজন মানুষ হিসেবে ভাল ছিল না তাই ব্যাবসায়ীর প্রস্তাবটি পছন্দ হয়নি। তখন মহাজন বললো ঠিক আছে তাহলে চলুন আমরা আপনার বাগানে থাকা সাদা এবং কালো নুড়ি পাথর দিয়ে একটি ভাগ্য পরীক্ষা করি। আমি এই বাগানের পাথুরে রাস্তা থেকে একটি সাদা এবং একটি কালো পাথর নিয়ে একটি ব্যাগে রাখবো। সেখান থেকে আপনার মেয়ে একটি পাথর তুলবে। যদি সে কালো পাথরটি তোলে তবে সে আমাকে বিয়ে করবে এবং আপনার সব ঋণ আমি ছেড়ে দিবো এবং সে যদি সাদা পাথরটি তোলে সে ক্ষেত্রেও আমি আপনার ঋণ মুকুব করে দেব কিন্তু আপনার মেয়ের আমাকে বিয়ে করতে হবেনা। এমন সময় মহাজন যখন বাগানের রাস্তাটি থেকে নুড়ি পাথর থলেতে রাখার জন্য তুলছিল তখন মেয়েটি দেখে ফেলে যে, মহাজন একটি সাদা এবং একটি কালো পাথরে বদলে দুইটিই কালো পাথর নিয়ে ব্যাগে রেখেছিল । এই অবস্থায় মেয়েটির সামনে তিনটি পথ ছিল:- ব্যাগ থেকে পাথর বাছাই করতে অস্বীকার করা। ব্যাগ থেকে উভয় নুড়ি পাথর বের করে নিয়ে মহাজনের ষড়যন্ত্র প্রকাশ করে ফেলা। ব্যাগ দুইটিই কালো পাথর আছে জেনেও একটি পাথর তুলে বাবার স্বাধীনতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। কিন্তু এই প্রতিটি পদক্ষেপেই তার এবং তার বাবার জন্য বিপদ ডেকে আনতো। কিন্তু মেয়েটি যা করলো তাতে মহাজন বোকা বনে গেল। মেয়েটি ব্যাগ থেকে একটি পাথর বের করে সেটি দেখার আগেই অজ্ঞতাবশত হাত থেকে পাথুরে রাস্তায় ফেলে দিলো। আর এমন ভান করলো যে পাথরটি যেন দুর্ঘটনাক্রমে নিচে পড়ে গেছে এবং রংটি দেখার সুযোগ হয়নি। সে মহাজনকে বললো যে, “দেখুন তো, কি বোকার মতো কাজ করলাম, পাথরের রংটি দেখার আগেই হাত থেকে পরে গেলো। আমি কি রং এর পাথরটি তুলেছিলাম যাচাই করতে ব্যাগটি চেক করুন।" ব্যাগে যেহেতু ২টি কালো পাথরই ছিল, তাই মহাজনের শর্ত মোতাবেক পড়ে যাওয়া পাথরটি সাদা হওয়ার কথা। এভাবেই মেয়েটি এবং তার বাবা মহাজনের ছল চাতুরী থেকে রেহাই পেল। অন্য ভাবে ভাবুন গল্পের শিক্ষা: সব সময় কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় থাকে । শুধু মাথা ঠান্ডা করে একটু আউট অফ দ্যা বক্স চিন্তা করতে হয়। আমাদের যে আপশন গুলো দেয়া হয়েছে এর বাইরেও আপশন থাকতে পারে। 2. নিজেকে বদলাতে শিখুন - Change yourself, the world will be changed একবার এক রাজা চোখের সমস্যা নিয়ে খুবই সমস্যায় ছিলেন। তাই রাজা অনেক জায়গায় চেষ্টা করেন কিন্তু কোনো ভাবেই চোখ ভাল করতে পারছে না। বহুদিন পর রাজা সন্ধান পেলেন যে তার রাজ্যের বনে এক সন্ন্যাসি থাকেন। যিনি রাজার চোখের সমস্যা সব ঠিক করে দিতে পারেন । অবশেষে রাজা গেলেন সেই সন্ন্যাসীর কাছে, গিয়ে বললেন সন্ন্যাসী আমার চোখের সমস্যা ঠিক করে দিন। সন্ন্যাসী দেখে বললেন "রাজন আমি আপনার সমস্যা বুঝতে পেরেছি।" "আপনি এক কাজ করুন এখন থেকে শুধু লাল জিনিসের দিকে তাকাবেন । শুধু লাল রঙ দেখবেন, তারপর দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।" রাজা বললো আচ্ছা ঠিক আছে। রাজা রাজ্যে ফিরে গিয়ে তার রাজপ্রাসাদ পুরোটা এবং সবকিছু লাল রঙ করে ফেললো। কিছুদিনপর আস্তে আস্তে রাজার চোখ ভালো হতে লাগলো। তখন রাজা খুশি হয়ে তার সৈন্যদেরকে বললো যাও সেই সন্ন্যাসীকে নিয়ে আাসো আমি তাকে পুরস্কৃত করতে চাই। তারপর সন্ন্যাসী যখন আসলেন তখন সৈন্যরা বালতি ভরে লাল রঙ দিয়ে তাকে রাঙিয়ে দিলো। সন্ন্যাসী রাজার কাছে এলে, রাজা তাকে জিজ্ঞাস করলো- “কেমন আছেন? ” তখন সন্ন্যাসী বললেন- “দেখতেই তো পাচ্ছেন”, তিনি রাগান্বিতস্বরে বললেন, “রাজা আপনি আমাকে এমন লাল রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিতে বললেন কেনো”? রাজা বললেন- “কেনো আপনিইতো বলেছেন লাল রঙ দেখতে, রং না দিলে, আপনাকে দেখলেতো আমার চোখে সমস্যা হত তাই।“ তখন সন্ন্যাসী বললেন- “রাজা আপনিতো একটা লাল চশমা পরলেই পারতেন ৷” রাজা বললেন- “আরে সত্যিই তো! ” রাজা লজ্জায় পরে গেলেন। তারপর সন্ন্যাসী বললো- “দেখেছেন রাজা আমরা সমস্যায় পরলে আশে পাশের সব কিছু পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু সমস্যার সমাধান যে আমাদের ভিতরই আছে তা লক্ষ করিনা”। আমাদের নিজেদের বদলাতে বড় কোনো দেশে যেতে হয় না নিজের দেশে থেকেই নিজেকে বদলাতে পারবো। আমরা বদলালে আমাদের পরিবার বদলাবে, আমদের সমাজ বদলাবে আর সমাজ বদলালে আমাদের দেশ বদলে যাবে। নিজেকে বদলাতে শিখুন গল্পের শিক্ষা: আমরা নিজেদের অনেক সমস্যা গুলো চাইলেই নিজের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে প্রতিকার করতে পারি। আরও পড়ুন: বাবুর্চির বুদ্ধি - হাততালি দিলে পাতের বকটা উড়ে যেত না? 3. তুলনা করার অভ্যাস বর্জনীয় - Stop Comparing Yourself to Others তুলনা করার অভ্যাস বর্জনীয় - একটি অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প এক বনে একটি কাক বাস করতো। সে তার জীবন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু একদিন সে একটি রাজহাঁস দেখতে পেল।... ... নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ও পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। আহা! রাজহাঁস কতই না সুন্দর! কাকটি ভাবলো। নিশ্চয়ই সে এ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পাখি। কাক তার এই ভাবনার কথা রাজহাঁসকে জানালো। “আসলে”, রাজহাঁস জবাব দিলো, “আমি ভাবতাম আমিই বুঝি এখানকার সবচেয়ে সুখী পাখি, যতক্ষণ না আমি একটি টিয়াকে দেখলাম।... ... যার গায়ে দু’ধরনের রং আছে। তাই এখন আমি মনে করি, টিয়াই হলো সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে সুখী পাখি।” কাক এরপর গেল টিয়ার কাছে। টিয়া তাকে বললো, “আমি ছিলাম খুব খুব সুখী, যতক্ষণ না আমি ময়ূরকে দেখতে পেলাম।... ... আমার গায়ে তো মাত্র দু’টি রং, আর ময়ূরের শরীরে কত বর্ণেরই না সমাহার! ” কাক এরপর চিড়িয়াখানায় গেল ময়ূরের সাথে দেখা করতে। সেখানে সে দেখতে পেল, ময়ূরকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছে। সবাই চলে যাওয়ার পর, কাক ময়ূরের কাছে গেল... ... “ও ময়ূর, তুমি দেখতে কতই না সুন্দর! তোমাকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। আর আমি? আমাকে দেখলেই মানুষ দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয়ই জগতের সবচেয়ে সুখী পাখি।” ময়ূর জবাব দিলো, “আমিও ভাবতাম, আমিই বোধহয় এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর এবং সুখী পাখি। কিন্তু এই সৌন্দর্যের কারণে আমাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমি এই চিড়িয়াখানা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি কাকই হচ্ছে একমাত্র পাখি যাকে কখনোই খাঁচায় বন্দি করা হয় না। তাই গত ক’দিন যাবত আমি ভাবছি, ইশ! আমি যদি কাক হতাম, তাহলে যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পারতাম।” তুলনা করার অভ্যাস বর্জনীয় গল্প থেকে শিক্ষা: অহেতুক অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করলে কেবল দুঃখই বাড়ে। 4. প্রজাপতির গল্প - Struggle Makes You Stronger প্রজাপতির গল্প - একটি অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প একবার একজন মহানুভব ব্যাক্তি তার বাগানে একটি প্রজাপতি গুটি (ডিম) দেখতে পেলেন। তিনি দেখতে পেলেন প্রজাপতিটি তার গুটি থেকে বের হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু বের হতে পারছেনা। সদ্য জন্মানো প্রজাপতিটি অনেক চেষ্টা এবং পরিশ্রম করছে কিন্তু যে ডিম বা গুটি থেকে সে জন্মাচ্ছিল সেটি থেকে সে তার শরীরের বাকি অংশ বের করতে পারছে না । একটা অবস্থায় গিয়ে মনে হচ্ছিল হয়তো প্রজাপতিটি আর বের হতেই পারবেনা, সে দাপাদাপি করেও থেমে গেছে। এ দৃশ্য দেখে লোকটির অনেক মায়া হলো। সে গিয়ে গুটির বাকি অংশটি একটি কঁচি দিয়ে কেটে প্রজাপতিটিকে বের করে ফেললো। কি মনে হচ্ছে লোকটি প্রজাপতিটির উপকার করেছে তাইনা? আসলে আপাত দৃষ্টিতে এটি উপকার মনে হলেও প্রজাপতিটির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে এই লোকটির জন্য । প্রজাপতি গুটি থেকে বের হয়ে আসার জন্য যে চেষ্টা করছিলো তাতে প্রজাপতিটির শরীর আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। তার ডানা ঝাপটানোর ফলে গুটিতে থাকা ঈশ্বর প্রদত্ত তরল পদার্থ তার ডানা আরও শক্ত হতে সাহায্য করছিলো। কিন্তু এই লোকটি যখন এটিকে বিনা পরিশ্রমে বের হয়ে আসতে সহায়তা করলো তখন তার ডানা রয়ে গেল অপরিপক্ক। প্রজাপতিটির বাকি জীবনে কখনো ঠিক মতো উড়তেই পারেনি, কারন তার ডানা উড়ার জন্য যথেষ্ট্ মজবুত ছিল না। প্রজাপতির গল্প থেকে শিক্ষা: জীবনের সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়ার জন্য যোগ্য ও শক্তিশালী করে। আরও পড়ুন: 'ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক 5. শেকলে বাধা হাতি - Believe in Yourself একদা এক বাচ্চা ছেলে তার বাবার কাছে বায়না ধরলো সে সার্কাস দেখতে যাবে। বাবা তাকে সার্কাস দেখাতে নিয়ে গেলেন। সার্কাস শুরুর আগে বাবা তার ছেলেকে সার্কাসের তাবুর বাইরে রাখা বিভিন্ন পশু পাখির খাঁচার সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে পশুপাখি দেখাচ্ছিলেন। দেখতে দেখতে তারা হাতির সামনে চলে আসলো। তারা দেখতে পেল হাতিটি খাঁচায় বন্দী করে রাখার বদলে একটি সরু শিকল দিয়ে পায়ে বাধা আছে, যেটি হাতি চাইলেই ছিড়ে পালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো হাতিটি সে চেষ্টাই করছেনা। এটি দেখে ছেলে খুব অবাক হলো এবং তার বাবাকে এর কারন জিজ্ঞাসা করলো। বাবা হাতির মাহুতকে ( যিনি হাতির দেখাশুনা করেন ) ডেকে এর কারন জিজ্ঞাসা করলেন। হাতির মাহুত উত্তর দিল – যখন এই হাতি গুলো অনেক ছোট ছিল, তখন আমরা তাদের এই ধরনের সরু শিকল দিয়েই বেধে রাখতাম। সে সময় তারা তা ছেঁড়ার অনেক চেষ্টা করতো এবং ব্যার্থ হতো। সে বয়সে এই শিকল তাদের আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। এ অবস্থায় যখন তারা বড় হতে থাকে তারা বিশ্বাস করে নেয় যে এই শিকল ছেঁড়া কখনোই সম্ভব নয়। তাই এখন তারা এই শেকল এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হলেও তাদের বিশ্বাস এর কাছে তারা বাঁধা পরে আছে এবং তাই ছিঁড়তে চেষ্টা করেনা। গল্পের অনুপ্রেরণা: সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা যে আপনি সফল হবেন। বাধা যতই আটকে রাখতে চেষ্টা করুক, সফলতার বিশ্বাস মনে নিয়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 6. কৃষক ও দোকানদার - As you Sow, So Shall you Reap গল্পটি একজন কৃষকের যে প্রতিদিন একটি রুটির দোকানে এক কেজি করে পনির বিক্রি করতো এবং এক কেজি করে রুটি কিনে আনতো । রুটির দোকানদার এর সাথে তার অনেক পুরোনো পরিচয় হওয়ায় দোকানদার তার থেকে পনির নেয়ার সময় আর মাপ দেয়ার প্রয়োজন মনে করতো না এবং কৃষকও তার থেকে এক কেজি রুটি কোন মাপঝোপ ছাড়াই নিয়ে চলে যেতো । তো একদিন পনিরের দোকানে এক নতুন কর্মচারী চাকুরি নিলো, কৃষক যখন তার পনির বিক্রি করতে আসলো তখন সে পনির কৃষকের থেকে নেয়ার পর সেটা ওজন করে দেখলো। ওজন করতে গিয়ে দেখা গেলো পনির এক কেজির চেয়ে ১০০ গ্রাম কম আছে। সে তার দোকান মালিককে ঘটনা জানালো এবং দোকানদার খুব রেগে গেলো এবং পরের দিন কৃষক আসার পর সে তাকে খুব বকাঝকা করলো। সে বাজারে বিচার ডেকে নালিশ করলো যে কৃষক তাকে ঠকিয়ে প্রতিদিন ১০০ গ্রাম করে কম পনির দিয়েছে। তখন বিচারক কৃষকের কাছে এই চুরির কারন জানতে চাইলো । তখন কৃষক বললো – “আমি খুব গরীব মানুষ হুজুর , কিন্তু চোর নই। আমার বাসায় পরিমাপ করার কোন পাল্লা নেই, তাই প্রতিদিন রুটির দোকান থেকে যে ১ কেজি রুটি নিয়ে যাই সেটি দিয়েই ওজন করে দোকানদারকে সমপরিমান পনির দিয়ে যাই। তাই আমার জানা ছিলনা যে এখানে ১০০ গ্রাম রুটি কম ছিল। এরপর অনুসন্ধান করে কৃষকের কথা সত্য প্রমাণিত হলো এবং দোকানদার সবার সামনে লজ্জিত হলো । গল্পের শিক্ষা: যেমন কর্ম তেমন ফল । আরও পড়ুন: গোপাল ভাঁড়ের গল্প - 10টি সেরা হাসির গল্প 7. সমান মূল্যায়ন আবশ্যক - Never Judge A Book by Its Cover গল্পটি অনেকদিন আগের আমেরিকার এক বিকেলের, যখন আইসক্রিম সান্ডের দাম অনেক কম ছিল একটি ১০ বছরের ছেলে একটি হোটেলের আইসক্রিম কর্ণারে ঢুকে একটি টেবিলে বসল। একজন ওয়েটার তার কাছে অর্ডার নিতে আসলো। ছেলেটি তার কাছে জানতে চাইলো- “একটি আইসক্রিম স্যান্ডির দাম কত? ” ওয়েটার উত্তর দিল, “৫০ সেন্ট,”। ছোট ছেলেটি তার পকেট থেকে কতগুলো কয়েন বের করে গুনতে শুরু করলো। তারপর জিজ্ঞাসা করলো, “একটি সাধারণ আইসক্রিমের দাম কত? ” হোটেলে আসা কিছু গেস্ট তখন টেবিলের জন্য অপেক্ষা করছিল এবং একারনে ওয়েটার কিছুটা তারাহুড়ো করছিল, কারন তাদের থেকে যত্নের সাথে অর্ডার নিলে সে হয়তো কিছু টিপ পেতে পারে। সে বিরক্তিরস্বরে বলল- “৩৫ সেন্ট” । ছোট ছেলেটি আবার কয়েনগুলো গুনে নিল। এবং বললো “আমি সাধারণ আইসক্রিমই নেব”। ওয়েটার আইসক্রিম নিয়ে এল, এবং টেবিলে বিলটা রেখে তাকে কিছু না বলেই চলে গেল। ছেলেটি আইসক্রিমটি খেয়ে, ক্যাশিয়ারকে টাকা দিয়ে চলে গেল। ওয়েটার লোকটি যখন ফিরে এলে, সে টেবিলটি মুছতে শুরু করে এবং তারপর যা দেখলো তাতে তার চোখে জল আসলো। সেখানে, খালি প্লেটেরর পাশে সুন্দরভাবে রাখা ছিল, ১৫ সেন্ট – তার টিপ। সমান মূল্যায়ন আবশ্যক থেকে শিক্ষা: কাউকে উপরের রুপ দেখে অবহেলা করা উচিত নয়। 8. পূর্ণ চেষ্টা সাফল্য আনে - Always Try Your Best একবার দুই বন্ধু রাজু এবং সাজু গ্রাম থেকে দূরে খেলতে এসেছে। রাজুরর বয়স ৫ এবং সাজুর বয়স ৭ বছর। তারা একটি পুরোনো কূপের পাশে খেলছিল। এমন সময় সাত বছর বয়সী সাজু খেলতে খেলতে কূপে পরে যায়৷ এবং পাচ বছর বয়সী রাজু তাকে কূপ থেকে পানি ওঠানোর জন্য যে বালতি ও দড়ি ব্যাবহার করা হয় সেটি দিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করতে লাগল ।... --- > মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে ফলে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ার জন্য নীতি শিক্ষার গল্প উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর ক্ষেত্রে ভাল গল্পের সত্যই বিকল্প নেই। - Published: 2024-10-10 - Modified: 2025-01-25 - URL: https://www.sabjanta.info/top-5-moral-stories-in-bengali-for-children/ সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তালমিলিয়ে কর্মব্যস্ততা মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে ফলে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ার জন্য নীতিশিক্ষা উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর ক্ষেত্রে ভাল গল্পের সত্যই বিকল্প নেই। এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই প্রচেষ্টা। এগুলি উপস্থাপনায় যদি কারোর এতটুকুও উপকার হয় তবে এই প্রচেষ্টা সার্থক বলে মনে করব। মূর্খ যখন বিত্তবান হয় - একটি নীতি শিক্ষার গল্প মূর্খ যখন বিত্তবান হয়:- একদা একটি ইঁদুর খাবার খুঁজতে খুঁজতে রাজার ঘরে প্রবেশ করে, কোন খাবার না পেয়ে একটি হীরার টুকরো গিলে ফেলল। হীরার টুকরো চুরি হওয়ার কারণে রাজ প্রাসাদে সবার ঘুম হারাম হয়ে গেল! রাজা মশাই জ্যোতিষীকে ডাকলেন। জ্যোতিষী বলে, "হীরার টুকরো ইঁদুরে খেয়ে ফেলছে।" সেনাপতি রাজার হীরা উদ্ধারের জন্য রাজ্যময় পুরস্কার ঘোষণা করলো। একজন শিকারীকে ইঁদুর মেরে হীরা উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হলো। শিকারী যখন ইঁদুর মারতে ইঁদুরের বাসস্থানে প্রবেশ করে তখন দেখতে পেলো, শত শত ইঁদুর একে অন্যের সাথে দল বেধে রয়েছে। আর একটা মাত্র ইঁদুর সবার থেকে আলাদা এক জায়গায় একটি ইটের ওপর যেন সিংহাসনে বসে আছে। শিকারী তখন ওই ইঁদুরটাকে ধরে তার পেট চিরে হীরার টুকরো বের করে সেটা রাজার হাতে তুলে দিলো। রাজা মশাই অনেক খুশি হয়ে শিকারীকে তার প্রাপ্য পুরস্কার দিয়ে দিলেন। রাজা শিকারীকে জিজ্ঞেস করলেন, "হাজারো ইঁদুরের মধ্যে তুমি কিভাবে বুঝলে যে ওই ইঁদুরটাই হীরা চুরি করেছে"? শিকারী জবাবে বলল "এটা খুবই সহজ মহারাজ! মূর্খ যখন হঠাৎ বিত্তবান হয়ে যায় তখন নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা মনে করে, নিজের জাতির সঙ্গে চলাফেরা ও মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। এই মূর্খ ইঁদুরটাও তাই করেছিলো। হীরা চুরি করে নিজেকে সবচেয়ে ধনী এবং ইঁদুরদের রাজা ঘোষণা করে আলাদা ভাবে বসে ছিল ।" নীতিকথা: হঠাৎ অর্থাগমে, স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব ভুলে গেলে ধ্বংস খুব নিকটে চলে আসে। আরও পড়ুন: মোল্লা নাসিরুদ্দিন বা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প বিপদ যখন দরজায় ধাক্কা দেয় - নীতি শিক্ষার গল্প বিপদ যখন দরজায় ধাক্কা দেয়:- গল্পটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় কিভাবে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা আলাদাভাবে বিপত্তির মোকাবিলা করে। এক বাবা একটি ডিম, একটি আলু, এবং কিছু চা পাতা তিনটি পৃথক পাত্রের মধ্যে ফুটন্ত জলে রেখেছিলেন। তিনি তার ছেলে কে দশ মিনিটের জন্য পাত্রগুলির উপর নজর রাখতে বলেছিলেন ও এই দশ মিনিট শেষে তিনি ছেলেকে আলুর খোসা ছাড়াতে, ডিমের খোসা ছাড়াতে এবং চা পাতাগুলো ছেঁকে নিতে বললেন। ছেলেটি অবাক হয়ে গেল! তার বাবা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে জিনিসগুলি প্রত্যেকটিই উষ্ণ জলের পাত্রের মধ্যে একই অবস্থায় রাখা হয়েছিল কিন্তু তারা কিভাবে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করেছে সেটাই লক্ষণীয়। আলু যখন নরম, ডিম তখন কঠিন আবার চা জলকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে। প্রত্যেক মানুষই এই দ্রব্যগুলোর মত, ভিন্ন ভিন্ন । যখন বিপত্তি আসে, আমরা ঠিক আমাদের মতো করেই প্রতিক্রিয়া জানাই। নীতিকথা: কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে প্রতিক্রিয়া করব সেটা আমরাই বেছে নিতে পারি। সিংহ ও ইঁদুর - বহুল প্রচলিত একটি নীতি শিক্ষার গল্প সিংহ ও ইঁদুর:- একদিন এক সিংহ তার গুহায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় একটি ছোট ইঁদুর ছোটাছুটি করতে করতে সিংহের নাকের এক ছিদ্রে ঢুকে পড়েছিল। সিংহের ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে সে রেগে গিয়ে ইঁদুরটিকে থাবা দিয়ে মেরে ফেলতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু ইঁদুরটি অত্যন্ত বিনয়ী সুরে সিংহের কাছে প্রার্থনা করেছিল তাকে না মেরে ফেলার। ইঁদুরটি এও বলেছিল যে সময় হলে সেও সিংহের উপকারে আসতে পারে। ইঁদুরের মতো এত ছোট জীব, সিংহের মতো এত বিশাল জন্তুকে কীভাবে রক্ষা করবে সে কথা ভেবে সিংহের হাসি পেল আর দয়াপরবশ হয়ে সিংহ ইঁদুরটিকে ছেড়ে দিল। এর কিছুদিন পরে সেই সিংহটি একদিন একটি দড়ির শক্ত ফাঁদে আটকে পড়ল । ফাঁদে পড়ে যাওয়া সিংহটির গর্জন শুনে ছোট্ট ইঁদুরটি ছুটে চলে এসে সিংহর দুরবস্থার সম্মুখীন হল। ছোট্ট ইঁদুরটি তার ধারালো দাঁত দিয়ে ফাঁদের দড়িটি কাটতে শুরু করল এবং এভাবে অবশেষে সে সিংহকে ফাঁদ থেকে মুক্তি দিল। মুক্তি পেয়ে সিংহটি ইঁদুরকে অনেক ধন্যবাদ জানাল আর সেই সঙ্গে বলল যে ,”তোকে আমি অবজ্ঞা করেছিলাম একসময়। কিন্তু আজ বুঝলাম ,কাউকে ছোট করতে নেই ।” নীতিকথা: সময়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বন্ধু প্রাণ বাঁচাতেও পারে। আরও পড়ুন: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূতের গল্প খরগোশ ও কচ্ছপ - চিরন্তন নীতি শিক্ষামূলক গল্প খরগোশ ও কচ্ছপ:- খরগোশ কি জোরেই ছোটে, যেন বাতাসের আগে উড়ে চলে, আর কচ্ছপ চলে আসতে আসতে হেলেদুলে। কচ্ছপের ঐ রকম হাঁটা দেখে এক খরগোশ একদিন হেসে লুটোপুটিঃ কি হাঁটাই শিখেছ, দাদা! --এত টিটকারি কিসের, এস না পাল্লা দিই! —পাল্লা? হাসালে, বেশ, বলো কোথায়, কতদূর যাওয়ার পাল্লা? কখন শুরু হবে? কচ্ছপ বললে, এখনই। ঐ যে অনেক দূরে নদীর ধারে একটা বটগাছ দেখা যাচ্ছে, এস দেখি ঐখানে কে আগে যেতে পারে! বলার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা শুরু হয়ে গেল ; খরগোশ একটু দৌড়েই পিছনে তাকিয়ে দেখে কচ্ছপ অনেক পিছে পড়ে আছে। ভীষণ রোদ্দুর। পাশেই গাছের নীচে একটা ঝোপ দেখে ভাবলে এই ছায়ায় কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়া যাক। পরে যখনই যাই ওর আগে পৌছতে পারব। এই ভেবে খরগোশ সেই গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ল । কচ্ছপ কিন্তু রোদ্দুর-টদ্দুর গ্রাহ্য না করে ধীরগতিতে একটুও না থেমে চলতে লাগল। বেলা পড়ে এলে খরগোশের ঘুম ভাঙল। সে তখন আশেপাশে তাকিয়ে কচ্ছপকে না দেখতে পেয়ে ছুটল নদীর তীরের সেই বট গাছের দিকে। সেখানে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দেখল কচ্ছপ তার আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছে । নীতিকথা: ধীর ও স্থির ব্যক্তিরাই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে। শিয়াল ও আঙুর ফল - প্রবাদপ্রতিম নীতিশিক্ষার গল্প শিয়াল ও আঙুর ফল:- তিন দিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হওয়ার কারণে একটি শিয়াল খাবারের খোঁজে কোথাও বেরোতে পারেনি। খিদের জ্বালায় থাকতে না পেরে শিয়ালটি বনের মধ্যে খাবারের সন্ধানে ঘুরতে লাগল । হঠাৎ একটি ঝোপের দিকে তার নজর পড়ল।সে দেখল ঝোপের পাশে একটি আঙুরগাছ এবং অনেক পাকা আঙুরের থোকা ঝুলছে সেখানে। খিদের জ্বালায় সেই আঙুর খেয়েই পেট ভরাবে বলে শেয়ালটি মনস্থির করল। কিন্তু গাছের এত উপরে থাকা আঙুরের থোকা গুলির সে কীভাবে নাগাল পাবে সেই নিয়ে ভাবতে শুরু করল । কিন্তু শিয়ালটি তার কোনও উপায়ই বার করতে পারল না। অবশেষে বিফল মনোরথ হয়ে সে সেই স্থান পরিত্যাগ করল । ফেরার পথে সে বলতে লাগল -“আঙুর ফল টক; ওই আঙুর আমি খেতেও পারতাম না আর খেলেও আমার পেট ভরত না” নীতিকথা: নিজের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য পরনিন্দা করা অনুচিত। --- > ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক। পিঁপড়ে শ্রেণীভুক্ত হয়েও ডেঞে পিঁপড়েরা আকারগত ভিন্ন হওয়ায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব চিন্তার কৌতুক - Published: 2024-10-09 - Modified: 2024-10-09 - URL: https://www.sabjanta.info/%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%9e%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%81%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b0%e0%a6%ac/ দেখো দেখো, পিঁপড়ে দেখো! খুদে খুদে রাঙা রাঙা সরু সরু সব আনাগোনা করছে–ওরা সব পিঁপড়ে, যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলে পিপীলিকা। আমি হচ্ছি ডেঞে, সমুচ্চ ডাঁইবংশসম্ভূত, ঐ পিঁপড়েগুলোকে দেখলে আমার অত্যন্ত হাসি আসে। Picture credit: antshq. co. uk ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ব্যঙ্গ-কৌতুক। পিঁপড়ে শ্রেণীভুক্ত হয়েও ডেঞে পিঁপড়েরা আকারগত ভিন্ন হওয়ায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব চিন্তার উপর একটি কৌতুক রচনা। ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখো দেখো, পিঁপড়ে দেখো! খুদে খুদে রাঙা রাঙা সরু সরু সব আনাগোনা করছে–ওরা সব পিঁপড়ে, যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলে পিপীলিকা। আমি হচ্ছি ডেঞে, সমুচ্চ ডাঁইবংশসম্ভূত, ঐ পিঁপড়েগুলোকে দেখলে আমার অত্যন্ত হাসি আসে। হা হা হা, রকম দেখো, চলছে দেখো, যেন ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে গেছে ; আমি যখন দাঁড়াই তখন আমার মাথা আকাশে ঠেকে! সূর্য যদি মিছরির টুকরো হ ' ত আমার মনে হয় আমি দাঁড়া বাড়িয়ে ভেঙে ভেঙে এনে আমার বাসায় জমিয়ে রাখতে পারতুম। উঃ, আমি এত বড়ো একটা খড় এতখানি রাস্তা টেনে এনেছি, আর ওরা দেখো কী করছে–একটা মরা ফড়িং নিয়ে তিন জনে মিলে টানাটানি করছে। আমাদের মধ্যে এত ভয়ানক তফাত! সত্যি বলছি, আমার দেখতে ভারি মজা লাগে। আমার পা দেখো আর ওদের পা দেখো! যতদূর চেয়ে দেখি আমার পায়ের আর অন্ত দেখি নে, এতোবড়ো পা! পদমর্যাদা এর চেয়ে আর কী আশা করা যেতে পারে! কিন্তু পিঁপড়েরা আমাদের খুদে খুদে পা নিয়েই সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট আছে। দেখে আশ্চর্য বোধ হয়। হাজার হোক, পিঁপড়ে কিনা। ওরা একে ক্ষুদ্র, তাতে আবার আমি বিস্তর উঁচু থেকে দেখি–ওদের সবটা আমার নজরে আসে না। কিন্তু আমি আমার অতি দীর্ঘ ছ পায়ের উপরে দাঁড়িয়ে কটাক্ষে দৃকপাত করে আন্দাজে ওদের আগাগোড়াই বুঝে নিয়েছি। কারণ, পিঁপড়ে এত ক্ষুদ্র যে ওদের দেখে ফেলতে অধিক ক্ষণ লাগে না। পিঁপড়ে-জাতি সম্বন্ধে আমি ডাঁই ভাষায় একটা কেতাব লিখিব এবং বক্তৃতাও দেব। আরও পড়ুন: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "মাতৃভাষা এবং সাহিত্য" পিঁপড়ে-সমাজ সম্বন্ধে আমার বিস্তর অনুমানলব্ধ আছে। ডেঞেদের সন্তানস্নেহ আছে, অতএব পিঁপড়েদের তা কখনোই থাকতে পারে না ; কারণ, তারা পিঁপড়ে, কেবলমাত্র পিঁপড়ে, পিঁপড়ে ব্যতীত আর কিছুই নয়। শোনা যায় পিঁপড়েরা মাটিতে বাসা বানাতে পারে ; স্পষ্টই বোধ হচ্ছে তারা ডেঞে জাতির কাছ থেকে স্থপতিবিদ্যা শিক্ষা করছে–কারণ, তারা পিঁপড়ে, সামান্য পিঁপড়ে, সংস্কৃত ভাষায় যাকে বলে পিপীলিকা। পিঁপড়েদের দেখে আমার অত্যন্ত মায়া হয়, ওদের উপকার করবার প্রবৃত্তি আমার অত্যন্ত বলবতী হয়ে ওঠে। এমন-কি, আমার ইচ্ছা করে, সভ্য ডেঞে-সমাজ কিছুদিনের জন্য ছেড়ে, দলকে-দল ডেঞে-ভ্রাতৃবৃন্দকে নিয়ে পিঁপড়েদের বাসার মধ্যে বাসস্থাপন করি এবং পিঁপড়ে-সংস্কারকার্যে ব্রতী হই–এতদূর পর্যন্ত ত্যাগস্বীকার করতে আমি প্রস্তুত আছি। তাদের শর্করকণা গলাধঃকরণ করে এবং তাদের বিবরের মধ্যে হাত পা ছড়িয়ে কোনোক্রমে আমরা জীবনযাপন করতে রাজি আছি, যদি এতেও তারা কিছুমাত্র উন্নত হয়। তারা উন্নতি চায় না–তারা নিজের শর্করা নিজে খেতে এবং নিজের বিবরে নিজে বাস করতে চায়, তার কারণ তারা পিঁপড়ে, নিতান্তই পিঁপড়ে। কিন্তু আমরা যখন ডেঞে তখন আমরা তাদের উন্নতি দেবই, এবং তাদের শর্করা আমরা খাব ও তাদের বিবরে আমরা বাস করব–আমরা এবং আমাদের ভাইপো, ভাগ্নে, ভাইঝি ও শ্যালকবৃন্দ। যদি জিজ্ঞাসা কর তাদের শর্করা আমরা কেন খাব এবং তাদের বিবরে কেন বাস করব তবে তার প্রধান কারণ এই দেখাতে পারি যে, তারা পিঁপড়ে এবং আমরা ডেঞে! দ্বিতীয়, আমরা নিঃস্বার্থভাবে পিঁপড়েদের উন্নতিসাধনে ব্রতী হয়েছি, অতএব আমরা তাদের শর্করা খাব এবং বিবরেও বাস করব। তৃতীয়, আমাদের প্রিয় ডাঁইভূমি ত্যাগ করে আসতে হবে, সেইজন্য, সেই দুঃখ নিবারণের জন্য, শর্করা কিছু অধিক পরিমাণে খাওয়া আবশ্যক। চতুর্থ, বিদেশে বিজাতির মধ্যে বিচরণ করতে হবে, নানা রোগ হতে পারে–তা হলে বোধ করি আমরা বেশি দিন বাঁচব না–হায়, আমাদের কী শোচনীয় অবস্থা! অতএব শর্করা খেতেই হবে এবং বিবরেও যতটা স্থান আছে সমস্ত আমরা এবং আমাদের শ্যালকেরা মিলে ভাগাভাগি করে নেব। আরও পড়ুন: অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক ১০ টি বাছাই করা গল্প পিঁপড়েরা যদি আপত্তি করে তবে তাদের বলব, অকৃতজ্ঞ! যদি তারা শর্করা খেতে এবং বিবরে স্থান পেতে চায় তবে ডাঁই ভাষায় তাদের স্পষ্ট বলব, তোমরা পিঁপড়ে, ক্ষুদ্র, তোমরা পিপীলিকা। এর চেয়ে আর প্রবল যুক্তি কী আছে! তবে পিঁপড়েরা খাবে কী! তা জানি নে। হয়তো আহার এবং বাসস্থানের অকুলান হতেও পারে, কিন্তু এটা তাদের ধৈর্য ধরে বিবেচনা করা উচিত যে, আমাদের দীর্ঘপদস্পর্শে ক্রমে তাদের পদবৃদ্ধি হবার সম্ভাবনা আছে। শৃঙ্খলা এবং শান্তির কিছুমাত্র অভাব থাকবে না। তারা ক্রমিক উন্নতি লাভ করুক এবং আমরা ক্রমিক শর্করা খাই, এমনি একটা বন্দোবস্ত থাকলে তবেই শৃঙ্খলা এবং শান্তি রক্ষা হবে, না হলে তুমুল বিবাদের আটক কী? – মাথায় গুরুভার পড়লে এতই বিবেচনা করে চলতে হয়। শর্করাভাবে এবং অতিরিক্ত শান্তি ও শৃঙ্খলার ভারে যদি পিঁপড়ে জাতি মারা পড়ে? তা হলে আমরা অন্যত্র উন্নতি প্রচার করতে যাব–কারণ, আমরা ডেঞে জাতি, উচ্চ পদের প্রভাবে অত্যন্ত উন্নত। সমাপ্ত: ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরও একটি ব্যঙ্গ-কৌতুক প্রবন্ধ প্রাচীন দেবতার নূতন বিপদ --- > একগুঁয়ে শিকারী গল্পটি শেখায় যে একটি ভুল জিনিসের প্রতি একগুঁয়ে থাকা উচিৎ নয়। অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রাণী হত্যা একটি পাপ এবং সেই পাপের শাস্তি সর্বদা। - Published: 2024-10-07 - Modified: 2024-10-07 - URL: https://www.sabjanta.info/ekguen-shikari-the-stuborn-hunter/ এক সময় বিভিন্ন ধরনের পশুপাখিতে ভরা একটি বন ছিল। সেখানে তারা সবাই একসাথে সুখে থাকত। কিন্তু একসময় পাশের গ্রামের এক শিকারী বনের অনেক প্রাণী শিকার করে মেরে ফেলতে শুরু করে। সে খরগোশ শিকার করতে পছন্দ করত কারণ সে খরগোশের চামড়া দিয়ে তৈরি পশমী পোশাক পরতে ভালোবাসত । বনের পশুরা তার ভয়ে থাকত। শিকারীর অন্যসব বন্ধুরাও তাকে বনের প্রাণী, বিশেষ করে খরগোশ, শিকার না করার পরামর্শ দিত কিন্তু একগুঁয়ে শিকারী তাদের কথা কানেও নিত না। শিকারী তাদের দিকে চিৎকার করে বলত, 'তোমাদের পরামর্শের কোনও দরকার নেই, তোমরা নিজের কাজ কর।' এক শীতের বিকেলে, শিকারী তার শিকারের সরঞ্জামগুলি, যেমন জাল, ছুরি, বর্শা, দড়ি, তীর এবং ধনুক সাজিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক ঋষি তাকে দেখে থেমে গেলেন। তিনি শিকারীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'এগুলো দিয়ে তুমি কী করবে? ' শিকারী উত্তর দিল, 'আমি খরগোশ শিকার করব এবং তার পশম থেকে ঝলমলে পোশাক তৈরি করব।' ঋষি শিকারীকে বললেন যে নিরীহ প্রাণী হত্যা করা পাপ এবং তার শিকার বন্ধ করা উচিত নয়তো তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। শিকারী খুব রেগে গেল এবং বলল, 'আমি শিকার করব এবং কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না। আমাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।' এই বলে শিকারী বনের পথে চলে গেল এবং ঋষি সেখানে বসে ধ্যান করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আরও পড়ুন: গোপাল ভাঁড়ের 10টি সেরা হাসির গল্প কিছুক্ষণ পরে, শিকারী তার হাতে একটি খরগোশ নিয়ে ফিরে এল আর ধ্যানরত ঋষিকে বলল, 'দেখ! আমি একটা খরগোশ নিয়ে এসেছি। এখন আমি এটিকে মেরে এর ছাল ছাড়াব। দেখি কে আমাকে শাস্তি দিতে সাহস করে।' শিকারী যেই খরগোশটিকে মারতে যাবে ঠিক তখনই তার হাত থেকে ছুরিটা ফস্কে গিয়ে তার পায়ে পড়ল । আর শিকারী ব্যাথায় চিৎকার করে উঠল এবং খরগোশটি পালিয়ে গেল । শিকারীর পা থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। তার নিজের ভুল বুঝতে পারল যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তাকে তার পাপের জন্য শাস্তি দিয়েছেন। শিকারী ঋষির কাছে ক্ষমা চাইল আর তারপর থেকে শিকার ছেড়ে দিল। সেই বেক্তি তারপর থেকে পশুদের খাওয়ানো এবং যত্ন নেওয়া শুরু করেছিল। সে সবার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলত এবং তাদের সাথে সদয় ব্যবহার করত।' একগুঁয়ে শিকারী গল্প থেকে কি শিখলাম আমরা শিখলাম: একটি ভুল জিনিসের প্রতি একগুঁয়ে হওয়া উচিৎ নয়। শিকারীকে তার একগুঁয়েমির জন্য ভুগতে হয়। আমরা আরও শিখেছি যে অপ্রয়োজনে প্রাণী হত্যা একটি পাপ এবং সেই পাপের শাস্তি সর্বদা পেতে হয়। সমস্ত মানুষের সাথে সদয় আচরণ করা এবং ভদ্র হওয়া হল ভাল গুণ যা আমাদের সকলেরই থাকা উচিত। --- > ধনেপাতার বড়া তাজা ধনেপাতার সুগন্ধে ভরপুর ও স্বাদে অপূর্ব একটি তেলেভাজা যা সারা ভারতে সমান জনপ্রিয়। এটি দিনের যেকোনো সময় খাওয়া যায়। - Published: 2024-10-04 - Modified: 2024-10-04 - URL: https://www.sabjanta.info/dhone-patar-bora-corriander-fitters-recipe/ ধনেপাতার বড়া সারা ভারত জুড়ে একটি জনপ্রিয় খাবার। এই মুচমুচে সোনালি ভাজাগুলি সতেজ ধনেপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়, তাই খাবারে একটি দুর্দান্ত সুগন্ধ এবং স্বাদ যোগ করে। বাঙালিরা স্বভাবতই তেলে ভাজা খুব পছন্দ করে এবং এই ধনে পাতার বড়া আমাদের সবার পছন্দের একটি খাবার। দিনের যেকোন সময় এই বড়া উপভোগ করা যেতে পারে, চায়ের সাথে বা সাইড ডিশ হিসেবে। এগুলি তৈরি করা সহজ এবং খুবই সুস্বাদু। আপনি এটি গরম বা ঠাণ্ডা এবং যেকোনো সময় পরিবেশন করতে পারেন। এটি খেতে আপনার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। সুতরাং, সমস্ত উপাদান সংগ্রহ করুন এবং রান্না শুরু করুন। আরও পড়ুন: দুরন্ত স্বাদের পেয়াজ পোস্ত রান্নার রেসিপি ধনেপাতার বড়া তৈরির উপকরণ ও পদ্ধতি: Corriander Fitters Recipe সরঞ্জাম ১ কড়াই ১ ইনডাকশন কুকটপ উপকরণ ৩ কাপ ধনেপাতা কুচি করা ২ টেবিল চামচ বেসন ২ টেবিল চামচ চাল গুড়ি ১ পেঁয়াজ মাঝারি ৪-৫ কাঁচা লঙ্কা বা তাপ সহনশীলতা অনুযায়ী ১ চা চামচ কালোজিরা ১ চা চামচ পোস্ত ঐচ্ছিক ০. ৫ চা চামচ হলুদ গুঁড়া ১ চিমটি বেকিং সোডা লবন স্বাদ অনুযায়ী জল রিফাইন তেল কালো লবণ গর্ণিশ করার জন্য গোল মরিচ গুঁড়া গার্নিশ করার জন্য আরও পড়ুন: সুস্বাদু চালে-ডালের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি প্রণালী ধনে পাতা কুচি করে নিন: প্রথমে ধনেপাতাগুলি ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর ছোট করে কেটে আলাদা করে রাখুন। কাঁচা লঙ্কা গুলি ভালো করে কেটে নিন। এরপর পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে মাঝখান থেকে কেটে নিন। তারপর ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। ধনেপাতার বড়া প্রস্তুত করুন: এখন, একটি বড় মিশ্রণ বাটি নিন এবং কাটা ধনে পাতা এবং পেঁয়াজ তাতে দিয়ে দিন। এর পর বেসন, চালের আটা, কালো জিরা, পোস্ত (ঐচ্ছিক), হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো লবণ এবং সূক্ষ্মভাবে কাটা কালোজিরা তাতে দিয়ে দিন। সমস্ত উপাদান মিশ্রিত করুন এবং তারপর অল্প পরিমাণে জল যোগ করা শুরু করুন। আঠালো এবং ঘন সামঞ্জস্য না পাওয়া পর্যন্ত মেশতে থাকুন। নিশ্চিত করুন যে এটি খুব জলযুক্ত না হয়। এখন, এক চিমটি বেকিং সোডা যোগ করুন এবং মেশাতে থাকুন। একবার স্বাদ পরীক্ষা করুন, এবং প্রয়োজন হলে লবণ দিয়ে দিন। ধনেপাতার বড়া ভাজুন: এর পরে, একটি ডিপ-ফ্রাইং প্যান বা একটি কড়াই নিন। এর মধ্যে কিছুটা রিফাইন তেল ঢালুন এবং এটি একটু ধোঁয়া না ছাড়া পর্যন্ত গরম হতে দিন। আপনার আঙ্গুলগুলি ব্যবহার করে মিশ্রণের ছোট অংশ নিন এবং তেলে আলতো করে ছেড়ে দিন। আঁচ মাঝারি রাখুন এবং সোনালি বাদামী রঙ হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাল রান্নার জন্য মাঝে মাঝে নাড়ুন এবং চারদিকে ঘুরিয়ে দিন। এগুলিকে ব্যাচে ভাজুন এবং একটি রান্নাঘরের টিস্যু-আচ্ছাদিত প্লেটে স্থানান্তর করুন। এতে অতিরিক্ত তেল ঝরে যাবে। গার্নিশ একটু কালো লবণ এবং গোল মরিচ ছিটিয়ে ধনে পাতার বড়া গার্নিশ করুন। --- > 10 টি অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক গল্প উপস্থাপন করা হল যেগুলো আমরা হয়তো অনেকেই জানি। নতুন করে গল্পগুলো স্মরণ করে যদি কারোর উপকার হয়। - Published: 2024-10-02 - Modified: 2024-10-02 - URL: https://www.sabjanta.info/10-inspiring-and-motivational-stories-in-bengali/ 10 টি অনুপ্রেরণামূলক বা শিক্ষামূলক গল্প উপস্থাপন করা হল যেগুলো আমরা হয়তো অনেকেই জানি। নতুন করে গল্পগুলো স্মরণ করে যদি কারোর উপকার হয় তাহলে এই প্রচেষ্টা সার্থক বলে মনে করব। অন্যায়ের প্রশ্রয় - একটি শিক্ষামূলক গল্প একটি ছেলে ছিল। ছোট বেলাতেই সে তার মাকে হারিয়েছিল। ফলে সে তার মাসীর কাছেই বড় হচ্ছিল। তার মা নেই বলে কেউ তাকে কখনও বকাঝকা করতো না। মাসী তাকে খুবই আদর করত। একদিন ছেলেটি স্কুলের এক সহপাঠীর পেন্সিল চুরি করে এনে তার মাসীকে দেখাল, মাসী তাকে তিরস্কার না করে তার প্রশংসাই করল। ছেলেটি আর একবার তার কোনো বন্ধুর বাড়ি থেকে একটা ভাল জামা চুরি করে এনে তার মাসীকে দিল, মাসী তাকে আরও প্রশংসা করল। ছেলেটি এরপর ক্রমশ বড় হয়ে যৌবনে উপনীত হলে আরও বড় রকমের সব চুরি করতে শুরু করল। এমনি করতে করতে একদিন সে ধরা পড়ে গেল। তার চুরির বিচার হল আদালতে, তাতে তার প্রাণদণ্ডের আদেশ হল। বধ্য ভূমিতে নিয়ে যাওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কোনো সাধ আছে তোমার? কোনো ইচ্ছে থাকলে বলতে পার। এদিকে মাসী তার পুত্রবৎ ছেলেটির প্রাণদণ্ডের আদেশ শুনে বুক চাপড়ে কাঁদছিল ছেলেটি বধ্যভূমিতে যাবার আগে বলল – আমি আমার মাসীর কানে কানে কয়েকটি কথা বলতে চাই। এই অনুমতি মিলল । ফলে সে মাসীর কানের কাছে মুখ নিয়ে তার কানের লতি কামড়ে ছিঁড়ে দিল। তারপর বলল, মাসী, আজ তুমিই আমার প্রাণদণ্ডের কারণ। প্রথম থেকে আমার অন্যায়ের প্রশ্রয় না দিলে আজ আর আমাকে এইভাবে মরতে হোতো না । উপদেশ : ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দিতে হয়। নিজের বিশ্বাসে আস্থা রাখ - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প বিশাল এক পাহাড়ের উপরে এক ঈগল বাসা বানিয়েছিলো। ঈগলের বাসায় ছিলো তার চার চারটি ডিম। প্রতিদিন সকালে সে এগুলো রেখে খাবারের খোঁজে উড়ে যেত। একদিন ঈগল যখন বাসার বাইরে ছিলো তখন ভূমিকম্পে গোটা পাহাড় নড়ে উঠলো। এতে ঈগলের একটি ডিম বাসা থেকে ছিটকে পড়ে গেল। গড়াতে গড়াতে সেই ডিম এসে পড়লো পাহাড়ের নিচের এক মুরগীর বাসার উঠোনে । মুরগী সেই ডিমটিকে নিজের বাসায় নিয়ে এলো। অন্যান্য ডিমের সাথে রাখলো। যত্ন করে তা দিতে থাক... লো। একদিন সেই ডিম ফুটে ঈগলের একটি সুন্দর বাচ্চাও বের হলো। মুরগীর বাচ্চাদের সাথেই ঈগলের বাচ্চাটি বড় হয়ে উঠতে লাগলো। কিন্তু সে ভেতর থেকে যে সবসময় অন্য কিছু অনুভব করতো। আকাশে একদিন ঈগলের একটা ঝাঁককে উড়ে বেড়াতে দেখে সে মুরগীকে বললো, ইস, যদি আমিও তাদের মত উড়ে বেড়াতে পারতাম। মুরগী হেসে উত্তর দিলো, তুমি কিভাবে উড়বে? তুমি তো মুরগী এবং মুরগী কখনো উড়ে না। ঈগল মাঝে মাঝেই তার স্বগোত্রীয়দের উড়ে বেড়াতে দেখতো এবং স্বপ্ন দেখতো সেও তাদের মতই উড়ে বেড়াবে। কিন্তু প্রতিবার সে তার স্বপ্নের কথা জানালে মুরগী বলতো যে এটা একেবারেই অসম্ভব। মুরগীর এই কথাটিই ঈগল বিশ্বাস করতে শিখলো এবং তার জীবনটা বাকী মুরগীদের মতই কাটিয়ে দিলো। অনেক দিন এভাবে কাটানোর পর একদিন সে মারাও গেল। উপদেশ : তুমি যা বিশ্বাস করতে শেখো একদিন তুমি তাই হয়ে উঠবে। আরও পড়ুন: গোপাল ভাঁড়ের গল্প : 10টি সেরা হাসির গল্প ধৈর্যের ফল - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প গাছের কোটর একদা এক গ্রামে এক শিয়াল বাস করতো। কিছুদিন খাবার না পেয়ে পেয়ে শেয়ালের পেটটা এক্কেবারে চুপসে গেল। একদিন সে বাধ্য হয়ে খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। পথে যেতে যেতে হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটা ওক গাছের কোটরে বেশ কিছু রুটি আর মাংস রাখা আছে। রাখাল বালকদের কেউ হয়ত পরে খাবে বলে রেখে দিয়েছে। শেয়ালটা ঐ খাবার দেখেই কোটরের ভেতর ঢুকে পড়ল। আর গপ গপ করে খাবারগুলো সব চেটেপুটে খেয়ে নিল। ফলে তার চোসানো পেটটা হয়ে উঠল দারুণ মোটা। এবার সে আর কোটর থেকে বেরোতে পারল না। অনেক চেষ্টা করেও বেরোতে না পেরে সে কেঁউ কেঁউ করে কাঁদতে লাগল । পথ দিয়ে তখন আর একটা শেয়াল যাচ্ছিল। যেতে যেতে কোটরে আটকে পড়া শেয়ালকে কেঁউ কেঁউ করে কাঁদতে দেখে বলল – কি হল ভাই, তোমার? তুমি কেঁউ কেঁউ করছ কেন? কোটরে আটকে পড়া শেয়ালটা তখন তার মুশকিলের কথা তাকে খুলে বলল। তখন পথচারী শেয়ালটা বলল, ওঃ তাই বুঝি! তা একটু সবুর কর, পেট তোমার আবার আগেকার মত শুকনো হয়ে যাবে। তখন অনায়াসে তুমি ঐ কোটরে থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। উপদেশ : ধৈর্যের ফল ভাল হয় । নতি স্বীকার - একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প একদা এক বনে জলপাই গাছ আর নলখাগড়ার গাছ ছিল। একদিন ওদের মধ্যে খুব তর্ক শুরু হল। তর্কের বিষয় ছিল কার শক্তি এবং সহ্যগুণ বেশি তাই নিয়ে। জলপাই গাছ নলখাগড়াকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বলছিল—তুই আর মুখ নেড়ে কথা বলিস না। তোর গায়ের জোর আমার খুব জানা আছে। একটু বাতাস বইলেই তো তুই নুয়ে পড়িস। নলখাগড়া গাছ এ কথার কোনো জবাব দিল না। একটু পরেই উঠল প্রচণ্ড ঝড়। নলখাগড়া নুয়ে পড়ে পড়ে, ঝড়ের ঝাপটা এড়িয়ে যেতে লাগল। আর জলপাই গাছ দাঁড়িয়ে ঝড় রুখতে গিয়ে তার দাপটে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল । উপদেশ : শক্তিশালীর কাছে নতি স্বীকার দোষের নয় । আরও পড়ুন: নেতাজিও কলকাতায় অভিনব দুর্গা পূজা করেছিলেন অভিজ্ঞতা - অনুপ্রেরণামূলক গল্প একদা এক মাঠের পাশে একটা খাবার বাড়ি ছিল। খাবার বাড়ির সামনে একটা কুকুর ঘুমাচ্ছিল। তাকে ঐরকমভাবে ঘুমোতে দেখে পা টিপে টিপে এক নেকড়ে এগিয়ে এল তাকে ধরে খাওয়ার জন্য। কুকুরটা ততোক্ষণে জেগে গেছে। নেকড়েটা সবে তার গায়ে কামড় বসাতে যাচ্ছে এমন সময় কুকুরটা একলাফে তার থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বলল–শোন একটা ভাল কথা তোমাকে বলি । আমাকে এখন খেয়ে তোমার তেমন সুবিধে হবে না! আমি বড্ড রোগা হয়ে গেছি। পেটে বহু দিন ভালমন্দ পড়েনি। তাই আমাকে খেয়ে তোমার পেটও ভরবে না। আমার মালিকের বাড়িতে আজ মহাভোজ হবে, আর সেই ভোজের খাবার খেয়ে একটু মোটাসোটা হয়ে নিই আমি। তারপর এসে আমাকে খেও, তাতে মজা পাবে, পেটও বেশ ভরবে তোমার। কুকুরের এই কথা শুনে নেকড়ে তখন আর তাকে না খেয়ে চলে গেল। পরদিন কুকুরের ভোজ খাওয়া হয়ে গেছে ভেবে আবার সেই নেকড়ে এল। এসে দেখল কুকুরটা খামার বাড়ির ছাদের ওপর নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। সে তখন কুকুরটাকে ডেকে বলল – আমি এসে গেছি, এবার তুমি নেমে এস। আমাদের চুক্তিমত কাজ কর। কুকুরটা তখন হাসতে হাসতে বলল, নিচে মাটিতে ঘুমন্ত অবস্থায় যদি আমাকে আবার কোনোদিন খেতে আস তাহলে আমার ভোজ খাওয়া পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে যেও না । উপদেশ : বুদ্ধিমানেরা বিপদে পড়ে বুদ্ধির জোরে রক্ষা পায় । একমনে কাজ করতে হয় - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প একদা এক মাঠে একদল ভেড়া চরে বেড়াচ্ছিল। ভেড়ার পাল বিকেল হতেই বাড়ি ফেরার জন্যে এগিয়ে চলছিল। ভেড়ার পাল অনেকটা এগিয়ে গেল কিন্তু একটি ভেড়ার ছানা দলের অনেক পেছনে পড়ে গেল। একটা নেকড়ে বাঘ এই অবস্থায় ভেড়ার ছানাটিকে দেখতে পেয়ে নিঃশব্দে তার পিছু নিল। বাচ্চা ভেড়াটা নেকড়েটাকে দেখতে পেল। সে বলল – বুঝেছি তুমি আমাকে ধরে খেতে চাও, এই তো? কিন্তু একটা শর্ত আছে আমার। মরবার আগে আমি বাঁশির সুরের সঙ্গে নাচতে চাই। তাই আমার অনুরোধ, তুমি বাঁশি বাজাও আমি তালে তালে নাচি। তারপর— নেকড়ে ভেড়ার ছানার এই কথা শুনে বাঁশি বাজাতে লাগল আর তার সঙ্গে চললো বাচ্চা ভেড়াটার নাচ আর সেই বাজনা আর নাচের আওয়াজ শুনে সেখানে একদল মেষপালক কুকুর এসে জুটল। নেকড়েকে দেখেই তারা তার দিকে ধাওয়া করল। নেকড়ে ছুটতে ছুটতে কোনোমতে কুকুরদের হাত থেকে বাঁচল । তারপর অনেক দূরে যখন কুকুরদের নাগালের বাইরে চলে এল তখন এক জায়গায় বসে বিশ্রাম করতে করতে ভাবতে লাগল, খুব শিক্ষা হল আমার, কেমন বুন্ধুর মত আমি শিকার করতে এসে বাঁশি বাজাতে গেছিলাম। উপদেশ : একমনে কাজ করতে হয়, না করলে কাজ পণ্ড হয়। বিপদও হতে পারে। বিশ্বাস ঘাতকদের মরাই ভাল - নীতিশিক্ষামূলক গল্প এক ছিল পাখি শিকারী। পাখি শিকারীটির বাড়িতে একদিন এক অতিথি এল। অতিথিকে খেতে দেবার মত সেদিন পাখি শিকারীর বাড়িতে কোনো পাখি অবশিষ্ট ছিল না। সে তার পোষা তিতির পাখিটাকেই তাই জবাই করার জন্যে নিয়ে এল। তিতিরটা তখন তাকে তিরস্কার করে বলল – তুমি এত বড় নিমকহারাম আগে তা জানতাম না। এতদিন অন্যসব পাখিদের ভুলিয়ে ভালিয়ে তোমার ফাঁদে এনে ফেলতাম আর তুমি কি না আজ আমাকেই জবাই করতে যাচ্ছো? পাখি শিকারী লোকটি উত্তর দিল, এই জন্যে তো, মানে স্রেফ এই কারণেই তো তোমার শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তোমার জাত-ভাইদের ওপরেও তোমার কোনও মায়া-দয়া নেই । উপদেশ : নিমকহারামেরা সকলের কাছেই ঘৃণ্য হয় । নিজের দোষ অপরের ঘাড়ে চাপাতে গেলে - নীতিশিক্ষামূলক গল্প একদা এক দেশে এক ডাকাত ছিল। সে একবার একটা লোককে খুন করে ফেলল। আশেপাশের লোকেরা ডাকাতটাকে ধরতে গেলে সে ছুটে পালিয়ে গেল। পথে যে সব লোক ডাকাতটার সামনে পড়ল তারা যখন তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার হাতে ঐ লাল লাল দাগ কীসের? ডাকাতটি চপপট উত্তর দিল—ও, কিছু না! এইমাত্র আমি তুঁতগাছ থেকে নেমে এলাম কিনা তাই! যে লোকগুলো তার পিছু পিছু ধাওয়া করে আসছিল তারা ততোক্ষণে সেখানে পৌঁছে গেল। অতএব ডাকাতটা আর পালাতে পারল না। তারা তার দেহে একটা ধারাল গোঁজ পুঁতে | তাকে তুঁতগাছ ঝুলিয়ে দিল! তুঁতগাছটি তখন মৃত্যু পথযাত্রী ডাকাতকে বলল – তোমাকে মৃত্যু দণ্ড দিতে সাহায্য করার জন্যে আমার কিছুমাত্র আফসোস নেই, কারণ নিজে খুন করে হাতের রক্ত তুমি আমার গায়ের রক্ত হিসেবেই চালাতে চেয়েছিলে। উপদেশ : ভাল লোকের গায়ে কাদা ছিটোতে গেলে সেও তোমায় ছেড়ে কথা বলবে না। বুদ্ধিবল - একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প এক যে ছিল কুকুর। আর ছিল এক মোরগ। দুইজনের গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিল দুই বন্ধু একসঙ্গে দেশ ভ্রমণে বেরিয়েছিল। পথে যেতে যেতে রাত্রি হয়ে গেল। আর রাত হতেই তখন মোরগটা এক গাছের ওপরে একটা ভাল ডাল বেছে নিয়ে ঘুমোতে গেল। আর কুকুরটা? কুকুরটা রইল ঐ গাছেরই গোড়ায় এক বড়সড় গর্তে। দু’জনেই ঘুমিয়ে পড়ল। এদিকে ভোর হয়ে আসছে। মোরগ তার অভ্যাস মত কোঁকর কোঁক করে ডেকে উঠল। সেই ডাক শুনে এক খেঁকশিয়ালীর বড় লোভ হল। একটু দূরেই সে তার ছানাপোনা নিয়ে বাস করতো। মোরগের ডাক শুনে সে এগিয়ে এল সেই গাছের তলায়। তারপর খেঁকশিয়ালী গাছের ডালের দিকে চেয়ে মোরগকে মিষ্টি করে বলল, সত্যিই কি সুন্দর গলা তোমার, শুনে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে, নেমে এসো, আমি তোমায় আলিঙ্গন করি । এই কথা শুনে মোরগটিও মিষ্টি করে বলল, এই গাছের নিচে আমার দারোয়ান ঘুমোচ্ছে, তাকে আগে জাগাও, সে উঠে দরজা খুলে দিক, তখন আমি নিচে নামতে পারব। খেঁকশিয়ালী তখন কেবলই খুঁজছিল, কোথায় সেই দারোয়ান, কাকে দরোজা খোলার কথা বলতে হবে, অমনি কুকুর উঠে এক লাফে খেঁকশিয়ালীর ঘাড় চেপে ধরল। তারপর তাকে কামড়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। উপদেশ : দুর্বলেরা সবলের সাহায্য নিয়ে অতি সহজেই শত্রু দমন করতে পারে । কুকুর এক লাফে খেঁকশিয়ালীর ঘাড় চেপে ধরল মিথ্যা - একটি নীতিশিক্ষামূলক গল্প একদা এক গ্রামে দুটি ছেলে ছিল। ছেলে দু’টি একদিন মাংসের দোকানে মাংস কিনতে গেল। কসাই যেইনা তাদের দিকে পিছন ফিরেছে, অমনি ছেলে দু’টির একজন কিছুটা মাংস তুলে নিয়ে অপর ছেলেটির পকেটে পুরে দিল। কসাই মুখ ফিরে তার রাখা মাংস দেখতে না পেয়ে ছেলে দুটিকে ধরল—তোরা নিশ্চয়ই আমার মাংস চুরি করেছিস? – যে ছেলেটি মাংস তুলে নিয়েছিল সে শপথ করে বলল – আমার কাছে কোনো মাংস নেই। আর যা পকেটে মাংস ছিল, সেও শপথ করে বলল—আমি তোমার মাংস চুরি করিনি। কসাই তখন তাদের চালাকি ধরতে না পেরে বলল – বুঝেছি বাবা, বুঝেছি, এ চালাকি বা শপথ করে তোমরা আমাকে ঠকাতে পারলে বটে, কিন্তু দেবতাদের চোখে ধুলো দিতে পারবে না। উপদেশ : শপথ করে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না। --- > কুমোরটুলি সার্বজনীনে সুভাষচন্দ্র বসু সভাপতি থাকাকালীন আগুনে ঠাকুর নষ্ট হয়েগেলে পাঁচজন শিল্পীকে দিয়ে একেকটি মূর্তি এক রাতেই তৈরি করান পাঁচচালা - Published: 2024-09-30 - Modified: 2024-09-30 - URL: https://www.sabjanta.info/5-chala-durga-idol-by-netaji-at-kumartuli/ কুমোরটুলি সার্বজনীনে সুভাষচন্দ্র বসু সভাপতি থাকাকালীন পঞ্চমীর দিন আগুনে ঠাকুর নষ্ট হয়েগেলে পাঁচজন শিল্পীকে আলাদা ভাবে একেকটি মূর্তি এক রাতেই তৈরি করান আর এভাবে একচালা থেকে পাঁচচালার পূজা শুরু হয়। Picture credit: anandabazar. com জাতীয়তাবাদী ভাবধারার জন্য আপামর ভারতবাসীর হৃদয়ে গেঁথে রয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু৷ চিরকাল থাকবেনও ৷ কিন্তু জানেন কী সচেতনভাবেই দুর্গার সংসার ভেঙেছিলেন তিনি? এই সংসার অপু-দুর্গার নয়৷ দেবী দুর্গার ৷ ঠিকই পড়েছেন৷ বছর ঘুরে কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসা দুর্গার ঐক্যবদ্ধ সংসারকে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন নেতাজি ৷ তবে সংসার ভাঙার পেছনে রয়েছে অন্য গল্প৷ দুর্গাপূজোর গরিমা রক্ষা করতে বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু৷ আরও পড়ুন: কলাবউ আসলে কি? দুর্গাপুজোয় নবপত্রিকা স্নান কেন করানো হয় বাঙালির দুর্গাপূজোর গল্পে চমকের শেষ নেই ৷ এটাও তেমনই একটি৷ তবে গল্প হলেও এই ঘটনা আদ্যপান্ত সত্যি ৷ উত্তর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুজো কুমোরটুলি সার্বজনীন৷ কুমোরটুলির শিল্পীরা মিলেই এই পুজো শুরু করেন৷ পুজোর প্রথম সভাপতি ছিলেন স্যার হরিশংকর পাল ৷ সাতবছর পর কমিটির পক্ষ থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে পুজোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়৷ কিন্তু নেতাজির সাফ কথা, যেখানে ইংরেজের তাঁবেদারি হয় সেখানে তিনি কোনওভাবেই জড়াবেন না ৷ স্যার হরিশংকর পালের দিকেই যে তাঁর এই ইঙ্গিত ছিল সেটা বুঝতে কারোর বাকি ছিল না ৷ হরিশংকর পাল নিজেও বুঝেছিলেন নেতাজির কটাক্ষ৷ কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন তিনি৷ সেইবছরই অর্থাৎ ১৯৩৮ সালে কুমোরটুলি সার্বজনীনের নতুন সভাপতি হলেন সুভাষচন্দ্র বসু. . কিন্তু পঞ্চমীর দিনই ঘটে গেল মহাবিপত্তি ৷ মন্ডপে চলে এসেছে একচালার ঠাকুর(সেইসময় একচালার প্রতিমাই পুজো হত)৷ হঠাৎ বিকেলে মন্ডপে আগুন লেগে যায় ৷ মন্ডপ, প্রতিমা, সব পুড়ে ছাই৷ অথচ পরের দিনই বোধন৷ নেতাজি ছুটে গেলেন শিল্পী গোপেশ্বর পালের কাছে৷ বললেন, যেভাবেই হোক এক রাতের মধ্যে ঠাকুর তৈরি করে দিতেই হবে৷ সেকথা শুনে তো শিল্পী অবাক৷ তা কি করে সম্ভব? মুহূর্তের মধ্যে নেতাজি সিদ্ধান্ত নিলেন আলাদা আলাদা করে প্রতিমা গড়া হবে৷ আরও পড়ুন: প্রাচীন দেবতার নূতন বিপদ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোপেশ্বর পাল দুর্গা প্রতিমা গড়লেন৷ আর অন্যান্য শিল্পীরা গড়লেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ৷ একচালা ভেঙে তৈরি হল পাঁচ চালার ঠাকুর৷ এক রাতের মধ্যেই সব তৈরি৷ ষষ্ঠীর দিন মন্ডপে এল প্রথম পাঁচ চালার ঠাকুর ৷ যা সম্ভব হয়েছিল নেতাজির জন্যই. . পুজো কমিটির বহু পুরোনো এক সদস্য দেবাশিস ভট্টাচার্যের কথায়, সেবার একেই তো পাঁচ চালা আর তার উপর দেবীর জমকালো সাজসজ্জা দেখে পুরোহিত সমাজ বেঁকে বসেছিল৷ তারপর শিল্পীর সঙ্গে বহু আলোচনার পর মেলে পুজোর পুরোহিত৷ তবে এটাই শেষ প্রথা ভাঙা ছিল না৷ পরের বছর নেতাজি পুজো কমিটির সভাপতি থাকাকালীন কুমোরটুলি সার্বজনীনের দেবী দুর্গার গায়ে উঠেছিল সত্যিকারের বাঘের ছাল৷ নেতাজী মানেই যে অভিনবত্ব তা সবক্ষেত্রেই প্রমানিত সত্য. . © এক যে ছিলো নেতা (facebook page: apni. ki. janen2. 0 ) --- > রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার অন্যতম গোপাল ভাঁড়ের গল্প আজও সমান জনপ্রিয়। অসম্ভব বুদ্ধিমান গোপাল ও তাঁর মজার ও বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনি আজও সবার মুখে - Published: 2024-09-30 - Modified: 2024-09-30 - URL: https://www.sabjanta.info/10-best-story-of-gopal-bhar-vol-1/ গোপাল ভাঁড়ের গল্প এখনও আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মন কেড়ে নেয়। গোপাল ভাঁড় আজও আছেন। সময়ের হিসেবে সবই তো কুয়াশা ঢাকা। থেকে যায় কেবল লোকশ্রুতি। আর ইতিহাস কেবল রাজায় রাজায় যুদ্ধের কাহিনি বা সাম্রাজ্যবাদের হিসাব নয়। লোকের মুখে মুখে ঘুরতে থাকা আমাদের ফেলে আসা অতীত-মানুষের জীবনগাথাও। কিন্তু গোপাল ভাঁড় কি সত্যিই ছিলেন? তিনি কি রক্তমাংসের এক চরিত্র? নাকি নিছকই এক মিথ, যাঁকে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় স্থান করে দিয়েছে লোকশ্রুতি? কালে কালে গালগল্পে ভরে উঠেছে গোপালের কীর্তির ভাণ্ডার। যার ঝলকানি আজও সবার মনে । 10 টি বাছাই করা গোপাল ভাঁড়ের গল্প পরিবেশিত হল নিচে। শোনাযায় গোপাল ভাঁড় ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব বুদ্ধিমান ছিলেন । লোকমুখে তাঁর দুর্দান্ত সব মজার অথচ বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনি ছড়িয়ে পড়েছিল। আর তার জেরেই ক্রমে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় স্থান। যাইহোক, তাঁর নামে প্রচলিত বুদ্ধিদীপ্ত গল্পগুলি আজও আমাদের পথ দেখায়, সততা ও সত্যের পথে হাঁটতে শেখায়। এখানে প্রথম দফায় গোপাল ভাঁড়ের ১০ টি গল্প রাখলাম: হাসি যে আর ধরে না গোপাল গ্রামের এক মহাজনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। আজ দেব, কাল দেব বলে সে টাকা আর শোধ করতে পারেনি। সেই লোক গোপালকে একদিন হাটের মধ্যে পাকড়াও করে বললে, আমার টাকাগুলো দিয়ে দাও তো গোপাল, নইলে আজ আর তোমার ছাড়ব না। তোমাকে এত লোকের সামনে অপমান করব, দেখি তুমি কোথা যাও বাছাধন। মহাজনের দ্বারা অপমানিত হয়ে গোপাল বললে, টাকা কি দেব না বলছি? আপনার টাকা আগামী কালেই দিয়ে দেবো। পরশু সকালেই আমার বাড়িতে চলে আসুন। আমি টাকা শোধ করে দেব পরশুর মধ্যে সামান্য টাকার জন্য এত অপমান করার আপার দরকার ছিল না। আমি টাকা যেমন করে পারিশোধ করার ব্যবস্থা করবই। গোপালের কথা শুনে মহাজন মনে মনে ভাবলেন গোপাল যখন এত লোকের সামনে কথা ছিল তখন পরশু দিন যেভাবেই হোক টাকা পরিশোধ করবেই। এই ভেবে পরমু মহাজন গোপালের বাড়িতে গিয়ে হাজির হল। কই হে গোপাল টাকা দেবে বলেছিলে দাও, আমি ঠিক সময় মত এসেছি। মহাজনের ডাক শুনে গোপাল বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে বললে, কাকভোরে ছুটে এসেছেন, দয়া করে বাড়ির দাওয়ায় একটু বিশ্রাম করুন- আমি যত তাড়াতাড়ি পারি আপনার টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করছি। আপনি কষ্ট করে এসেছেন প্রাণের টানে তাতেই আমি কৃতার্থ। আমার বাড়ি আজ পবিত্র হল। মহাজন তো এখনই টাকা পাবে মনে ভেবে নিশ্চিত হয়ে গোপালের বাড়ির দাওয়ায় বসে হাটু দোলাতে রইল। কিছুক্ষণ পরে গোপাল আর গোপালের বড় ছেলে, সামনের খোলামেলা বেশ বড় বাগান ছিল, তাতে পাঁচ হাত অন্তর বেশ কয়েকটি নারকেল চারা পুতঁতে লাগল মনোযোগ সহকারে। তা দেখে মহাজন গোপালকে অস্থির হয়ে বললে, এ কি করছে গোপাল? আমার যে বেলা হয়ে যাচ্ছে। কাজকর্ম আছে যে। গদিতে যেতে হবে, সকালে উঠেই এসেছি জলখাবারও খাওয়া হয়নি। বাড়ীতে লোকজন আসবে, শীঘ্র কর। গোপাল নারকেলের চারা পুঁততে পুঁততে বললে দেখছেন, তো চারা পুঁতছি। একটু বসুন না। এখনি হয়ে যাবে পোতাঁ। আপনার টাকার ব্যবস্থা করে তবে আজ জলগ্রহণ করবো বলছি। এই দেখুন। করছি কিনা আপনি আর একটু বসে নিজে দেখুন। আপনি অপেক্ষা করুন, হলো বলে। বিশ্বাস না হয় উঠে এসে দেখুন। কাজ শেষ করে গোপাল কাছে এসে দাড়াঁতেই মহাজন জিজ্ঞেস করলে, সেই থেকে তো বসিয়ে রেখেছো- একটা তামাকও দিলে না, যাক্ কই টাকা দাও। আমার তাড়া আছে। গোপাল মুচকি হেসে বললে, এতক্ষণ ধরে তো আপনার টাকা শোধের ব্যবস্থাই করলুম মশায়। তার মানে তুমি তো এখন নারকেলের চারা পুতলে। আমার টাকার ব্যবস্থা করলে কি করে? গোপাল বললে, এই যে নারকেলের চারা পুতলাম তাতে নারকেল গাছ হবে এবং এতগুলো নাকেল গাছে যা ফল হবে তা তো আর কম নয়। দুবছরের নারকেলের টাকায় আপনার সব দায় দেনা শোধ হয়ে যাবেই। আপনাকে যখন কথা দিয়েছি আজই টাকা শোধের ব্যবস্থা করব, তাই ব্যবস্থা করে দিলাম। দুবছরের জন্য নারকেলের ইজরাও আপনাকে দিয়ে এলুম। আর ভাবছেন কেন, ধরুন আপনার টাকা বলতে গেলে নিশ্চিন্তে পেয়েই গেলেন সুদ সমেত। গোপালের কথা শুনে পাওনাদার হাসবে না কাঁদবে ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত বেচারা হেসেই ফেলল। গোপাল বললে, এখন টাকাটা নগদ পেয়ে গেলেন কি না তাই হাসি যে আর ধরে না যে দাদার। আরও পড়ুন : নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প গোপাল ভাঁড়ের আলু কেনা গোপাল একবার হাটে আলু কিনতে গিয়েছিল। পথেই দেখা হল এক বন্ধুর সাথে। রসিক বন্ধুটি গোপালের আলু কেনার কথা শুনে বলল, ভুমি যদি আলু বিনি পয়সায় কিনতে পার তবে দশ টাকা পুরষ্কার পাবে। গোপালকে বন্ধুটি রসিকতা করার লোভে একটু উসকে দিল। মনে করেছিল গোপাল পারবে না। গোপাল বন্ধুকে বললে, ও এই কথা? তুমি আমার সাথে হাটে চল দেখবে, দিব্যি বিনি পয়সায় আলু কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরব। কাউকেও কোনও পয়সা দেব না। তুমি সচক্ষে তা দেখে নিও । হাটে গিয়ে গোপাল প্রত্যেক আলু বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে ভাই, আমি যদি তোমার কাছে থেকে পাঁচ সের আলু কিনি, কটা আলু ফাউ দেবে তুমি আমাকে বল? শীতের সময় সেদিন বাজারে আলুর প্রচুর আমদানি। আলুওয়ালারা বললে পাচঁটা করে আলু ফাউ পাবেন পাঁচ সের আলু কিনলে। এর বেশি দিতে পারব না। গোপাল তখন প্রত্যেক আলুওয়ালার ঝুড়ি থেকে পাঁচটা করে আলু তুলে নিয়ে বলল, এই হাটে কেবল ফাউটা নিলাম, সামনের হাটে তোমাদের সকলের কাছ থেকে পাঁচ সের করে আলু কিনব। সকলেই হাঁ করে তাকিয়ে তাকিয়ে রইল । গোপাল দিব্যি বিনি পয়সার আলু কিনে বাড়ি ফিরল। বন্ধুকে বাধ্য হয়েই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গোপালকে দশ টাকা পুরষ্কার দিতে হল। না দিলে হয়ত গোপাল কোনও সময় ১০০ টাকা তুলে নিয়ে হাওয়া করে দেবে। তার চেয়ে আগে দেওয়া ভাল। গোপালের সূক্ষ্ম বিচার লোক পরম্পরায় গোপালের সূক্ষ্ম বিচার বৃদ্ধি দেখে এক প্রতিবেশী তার মোকদ্দমা চালাবার জন্য গোপালকে অনুরোধ করে। কিন্তু গোপাল মোকদ্দমার কাহিনী শুনে বারবার না-না করা সত্ত্বেও প্রতিবেশী লোকটি নাছোড়বান্দা হওয়ায় বাধ্য হয়ে গোপাল প্রতিবেশীর মোকদ্দমাটি হাতে নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই মামলার হার হয়। ভদ্রলোক কাঁদতে কাঁদতে বললে এ কি করলেন, আমার সব গেল। তখন গোপাল বলল, দেখুন ব্যারাম সেরে উঠতে উঠতেও লোক অনেক সময়ে হার্টফেল করে মারা যায়। তাকে ব্যারাম-মরা বলা যেতে পারে না। আপনার ব্যাপারটও ঠিক সেই রকম। মামলার বিচারে আপনি হারেন নি। হাকিমেরা মূলত তিনটি বিষয়ের উপর বিবেচনা করে রায় দেয় সাধারণত- তিনটি বিষয় হল অনুমান, প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তি। অনুমানটাও আপনার স্বপক্ষে ছিল, অর্থাৎ যে-কেউ মামলার বিবরণ শুনলে বলতে বাধ্য ছিল যে বিবাদী দোষী। হাকিমও নিশ্চয়ই ভাই ভেবেছেন। কিন্তু অনুমানের উপর নির্ভর করে তো আর রায় দেওয়া চলে না। দ্বিতীয়তঃ হলো প্রমাণ। প্রমাণ করা এত শক্ত যে, ওর ভেতরে শেষ পর্যন্ত গলদ থেকেই যায়। আমি আপনার মামলা প্রমাণ করে ছেড়েছি, এ কথা যাকে জিজ্ঞাসা করবেন সেই বলবে, কিন্তু ঐ যে বললাম- গলদ রয়ে গেছে গোড়ায়। থাকতেই হবে গলদ! বিপক্ষের উকিল আমাদের সব অকাট্য প্রমাণগুলি মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃতীয়তঃ বাকি রইল স্বীকারোক্তি। আসামী লোকটা যদি ভদ্রতা করে দোষ স্বীকার করে যেতো, তাহলে আর কোন কিছুতেই আটকাতো না আমাদের। কিন্তু তা সে কোনমতেই করলে না কিনা! তাতে আমি আর কি করতে পারি বলুন। মামলা জেতবার আগেই তো হার হলো। ব্যায়রাম থেকে সেরে উঠতে উঠতে হার্টফেল। এতে বলুন আমার কি দোষ আছে? কারণ এর বেশী আর ভদ্রলোককে কিছু বলতে পারেই না গোপাল। ভদ্রলোক রেগেই চলে গেলেন। আরও পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শেষ জীবন গোপালের চিঠিলেখা গোপাল লেখাপড়া বিশেষ কিছু জানত না। যদি বা লেখাপাড় কিছু জানত কিন্তু হাতের লেখা ছিল খুব খারাপ। কিন্তু রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ভাঁড় হিসাবে তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাড়া পড়শীরা তাই তাকে সমীহ করে চলত কেউ কেউ বা বিভিন্ন প্রযোজনে গোপালের সঙ্গে এসে দেখা করত পরামর্শ নিত, গোপালের বুদ্ধি নিয়ে প্রায় সকলে চলত। একদিন এক বুড়ি এসে বলল, গোপাল ভাই, আমার একখানা চিঠি লিখে দাও না। আমার নছেলে পুরী থেকে দশক্রোশ দূরে নাগেশ্বরপুর গেছে। কোনও খবর পাচ্ছিনে বেশ কয়েকদিন হল। টাকা পয়সাও নাই যে কাউবে পাঠাব। বুড়ির কথা শুনে গোপাল বললে, আজ তো আমি চিঠি লিখতে পারব না ঠাকমা। কেন ভাই, আজ কি যে, তুমি চিঠি লিখতে পারবে না। অনেকদিন হয়ে গেছে আজ না লিখলেও নয়। আর তোমার দেখা সব সময়পাই না যে তোমাকে চিঠি লিখতে বলি। আজ দেখা পেয়েছি, একখানা চিঠি লিখে দাও না ভাই? আমি বুড়ো মানুষ কার কাছে যাব চিঠি লিখতে ভাই, তুমিই একমাত্র ভরসা। আমার যে পায়ে ব্যাথ্যা গো ঠাকমা। পায়ে ব্যথা তাতে কি হয়েছে? চিঠি লিখবে তো হাত দিয়ে? পায়ে কি তুমি চিঠি লিখবে নাকি। তোমার কথা শুনলে হাসি পায়। তোমার মত এমন কথা কোথাও শুনিনি। গোপাল হেসে বলল, চিঠি তো লিখব হাত দিয়েই। কিন্তু আমার চিঠি অন্য কেউ যে পড়তে পারবে না। আমার লেখা চিঠি আমাকে নিজে গিয়ে পড়ে দিয়ে আসতে হবে। আমার যে এখন পায়ে ব্যথা। এখান থেকে পুরী আবার পুরী থেকে দশ ক্রোশ দূরে নাগেশ্বরপুরে চিঠিটা তো আমি পড়ে দিয়ে আসতে পারব না। তুমি অন্য কাউকে দিয়ে চিঠিখানা এবারকার মতো লিখিয়ে নাও, ঠাকমা। আমার পা ভাল হলে চিঠি লিখে দেব এবং নিজে দিয়ে পড়ে আসব। বুড়ি মা এর পর আর কি বলবে। বাধ্য হয়ে চিঠি না লিখিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হল গোপালের বাড়ি থেকে। গোপাল ও মা কালী গোপাল একদিন পাশা খেলতে খেলতে দাতের যন্ত্রনায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল। অসম্ভব যন্ত্রনা যাকে বলে। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে সে শুয়ে পড়ে কাতরাতে কাতরাতে বলতে লাগল, দোহাই মা কালী! এ যাত্রায় আমার যন্ত্রণাটা কমিয়ে দাও... ... আমি জোড়া পাঠা বলি দেব মা পুজো দেব ভাল করে তোমায় মা... কিছুক্ষণ পরে মা কালীর কৃপায় তার যন্ত্রনার উপশম হল। সে আবার খোশ মেজাজে পাশা খেলতে লাগল মনের আনন্দে। গোপালের পাশা খেলার সাথী এক সময় গোপালকে বললে, মায়ের দয়ায় দাঁতের যন্ত্রণা তো ষ্ট করে সেরে গেল। মায়ের কাছে তাহলে জোড়া পাঠা বলি দিচ্ছ তো? মনের বাসনা, পাঠা বলি হলে বলির মাংস খাওয়া যাবে। গোপাল পাশার চাল দিয়ে খোশ মেজাজে বললে, যন্ত্রণা আমার এমনিতেই সেরে যেত। এ ব্যাপারে আর মা কালীর কেরামতি কোথায়? যন্ত্রনায় অস্তির হয়েকি বলতে কি বলে ফেলেছি, সেজন্য আবার জোড়া পাঠা বলি দিতে হবে নাকি? মা কালী আমার মাথায় থাক। তারপর গোপাল দিব্যি খোশ মেজাজে পাশা খেলতে লাগল। ওদের কথায় আর পাত্তা দিল না। খেলার সাথির মন খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু কথায় বলে- ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। বেশ কিছুক্ষণ পেরে গোপালের দাঁতের যন্ত্রণা আবার অসম্ভব রকম বেড়ে গেল। এবারকার যন্ত্রণা আগের চেয়েও ভয়ানক। গোপাল যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে মা কালীর উদ্দেশ্য হাত জোড় করে কাতরাতে কাতরাতে বললে- হে মা করুণাময়ী, হে মা দয়াময়ী হে মা জগজ্জননী যে কথা বলেছি... . সেই কথাটিই ধরে নিলে মা? আমি কি সত্যি সত্যিই বলেছি তোমার কাছে জোড়া পাঁঠা বলি দেব না? এত বোঝ মা, ঠাট্টা বোঝ না? এবার খেলার সাথীর মুখে জোর হাসি ফুটে উঠল, বলির পাঁঠার প্রসাদ মাংস নির্ঘাত পাবে এই মনে ভেবে। গোপালের পাঞ্জাবি গোপাল নতুন পোষাক করিয়ে এনেছে। কাল রাত্রে তার বিয়ে। এই পোষাক পরেও গোপাল বিরক্তিভাবে তার মাকে বলল, ‘জানো মা, দর্জি ব্যাটা আমার পাঞ্জাবীটা লম্বায় দুই ইঞ্চি বড় করে ফেলেছে।’ পরদিন সকালবেলায় গোপাল জিনিস-পত্র কেনা-কাটা করবার জন্যে বেরিয়ে গেল। তখন মায়ের মনে হলো, গোপালের পাঞ্জাবীটা দুই ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। কেটে ঠিক করে দিলে হয় তো! তিনি কাউকে কিছু না বলে উপরে উঠে গেলেন এবং ছেলের ঘরে বসে পাঞ্জাবীটা নিচ থেকে দুই ইঞ্চি কেটে বাদ দিয়ে দিলেন। তারপর কাটা মুখটা সেলাই করে রেখে নিচে নেমে এলেন। গোপালের বাড়িতে ছিল দুই বোন। গত রাত্রিতে খাওয়ার সময় দাদার মন্তব্য তারাও শুনেছিল। ওই রকম বেমানান লম্বা পাঞ্জাবী পরে বিয়ে করতে গেলে দাদাকে দেখে সবাই হাসবে, এ জিনিস তাদের সবার অসহ্য মনে হল। কিন্তু কেউ কাউরে নিজেদের মনের কথা খুলে বলল না। কিছু পরে বড় বোন আবার দুই ইঞ্চি কেটে বাদ দিয়ে সেলাই করে দিল। তারপর গোপালের পাঞ্জাবির কথা ভেবে ছোটবোনও চুপি চুপি ঘরে প্রবেশ করে পাঞ্জাবির ঝুল নিচ থেকে আরো দুই ইঞ্চি কেটে সেলাই করে দিল। এদের কাজ কেউই জানতে পারল না। সন্ধ্যাবেলায় বিয়ের সাজ পরতে গিয়ে গোপালের চক্ষুস্থির যে গোপালের পাঞ্জাবি দুই ইঞ্চি লম্বা ছিল, তা উলটে এখন চার ইঞ্চি খাটো কি ক’রে হলো, তা সে কিছুতেই বুঝতে পারল না। সে ঘোড়ার গাড়ি ডেকে দোকানে ছুটল এর কারণ জিজ্ঞাসা করতে। দোকানিকে জিজ্ঞাসা করাতে সে কিছুই বুঝতে পারল না। গোপাল রেগে মেগে দোকানীকে দু’চার কথা শুনিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এলো। বাড়ি এসে সকলের মুখে সব কথা শুনে গোপালের মেজাজ আরো খারাপ হলো। কিন্তু অন্যের উপর রাগ করে তো বিয়ে না করে থাকা যায় না। বাধ্য হয়ে গোপাল তাড়াতাড়ি বাজারে গিয়ে আবার আর একটা পাঞ্জাবী কিনে তাই পরে রেগে-মেগে বিয়ে করতে গেল। গোপালের ঘটকালি গোপাল একবার একটি বিয়ের ঘটকালি করে ছিল। মেয়েটি খোঁড়া, ছেলেটি কানা। কনেপক্ষ পাত্র পক্ষ গোপালের মুখের কথায় উপর নির্ভর করেই বিয়ে পাকাপাকি করে ফেলেছিল। কনেপক্ষ জানে না যে বর কানা, আবার পাত্রীপক্ষ জানে না যে মেয়ে খোঁড়া। গোপালের ভীষণ নাম ডাকের জন্য কেউ কাউকে অবিশ্বাস করতে পারে নি। সবকাজ গোপালের উপরই ছেড়ে দিয়েছে। নির্বিঘ্নে বিয়ে হয়ে যাবার পর পাত্রকক্ষের কর্তা গোপালকে ডেকে বললেন, কনেপক্ষের লোকেরা জানতেই পারেনি যে, বর কানা। বরকে কানা দেখলে কোন বাপ মেয়েই দিত না। এর জন্য আপনার কাছে বেশ কৃতজ্ঞ আমরা। এই বলে পাত্রপক্ষের লোকেরা কিছু পুরষ্কার বাবদ টাকা দিল। গোপাল তা মুখটি চেপে নির্বিবঘ্নে তাদেরকে কিছু না বলে নিয়ে নিল। এদিকে কন্যাপক্ষের লোক এল। মেয়েটি যে খোঁড়া পাত্রপক্ষের লোকেরা জানিতেই পারেনি, কি বল গোপাল! এই বলে কন্যাপক্ষের লোকেরা গোপালকে কিছু পুরষ্কার দিল। দুপক্ষের কাছে মোটা বকসিস পেয়ে পুলকে গোপাল মনে মনে হাসতে হাসতে... --- > মোল্লা নাসিরুদ্দিনের বা নাসিরুদ্দিন হোজ্জা নামে অনেক গল্প প্রায় হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানান দেশে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। - Published: 2024-09-27 - Modified: 2024-09-27 - URL: https://www.sabjanta.info/molla-nasiruddin-or-nasiruddin-hojja-story-part2/ মোল্লা নাসিরুদ্দিনের নামে অনেক গল্প প্রায় হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানান দেশে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে এইসব গল্পের জন্ম তুরস্কদেশে, কারণ সেখানে এখনো প্রতি বছর মোল্লা নাসিরুদ্দিনের জন্মোৎসব পালন করা হয়। মোল্লা নাসিরুদ্দিন যে ঠিক কেমন লোক ছিলেন সেটা তার গল্প পড়ে বোঝা মুশকিল। এক এক সময় তাকে মনে হয় বোকা, আবার এক এক সময় মনে হয় ভারী বিজ্ঞ। তোমাদের কী মনে হয় সেটা তোমরাই বুঝে নিও। মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প - পর্ব ২ 1. গাধার ডাককে যে বেশি বিশ্বাস করে এক পড়শি এসেছে নাসিরুদ্দিনের কাছে এক আর্জি নিয়ে। মোল্লাসাহেব, আপনার গাধাটা যদি কিছুদিনের জন্য ধার দেন তো বড় উপকার হয়। মাফ করবেন, বললে নাসিরুদ্দিন, ওটা আরেকজনকে ধার দিয়েছি। কথাটা বলামাত্র বাড়ির পিছন থেকে গাধা ডেকে উঠে তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে দিল। সে কী মোল্লাসাহেব, ওটা আপনারই গাধার ডাক শুনলাম না? নাসিরুদ্দিন মহারাগে লোকটার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেওয়ার সময় বললে, আমার কথার চেয়ে আমার গাধার ডাককে যে বেশি বিশ্বাস করে, তাকে কোনওমতেই গাধা ধার দেওয়া চলে না। 2. ঝড়ে উড়িয়ে এনে ফেলেছে নাসিরুদ্দিন মওকা বুঝে একজনের সবজির বাগানে গিয়ে হাতের সামনে যা পায় থলেতে ভরতে শুরু করেছে। এদিকে মালিক এসে পড়েছেন। কাণ্ড দেখে তিনি হন্তদন্ত নাসিরুদ্দিনের দিকে ছুটে এসে বললেন, ব্যাপারটা কী? নাসিরুদ্দিন বললে, ঝড়ে উড়িয়ে এনে ফেলেছে আমায় এখানে। আর খেতের সবজিগুলোকে উপড়ে ফেলল কে? ওড়ার পথে ওগুলিকে খামচে ধরে তবে তো রক্ষা পেলাম। আর সবজিগুলো থলের মধ্যে গেল কী করে? সেই প্রশ্নই তো আমাকেও চিন্তায় ফেলেছিল, এমন সময় আপনি এসে পড়লেন। আরও পড়ুন: নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প পর্ব-২ 3. অপয়া যে কে! - মোল্লা নাসিরুদ্দিন শিকারে বেরিয়ে পথে প্রথমেই নাসিরুদ্দীনের সামনে পড়ে রাজামশাই খেপে উঠলেন। লোকটা অপয়া। আজ আমার শিকার পণ্ড- ”ওকে চাবকে হটিয়ে দাও” রাজার হুকুম তামিল হল। কিন্তু শিকার হলো জবরদস্ত। রাজা শিকার থেকে ফিরে নাসিরুদ্দীনকে ডেকে পাঠালেন, বললেন- ‘ভুল হয়ে গেছে মোল্লা। আমি ভেবেছিলাম তুমি অপয়া। এখন দেখছি তা নও” নাসিরুদ্দীন তিন হাত লাফিয়ে উঠে জবাব দিল- ”আপনি ভেবেছিলেন আমি অপয়া? আমায় দেখে আপনি ২৬টি হরিণ মারলেন, আর আপনাকে দেখে আমি ২৬ ঘা চাবুক খেলাম। অপয়া যে কে, সেটা বুঝতে পারলেন না? ” 4. অর্ধেক ভাগ - মোল্লা নাসিরুদ্দিন একবার নাসিরউদ্দিন হোজ্জা বাদশাহর জন্য কিছু উপহার নিয়ে যাচ্ছিল। গেটে প্রহরী হোজ্জাকে আটকে দিল। বলল, তোমার উপহার আমাকে দাও, আমিই জাঁহাপনাকে দিয়ে আসব। কিন্তু হোজ্জা নিজেই উপহার দিয়ে আসতে চায়। এদিকে প্রহরীও নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত হোজ্জা বলল, ‘ঠিক আছে, আমি ভিতরে গিয়ে বাদশাহরকাছ তেকে যা বখশিশ পাব, তার অর্ধেক তোমাকে দিয়ে দিব।’ একথা শুনে প্রহরী হোজ্জাকে ভিতরে যেতে দিল। হোজ্জা দরবারে গিয়ে বাদশাহকে উপহার দেওয়ার পর বাদশাহ খুব খুশি হলেন এবং হোজ্জাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তার কী চাই? হোজ্জা বলল ৫০ ঘা বেত্রাঘাত! দরবারের সবাই তো অবাক! এ কেমন উপহার চাওয়া? বাদশাহ যতই অন্য উপহার দিতে চান, হোজ্জা ততই বেতের বাড়ি নিতে চায়।মহা মুসিবত। শেষ পর্যন্ত হোজ্জার জেদের কাছে হেরে গিয়ে বাদশাহ নির্দেশ দিলেন হোজ্জাকে বেত মারার। ২৫ ঘা বেত মারার পর হোজ্জা থামতে বলল। তারপর বাদশাহর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘জাঁহাপনা, আমার পুরস্কারের একজন ভাগীদার আছে।’ বাদশাহ জানতে চাইলেন, ‘কে? ’ তখন হোজ্জা দরবারে আসার পথে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। পুরো ঘটনা জানার পর বাদশাহ তখন ঐ প্রহরীকে ডেকে আচ্ছাসে বেত্রাঘাত করে তার পাওনা মিটিয়ে দিলেন। আরও পড়ুন: রহস্যময় উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ -পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বিচ্ছিন্ন অঞ্চল 5. বিড়ালে সব মাংস খেয়ে ফেলেছে হোজ্জা এক কেজি মাংস কিনে এনে গিন্নিকে দিলেন রান্না করতে দিয়ে বলল- ”মাংস গুলো রান্না কর, আমি গোসল করে আসছি” এদিকে গিন্নি মাংস রান্না করতে গিয়ে একটু একটু টেস্ট করতে করতে সব মাংস খেয়ে ফেললো। হোজ্জা নদী থেকে গোসল সেরে এসে খেতে বসে মাংস না দেখে জিজ্ঞাসা করলে - গিন্নি জানালো, বিড়ালে সব মাংস খেয়ে ফেলেছে। হোজ্জা তাড়াতাড়ি বিড়ালটাকে ধরে ওজন করে দেখলেন যে সেটার ওজন এক কেজি। গিন্নিকে তখন বললেন, ‘এটা যদি বিড়াল হয় তবে মাংস কোথায়, আর এটা যদি মাংস হয় তবে বিড়ালটা কোথায়? 6. সবই একবারে এনেছি - নাসিরুদ্দিন হোজ্জা মোল্লা এক বাড়িতে চাকরের কাজ করছে। মনিব তাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি অযথা সময় নষ্ট কর কেন, তিনটা ডিম কিনতে কেউ তিনবার বাজারে যায়? এবার থেকে সব কাজ একবারে সেরে আসবে।’ একদিন মনিব অসুখে পড়লে মোল্লাকে বললেন ডাক্তার ডাকো। মোল্লা গেল কিন্তু ফিরলো অনেক দেরিতে আর সাথে অনেক লোক। মনিব বললেন, ‘ডাক্তার কই? ’ তিনি আছেন সাথে আরো অনেকে আছেন, বললো মোল্লা। – আরো কেন? – আজ্ঞে ডাক্তার বললো পুলটিশ দিতে লোক চাই। জল গরম করতে কয়লা লাগবে, কয়লাওয়ালা চাই। আপনি যদি মারা যান তো দোয়া পড়ার লোক চাই। আপনাকে কবর দেওয়ার লোক চাই, আপনি মরলে পরে লাশ বইবার লোক চাই। তাই সবই একবারে এনেছি। 7. লবণ দিয়ে খাই - নাসিরুদ্দিন হোজ্জা হোজ্জা আর তার এক বন্ধু একবার এক হোটেলে ঢুকল কিছু খাওয়ার জন্য। খাওয়া শেষে হিসাব করে দেখল যে, দুই গ্লাস দুধ খাওয়ার মতো টাকা ওদের হাতে নেই। তাই দুজনের জন্য এক গ্লাস দুধ চাইল। দুধ আসার পর হোজ্জার বন্ধুটি বলল, ‘ভাই, তুমি আগে অর্ধেকটা খেয়ে ফেল। হোজ্জা জানতে চাইল, ‘কেন? ’ বন্ধুটি বলল, ‘আমি আবার চিনি ছাড়া দুধ খেতে পারি না। অথচ, একজনের খাওয়ার মতোই চিনি আছে আমার কাছে। তাই বলছিলাম যে, তুমি অর্ধেকটা খেয়ে নিলে বাকিটা আমি চিনি দিয়ে খাব।’ হোজ্জা তখন গ্লাসটা হাতে নিয়ে তার মধ্যে অনেকটা লবণ ঢেলে বলল, ‘তাহলে আমার অর্ধেক ভাগটা আমি লবণ দিয়ে খেয়ে নিলাম। বাকিটা তুমি চিনি মিশিয়ে মিষ্টি করে খেয়ো! ’ --- > মুসুর ডালের খিচুড়ি এমন একটি পছন্দের খাবার যা বিশেষ কোনও ঝামেলা ছাড়াই তৈরি করা যায়। এটি বাংলা ধাঁচের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি যা রান্না বেশ সহজ বটে - Published: 2024-09-26 - Modified: 2024-09-26 - URL: https://www.sabjanta.info/khichri-recipe-bengali-style-authentic-khichuri/ মুসুর ডালের খিচুড়ি এমন একটি পছন্দের খাবার যা বিশেষ কোনও ঝামেলা ছাড়াই তৈরি করা যায় এবং যে কোনও সাইড ডিশের সাথে যে কোনও সময় উপভোগ করা যায়। বাঙালির সারা বছর বিশেষ করে বর্ষাকালে এবং শীতকালে মাছ ভাজা, বেগুনি বা লাবড়া ও চাটনি সহযোগে দারুন পছন্দের এই মুসুর ডালের খিচুড়ি। খিচুড়ি রান্নার সবচেয়ে ভালো দিক হল এটিকে মনের মত করে কখনও হালকা, কখনও মশলাদার, ঘন বা পাতলা করতে পারেন। এই সুন্দর খাবারটি সমস্ত বাঙালির একটি প্রিয় খাবারের মধ্যে পড়ে। এই এক-পাত্রের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি অনুযায়ী, খাবারের মধ্যে থাকে ভাত, ডাল, সবজি এবং কিছু মশলা যার ফলে একটি সুগন্ধযুক্ত খাবার তৈরি হয়। বাইরে বেড়াতে গেলে খিচুড়ি সবসময় বাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয়। তাহলে আসুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে একটি খাঁটি বাংলা ধাঁচের খিচুড়ি তৈরি করবেন এবং এর জন্য কী কী উপকরণ প্রয়োজন। মুসুর ডালের খিচুড়ি কিভাবে বানাবেন: Bengali style khichuri recipe সরঞ্জাম যা লাগবে ১ হাঁড়ি ১ কড়াই ১ কুকটপ বা ওভেন আরও পড়ুন: কলাবউ আসলে কি এবং দুর্গাপুজোয় নবপত্রিকা স্নান কেন করানো হয় উপকরণ লাগবে ১ কাপ বাসমতি বা গোবিন্দভোগ চাল - (ঘরে নিত্য ব্যবহারের যে কোন চালও নিতে পারেন এই মুসুর ডালের খিচুড়িতে) ১ কাপ মসুর ডাল ১ টি বড় অথবা 2 মাঝারি আলু ১. ৫ কাপ ফুলকপির ফুল - ঐচ্ছিক ১ কাপ টমেটো ১ টেবিল চামচ আদা পেস্ট ৩ টি কাঁচা লঙ্কা ০. ৫ কাপ মটরশুটি - ঐচ্ছিক ১ টি গাজর মাঝারি ৫ টি বিন্স ১ টি পেঁয়াজ মাঝারি - ঐচ্ছিক ১ চা চামচ জিরা ০. ৫ চা চামচ জিরা গুঁড়া ৪ টি সবুজ এলাচ ৩ টি শুকনো লাল লঙ্কা ১ টি তেজপাতা ৩ টি লবঙ্গ ১ ইঞ্চি দারুচিনি ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়া ১-১. ৫ চা চামচ লাল লঙ্কা গুঁড়া ১ চা চামচ গরম মসলা লবন স্বাদমতো চিনি স্বাদমতো রিফাইন তেল সরিষা তেল ১ চা চামচ ঘি আরও পড়ুন: প্রাচীন দেবতার নূতন বিপদ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাস্যরসপূর্ণ রচনা খিচুড়ি রান্নার প্রণালী - চাল প্রস্তুত করুন: প্রথমে বাসমতি চাল/গোবিন্দভোগ চাল/আপনার পছন্দের অন্য কোনো চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর, ধোয়া চাল ভালোকরে জল ঝরিয়ে একটা প্লেটে ছড়িয়ে দিন আর ভাল করে শুকানোর জন্য একটু হওয়ায় রেখে দিন। - সবজি প্রস্তুত করুন: এবার সবজিগুলিকে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। তারপরে সব সবজি খোসা ছড়িয়ে কেটে নিন। আলুগুলি ৪ সেন্টিমিটার কিউব করে কেটে নিন। ফুলকপিকে প্রায় ৫-৬ সেমি ফুল হিসাবে ছড়িয়ে নিন। মটরশুটি ছড়িয়ে রাখুন এবং গাজরকে ২-৩-ইঞ্চি-লম্বা আয়তাকার টুকরো করে কাটুন। তারপরে, টমেটোগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে এবং পেঁয়াজগুলিকে ৪-৫ কোয়ার্টারে কেটে নিন (ঐচ্ছিক)। - ডাল ভেজে রাখুন ( যদি মুগডাল ব্যবহার করেন ) এবার একটি কড়াই নিন এবং মাঝারি আঁচে গরম করুন। তার মধ্যে মুগ ডাল দিয়ে দিন। প্রায় ৫-৭ মিনিটের জন্য ডালটি নেড়েচেড়ে নিন। ক্রমাগত নাড়তে থাকুন এবং অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না আপনি একটি সুগন্ধ পান এবং সমস্ত ডাল সমানভাবে ভাজা না হয়ে যায়। এর পরে, ডালটিকে একটি পাত্রে তুলে রাখুন তারপর একবার ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ডাল ভালো করে ছেঁকে একপাশে রাখুন। - সবজি ভেজে নিন: এবার একই কড়াইতে একটু রিফাইন তেল বা সরিষার তেল দিয়ে দিন। এটিকে একটু ধোঁয়া না হওয়া পর্যন্ত গরম করুন এবং তারপরে সমস্ত সবজি দিয়ে দিন। এগুলিকে ভাজুন যতক্ষণ না তারা কিছুটা নরম হয়ে যায় এবং সোনালি-বাদামী রঙ পায়। সামান্য লবণ যোগ করুন এবং তারপর এক মিনিটের জন্য নাড়ুন। এরপর একটি পাত্রে এগুলি তুলে নিয়ে আলাদা করে রাখুন। - চালগুলি হালকা ভেজে নিন: এখন প্রয়োজনে কড়াইয়ে আরও কিছু তেল দিন এবং বাতাসে শুকানো চাল দিয়ে দিন। চালটি নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না এটি গ্লাসের মতো রঙে না পরিণত হচ্ছে। একবার আপনি চালের মিষ্টি সুগন্ধ পেতে শুরু করলে সেটি এক বা দুবার ভালো করে নেড়ে দিন এবং তারপরে একটি প্লেটে স্থানান্তর করুন। এটি একপাশে রাখুন এবং পরবর্তী ধাপে যান। - মশলা ও পেস্ট ভাজুন: এরপরে, একটি রান্নার পাত্র বা একটি স্টিলের হাঁড়ি নিন এবং কিছু সরিষার তেল তাতে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন যতক্ষণ না ধোঁয়া বের হয় এবং তেজপাতা (মাঝ থেকে ভেঙ্গে), শুকনো লাল লঙ্কা, দারুচিনি, জিরা এবং এলাচ দিয়ে দিন। তেলে ভালো করে এগুলি ভেজে নিন। এরপর এগুলি ছড়িয়ে দিন এবং তারপর আপনি একটি সুগন্ধ পাবেন। এই মুহুর্তে আদা পেস্ট, জিরা গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, এবং একটু জল (প্রায় ৩ টেবিল চামচ) যোগ করুন। সব মশলা মাঝারি আঁচে ভাজুন যতক্ষণ না সব কাঁচা গন্ধ চলে যায়। দেখবেন মশলা থেকে তেল আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি প্রায় ৬-৭ মিনিট সময় নেয়। এরপর, মশলার মিশ্রণে, টমেটো এবং পেঁয়াজ (ঐচ্ছিক) যোগ করুন। একটি ঢাকনা দিয়ে পাত্রটি ঢেকে প্রায় ৩ মিনিট রান্না করুন। - চাল এবং ডাল যোগ করুন: এরপরে, সমস্ত উপাদানগুলিকে নাড়ুন এবং তারপরে ভাজা চাল, ভাজা মসুর বা মুগ ডাল এবং ২ টি লঙ্কা যোগ করুন। মসলার সাথে মিশিয়ে ২-৩ মিনিট রান্না হতে দিন। তারপরে, প্রায় ১. ৫ লিটার গরম জল এবং স্বাদমতো লবণ এতে দিয়ে দিন। এগুলি ভাল করে নাড়ুন, একটি ঢাকনা দিয়ে পাত্রটি ঢেকে দিন এবং সেগুলিকে ফুটতে দিন। তাদের প্রায় ৫-৬ মিনিটের জন্য ফুটতে দিন এবং নিশ্চিত করুন যে আঁচ যেনো কম থাকে। সবজি যোগ করুন: এরপর, পাত্রে সবজিগুলি যোগ করুন। আবার সব মিশিয়ে ঢেকে দিন। এটি আরও ১৫ মিনিট রান্না হতে দিন। এর মধ্যে দেখে নিন কতটা ভাত সেদ্ধ হয়েছে। খিচুড়ি রান্না করুন: উপাদানগুলি মাঝে মাঝে ভালো করে নাড়তে থাকুন। ১৫ মিনিট রান্না করার পরে, স্বাদমতো চিনি দিন (খিচুড়ি বেশি মিষ্টি করবেন না; স্বাদ বাড়াতে চিনি) এবং বাকি কাঁচা লঙ্কা (আপনি চাইলে মাঝখান থেকে চিরে নিতে পারেন) দিয়ে দিন। সব জিনিসগুলি ২-৩ বার ভালো করে নাড়ুন এবং আরও ৫ মিনিট রান্না করুন। সবকিছু ঠিকঠাক রান্না হয়েছে কিনা দেখে নিন। প্রয়োজন হলে লবণ যোগ করুন অন্যথায় গার্নিশিং শুরু করুন। - গার্নিশ: আঁচ বন্ধ করে তৈরি খিচুড়ি ঘি ও গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে সাজিয়ে নিন। ৫ মিনিটের জন্য পাত্রটি ঢেকে রাখুন এবং সমস্ত স্বাদগুলিকে খিচুড়ির মধ্যে প্রবেশ করতে দিন। এই সাধারণ অথচ মুখরোচক মুসুর ডালের খিচুড়ি পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। এটিকে গরম বেগুনি, আলু ভাজা, চাটনি এবং পাপড়ের সাথে পরিবেশন এবং এর স্বাদ উপভোগ করুন। এই দারুন খিচুড়ির সুগন্ধ, টেক্সচার এবং স্বাদ আপনার মন ভরিয়ে তুলবে। সবশেষে : আপনাদের এই মুসুর ডালের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন। --- - Published: 2024-09-23 - Modified: 2024-09-23 - URL: https://www.sabjanta.info/nasiruddin-hojja-story-of-molla-nasiruddin-part1/ নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের কাহিনী সারা বিশ্বে প্রচলিত। অনুমান করা হয় তিনি তুরস্ক অথবা ইরানের কোন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। piccture credit: m. somewhereinblog. net নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের কাহিনী সারা বিশ্বে প্রচলিত। অনুমান করা হয় তিনি তুরস্ক অথবা ইরানের কোন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। নাসিরুদ্দিনের উপস্থিত বুদ্ধি ও বিজ্ঞতার খ্যাতি দেশ ও কালের সীমানা ছাড়িয়েছে। কোনো গল্পে তাকে পাওয়া যায় বোকা ও নেহাতই সাদাসিধে মানুষ হিসেবে। ফলে নাসিরুদ্দিন মহাবুদ্ধিমান নাকি মহাবোকা ছিলেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। তবে আসল ঘটনা যাই হোক, নাসিরুদ্দিনের গল্পগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে নির্মল আনন্দ জুগিয়ে আসছে। মোল্লা নাসিরুদ্দিনের বিশাল গল্পসম্ভার থেকে মজার কয়েকটি এখানে উপস্থাপন করা হল। 1. ধনী বাড়িতে ভোজ এক ধনীর বাড়িতে ভোজ হবে খবর পেয়ে নাসিরুদ্দিন সেখানে গিয়ে হাজির। ঘরের মাঝখানে বিশাল টেবিলের উপর লোভনীয় সব খাবার সাজানো রয়েছে রুপোর পাত্রে। টেবিল ঘিরে চেয়ার পাতা, তাতে বসেছে হোমরা-চোমরা সব ভাইয়েরা। নাসিরুদ্দিন সেদিকে এগোতেই কর্মকর্তা তার মামুলি পোশাক দেখে তাকে ঘরের এক কোনায় ঠেলে দিলেন। নাসিরুদ্দিন বুঝলেন সেখানে খাবার পৌঁছতে রাত কাবার হয়ে যাবে। সে আর সময় নষ্ট না করে সোজা বাড়ি ফিরে গিয়ে তোরঙ্গ থেকে তার ঠাকুরদাদার আমলের একটা ঝলমলে আলখাল্লা আর একটা মণিমুক্তো বসানো আলিশান পাগড়ি বার করে পরে আবার নেমন্তন্ন বাড়িতে ফিরে গেল। এবার কর্মকর্তা তাকে একেবারে খাস টেবিলে বসিয়ে দিলেন, আর বসামাত্র নাসিরুদ্দিনের সামনে এসে হাজির হল ভুরভুরে খুশবুওয়ালা পোলাওয়ের পাত্র। নাসিরুদ্দিন প্রথমেই পাত্র থেকে খানিকটা পোলাও তুলে নিয়ে তার আলখাল্লায় আর পাগড়িতে মাখিয়ে দিলে। পাশে বসেছিলেন এক আমীর। তিনি ভারী অবাক হয়ে বললেন, জনাব, আপনি খাদ্যদ্রব্য যেভাবে ব্যবহার করছেন তা দেখে আমার কৌতূহল জাগ্রত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অর্থ জানতে পারলে আমি বিশেষ বাধিত হব। অর্থ, খুবই সোজা, বললে নাসিরুদ্দিন। এই আলখাল্লা আর এই পাগড়ির দৌলতেই আমার সামনে এই ভোজের পাত্র। এদের ভাগ না দিয়ে আমি একা খাব সে কি হয়? 2. হাঁস উপহার - নাসিরুদ্দিন হোজ্জা একদিন এক জ্ঞাতি এসে নাসিরুদ্দিনকে একটা হাঁস উপহার দিলে। নাসিরুদ্দিন ভারী খুশি হয়ে সেটার মাংস রান্না করে জ্ঞাতিকে খাওয়ালে। কয়েকদিন পরে মোল্লাসাহেবের কাছে একজন লোক এসে বললে, আপনাকে যিনি হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তাঁর বন্ধু। নাসিরুদ্দিন তাকেও মাংস খাওয়ালে। এর পর আরেকদিন আরেকজন এসে বলে, আপনাকে যিনি হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তার বন্ধুর বন্ধু। নাসিরুদ্দিন তাকেও খাওয়ালে। তারপর এল বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু। মোল্লাসাহেব তাকেও খাওয়ালে। এর কিছুদিন পরে আবার দরজায় টোকা পড়ল। আপনি কে? দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলে নাসিরুদ্দিন। আজ্ঞে মোল্লাসাহেব, যিনি আপনাকে হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তার বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু। ভেতরে আসুন, বললে নাসিরুদ্দিন, খাবার তৈরিই আছে। অতিথি মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও মেখে একগ্লাস খেয়ে ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীসের মাংস মোল্লাসাহেব? হাঁসের বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর, বললে নাসিরুদ্দিন। আরও পড়ুন: তেনালি রামা’র গল্প - অপয়া রাময়া 3. বাহারি পোশাক নাসিরুদ্দিন তার পুরনো বন্ধু জামাল সাহেবের দেখা পেয়ে ভারী খুশি। বললে, বন্ধু, চলো পাড়া বেড়িয়ে আসি। লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমার এই মামুলি পোশাক চলবে না, বললে জামাল সাহেব। নাসিরুদ্দিন তাকে একটি বাহারি পোশাক ধার দিলে। প্রথম বাড়িতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন গৃহকর্তাকে বললে, ইনি হলেন আমার বিশিষ্ট বন্ধু জামাল সাহেব। এঁর পোশাকটা আসলে আমার। দেখা সেরে বাইরে বেরিয়ে এসে জামাল সাহেব বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমার কেমনতরো আক্কেল হে! পোশাকটা যে তোমার সেটা কি না বললেই চলত না? পরের বাড়িতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন বললে, জামাল সাহেব আমার পুরনো বন্ধু। ইনি যে পোশাকটা পরেছেন সেটা কিন্তু ওঁর নিজেরই। জামাল সাহেব আবার খাপ্পা। বাইরে বেরিয়ে এসে বললেন, মিথ্যে কথাটা কে বলতে বলেছিল তোমায়? কেন? বললে নাসিরুদ্দিন, তুমি যেমন চাইলে তেমনই তো বললাম। না, বললেন জামালসাহেব, পোশাকের কথাটা না বললেই ভাল। তিন নম্বর বাড়িতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন বললে, আমার পুরনো বন্ধু জামাল সাহেবের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। ইনি যে পোশাকটা পরেছেন সেটার কথা অবিশ্যি না বলাই ভাল। 4. রুটির অর্থ - মোল্লা নাসিরুদ্দিন নাসিরুদ্দিন নাকি বলে বেড়াচ্ছে যারা নিজেদের বিজ্ঞ বলে তারা আসলে কিচ্ছু জানে না। এই খবর শুনে সাতজন সেরা বিজ্ঞ নাসিরুদ্দিনকে রাজার কাছে ধরে এনে বললে, শাহেন শা, এই ব্যক্তি অতি দুর্জন। ইনি আমাদের বদনাম করে বেড়াচ্ছেন। এর শাস্তির ব্যবস্থা হোক। রাজা নাসিরুদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কিছু বলার আছে? আগে কাগজ কলম আনা হোক, জাঁহাপনা, বললে নাসিরুদ্দিন। কাগজ কলম এল। এদের সাতজনকে একটি করে দেওয়া হোক। তাও হল। এবার সাতজনে আলাদা করে আমার প্রশ্নের জবাব লিখুন। প্রশ্ন হল-রুটির অর্থ কী? সাত পণ্ডিত উত্তর লিখে রাজার হাতে কাগজ দিয়ে দিলেন, রাজা পর পর উত্তরগুলো পড়ে গেলেন। পয়লা নম্বর লিখেছেন রুটি একপ্রকার খাদ্য। দুই নম্বর–ময়দা ও জলের সংমিশ্রণে তৈয়ারি পদার্থকে বলে রুটি। তিন নম্বর–রুটি ঈশ্বরের দান। চার নম্বর–একপ্রকার পুষ্টিকর আহার্যকে বলে রুটি। পাঁচ নম্বর–রুটির অর্থ করতে গেলে আগে জানা দরকার, কোনপ্রকার রুটির কথা বলা হচ্ছে। ছয় নম্বর–রুটির অর্থ এক মূর্খ ব্যক্তি ছাড়া সকলেই জানে। সাত নম্বর–রুটির প্রকৃত অর্থ নির্ণয় করা দুরূহ ব্যাপার। উত্তর শুনে নাসিরুদ্দিন বললে, জাঁহাপনা, যে জিনিস এঁরা প্রতিদিন খাচ্ছেন, তার মানে এঁরা সাতজন সাতরকম করলেন, অথচ যে লোককে এঁরা কখনও চোখেই দেখেননি তাকে সকলে একবাক্যে নিন্দে করছেন। এক্ষেত্রে কে বিজ্ঞ কে মূর্খ সেটা আপনিই বিচার করুন। রাজা নাসিরুদ্দিনকে বেকসুর খালাস দিলেন। আরও পড়ুন: হাল ছেড়ে দাও বন্ধু! – সত্যই কি তাই? 5. চিনি খাওয়ার অভ্যেস মোল্লা এখন কাজি, সে আদালতে বসে। একদিন এক বুড়ি তার কাছে এসে বললে, আমি বড়ই গরিব। আমার ছেলেকে নিয়ে বড় ফ্যাসাদে পড়েছি কাজিসাহেব। সে মুঠো মুঠো চিনি খায়, তাকে আর চিনি জুগিয়ে কুল পাচ্ছি না। আপনি হুকুম দিয়ে তার চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। সে আমার কথা শোনে না। মোল্লা একটু ভেবে বললে, ব্যাপারটা অত সহজ নয়। এক হপ্তা পরে এসো, আমি একটু বিবেচনা করে তারপর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। বুড়ি হুকুমমতো এক হপ্তা পরে আবার এসে হাজির! মোল্লা তাকে দেখে মাথা নাড়লে।–এ বড় জটিল মামলা। আরও এক হপ্তা সময় দিতে হবে আমাকে। আরও সাতদিন পরেও সেই একই কথা। অবশেষে ঠিক এক মাস পরে মোল্লা বুড়িকে বললে, কই, ডাকো তোমার ছেলেকে। ছেলেটি আসতেই মোল্লা তাকে হুঙ্কার দিয়ে বললে, দিনে আধ ছটাকের বেশি চিনি খাওয়া চলবে না । যাও। বুড়ি মোল্লাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললে, একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল, কাজিসাহেব। বলো। এই নিয়ে চারবার ডাকলেন কেন আমাকে? এর অনেক আগেই তো আপনি এ হুকুম দিতে পারতেন। তোমার ছেলেকে হুকুম দেবার আগে আমার নিজের চিনি খাওয়ার অভ্যেস কমাতে হবে তো! বললে নাসিরুদ্দিন। 6. আল্লা করেন তো নাসিরুদ্দিনের ভারী শখ একটা নতুন জোব্বা বানাবে, তাই পয়সা জমিয়ে দরজির দোকানে গেল ফরমাশ দিতে। দরজি মাপ নিয়ে বললে, আল্লা করেন তো এক সপ্তাহ পরে আপনি জোব্বা পেয়ে যাবেন। নাসিরুদ্দিন এক সপ্তাহ কোনওরকমে ধৈর্য ধরে তারপর আবার গেল দরজির দোকানে। একটু অসুবিধা ছিল মোল্লাসাহেব, বললে দরজি, আল্লা করেন তো কাল আপনি অবশ্যই জোব্বা পেয়ে যাবেন। পরদিন গিয়েও হতাশ। মাফ করবেন মোল্লাসাহেব, বললে দরজি, আর একটি দিন আমাকে সময় দিন। আল্লা করেন তো কাল সকালে নিশ্চয় রেডি পাবেন আপনার জোব্বা। নাসিরুদ্দিন এবার বললে, আল্লা না করে তুমি করলে জোব্বাটা কবে পাব সেটা জানতে পারি কি? --- > বাবুর্চির বুদ্ধি একটি হাস্যরসপূর্ণ গল্প । গল্পটি সরল ও বুদ্ধিদীপ্ত বাবুর্চী তার অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করলেও নবাব বাবুর্চীকে ছোট অপরাধের জন্য শাস্তি না দিয়ে কেবল - Published: 2024-09-22 - Modified: 2024-09-22 - URL: https://www.sabjanta.info/baburchir-buddhi-the-wisdom-of-cook/ কোনো এক দেশের নবাব খেতে বসেছেন। বকের মাংস দিয়ে ভাত খাবেন। রান্না বেশ ভালো হয়েছে। বাবুর্চির বুদ্ধি একটি হাস্যরসপূর্ণ গল্প। গল্পের সরল ও বুদ্ধিদীপ্ত বাবুর্চী তার অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করলেও নবাব বাবুর্চীকে ছোট অপরাধের জন্য শাস্তি না দিয়ে কেবল কৌতুকপূর্ণ ভাবে জানিয়ে দেন বাবুর্চীর মিথ্যা তিনি ধরে ফেলেছেন। Picture credit: newsbangla24. com বাবুর্চির বুদ্ধি - কেমন একবার দেখে নেওয়া যাক কি বল? কোনো এক দেশের নবাব খেতে বসেছেন। বকের মাংস দিয়ে ভাত খাবেন। রান্না বেশ ভালো হয়েছে। প্রথমে তিনি একখানা রান খেলেন। দারুণ স্বাদ। তখন আরও একখানা রান পাতে তুলে দিতে বললেন। কিন্তু রান্না করার সময় মাংসের চমৎকার ঘ্রাণে বাবুর্চি লোভ সামলাতে না পেরে একখানা রান খেয়ে ফেলেছেন। তাই ভয়ে, আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বাবুর্চি বললেন: হুজুর, ওটা তো বক পাখি ছিল। বক পাখির একখানা পা থাকে। তাই একখানা পা-ই রান্না করেছি। নবাব সাহেব বাবুর্চির কথা শুনে রেগে লাল হয়ে গেলেন। বললেন: ছোঁচা, তুই কোন সাহসে একখানা রান খেয়ে ফেলে এখন মিথ্যা কথা বলছিস? বাবুর্চি: না হুজুর, আমি এক তিলও মিথ্যে বলিনি। বক বড়ো হলে তার একখানা পা-ই থাকে। আমার সঙ্গে বিলের ধারে চলুন, দেখবেন, বক সব এক পায়ে দাঁড়িয়ে। আরও পড়ুন: কৈলাশ পর্বত একটি রহস্যময় স্থান - জানুন আজও কেন অজেয় নবাব, একটু মুচকি হেসে খাওয়া শেষ করলেন। তারপর, পাইক বরকন্দাজসহ বাবুর্চিকে নিয়ে বিলের দিকে চললেন। বিলের ধারে যেতেই বাবুর্চি চিৎকার দিয়ে বলল: হুজুর, ওই দেখুন, ডানদিকে ঝোপের ছায়ায় একটা একপেয়ে বক। নবাব হাসলেন। তবে কোনো শব্দ করলেন না। তারপর জোরে দুই-তিনবার হাততালি দিলেন। ঘাসের ঝোপের ছায়ায় আরামে ঝিমুতে থাকা বকটি হাততালির শব্দে ভয় পেয়ে উড়াল দিল। আর তখনই তার দুই খানা পা বেরিয়ে পড়ল। নবাব এবার অট্টহাসি দিয়ে বললেন: কি হে বাবুর্চি, বকের তো দেখি দুই খানাই পা! বাবুর্চি: হুজুর, আপনি হাততালি দেয়াতেই দুই খানা পা বেরুল! ইস! সেদিন খাবার সময় কেন যে হাততালি দিলেন না, হুজুর! দিলেই দুই খানা রান পাওয়া যেত। নবাব বেশ মজা পাচ্ছিলেন। পরিস্থিতিটা তিনি উপভোগও করছিলেন। তাই হাসতে হাসতে বললেন: আমি কি জানতাম যে, হাততালি দিলেই দুই খানা রান পাব? জানলে কি আর হাততালি না দিতাম। কিন্তু বাবুর্চি, আমি না হয় বোকার মতো হাততালি দেইনি, তুমি তো দিতে পারতে। তাহলে তো আমি দুই খানা রানই খেতে পারতাম! আরও পড়ুন: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'ক্ষুদ্রের গৌরব' বাবুর্চি: হুজুর, আমার কি অতটুকু বুদ্ধিও নেই! হাততালি দিলে পাতের বকটা উড়ে যেত না? তবু তো হুজুরকে একখানা রান খাওয়াতে পেরেছি। উড়ে গেলে তো তাও খাওয়াতে পারতাম না। আমার জন্য সে যে বড়ো কষ্টের ব্যাপার হতো! আর আপনাকে মাংস ছাড়া খানা আমি কোন মুখে খাওয়াতাম? --- > জোলা আর সাত ভূত : গল্পটি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত 'গল্প মালা'র অন্তর্গত জনপ্রিয় একটি ভূতের গল্প। এত বছর পরেও আজও সমান জনপ্রিয় গল্পটি। - Published: 2024-09-17 - Modified: 2024-10-08 - URL: https://www.sabjanta.info/jola-aar-sat-bhut-by-upendra-kishor-roychoudhury/ জোলা আর সাত ভূত গল্পটি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত 'গল্প মালা'র অন্তর্গত জনপ্রিয় একটি ভূতের গল্প। এত বছর পরেও আজও সমান জনপ্রিয় গল্পটি। চিত্র সৌজন্যে: এক ঝুড়ি গপ্পো এক জোলা ছিল, সে পিঠে খেতে বড় ভালবাসত। একদিন সে তার মাকে বলল, ‘মা, আমার বড় পিঠে খেতে ইচ্ছে করছে, আমাকে পিঠে করে দাও।’ সেইদিন তার মা তাকে লাল-লাল, গোল-গোল চ্যাপটা-চ্যাপটা সাতখানি চমৎকার পিঠে করে দিল। জোলা সেই পিঠে পেয়ে ভারি খুশি হয়ে নাচতে লাগল আর বলতে লাগল, ‘একটা খাব, দুটো খাব,সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব! ’ জোলার মা বলল, ‘খালি নাচবিই যদি, তবে খাবি কখন? ’ জোলা বলল, ‘খাব কি এখানে? সবাই যেখানে দেখতে পাবে, সেখানে খাব।’ ব’লে জোলা পিঠেগুলি নিয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল আর বলতে লাগল, ‘একটা খাব, দুটো খাব,সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব! ’ নাচতে নাচতে জোলা একেবারে সেই বটগাছতলায় চলে এল, যেখানে হাট হয়। সেই গাছের তলায় এসে সে খালি নাচছে আর বলছে, ‘একটা খাব, দুটো খাব,সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব! ’ এখন হয়েছে কি— সেই গাছে সাতটা ভূত থাকত। জোলা ‘সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব’ বলছে, আর তা শুনে তাদের ত বড্ডই ভয় লেগেছে। তারা সাতজনে গুটিশুটি হয়ে কাঁপছে, আর বলছে, ‘ওরে সর্বনাশ হয়েছে! ঐ দেখ, কোথেকে এক বিট্ কেল ব্যাটা এসেছে, আর বলছে আমাদের সাতজনকেই চিবিয়ে খাবে! এখন কি করি বল্ ত।’ অনেক ভেবে তারা একটা হাঁড়ি নিয়ে জোলার কাছে এল। এসে জোড়হাত করে তাকে বলল, ‘দোহাই কর্তা! আমাদের চিবিয়ে খাবেন না। আপনাকে এই হাঁড়িটি দিচ্ছি এইটি নিয়ে আমাদের ছেড়ে দিন! ’ আরও পড়ুন: অপয়া রাময়া - তেনালি রামা’র গল্প সাতটা মিশমিশে কালো তালগাছপানা ভূত, তাদের কুলোর মত কান, মুলোর মত দাঁত, চুলোর মত চোখ—তারা জোলার সামনে এসেই কাঁইমাই করে কথা বলছে দেখেই ত সে এমনি চমকে গেল যে, সেখান থেকে ছুটে পালাবার কথা তার মনেই এল না। সে বলল, ‘হাঁড়ি নিয়ে আমি কি করব! ’ ভূতেরা বলল, ‘আজ্ঞে আপনার যখন যা খেতে ইচ্ছে হবে, তাই এই হাঁড়ির ভিতর পাবেন।’ জোলা বলল ‘বটে। আচ্ছা আমি পায়েস খাব।’ বলতে বলতেই সেই হাঁড়ির ভিতর থেকে চমৎকার পায়েসের গন্ধ বেরুতে লাগল। তেমন পায়েস জোলা কখনো খায় নি, তার মাও খায় নি, তার বাপও খায় নি। কাজেই জোলা যার পর নাই খুশি হযে হাড়ি নিয়ে সেখান থেকে চলে এল, আর ভূতেরা ভাবল, ‘বাবা! বড্ড বেঁচে গিয়েছি।’ তখন বেলা অনেক হয়েছে, আর জোলার বাড়ি সেখান থেকে ঢের দূরে। তাই জোলা ভাবল, ‘এখন এই রোদে কি করে বাড়ি যাব? বন্ধুর বাড়ি কাছে আছে, এবেলা সেইখানেই যাই; তারপর বিকেলে বাড়ি যাব এখন।’ বলে সে ত তার বন্ধুর বাড়ি এসেছে। সে হতভাগা কিন্তু ছিল দুষ্টু। সে জোলার হাঁড়িটি দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘হাঁড়ি কোথেকে আনলি রে? ' জোলা বলল, ‘বন্ধু, এ যে-সে হাঁড়ি নয়, এর ভারি গুণ।’ বন্ধু বলল, ‘বটে? আচ্ছা দেখি ত কেমন গুণ।’ জোলা বলল, ‘তুমি যা খেতে চাও, তাই আমি এর ভিতর থেকে বার করে দিতে পারি।’ বন্ধু বলল, ‘আমি রাবড়ি, সন্দেশ, রসগোল্লা, সরভাজা, মালপুয়া, পান্তুয়া, কাঁচাগোল্লা, ক্ষীরমোহন, গজা, মতিচুর, জিলিপি, অমৃতি, বরফি, চমচম এই সব খাব।’ জোলার বন্ধু যা বলছে, জোলা হাঁড়ির ভিতর হাত দিয়ে তাই বার করে আনছে। এসব দেখে তার বন্ধু ভাবল যে, এ জিনিসটি চুরি না করলে হচ্ছে না। তখন সে জোলাকে কতই আদর করতে লাগল। পাখা এনে তাকে হাওয়া করল, গামছা দিয়ে তার মুখ মুছিয়ে দিল, আর বলল, ‘আহা ভাই, তোমার কি কষ্টই হয়েছে! গা দিয়ে ঘাম বয়ে পড়েছে! একটু ঘুমোবে ভাই বিছানা করে দেব? ’ সত্যি সত্যিই জোলার তখন ঘুম পেয়েছিল; কাজেই সে বলল, ‘আচ্ছা, বিছানা করে দাও। আরও পড়ুন: হাল ছেড়ে দাও বন্ধু! – সত্যই কি হাল ছেড়ে দিতে হবে ? তখন তার বন্ধু বিছানা করে তাকে ঘুম পাড়িয়ে, তার হাঁড়িটি বদলে তার জায়গায় ঠিক তেমনি ধরনের আর-একটা হাঁড়ি রেখে দিল। জোলা তার কিছুই জানে না, সে বিকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ি চলে এসেছে আর তার মাকে বলছে, ‘দেখো মা, কি চমৎকার একটা হাঁড়ি এনেছি। তুমি কি খাবে মা? সন্দেশ খাবে? পিঠে খাবে? দেখো আমি এর ভিতর থেকে সে-সব বার করে দিচ্ছি।’ কিন্তু এত আর সে হাঁড়ি নয়, এর ভিতর থেকে সে-সব জিনিস বেরুবে কেন? মাঝখান থেকে জোলা বোকা বনে গেল, তার মা তাকে বকতে লাগল। তখন ত জোলার বড্ড রাগ হয়েছে, আর সে ভাবছে সেই ভূতব্যাটাদেরই এ কাজ। তার বন্ধু যে তাকে ঠকিয়েছে, এ কথা তার মনেই হল না। কাজেই পরদিন সে আবার সেই বটগাছতলায় গিয়ে বলতে লাগল, ‘একটা খাব, দুটো খাব,সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব! ’ তা শুনে আবার ভূতগুলো কাঁপতে কাঁপতে একটা ছাগল নিয়ে এসে তাকে হাত জোড় করে বলল, ‘মশাই গো! আপনার পায়ে পড়ি, এই ছাগলটা নিয়ে যান। আমাদের ধরে খাবেন না।’ জোলা বলল, ‘ছাগলের কি গুণ? ’ ভূতরা বলল, ‘ওকে সুড়সুড়ি দিলে ও হাসে, আর ওর মুখ দিয়ে খালি মোহর পড়ে।’ অমনি জেলা ছাগলের গায়ে সুড়সুড়ি দিতে লাগল। আর ছাগলটা হিহি হিহি’ করে হাসতে লাগল, আর মুখ দিয়ে ঝর ঝর করে খালি মোহর পড়তে লাগল। তা দেখে জোলার মুখে ত আর হাসি ধরে না। সে ছাগল নিয়ে ভাবল যে, এ জিনিসটি বন্ধুকে না দেখালেই নয়। সেদিন তার বন্ধু তাকে আরো ভাল বিছানা করে দিয়ে দুহাতে দুই পাখা নিয়ে হাওয়া করল। জোলার ঘুমও হল তেমনি। সেদিন আর সন্ধ্যার আগে তার ঘুম ভাঙল না। তার বন্ধু ত এর মধ্যে কখন তার ছাগল চুরি করে তার জায়গায় আর-একটা ছাগল রেখে দিয়েছে। সন্ধ্যার পর জোলা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তার বন্ধুর সেই ছাগলটা নিয়ে বাড়ি এল; এসে দেখল যে তার মা তার দেরি দেখে ভারি চটে আছে তা দেখে সে বলল, ‘রাগ আর করতে হবে না, মা; আমার ছাগলের গুণ দেখলে খুশি হয়ে নাচবে! ’ এই বলেই সে ছাগলের বগলে আঙুল দিয়ে বলল, কাতু কুহু কুহু কুতু! ! ! ’ ছাগল কিন্তু তাতে হাসলো না, তার মুখ দিয়ে মোহরও বেরুল না। জোলা আবার তাকে সুড়সুড়ি দিয়ে বলল, ‘কাতুকুতু কুতু কুতু কুতু কুতু কুতু কুতু! ! ’ তখন সেই ছাগল রেগে গিয়ে শিং বাগিয়ে তার নাকে এমনি বিষম গুঁতো মারল যে সে চিত হয়ে পড়ে চেঁচাতে লাগল আর তার নাক দিয়ে রক্তও পড়ল প্রায় আধ সের তিন পোয়া। তার উপর আবার তার মা তাকে এমন বকুনি দিল যে, তেমন বকুনি সে আর খায় নি। তাতে জোলার রাগ যে হল, সে আর কি বলব! সে আবার সেই বটগাছতলায় গিয়ে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, ‘একটা খাব, দুটো খাব,সাত বেটাকেই চিবিয়ে খাব! ’ ‘বেটারা আমাকে দুবার দুবার ফাঁকি দিয়েছিল, ছাগল দিয়ে আমার নাক থেঁতলা করে দিয়েছিস—আজ আর তোদের ছাড়ছি নে! ’ পড়ে দেখুন: ভাল কাজের ফল ভালই হয়, সত্যই কি? ভূতেরা তাতে ভারি আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘সে কি মশাই, আমরা কি করে আপনাকে ফাঁকি দিলুম, আর ছাগল দিয়েই বা কি করে আপনার নাক থেঁতলা করলুম? ’ জোলা তার নাক দেখিয়ে বলল, ‘এই দেখ না, গুঁতো মেরে সে আমার কি দশা করেছে। তোদের সব কটাকে চিবিয়ে খাব! ’ ভূতেরা বলল, ‘সে কখনো আমাদের ছাগল নয়। আপনি কি এখান থেকে সোজাসুজি বাড়ি গিয়েছিলেন? ’ জোলা বলল, ‘না, আগে বন্ধুর ওখানে গিয়েছিলাম। সেখানে খানিক ঘুমিয়ে তারপর বাড়ি গিয়েছিলাম।’ ভূতেরা বলল, ‘তবেই ত হয়েছে! আপনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন, সেই সময় আপনার বন্ধু আপনার ছাগল চুরি করেছে।’ এ কথা শুনেই জোলা সব বুঝতে পারল। সে বলল, ‘ঠিক ঠিক। সে বেটাই আমার হাঁড়িও চুরি করেছে, ছাগলও চুরি করেছে। এখন কি হবে? ’ ভূতেরা তাকে একগাছি লাঠি দিয়ে বলল, ‘এই লাঠি আপনার হাঁড়িও এনে দেবে, ছাগলও এনে দেবে! ওকে শুধু একটিবার আপনার বন্ধুর কাছে নিয়ে বলবেন, লাঠি লাগ ত! তা হলে দেখবেন, কি মজা হবে! লাখ লোক ছুটে এলেও এ লাঠির সঙ্গে পারবে না, লাঠি তাদের সকলকে পিটিয়ে ঠিক করে দেবে।’ জোলা তখন সেই লাঠিটি বগলে করে তার বন্ধুকে গিয়ে বলল, ‘বন্ধু, একটা মজা দেখবে? ’ বন্ধু ত ভেবেছে না জানি কি মজা হবে। তারপর যখন জোলা বলল, ‘লাঠি, লাগত! ’ তখন সে এমনি মজা দেখল, যেমন তার জন্মে আর কখনো দেখে নি। লাঠি তাকে পিটে পিটে তার মাথা থেকে পা অবধি চামড়া তুলে ফেলল। সে ছুটে পালাল, লাঠি তার সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে তাকে পিটতে পিটতে ফিরিয়ে নিয়ে এল। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে হাত জোড় করে বলল, ‘তোর পায়ে পড়ি ভাই, তোর হাঁড়ি নে, তোর ছাগল নে, আমাকে ছেড়ে দে! ’ জোলা বলল, ‘আগে ছাগল আর হাঁড়ি আন্, তবে তোকে ছাড়ব।’ কাজেই বন্ধুমশাই আর কি করেন? সেই পিটুনি খেতে খেতেই হাঁড়ি আর ছাগল এনে হাজির করলেন। জোলা হাঁড়ি হাতে নিয়ে বলল, ‘সন্দেশ আসুক ত! ’ অমনি হাঁড়ি সন্দেশে ভরে গেল। ছাগলকে সুড়সুড়ি দিতে না দিতেই সে হো হো করে হেসে ফেলল, আর তার মুখ দিয়ে চারশোটা মোহর বেরিয়ে পড়ল। তখন সে তার লাঠি, হাঁড়ি আর ছাগল নিয়ে বাড়ি চলে গেল। এখন আর জোলা গরিব নেই, সে বড়মানুষ হয়ে গেছে। তার বাড়ি, তার গাড়ি, হতিঘোড়া-খাওয়া-পরা, চাল-চলন, লোকজন, সব রাজার মতন। দেশের রাজা তাকে যার পর নাই খাতির করেন, তাকে জিজ্ঞাসা না করে কোন ভারি কাজে হাত দেন না। এর মধ্যে একদিন হয়েছে কি, আর কোন দেশের এক রাজা হাজার হাজার লোকজন নিয়ে এসে সেই দেশ লুটতে লাগল। রাজার সিপাইদের মেরে খোঁড়া করে দিয়েছে, এখন রাজার বাড়ি লুটে কখন তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে, তার ঠিক নেই। জোলা আর সাত ভূত - জোলা এবার কি করবে? রাজামশাই তাড়াতাড়ি জোলাকে ডাকিয়ে বললেন, ‘ভাই, এখন কি করি বল ত? বেঁধেই ও নেবে দেখছি।’ জোলা বলল, ‘আপনার কোন ভয় নেই। আপনি চুপ করে ঘরে বসে থাকুন, আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি।’ বলেই সে তার লাঠিটা বগলে করে রাজার সিংহদরজার বাইরে গিয়ে চুপ করে বসে রইল। বিদেশী রাজা লুটতে লুটতে সেই দিকেই আসছে, তার সিপাই আর হাতি ঘোড়ার গোলমালে কানে তালা লাগছে, ধুলোয় আকাশ ছেয়ে গিয়েছে। জোলা খালি চেয়ে দেখছে কিছু বলে না। বিদেশী রাজা পাহাড়ের মতন এক হাতি চড়ে সকলের আগে আগে আসছে, আর ভাবছে সব লুটে নেবে। আর, জোলা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে, আর একটু কাছে এলেই হয়। তারপর তারা যেই কাছে এসেছে, অমনি জোলা তার লাঠিকে বলল, লাঠি, লাগত। আর যাবে কোথায়? তখনি এক লাঠি লাখ লাখ হয়ে রাজা আর তার হাতি-ঘোড়া সকলের ঘাড়ে গিয়ে পড়ল। আর পিটুনি যে কেমন দিল সে যারা সে পিটুনি খেয়েছিল তারাই বলতে পারে। পিটুনি খেয়ে রাজা চেঁচাতে চেঁচাতে বলল, ‘আর না বাবা, আমাদের ঘাট হয়েছে, এখন ছেড়ে দাও, আমরা দেশে চলে যাই।’ জোলা কিছু বলে না, খালি চুপ করে চেয়ে দেখছে আর একটু একটু হাসছে। শেষে রাজা বলল, ‘তোমাদের যা লুটেছি, সব ফিরিয়ে দিচ্ছি, আমার রাজ্য দিচ্ছি, দোহাই বাবা, ছেড়ে দাও।’ তখন জোলা গিয়ে তার রাজাকে বলল, ‘রাজামশাই, সব ফিরিয়ে দেবে বলছে আর তাদের রাজ্যও আপনাকে দেবে বলছে, আর বলছে দোহাই বাবা, ছেড়ে দাও। এখন কি হুকুম হয়? ’ রাজামশায়ের কথায় জোলা তার লাঠি থামিয়ে দিলে। তারপর বিদেশী রাজা কাঁদতে কাঁদতে এসে রাজামশাইয়ের পায়ে পড়ে মাপ চাইল। রাজামশাই জোলাকে দেখিয়ে বললেন, ‘আমার এই লোকটিকে যদি তোমার অর্ধেক রাজ্য দাও, আর তার সঙ্গে তোমার মেয়ের বিয়ে দাও, তা হলে তোমাকে মাপ করব।’ সে ত তার সব রাজ্যই দিতে চেয়েছিল। কাজেই জোলাকে তার অর্ধেক রাজ্য আর মেয়ে দিতে তখনি রাজি। তারপর জোলা সেই অর্ধেক রাজ্যের রাজা হল, আর রাজার মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হল। আর ভোজের কি যেমন তেমন ঘটা হল! সে ভোজ খেয়ে যদি তারা শেষ করতে না পেরে থাকে, তবে হয়ত এখনো খাচ্ছে। সেখানে একবার যেতে পারলে হত। --- > তিন রাজকুমার ও রাজকুমারী নওরোন্নিহার একটি সুন্দর ও মূল্যবোধের গল্প - এই কাহিনীটি সহস্র এক আরব্য রজনীর গল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। - Published: 2024-09-17 - Modified: 2024-09-30 - URL: https://www.sabjanta.info/the-three-princes-and-the-princess-nouronnihar/ তিন রাজকুমার ও রাজকুমারী নওরোন্নিহার একটি সুন্দর ও মূল্যবোধের গল্প - এই কাহিনীটি সহস্র এক আরব্য রজনীর গল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। Picture credit: rif. org অনেক দিন আগের কথা। আরব দেশের এক সুলতান ছিলেন, যার তিন পুত্র ছিল। বড় ছেলের নাম ছিল হুসেন, মাঝের ছেলের নাম আলী, আর ছোট ছেলের নাম আহমেদ। এই তিন ভাই ঠিক তাদের বাবার মতোই বুদ্ধিমান এবং দয়ালু ছিল। সুলতানের ভাই, যিনি পাশের রাজ্য শাসন করতেন, তার ছিল এক মেয়ে, নাম নওরোন্নিহার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নওরোন্নিহার ছোট থাকতেই তার মা-বাবা মারা যান। সুলতান তার ভাইয়ের এই ছোট্ট মেয়েটিকে নিজের প্রাসাদে নিয়ে আসেন এবং তাকে নিজের সন্তানদের মতো করেই বড় করতে থাকেন। নওরোন্নিহারও বড় হতে হতে স্মার্ট এবং সদয় হয়ে ওঠে। বছর গড়িয়ে গেল, আর তিন ভাইয়ের চোখের সামনে নওরোন্নিহার ধীরে ধীরে অপরূপা হয়ে উঠতে থাকল। হঠাৎ একদিন সুলতান লক্ষ করলেন, তার তিন ছেলেই নওরোন্নিহারের প্রেমে পড়েছে। রাজকন্যার বিয়ের বয়সও তখন হয়ে এসেছে, তাই একদিন তিন পুত্রই সুলতানের কাছে গিয়ে রাজকন্যার হাতে বিয়ের প্রস্তাব জানায়। সুলতান চিন্তায় পড়লেন—এখন তিনি কীভাবে তার ছেলেদের মধ্যে একজনকে বেছে নেবেন? ভাবলেন, এটা নির্ধারণ করার জন্য তাদের একটা চ্যালেঞ্জ দিতে হবে। সুলতানের ছিল বিরল আর অনন্য জিনিসের প্রতি এক বিশেষ ভালোবাসা। তাই তিনি ছেলেদের বললেন, "তোমরা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করো এবং প্রত্যেকে এমন একটি অনন্য ও দুর্লভ জিনিস নিয়ে আসো, যা সত্যিই অসাধারণ। যার জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অনন্য হবে, সেই নওরোন্নিহারকে বিয়ে করবে।" চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তিন ভাই বেরিয়ে পড়ল। তারা শহরের এক প্রান্তের সরাইখানায় এক বছরের মাথায় আবার মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করল। আরও পড়ুন: তেনালি রামা’র গল্প 'অপয়া রাময়া' জ্যেষ্ঠ পুত্র হুসেন রওনা হলেন বিসনগরের দিকে। এই রাজ্যটি ভারতীয় উপকূলের পাশে অবস্থিত এবং সেখানে ধন-সম্পদের জাঁকজমক নিয়ে প্রচুর গল্প শুনেছিলেন তিনি। দীর্ঘ তিন মাসের যাত্রার পর তিনি পৌঁছালেন বিসনগরে, আর দেখলেন শহরটি তার কল্পনার চেয়েও বেশি সমৃদ্ধ। তিনি একটি সরাইখানায় ঘর ভাড়া নিলেন এবং শহরের বণিকদের এলাকায় ঘুরতে শুরু করলেন। এখানেই তিনি তার খোঁজের বস্তুটি খুঁজে পেলেন—একটি পুরোনো, ছিদ্রযুক্ত কার্পেট। একজন লোক সেই পাটি বিক্রি করছিল এবং দাম চাইছিল ত্রিশ স্বর্ণ মুদ্রা। হুসেন বিস্মিত হলেন—একটা পুরোনো কার্পেটের জন্য এত দাম কেন? লোকটি তখন বলল, "এটা কোনো সাধারণ কার্পেট নয়, এটি এক জাদুকরী কার্পেট। যে কেউ এই কার্পেটে বসে যেকোনো জায়গার কথা চিন্তা করবে, সে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যাবে।" হুসেন পরীক্ষা করে দেখলেন, এবং সত্যি, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কক্ষে ফিরে এলেন। তিনি তখনই কার্পেটটি কিনে নিলেন, নিশ্চিত ছিলেন যে এই জিনিসটি তাকে বিজয়ী করবে। মধ্যম পুত্র আলী চার মাস ধরে পারস্যের রাজধানী শিরাজে ভ্রমণ করলেন। শহরের বাজারে একদিন, তিনি একটি হাতির দাঁতের তৈরি দূরবীন দেখতে পেলেন। এর দামও ছিল ত্রিশ স্বর্ণমুদ্রা, যা তার কাছে অদ্ভুত লাগল। বিক্রেতা বলল, এই দূরবীন দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো কিছু দেখা যায়। আলী পরীক্ষা করতে চাইলে বিক্রেতা তাকে রাজকুমারী নওরোন্নিহারকে দেখাতে বললেন। আলী দেখলেন, নওরোন্নিহার তার বন্ধুদের সাথে হাসি-মশকরা করছে। আনন্দিত হয়ে আলী দূরবীনটি কিনে নিলেন। কনিষ্ঠ পুত্র আহমেদ গেলেন সমরকন্দ। বাজারে একদিন তিনি দেখলেন, এক বিক্রেতা এক সোনার আপেল বিক্রি করছে, যার দাম পঁয়ত্রিশ স্বর্ণমুদ্রা। আপেলটি দেখে আহমেদ বুঝতে পারলেন, এর মধ্যে কোনো বিশেষত্ব আছে। বিক্রেতা বলল, এটি একটি জাদুর আপেল—এর ঘ্রাণ যে কোনো মরণাপন্ন ব্যক্তিকেও সুস্থ করতে পারে। আহমেদ আপেলটি পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলেন এবং কিনে নিলেন। আরও পড়ুন: বিধানচন্দ্র রায় : বাংলার রূপকার হয়ে ওঠার কাহিনী এক বছর পর তিন ভাই আবার সরাইখানায় মিলিত হল। প্রথমে আলী তার জাদুকরী নল দিয়ে নওরোন্নিহারকে দেখতে চাইলেন। কিন্তু তিনি যা দেখলেন, তা তাকে অবাক করে দিল—রাজকুমারী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। তিন ভাই বুঝতে পারলেন, তাদের একসাথে কাজ করতে হবে। হুসেন তার জাদুর কার্পেটে সবাইকে নিয়ে গেল রাজকুমারীর কক্ষে। আহমেদ তার জাদুর আপেল রাজকুমারীর নাকে ধরে দিলেন। আর তাতেই রাজকুমারী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেন। শেষ পর্যন্ত রাজকুমারী নওরোন্নিহার - কি হল? সুলতান তিন পুত্রের দুর্লভ জিনিসগুলো দেখে মুগ্ধ হলেন, কিন্তু এবারও তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না কে রাজকুমারীকে বিয়ে করবে। তাই তিনি নতুন আরেকটি পরীক্ষা করলেন—তিন ভাইকে তীর ছুঁড়ে মারতে হবে, আর যার তীর সবচেয়ে দূরে যাবে, সে-ই হবে বিজয়ী। প্রথমে হুসেন, তারপর আলী, আর শেষে আহমেদ তার তীর ছুঁড়ল। আহমেদের তীর এত দূরে গিয়ে পড়ল যে, কেউ তা খুঁজে পেল না। সুলতান বুঝলেন, আহমেদ বিজয়ী। সেই দিনই আহমেদ ও নওরোন্নিহারের বিয়ে হল, আর তারা সুখে-দুঃখে জীবন কাটাতে লাগল। --- > অপয়া রাময়া: তেনালি রামা একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান বেক্তি ছিলেন। তার বুদ্ধি দিয়ে বহুবার বিজয়নগরের রাজাকে ও প্রজাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাঁচিয়েছেন - Published: 2024-09-16 - Modified: 2024-09-16 - URL: https://www.sabjanta.info/unlucky-ramya-the-story-of-tenali-raman/ তেনালি রামা একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান বেক্তি ছিলেন। তার বুদ্ধি দিয়ে বহুবার বিজয়নগরের রাজাকে ও প্রজাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাঁচিয়েছেন। "অপয়া রাময়া" তেনালি রামার তেমনই একটি গল্প। তেনালি রামা - Picture credit: newsbangla24. com বিজয়নগর রাজ্যে এক লোক বাস করতেন, যার নাম ছিল রাময়া। তাকে সবাই অশুভ বা অপয়া মনে করত। তারা মনে করত, সকালে উঠে প্রথমেই রাময়ার মুখ দেখলে সারাটা দিন অশুভ যাবে। কথাটি রাজামশাইয়ের কানেও পৌঁছেছিল। ঘটনার সত্যতা জানার জন্য রাজামশাই রাময়াকে তার প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানালেন। তিনি পরিচারকদের বলে দিলেন, রাময়ার জন্য থাকার ব্যবস্থা যেন মহারাজের ঘরের ঠিক পাশেই হয়। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজামশাই কারও মুখ না দেখে সরাসরি রাময়ার ঘরে ঢুকলেন এবং তার মুখ দেখলেন। সেদিন দুপুরে রাজামশাই খেতে বসলেন। হঠাৎ তার থালায় একটি মাছি বসল। মাছি বসায় রাজামশাই কিছুই খেতে পারলেন না। রাঁধুনিকে ডেকে আবার তার জন্য মধ্যাহ্নভোজ প্রস্তুত করার আদেশ দিলেন। রান্না হলো কিন্তু মহারাজ কৃষ্ণদেব রায়ের কোনো কিছুই খেতে ইচ্ছা করল না। তখনই তার মনে পড়ল, সবাই রাময়া সম্পর্কে যা বলে সেটি সঠিক। সকালে ওর মুখ দেখার কারণেই তার রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। রাজামশাই ঠিক করলেন, ওর মতো একজন অশুভ এবং অপদার্থ লোক তার রাজ্যে থাকতে পারবে না। তিনি সৈন্যদের আদেশ দিলেন রাময়াকে ফাঁসিতে ঝোলাতে। স্বামীর শাস্তির কথা শুনে রাময়ার স্ত্রী তেনালির রামার কাছে সাহায্যের জন্য ছুটে গেলেন। কেঁদে কেঁদে সব কথা খুলে বললেন। আরও পড়ুন: প্রতিটা কাজ হতে পারে শেষ কাজ - শিক্ষণীয় একটি গল্প তেনালি রামা বললেন, দেখি কী করা যায়। পরের দিন সকালে সৈন্যরা অপয়া রাময়াকে ফাঁসিতে ঝোলাতে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে তেনালির সঙ্গে দেখা। তেনালি রাময়ার কানে ফিসফিস করে কিছু কথা বলে চলে গেলেন। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে সৈন্যরা তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাইল। রাময়া বললেন, তিনি রাজার কাছে একটি চিঠি পাঠাতে চান। একজন প্রহরী এসে রাজামশাইকে একটা চিঠি হস্তান্তর করলেন। তাতে লেখা ছিল, যদি আমার মুখ দেখে কারও রুচি চলে যায় আর রাজামশাইয়ের মুখ দেখে কাউকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় তাহলে কে বেশি অশুভ? সে নাকি রাজামশাই? রাজামশাই বুঝতে পারলেন যে রাময়া কী বলতে চাইছে। তিনি তখনই রাময়াকে মুক্তি দিলেন। --- ---